Profile Photo

ফারদিন ইসলাম উইনমিOffline

  • winme
  • #প্রয়োকনিকার_ফাসি
    #প্রথম_খন্ড
    #আমিনুল_ইসলাম_আমিন★

    রাত্রি ১১.৫০ মিনিট, আর মাত্র ১০ মিনিট পরেই ফাসি হবে। বিখ্যাত ডিটেকটিভ & মাস্টার কিলার প্রয়োকনিকা।
    রাত অনেক হলেও আজ রাতটা হাজার মানুষের কাছে খুশির রাত।প্রয়োকনিকাকে যে জেলখানা ফাসির ব্যবস্থা করা হয়েছে।সে জেলখানা বাইরে হাজার হাজার মানুষ এক প্রকার রাস্তা দখল করে তারা বসে পরেছে।অনেকে ব্যানার উচু করে ধরে আছে সেখানে বড় বড় করে লেখা আছে।
    ফাসি চাই, ফাসি চাই, প্রয়োকনিকার ফাসি চাই।
    অনেকে প্রয়োকনিকার মতো দেখতে পুতুল বানিয়ে, আগুনে পুরে ফেলে। তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকে।আবার কেউ কেউ মাইক নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে।
    “মানুষরূপী শয়তান প্রয়োর মৃত্যু চাই মৃত্যু চাই।”
    এভাবে মাতিয়ে আছে হাজারো মানুষ,কিছুদিন আগে সবার প্রিয় ছিলো এই ডিটেকটিভ, প্রয়োকনিকা।
    অনেক সিরিয়ার কিলার সাইকো কিলারদের হাত থেকে বাঁচিয়েছে, সাধারণ মানুষদের কে।
    কিন্তু আজ কারাগারে হাজার মানুষ তার মৃত্যুর অপেক্ষায় আছে।শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে জড়ো হয়েছে সাধারণ জনগণ।
    প্রয়োকনিকাকে ফাসিতে ঝোলানোর জন্য,
    এখানে অবস্থান করা হাজার মানুষের ভিতরে, কারো ‘বাবা’ কারো ‘মা’ কারো ‘ভাই’ কারো ‘বোন’ এরকম অনেক লোক মারা গেছে প্রয়োকনিকার হাতে।তাই তারা সবাই একত্র হয়ে তাদের আত্বীয় মৃত্যুর প্রতিশোধের জন্য এ জনসমাবেশ তৈরি করেছে।
    এই সমাবেশ একটাই দাবি। যতক্ষণ পর্যন্ত প্রয়োকনিকার ফাসি না হবে ততক্ষণ তারা, এখান থেকে উঠবে না।আর রাস্তা দখল হওয়াতে গাড়ি গুলো আটকে যাচ্ছে।
    রাস্তায় খুব জ্যাম লাগছে, দেশের অর্থনীতি ক্ষতির মুখে পরেছে।
    শেষে কোনো উপাই না পেয়ে প্রয়োকনিকার বিচার প্রক্রিয়া তাড়াতাড়ি শুরু করে।
    আর সব শেষে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য প্রমান হওয়াতে, আদালত তাকে ফাসির রায় ঘোষণা করে।
    প্রয়োকনিকা চাইলে প্রানভিক্ষা চাইতে পারতো,
    কিন্তু সে মাথা নত করবে না।
    তাই এ আদালতের আদেশ অনুযায়ী প্রয়োকনিকার ফাসির কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়।
    কিছুক্ষণ পর প্রয়োকনিকাকে ফাসির মঞ্চে আনা হয়।
    প্রয়োকনিকার শেষ ইচ্ছা ছিলো তাকে বোরখা পরিধান করা অবস্থায় যেনো ফাসি দেওয়া হয়।
    তাই আদালত তাকে বোরখা পরার অনুমতি দিয়ে দেয়।
    সম্পুর্ন বোরখা পরে। মাথা থেকে পা পর্যন্ত কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় ফাসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছে।
    একজন মহিলা পুলিশ এসে, প্রয়োকনিকার গলায় দড়ি পড়িয়ে দেয়।আর মঞ্চের এক কোনায় একজন কোট পরা লোক হাতে রুমাল নিয়ে উচু করে রাখছে আর চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা পরে বাম হাতে ঘড়ির কাটার দিকে লক্ষ রাখছে।ঠিক ঠিক ১২ টা বাজা মাত্রই তার হাত নিচু করে। আর মঞ্চের এক পাশে থাকা জল্লাদ তার হাতের কাছে থাকা লিভার টেনে দেয়।

    কিছুদিন আগে (অতিতে ফিরে যাওয়া)

    সকালের সুর্যের আলো ফুটে উঠেছে অনেক আগেই। কিন্তু জেলার সাহেব নিশান, এখনো ঘুম থেকে উঠেনি খুব ঘুম পাগল সে।
    এদিকে তার স্ত্রি ইরা বার বার তার গা ঝাকিয়ে তোলার চেষ্টা করছে। কিন্তু জেলার সাহেব নিশানের, ঘুম ভাঙ্গার কোনো নাম নাই।
