Profile Photo

Syed Arafat MahabubOffline

  • Syed-Arafat-Neel
  • Profile picture of Syed Arafat Mahabub

    Syed Arafat Mahabub

    3 years, 8 months ago

    তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে

    ১.
    প্রায় আধ ঘন্টা যাবত তিতলী হাসানের জন্য রাস্তায় দাড়িয়ে অপেক্ষা করছে;হাসানের কোন দেখা নেই।হাসানের এই লেট করা স্বভাবের জন্য প্রতিবারই তিতলীর প্রচুর রাগ হয়,কিন্তু এইবার রাগ হচ্ছে না,কারণ তিতলী বুকের মধ্যে একধরনের চাপা উত্তেজনা অনুভব করছে,হাসানের সাথে গত ৬ মাসে তিতলীর দেখা হয়নি,গতকাল রাতে হুট করেই হাসানের টেক্সট পাওয়ার পর থেকেই তিতলীর মধ্যে এই চাপা উত্তেজনা শুরু,হাসান টেক্সটে লিখেছে,”তিতলী তোমার সাথে খুব জরুরী কথা আছে,কালকে কি বের হতে পারবে…?”তিতলী প্রায় নিশ্চিত মানুষটা এইবার মনের কথাগুলো বলেই ফেলবে।তিতলী এখনও ভেবে পায় না,”আমি তোমায় ভালোবাসি” এই তিনটা শব্দ বলতে একজন মানুষের এত সময় কেন লাগে!
    “এ্যাই তিতলী!” হাসানের গলা শুনে তিতলী পিছনে ফিরে তাকাল,তার সামনে এখন যেই মানুষটা দাঁড়িয়ে আছে সেই মানুষটাই কি হাসান!মানুষটার চোখ রক্তের মতো লাল,মাথার ভুল উষ্কখুষ্ক,মুখভর্তি দাড়ি,গর্তে ঢোকা চোখের নিচে কালি,হাড্ডিসার কংকালের মতো পুরো শরীর সাদা হয়ে গেছে।তিতলীর বুক ধক করে উঠল…।
    “হাসান তোমাকে এমন দেখাচ্ছে কেন,কি হয়েছে তোমার?”
    “বলছি,সব বলছি,আগে চল কোথাও গিয়ে বসি।”
    মানুষটার গলার স্বর শুনেই তিতলী বুঝে ফেলল মানুষটার ভয়াবহ কিছু হয়েছে।
    দুজনে একটা রেস্তোরাঁয় গিয়ে বসল।হাসান বলা শুরু করল,”তুমি কি জান তুমি আমার কত ভালো একজন বন্ধু?”
    “হ্যাঁ,তুমিও আমার অনেক ভালো একজন বন্ধু।”-তিতলী বলল।
    ” তিতলী তোমাকে আমি এখন একটা ছেলের গল্প বলব।নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের খুবই সাধারণ একটা ছেলে,যার পরিবারের অনেক স্বপ্ন ছিল তাকে নিয়ে।ছেলেটাও স্বপ্নপূরণের জন্য নিজের আপ্রাণ চেষ্টা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছিল।প্রতি মাসে টিউশানি করে বাড়িতে টাকা দেওয়ার পাশাপাশি ধীরে ধীরে টাকাও জমাচ্ছিল বাবা মায়ের হজ্ব করানোর নিয়তে,কিন্তু হঠাৎ সবকিছুই কেমন যেন বদলে গেল…।ছেলেটার চেনা জগৎ হঠাৎ করেই অচেনা হয়ে গেল।তার বসবাস শুরু হল ভয়ানক এক মরণব্যাধি ব্রেইন টিউমারের সাথে।ছেলেটা জানত অত্যন্ত ব্যয়বহুল আর অনিশ্চিত এই চিকিৎসার খরচ বহন করবার সামর্থ্য তার পরিবারের নেই,তার পরিবার তাকে বাচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করবে,কিন্তু তাদের পথে বসতে হবে।তাই সে এই রোগের কথা কাউকেই না জানিয়ে সবার সাথেই যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিল।বাবা মায়ের হজ্বের টাকা জমানো সে শেষ করেছে।আজ জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে ছেলেটার নিজের জীবনকে সফল মনে হয়েছে,জীবনে তার যে প্রধান লক্ষ্য ছিল সে তা পুরণ করতে পেরেছে….।তিতলী তুমি হয়তো এতক্ষণে বুঝে গেছ ছেলেটা আমি।আমি তোমাকে সবচাইতে বেশি বিশ্বাস করি,আমি চাই আমার মৃত্যুর পর হজ্বের এই টাকাগুলো আমার বাবা-মার কাছে তুমি পৌছে দেও…।”
    “আমি অবশ্যই পৌছে দিব….”
    হাসান লক্ষ্য করল তিতলী কান্না থামাতে পারছে না।হাসানের নিজের চোখেও পানি।অসাধারণ এই মানুষটাকে দেখার সৌভাগ্য হাসানের আর খুব বেশিদিন হবে নাহ!হাসান কত কল্পনা করেছে তিতলীর সাথে তার বিয়ে হয়েছে,তাদের খুব ছোট্ট একটা সুখী সংসার হয়েছে।দীর্ঘ একটা দাম্পত্য জীবন কাটানোর পর হাসান মৃত্যুর পূর্বমুহুর্তে তিতলীকে বলছে,”একটা হাদিস শুনেছিলাম-জান্নাতে স্বামী স্ত্রীর যখন প্রথম দেখা হবে তারা একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকবে,এভাবে ৪০ বছর পার হয়ে যাবে….।তিতলী আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করব…।”
    কিন্তু হাসান জানে বাস্তব কখনো আশার পথে চলে না,জান্নাতে তিতলীর স্বামী তার স্ত্রী তিতলীর জন্য অপেক্ষা করে থাকবে।

