-
রাজা আর নরসুন্দর এর গল্পটা অনেকেরই জানা। যারা জানে না তাদের জন্য দিলাম।
” এক দেশে এক রাজা ছিলেন। তার হাতিশালে হাতী, ঘোড়াশালে ঘোড়া…
এগুলো তো সবার জানা, তাই না? তাই এগুলো মনে মনে ভেবে নিবেন😁।
রাজা মশাই এর ও তো চুল, দাঁড়ি কামাতে হয়। তখন তো তার পার্লার ছিলো না, আর থাকলেই বা কি? রাজা মশাই নিশ্চয়ই পার্লারে যাবেন না বরং পার্লারই আসতো রাজার কাছে। তো রাজা মশাই এর নরসুন্দর নিয়মিত আসতেন রাজদরবারে। আসার আগে নরসুন্দর তার নিজের বাপ, ঠাকুরদার চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করতেন। কেন তারা পেশা হিসেবে এই কাজ টাকে বেছে নিয়েছিলো? কারণ কত্ত সাংঘাতিক কাজ এটা! যতক্ষণ সে এ কাজ করে প্রচন্ড ভয়ে থাকে, না জানি কি ভুল করে ফেলে, তার জন্য রাজা মশাই তার গর্দান টাই না জানি কেঁটে রাখে! এই ভয়ে সে সব সময় আধ মরা হয়ে থাকে।
নরসুন্দর এর একটা নাম দেওয়া দরকার তাই না? হুম ধরলাম তার নাম “বিল্লু”।
বিল্লু গেলেন রাজ দরবারে, রাজার চুল,দাঁড়ি কামাতে। রাজা মশাই হুকুম দিলেন- “এই তোরা কে কোথায় আছিস? দরজা,জানালাগুলো ভালো করে লাগিয়ে দিয়ে যা, আর আমি না ডাকলে কেউ আসবি না।”
অন্যবারের চেয়ে এবারের গোপনীয়তা যেন অনেক বেশি! বিল্লু তো মনে মনে দেব,দেবীর নাম জোপেই যাচ্ছে। এবার রাজা মশাই বিল্লুকে বললেন- শুন, তুই যা দেখবি, তা কখনো ই কাউকে বলতে পারবি না। যদি বলিস তবে শুধু তোর না, পুরো পরিবারের গর্দান নিবো।
বিল্লু ঠিক কিছু বুঝে উঠতে পারছে না, সে কি বলবে না?
এবার রাজা তার মাথা থেকে পাগড়ীটা খুলে ফেললেন। পাগড়ী খোলার পরে বিল্লু যা দেখলো! সে কল্পলাও করতে পারেনি, এমন কিছু দেখবে!! দেখে কি – রাজার মাথায় দুটো শিং গজিয়েছে!! অসম্ভব ব্যাপার! কিভাবে সম্ভব! ভয়ে সে যেন দেব,দেবীকে ডাকতেও ভুলে গেলো!
রাজা বললেন- এটা কিন্তু তুই ছাড়া আর কেউ দেখেনি এবং জানেও না। খবরদার, কেউ যেন না জানে। যদি জানে তবে তোর বংশের সবার গদ্দান যাবে। ভয়ে ভয়ে সে মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো যে সে কাউকে বলবে না। যথারীতি বিল্লু তার কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরে গেলো। কিন্তু বিল্লু এই ভংয়কর দৃশ্য কিছুতেই ভুলতে পারছেনা। আবার কাউকে বলতেও পারছেনা। রাতে সে ঘুমাতে পারেনা, দিনে ঠিক মত কাজ করতে পারে না, খেতে পারে না। বিল্লুর বউ বিষয় টা কি জানতে চাইলো, কিন্তু বিল্লু কিছুই বলতে পারলো না ভয়ে।
কাউকে কথাটা না বলে বিল্লু কিছুতেই শান্তি পাচ্ছে না। এভাবে বেশ কিছু দিন যাওয়ার পরে সে একদিন ভোরে বাড়ি থেকে বের হয়ে বহু দূরে চলে গেলো, একটা বাঁশ ঝাড় দেখতে পেলো। সে ভালো করে চারিদিক দেখে নিলো, কোথায় ও কেউ আছে কি না? বেশ কিছুক্ষণ দেখে যখন বুঝতে পারলো যে – নাহ ত্রী সীমানায় কেউ নেই, তখন সে একটা বাঁশগাছ কে জড়িয়ে ধরে বললো- আমাদের রাজার মাথায় শিং উঠেছে! আমাদের রাজার মাথায় শিং উঠেছে!
