Profile Photo

Tanym BarakahOffline

  • Tanym-Barakah
  • Profile picture of Tanym Barakah

    Tanym Barakah

    3 years, 2 months ago

    অনুপ্রাণনা -১

    আমি, আমি একটা মানুষ । কোন সফল মানুষ না। বিভিন্ন ঝামেলায় আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে থাকা একজন সাধারণ মানুষ । তবে একটা দিক থেকে আমি অন্য সকল সাধারন মানুষের থেকে আলাদা, আমি কল্পনা করতে পারি। আমার টাইপের মানুষের সংখ্যা খুব কম, নাই বললেই চলে । এবং প্রতিটা কল্পনা আলাদা আলাদা ডাইমেনসনে এক একটা ইউনিভার্স ( মাল্টিভার্সের মতো ) তৈরী করে সেখানকার চরিত্র গুলো সেই ডাইমেনসনে জীবিত, ঠিক আমাদেরই মতো । তা আমার কা|ছে বাস্তবের মতোই বাস্তব, প্রত্যেকটা ইউনিভার্সেই আমি জীবিত। সেখানে আমার বসবাস আমার স্বপ্নের মধ্যে, সেখানকার চরিত্র গুলো, সেখানকার স্পেস, সময় ও ঘটনা প্রবাহকে আমার ইচ্ছা মতো ঘুমের মধ্যে দেখা স্বপ্নে প্রায় ৮৭% পর্যন্ত ম্যানুপুলেট করতে পারি আর বাকি ১৩% এর ওপর আমার নিয়ন্ত্রন নেই, কারণ আমি স্রষ্টা নই। সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রন আল্লাহ্ আমাকে দেন নি।

    তো আমার মস্তিষ্কের সৃষ্ট কয়েকটা অ্যাকটিভ ডাইমেনশন আছে। আমার এই পাগলের প্রলাপ সাধারণত কেউ শোনেনা, শুধুমাত্র একজন ছাড়া। রিদা, একটা মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকৎসক। বলতে গেলে আমার এক মাত্র শ্রোতা। তার সাথে আমার পরিচয়ের ঘটনাটাও বেশ অন্যরকম। সে কথা পরে হবে।
    আজ সব বলবো, আমার কথা গুলো আপনাদের কাছে হয়তো খুবই এলোমেলো মনে হচ্ছে অনেকে হয়তো এই লাইন পর্যন্ত আশার আগেই বিরক্তিতে লেখাটাকে ওভারলুক করে চলে গিয়েছেন, যাই হোক শুরু করি,
    একটা মেয়েকে ভালোবাসতাম, আমার কাজিন । নাম, অরিন। বয়সে আমার চেয়ে দেড় বছরের বড়ো ছিলো। জানেন ওর প্রতি আমার একটা বিশ্বাস ছিলো যে ও কখনো অন্যকারো হতে পারেনা, ও কখনোই কোন পরিস্থিতিতেই এমনটা করতে পারেনা ( এমনটা বলতে আমি, কোন ছেলের সাথে সম্পর্কে জড়াতে পারেই না ) আমি ওকে জান্নাতের পবিত্র একটা ফুল মনে করতাম । আমার ধ্যান জ্ঞানে কেবল ওই ছিলো, কখনো অন্য কোন মেয়েদের দিকে তাকাইওনি ১১ টা বছর। কারন আমার জন্য ওতো আছেই। তবে ওকে নিয়ে ওভার থিংঙ্কিং করতাম । ওর একটা বান্ধবী ছিলো, মীম। প্রথমে জানতাম ওর একটা ভাই আছে । আমার দৃড় ধারনা ছিলো এই মেয়ে একটা ঘাপলা করবে । তারপরেও আল্লাহ্’র ওপর একটা ভরসা ছিলো ওর প্রতিও একটা বিশ্বাস ছিলো, ওকে বলেছিলামও আমার এই বিশ্বাসটা ও যেন কখনো না ভাঙে।

