Profile Photo

Asiful Haque TomalOffline

  • Asiful-Haque-Tomal
  • Profile picture of Asiful Haque Tomal

    Asiful Haque Tomal

    3 years, 9 months ago

    রহস্য চা
    —————-
    একটানা বৃষ্টি হচ্ছে ঝমঝম করে । এই রাত বিরেতে বৃষ্টি এলে ভীষণ মন খারাপ হয় কুহকের । মনে হয় সমস্ত আকাশ যেন কেঁদে কেঁদে দুঃখ বিলাস করছে । বৃষ্টিতে ভিজতে খুব পছন্দ করে কুহক । কিন্তু এত রাতে বৃষ্টি হলে ভেজা সম্ভব হয় না বলেও হয়তো মন খারাপ হয় ওর । এই মুহুর্তে উদাস চোখে তাকিয়ে আছে সে খোলা জানলা দিয়ে । মাঝে মাঝে বজ্রপাতের আলোর ঝলকানিতে চিক চিক করে উঠছে ভেজা শহরটা । হঠাৎ মৃদু সুরে ফোনে বেজে উঠলো “দুটো মানচিত্র এঁকে দুটো দেশের মাঝে, বিধে আছে অনুভূতিগুলোর ব্যাবচ্ছেদ।” কোনো একটা অপরিচিত নম্বর থেকে এসেছে কলটা । রিসিভ করবে না করবে না করেও একেবারে শেষ মুহুর্তে ফোনটা তুললো কুহক ।
    – আসসালামু আলাইকুম ।
    – ওয়ালাইকুমুস সালাম । কেমন আছেন কুহক সাহেব ?
    – জি আলহামদুলিল্লাহ । আপনি ?
    – আমিও আলহামদুলিল্লাহ।
    – দুঃখিত, আপনাকে ঠিক চিনতে পারলাম না যে ।
    – আমি কিন্তু আপনাকে চিনি ।
    – কিভাবে চেনেন ?
    – প্রতিদিন আপনাকে আমি দেখি তাই চিনি ।
    – আপনার পরিচয়টা কি বলুনতো ?
    – যাক সে কথা । আমি যা বলি সেটা শুনুন ।
    – আগে পরিচয়…
    – বাহিরে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে । আচ্ছা বৃষ্টি কেমন লাগে আপনার ?
    – আগে পরিচয় বলুন তারপর অন্য কথা
    – আমি কিন্তু বৃষ্টি ভীষণ পছন্দ করি । এই যেমন এখন আপনার জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজছি আমি । আজ খুব একা লাগছিল বলে আপনাকে ফোন করলাম ।
    বাইরে আরেকবার বিদ্যুৎ চমকাতেই ফোনটা কেটে গেল । আলোর ঝলকানিতে বাইরে দেখার চেষ্টা করলো কুহক । কিন্তু ততক্ষণে শহর অন্ধকারে তলিয়ে গেছে । আরো বার দুয়েক বিদ্যুৎ
    চমকালেও বাইরে কারো দেখা পেল না সে । এবারে সে প্রচন্ড বিরক্ত হলো । বিরক্তি দূর করতে চা লাগে ওর । রান্নাঘরে চা বানাতে গিয়ে আরেকদফা অবাক হলো সে । বাতি জ্বালাতেই দেখা গেল চুলার পাশে তার প্রিয় কাপটা চায়ে টইটুম্বুর হয়ে আছে । আর তা থেকে ভীষণ উৎসাহে ধোঁয়া উঠছে । যেন কেউ সদ্য চা বানিয়ে কাপে সাজিয়ে রেখে গেছে । চা টা খাবে কি না কিছুক্ষণ সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগার পর কি মনে করে কাপটা হাতে তুলে নিল কুহক । আলতো করে চুমুক দিল রহস্যময় চায়ে । স্বাদে গন্ধে মন ভরে গেল ওর । সেই সাথে তার মন থেকে উবে একটু আগের তৈরী হওয়া সব কৌতুহল । ওর জানতে ইচ্ছে করলো না কে তাকে কল করে রহস্যবুলি শুনালো, কে তার জন্য এমন অসাধারণ চা বানিয়ে রেখে গেল । কুহক মুগ্ধ হয়ে চায়ে চুমুক দিতে দিতে বারান্দায় এসে দাঁড়ালো । বৃষ্টি ততক্ষণে হালকা হয়ে এসেছে ।
