-
মহাবিশ্বের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
প্রীতম বিশ্বাসমহাবিশ্বের শুরু হয় প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে, একটি বিগ ব্যাং দিয়ে। এটি মহাকাশে কোনো বিস্ফোরণ ছিল না, বরং স্থান-কাল বিস্তৃতির শুরু ছিল, যেখানে একটি ক্ষুদ্র, অবিশ্বাস্যভাবে উত্তপ্ত বিন্দু থেকে সমস্ত কিছু উদ্ভূত হয়েছিল। প্রথম মুহূর্তেই মহাবিশ্বের মূল উপাদান—পদার্থ, শক্তি, স্থান এবং সময়—আকার নিতে শুরু করে।
যেমনটি মহাবিশ্ব প্রসারিত এবং ঠান্ডা হতে লাগল, চারটি মৌলিক বল—মাধ্যাকর্ষণ, তড়িৎচুম্বকত্ব, এবং শক্তিশালী ও দুর্বল নিউক্লিয়ার বল—নিজস্ব বৈশিষ্ট্য পেতে শুরু করল। ছোট কণাগুলি, যেমন কোয়ার্ক, তৈরি হতে শুরু করল এবং দ্রুত প্রোটন ও নিউট্রনের মধ্যে মিলিত হলো, যা পরমাণুর মূল উপাদান।
বিগ ব্যাং-এর প্রায় তিন মিনিট পর, তাপমাত্রা যথেষ্ট কমে গেল, যাতে এই প্রোটন ও নিউট্রনগুলি একত্রিত হয়ে প্রথম পরমাণবিক নিউক্লিয়াস গঠন করতে পারে—বেশিরভাগ হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম। তবে মহাবিশ্ব তখনও এতটাই উত্তপ্ত ছিল যে পূর্ণ পরমাণু গঠিত হতে পারেনি, ফলে মহাবিশ্ব তখনও কণিকা ও আলোয় পরিপূর্ণ ছিল।
প্রায় ৩৮০,০০০ বছর পরে, মহাবিশ্ব এতটাই ঠান্ডা হয়ে গেল যে ইলেকট্রনগুলি নিউক্লিয়াসের সাথে মিলিত হতে পারল, এবং নিরপেক্ষ পরমাণু তৈরি হলো। এই সময় থেকে আলোর পথ খুলে গেল, যা আমরা আজ ‘কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন’নামে দেখতে পাই—যা হলো মহাবিশ্বের প্রাচীনতম আলো, বিগ ব্যাং-এর এক প্রকারের প্রতিফলন।
এরপর শুরু হয় ‘অন্ধকার যুগ’, যখন মহাবিশ্ব বেশিরভাগই হাইড্রোজেন গ্যাসে পূর্ণ ছিল, কিন্তু কোনো তারা বা গ্যালাক্সি ছিল না। শত শত মিলিয়ন বছর ধরে এটি শান্ত এবং অন্ধকার ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত, মহাকর্ষ এই গ্যাসের মেঘগুলোকে একত্রিত করল, এবং বিগ ব্যাং-এর প্রায় ১৫০ মিলিয়ন বছর পরে প্রথম তারাগুলি তৈরি হলো। এই তারাগুলি দ্রুত জন্মায় এবং মারা যায়, প্রায়ই সুপারনোভার বিস্ফোরণের মাধ্যমে, যা ভারী উপাদান তৈরিতে সাহায্য করে।
যত তারাগুলি তৈরি হতে থাকল, তারা গ্যালাক্সি তৈরি করে একসাথে মিলিত হলো, এবং ধীরে ধীরে মহাবিশ্ব সেই রূপ নিল যা আমরা আজ জানি, যেখানে গ্যালাক্সি, তারা এবং গ্রহ ছড়িয়ে রয়েছে বিশাল স্থানজুড়ে।
আমাদের সৌরজগৎ অনেক পরে তৈরি হয়, প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর আগে। পুরনো তারাগুলির ধ্বংসাবশেষ থেকে গঠিত গ্যাস ও ধূলিকণার একটি মেঘ নিজের মাধ্যাকর্ষণের ফলে ভেঙে পড়ে সূর্য এবং গ্রহগুলি তৈরি করে, যার মধ্যে পৃথিবীও আছে। পৃথিবী তৈরি হওয়ার বেশি দিন পরপরই জীবনের সূত্রপাত ঘটে—সহজ, এককোষী জীবাণু, যা শেষ পর্যন্ত বিবর্তিত হয়ে আজকের জটিল জীবনের রূপ নিয়েছে।
মহাবিশ্ব এখনও প্রসারিত হচ্ছে, এবং বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে এই প্রসারণের গতি বাড়ছে, যা একটি রহস্যময় শক্তি, ডার্ক এনার্জি, দ্বারা চালিত। মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনও অনিশ্চিত। এটি হয়তো একদিন এতটাই প্রসারিত হবে যে সবকিছু শীতল ও অন্ধকার হয়ে যাবে, অথবা আরও কিছু নাটকীয় পরিণতির মধ্য দিয়ে যেতে পারে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, মহাবিশ্বের যাত্রা হলো এক অবিরাম পরিবর্তনের গল্প—প্রসারণ, শীতল হওয়া, এবং ধীরে ধীরে জটিল কাঠামোর গঠন। এবং এই প্রক্রিয়া এখনও চলছে।
Bibliography
1. Hawking, Stephen. “A Brief History of Time”. Bantam Books, 1988.
2. Singh, Simon. “Big Bang: The Origin of the Universe”. HarperCollins, 2004.
3. Weinberg, Steven. “The First Three Minutes: A Modern View of the Origin of the Universe”. Basic Books, 1977.
4. Greene, Brian. “The Fabric of the Cosmos: Space, Time, and the Texture of Reality”. Alfred A. Knopf, 2004.
5. Liddle, Andrew. “An Introduction to Modern Cosmology”. Wiley, 2003.
6. Peebles, P. J. E. “Principles of Physical Cosmology”. Princeton University Press, 1993.
4 Comments-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন! আপনার এই লেখাটি আজ 28 September 2024 তারিখে ‘জনপ্রিয় অবদান’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং এই মঞ্চকে একটি আনন্দদায়ক ও জনপ্রিয় মঞ্চ হিসাবে চালু রাখাতে আপনার এই অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
Friends
সুশোভন ইফতেখার শাওন
@shosovon
Prithula Zaman
@prithula
এস এম সজিবুল ইসলাম
@shojib-rumman
Md-Shajib-Sikder
@md-shajib-sikder
Queen Ritu
@smilee88
ইয়াসিন আরাফাত
@easir-arafat
মো: কামরুল হাসান (অপু)
@kamrul-hasan
চিন্তাতরঙ্গিনী
@thoughtwaves
Ikram Akbar
@ikram-akbar



চমৎকার লেখনী। আর একটু বৃহৎ পরিসরে লিখলে ভালো লাগলো। কোয়ান্টাম অস্থিরতা, পদার্থ- প্রতি পদার্থের সংখ্যার পার্থক্য, কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশনের পার্থক্য, ডার্ক ম্যাটার এবং ডার্ক এনার্জি যা মহাবিশ্বের প্রায় ৯৭ শতাংশ তা নিয়ে আরেকটু আলোচনা করলে ভালো লাগত। সম্ভবত লেখাটি একটু সংক্ষিপ্ত হয়ে গেছে। ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হলে অন্য একটা আবেদন থাকবে। পড়তে বেশ ভালো লাগছে।