    নাহ্, সে কথা রাখেনি অখবা আমিই সম্পর্কটা গড়ে তুলতে পারিনি। যদিও আমাদের মধ্যে কোন কথা বার্তা হতোনো, ভাবতাম আমাদের সম্পর্কটা আলাদা । কিন্তু বুঝতেই পারিনি যে আমাদের রাস্তাাটই আলাদা আর অরিন নর্দামার কীট না হলেও, মোটেই জান্নাতের পবিত্র ফুলতো ছিলোই না আর তার সাথে যুক্তছিল ওই মীম আর আমার ঘরের শত্রু বিভিষন ছিলো অরিনের ভাই ।….
    [এই অংশটুকু আমি কিভাবে লিখেছি তা কেবল আমিই জানি, এই অংশের লেখাটা অগোছালো হওয়ার জন্য আমি পাঠক গনের কাছে আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত]
    যাক সেসব ইতিহাস, এখন বর্তমানে আসি,

    এইতো সন্ধ্যা বোলার আগ পর্যন্ত সব ঠিক ছিলো।
    হারুন ভাই মসজিদে নামাজ আদায় করতে গেলেন আর আমি বাইরে অপেক্ষা করছিলাম।
    এরই মধ্যে আমার সমগ্র দুনিয়া ওলট-পালটে হয়ে গেলো, বেহাত হয়ে গেল আমার পুরো দুনিয়াটা। আমি এখন অন্তঃসার শুন্য একটা মানুষের খোলস মাত্র।
    আমি আর হারুন ভাই ঘুরতে বেরিয়ে ছিলাম । উনি যখন মাগরিবের সালাত আদায় করার জন্য মসজিদে যান তখনই সামাজিক যোগাযোগের কল্যানে ব্যাপারটা আমার দৃষ্টিগোচর হয় । আমার পরিবার তারই বিবাহের অুনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। ব্যাপারটা আমার দৃষ্টিগোচর হয় এক দিন পর। যদিও আগে থেকে জানলেও আমি কিছুই করতাম না। এখন যা ঘটেগিয়েছে তা আর কোন ভাবেই পরিবর্তন করা সম্ভব না, সম্ভব হলে যেকোন কিছুর বিনিময়ে আমি তা পরিবর্তন করতাম । খুব ভালোবাসতাম ওকে। আসলে কিছু কিছু জায়গা থাকে সেখানে কাউকে একবার কাউকে স্থান দেওয়া হলে সে স্থানে অন্য কাউকে স্থান দেওয়া যায়না, অনেকটা নন রিরাইটেবল কম্প্যাক্ট ডিস্কের মতো।
    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের জোড়া ছবিদেখে আমি স্তম্ভিত, নির্বাক হয়েগিয়ে ছিলাম। প্রথমে নিজের চোখকে নিজেই বিশ্বাস করতে পারিনি। কিন্তু বাস্তব তো বাস্তব । তার পরেও মনে হচ্ছিলো আমি কোন দুঃস্বপ্ন দেখছি, একটু পরেই ঘুম ভেঙে দেখবো সব আগের মতোই আছে ! নামাজ শেষে বেরিয়ে আশা হারুন ভাইয়ের ডাকে ধাত্বস্থ হয়ে বুঝলাম না, এটা দুঃস্বপ্ন না। রাত ৮টা /৯টা পর্যন্ত ছিলাম হারুন ভাইয়ের সাথে । তারপর যার যার বাসায় চলে যাই দুজনেই । কিন্তু চোখ বন্ধ করলেই পুরো বারোটা বছরের ওর প্রতি প্রত্যেকটা অুনুভুতি, ব্যাকুলতা সুচের মতো বিঁধতে লাগলো আমার হৃদপিন্ডে, মস্তিষ্কে। আমি অস্থির হয়ে উঠলাম তখন রাত ২ টা মতো বাজে আমি জানি আমাকে শান্ত হতে হলে আমার দরকার সিডেটিভের আপনাদের কল্পনাতিত ওভারডোজ আর আধালিটার জঘন্য তেঁত অ্যান্টিটাসিভ । তাই গাড়ি আর ল্যাপটপটা সাথে নিয়ে ঝড়ের মতো বেরিয়ে গেলাম ফার্মেসীর উদ্দেশ্যে । তো সিডেটিভ আর অ্যান্টিটাসিভ গিলে রামপুরা থেকে রাত ২.৩০ এর সময় ফুল ভলিউমে গান ছেড়ে হাতিরঝিল হয়ে রাতের ফাঁকা রাস্তা দিয়ে রীতিমতো অস্বাভাবিক গতিতে এয়ারপোর্ট রোডের দিকে যেতে থাকলাম, যদিও কোন নিদৃষ্ট কোন গন্তব্য ছিলো না। এম.ই.এস মোড়ের একটু সামনে এসে মাথাটা অস্বাভাবিক ভাবে ঘুরে উঠলো, হাত থেকে স্টিয়ারিংটা ফসকে গিয়ে ডান দিকে ঘুরে গেলে গতি বেশি থাকার কারনে গাড়িটা স্কিড করে ডিভাইডারের সাথে ধাক্কা খেতে গিয়ে পাঁচ ছয় আঙ্গুল গ্যাপ রেখে দাড়িয়ে গেল কারণ সৌভাগ্য ক্রমে আল্লাহ্’র রহমতে ব্রেকটা ধরতে পেরেছিলাম আর অনেক রাত হওয়ায় রাস্তা বেশটা ফাঁকা ছিলো। কোন ভাবে গাড়িটা সোজা করে বাইরে নেমেই বমি করে দিলাম। কিছুটা ধ্বাতস্থ হতে আর দ্বিতীয়বার বমির ধাক্কাটা সামলানোর জন্য চোখ বন্ধ করে জোরে নিস্বাস নিতে নিতে কখন যে চলমান রাস্তার কিছুটা ভিতরে চলে এসেছিলাম তা বুঝতেই পারিনি আর বোঝার মতো পরিস্তিতে ছিলামও না। এরই মধ্যে দ্রুতগামী একটা বাস প্রচন্ড ব্রেক কষে এসে আমাকে ধাক্কা দিলো ( ঠিক ওই জায়গাটায় যেখানে শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্ট পাবলিক এর দুজন ছাত্র ছাত্রী দূর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলো, আমার পরিনতিও তাই হতো যদি বাসের ড্রাইভার সাহেব সেদিন সঠিক সময়ে ব্রেক না ধরতে পারতেন অথবা ধাক্কা দিয়ে আমাকে সাহায্য না করে পালিয়ে যেতেন)
    আমি ছিটকে পড়ে রাস্তায় থাকা পিলারের সাথে ধাক্কা খেলাম। আঘাত পেয়েছিলাম মাথায় তবে জ্ঞান হারায়নি, দেখলাম রক্তে সাদা শার্ট ভিজে লাল হয়ে যাচ্ছে । বাসের হেল্পার বা সুপারভাইজার আমাকে ধরলেন । আমি শুধু এটুকু বললাম, ভাই আমার গাড়িটাতে চাবি লাগানো আছে আর সামনেই কুর্মিটোলা হাসপাতাল…
    বাকি কিছু বলার আগেই কেউ একজন বললেন
    -ভাই আপনি গড়ি নিয়ে চিন্তা কইরেন না, আগে হাসপাতালে চলেন ।
    তারপর বাসেই আমাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হলো। সেখানে গিয়ে আরেক বিপত্তি, কর্তব্যরত আনসার বললো – অ্যাকসিডেন্টের কেইস, পুলিশ কেইস হবে।
    আমার জ্ঞান ছিলো কিন্তু সমস্যা ছিলো আমি সব কিছু অত্যন্ত ঝাপসা দেখছিলাম, প্রায় না দেখার বরাবর।
    আমি আনসার সদস্যকে কাছে ডাকলাম, বললাম “ ভাই আমার বাসের সাথে অ্যাকসিডেন্ট হয়নি, উক্ত স্থানে আমার নিজের গাড়ি যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে বন্ধ হয়ে যায়। আমি সেটাই চেক করছিলাম তখনই ঝোপের আড়াল থেকে কেউ একজন একটা ইট ছুড়ে মারে যা আমার মাথায় লাগে আর আমি রাস্তায় পড়ে যাই আর তখনই এই বাস সেখান দিয়ে যাচ্ছিলো এবং তারা আমাকে সাহায্য করেন নাহলে আরো খারাপ কিছু ঘটতে পারতো।