    শেষে ইরা কোনো উপাই না পেয়ে,
    একটা শুই নিয়ে হাতের বেশকিছু জায়গা ফুরে দিলো।
    “মা মা “বলে চিৎকার করে বিছানা শোয়া থেকে উঠে বসে পরে নিশান।
    আর ইরা তা দেখে ঠোটের নিচে মুচকি হাসি হেসে বলে “জেলার সাহেব ঘড়িতে তাকিয়ে দেখেন কয়টা বাজে।পুরো রাজ্যের মানুষ কাজে ব্যস্ত হয়ে পরে। আর আপনার ঘুম থেকে উঠার কোনো নাম নেই।”
    নিশান কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না।
    কারন ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সে প্রায় থমকে গেছে।আজ জেলখানা পরিদর্শন করার জন্য D I G. সাহেব আসবে।
    আর এসে যদি জেলারকেই না দেখে, তাহলে আর চাকরি করার কথা ভুলে যাওয়া লাগবে।
    কোনোকিছু না বলে বিছানা থেকে উঠে, আলমারি থেকে ইউনিফর্ম বের করে, বাথরুমের দিকে দৌড় দেয়।বাথরুমে ঢুকে একহাতে ব্রাশ আর একহাত দিয়ে পুরো শরীর শাওয়ারের পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে থাকে।
    যত তাড়াতাড়ি পারে গোসল শেষ করে,ইউনিফর্ম পরে বের হয়।
    কোনো কিছু না বলে ।বাসা থেকে এক প্রকার দৌড়ে বের হয়।
    রাস্তার পাশে বাসা হওয়াতে রিকশা বা ‘সি এন জি ‘সবসময় চলাচল করে, তাই গাড়ি পেতে তেমন অসুবিধা হয় না।
    নিশান রাস্তার পাশে দাঁড়াতে এক অটো রিকশা তার দিকে এগিয়ে আসলো।
    নিশান কিছু বলার আগেই রিকশাচালক বলে “স্যার জেলখানা যাবেন?”
    নিশান শুধু “হ্যাঁ” বলে রিকশা চরে বসে।
    রিকশাচালক হয়তো তার পোষাক দেখে বুঝে গেছে।আর এ শহরে মোটামুটি অনেকে নিশান কে চিনে।
    এর কারন নিশান অনেক ফাসির আসামিকে নির্দোষ প্রমান করে। তাকে ফাসির হাত থেকে বাঁচিয়েছে।
    আর নিশানের কাজের উপরে একটা বই লিখেছে একজন বিখ্যাত লেখক।
    যেখানে নিশানের বিষয়ে অনেক কিছু লেখা আছে।
    আর এ কারনেই নিষান সেলিব্রেটি হয়ে গেছে।
    সবার একটা মনে বিশ্বাস জন্মেছে নিশান কোনো নির্দোষ আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলতে দিবে না।

    জেলখানায় যাদের ফাসির আদেশ দেওয়া হয়। তাদের কেসের উপর, নিষান নিজে নতুন করে ইনভেস্টিগেশন করে।
    যদি সে নির্দোষ হয় এই আশায় ইনভেস্টিগেশন করে।কারন সে শপথ করেছে যতদিন এ পেশায় আছে, ততদিন তার হাতে একটা নির্দোষ মানুষকেউ ফাসিতে ঝুলতে দিবে না।
    এ দিকে ইরা বাড়ির দরজাকবাট ধরে দাঁড়িয়ে আছে।কারন সে জানে নিষান একটু পর আবার ফিরে আসবে।
    কারন আজ তার পাওনা না দিয়েই চলে গেছে।
    খুব তাড়াহুড়া করাতে পাওনা শোধ না করেই চলে গেছে।
    হয়তো মনে ছিলো না।
    কিন্তু মনে পরা মাত্রই ফিরে আসবে নিশান।
    ইরা খুব ভালো করেই চিনে নিষানকে, তাই দরজাকবাট ধরে তার অপেক্ষা করছে।
    খুব বেশি অপেক্ষা করতে হলো না ইরাকে,
    একটু পরেই রিকশা চরে হাজির হয়ে গেলো। নিশান রিকশা থেকে এমন ভাবে নামলো মনে হচ্ছিলো রাজা ঘোড়া থেকে নামছে।
    ইরা অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নিশানের দিকে।
    অদৃশ্য এক মায়া তার মুখের দিকে কাজ করে। যখনি ইরা নিশানের দিকে তাকায় নিজের অজান্তেই অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।
    চাইলেও চোখ সরাতে পারে না ইরা।
    নিশান রিকশা থেকে নেমে তার হাতে থাকা ৩ টা হলুদ গোলাপ উচু করে ধরে, হাটু গেরে বলতে থাকে “হে আমার অর্ধাঙ্গিনী আমি খুবই দুঃখিত আজ তোমার পাওনা না দিয়েই চলে গিয়েছি।
    আমার এই ছোট্ট গোলাপ নিয়ে আমার ভুল কিক্ষমা করা যায় না?”
