-
টুইন আর্থ
চতুর্থ পর্ববেশ কয়েক দিন লি এর দেখা নেই / মনটা খারাপ হয়ে আছে আমার / প্রতি মুহূর্তেই আমার আদরের নাতি গুলোর কথা মনে হচ্ছে / কেমন আছে ওরা ? চোখের সামনে ভাসছে আয়েশা এর সেই মায়াভরা মুখটা / সেই দুষ্টুমি ভরা মুখটা য় মুচকি মুচকি হাসি / আরিয়া এর সেই গুরুগম্ভীর কন্ঠে দাদা ভাইকে শাসন করা / রাভিদ এর সারাদিন দাদাভাইয়ের গা ঘেঁষে বসে থাকা / খুবই অস্থির লাগছে আমার / লি এর ওপর প্রচন্ড রাগ হচ্ছে / এই মানুষটার জন্যই আজ আমার এই অবস্থা / বন্দি হয়ে আছি আমি / আমার সুখের সমস্ত স্বপ্ন গুলো ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে / আমি বুঝতে পারছি না আর কোনদিন আমি আমার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবো কিনা , আমার প্রিয় মানুষজনদের দেখা পাব কিনা / হঠাৎ করেই দরজা খুলে ঘরের ভিতরে কেউ একজন প্রবেশ করল / প্রথমে আমি বুঝতে পারছিলাম না কে এই ব্যক্তি / এবং পরে যখন মানুষটাকে চিনতে পারলাম তখন তো আমি হেসেই অস্থির / মানুষটা আর কেউ নয় আমার শত্রু অথবা বন্ধু অথবা প্রিয় সেই লি / বাঙালির শাড়ির মতো কিছু একটা পড়তে চেষ্টা করেছে লি / পেটের কাছে শাড়ির কুচিগুলো এলোমেলো পেছনের পায়ের দিক হতে শাড়িটা একটু বেশি উঠানো / কপালে লাল রঙের কিন্তুমাকার একটা টিপ / হাতে অনেকগুলো ফুল / কেমন লাগছে আমাকে ? হাত দুটোকে দুপাশে ছড়িয়ে নাচের ভঙ্গিতে আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন করল লি / আমি আবারও হাসতে লাগলাম / এই শাড়ি পরা তুমি কোথায় শিখলে ? তোমাদের কালচার এনালাইসিস করে আমাদের সেন্ট্রাল কম্পিউটার সিস্টেম এই তথ্যটা আমাকে দিয়েছে যে তোমরা কপালে লাল টিপ এবং শাড়ি খুব পছন্দ করো / তোমাদের ভালোবাসার মানুষগুলো যখন তোমাদের কাছে তার ভালোবাসার কথাগুলো বলতে চায় বা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করো তখন তারা সাধারণত এই ধরনের সাজগোজ করে / একটা স্বপ্নীল পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য / তাই আমিও করেছি / কি ? পছন্দ হয়েছে তোমার ? লি খুব আস্তে আস্তে পা ফেলে আমার কাছে এসে দাঁড়ালো / আমার হাতে ফুলগুলো দিয়ে চোখে চোখ রেখে মিষ্টি করে হাসলো তারপর একটু লজ্জা লজ্জা ভাব নিয়ে মাথাটাকে একটু নিচু করে বলল আমি তোমাকে ভালোবাসি / বলেই তার মুখটিকে দুহাত দিয়ে ঢেকে ফেলল / আমি কিছুক্ষণ হতভম্বের মতন দাঁড়িয়ে রইলাম বুঝতে পারছিলাম না কি করব ? তারপর আস্তে আস্তে লি এর হাত দুটি মুখ থেকে সরিয়ে চিবুকে দু আঙ্গুল দিয়ে মুখটাকে উঁচু করে ধরলাম / অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইলাম তারা মুখের দিকে / কি সুন্দর মায়াবী মুখ খানা / লি তার চোখ দুটো কে বন্ধ করে রেখেছে / ঠোঁট দুটো সামান্য একটু খোলা / ঝকঝকে সাদা দাঁতের কিছুটা অংশ দেখা যাচ্ছে / পাতলা ঠোঁট দুটোতে খুব সূক্ষ্ম একটা আমন্ত্রণের হাসি / চোখদুটি খোলো ,দেখো আমাকে , ফিসফিস করে বললাম আমি / লি আস্তে আস্তে ফুল যেভাবে তার পাপড়িগুলো মেলে ধরে সেভাবে ই তার চোখ দুটো খুলে তাকালো / অমি খুব মিষ্টি করে হাসলাম/ জানিনা কি বুঝল লি / আমার বুকে মুখ টা গুঁজে দিয়ে অস্ফুট স্বরে বলতে লাগলো আমি তোমাকে ভালোবাসি , আমি তোমাকে ভালোবাসি /