    না, তাও তিনি মানবেন না । একটা শেরাগােল পড়ে গেলো । তখন আমি একজনকে বললাম আমার মোবাইলটা বের করতে । আমার এক বন্ধু, পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর রাকিব এর নম্বরটা বের করে তাকে কল দিতে বললাম।
    তার সাথে কথা বলে সে মানলো। হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো। তখন কোন সিনিয়র ডাক্তার উপস্থিত ছিলেন না। একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক ডাক্তার রিদা ছিলেন, নার্সের সাথে সব কিছু শুনতে শুনতে বললেন,
    -তুমি আমাকে আগে ডাকোনি কেন ? অনেকটা ব্লিডিং হয়ে গিয়েছে্। রক্ত লাগবে। আর ওই আনসারকে উদ্দেশ্য করে কিছু বললো (আমি তা শুনতে পাইনি, কারন আমার দেখা ও শোনার ক্ষমতা ধীরে ধীরে ক্ষীন হয়ে আসছিলো)
    -আমি শুধু এটুকু বললাম বি+। কারন ব্লাড টেস্ট করতে গিয়ে তাতে সিডেটিভ না খুজে পায়, ভয় তো এটাও ছিলো।
    এতো কমন ব্লাডগ্রুপ হওয়া স্বত্বেও তা পাওয়া যাচ্ছিলোনা।
    তখন ডা: রিদা কাউকে বললেন আমার ব্লাড নেওয়ার ব্যাবস্থা করো আর উনার পরিবারের কাউকে খবর দাও।
    আমি ক্ষীন স্বরে বললাম ওরা থেকেও নাই। তার পর আমার আর কিছু মনে নাই।
    জ্ঞান ফেরে তার পরের দিন গভীর রাতে। আমার পরিবারের কাউকে যেহেতু জানানো হয়নি তাই তারা কেউ আশেওনি, জানালে হয়তো দায়ে পড়ে আসতো । আমার বন্ধু এস. আই রাকিবকে জানানো হয়েছিলো কিন্তু সে তখন ডিউটিতে, সাকালের তার পক্ষে আসা সম্ভব না তবে একজন এসেছিলো।