    ইরা তার কাণ্ডকারখানা দেখে মুচকি হেসে গোলাপফুল হাতে নেয়।
    কিছুই বলে না শুধু তাকিয়ে থাকে তার দিকে।
    এরকম পাগলামি সে বহুবার করেছে।
    পুরো পাগল একটা,নিশান বুঝতে পারে তার বউয়ের রাগ একটু কমেছে।
    যাক রাস্তার পাশে ফুলের দোকান হওয়াতে সুবিধা হয়েছে ১৫ টাকার ৩ টা গোলাপ। কিন্তু আজ অমুল্য ভালোবাসার দাম দিয়ে গেলো।
    আর কিছু না ভেবে ইরার গালে একটা ভালোবাসার আদুরে চুমু দিয়ে, তাড়াহুড়ো করে রিকশায় চরে বসে।
    দেখতে দেখতে চোখের সিমানার বাইরে চলে যায় নিশান।
    ইরা এখনো দরজা ধরে দাঁড়িয়ে আছে।
    একটা পাগল এসে তার পাওনা দিয়েই চলে গেলো তাকে কিছু বলতে দিলো না।
    তাই একটু অভিমান হলো মনটা,
    ইরা দরজা লাগিয়ে তার রুমের দিকে চলে যায়। তারপর বইয়ের মাঝখান থেকে একটা চাবি বেড় করে তার তালা যুক্ত ডাইরি খুলে বিছানায় উবু হয়ে শুয়ে লিখতে শুরু করে।
    এই ডাইরি তার অভিযোগ ডাইরি, তার নিষানের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ এই ডাইরিতে লিখে রাখে।
    কেনো লিখে রাখে জানে না।
    এক ধরনের পাগলামি বলা যায়।
    নিশানকে সে এই ডাইরি পরতে দেবে না এই কারনে ডাইরিতে ছোট্ট তালা মেরে রাখে আর চাবি লুকিয়ে রাখে।
    ডাইরি যেখানে লেখা শুরু করবে। তার এক কোনায় আগে অভিযোগ নম্বর লেখা তার অভ্যাস হয়ে গেছে। এযাবৎ ২৫৬ টা অভিযোগ করেছে তার স্বামির নামে। আজ ২৫৭ টা হবে।
    কলমটা আলতো করে ধরে ডাইরিতে লিখতে শুরু করে।
    প্রিয় স্বামি অভিযোগ নাম্বার ২৫৭
    আজ তুমি আমাকে একটি ভালোবাসার আলতো চুমু একে দিয়ে গেছো, কপালে আর ডান পাশের গালে পাওনা শোধ না করেই চলে গেলে।
    আর কিছু বলতে দিলে না আমায়।
    জানি খুব ব্যস্ত ছিলা তাই বলে ৪৫ সেকেন্ড সময় দিলে কি হতো।
    আমাকে আমার কথা বলতে দাওনি তাই খুব খারাপ লাগছে আমার।
    তুমি পচা যাও আর কথা নাই তোমার সাথে।
    আজ প্রায় ২ বছর হয়ে গেলো তুমি আমায় নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাওনি।
    আমার বুঝি খারাপ লাগে না?
