Profile Photo

Sufia LipiOffline

  • Sufialipi50
  • Profile picture of Sufia Lipi

    Sufia Lipi

    3 years, 8 months ago

    “আহারে জীবন”
    সুফিয়া লিপি
    ৬/১০/২০২২।

    সীমা সকালে ঘুম থেকে উঠে ভার্সিটি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ।হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠলো।দরজা খুলতেই দেখতে পেলো সীমার নানুবাড়ির নীচতলার ভাড়াটিয়া ছেলেটাকে;ছেলেটার নাম পাবন।পাবন বললো,”সেই সকাল থেকে পানি নেই;এখনো মোটর কেন ছাড়ছেননা?”
    সীমা লজ্জা পেয়ে গেলো।ওর নানু প্রায়শই এই কাজটা করে,নিত্যদিনের চিত্র এটা।সে যাই হোক।সীমা বললো,আমি এখনি ছেড়ে দিচ্ছি ।কিছু মনে করবেননা প্লিজ।বলে রাখা ভালো সীমার বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই ।নানু-মামার কাছেই মানুষ।সীমার নানু বাড়িওয়ালা হিসেবে বেশ খারাপ।পানি নিয়ে ভাড়াটিয়াদের সাথে ঝগড়া লেগেই থাকে।সীমার এসব পছন্দ নয়।যাইহোক সীমা ভার্সিটির উদ্দেশ্যে সিড়ি দিয়ে নীচে নামতেই পাবন পিছন থেকে ডেকে বললো,”অনেক ধন্যবাদ।আপনি আপনার নানুর মতো না।”এভাবে একটু একটু করে দুজনের মধ্যে বেশ সখ্যতা গড়ে উঠলো।একদিন বিকেলের দিকে সীমা ছাদে হাটাহাটি করছিলো।পাবনও সীমাকে অনুসরণ করে ছাদে গেলো।সীমাকে পাবনের অনেক ভালো লাগে,ভাবলো আজই কথাটা সীমাকে বলবে।দুরু দুরু মন নিয়ে সীমার সামনে গিয়ে বললো,”তুমি কি জানো?তোমার জন্য একটা মানুষের বুকের ভিতরটা কেমন কেমন করে!মনে কেমন প্রেম প্রেম লাগে।”সীমা কথাটা শুনে লজ্জা পেয়ে গেলো।কি বলবে বুঝে উঠতে পারলো না।চুপ করে থাকলো।পাবন বলে উঠলো,”কিছুতো বলো”।সীমারও পাবনকে পছন্দ।কিন্তু ও ভালো করে জানে ওর নানু-মামা এটা জানতে পারলে কেলেংকারি হয়ে যাবে।ও হ্যা বলাই হয়নি,পাবন ওর বড় ভাই এর সাথে ঢাকায় বাসা ভাড়া(সীমার নানুবাড়ি)নিয়ে থাকে,বুয়েটের ছাত্র,ওদের বাড়ি যশোর।
    বেশ কয়েক মাস পরের কথা-সীমা আর পাবনের সম্পর্কের কথা সীমার মামা জেনে ফেললো।পাবনের বড় ভাইকে ডেকে যা নয় তা বলে অপমান করলো।পাবনরা বাসা ছেড়ে দিয়ে অন্যত্র চলে গেল।এদিকে সীমাকেও ওর মামা ভীষণভাবে শাসালো।তড়িঘড়ি করে সীমাকে জোর করে মামার বন্ধুর ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে দিলো।সীমা বিয়ের প্রথম রাতেই তার স্বামীকে পাবনের কথা বলে দিলো এবং এও বললো যে,ও কখনোই পাবনের জায়গা কাউকে দিতে পারবে না।
    সীমার স্বামী শিল্পপতি।টাকা-পয়সা,সম্পত্তি এসব ছাড়া সে কিছুই বুঝেনা।সীমার সব কথা শুনে সে কিছুই বললোনা।
    সীমা পড়াশুনা শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেলো।হঠাৎ একদিন সীমার মোবাইলে কল এলো।ওপাশ থেকে এক ছাত্রী বলে উঠলো,”ম্যাডাম আমাদের নীপা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে।ওকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।ও শুধুই আপনার নাম বলছে।”
    নীপা সীমার ছাত্রী,সীমাকে খুব ভালোবাসে।একটা ছেলে ওকে মিথ্যে প্রেমের অভিনয় করে পতিতালয়ে বিক্রি করে দিয়েছে।এসব নিতে না পেরে নীপার এই অবস্থা।যাই হোক সীমা নিপাকে দেখতে গেলো,অনেকক্ষণ ওর সাথে থেকে ওকে শান্ত করে,ওর রুম থেকে বের হয়ে আসার পথে হঠাৎ শুনতে পেলো একটা ছেলে চিৎকার করে বলছিলো,”আমাকে ছেড়ে দাও-আমি সীমার কাছে যাবো।”নিজের নামটা শুনে সীমার বুকটা কেমন করে উঠলো।পাশের রুমে ফিরে তাকাতেই সীমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো।ঐ ছেলেটা পাবন।কেমন হয়ে গেছে!! ডক্টরের সাথে কথা বলে জানলো,এক বছর আগে ও এখানে এসেছে। একটা মেয়েকে না পেয়ে এমন হয়ে গেছে।সীমা ডক্টরকে বললো,আমিই সেই মেয়ে।আমি ওর সেবা করতে চাই ,আপনি সব ব্যবস্থা করেন প্লিজ।সীমা প্রতিদিন ভার্সিটি থেকে ফেরার পথে পাবনের কাছে গিয়ে ওর সেবা করতে লাগলো।ধীরে ধীরে পাবন সুস্থ হয়ে উঠলো,সীমাকেও চিনতে পারলো।কিন্তু জানতোনা সীমা বিবাহিত।এভাবে চলতে লাগলো।হঠাৎ সীমার স্বামী সব জানতে পারলো।সীমাকে অত্যাচার করা শুরু করলো।ওকে আটকে রাখলো।এদিকে পাবনকে মানসিক হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়া হলো।ও সীমাকে খুঁজতে লাগলো।কিন্তু সীমা চার দেয়ালে বন্দী জীবন কাটাতে কাটাতে ও মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেললো।সীমার ঠিকানা হলো সেই একই মানসিক হাসপাতালের একই কক্ষ ,যে কক্ষে পাবন থাকতো।
    “সমাপ্ত “

    5
    1 Comment

Friends

Skip to toolbar