    ওই ইন্টার্ন ডাক্তার রিদা।
    উনি এসে বললেন,
    -এখন কেমন আছেন ?
    আমি বললাম সেটাতো আমার থেকে আপনাদের ভালো জানার কথা তবে এটুকু বলতে পারি এখন আমি মনে হয় সুস্থ । এই স্যালাইন আর ওয়্যারিং খুলে নিলে দিব্বি বাড়ি চলে যেতে পারবো আর রক্তের প্রতিদানে ধন্যবাদ দিয়ে আপনাকে ছোট করবো না। ও আচ্ছা, আমার গাড়িটা ?

    রিদা- এটা বুঝলাম আপনার মাথা এখনো ঠিক আছে। আপনার গাড়ি ও হাসপাতালের পার্কিং এ আছে আর বাকি জিনিস পত্র আমার হোস্টেলে আছে। আপনাকে রিলিজ করে দেওয়ার সময় আমি আপনাকে দিয়ে যাবো। আচ্ছা সেদিন আপনার মাথার স্ট্রিস দেওয়ার সময় আপনি অরিন বলে আমার চেপে ধরছিলেন,যদিও আমি উনাকে চিনি কিন্তু উনার নম্বর আপনার ফোনে পাইনি তবে একটা ছবি পেয়েছি আপনার ফোনে সম্ভবত উনার বিয়ের ছবি। কিছু যদি মনে না করেন আমি ব্যাপার টা জানতে চাই, এখনই না তবে জানতে চাই ।
    আমি – আমি বেশটা অবাক হয়ে, আপনি ওকে চিনলেন কি করে ? আর আমার ফোনের লকই খুললেন কি করে ?
    রিদা – আমি আপনাকেও চিনি। প্রথমে চিনতে একটু দেরি হয়েছিলো কারন আপনার ব্লগে আপনার চশমা পরা ছবি দেওয়া ছিলো তবে ড্রেসিং এর পর আর কোন ডাউট ছিলোনা। আমি আপনার ব্লগের একজন ফলোয়ার আর সেখানেই অরিন কে নিয়ে একটা লেখা ছিলো আর ইন্সটাগ্রামে তার ছবিও ছিলো। আর ফোনের লক ? উনি আমার ডান হাতের তর্জনি আঙ্গুলটা তুলে ধরে এটা মুচকি হাসি দিয়ে বললেন, ফিঙ্গার প্রিন্ট। যদিও কাজটা বেআইনি, মামালা করবেন ? বলে আবারো হাসলেন !
    – না, মামলা করবো কেন ? কি যে বলেন ! আচ্ছা আপনার গায়ে অ্যাপ্রোন নেই, সম্ভবত আপনি এখন অন-ডিউটি নন ?
    রিদা – না, আপনার ধারনা ঠিক। তবে এখন আসি, আপনি বিশ্রাম নিন ।
    – যদি ব্যাস্ত থাকেন তবে যেতে পারেন ।
    রিদা – এতো রাতে কি নিয়ে ব্যাস্ত থাকবো ? কিছু বলবেন ?
    – হুমম, আপনিই তো জানতে চাইলেন ।
    রিদা – না, সেটা পরে বললেও চলবে ।
    – যেহেতু ব্যাস্ত না, তবে শুনুন ।
    (আমি সমস্ত ঘটনা বললাম, বলতে বলতে ফজরের আজান হয়ে গেলো)
    রিদা – পুরোটা শুনে বললো, এখন যাই । তবে আপনার কাছে একটা ট্রিট পাওনা রইলো।
    পরদিন হাসপাতাল থেকে রিলিজ দিয়ে দিলো, রিদা আমার জিনিসপত্র গুলো দিয়ে চলেই যাচ্ছিলো, আমিই সমস্ত দ্বিধা ভেঙে ফোন নম্বরটা চেয়ে বসলাম ।
    রিদা একটু হেসে একটা কাগজে নম্বরটা লিখে দিলো । এভাবেই ওর সাথে পরিচয় হয়।

