-
আচ্ছা, তুমিও কি চিন্তা করো?
না, না, দূশ্চিন্তা না!
এই যেমন আমি চিন্তা করি!
কীসের চিন্তা, জানো না?
ঠিক আছে, শোনো তাহলে।সেই ছোটবেলা থেকেই চিন্তা করেই চলেছি;
অনবরত সে চিন্তা;
অঙ্কের চিন্তা, সাহিত্যের চিন্তা;
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চিন্তা;
প্রকৃতি ও নিজের চিন্তা;
বন্ধু ও প্রিয়জনের চিন্তা!
পরিবার ও সমাজের চিন্তা;
দেশের ও দশের চিন্তা;
মাটি ও মানুষের চিন্তা!
পাখি ও পালকের চিন্তা;
উন্নতি ও অবনতির চিন্তা;
জীবন থেকে পালানোর চিন্তা!
আরো কতরকম হতে পারে?
হ্যাঁ, সব বিষয়েই আমি চিন্তা করি।ও, তুমিও করো তাহলে!
বাহ্, বেশ তো!
আচ্ছা, কখন চিন্তা করো?
সময় পেলে?
কী বলো!
আমি তো চিন্তাই করি সারাক্ষণ!
মাঝে মাঝে ঘুমের ভেতরেও!
সময় পেলে অন্য কাজ করি!জানো, এক বন্ধু ধাঁধাঁ ধরেছিলো।
অঙ্কের ধাঁধাঁ।
হিসাব-নিকাশের ধাঁধাঁ।
আমার খুবই প্রিয় জিনিস।
স্কুল ছুটি পর্যন্ত পারলাম না।
বললাম, আগামীকাল এসে জানাবো।বাড়ি ফিরে অনেকক্ষণ চেষ্টা করলাম।
হলো না!
আমার গণিতপ্রিয় আব্বাকে জানালাম,
ঘুমাতে যাওয়ার আগে।
দু’জন দুই ঘরে শুয়ে আছি।
অনেকক্ষণ আলোচনার পরও হচ্ছে না;
আব্বা তাই ঘুমিয়ে পরলো বোধহয়;
নাক ডাকার শব্দ পেলাম।
তারপর চিন্তা করতে করতে আমারো ঘুম পেলো;
ঘুমিয়েই পড়লাম চিন্তারত অবস্থায়।
হঠাৎ ঘুমের মধ্যেই সমাধান পেলাম।
চোখ খুলে মনে মনে চেক করলাম;
নাহ্, ঠিকই তো আছে!
আব্বাকে ডাকলাম;
চমকে উঠে জানতে চাইলো।পরেরদিন যখন বন্ধুকে জানালাম,
সেও অবাক; কারণ –
তার জানা উত্তরের সাথে মেলে নি!
অথচ দু’টোই সঠিক!আচ্ছা,
তোমারো কী চিন্তা করতে ভালো লাগে?
আমার কিন্তু সেটাই আসল!
অথচ অনেকদিন থেকেই থামতে চাচ্ছি;
কিন্তু পারছি না।
বিশ্বাস করো,
বড়ই ক্লান্ত লাগে মাঝে মাঝে!চিন্তার কতদূর গভীরতা তোমাকে টানে?
কী বললে? এটা পাগলামি?
তাহলে হয়তো আমিও পাগল!আচ্ছা,
শুনবে আরেকটু? আমার বকবকানি?
আজ সব বলতে ইচ্ছে করছে!
আর বেশি নেই।
খুব অল্পই অবশিষ্ট আছে।
আমিই তো ক্ষয়ে যাচ্ছি!মাঝে মাঝে মেঠো রাস্তার ঘাসে
শুয়ে আকাশ দেখি; একা!
শরতের আকাশ;
কী ভীষণ তুলতুলে, কোমল!
রাস্তার একধারে বাঁশঝাড়।
স্বচ্ছ রোদের আলো চোখে লাগে;
সয়ে আসতে দেহে শীহরণ বয়ে যায়!মনে পড়ে অনেকের কথা!
ধরো, বন্ধু বা প্রিয়জন কেউ!
ঘাটতে থাকি তার স্মৃতির পাতা।
মনে পড়ে তার মুখচ্ছবি।
তার কন্ঠস্বর মনে পড়ে।স্মৃতির পাতায় তার রুপান্তর দেখি!
অবাক হই মাঝে মাঝে।
মানুষ এতটা পাল্টাতে পারে?
চেহারায় বা আর কিছুতে!অথচ,
যত পরিবর্তনই আসুক;
মানুষটা কিন্তু একই রয়ে যায়।
সেই যে পুরনো বন্ধু বা প্রিয়জন!আচ্ছা, সেও কি আমার কথা ভাবছে?
অথবা সময় পেলে?
নাকি আমি একাই বাঁচি স্মৃতিতে?
কষ্টও লাগে, আবার আনন্দও।
কেননা সে যে আমার বন্ধু বা প্রিয়জন!
বাঁচতে হলে তাদের খুব প্রয়োজন!এগুলো সবই ঘটে আমার খেয়ালি চিন্তায়!
আমি দেখতে থাকি তার মুখখানা।
আহা, কতদিন দেখা হয় না!
দুই দিনও মনে হয় কয়েক বছর!ভাবতে ভাবতে তার মুখখানা আমার দিকে এগিয়ে আসে!
যতই কাছে আসে, ততই স্পষ্ট দেখি।
কিন্তু একটা সময় পর ঝাপসা হয়ে আসে।
জুম করা ছবির মতো একসময় ফেটে যায়।
ভাগ হয় অনেকগুলো পিক্সেলে।
সেই পিক্সেলগুলো দেখে আমি ঘাবড়ে যাই।
চোখ, নাক, মুখ, কিছুই চেনা যায় না।
পূণরুদ্ধার করতে পারি না তার সু-দর্শন মুখখানা।আশংকা জাগে,
আসলেই কি তার অস্তিত্ব ছিলো কোনো কালে?
নাকি সবই আমার কল্পচিন্তা!
সে কি আমার মগজপ্রসূত চরিত্র?কিন্তু একি!
পুরো আকাশটাই ঘোলাটে হয়ে যাচ্ছে কেনো?
আরেহ্,
বাঁশ, ঘাস, ধানগাছ, বাড়ি, সবই তো!
নাকি আমিই ফেটে ঘোলাটে হয়ে যাচ্ছি?
এবার কি তবে আমার অস্তিত্বই প্রমাণ করতে হবে?– কল্পচিন্তা ২
মতিউর রহমান মিজান
(লেখা হয়েছেঃ 17:06; 01.09.2024 ~ 01:23; 02.09.2024)4 Comments
Friends
জাহিদুল ইসলাম
@jahidnotes
Md Abu Munif Al Mukim-Rocky
@md-abu-munif-al-mukim-rocky
Md-Parvez
@md-parvez
স্নিগ্ধ ধূম্রাক্ষর---
@subaiya-aymaan
S.m-Mehedi
@s-m-mehedi
Md. Habibur Rahman
@habib
Kazi Fahim hossin
@fahim6542
Rifat-Afrose-Rumpa
@rifat-afrose-rumpa
শিউলি চক্রবর্তী
@shiuli


চিন্তার গল্প পড়তে পড়তে নিজেই চিন্তার চক্রে পরে গেলাম।