    এই বাড়িতে সারাদিন বসে থাকতে।
    ভাবছিলাম মায়ের বাড়িতে গিয়ে ২/৪ দিন থেকে ঘুরে আসবো। কিন্তু তোমাকে ছাড়া আমার একটুও মন টিকবে না।
    আমার মন যে আমি তোমাকে দিয়েছি।
    তাই এই মন তোমাকে ছাড়া কিছুই বুঝে না।
    এ কারনে আজো তোমাকে ছাড়া কোথাও যায় নি।
    একটা রাত তোমাকে ছাড়া কাটায় নি।
    যখন তুমি রাতে বাসায় ফিরো না জেলখানা কয়েদির সাথে রাত্রি যাপন করো।
    আমার খুব খারাপ লাগে তখন।
    কতবার যে চিৎকার করে কান্না করেছি। তুমি হয়তো জানো না।
    কত রাত না খেয়ে তোমার অপেক্ষায় থাকতে থাকতে ঘুমিয়ে পরেছি, তুমি হয়তো তা জানো না।
    হয়তো বা জেনেও না জানার ভান করে থাকো।
    মাঝে মাঝে খুব রাগ হয় তোমার উপরে কিন্তু তোমার উপরে রাগ করে থাকতে পারি না।
    হয়তো আজ রাতে বাসায় আসতে দেড়ি করবা।
    কিংবা আসবে না।
    আমি কাল রাতে তোমার ফোনআলাপ শুনেছি,
    তুমি কাকে যেনো বলছিলা আজ এক দম্পতি ফাসি দিবা।
    তাতেই বুঝতে পারছি আজ তুমি বাসায় দেড়িতে আসবা।
    হয়তো বা আসবা না।
    আজ রাতে দুটি দেহ ফাসির মঞ্চে ঝুলে থাকবে, তাদের দেহ থেকে রুহ ত্যাগ করবে।
    অনেক কষ্ট হবে তাদের তা আমি অনুভব করতে পারছি।
    তুমি কিভাবে এটা দেখো আমি বুঝতে পারি না।
    কি ভয়ংকর দৃশ্য,
    আমার ভাবতেই ভয় লাগে।আর তুমি তা নিজ চোখে দেখো।
    আচ্ছা আজকের অভিযোগ এখানেই শেষ করলাম।
    সকালে তো কিছুই খেলে না।
    এতো রান্না করে কি লাভ হলো বলো?
    সেই খুব ভোরে উঠে তোমার জন্য রান্না করলাম তুমি না খেয়ে চলে গেছে।
    ওখানে গিয়ে খেয়ে নিয়ো।
    আল্লাহ হাফেজ।

    লেখা শেষ করে ডাইরিটা তালা মেরে টেবিলের এক কোনায় রেখে দেয়।
    তারপর চোখ বুলাতে থাকে টেবিলের উপরে।
    তার পুরো টেবিল জুরে, শুধু বই দিয়ে ভরিয়ে রেখেছে।
    বই পোকা বলা যেতে পারে।
    সারাদিন বই পরা ছেরে কোনো কাজ নেই।
    দুজন মানুষ, নিশান সারাদিন প্রায় জেলখানা কয়েদির মাঝখানে দিন পারি দেয়।
    তাই বাসায় তেমন কোনো কাজ নেই।
    মিনহাজ মঞ্জুর ক্রাইম থ্রিলার নিয়ে লেখা #শেষ_পর্বের_শুরু বইটা এ বছর বই মেলা থেকে কিনেছে এখনো পরা হয়নি।
    আজ ওটাই পরার ইচ্ছা হলো খুব।
    তাই ঐ বইটা নিয়ে।
    হাতের ছোট্ট চাবিটা সেই বইয়ের ভাজেই রেখে দিলো।তার পর বইটা নিয়ে সিরি বেয়ে ছাদের দিকে রওনা হলো।
    আর বইটা নিয়ে কিছু জল্পনা কল্পনা করতে থাকে।ইরা এই একটা কাজ খুব ভালো লাগে করতে।
    আগে একটা পরিকল্পনা করে বইটা পরা শুরু করবে তারর তা মিলানোর চেষ্টা করবে।
    যখন মিলবে না তার কল্পনার বাইরে কিছু খুজে পায় গল্পে। যা খুব আনকমন তখন তার মনে অজানা খুশির জোয়ার ভেসে যায়।
    বইটা পরে খুব তৃপ্তি পায়।
    এখন শেষ পর্বের শুরু বইটা নিয়ে ভাবছে।
    বইটি লেখকের প্রথম উপন্যাস
