Profile Photo

রুপকথাOffline

  • RupKaTha
  • Profile picture of রুপকথা

    রুপকথা

    4 years, 11 months ago

    গল্প- “ভালোবাসি আজীবন”
    পর্ব ২
    —————————–
    আমি হঠাৎ করে উঠে বসলাম। উঠেই আয়নার সামনে গিয়ে নিজেকে দেখলাম, নাহ গায়ের রঙ তো ঠিকই আছে। আমি ছোটকাল থেকে যেমন তেমনই আছি, লাল ফর্সা। এতক্ষণ কি স্বপ্ন দেখছিলাম? হৃদয়টা কে আবার? কিন্তু বুকে তো সত্যি সত্যিই ব্যথা করছে। হার্ট এটাক কখনো এভাবে হয় বলে শুনি নি, স্বপ্নেই সম্ভব। কিন্তু ব্যথা হচ্ছে কেন সত্যি সত্যি!

    — কি রে নিজেকে আজকে নতুন দেখছিস নাকি?

    — আম্মু, আমার বুকে ব্যথা করছে কেন যেন।

    — ব্যথা তো করবেই।

    — কেন আম্মু?

    — কালকে রাতে ঘুমানোর আগে কি পড়ছিলি মনে আছে?

    — হ্যা, ওই অনেক দিন পরে এনসাইক্লোপেডিয়া নিয়ে বসেছিলাম একটু। কিন্তু হঠাৎ এই প্রশ্ন?

    — তোর সেই এনসাইক্লোপেডিয়া নিয়ে শুধু বসে ছিলি না, পড়তে পড়তে ওটা নিয়ে শুয়ে পরেছিলি। তারপর সেই অবস্তাতেই ঘুম, আর সেই মোটা ভারি বইটা তোর বুকের উপর ছিল সারা রাত। আমি একটু আগে ঘরে এসে দেখে তারপর নামিয়ে রাখলাম। এভাবে এতো ভারি একটা বই সারা রাত বুকের উপর থাকলে তো ব্যথা করবেই। আর তুই এত ঘামাচ্ছিস কেন? কি হলো?

    — না কিছু না।

    –যা, হাত মুখ ধুয়ে তৈরী হয়ে আয়, আমি নাশতা দিচ্ছি।

    কিছুই বুঝলাম না, শুধুমাত্র একটা এনসাইক্লোপেডিয়া আমাকে কি স্বপ্ন দেখালো! হৃদয় ছেলেটা খুব খারাপ, ভালোবাসি বলে, হারাতে চাই না বলে অথচ ভালোবাসার মানুষের কোন কদর নেই, কোন মূল্য নেই তার কাছে। এরকম ‘হৃদয়’ যেন কারো ভাগ্যে না জোটে আল্লাহ।

    নাশতা খেয়ে বের হয়ে পরলাম, ক্লাসে যেতে ইচ্ছা করছে না। তার উপর সবুজের উত্তক্ত করা, আর সহ্য হয় না। ভালোবাসা কি গাছে ধরে যে চাইবে দিয়ে দিব? অদ্ভুত!

    আল্লাহ আমার মাথায় এটা আগে আসে নি কেন? এত ভালো বুদ্ধি আগে কেন মাথায় আসলো না! হে আল্লাহ, ধন্যবাদ আজকে স্বপ্ন দেখানোর জন্য। এখন ভার্সিটি যাওয়া যাবে, কোন চিন্তা নেই। এসব রোডসাইড রোমিও কে কিভাবে সায়েস্তা করতে হয় আমার ভালো করেই জানা আছে। আজ দেখাচ্ছি মজা।

    ভার্সিটিতে আজকে হরতাল নাকি? একজনকেও দেখা যাচ্ছে না, বন্ধ তো নেই কোন তাহলে কি হলো? বুঝলাম না কাহিনী!

    — এই নীলা, দাড়া। আরে দাড়া না, মেয়েটা বয়রা হয়ে গেল নাকি।

    — কি রে সুবর্ণা, চেচাচ্ছিস কেন? কি হয়েছে?

    — তোকে দাড়াতে বলছি, শুনছিস না কেন?

    –শুনতে পাই নি তোকে, দুঃখিত।

    –শুনবি কিভাবে, মাথার মধ্যে তো শুধু সবুজ ভাইয়া ঘুরে। তার কথা ভাবলে কি আর আমার কথা কানে যাবে!

    –দেখ, ঢং করবি না বললাম খবরদার।

    –আচ্ছা করবো না, কিন্তু তুই তো তার কথাই ভাবছিলি। কি ঠিক বললাম নীলা?

    –সেটা ঠিক বলেছিস, কিন্তু আমি ভাবছি তাকে সায়েস্তা করার কথা। কিভাবে তার থেকে মুক্তি পেতে পারি।

    –নীলা, এইটা আমাদের শেষ বছর। এবার তো সব মেনে নিতে পারিস, সবুজ ভাইয়া তোকে আসলেই অনেক বেশি ভালোবাসে। আর তোরা আগে কত কাছের বন্ধু ছিলি, আমার থেকে তুই ভালো জানিস, ণাহলে শুধু মাত্র একটা ভালোবাসার বিষয় নিয়ে বন্ধুত্ত কেন নষ্ট করতে যাবি?

    –সুবর্ণা, তুই এসেছিস এক বছর। তার আগের কয়েক বছর আমার জীবনে কি ঘটেছে তুই জানিস তারপরেও এসব বলছিস?