    তারপর বেশ কিছু দিন ওর সাথে আমার কোন যোগাযোগ হয়নি। একদিন মোবাইলে কারো একটা নম্বর খুজে বের করতে গিয়ে ওর নম্বরটা সামনে চলে আসে, তখনি বুজতে পারি বিরাট ভুল হয়ে গিয়েছে । নম্বর খোজাখুজি বাদ দিয়ে সোজা কুর্মিটোলা হাসপাতালের পথে বেরিয়ে পড়লাম।

    বিকাল সাড়ে-তিনটা দিকে হাসপাতালে পৌছে ওকে ফোন করলাম, ও তখন অন-ডিউটি ।

    ওর কেবিনে গিয়েই বসলাম সেখানে সাধারন ভাবেই কথা শুরু হলো, এই কেমন আছেন; আপনি কেমন আছেন টাইপ ।
    একসময় আমিই বললাম – আপনার একটা ট্রিট পাওনা ছিলো তবে সেটাতো এই কেবিনে দেওয়া সম্ভব না তাহলে কি করাযায় বলুনতো ?
    রিদা- না, এখন তো সেটা সম্ভবই না। ডিউটির পরে কিছু একটা প্লান করা যেতে পারে।
    আমি- সেটাই ভালো হয়, আমি সাইকেলে এসেছি । দুজনকে কোথাও যেতে হলেতো সাইকেলে যাওয়া যাবেনা, আমি গিয়ে গাড়িটা নিয়ে আসি।
    রিদা – সাইকেলে ক্যারিয়ার নাই ?
    -আছে, কেন ?
    – তাহলে গাড়ি লাগবেনা আপনি এখানেই বসেন, গল্প করি এমনিতেই সময় কাটছে না। আজ কাজের চাপও নেই।
    – তাও মন্দ হয়না ।

    (কথা বলতে বলতেই ওর ডিউটির সময়টা খুব তাড়াতাড়িই পার হয়ে গেল ও আমাকে ক্যান্টিনে ওয়েট করতে বলে হোস্টেলে গেলো ফ্রেসহয়ে আসতে)
    দশ পনের মিনিট পরেই ও ফিরে আসলো। দুজনে ক্যান্টিনে বসে ঠিক করতে লাগলাম যে কোথায় যাওয়া যায়।
    তো অনেক চিন্তা ভাবনার ঠিক করলাম মিরপুর ডি.ও.এইচ.এস এর পিছন দিয়ে দিয়া বাড়ির দিকে যে রাস্তাটা গিয়েছে ওদিকে যাবো ।
    আমরা যখন রওনা দিলাম তখন সাড়ে চার টা মতো বাজে।

    সিডেটিভ সাথেই ছিলো আর বাকি যেটা লাগে সেটা এক ফার্মেসি থেকে কিনে নিলাম, ও শুধু দাড়িয়ে দাড়িয়ে আমার এই অনৈতিক কাজ গুলোর স্বাক্ষী হচ্ছিলো কিন্তু কিছু বলছিলো না ওর এই কথা না বলাটাই আমার কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠছিলো ।

    তারপর আমরা মিরপুর ডি.ও.এইচ.এস এর পিছন দিয়ে দিয়া বাড়ির দিকে যে রাস্তাটা গিয়েছে ওই রাস্তায় গিয়ে সাইকেল থেকে নেমে, হাটতে শুরু করলাম ওই প্রথম বললো

    -এগুলো খান কেন ?