    ২.
    হাসানের মৃত্যুর পর তিতলী হজ্বের টাকাগুলো নিয়ে হাসানের বাড়িতে এসেছে।হাসানের মা সব শুনে তিতলীকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করলেন।তিতলী সান্ত্বনা দেওয়ার কোন ভাষা খুজে পেল না,কার‍ণ যেই মা সদ্য তার সন্তানকে হারিয়েছেন কোন সান্ত্বনাই তার এই কষ্ট কমানোর জন্য যথেষ্ট নয়।
    হাসানের মা তিতলীকে হাসানের ঘরে নিয়ে গিয়ে কাদতে কাদতে হাসানের বিভিন্ন জিনিস দেখাতে লাগলেন,তিতলীর হঠাৎ একটা লাল রঙের ডায়েরির দিকে চোখ পড়ল।ডায়েরিটাই খুলেই সে একটা লেখা দেখতে পেল।হাসান লিখেছে,
    Titly,
    You know that on average, a heart beats about 2.6 billion times during a lifetime…
    My heart has already beaten 0.6 billion times…Now it wants to beat the remaining 2 billion times….Just for you!
    Once upon a time something happened to me,it was the sweetest thing that could ever be,a fairy tale,a dream came true…
    It was the day I met you! 🙂
    If I know what love is,it’s because of you!
    I love you,I always will…You are answer to my prayers!
    The best thing about me is you!I love you until the day after forever…
    But I won’t let you know how much I loved you,love you and will love you always…because I’m going to die soon 🙂
    You know what there is a dream of mine..I am dying and you’re siting beside me holding my hand.While breathing my last I have a smile on my face staring at the beautiful eyes of yours.Maybe my dream won’t come true.But I’ll make it possible through my imagination,I have a great imaging power.I’ll make all those things possible in my brain…

    তিতলীর চোখ ভিজে উঠেছে,সে বাইরে বের হয়ে এল,হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হল,আশেপাশের সবাই নিরাপদ আশ্র‍য়ের জন্য ছুটে যাচ্ছে,তিতলীর কোন তাড়া নেই,হাসানের সাথে একদিন সে বের হয়েছিল,ঐদিনও এরকম বৃষ্টি হচ্ছিল,তিতলীর খুব ইচ্ছে করছিল হাসানের হাতটা ধরে দুজনে মিলে বৃষ্টি বিলাস করতে,হয়তো হাসানেরও খুব ইচ্ছে করছিল,কিন্তু কেউ কাউকে কারোর মনের কথা বলে উঠতে পারে নি….।
    তিতলী বৃষ্টির ভেতর ভিজতে ভিজতে এগুচ্ছে,তার পাশাপাশি হাসানও এগুচ্ছে,দুইজন দুইজনের হাত শক্ত করে ধরে আছে,তিতলী জানে বাস্তবে তার পাশে হাসান নেই,সব তার কল্পনা,কিন্তু এই নিষ্ঠুর বাস্তবের চেয়ে ভালোবাসায় পরিপূর্ণ কল্পনার জগতই কি শ্রেয় না?
    লেখকরা কল্পনা করতে খুব ভালোবাসেন,মানুষের কল্পনার সাথে বাস্তবের মিল খুব একটা হয় না,তবুও কল্পনা করতে ভালো লাগে,আমার কল্পনা করতে ভালো লাগছে,হাসান সুস্থ স্বাভাবিকভাবে বেচে আছে,ঢাকা শহরের কোন এক রাস্তায় তিতলী আর হাসান দুজনের হাত ধরে বৃষ্টিবিলাস করছে,তিতলী হাসানকে বলছে এইভাবে সারাজীবন তোমার হাত ধরে থাকতে পারব…।
    কিন্তু বাস্তব কখনো কল্পনার মতো হয় না,বাস্তবে হাসানের আর সুস্থ হয়ে ওঠা হয় না,তিতলীরও একসময় বিয়ে হয়ে যায়,তার সংসারের ব্যস্ততার মাঝে হঠাৎ হাসানের কথা মনে পড়ে তার মনটা খুব খারাপ হয়ে যায়।
    কিন্তু বাস্তবেও খুব সুন্দর কিছু ঘটনা ঘটে।হাসানের মৃত্যুর সময় তিতলী হাসানের হাত শক্ত করে ধরে রাখে।হাসানেরও ভালোবাসার মানুষটার চোখের দিকে তাকিয়ে হাসিমুখেই মৃত্যু হয়….।