আহ কি শান্তি!! কি শান্তি!!
এবার সে বাড়ি ফিরে এলো, এবং স্বাভাবিক ভাবে জীবন যাপন শুরু করলো।
এর বেশ কিছু দিন পরে রাজার রাজ্যে এক বংশী বাদক এলেন। সে যখন তার বাঁশীতে ফুঁ দিলো সুর তোলার জন্য তখন বাঁশীতে বাজতে থাকলো- আমাদের রাজার মাথায় শিং উঠেছে, আমাদের রাজার মাথায় শিং উঠেছে।
সবাই এই সুর শুনেতো অবাক! এই খবর রাজার দরবার অবধি পৌঁছে গেলো। রাজার পাইক, পেয়াদা রাজার হুকুমে বংশীবাদককে রাজদরবারে আটক করে নিয়ে গেলো। রাজা মশাই তো রাগে অন্ধ হয়ে আছেন। রাজা মশাই বংশীবাদক কে হুকার দিয়ে বললেন- তুই এই সুর কোথায় পেলি?
কে তোকে শেখালো এই সুর?
বংশীবাদক ভয়ে ভয়ে বললো- রাজা মশাই আমি কেন, যেই এই বাঁশীতে ফুঁ দিচ্ছে তাতেই এই সুর বাজছে।
এর পর রাজা মশাই এর গোয়েন্দারা ঘটনা তদন্ত করে আসল ঘটনা বের করে ফেললেন।
এরপর কি হলো এটা সবাই আমরা বুঝতে পারছি,তাই না?
আমি এই গল্পটা আমার ছোট বেলায় শুনেছিলাম আমার মেজ ভাই এর কাছে।
আজ এত বছর পরে আমার গল্পটা মনে হয়ে আমি অবাক হলাম! কেন? – এই গল্পটা একদম আমার Profession এর সাথে যায়।বিল্লু তার মনের কষ্ট,মানসিক চাপ দূর করার জন্য বেছে নিয়ে ছিলো বাঁশ ঝাড়কে। কিন্তু দূর্ভাগ্য বশত সেটা তার জীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি হয়েছিল। কিন্তু এখন? এখন আমরা আছি অর্থাৎ যারা মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে কাজ করছি। প্রফেশনাল এথিকস মেনেই আমরা স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে থাকি।
আমরা সবাই জানি ” স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল” এই স্বাস্থ্য বলতে কিন্তু শুধু শারীরিক স্বাস্থ্যকেই বোঝায় না। বরং শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্ব্য নিয়েই হলো স্বাস্থ্য।
তাই আর অবহেলা না করে নিয়মিত সঠিক উপায়ে মনের যত্ন নিন।
১৪/১০/২০১৯
Friends
Hasina Sultana Rima Rima
@hasinasultanarimarima
আনিকা মারজান ইরা
@anikamarjanera
Marketing Online
@marketingonline
Munmun Chakraborty
@munmunchakraborty
Md Babul Hossain
@mdbabulhossain
আনিকা ইসলাম হৃদিতা
@hridita
আয়মন সিদ্দিকা উর্মি
@asurmi85
Song For Peace
@songforpeace
Sahriar Rubaiat
@sahriarrubaiat

