Profile Photo

রুপকথাOffline

  • RupKaTha
  • Profile picture of রুপকথা

    রুপকথা

    • 5 years, 4 months ago

    গল্প- “ভালোবাসি আজীবন”
    পর্ব ৬
    ————————————
    –কি হলো? আমাকে ভুলে গেলি নাকি?

    -সবুজ তুমি..

    –কি তুমি? আমি তোর স্বামী নাকি? তুই ঠিক আছিস তো?

    –তুমি.. মানে তুই এখানে?

    –নীলা তোর কি হয়েছে? ছেলেটা এতদিন পরে আসলো আর তুই কি শুরু করেছিস? যা, ওকে ঘরে নিয়ে যা, আমি ওখানে নাশতা দিয়ে এসেছি।

    –দেখলেন খালাম্মা, এখনো দাড়িয়ে আছে। নীলা মনে হয় আমাকে ভুলেই গিয়েছে তাই এখন চিনতে পারছে না।

    –কি রে এখনো দাড়িয়ে আছিস, যা সবুজকে নিয়ে যা।

    –জ্বি যাচ্ছি। সবুজ..

    –হ্যা হ্যা চল।

    সবুজ কেন আসলো হঠাৎ? এত কিছু হওয়ার পরেও..

    –কি রে, তোর হয়েছে টা কি?

    –সবুজ তুই এখানে?

    –ঝটকা খেলি? জানতাম। আচ্ছা নীলা, আমাদের বন্ধুত্ত্ব কত বছরের তোর মনে আছে? কত বছর তো দূরে থাক, তুই তো আমাদের বন্ধুত্ত্বটাকেই ভুলিয়ে দিয়েছিস। সে হিসেবে তোর এভাবে প্রতিক্রিয়া দেখানো স্বাভাবিক।

    –এ্যাই, কি বলছিস তুই? আমি ভুলে গিয়েছি? তুই বলতে পারলি একথা? সবুজ, ভালবাসার চাদরে জরিয়ে তুই আমাদের বন্ধুত্ত্ব নষ্ট করেছিস, তুই আমাকে একা রেখে চলে গিয়েছিলি। আমি সেই দিনের কথা বলছি না যেদিন আমাদের শেষ দেখা, আমি বলছি দুই বছর আগের কথা যখন তুই আমাকে প্রেম নিবেদন করেছিলি। সেদিনই আমি আমার বন্ধুকে হারিয়েছিলাম, তুই জানতি না যে আমার কি অবস্থা ছিল? তুই ছাড়া আমার আর কে ছিল বলতো? আর সে তুই..

    –হ্যা সেই আমি তোকে ছেড়ে চলে গেলাম। তাই না, এটাই বলতে চাচ্ছিস? নীলা, দুইটা মানুষ একসাথে থাকলেও একে অন্যের প্রতি মায়া জন্মায় আর আমি তোকে সেই কবে থেকে চিনি। তোকে কি ভালোবাসতে পারি না আমি? আমাকে তুই আর তোকে আমি সবচেয়ে ভালো চিনি আর তাই সারা জীবন তোর সাথে থাকতে চেয়েছিলাম। তোকে সারা জীবন আগলে রাখতে চেয়েছিলাম, বোধহয় ওইটাই আমার ভুল ছিল। গোপনে তোকে ভালোবেসে যেতাম তাহলে তোকে আর হারাতে হতো না আমাকে। তুই আমাকে ভালোবাসিস না ভালো কথা, আমাকে বললেই তো পারতি যে..

    –বলি নি তোকে?

    –বলেছিস, বলে চলে গিয়েছিলি সারা জীবনের জন্য। একবারের জন্যেও বলিস নি যে সবুজ, ভালোবাসা বাদ দে, বন্ধু হয়েই থাক। সেভাবেই আমি থাকতাম, বিশ্বাস কর কখনো জোর করতাম না। সারা জীবন তোর সাথে থেকে যেতাম বন্ধু হয়ে কিন্তু তুই সেটা করলি না। আমি একটা কথা বললাম আর তুইও সেটা ধরে সব শেষ করে দিলি, গালে একটা চর পর্যন্ত বসালি না আজ পর্যত্ত। আর এখন তোর একটা সংকটের সময়ে ওই ছাগলটাকে সাথে রাখলি আর আমাকে কিছু বললি না।

    –কি বলছিস?

