Profile Photo

রুস্তম এফ রহমানOffline

  • @Rustom22
  • Profile picture of রুস্তম এফ রহমান

    স্টেশনে ইতিমধ্যে ভিড় কমতে শুরু করেছে। ঘড়িতে তখন রাত বারোটা ছুঁইছুঁই। এর আগে আরো একবার এসেছিলাম ঢাকাতে। তাই খুব একটা রাস্তাঘাট মনে নেই। আর রেলস্টেশনে গেলে তো সব গুলিয়ে ফেলি। মাথার উপর একগাদা মশা নাচানাচি শুরু করেছে। নতুন কোন আগন্তুক পেয়ে হয়তো তাদের অবস্থান নিশ্চিত করার জন্যই হয়তো এত কিছু। কৌশিক টা এখনো এলো না। ট্রেন থেকে নামার আগে এতবার বললাম একটু আগে আসিস। না তার কোন পাত্তাই নাই। পাশের বেঞ্চিতে ব্যাগ দুটো রাখলাম।
    প্রথম দেখাতে অনেকেই ভেবে বসতে পারে আগামী দুই বছরের জন্য আমি ব্যাগে ভরে জিনিসপত্র নিয়ে এসেছি। উটকো একজোড়া ঝামেলা। কৌশিকের মা যেই শুনেছে আমি ঢাকা আসবো অমনি হাজির।

    -কত মায়া ভোরে বলল,বাবা রুস্তম শুনলাম ঢাকাতে যাচ্ছো। তা বাবা আমার কৌশিকের জন্য একটু ভাল মন্দ পাঠাতে চাচ্ছি। তুমি যদি একটু কষ্ট করে……..‌।
    -না না আন্টি কি যে বলেন কিসের কষ্ট। আমিতো ঢাকাতে কৌশিকের ওখানেই উঠবো।আর এটুকু করতে পারবো না।
    ভেবেছিলাম টিফিন বক্সে করে কিছু একটা দিবে। কিন্তু একি! একজোড়া পেল্লাই সাইজের ব্যাক ধরিয়ে দিয়ে বলল,
    -বেশি কিছু দিতে পারলাম না।
    -হ্যা খুবই সামান্য। অন্তরের রাগ কন্ট্রোল করে একটা মিস্টি হাসি দিলাম।মনে মনে ভাবছি কেন যে বলতে গিয়েছিলাম আমি ঢাকা যাচ্ছি।
    বেঞ্চের একপাশে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ যাবৎ মোবাইল টিপছি। শীতের রাত হলেও স্টেশনের উচ্চ ভোল্টের বাতিতে স্পষ্টই সব দেখা যাচ্ছে। আমি খেয়াল করলাম, আমার সামনে ২০-৩০ গজ দূরে একজন মেয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। হয়তো চেনার চেষ্টা করছে আমি তার কাঙ্খিত ব্যক্তি কিনা। আর এমন গোল ফ্রেমের চশমা পরিহিত মেয়ে আমার মোটেই পছন্দ না ‌ দেখতে কেমন যেন বিচ্ছিরি প্যাঁচার মতো লাগে। অত ভেবে আমার কাজ নেই বাবা। আমি মোবাইলের দিকে মনোযোগ দিলাম।ব্যাটা কৌশিক এখনো আসলো না ।তুই খালি আয় তারপর তোর দেরি করার মজা দেখাব। ওই মেয়েটা কখন যে আমার কাছে চলে এসেছে আমি বুঝতেই পারিনি। আমার কাঁধে হাত রেখে বলল,
    – তুই রুস্তম না।

    আমিতো পুরাই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। আরে এ আমার নাম জানলে কি করে। আবার সরাসরি এসে গায়ে হাত দিল। ঢাকা শহরের মেয়েরা একটু ফ্রি মাইন্ডের তাই বলে এতটা আশা করিনি। কিন্তু মেয়েটার কন্ঠটা যেন কেমন। আমি একটু
    সরে এসে বললাম,
    -আরে কে আপনি!
    -আরে আমি কৌশিক। চিনতে পারিসনি। সবার মতো তুইও আমাকে চিনতে পারলি না।
    -কী !
    এর আগে এতটা বিস্মিত কখনো হয়তো হয়নি। গ্রামে একবার জিন তাড়ানো দেখতে গিয়ে খুব ভয় পেয়েছিলাম। আর আজকে।
    -তুই কৌশিক!
    -হ্যাঁ
    -একি অবস্থা তোর। আমি তো চিনতেই পারিনি।

    -চিনতে কিভাবে পারবি বল। আমিতো তোর কেউ না। আমাকে তুই তো ভুলেই গেছিস। ও হাসতে হাসতে বললো।
    আমি বললাম ,এই ইমোশনাল ডায়লগ বাত দে। আর এত বড় মেয়েদের মতন চুল রাখলে কি চিনতে পারা যায়। আর আমি তো তোকে প্রথমে মেয়ে মনে করছিলাম। তাইতো বলি মেয়েদের কন্ঠস্বর আবার কবে থেকে এতো মোটা হলো।

    -দূর শয়তানি করবি না ।অনেক রাত হয়ে গেছে। আগে বাসায় চল ।তারপর সব শুনবো।

    || দৃষ্টিভ্রম|| ••• [পর্ব-১]

    10
    6 Comments

Friends

Profile Photo
Sidratul-Montaha
@sidratul-montaha
Profile Photo
Shukria Afzal
@shukria80
Profile Photo
Adi-Chowdhury
@adi-chowdhury
Profile Photo
Shukria Afzal
@shukria432
Profile Photo
Suraiya Islam
@suraiya
Profile Photo
Md.Emamuzzaman Wahedi
@emamuzzaman
Profile Photo
Ilhaam Binte Ansar
@ilhaambinteansar
Profile Photo
Shamsun Nahar
@nahar
Skip to toolbar