-
হলোনা শেষ
প্রীতম বিশ্বাসপৃথিবীর বুকে যত শহর আছে, তার মধ্যে ছোট্ট একটা শহরে প্রীতম আর লাবণী বাস করত, কিন্তু তাদের পথ কখনো এক হয়নি। প্রীতম শহরের এক নির্জন কোণে ছোট্ট একটা ফ্ল্যাটে থাকত, আর লাবণী শহরের আরেক প্রান্তে তার পরিবারের সঙ্গে পুরনো এক বাড়িতে। লাবণী একজন শিল্পী—তার তুলির ছোঁয়ায় ক্যানভাস যেন জীবন্ত হয়ে উঠত, আর প্রীতম ছিল একজন লেখক, যার কলমের লেখায় ফুটে উঠত নানান গল্প। দুজনের জীবন ছিল ভিন্ন পথে, কিন্তু অদ্ভুতভাবে তাদের জীবন যেন ক্রমেই একে অপরের দিকে টানছিল।
একদিন লাবণী শহরের পুরনো বইয়ের দোকানে গেল, তার এক পুরনো অভ্যাস ছিল পুরনো বই খোঁজা। সেখানে ঘোরাঘুরি করতে করতে সে একটা পুরনো নোটবুক পেল, যার পাতাগুলোতে কবিতা আর ছোট ছোট চিঠি লেখা ছিল। নোটবুকের পেছনের পাতায় একটি বিশেষ চিঠি লাবণীর দৃষ্টি আকর্ষণ করল। সেখানে লেখা ছিল, “যে ভালোবাসা আমরা পাইনি, তা কি সত্যিই হারিয়ে যায়? নাকি তা আমাদের ভেতরেই কোথাও থেকে যায়, অদেখা থেকে, অনুভবের অপেক্ষায়?”
চিঠির শব্দগুলো লাবণীর হৃদয়ের গভীরে গিয়ে আঘাত করল। সে ভাবতে লাগল, এই কথাগুলো যেন তার নিজের মনের কথাই। লাবণী কৌতূহলী হয়ে উঠল—এই চিঠির লেখক কে? তার মনের এই গভীর অনুভূতিকে কে এমন সুন্দর করে প্রকাশ করল?
অন্যদিকে প্রীতম তার নতুন গল্প লিখছিল। তার গল্পের চরিত্র লাবণী নামের একজন শিল্পী মেয়ে, যার তুলিতে আকাশের তারা নেমে আসে ক্যানভাসে। মজার ব্যাপার হলো, প্রীতম কখনো লাবণী নামে কাউকে চিনত না, কিংবা এমন কাউকে দেখেনি। তবুও, গল্পের লাবণী তার কল্পনায় এতটাই বাস্তব হয়ে উঠছিল যে, প্রীতম মাঝে মাঝে মনে করত সে বুঝি আসলেই কোথাও আছে।
একদিন বিকেলে প্রীতম শহরের পার্কে বসে তার গল্পের নতুন অধ্যায় লিখছিল। হঠাৎ তার চোখ পড়ল এক মেয়ের দিকে, যে বেঞ্চে বসে আঁকছিল। মেয়েটির চেহারা, চুলের ধরন—সবকিছু তার গল্পের লাবণীর মতো! প্রীতম বিস্মিত হয়ে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে রইল, আর ভাবতে লাগল, এটা কি কোনো কাকতালীয় ঘটনা, নাকি সত্যিই তার কল্পনার চরিত্র তার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে?
দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর প্রীতম সাহস করে মেয়েটির দিকে এগিয়ে গেল। মেয়েটি তখনও আঁকায় মগ্ন, কিন্তু হঠাৎ সে চোখ তুলে প্রীতমের দিকে তাকাল। তাদের চোখে চোখ পড়তেই সময় যেন থেমে গেল। সেই মুহূর্তে দুজনেই এক অদ্ভুত অনুভূতি পেল—যেন তারা দুজন বহুদিন ধরে একে অপরকে খুঁজছিল, অথচ জানত না তারা কে।
লাবণী হেসে প্রীতমের দিকে তাকাল, এবং তার হাতে থাকা খাতাটা তুলে নিল। খাতার প্রথম পাতায় লেখা ছিল, “লাবণী: একজন শিল্পীর গল্প”। খাতার পাতায় নিজের নাম দেখে লাবণী বিস্মিত হয়ে বলল, “তুমি কি আমাকে চেনো?”
