Profile Photo

Niaz Aziz DipOffline

  • niazdip
  • Profile picture of Niaz Aziz Dip

    Niaz Aziz Dip

    4 years, 11 months ago

    ★রেখা★

    A poetic fiction

    রেখা—,আমাদের কথা হয়ে ছিলো চাঁদ নিয়ে—

    তোমাকে অদ্ভুত ভাবে আবিষ্কার করি যেদিন—
    সেদিন সকালটা ছিলো নরম রোদের।

    সারাটা দুপুর পেরিয়ে বিকেল হলো— সন্ধ্যা এসে গড়ালো জোছনা রাতে— ঠিক সেদিন রাতে আকাশে আস্ত একটা চাঁদ ফুটে ছিলো।

    অহেতুক অস্থিরতায় আমার কাটছিলো হৃদয়—
    তখন ভাবছিলাম বসে মুঠোফোনের পাশে—
    প্রথম কথাটি তোমাকে ঠিক কি বলি?

    বিশেষ কিছু তাতে যদি তোমার মন না গড়ায়—
    কি শব্দ হতে পারে?তোমার হৃদয় কান পেতে আছে যেই শব্দের অপেক্ষায়—
    নিয়ত এই নীল সামাজিক মাধ্যমে এতো মুখ এতো মুখোশের আড়ালে আমরা কখনো মুখোমুখি হতে পারবো!

    রেখা,এমনকি কখনো আমরা হতে পারবো একটি সদ্য অলিখিত কবিতা।

    রেখা,এমন কোন কথার অনুবাদে আমি সহজ হবো তোমার —এতো রং এতো আলোড়ন আমার জলমুখটা কখনো ধুয়ে দিবে—
    তোমার এই নীল সামাজিক রং কি কখনো ঠিকঠাক আমাকে চিনে নিবে—বলো?

    রেখা,কেমন জানি খুব তোমার হবার প্রবল ইচ্ছায় হৃদয় মরিয়া হয়ে আছে—
    আমি তোমার লক্ষ্যে গমন করছি অনেক স্বপ্ন নিয়ে আকাশে দেখছি তুমি আমার দুচোখে জোছনা ছড়াচ্ছো।

    এই আবিষ্কার আমার —এই পূর্ণতা আমি হারাতে দিবোনা কখনো ।

    রেখা,তোমাকে আমি আমার হৃদয়ে যপেছি আমার হৃদয়ের জিকিরে তোমার হৃদয় মশগুল হবেই একদিন —
    এতো প্রবল বিশ্বাস প্রার্থনা সৃষ্টিকর্তাও শুনতে পান—তুমিও নিশ্চয়ই পাবে।

    রেখা,জানালায় বসে আমার মতো তুমিও আজ বুঝি চাঁদ দেখছো—তোমার স্বাধীন মনের আকাশে আজ কি একটু মেঘ করেছে?
    এই অবিশ্বাস্য রাতে আমার মন সাদা আলোর দড়ি ধরে তোমার মনের জানালায় উঁকি দিতে চাইছে—
    এই বিশ্বাস তোমার কড়া না’রবেই—এই বিশ্বাস তোমার হৃদয়ে কথা ছড়াবেই— আমরা মুখোমুখি দাঁড়াবো—

    এমন একটা সাহস নিয়ে মুঠোফোনে চাপি;

    (আজ চাঁদের মন খারাপ)
    তুমি উত্তর দাওঃ(হুম,চাঁদের মন অনেক খারাপ)

    আমরা কথায় কথায় দুজনার কাছাকাছি এসে দাঁড়াই—চাঁদ নিয়ে তুমুল কাব্য করি—আমার মনের আকাশে ভরা জোছনা আর তুমুল জোড়ার বইতে থাকে—রাতের কালো আকাশটা যেন আলোর অনুবাদে ছড়িয়ে দেয় আমার গুমোট ঘরে আলো।

    রেখা,এখনো আকাশে চাঁদ উঠে—ভোরের পরে ডুবে যায়—সূর্য খুলে সকাল আসে—
    কিন্তু আমার আর আকাশে তাকাবার অবকাশ ইচ্ছে কোনটাই মেলেনা।মনের আলোটায় ফাটল ধরে।

    এই শহরে উঁচু উঁচু দালানে আকাশটা ভরে গেছে—
    সময় ইদানিং একদম কুমির — কেউ ভালো নেই —তুমি কেমন আছো জানতেও চাইনা আর?মহা অসুখে মন ও শহর দুটোই ভরে গেছে—এখন—দেশ—প্রেম—রাজনীতি—রাষ্ট্রনীতি—চাহিদা—যোগান কিছুর ঠিক নেই।

    রোদের পর রোদ পেরিয়ে জীবনের দুপুর দিয়ে কোন সুদিন হাওয়া বয়না—এমনকি তোমার মতো এ শহর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে নদী—সবুজে ভরা গাছের সারি।

