Profile Photo

নীল মাছিOffline

  • Raihanrbt
  • Profile picture of নীল মাছি

    নীল মাছি

    3 years, 1 month ago

    অদ্ভুদ কথন- ২৩৮
    :
    করনা (Sun’s Corona)। এটি সূর্য থেকে বের হয়। ব্যাপারটা এমন যে, সূর্য হলো অতিকায় বড় তরল লাভার একটি বল। এই বলটি থেকে হঠাৎ থেকে থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে। সেই বিস্ফোরণে একটি প্রায় গোলাকৃতি রিং বের হয়। এই রিংটির নাম বিজ্ঞানীরা দিলেন করনা। হঠাৎ এই করনা নিয়ে লিখলাম কেন ? কারণ এই করনার রয়েছে এক আশ্চর্য বৈশিষ্ট্য যেটার ব্যাখ্যা আমাদের বিজ্ঞানীদের কাছে নেই। বৈশিষ্ট্যটা হলো- তাপমাত্রার। আমরা জানি, সূর্যের পৃষ্ঠতলের তাপমাত্রা যেখানে ৫৮০০ বা ৬০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সেখানে এই করোনার তাপমাত্রা হলো ৩০ লক্ষ থেকে প্রায় কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস। আশ্চর্য ! বিস্ময়কর !! আমাদের বিজ্ঞান বলে- যে জিনিস থেকে কোন কিছু উৎপন্ন হয়ে দূরে চলে যায় তার তাপমাত্রা ঐ মূল কেন্দ্র থেকে কম হবে। স্বাভাবিক। কিন্তু এখানে উল্টা ! শুধু উল্টাই নয়, বিস্ময়কর উল্টা !! কারণ, সামান্য কিছু সেলসিয়াস বা তাপমাত্রা নয় একেবারে লক্ষগুণ বেশি সেলসিয়াস বা তাপমাত্রা। ভাবা যায় ! কেন এমন হয়? ঐ যে বললাম- আমাদের জ্ঞানে তা এখন আসে নি। বিজ্ঞানীরা আজও অবাক বিস্ময়ে এর ব্যাখ্যা খুঁজে চলেছেন। সঠিক ব্যাখ্যা কেউ দিতে পারছে না। চলুন, আজ আমরা এটার একরকম ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করি- ভুল হোক, সঠিক না হোক, অবৈজ্ঞানিক হোক তবুও হাল ছাড়ব না (পাগলামি)। … সূর্যপৃষ্ঠে যে তরল অনু বা পরমাণুগুলো রয়েছে এবং করোনাতে যে তরল অনু বা পরমাণুগুলো রয়েছে তাদের মধ্যে দূরত্ব বিদ্যমান। এই করনার অনু বা পরমাণুগুলো কিন্তু ঐ তরল সূর্যপৃষ্ঠ থেকেই আসছে অর্থাৎ সূর্যপৃষ্ঠ হতে সম্পর্ক ছিন্ন করে আসছে। এবার আমরা ফুটায়মান একটি পানির কলসের কথা চিন্তা করি। এখানে পানির অণুগুলোকে তাপ লেগে তার মধ্যে আন্তঃআণবিক দূরত্ব বাড়ছে ফলে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পরমাণুতে রূপান্তরিত হচ্ছে। আর পরমাণুতে রূপান্তরিত হলেই তারা কিন্তু বাষ্প আকারে উড়ে যাচ্ছে। পরমাণুতে রূপান্তরিত হতে তাদের তাপমাত্রা কত ? আমরা জানি, ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এবার ভেবে দেখুন পানির তাপমাত্রা কিন্তু কখনই ১০০ ডিগ্রি হচ্ছে না। হলেই তা বাষ্পের তাপমাত্রা। অর্থাৎ পানির তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর নিচে। অর্থাৎ পানির তরল অবস্থান থেকে এর থেকে দূরে অবস্থিত বাষ্পের তাপমাত্রা বেশি। ঠিক একই ঘটনা ঘটছে কিন্তু সূর্যের এই করনার বেলায়। কিন্তু তাপমাত্রা এত অত্যাধিক কেন ? হবেই তো- নয়তো সূর্য বা নক্ষত্র কেন ? নক্ষত্রের শক্তি সে তো অপার। এছাড়াও- একটি কণা সে পরমাণু সূর্যের পৃষ্ঠে অবস্থান করছে এবং সূর্যের পৃষ্ঠ ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে যাচ্ছে। কেন যাচ্ছে ? কারণ বিস্ফোরণ হচ্ছে। আমরা জানি, কোথাও বিস্ফোরণ হলে সেখানে অত্যন্ত তাপমাত্রা সৃষ্টি হয়। সূর্যের যেখানে করণার সৃষ্টি হয় সেখানে কিন্তু বিস্ফোরণ হচ্ছে। সেই বিস্ফোরণে যে অত্যাধিক তাপমাত্রা হবে তাতে তো কোন সন্দেহ নেই। আর এই বিস্ফোরণের মহা তাপমাত্রা নিয়েই কিন্তু এই করণার বলয়ের সৃষ্টি হয়। কেন এই বিস্ফোরণের সৃষ্টি হয় ? তা ভাবনার বিষয়। তবে মহান সৃষ্টিকর্তা এমন এক মহা সৃষ্টির মহা মহা রহস্য রাখবেন না তা কি করে হয় ? মহান সৃষ্টিকর্তার এমন এক মহা সৃষ্টির সাথে মানুষের একটি অংশের আর্শ্চয মিল রয়েছে। ঠিক একই রকম। মানুষের এই অংশটির নাম- মন। মন-এ কোন জিনিস বা কোনকিছুর দীর্ঘদিন ধরে লালন হলে সে তাকে মনেরই অংশ হিসেবে ভেবে নেয় এবং যখন ঐ বস্তুটি মন থেকে দূরে চলে যায় তখন অনেক বেশি আকর্ষণ অনুভূত হয়। অনেকেই বলে থাকে- কাছে আছি বুঝিস না, দূরে গেলে তখন বুঝবি! আসলেই ব্যাপারটি ঘটে। কাছে থাকলে তার মূল্য কতটুকুই বুঝি আমরা। কিন্তু দূরে গেলে আফসোস হয়। মনের প্রিয় জিনিস- সে হোক না যা কিছু তাই, হারিয়ে গেলে মনের উপর প্রচন্ড প্রভাব পড়ে। এই প্রভাবের সাথে সূর্য থেকে ঐ করনার তাপমাত্রার পার্থক্যের সমান আশ্চর্য আকর্ষণ তৈরি হয় কি? হয়তোবা তার চেয়েও বেশি আকর্ষণ তৈরি হয়। যাদের হয় আর যারা এমনটা সহ্য করেন তারাই তা ভাল বুঝতে পারবেন, অনুভব করতে পারবেন- সবার জীবনেই এমনটা হয়। প্রিয় জিনিস দূরে চলে গেলে বা হারিয়ে গেলে তার জন্য মনে আকর্ষণ বাড়ে। তবে এই আকর্ষণটা শুধু আকর্ষণই নয় অনেকসময় অন্যকোন রূপ নিয়েও আসতে পারে আর তা হল- রাগ, হিংসা, অভিমান বা অন্যকিছু। কিন্তু এগুলোও ঐ আকর্ষণ-এরই ভিন্নরূপমাত্র…

    4
    1 Comment
    • দারুণ টুইস্ট দিছেন মঞ্চবন্ধু। শুরু কী দিয়া করলেন আর শেষটা যা আনলেন। দারুণ!

Skip to toolbar