প্রীতম ধীরে হেসে উত্তর দিল, “না, তবে আমি তোমাকে বহুদিন ধরে জানি।”
এভাবেই তাদের আলাপ শুরু হলো। লাবণী বিস্মিত হয়ে বুঝতে পারল, প্রীতমের লেখা গল্পের চরিত্র আর তার নিজের জীবনের গল্প কেমন যেন মিলে গেছে। আর প্রীতমও বুঝল, তার কল্পনার লাবণী শুধুই কল্পনা নয়, বাস্তবেই তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
এরপর থেকে লাবণী যখনই ছবি আঁকত, প্রীতমের জীবনে ঠিক সেই ঘটনার প্রতিফলন ঘটত। আবার প্রীতম যখনই লাবণী নিয়ে কিছু লিখত, লাবণী সেটা স্বপ্নে দেখতে পেত। তাদের জীবন যেন একে অপরের কল্পনা আর বাস্তবতার সীমানা মুছে দিচ্ছিল।
একদিন লাবণী স্বপ্নে দেখল, সে এক চাঁদনী রাতে দাঁড়িয়ে আছে, আর প্রীতম দূরে চলে যাচ্ছে। সে চিৎকার করে বলল, “তুমি কোথায় যাচ্ছো? ফিরে এসো!” কিন্তু প্রীতম কোনো জবাব দিল না, শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল। সকালে উঠে লাবণী প্রীতমকে বলল, “তুমি কি আমাকে ছেড়ে যেতে চাচ্ছো?”
প্রীতম বিস্মিত হয়ে বলল, “না, কিন্তু আমি গতকাল এই বিষয়টা গল্পে লিখেছিলাম। তুমি সেটা কীভাবে জানলে?”
তারা বুঝতে পারল, তাদের কল্পনা আর বাস্তবতার মধ্যে এক অদ্ভুত সেতু তৈরি হয়ে গেছে। যা তারা লিখছে, আঁকছে, তা শুধু কল্পনায় সীমাবদ্ধ নয়—এগুলো তাদের জীবনের অংশ হয়ে যাচ্ছে।
প্রীতম আর লাবণী এরপর আর কিছু লিখতে বা আঁকতে সাহস পেল না, কারণ তারা বুঝে গেল, তাদের কল্পনা যে জাদুময় শক্তিতে পরিণত হয়েছে, তা তাদের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করছে। কিন্তু তারা এটাও জানত, তাদের ভালোবাসা এই জাদুর চেয়ে বেশি শক্তিশালী।
তাদের জীবন হয়ে উঠল এক অবিরাম ভালোবাসার গল্প, যেখানে কল্পনা আর বাস্তবতা মিশে গেছে। লাবণী আর প্রীতমের গল্প শেষ হয়নি—এখনও তারা কোথাও একসঙ্গে, কোনো খাতায় লেখা হয়ে চলেছে, অথবা কোনো ক্যানভাসে তাদের ভালোবাসা চিত্রিত হচ্ছে, যেখানে সময়ের কোনো সীমা নেই, কেবল এক অনন্ত ভালোবাসার জাদু।
Friends
সুশোভন ইফতেখার শাওন
@shosovon
Prithula Zaman
@prithula
এস এম সজিবুল ইসলাম
@shojib-rumman
Md-Shajib-Sikder
@md-shajib-sikder
Queen Ritu
@smilee88
ইয়াসিন আরাফাত
@easir-arafat
মো: কামরুল হাসান (অপু)
@kamrul-hasan
চিন্তাতরঙ্গিনী
@thoughtwaves
Ikram Akbar
@ikram-akbar
