-
মায়েদের উৎসর্গ,ত্যাগ স্বীকার ও সর্বোচ্চ শারীরিক এবং মানুষিক যন্ত্রণা সহ্যের পর পৃথিবীতে আসে একেকটি শিশু।বাচ্চার এই পৃথিবীর আলো বাতাসে আনার জন্য চলে কিছু প্রক্রিয়া।মায়ের পেটে একটি ভ্রুণ যখন পরিপূর্ণ দেহে রূপান্তরিত হয়ে পৃথিবীতে আসার জন্য নিখুঁত রূপে আসে তখনই একটি শিশুর ভূমিষ্ট হয়।সাধারণত দুইটি পদ্ধতিতে সন্তান ভূমিষ্ট(Delivery)হয়।প্রাকৃতিক উপায় তথা সাধারণভাবে ভূমিষ্ঠ(Normal delivery) এবং কৃত্রিম উপায়ে পেট কেটে
বাচ্চাকে বের করা।যাকে আমরা সিজার করা বলেই জানি।আগেরকার দিনে বিশেষত ২০০৫ এর আগে তেমন শুনাই যেতনা সিজার করার কথা।তখনকার দিনের বাচ্চারা বেশ সুস্থ ও পরিপুষ্টই জন্ম নিতো এবং মায়েদেরও কষ্ট কম হতো।সে যুগের মায়েদের ক্ষেত্রে বহু পরিবারে এমনও দেখা গেছে,এক মায়ের ৯-১২ জন সন্তান।কিন্তু সেই নারী সুস্থ-সবলভাবেই প্রায় ৭৫ বছর বেঁচেছেন বা তার বেশী বেঁচেছেন।এ যুগেও তেমন বহু বৃদ্ধের বক্তব্য নিলে আপনি এর প্রমাণ পাবেন।কিন্তু বর্তমানে শুধু গ্রামেরই নয় শহরের তথা উচ্চ শিক্ষিত মানুষগণেরও একটা বধ্যমূল ধারণা নিয়ে আছেন যে সিজারই উত্তম।
এদের এই সিজার লাগার কারণগুলো খুব হাস্যকর হলেও না বলে পারছিনা।শশুর ফোন দিয়ে বলবে আমার মেয়ের কিছু হলে জামাই তোমাকে ছাড়বো না, শাশুড়ি বলে আমার মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করুন টাকা যা লাগে আমি দিবো। আর শালা শালি তো আছেই।
বাংলাদেশের সমস্ত প্রাইভেট হাসপাতালের গত ৫ বছরের ডেলিভারি রিপোর্ট দেখলে, দেখা যাবে প্রায় ৯০% সন্তান সিজারে ডেলিভারি করানো হয়েছে।UNICEF এর গবেষণায় পাওয়া যায়,বাংলাদেশে প্রতিবছর জন্মের পর মারা যায় ৬২ হাজার নবজাতক।এসব শিশু মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে গেলে দেখবেন মূল কারণটা সিজার।শুধু বাংলাদেশেই সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে প্রতিবছর প্রায় পাঁচ হাজার ২০০ জন নারীর মৃত্যু হয়।
সিজারে ডেলিভারির সময় একজন মায়ের পেটের সাতটি পর্দা কেটে বাচ্চাকে দুনিয়য়তে আনতে হয়।এ্যানেসথেসিয়ার কারণে সেই কাটাটা বোঝা যায়না এবং দাগ মুছে গেলেও ভোগান্তিটা থেকেই যায়।
সিজারের জন্য মায়ের পিঠে মোটা সিরিঞ্জে যে ইনজেকশন দেওয়া হয় তা অমাবস্যার অভিশাপের চেয়ে কিছু কম হয়না।তাছাড়া সিজারের জন্য যেসব ইনজেকশন দেওয়া হয় সেসবও কম প্রভাব ফেলেনা মায়ের উপর।সিজারের কারণে একটা সময়ে এসে মায়েদের অনেক ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।উদাহরণসরূপ বলা যায়,চোখ কম দেখা,কোমড়ে ব্যাথা,হাড় ক্ষয়,হাটু ব্যাথা,শারীরিক কর্মক্ষমতা হ্রাস পাওয়া ইত্যাদি।করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে সিজারের হার কমেছে। মায়ের মৃত্যুর হারও কমেছে, নরমালে জন্ম নিচ্ছে সুস্থ সবল শিশু।গবেষণায় দেখা গেছে, সিজারের বাচ্চাদের ভবিষ্যতে রোগ-বালাই বেশি হয়।
করোনায় লকডাউনে দেশে ১ লাখ ৭৫ হাজার শিশুর জন্ম হয়েছে, এর মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ শিশুর জন্ম হয়েছে সিজার করে। বাকি ৯৬ শতাংশ শিশুর জন্ম হয়েছে নরমালে।তাই নির্দ্বিধায় এটা বলা যায় যে সিজার নয় সাময়িক কষ্ট হলেও স্থায়ীভাবে মায়েদের জন্য নরমাল ডেলিভারিই সেরা এবং সেটাই দরকার।
সিজার ডেলিভারির জন্য, আমাদের দেশের মায়েরা অর্ধপঙ্গু হয়ে যাচ্ছে।তাই ‘সিজার’-কে না বলুন মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষিত করুন।আর্টিকেলঃ সিজারকে না বলুন!
লেখকঃকামরুল হাসান (অপু)
Friends
Pritam Biswas
@pritam-biswas
আর্য
@arjo
মারুফ হাসান মাইয়ুফ
@al-maroof-hasan
Abul Hasan Tuhen
@abulhasantuhen
Drako Shajib
@drako
মোঃ আব্বাস উদ্দীন ধ্রুব।
@dhrubo-abbas
মো দানিয়াল আরাফাত (প্রমিস)
@md-daniel-araphat-promice
নাজমুল হক জুয়েল
@nazmulhoqjewel
AdabenTatali
@adabentatali