    পরদিন ভোরবেলা । ঝকমকে রূপালি আলোয় ভরে আছে রুম । ঘুম থেকে উঠেই দিনের সজীবতায় মুগ্ধ হয়ে গেল কুহক । আড়মোড়া ভেঙে ফ্রেশ হয়ে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওনা হলো ও । রিক্সায় যেতে যেতে কাল রাতের কথা মনে করতে লাগলো । তবে রহস্য উন্মোচনের চেয়ে পুরো ঘটনাটা কল্পনা করতেই বেশি ভালো লাগলো ওর । সারাদিনের ক্লান্তি মাথায় নিয়ে যখন বাসায় ফিরলো তখন বিকেল গড়িয়ে গোধূলী । বেশ প্রিয় একটা সময় কুহকের । ফোনটা হাতে নিয়ে ছাদে গিয়ে বসলো সে । ছাদের দক্ষিণ পাশটা থেকে একটা নদী দেখা যায় । গোধূলী বেলায় সূর্যের লাল আলোয় রক্তিম হয়ে থাকে নদীর পানি । বেশ ভালো লাগে কুহকের তখন । আজকে নদীর সাথে সাথে আকাশটাও রঙিন হয়ে সেজেছে । নিরবতাকে ভেঙে খানখান করে দিয়ে ফোনটা বেজে উঠলো আবার । অপরিচিত নম্বর । ফোন রিসিভ করে কানে ধরতেই ওপাশ থেকে একটা মিষ্টি কণ্ঠ বলে উঠলো
    – শুধু ভাবনা চিন্তাই করবেন নাকি চায়েও চুমুক দিবেন ? চা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে তো ।
    – উমমম… কে বলছেন ??
    – আপনার বাম পাশে চা রাখা আছে । টেস্ট করুন ।
    কেটে গেল ফোন । কুহক চারপাশে তাকিয়ে কাউকে দেখতে পেল না তবে সত্যি সত্যিই তার বাম দিকের রেলিং এ ওর প্রিয় কাপ ভর্তি চা পেয়ে গেল । সাদা ধোঁয়া উড়ছে তা থেকে । বেশ অবাক হলো সে । কিন্তু সাত পাঁচ না ভেবে চায়ে চুমুক দিতে শুরু করলো সে । যেন এই মুহুর্তে চা ই একমাত্র আরাধ্য ছিল তার । গতরাতের মতো এবারও দুর্দান্ত লাগছে এই চা । মনে মনে ধন্যবাদ দিলো সেই রহস্যময়ীকে । তবে আরেকটু কৃতজ্ঞতা দেখাতে চাইলো সে । কমলা রঙের একটা স্টিকি নোট নিয়ে তাতে লিখলো – “অনবদ্য ❤
    জানতে চাইনা-কে, জানতে চাই – কেন ?”
    নোটটা কাপের গায়ে লাগিয়ে রান্নাঘরে রেখে দিল । তারপর নিজের প্রাত্যহিক কাজে লেগে পড়লো কুহক । কখন ১২ টা বেজে গেছে খেয়াল নেই । ক্লান্তিতে চোখ বুজে আসছে , কাজ এখনও শেষ হয়নি । হঠাৎ মনে হলো এক কাপ রহস্য চা হলে বেশ হতো । ভাবতে ভাবতে রান্না ঘরে গেল কুহক । গিয়ে দেখলো চুলার পাশে কাপ ভর্তি চা থেকে ধোঁয়া উড়ছে । কুহকের চোখে খুশির ঝিলিক । এবারে চায়ের সাথে সবুজ রঙের একটা চিরকুটও পেয়েছে সে । তাতে লেখা –
    “যে চা ভালোবাসে আমিও ভালোবাসি তাকে ।”

Skip to toolbar