    আমি- মস্তিষ্কের নিউরন গুলোকে ওভারক্লক করার জন্য, অনেকটা কম্পিউটারের সি.পি.ইউ ওভারক্লক করার মতো। আর এই আপনাদের জগৎ, মানে অত্যন্ত প্রতিযোগিতা মূলক অসুস্থ সমাজ থেকে নিজেকে ঘন্টা খানেকের জন্যও যদি আলাদা হতে পারি তাই ।

    রিদা – এভাবে এগুলো খেয়ে কয়দিন বাঁচবেন ?

    আমি- আমার বাঁচার খুব একটা ইচ্ছা নেই এখন, আমার মনে হয় না জীবনে নতুন কিছু দেখার বাকি আছে। জীবনটা মাত্রাতিরিক্ত বোরিং হয়ে গিয়েছে, কোন কিছুই আর ভালো লাগেনা…

    রিদা- আচ্ছা আপনাকে একটা ব্যাক্তিগত প্রশ্ন করি, অরিনের সাথে আপনার সম্পর্কটা কেমন ছিলো ? কথাবার্তা হতো ?

    আমি একটা সিগারেট ধরিয়ে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বললাম শেষ কথা হয়েছিলো ৫ বা ৭ বছর আগে। তারপর কথা বলতাম মনে মনে, টেলিপ্য়াথি কিসিমের কিছু একটা কল্পনা করতাম। ওদিকে শালার জানতামই না যে তার অ্যান্টেনা সে অলরেডি অন্য ফ্রিকোয়েন্সিতে টিউন করে রেখেছে। নিজেকে নিজেই একটা ধোকার মধ্যে রেখেছিলাম। সত্যি বলতে কি, এখন নিজেকে অনেকটা উন্মুক্ত লাগাছে। এতোদিন আমি ওর মধ্যেই আবদ্ধ ছিলাম, বাইরের দিকে চোখ মেলে দেখার ইচ্ছাই জাগেনি কখনো। তবে এই উন্মুক্ততা বা স্বাধীনতা আমাকে বাঁচার অনুপ্রেরনা দেওয়ার পরিবের্তে আরো হতাশ করছে। জীবন থেকে ১১ টা বছর নাই হয়ে গিয়েছে।

    রিদা – তো এখন কি করবেন ? মরে যাবেন ?

    না, সেরকম পরিকল্পনা নেই আপাতত। কিন্তু এই শহর, পরিচিত সকল লোকজন থেকে অনেক দুরে কোথাও চলে যেতে ইচ্ছা করছে ।

    রিদা – কোথায় যাবেন ?

    জানিনা, যাওয়ার তেমন কোন জায়গা নেই । তবে রামপুরার বাসাটা আজ কালের মধ্যেই বদলাবো। ওখানকার আবহাওয়া আর সহ্য হচ্ছেনা।

    রিদা- ঢাকার বাইরে শিফট করবেন নাকি ?

    ঢাকার বাইরে না, তবে শহর থেকে একটু বিচ্ছিন্ন থাকতে চাই। আমার পথে পথে অনেক আত্মীয় আছে যাদের সাথে আমার রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও আত্মার সম্পর্ক আছে । তেমনি একজন আছে বিরুলিয়ায়,উনাকে বলে একটা জায়গা খুজে নিবো। খুব একটা সমস্যা হবেনা। আর পরিচিত লোকজনের সাথে হয়তো যোগাযোগ অনেকটাই কমে যাবে, ইদানিং কারো ফোন আসলে খুব অস্বস্তি লাগে । ধরি না। তারা হয়তো আমার ওপর রাগই করে, করাটাই স্বাভাবিক । কিন্তু কথা বলার মতো মন-মানসিকতা এখন আমার নেই ।
    আমি- আচ্ছা সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে আমাদের ফিরে যাওয়া উচিত ।

    সেদিনকার মতো ওকে হোর হোস্টলে ফিরিয়ে দিয়ে আমি বাসায় ফিরলাম, এখানে আমি একাই থাকি। ফিরে বিরুলিয়ার পেথের সেই আত্মীয়কে ফোন করে একটা বাসা দেখার জন্য বললাম।