ভালোই চলছিল আমার দিনগুলি প্রতিদিন সকালে রুটিন করে লি চলে আসে / লি কে দেখে আমি বিছানায় উঠে বসি / লি তার মুক্তার মত ঝকঝকে দাঁত গুলো বের করে হাসতে হাসতে এসে আমার পাশে এসে বসে / প্রশ্ন করে কেমন আছো তুমি ? আমি জানি এই প্রশ্নের উত্তর লি এর জানা / তাই উত্তর না দিয়ে লিয়ের দিকে তাকিয়ে হাসি / লি আমার হাতটা ধরে আমার চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে থাকে / তারপর আবার জিজ্ঞাসা করে , বললে না তুমি কেমন আছো ? আমি এবারও প্রশ্নের কোন উত্তর না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করি , জানোনা তুমি আমি কেমন আছি ? আমাকে তোমরা এখানে বন্দী করে রেখেছে / আমার আদরের নাতি গুলোকে আমি দেখতে পাচ্ছিনা / ওদের সাথে কথা বলতে পারছিনা / কেমন থাকবো আমি ? তুমি জানোনা ? লি এর মুখের হাসি গুলো দপ করে নিভে যায় , অনেকক্ষণ মাথা নিচু করে বসে থাকে / লি আমার হাত টা তার নিজের হাতে র মধ্যে নিয়ে নাড়াচাড়া করতে থাকে / তারপর আপন মনে বলতে থাকে , তোমার এই আজকের অবস্থা র জন্য আমিও কিছুটা দায়ী / তবে তুমি ভেবোনা খুব তাড়াতাড়ি ই তোমার এই অস্বস্তিকর দিনগুলো শেষ হয়ে যাবে খুব সহসাই তুমি ফিরে যাবে তোমার প্রিয় মানুষদের কাছে / আচ্ছা একটা প্রশ্নের উত্তর দেবে ? তুমি এখান থেকে চলে গেলে তুমি তোমার প্রিয় মানুষগুলোকে কাছে পাবে / সবাইকে নিয়ে তুমি নিশ্চয়ই আনন্দে আটখানা হবে / কিন্তু আমার জন্য তোমার মন খারাপ হবে না ? তুমি কি আমাকে ভুলে যাবে ? এবার আমি নিজেকে খুব অসহায় বোধ করি / ঠিক কি জবাব দিব বুঝতে পারিনা / বুকের ভেতরটা কেমন যেন এক ধরনের বেদনায় ভরে ওঠে / আমি লি এর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি / লি একটা রহস্যময় হাসি দিয়ে বলে আচ্ছা ঠিক আছে , এই প্রশ্নের উত্তর তোমাকে দিতে হবে না / শুধু এটুকু জেনে রাখ তোমাকে ছাড়া আমার জীবনটা এখন আমার কাছে অর্থহীন বলে মনে হয় / তোমাকে আমি ভুলতে পারব না / ভয় পেয়ে যাই আমি মনে মনে ভাবি বলে কি মেয়েটা ? তাহলে আমাকে কি সারা জীবন এখানে আটকে রাখবে ? লি আপন মনে আবার বলতে থাকে , তারপরেও আমি স্বার্থপর হব না / আমার প্রিয় মানুষটার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ শিকার করব / যে কাজে তুমি খুশি হবে অমি তাই করবো / আচ্ছা বাদ দাও এসব কথা ওঠো ফ্রেশ হও / আমার খুব খিদে পেয়েছে / চলো নাস্তা খাব / এরপর বেড়াতে বের হব / আজকে সারাদিনের জন্য আমরা দুজনে দুজনার / তোমার তো সমুদ্র খুব পছন্দ / আমরা আজকে সারাদিন সমুদ্রের পারে কাটাব / রোদে বালিতে শুয়ে থাকব গায় বালি মাখবো / পানিতে সাঁতার কাটবো তারপর ছিপ দিয়ে মাছ ধরবো /মাছ ধরে আগুনে পুড়িয়া ঝলসে খাব / যখন সূর্যটা ডুবে গিয়ে রাত নেমে আসবে তখনো আমরা সমুদ্রের পাড়ে বসে বসে কান পেতে বাতাসের কান্না শুনবো / তুমি রাতের অন্ধকারে বসে বসে আরিয়া আয়েশা রাভিদ ওদের কথা বলবে আমি শুনবো / তোমার অতীত জীবনের ভালোবাসো সুখ দুঃখের কথা বলবে / আর আমি আমার ভালোবাসা মানুষটিকে নতুন করে আবিষ্কার করব চেয়ে চেয়ে দেখব /