    5
    4 Comments
    • চমৎকার গল্প। অভিবাদন জানবেন।

    • গল্পটা সুন্দর! বেশ অভিনব এবং ইসলামী ভাবধারায়ও লালিত্য! সে সবের জন্য অভিনন্দন!
      (তবে একটা আক্ষেপ নিয়ে গল্পটা পড়েছি,কেননা তিতলীকে লেখা চিঠিটা আমি পড়তে পারিনি, কারণ সেটা ইংরেজিতে লেখা। আপনি যদি মনে করেন আপনার পাঠকেরা সবাই ইংরেজি পড়তে পারে তবে সেই শর্তে আমি আপনার পাঠক নই। যদি মনে করেন আপনার লেখা শুধুমাত্র উচ্চশিক্ষিত মার্জিত ইংরেজি জানা লোকেরা পড়বে তাহলে আমি আর আপনার লেখা ভুলেও পড়বো না। যদি আমাদের মতন দুর্বলদের আপনি পাঠক মনে করে থাকেন, তবে ইংরেজি লিখে তার অনুবাদটাও বাংলায় লিখে দেবেন। তাহলে আমরা আপনার গল্পটা পড়ে অনেক আনন্দ পাবো, যে আনন্দ দানটাই আপনার গল্পকারের জীবনে মূখ্যআঙ্গিকতা!)

      • তিতলী,
        একটি হৃদপিণ্ড সারাজীবনে গড়ে প্রায় 2.6 বিলিয়ন বার বিট করে…
        আমার হৃদয় ইতিমধ্যে 0.6 বিলিয়ন বার বীট করেছে…এখন এটি বাকি 2 বিলিয়ন বার বীট করতে চায়…শুধু তোমার জন্য!
        একবার আমার সাথে কিছু ঘটেছিল, এটি ছিল সবচেয়ে মধুর জিনিস যা কখনও হতে পারে, একটি রূপকথার গল্প, একটি স্বপ্ন সত্যি হয়েছিল…
        যেদিন তোমার সাথে দেখা হয়েছিল! 🙂
        আমি যদি জানি ভালবাসা কি, এটা তোমার কারণে!
        আমি তোমাকে ভালবাসি, আমি সবসময় করব… তুমি আমার প্রার্থনার উত্তর!
        আমার সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জিনিস হল তুমি! আমি তোমাকে ভালোবাসি আজীবন বাসব…
        কিন্তু আমি তোমাকে কতটা ভালবাসতাম তা তোমাকে জানাতে দেব না, তোমাকে ভালবাসি এবং তোমাকে সবসময় ভালবাসব…কারণ আমি শীঘ্রই মারা যেতে যাচ্ছি 🙂
        তুমি জানো আমার কি স্বপ্ন আছে..আমি মরে যাচ্ছি আর তুমি আমার হাত ধরে আমার পাশে বসে আছো। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার সময় তোমার সুন্দর চোখের দিকে তাকিয়ে আমার মুখে হাসি আছে। হয়তো আমার স্বপ্ন হবে না কিন্তু আমার কল্পনায় আমি এইটাকে সত্যি করব

      • ধন্যবাদ! ধন্যবাদ! ধন্যবাদ! ধন্যবাদ!! ধন্যবাদ দেবার ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য শব্দ খুঁজে পাচ্ছি না, আমি এতটাই উচ্ছ্বসিত! আনপাকে ধন্যবাদ! আপনি এত্ত করে একজন ক্ষুদ্র পাঠকের মনোবাঞ্চা পূরণ করেছেন, অনেক কষ্ট করে আবার বাংলায় লিখেছেন, আমি ভাবতেও পারিনি আপনি লিকবেন। তবে ধন্যবাদ আপনি না লিখলে এত্ত সুন্দর একটা চিঠি পড়তেই পারতাম না, অপূর্ণ থেকে যেত মনের ইচ্ছা

Friends

Skip to toolbar