    দুদিন পর উনি আমাকে বেশ কয়েকটা বাসা দেখালেন, কিন্তু আমার পছন্দ হলোনা । সেদিনই আবার গেলাম রিদার কাছে। অন্য কারো সাথে আমার কথা বলতে ভালো না লাগলেও এই মেয়েটার সাথে কথা বললে আমার মনটা হালকা হয় ।ওর তখন সবে ডিউটি শেষ,
    তো আমরা বেরিয়ে এসে ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশনের প্লাটফর্মে বসলাম । আমার মাথায় কিন্তু একটা প্রশ্ন ঘুরতো, যে এই মেয়েটা আমার মতো ফিউচারলেস, ক্লাসলেস লোককে কেন সময় দেয় ? আমি মনের মধ্যে প্রশ্ন জমা করে রেখে দিতে পছন্দ করিনা বিশেষ করে যার সাথে আমি সময় কটাচ্ছি। অন্য সবার ক্ষেত্রে বিষয় টা আলাদা, অধিকাংশ মানুষের মস্তিষ্ক আমার কাছে সচ্ছ কাঁচের মতো । বাংলাদেশ পুলিশের ডিটেক্টিভ ব্রাঞ্চের অ্যাসিসটেন্ট কমিশনার (এ.সি) পদে দুই বছর চাকরী করেছিলাম। ছেড়ে দিয়েছি, শালার ডিসিপ্লিন আর পিঠ পিছে মানুষের গালি আমার সহ্য হয়নি। এদের সাথে দু-একটা কথাবার্তা বলা মাত্র তাদের পুরো চিন্তাভাবনা আমি পড়ে ফেলতে পারি । কিন্ত এই মেয়েটা আলাদা, অন্য সবার মতো না। আর মনের মধ্যে সন্দেহ, না ওর ক্ষেত্রে প্রশ্ন বলাই ভালো; হ্যা প্রশ্ন নিয়ে কথা বলতে গেলে হিসেব করে বলতে হয়। এভাবে সময় কাটানো বিরক্তিকর তাই প্রশ্ন করেই ফেললাম যে আমাকে সময় দেওয়ার কারণ কি ?

    রিদা – আচ্ছা আপনার তো পরিচিত অনেকেই আছে, বন্ধু-বান্ধবও আছে তো আপনি কথা বার্তা বলতে আমার কাছে কেন আসেন ?

    আমি সত্যটাই বললাম, যে আপনাকে আমি ঠিক বুঝতে পারিনা মানে আপনার কথা বার্তা প্রেডিক্টেবল না এইটাই কারন । যার মুখ খোলার আগেই জানা যায় যে সে কি বলবে তার সাথে কি কথা বলবো ? আপনি তাদের মতো না, তাই আসি।
    এই কথা গুলো বলতে বলতেই একটা সিগারেট বের করলাম, তখন খেয়াল হলো লাইটার তো গাড়িতে রেখে এসেছি। লাইটার পকেটে রাখিনা কারন পকেটে মোবাইলও থাকে, স্ক্রাচ পড়ে যায় । তো কি করা যায় সেটাই ভাবছিলাম তখন রিদা একটা লাইটার হতে দিলো আর আমি সিগারেটে অগ্নিসংযোগ করলাম তখন ও বলল,
    – আপনার ব্যাপারটাও একটু অন্য রকম, যেমন ধরুন
    অন্য সকল বা অধিকাংশ মানুষ যে বিষয়ে যেরকম প্রতিক্রিয়া দেখায় আপনি তেমনটা দেখান না। আপনাকে অনেকটা সংবেদনহীণ বলা যায় কিন্তু আপনি আসলে তা না। এইযে, আমি আপনাকে লাইটার দিলাম আপনি একটুও বিস্মিত হলেন না বা প্রশ্ন করলেন না আমার কাছে লাইটার কেন। আর আমার ধারনা প্রশ্ন না করার কারন হলো আপনি ইতমধ্যেই আমার কাছে লাইটার থাকার একটা যুক্তিসঙ্গত একটা উত্তর তৈরী করে নিয়েছেন । এরকম আরো একটা বৈশিষ্ট্য হলো আপনার কল্পনার জগৎ, যা আপনাকে অন্যদের থেকে আরো বেশি আলাদা ভাবে প্রেজেন্ট করে আপনি এই যেমন সকলের মধ্যে থেকেও সকলের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে পারেন এই ব্যাপারটা আর আপনার কল্পনার জগৎটা আমার মধ্যে একটা কৌতুহল সৃষ্টি করে । ধরুন এটাই কারণ । আার সব কিছুর পিছনে সব সময় কারন থাকেনা, কিছু কিছু ক্ষেত্রে কারন না থাকাটাই ভালো।

