-
নীল আকাশের চিঠি
প্রীতম বিশ্বাসরাতটা ছিল অন্য সব রাতের মতোই। খুলনার আকাশে হাজারো তারার ঝিলিক, কিন্তু শহরের কোলাহলে সে যেন হারিয়ে যায়। বিলাস একা তার বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে, তার বুকের মধ্যে এক অজানা শূন্যতা। চাকরি, বন্ধুত্ব, পারিবারিক সম্পর্ক—সব কিছুই ঠিকঠাক আছে, কিন্তু কোথাও যেন কিছু একটা নেই।
হঠাৎ একটা কাগজের টুকরো তার পায়ের কাছে এসে পড়ল। সে অবাক হয়ে নিচু হয়ে কাগজটা তুলে নিল। এটা একটা পুরনো চিঠি। তার নিজের নাম ঠিকানায় লেখা, কিন্তু হাতে লেখা অক্ষরগুলো এতটাই অপরিচিত যে, এ চিঠি কখনই সে পায়নি।
চিঠির ভাঁজ খুলতেই প্রথম লাইনটা পড়ল:
_”প্রিয় বিলাস, তুমি কি জানো যে, আকাশও আমাদের কথা শোনে?”_বিলাস থমকে গেল। আকাশ? চিঠিটা কে লিখল? তার কল্পনায় কেউ কি এইসব কথা ভাবতে পারে?
চিঠির বাকিটা পড়তে লাগল:
_”আমরা যখন গভীরভাবে কোনো কিছু চাই, আকাশ আমাদের চাওয়াগুলো শুনে নেয়। একদিন তোমারও কিছু পাওয়ার ছিল, কিন্তু হয়তো তুমি ভুলে গেছ। এখন সেই সময় এসেছে। রাতের আকাশের দিকে তাকাও, আর একবার গভীরভাবে কিছু চাও।”_বিলাসের মনে কেমন একটা অদ্ভুত অনুভূতি হলো। সে জানে না কেন, কিন্তু তার মনে হলো, চিঠিটা মিথ্যে বলছে না। সে একটু দ্বিধাগ্রস্ত হলেও আকাশের দিকে তাকাল। কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। ধীরে ধীরে তার চোখ বন্ধ হলো, আর মনে মনে একটা গভীর ইচ্ছে করল। সে ভাবল, “_যদি জীবনের এই শূন্যতা সত্যিই পূর্ণ হতো…_”
হঠাৎই আশেপাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠল, আর কিছুক্ষণের মধ্যে তার সামনে অদ্ভুতভাবে ঝলমলে আলো ফুটে উঠল। আলোটা যেন আকাশ থেকেই নেমে এল, আর তার মাঝে দাঁড়িয়ে রইল একটা অপরিচিত মেয়ে, চোখে এক অদ্ভুত মায়াময়তা।
মেয়েটি মৃদু হাসল। “তুমি আমাকে ডেকেছ?”
বিলাস বিস্ময়ে পাথর হয়ে গেল। “তুমি কে?”
মেয়েটি বলল, “আমি সেই ইচ্ছা, যাকে তুমি ভুলে গেছ। আমি সেই স্বপ্ন, যা তুমি অনেক আগে দেখেছিলে।”
বিলাসের মন ভরে উঠল পুরনো স্মৃতিতে। ছোটবেলার সেই এক অজানা স্বপ্ন, যেখানে সে সবসময় ভাবত তার জীবনে একটা জাদু হবে, একটা অদ্ভুত ঘটনা, যা তার জীবনকে বদলে দেবে।
“তাহলে তুমি আমার ইচ্ছার উত্তর?”
মেয়েটি মাথা নাড়ল। “হ্যাঁ, কিন্তু মনে রেখো, আমি তোমার ইচ্ছার প্রতিফলন। তুমি যা চাও, তাই হতে পারি আমি। এখন তুমি কী চাও?”
বিলাস ভাবল, এই শূন্যতা, এই খালি জীবন, যদি সত্যিই কিছু অর্থ পেত। সে আবার মৃদু করে বলল, “আমি শুধু চাই জীবনের মধ্যে একটুকরো অর্থ, একটুকরো ভালোবাসা।”
মেয়েটি আবার হাসল। “তাহলে চলো, সেই অর্থ খুঁজে নেওয়া যাক।”
আলোটা ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল, আর মেয়েটিও অদৃশ্য হয়ে গেল। বিলাস চমকে উঠে দেখল সে আবার বারান্দায় একা দাঁড়িয়ে আছে। তবে এবার তার মনের ভেতর সেই শূন্যতা আর নেই। এক অদ্ভুত প্রশান্তি তাকে ভরে তুলেছে। যেন তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত এখন নতুন অর্থ নিয়ে সামনে আসছে।
এরপর থেকে বিলাস জীবনের দিকে নতুন দৃষ্টিতে তাকাতে লাগল। প্রতিদিনের ছোট ছোট ঘটনা, মানুষদের হাসি, আকাশের নীলচে রঙ—সবকিছুই তার কাছে নতুনভাবে ধরা দিতে লাগল। যেন সে আকাশের সেই চিঠির মাধ্যমে তার জীবনের সত্যিকারের অর্থ খুঁজে পেয়েছে।
1 Comment
Friends
সুশোভন ইফতেখার শাওন
@shosovon
Prithula Zaman
@prithula
এস এম সজিবুল ইসলাম
@shojib-rumman
Md-Shajib-Sikder
@md-shajib-sikder
Queen Ritu
@smilee88
ইয়াসিন আরাফাত
@easir-arafat
মো: কামরুল হাসান (অপু)
@kamrul-hasan
চিন্তাতরঙ্গিনী
@thoughtwaves
Ikram Akbar
@ikram-akbar


বেঁচে থাকাটাই যে উদযাপনের