    বই মেলা গিয়ে নহলী স্টলে বইটি প্রথম পাতা পরতেই কেনো জানি খুব ভালো লাগলো।
    তাই কিনে ফেললি।
    জানিনা কেমন হবে তবে মন বলছে ভালো হবে।
    এসব ভাবতে ভাবতে ছাদে চলে যায় ইরা,
    ছাদের এক কোনায় একটা সাদা সচ্ছ কাচের ঘড় তৈরি করা আছে।
    পুরোটা কাচ দিয়ে তৈরি
    জানালা দরজাও কাচ দিয়ে তৈরি।
    নিশান আর ইরা সপ্নের ঘড় এটা।
    এখানে বসে বৃষ্টি উপভোগ করবে,এরকম ভেবেই এ ঘড়টা তৈরি করা হয়েছে।
    ঘড়ে শুধু একটা টেবিল আর বেশ কিছু চেয়ার ছাড়া আর কিছু নেই।
    ঘরের এক কোনায় একটা চায়ের ব্যবস্থা করা আছে।

    আজ আকাশটা খুব মেঘলা সুর্য দেখা যাচ্ছে না। একটু হালকা বাতাস বইছে উত্তর দিক থেকে।
    খুব রোমান্টিক মুহুর্ত।
    ইরা এক কাপ চা তৈরি করে জানালার পাশে বসে পরলো।
    তারপর বই নিয়ে পড়তে শুরু করলো।
    এক হাতে চা আর এক হাতে বই।
    পুরোপুরি কল্পনার জগতে হাড়িয়ে গেছে এখন ইরা।
    চারপাশে প্রকৃতির আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে গেছে এদিকে তার কোনো খেয়াল নেই।
    এখন সে বইয়ের জগতে কল্পনা করছে নিজেকে।
    আর এদিকে নিশান রিকশা থেকে নেমে, রিকশা ভাড়া মিটিয়ে যখন জেলখানা ঢুকতে যাবে। তখনি খেয়াল করলো বাসায় তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে জুতো না পরে সেন্ডেল পরে চলে এসেছি।
    এতক্ষনে এটা লক্ষ করেনি সে।
    এখন কি করবে D I G এসে তাকে এই অবস্থায় দেখলে কি ভাববে।
    হয়তো এটার জন্য আজ তাকে কথা শুনা লাগতে পারে।
    একে তো এই শহরে নতুন D I G তার উপর শুনেছি খুব করা লোক একটা।
    কি যে হবে আজ তা ভাবতেই পারছি না। এখন বাসায় যাওয়া সম্ভব না।
    যেকোনো মুহুর্তে চলে আসবে D I G সাহেব।
    তাই এই অবস্থায় জেলখানায় ঢুকে পরলো।
    যা হওয়ার হবে।অতো ভেবে লাভ নেই।
    হন হন করে হেটে তার রুমে প্রবেশ করে নিশান, আর রুমে প্রবেশ করতেই তার চোখ কপালে ঠেকে যায় রুমের একি অবস্থা।
    এতোদিন রুমের দিকে খেয়াল ছিলো না।
    চারদিকে শুধু বই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
    প্রায় ১৫০ টা বই হবে পুরো রুমে এখানে ওখানে যায়গা দখল করে আছে।
    মাসে যা বেতন পায় তার এক অংশ বই কিনেই শেষ করে।দুজনেই বইপোকা
    সারাক্ষণ বই পরতে তাদের কোনো ক্লান্তি নেই।
    কিন্তু এ অবস্থা D I G দেখলে তার আর আস্ত থাকবে না।
    তাই চটজলদি বই গুলো গুছিয়ে নিয়ে, পাশের রুমে সরিয়ে ফেলে।
    আর পুরো রুম পরিষ্কার করে ফেলে।রুম স্প্রে ব্যবহার করে ঘর সুগন্ধি করে।
    যদিও তার কাছে ভালো লাগেনা রুম স্প্রে, শুধু নতুন বইয়ের সুগন্ধি নাকে নিতেই নিশানের খুব ভালো লাগে।
    এখন অন্যের জন্য নিজের ভালো লাগাকে কবর দিতেই হবে আজ।