    শেষের কথাটা আমার পছন্দ হলো, কিছু কিছু ক্ষেত্রে কারণ থাকলে সেটা স্বার্থের সমার্থক হয়ে যায়। আর লাইটারের ব্যাপারে অবাক হওয়ার মতো কিছুনেই কারন লাইটারটা নতুন, ও আজই হয়তো কিনেছে এখানে অবাক হওয়ার মতো কিছু নাই। সে যাই হোক আমি বললাম

    – বাসাতো খুঁজে পাচ্ছিনা, ঢাকায় একজন ব্যাচেলরের বাসা খুজে পাওয়া বেশ কঠিন । তার ওপর সেই লোক যদি আমার মতো হয় তাহলেতো কোন কথাই নেই ।
    ও বললো,
    – এ ক্ষেত্রে আমি আপনাকে সাহায্য করেতে পারি। আমার এক বন্ধু আছে ওকে বললে ও একটা ব্যাবস্থা করতে পারবে। আপনি বললে আমি ওর সাথে কথা বলতে পারি ।
    আমি শুধু বললাম, বলেন।

    আমার আসলে এখন কোন কিছুরই ঠিক নেই, কি বলছি, কি করছি, কেন করছি কোন কিচ্ছু না । এই মেয়েটার সাথে থাকার কারনে কিছুটা না, অনেকটা উপকার হচ্ছে। না থাকলে কি হতো কে জানে…
    সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে অনেকটা অন্যমনস্ক অবস্থায় ছিলাম, তবে এটা বুঝতে ভুল হচ্ছিলোনা যে সামনে দিয়ে যে ট্রেনটা যাচ্ছে ওটা এগারোসিন্দুর গোধুলী, অবচেতন মন ব্যাপারটা ঠিকই ক্যাচ করেছে । এই স্টেশনে দাড়ায়না জেনেও একসময় এই ট্রেনটার অপেক্ষায় বসে থাকতাম, সামনে দিয়ে যখন ক্রস করতো তখন ট্রেনেরে জানালার দিকে উৎসুক চোখে তাকিয়ে থাকতাম তবে এখন দৃষ্টি জানালার দিকে নেই, ট্রেন চলার বাতাসে উড়ন্ত ধুলো, পলিথিন কাগজ গুলোর দিকে তাকিয়ে ছিলাম । আজ দৃষ্টি ও মন দুটোই স্থীর।

    হঠাৎ রিদা পাশ থেকে ধাক্কা দিয়ে বললো, তাড়াতাড়ি উঠুন কিছু কাজ আছে ।
    আমি- চলে যাবেন ?
    রিদা – নাহ্, পরিস্তিতির পরিবর্তন করতে হবে ।
    আমি-বুঝলামনা ।

    রিদা – গাড়িটার কি অবস্থা করে রেখেছেন, ওটা আগে ধুতে হবে।
    আমি- তার সাথে পরিস্তিতি মানে কোন পরিস্তিতির কি সম্পর্ক ?
    রিদা – সেটা আসতে আসতে বুঝতে পারবেন । এখন চলুন, বলে হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো ।
    গাড়িটা কালসীর দিকেরে একটা কার ওয়াসে দিলাম, বহু দিনের ময়লা একটু সময় লাগবে পরিষ্কার করতে। ও নিয়ে গেলো রাস্তার পাশের একটা চায়ের দোকানে । সেখানে গিয়ে দোকানদারকে চা দিতে বললো।
    চা পান করতে করতে আমি ওকে বললাম আপনি ঠিক কি করতে চাইছেন বলেন তো ?

    রিদা – সেটা এখন বলবোনা, সময় হয়নি। তবে আমি এই মুহূর্ত থেকে যা যা বলবো আপনাকে সেটা করতে হবে, করবেন ?
    আমি – যদি না করার ইচ্ছেই থাকতো, তাহলে এখানে আসতাম না।

    কিছুক্ষণ পর, গ্যারেজে থেকে লোক এসে বললো গাড়িকে গোসল করানোর কাজ শেষ। পেমেন্ট করে গিয়ে দেখি ও আগেই গাড়িতে উঠে বসে আছে, আমি গাড়ি স্টার্ট দিতে দিতে ও যা বললো তাতে আমি অবাক না হয়ে পারলামনা ।

Friends

Skip to toolbar