Profile Photo

Rahman anisurOffline

  • anisur1969
  • Profile picture of Rahman anisur

    Rahman anisur

    • 4 years, 1 month ago

    পৃথিবীতে মানুষের সৎ কর্ম ও ভাল কাজ গুলো যুগযুগ ধরে বেঁচে থাকে।
    আনিছুর রহমান
    কোনো নাম যশ খ্যাতি নয়, সৎ চিন্তা ভালো কর্ম আর উপলব্ধি গুলো সবার সামনে তুলে ধরাই হল মানুষের মহান কাজ। আমি চাই পৃথিবীতে আমার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সৃষ্টি অমর হয়ে বেঁচে থাকুক যুগ যুগ ধরে। কেউ পছন্দ করুক আর নাই করুক।

    সমাজে অনেক মানুষ অনেক কিছু পছন্দ করে না। তবু মানুষ হরেক রকমের পেশা নেশায় মত্ত থাকে। যেমন-লেখালেখি,গান বাজনা, সার্কাস, নাটক, ঘুরা ফেরা, যাত্রা, সিনেমা, ডিজিটাল যুগে আরও কত কি সেগুলোর নাম উল্লেখ নাই বা করলাম। কথায় বলে পৃথিবীতে বারো রকমের মানুষ আছে।

    ছোট বেলা হতে গান শেখার ভীষন সখ ছিলো কিন্তু জন্মের পর সে রকম পরিবেশের সান্নিধ্য পাই নাই বলে আমার গান শেখা হয়নি। কিন্তু গুন গুন করে গান গাওয়া ও শোনার অভ্যাস এখনো ত্যাগ ও সংবরণ করতে পারি না।

    এক সময় কবিতা লেখার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু ভালো লিখতে পারি না বলে আর লেখা হয়নি। আমি আমার শিক্ষালয়ে ‘এ’ ক্লাশ খুব মেধাবী ছাত্র ছিলাম না মধ্যম ‘বি’ সারির ছাত্র ছিলাম। মাঝে মাঝে দু’ একটি কবিতা গল্প যে লিখি নাই তা নয়। আমাদের সময়ে স্কুলে হামদ-নাত ও কবিতা লেখার প্রতিযোগিতা মাঝে মধ্যে অনুষ্ঠিত হত।

    সেই প্রতিযোগিতায় আমার লেখা ‘একুশে ফেব্রুয়ারী’ ও হামদ- নাত প্রতিযোগিতায় একবার আমি প্রথম হয়েছিলাম। সেই অনেক আগে ৮১-৮২ সালের কথা বলছি। পুরস্কার হিসেবে স্কুল কতৃপক্ষ আমাকে একটি গল্প আর একটি কবিতার বই উপহার দিয়েছিলেন। গল্পের বইটির নাম ছিল ” মন ময়ুরী”।

    ১৯৮৬ সালে ঢাকা যখন আসি তখন বাড়িতে আমার লেখা কিছু কবিতা, মুল্যবান কিছু কাগজ পত্র রেখে এসেছিলাম। কিন্তু ‘৮৮ সালের বন্যার পরে বাড়ি গিয়ে সেগুলো আর অবশিষ্ঠ পাই নাই।

    যদিও লেখা পড়া করে বড় কিছু হতে পারি নাই তবে নিজেকে সৎ চরিত্রবান হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আমি সেটা কত টুকু অর্জন করতে পেরেছি বন্ধু বান্ধব পাড়া প্রতিবেশি এবং আমার একান্ত সান্নিধ্যে যারা এসেছেন তারাই খুব ভালো বলতে পারবেন।

    যদিও আমি নিবন্ধিত কোনো বিদ্যালয়ের শিক্ষক নই তবুও আমার জিবনের প্রায় ২০ বছর ছাত্র ছাত্রীদের প্রাইভেট টিউশন করিয়েছি। আমি ফিজিক্স,ক্যামেস্ট্রি,অংক, বাংলা ব্যাকরণ ও ইতিহাস বিষয়ে আমার দক্ষতা রয়েছে। সময় পেলে এখনো আমার দুই ছেলেকে নিয়মিত পড়াই ও সময় দিয়ে থাকি। আমার দুই ছেলে কখনো কারো কাছে এ পর্যন্ত প্রাইভেট পড়ে নাই। বড় ছেলে অনার্স তৃতীয় বর্ষে জুলোজি বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে ও ছোট ছেলে সরকারী মাধ্যমিক স্কুলে পড়াশুনা করছে। ওরা দু’ জনেই এক সময়ে বৃত্তি প্রাপ্ত ছাত্র ছিলো।