    –হ্যা হ্যা, আমি সব জানি। আমি জানি কিভাবে তুই ৬ বছর আগে তুই আবীর ভাইয়ার সাথে সম্পর্কে গিয়েছিলি, সে তোকে অনেক ভালোবাসলেও ধীরে ধীরে তার প্রতি তোর অনুভূতি কমে যাচ্ছিল আর তুই তোর এক সিনিয়রের প্রতি আসক্ত হয়ে যাচ্ছিলি। এরকম ভাবে ১ বছর যায়, আবীর ভাইয়া বুঝতে পেরে তোকে মুক্তি দেয় আর সেই সিনিয়র ভাইয়া, যে তোর ভালো বন্ধু হয়ে উঠেছিল, সে তোকে ভালোবাসতো না। পড়াশোনার জন্য সেই যে গেল, আর কোন যোগাযোগ নেই। এরপর থেকে আবীর ভাইয়াকে কষ্ট দিয়েছিস বলে তুই নিজে ভুলের মাশুল দিতে চাস সারা জীবন কাউকে ভালো না বেসে, কাউকে তোকে ভালোবাসতে না দিয়ে। কিন্তু তুই কি আবারও সবুজ ভাইয়া কে কষ্ট দিচ্ছিস না?

    –সুবর্ণা তোকে যতটুকু বলেছি তুই ততটুকু জানিস, কিন্তু কাহিনী এখানেই শেষ নয়। সবুজকে আমি…

    –নীলা…নীলা

    –হাজার বছর বাচঁবে সবুজ ভাইয়া। হাহা। তোরা কথা বল, আমি গেলাম। শুভ কামনা।

    –তোকে এবার আমি মেরে হাড় সব ভেঙ্গে দেব।

    দৌড়াতে দৌড়াতে সবুজ সামনে এসে দাড়ালো। ওই সয়তানটাকেও এখনি চলে যেতে হবে। হায় আল্লাহ, রক্ষা করো আমায়। আমি মুখ ফিরিয়ে উল্টা দিকে হাটা দিলাম, কিন্তু সবুজ তারপরেও আমার সামনে এসে আমার পথ আটকে ধরলো।

    –কি, হচ্ছে কি এসব সবুজ?

    –নীলা এটা তোমার জন্য।

    –কি এটা?

    –এটা আমার ভালোবাসা, তোমার জন্য।

    একটা কার্ড, সাথে গোলাপ ফুল।

    –তোমার কাছে রাখো, যে তোমার এইসব পেতে চায় তাকে গিয়ে দাও।

    –কেন, তুমি চাও না?

    –সবুজ, উত্তরটা তোমার জানা আছে।

    –হ্যা, জানা আছে তাও জিজ্ঞাসা করা যদি ভিন্ন কোন উত্তর আসে তাই।

    –সেই আশা করো না, স্বপ্নেও তা সম্ভব না।

    –স্বপ্নে তো তুমি আমাকে কবেই স্বামী বানিয়েছো, বাস্তবেই শুধু বাকি।

    এইবার ঠিক সময়, এখনি সবুজকে বলতে হবে কথাটা। আমি নিশ্চিত, এইটা ঠিক কাজ করবে। সবুজও একটা ছেলে, এইটা কখনোই সে মেনে নেবে না।

    –সবুজ তোমার একটা কথা জানা দরকার।

    –বলো না, তোমার ব্যাপারে আমি সব জানতে চাই। একটা সময় ছিল যখন তুমি আমাকে কিছু না বলে থাকতে পারতে না, আমিও তোমার সকল কথা শোনার জন্য অধীর আগ্রহে থাকতাম। তোমার অভ্যাসটা বদলে গিয়েছে কিন্তু দিনে দিনে আমার অভ্যাস ইচ্ছায় পরিণত হয়েছে আর তীব্র হয়েছে। বলো কি বলবে, আমি সারাদিন আছি তোমার কথা শোনার জন্য।

    –সবুজ, আমাকে ভালোবাসো তুমি তাই তোমার একটা কথা জানা দরকার আমার ব্যাপারে। আমি আগেই হয়তো বলতাম কিন্তু কখনো প্রয়োজনবোধ করি নি কিন্তু আজকে তোমাকে বলতেই হবে। সবুজ, আমি কখনো মা হতে পারবো না। আল্লাহ আমাকে সেই ক্ষমতা দেয় নি, কখন কিভাবে কি হয়েছে জানি না তবে এটাই সত্য। আমি ছোটকাল থেকেই জানতাম, কখনো পাত্তা দেই নি কিন্তু এখন বুঝি বিষয়টা কত গম্ভীর।

    –নীলা, এসব কি বলছো? কিভাবে সম্ভব? তাহলে আবীরের সাথে কিভাবে কি?

    –বললাম তো, আমার কাছে এটা কোন ব্যাপার ছিল না আগে কিন্তু এখন আমি জানি এই বিষয়টা কত গুরুতর। তোমার জানার অধিকার আছে তাই তোমাকে বলা…

    সবুজ আর কোন কথা না বলে চলে গেল। একটি বারের জন্যেও ফিরে তাকালো না, যাক বাচা গেল। সবুজ, আমার হাতে আর কোন উপায় ছিল না। তোমার জীবনটা আমি ধ্বংস করতে পারবো না, আমায় তুমি ক্ষমা করো। তবে আমি জানি স্বপ্ন হোক আর বাস্তব, হৃদয়ের মত ছেলেরা সব জায়গাতেই আছে।

    (চলবে)

    1
    1 Comment
    • প্রিয় মানুষকে ভাল রাখতে অপ্রিয় হয়ে থাকাটাও ভালবাসা। দারুণ গল্পটি।

Skip to toolbar