    তার রুম ঝকঝকা করে নিয়ে, চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে ফাইল ঘাটতে থাকে।
    আজ এক দম্পতি ফাসি দেওয়া হবে।
    দুজনেই মোষ্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল।
    স্বামি নাম ‘পলাশ’
    আর স্ত্রী ‘ স্মৃতি’
    তাদেরকে মোষ্ট ওয়ান্টেড বলার কারন।
    তারা ১ বছর ধরে পলাতক ছিলো।
    সমস্ত পুলিশ ফোর্স পাগলে মতো খুজেছে তাকে।
    প্রায় ১ বছর পাগলা কুকুরের মতো খুঁজাখুঁজি করার পর তাঁদেরকে এক মাটির বাড়ি থেকে। অজপারা গ্রামে ছদ্মবেশ ধরা অবস্থায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
    মেয়ে ছেলে সেজে
    আর ছেলে মেয়ে সেজে তারা জীবনযাপন করতো।
    কেউ বুঝতেও পারিনি এতোদিন
    তারা ছদ্মবেশ ধরে ছিলো।
    পলাশ আর স্মৃতি দুজনে মিলে ঠান্ডা মাথায়। একরাতে ৪৯ জনকে গলা কেটে হত্যা করেছে।
    আর তাদের হাত পা কুচি কুচি করে কেটে বস্তা বন্দি করেছিলো হয়তো জঙ্গলে সেগুলো হায়নাদের খাওয়ার জন্য দান করতো।
    কিন্তু তার আগেই আশেপাশে লোক টের পেয়ে যায় তখন জীবন বাঁচাতে ওখান থেকে পালিয়ে যায়।
    তারপর দির্ঘ এক বছর পর তাদের খোঁজে পাওয়া যায়।
    তাদেরকে কিছু জিজ্ঞাসা করলে কিছুই বলে না চুপ করে থাকে।
    আর খুনের বিষয়ে যখন জানার জন্য তাদেরকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিলো, তখনো কিছু বলিনি।
    শুধু এটুকুই বলছিলো “আমি খুন করেছি তা তো আমি শিকার করছি। তাহলে আর কি জানতে চান।আমাকে ফাসি দিয়ে দিন।”
    শুধু এটুকুই বলেছিলো আর কিছু বলেনি।
    পুলিশ তাদের মানষিক রোগ আছে এটা ভেবে ডাক্তার দেখিয়েছিলো।
    তখন ডাক্তার বলেছিলো তারা এক ধরনের অদ্ভুত ড্রাগস সেবন করে।
    আর তার ফলে তাদের চিন্তাধারা বিকৃতি পায়, এরকম কাজ করতে তারা খুব আনন্দ পাচ্ছিলো।
    অনেকটা বাচ্চারা খেলার ভিতর যে আনন্দ পায় সেরকম আনন্দ।
    এটা বলে তাদের কেস শেষ করে দেয়।
    কিন্তু নিশান আলাদা ভাবে তাদের উপর ইনভেস্টিগেশন করেছে।
    আর তাতে বুঝতে পারে এরা ড্রাগস জন্য এরকম করেনি এসব খুন ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছিলো।
    কারন যাঁদের খুন করেছে তারা সবাই ক্ষুধার্ত ছিলো তাদেরকে আটকে রেখেছিলো ২/৩ দিন আর কিছুই খেতে দেওয়া হয়নি, শুধু পানি ছাড়া।
    আর তাতে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে , পরিকল্পনা করেই এসব করেছে।
    ড্রাগস না, অন্য কোনো কারন আছে? এসব খুনের পিছনে।
    আর সবথেকে বড় কথা তারা যে ড্রাগস নেয়।
    ঐ ড্রাগস আর কেউ নেয় না। আর কোথাও খুজে পাওয়া যায়নি তাদের কাছে ছাড়া।
    একদম নতুন ড্রাগস।
    কে দিয়েছি এ ড্রাগস তা অনেক জিজ্ঞাসা করা হয়েছে কিন্তু তারা কিছুই বলেনি।
    খুবি অদ্ভুত এই নেশা,সাদা মার্বেলের মতো গুটি গুটি খুব ছোটো এগুলা।