ঠিক সন্ধ্যার পূর্ব লগ্নে সূর্যটা যখন সমুদ্রের পানিতে গলে গলে মিশে যাচ্ছিল .ঝির ঝিরে বাতাসের সো সো শব্দে আমি বাতাসের কান্না শুনছিলাম / আমার মনে হচ্ছিল এ যেন আমার জীবনের কান্নার ই প্রতিধনী / আমি তখন লি এর কোলে মাথা রেখে সূর্যের ডুবে যাওয়া টা দেখছিলাম / এখানে সূর্য ডুবে যাওয়ার দৃশ্য টা একটু অন্যরকম / আকাশ রাঙ্গা হয়ে ওঠে না / হালকা কমলা রং ধারণ করে / কেন এমন হয় আমি জানিনা / তবে দেখতে আমার খুব ভালো লাগে / আমাদের দুজনেরই সমস্ত শরীর বালি আর পানিতে মাখামাখি / লিএর শরীরে যতোটুকু কাপড় আছে তার সর্বমোট ওজন পাচ আউন্স এর বেশি নয় / লি আমার চুলগুলো আঙ্গুলদিয়া বিলি কেটে দিচ্ছিল / আর গুনগুন করে গান গাইছিল / আমি সেই ডুবে যাওয়া হালকা কমলা রঙের সূর্যটার দিকে তাকিয়ে লি কে বললাম তুমি না আরিয়া আয়েশা ওদের কথা শুনতে চেয়েছিলে ? শুনবে ওদের কথা ? লি আমার চোখে চোখ রেখে মিষ্টি করে হাসল / তারপর গাল টা একটু টিপে দিয়ে বলল তুমি বলো আমি শুনছি / আমি দিগন্তরেখা বরাবর ডুবে যাওয়া সূর্যের শেষ আলোর ছটার দিকে তাকিয়ে অনেকক্ষণ চুপ করে রইলাম / মনের ভেতর থেকে নিজের কষ্ট গুলো কে লি এর সামনে মেলে ধরতে চাইলাম / তারপর একসময় আপন মনে বলতে শুরু করলাম / জানো আমি না খুব অল্প বয়সে ই বিয়ে করে ফেলেছিলাম / ভালোবেসেই বিয়ে করেছিলাম / খুব ভালবাসতাম আমার স্ত্রীকে / আমার স্ত্রী ও আমাকে খুব ভালোবাসতো / সবার আড়ালে আমার স্ত্রী আমাকে মানিক বলে ডাকত / বেকার বয়সে বিয়ে করেছিলাম / বেকার কি জিনিস বোঝাতে ? অর্থাৎ আমি কোন কাজ কর্ম করতাম না / স্ত্রীকে ভালবাসতাম কিন্তু সেই ভালোবাসার প্রকাশের কোন পথ আমার ছিলনা / এই বেকার থাকা অবস্থায় ই আমার স্ত্রীর কোল জুড়ে আসে প্রথমে আমার বড় ছেলে রাজিব , এবং তার দেড় বছর পরে আমার ছোট ছেলে সজীব / পরপর দুটি ই ছেলে , আমি খুব খুশি ছিলাম , বয়স অল্প , জীবন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অনেক কম তাই তখন বুঝতে পারিনি / কিন্তু আমার মা আমাকে মাঝে মাঝে বলতো তোর তো কোন মেয়ে নাই সংসারে একটা মেয়ে থাকা খুব প্রয়োজন / বিশেষ করে একজন বাবার জন্য একটা মেয়ের খুব প্রয়োজন / তখন আমি মায়ের কথা শুনে হাসতাম / কিন্তু এখন আমার মনে হয় যদি আমার একটা মেয়ে থাকতো তবে আমার জীবনের এত কষ্ট থাকত না / মেয়ের ভালোবাসা টা অন্তত পেতাম / ছেলেদের ও মনে ভালোবাসা আছে তবে সেটা সূর্যের আলোর মত এত তীক্ষ্ণ যে ওটা দিয়ে জীবন চালানো যায় কিন্তু ভালোবাসার অভাব মেটে না / আমি অনেকক্ষণ চুপ করে রইলাম / কেমন যেন কষ্ট