    রেখা,এই কংক্রিট পোড়া শহরে তুমিই ছিলে আমার একান্ত বন—রোজ রোদে পুড়ে তাপদহন সহ্য করে সারি সারি জ্যাম-গাড়ি পার হয়ে যখন একটু নিস্তার আর শান্তি পাবার জন্য তোমার বনের গহীনে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতাম—আমি নই এই পুরো শহরটাই জুড়িয়ে যেতো।

    এই সমান্য ভালো সময়টুকুও আজ আর নেই—এই শহর ভরে উঠছে প্রচন্ড যন্ত্রণায়।
    তুমি চলে যাবার পর থেকেই সংকট—গাছ পালাও কমে গেছে—শহর জুড়ে বয়ে যায় গরম বাতাস—ফুসফুসে দম নেই—অত্যাধিক মিথেন বিষাক্ত কার্বন— বাতাসে ধূলিকণায় আমার মন এভাবে রোজ জব্দ হয়ে বাড়ি ফিরে;

    ফিরে শুধু আমি তোমার ছায়া নিংড়ে— তোমার বনের পাখি-পাতার রং খুব অসহায় ভাবে মিস করি।

    রেখা,এইসব ভাবানার দিন শেষ—আমরা সকলে ফুরিয়ে আসছি আমাদের অত্যাধিক কল্যানে—ধ্যানে—হৃদয়ে বিষ পিঁপড়া রেখে।

    শুধু এ কংক্রিট শহরে দীর্ঘ হচ্ছে আমাদের দীর্ঘশ্বাস।

    রেখা,আকাশে কিমাকার মেঘদল দেখে তুমি হয়তো জানালার পাশে বসে ভাবছো —এই শহর আজ টুুপটাপ জলে ভিজে যাবে—পাখিরা নিরাপদ রেলিং-এ-বসে নিজেদের গুটিয়ে নিবে কৌশলে ভেজা পালক।

    আমিও এক পলাতক মানুষপাখি—
    আকাশে কিমাকার মেঘদল দেখে ভাবি —তোমার শহরে আমিও ঠিক সহজ জলের মতোই
    ভেতরে ভেতরে একা একা ভিজি।

    তবে,পাখিদের মতো আমার কোন নিরাপদ শাখা নেই;
    নেই শক্ত হাতের মুঠোয় হাত—ভিজে যাবার পর লুকাবার জন্য উষ্ণ নরমবুক—
    কোন ব্যক্তিগত হৃদয়।

    রেখা,আমাদের রাস্তাটা অনেক সরে এসেছে—
    এখন আমরা দু’জনেই আলাদা আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি—তোমার ছাদ থেকে যেমন এখন আর আমার ঘর দেখা যায় না—
    শূন্য খানটাতে হয়েছে বহুতল ফ্ল্যাটবাড়ি—তেমনি আমার জানালা থেকেও তোমার ঘর মুছে গেছে।

    রেখা,একি বাতাসকে ছুঁয়ে ফেলা আমাদের কথাগুলো সমস্ত নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করে এখন অন্য মাধ্যমে হয়েছে অতীত—আমাদের রাস্তাটা অনেক দুমরে মোচকে আছে এখন—
    আমার রাস্তা যেমন তোমার ঘরের দিক মুখ তুলে আছে—ঠিক তোমার ঘর তেমনি মুখ ফিরিয়ে নিয়ে আছে অন্য রাস্তার দিকে।

    রেখা,আমরা কেউ কাউকে আটকাই না —আমরা কেউ কাউকে বলিনা একটা করে রাত কতো সহজ—
    আমরা কেবল মুখলুকিয়ে ভেতরে ভেতরে মুখোমুখি হই—
    চুপ করে থাকি কথার নিষেধে—
    মানুষের আসা চলে যাওয়া রাস্তাগুলো ফিকে হয়ে আমাদের দেখে।

    রেখা,তুমি আমার বুক বরাবর উঠে দাঁড়াও—আমার বুকে খুঁড়ে খুঁড়ে তোমার জন্য কবর তৈরী করো—এই শোক হোক ভালোবাসার প্রতীক—এর চেয়ে বেশি তুমি আমাকে ভালোবাসতে পারোনা—এর চেয়ে বেশি আমি তোমাকে ভালোবাসতে পারিনা।

    আমাদের বুকে আমাদের শ্রেষ্ঠ কবর হবার পর আমরা আর কেউ কাউকেই ভালোবাসতে পারিনা।

    রেখা,এইসব বায়বীয় ঘটনা—এখানে তোমার অক্ষুণ্ন অস্তিত্বের মাটিতে কোন অস্তিত্ব নেই—তবে বুকের কবরে একটা নয়নতারা ফুটেছে—সেও গত জন্মের সকালে তোমাকে বুকে না পেয়ে জেগে থাকতে পারেনি—

    আসলে আমরা কেউ কাউকেই বুকে রেখে চিরকাল জেগে থাকতে পারিনা—পারি শুধু বুকে করে বয়ে নিয়ে বেড়াতে।

    3
    2 Comments
Skip to toolbar