    –তোর জরায়ুর ক্যান্সারের কথা? থাক, তোকে কিছু আর বলতে হবে না। আমি সব জানি, আমার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মিথ্যা বললি আর সেটাই সত্যি হয়ে গেল। কিসের জন্য করলি রে এসব তুই? আমি কি এতটাই খারাপ নাকি? একবার কি আমাকে বিশ্বাস করতে পারলি না?

    –সবুজ আমি তোকে আকাশ ভাই চলে যাওয়ার পর থেকেই ভালোবাসি।

    –নীলা..

    –হ্যা সবুজ, কিন্তু আমি নিশ্চিত ছিলাম না কারণ এরকম অনুভূতি তো আবীর আর আকাশ ভাইয়ের ক্ষেত্রেও হয়েছিল। একটা মানুষ কিভাবে এতজন কে ভালোবাসতে পারে? তুই সব জানিস, তোকেও আমি আবীরের জায়গায় ফেলতে চাই নি। তোকে আমার খুব প্রয়োজন আর তাই তোকে হারানোর কোন রিস্ক আমি নিতে চাই নি।

    –অথচ এখন নিজেই দূরে সরিয়ে দিলি? আচ্ছা, তুই সত্যি করে বলতো, আকাশ আর আবীরের থেকে আমার প্রতি কি একটুও ভিন্ন বা বেশি কিছু অনুভব করেছিলি? না, আমাকে বলতে হবে না। তুই নিজেই নিজেকে জিজ্ঞাসা কর, কারণ উত্তরটা আমি জানি, তুই জানিস না। তুই নিজে না বুঝলে কেউ বোঝাতে পারবে না। আর তুই কি ফেরেশতা যে তোর ভুল হবে না? তোর ভুল না হয় প্রেমের ব্যাপারে হলো তাই বলে কি নতুন করে শুরু করা সম্ভব না? তুই..

    –না, সবুজ, তুই ব্যাপারটা বুঝতে পারছিস না। আমার..

    –‘আমার জীবনের সাথে যে জরাবে তার জীবনটা ধ্বংস হয়ে যাবে’, এটাই বলবি তো? তুই এখনো এইটা ভাবিস? নীলা, তোকে নিয়ে আমি কোথায় যাবো? তুই আমাকে না চিনলেও আমি ঠিক তোকে চিনেছি তাই তো আজকে চলে আসলাম সুবর্ণার কাছ থেকে সব শোনার পরে। ছাগল হলেও মেয়েটা কাজের আছে। শোন আমার কথা, আমাকে একবার বিশ্বাস করলেই পারতি। একবার বলেই দেখতি, আমাকে তুই চিনলিই না। তুই ছাড়াই বা আমার কে আছে বল? তোর সব পাগলামি কত মনে পরে আমার জানিস? আচ্ছা ভালো তো বাসিস, এইবার বিয়ে করবি তো? তোর নিশ্চিত হতে হবে না ভালোবাসিস কি না, শুধু এতটুকু নিশ্চিত থাকতে পারবি যে তুই সারা জীবন আমার সাথে থাকবি? কখনো আমাকে ছেড়ে চলে যাবি না? তোর বাকি সব দায়িত্ত আমার, আমি কথা দিলাম তোকে। বিশ্বাস করবি আমাকে?

    –সবুজ, আমার পক্ষে সম্ভব না তোকে বিয়ে করা। তুই জানিস তাও পাগলামি করছিস, আমি কখনো মা হতে পারবো না। সেই সাথে ইনফেকশনের কারণে সারা শরীরে ক্যান্সার ছড়িয়ে পরেছে। আমি যে কোন সময়… সাথে আছি, সাথে থাকবো শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত কিন্তু বিয়ে করতে বলিস না। তুই..

    –নীলা, কি হলো? নীলা?

    (চলবে)

    1 Comment
Skip to toolbar