-
বিগ ব্যাং-এর আগে কী ঘটেছিল
প্রীতম বিশ্বাসবিগ ব্যাং-এর আগে কী ঘটেছিল, এটি বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর একটি, এবং সত্যি বলতে আমরা নিশ্চিতভাবে জানি না। তবে বিজ্ঞানীরা কয়েকটি ধারণা দিয়েছেন:
১. বিগ ব্যাং-ই শুরু:
প্রচলিত তত্ত্ব অনুযায়ী, বিগ ব্যাং শুধু মহাবিশ্বের শুরু নয়, সময় ও স্থানও এর সাথে শুরু হয়েছে। তাই “আগে” কী ঘটেছিল জিজ্ঞাসা করা হয়তো অর্থবহ নয়, কারণ তখন সময় বা স্থান কিছুই ছিল না। এই ধারণায়, “আগে” বলে কিছু ছিলই না।
২. একাধিক মহাবিশ্ব (মাল্টিভার্স):
কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান বা স্ট্রিং তত্ত্বের মতো কিছু তত্ত্ব বলে যে আমাদের মহাবিশ্বটি একমাত্র নয়, বরং অনেক মহাবিশ্বের একটি। এই ধারণাগুলোতে বিগ ব্যাং আমাদের মহাবিশ্বের জন্ম, তবে অন্য মহাবিশ্বগুলো বিগ ব্যাং-এর আগে বা সাথে সাথেই থাকতে পারে। তাই হতে পারে আমাদের মহাবিশ্বের আগে অন্য মহাবিশ্বগুলো ছিল, যদিও আমরা এ ধারণা নিয়ে এখনও গবেষণা করছি।
৩.চক্রাকার মহাবিশ্ব:
আরেকটি সম্ভাবনা হলো মহাবিশ্ব বারবার জন্ম, মৃত্যু এবং পুনর্জন্মের মধ্য দিয়ে যায়। কয়েক বিলিয়ন বছর ধরে প্রসারিত হওয়ার পর, এটি আবার সংকুচিত হয়ে নিজেই ধ্বংস হতে পারে এবং এরপর আরেকটি বিগ ব্যাং হতে পারে। এই ক্ষেত্রে, বিগ ব্যাং শুধুমাত্র একবারের ঘটনা নয়, বরং মহাবিশ্বের আসা-যাওয়ার অন্তহীন চক্রের একটি অংশ।
৪.কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশন:
কিছু বিজ্ঞানী মনে করেন মহাবিশ্ব একধরনের কোয়ান্টাম শূন্যতা থেকে উদ্ভূত হতে পারে, যা পুরোপুরি শূন্য নয়, বরং সম্ভাবনায় ভরপুর। এই শূন্যতার মধ্যে হওয়া কিছু এলোমেলো ওঠানামা আমাদের মহাবিশ্বের সৃষ্টি ঘটাতে পারে। এই ধারণাটি খুবই জটিল, এবং আমরা আসলে এই “শূন্যতা” কী তা পুরোপুরি বুঝতে পারিনি।
৫.হকিং-এর নো-বাউন্ডারি ধারণা:
স্টিফেন হকিং একটি আকর্ষণীয় ধারণা দিয়েছিলেন: সময় যদি বিগ ব্যাং-এর কাছে আসার সাথে সাথে অন্যভাবে আচরণ করে? তাঁর তত্ত্ব অনুযায়ী, সময়ের কোনও সুনির্দিষ্ট শুরু নেই, কারণ সময় বিগ ব্যাং-এর কাছাকাছি এসে স্থান হয়ে যায়। এই ক্ষেত্রে, বিগ ব্যাং-এর আগে কী ছিল তা জিজ্ঞাসা করা অনেকটা উত্তর মেরুর “উত্তরে” কী আছে জিজ্ঞাসার মতো—এটি এমন একটি প্রশ্ন যার কোনও সঠিক অর্থ নেই, কারণ “আগে” বলে কিছু নেই।
শেষ পর্যন্ত, আমরা জানি না বিগ ব্যাং-এর আগে কী ঘটেছিল, এবং বিজ্ঞান এখনো এটি সমাধানের চেষ্টা করছে। এটি মহাজাগতিকতার সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত প্রশ্নগুলোর একটি, এবং এর উত্তর পেতে আমাদের সময়, স্থান এবং বাস্তবতার ধারণা নতুনভাবে ভাবতে হতে পারে।
Bibliography:
1. Hawking, S. W., & Hartle, J. B.(1983). The Wave Function of the Universe. Physical Review D, 28(12), 2960-2975. doi:10.1103/PhysRevD.28.2960.
2. Penrose, R. (2011). Cycles of Time: An Extraordinary New View of the Universe. New York: Alfred A. Knopf.
3. Greene, B.(2011). The Hidden Reality: Parallel Universes and the Deep Laws of the Cosmos. New York: Vintage Books.
4. Guth, A.(1997). The Inflationary Universe: The Quest for a New Theory of Cosmic Origins. New York: Basic Books.
5. Vilenkin, A. (2006). Many Worlds in One: The Search for Other Universes. New York: Hill and Wang.
6. Susskind, L. (2005). The Cosmic Landscape: String Theory and the Illusion of Intelligent Design. New York: Little, Brown and Company.
1 Comment
Friends
সুশোভন ইফতেখার শাওন
@shosovon
Prithula Zaman
@prithula
এস এম সজিবুল ইসলাম
@shojib-rumman
Md-Shajib-Sikder
@md-shajib-sikder
Queen Ritu
@smilee88
ইয়াসিন আরাফাত
@easir-arafat
মো: কামরুল হাসান (অপু)
@kamrul-hasan
চিন্তাতরঙ্গিনী
@thoughtwaves
Ikram Akbar
@ikram-akbar


চমৎকার ব্যাখ্যা। ভালো লাগলো ।