    আগুনে পুরলে এক ধরনের ধোয়া বের হয়।
    আর সেই ধোয়া চোখের সামনে ধরলে নেশা হয়।
    পুরো চোখ লাল হয়ে যায়।

    ড্রাগস গ্রহণকারী কল্পনায় যা ভাববে তা চোখের সামনে ভাসবে।
    মনে হবে এটা কল্পনা না এটাই বাস্তব।
    যেগুলো কোনোদিন সম্ভব না সেগুলা ভাবতে থাকে ব্রেন তখন।
    নিশান টেবিলের উপর থাকা ,
    পলাশ আর স্মৃতি ফাইল নিয়ে ঘাটাঘাটি করছিলো।
    এতক্ষন
    আর নিজে নিজেই এসব আপন মনে ভেবে যাচ্ছে। বসে থেকে বিরক্ত হয়ে একসময় বলেই উঠে”দূর আরো ভালো লাগছে না।”
    দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে লক্ষ করলো ১২.১৩ বাজে এতক্ষনে D I G আসেনি।
    এতো দেড়ি হবে আগে জানলে সে এতো পারাপারি করে আসতো না।এখন বিরক্ত লাগছে বসে থাকতে।
    তাই ভাবলো পাশের রুমে গিয়ে বই পরলে সময় চলে যাবে, যখন D I G আসবে তখন না হয় এই রুমে চলে আসবে।
    এই ভেবে অন্যরুমে চলে যায়।
    রুমে গিয়ে বই খুলে পরা শুরু করবে। তখনি মনে পরে সে চশমা ছাড়া এ রুমে চলে আসছে।
    আর চশমা ছাড়া ছোটো লেখা ধরতে পারে না।
    তাই আবার তার রুমে এসে ড্রয়ার খুলে চশমা নিয়ে বইয়ের রুমে আসার জন্য পা বাড়ায়।
    তখনি গলা খাখার দিয়ে এক লোক তার রুমে প্রবেশ করে।
    লোকটির পোষাক দেখে বুঝতে পারে, D I G দাঁড়িয়ে আছে তার সামনে।
    নিশান লোকটির দিকে মুখ করতেই অবাক হয়ে যায়।পুরোপুরি থমকে যায় নিষান।
    এদিকে D I G সাহেব নিষানকে উদ্দেশ্য করে বলে “কিরে চাশমিশ কি খবর তোর।”
    হঠাৎ করে এমন কন্ঠ শুনে হকচকিয়ে যায় নিষান।
    নিজেকে সংযত করতে কিছুটা সময় লাগে।
    নিজেকে সামলে নিয়ে।যথারিতি সালাম দিয়ে বলে।”আসসালামু আলায়কুম D I G সাহেব কেমন আছেন?”
    D I G. সালামের উওর দিয়ে বলে “ওয়ালাইকুম আসসালাম, আরে অতো সম্মান দিতে হবে না
    ভুলে যাচ্ছিস কেনো দুজনে একি ব্যাচে ছিলাম
    তুই আমি আর ইরা বেষ্ট ফ্রেন্ড”
    নিশান তখনি তাকে থামিয়ে দিয়ে বলে।
    “হুম ছিলাম এবং আছি,কিন্তু এটা কর্মস্থল। আর আপনি এখন D I G আর আমি জেলার এখানে কর্মটা বড় করা উচিৎ।”
    D I G ওসব কথা মাথায় না ঢুকিয়ে, পাশে ফেলে দিয়ে বলে” আরে রাখ তোর জ্ঞানি ভাষন, বই পরে সারাক্ষণ লেকচার দেওয়ার অভ্যাস এখনো বদলায় নি দেখছি।
    তা তোর রুমের বই কই?
    দেখছি না কেনো?পাশের রুমে রাখছিস?
    আমার ভয়ে?”
    হুহুহুহু এই বলে একটা অট্ট হাসি দেয় D I G ।
    নিশান কিছুই বলে না শুধু নিরব দাঁড়িয়ে থাকে।
    এই মুহুর্তে কি বলবে তা নিষান জানে না।
    তাই চুপ থাকাই ভালো।
    নিশানের এভাবে চুপ থাকা দেখে D I G বলতে শুরু করে “কিরে ভ্যাংলার মতো চুপ করে আছিস কেনো?”
    নিশান: “কি বলবো?”
    D I Gঃ”কি বলবি মানে? তোর সাথে আজ সারাদিন থাকবো। তুই এভাবে চুপ থাকবি নাকি?