গুলো গলার ভিতরে আটকে আছে / মুখ দিয়ে কথা বেরোতে চাইছে না / চোখ দিয়ে পানি ঝরছে / চোখের সেই লোনা পানি সমুদ্রের লোনা জলের সাথে মিশে গিয়ে সমুদ্রের লবণাক্ততা হয়তো আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে কিন্তু তাতে করে আমার মনের কষ্টগুলো একটুও কমছে না / লি তার হাতের আঙ্গুলগুলো দিয়ে আমার মুখটা চেপে ধরে রইল / তারপর আস্তে আস্তে বলল আচ্ছা তোমার স্ত্রীর নামটা কি ছিল ? ওর নাম ছিল কমলিকা / বাহ খুব সুন্দর নাম তো ! কেমন যেন একটা কবিতা কবিতা ভাব / আচ্ছা আজ থেকে আমিই তোমার কমলিকা / তুমি আমাকে আজ থেকে কমলিকা বলেই ডাকবে / আচ্ছা বলতো কে বেশি সুন্দর তোমার মৃত কমলিকা নাকি আমি , তোমার পাশে বসে থাকা রক্ত মাংসে গড়া আমি , তোমার জীবিত কমলিকা / যাকে তুমি ইচ্ছে করলেই হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখতে পারো / প্রকৃতি গত ভাবেই তোমাদের এখানকার লোকজন অনেক বেশি সুন্দর / তবে সৌন্দর্য তেমন কোনো বিশেষ ব্যাপার নয় / সৌন্দর্য হচ্ছে প্রকৃতির একটা গাণিতিক হিসাব / প্রকৃতির একটা নিজস্ব প্যাটার্ন / সৌন্দর্য হচ্ছে একটা সংখ্যা / একটা রেশিও , বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে গোল্ডেন রেশিও , এই রেশিও টা হচ্ছে 1: 1.61 , এই রেশিও টির মাধ্যমে মানুষ এবং প্রকৃতি র সৌন্দর্যের প্রকাশ ঘটে / কোন ডিজাইন এর মধ্যে এই অনুপাত টা যত কাছাকাছি ডিজাইন টা দেখতে ততো বেশি সুন্দর লাগে / প্রকৃতির সৃষ্টি র প্রায় সব জায়গাতেই এই রেশিও এর অস্তিত্ব আছে / তুমি একটু খেয়াল করে দেখো প্রত্যেকটা মানুষের মুখের মধ্যে নাক চোখ মুখ সবি নির্দিষ্ট জায়গায় আছে তারপরেও সবাইকে দেখতে একই রকম ভালো লাগেনা কারণ সবার নাক চোখ মুখ এগুলোর অবস্থানের রেশিও একই রকম নয় / এবং এই সূক্ষ্ম রেশিও এর কারণেই আমাদের চোখ প্রতিটা মানুষকে আলাদা ভাবে শনাক্ত করতে পারে / আচ্ছা হয়েছে / আমার ভুল হয়েছে / এই সুন্দর একটা রোমান্টিক মুহূর্তে তোমার ওই রসকস হিন অংকের হিসাব আমার ভালো লাগছেনা বলল লি / তুমি বল আমাকে ,আমাকে তোমার কেমন লাগছে ? কে বেশি সুন্দর আমি নাকি তোমার অতীত কমলিকা / কি ব্যাপার , তোমার কি হিংসে হচ্ছে কমলিকাকে ? না আমার হিংসে হচ্ছে না / আমার প্রিয়ার যে প্রিয় সে আমার ও প্রিয় / তাই আমার হিংসে হচ্ছে না / তবে আমি শুধু এটুকু বলতে চাইছি তোমার মনের ভেতরের যেখানে ভালোবাসার উৎপত্তি , সেখানে তো এখন কেউ নেই / আমাকে তুমি সেখানে ছোট্ট একটু জায়গা করে দাও / বাদবাকি সবকিছু আমি নিজেই গুছিয়ে নেবো / তোমার অতীত কমলিকার অভাব আমি বর্তমান কমলিকা সব তোমাকে ভুলিয়ে দেবো / তোমার ভালোবাসার ভুবন আমি ফুলে ফুলে ভরে দেবো / তোমার মনের সমস্ত কষ্ট গুলো আমি মুছে দিবো / লি কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো তারপর আবার বলল , কি কিছু বলছো না যে ? আমি কথার উত্তর না দিয়ে উঠে বসলাম তারপর আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে লি এর কোমর ধরে বসে থাকলাম / তারপর আস্তে আস্তে বললাম যে ভালোবাসার কথা মুখে বলে বোঝাতে হয় তাকে আমি কখনোই ভালোবাসা মনে করিনা / আমি তোমাকে কতটুকু ভালোবাসি তা তুমি এমনিতেই তোমার ভেতরে অনুভব করবে / মনে করো যদি কোন একটা ঘরের ভেতর পারফিউম স্প্রে করা হয় তবে যে কেউ ওই ঘরে ঢুকলেই পারফিউমের গন্ধটা অনুভব করবে / তাকে বলে দিতে হবে না , ঘরে পারফিউম স্প্রে করা আছে / ভালোবাসা ও অনেকটা একই রকম / এর কথা মুখে বলতে হয় না ,সত্যিকারে র ভালোবাসা এমনিতেই অনুভব করা যায় /
লি এর দেখা নেই বেশ কয়েকদিন / প্রতিদিন সকাল থেকেই আমি লি এর অপেক্ষায় বসে থাকি কিন্তু লি এর কোন দেখা নেই / আমি বুঝতে পারছিলাম না হঠাৎ কি হলো ? তবে কি লি এর কোন সমস্যা হয়েছে ? অথবা কোন বিপদ ? প্রচন্ড একটা অস্থিরতার মধ্যে আমার দিন কাটছিল / বুঝতে পারছিলাম না কি করবো আমি / লি এর অভাব টা প্রচন্ডভাবে অনুভব করছিলাম আমি / / হঠাৎ করেই আমি অনুভব করলাম লি আমার জীবনের অনেক কিছুই দখল করে ফেলেছে / লি এলে তাকে বলবো তোমাকে ছাড়া আমার একদম ভালো লাগেনা / এরপর লিয়ের হাত ধরে বসে থাকবো / প্রাণভরে লি কে দুচোখ দিয়ে দেখব / হঠাৎ করেই দরজাটা খুলে গেল / আমি চমকে ওঠে তৃষ্ণার্ত দৃষ্টি দিয়ে দরজার দিকে তাকালাম / দরজার ওপাশে লি এর মুখটা দেখতে এলাম / ঝড়ের গতিতে ঘরে ঢুকলো লি / কিন্তু এ কি , লি কে এমন দেখাচ্ছে কেন ? উস্কোখুস্কো চুল উদভ্রান্তের মত দৃষ্টি / এত সুন্দর লি কে কেমন যেন ঝরা ফুলের মত লাগছে / আমি স্থান কাল পাত্র সব কিছু ভুলে লি কে জড়িয়ে ধরে তাকে বুকের মধ্যে টেনে নিলাম / লি , কি হয়েছে তোমার ? লি হু হু করে কেঁদে ফেলল / পরম নির্ভরতায় আমার বুকের মধ্যে মুখটা লুকিয়ে বলতে লাগলো আমি তোমাকে ভালোবাসি , আমি তোমাকে ভালোবাসি / আমি অবাক হয়ে গেলাম / লি কাঁদতে শিখেছে / আমিও তোমাকে ভালোবাসি অস্ফুট সরে বললাম আমি / লি আমার বুকের মধ্যে মাথাটা রেখেই আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল / চোখের দৃষ্টিতে পরম পরিতৃপ্তির ছাপ / লি তার দু হাত দিয়ে পরম নির্ভরতায় আমাকে আরো জোরে আঁকড়ে ধরে থাকলো /
হঠাৎ করেই লি আমাকে হাত দিয়ে সরিয়ে দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলল / হাতে একদম সময় নেই / তোমাকে রেডি হতে হবে / তোমাকে এখান থেকে চলে যেতে হবে / না হয় ওরা তোমাকে মেরে ফেলবে / কি বলছো তুমি লি ? কারা আমাকে মেরে ফেলবে ? কি করেছি আমি ? (চলবে)2 Comments
Friends
ভাস্কর
@vaskarchou
Prithula Zaman
@prithula
AdabenTatali
@adabentatali
Sharbanam Gupta
@sharbanam-gupta
চাঁদ সদাগর
@chand_sodagor
তুলট ডেস্ক
@toulot
নির্বোধ সুদীপ্ত
@sajalbhowmick
M A Kuddus Hossen
@makuddushossen
মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
@mohammad-shahzaman


গল্পের টুইস্ট আসতে চলেছে। দেখা যাক গল্পের মোড় কোন দিকে নিয়ে যায়। প্রীতি ও শুভেচ্ছা গল্পকার।