    আজকে আমার এই লেখাটা যে জন্য সেটা পরিস্কার করার জন্য বলছি। অনেকে বলেন লেখালেখি করে কি হবে? কবি সাহিত্যিক তো কখনো হতে পারবি না।

    ছোট বেলা হতে আমার নিয়মিত পত্র পত্রিকা, দেশ বিদেশের টিভি নিউজ, বই পড়ার অভ্যাস ছিল এবং এখনো আছে। সময় পেলে অবসরে মোবাইল ফোনের নোটে লেখা লেখি করে থাকি এবং সেগুলো মোবাইল বা কম্পিউ টারে নোট করে রাখি।

    সেই নোট থেকে জমা কৃত আমার লেখা গুলো অনেক সময় পোষ্ট করে থাকি। আমার সমসাময়িক বিষয়ে প্রায় ২০০ এর মত লেখা গল্প কবিতা রয়েছে। যদিও এ গুলোর মান বিবেচনায় খুব উচু নয়। তবে চেষ্টা করে করে যাচ্ছি এবং এখনো শিখছি।

    সমাজের অসামঞ্জস্য প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া বিষয় ছাড়াও আমার স্কুল কলেজ জিবনের এবং ঢাকা শহরের অবস্হান কালে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা বিষয়ে মাঝে মধ্যে লিখে থাকি।

    আমি কোনো প্রোথিত যশা কবি লেখক নই। আমার মনের ভাব ও অভিব্যক্তি প্রকাশের জন্য আমি এই লেখা লেখি করে থাকি। আমি চাই মানুষ বেশি বেশি পড়াশুনা করে জ্ঞান অর্জন করুক। আর জ্ঞান আহরণের একমাত্র উপায় হচ্ছে ভ্রমণ, বই,পত্রিকা, দেশ বিদেশ সম্বন্ধে বেশি বেশি জানা ও পড়া।

    সারা দুনিয়ার সব জ্ঞানী গুণী মনিষী গণ তাদের লব্ধ জ্ঞান বই পুস্তকে লিপি বদ্ধ করে গেছেন মানুষের এবং ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো ছড়ানোর অভিপ্রায়ে।

    তাই সব শেষে বলতে চাই কারো প্রশংসা হাততালি পাওয়ার জন্য আমি লেখা লেখি করিনা। আমার মনের ভাব অভিব্যক্তি প্রকাশ করার জন্য ও সখ থেকে আমার অবসর সময় অতিবাহিত করার জন্য সামান্য লেখা লেখি করে থাকি। এটা এক প্রকার নেশা ও মনের খোরাক যোগানোর অভিপ্রায়ে যৎ সমান্য একটু লেখালেখি করে আনন্দ পেয়ে থাকি।

    কিন্তু সমাজের কিছু দুষ্টু, ঠক, অসাধু পন্ডিত ব্যক্তিগণ এটা পছন্দ নাও করতে পারেন। তাতে আমার কিছু আসে যায় না। কেউ কোনো কাজ করলে ভালো মন্দ দুটি দিকই ফুটে উঠে।

    মানুষের জিবনে নাম যশ খ্যাতি বড় কথা নয়, কোন কিছু প্রকাশ ও সেটা সমাজের সামনে তুলে ধরাই হল বড় কথা। আর জানা শুনা উপলব্ধি টাই মুল বিষয়। এই পৃথিবীতে আমার নাম থাকুক আর নাই থাকুক, আমি চাই আমার লেখনি বা সৃষ্টি বেঁচে থাকুক। কেউ পছন্দ করুক আর নাই করুক। সেটা তাদের একান্ত মনের বিষয়। ধন্যবাদ সকলকে।

    ১৯/০৯/২০২২.

    7
    1 Comment
Skip to toolbar