    আচ্ছা শোন আজ ইংলিশ নিয়ে আসছি।
    তুই আর আমি আজ পার্টি করবো।”
    নিশান:” কর্মস্থলে এসব খাওয়া ঠিক হবে না।”
    D I G : “আরে না ব্যাটা এই রুমে না। যে রুমে বই ঠাসাঠাসি করে রাখছিস সে রুমে খাবো।
    কি মনে করছিস আমি কিছুই জানি না।
    তুই যে কতবড় বই পোকা তা আমি খুব ভালো করেই জানি।
    এখন চল আগে একটু ভিতর থেকে ঘুরে আসি।
    মানে আজ যাদের ফাসি হবে তাদের দেখার খুব ইচ্ছা হচ্ছে তাই তোর কাছে আসা।
    আর উপর মহল থেকে নির্দেশ আসছে তাদেরকে যেনো আমার সামনে ফাসি দেওয়া হয়।তাই সব মিলিয়ে আজ সারাদিন তোর সাথে আমি আছি।”
    এই বলে চুপ করে নিশানের দিকে তাকিয়ে আছে।

    নিশান কিছু না ভেবে রুম থেকে বেড় হয়ে। সেলের দিকে এগিয়ে যাতে থাকলো।
    তার পিছু পিছু D I G আসতে থাকে ।একটু একটু করে দুজনে অন্ধকার সেলের ভিতর দিয়ে যেতে থাকে, বাহিরের ভেন্টিলেটর দিয়ে যতটুকু আলো আসে, ততটুকুই দিনের আলো এখানে পাওয়া যায়।
    তাই সবসময় অন্ধকার থাকে সেলগুলো।
    দিনের বেলাতেও লাইট জালানো প্রয়োজন পরে এখানে।
    এখানে দিন রাত প্রায় সমান,খুব ধিরে ধিরে পা বাড়িয়ে যাচ্ছে নিশান ।
    আকাশের তখন কালো মেঘ গুলো আরো ঘন কালো হয়েছে।
    চারদিকে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে আর একেকটা বিদ্যুৎ চমকানোর শব্দ নিষানের কানে নয়।
    বুকে গেথে যাচ্ছে।
    কারন তার বন্ধু D I G আর সে জেলার এটা মানতেই তার বুকে অজানা হাহাকার অনুভব করছে।মনে হচ্ছে কেউ তার বুকে গরম লোহা দিয়ে আঘাত করছে।
    গরম রড হওয়ার যখন আঘাত করছে তখন তো বুকে লাগছেই আর যে জায়গা আঘাত করছে সা জায়গা পুরে যাচ্ছে।
    দেখতে দেখতে সেই সেলের সামনে দাঁড়িয়ে পরলো দুজনেই।
    পলাশ আর স্মৃতি সেলের ভিতরে আপন মনে ড্রাগস নিচ্ছিলো।অন্যদিন হলে কারাগারে ড্রাগস সেবন করার কোনো নিয়ম নেই।
    কিন্তু আজ এদের কাউকে কোনো বাধা দেওয়া হবে না।
    কারন এটাই এদের শেষ ইচ্ছা।
    তাদের শেষ ইচ্ছা পুরন করা হচ্ছে মাত্র।
    আর কিছুক্ষণ পর তো তারা চাইলেও আর কিছু করতে পারবে না তখন।

    সেলের সামনে দাঁড়িয়ে থেকে। ওদের দুজনের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কখন যে চোখের কোনে জল জমে গেছে তা বুঝতেই পারেনি D I G
    মনে তখন অনেক যন্ত্রণা হতে থাকে তার।
    নিজের অজান্তেই D I G মুখ ফুটে বেড়িয়ে আসে,
    “মা রে মা,তুই কেমন আছিস?”
    স্মৃতির কানে এই কথাগুলো সজোরে আঘাত করে।নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মাথা ঘুরিয়ে দেখার চেষ্টা করে।
    আর D I G দেখা মাত্রই স্মৃতি চোখ বড় হয়ে যায়।রাগে দাঁতের সাথে দাঁত লাগিয়ে কটমট করতে করতে বলা শুরু করে”আপনি এখানে আসছেন কেনো?
    আমাদের মৃত্যু দেখতে আসছেন তাই না?”
    এতক্ষণে স্মৃতি পুরো নেশা কেটে গেছে।
    বসা থেকে উঠে D I G কাছাকাছি আসতে থাকে।
    স্মৃতি চোখ মুখে তার রাগ আর অভিমানের ছাপ স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।
    মনে এখনি D I G গলা টিপে তাকে হত্যা করতে পারলে শান্তি পেতো।

    To Be Continue..

Skip to toolbar