-
নগরে নাগর
লেখক : মোঃ নাজমুল আখতার।গোল্ডেন কালার মিহি সুতায় লাল মেরুন শাড়ীটিতে এক অসাধারণ শৈল্পিক কারুকার্যে খচিত ডিজাইনটিকে আকর্ষণীয় কুরে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বাম হাতের উপর কিছুটা অর্ধ ভাঁজ স্বরূপ শাড়ীর আচলটিকে ঝুলিয়ে রেখে এদিক ওদিক হাটা চলা করে যাচ্ছি। ঠিক সেই সময়টিতে সবাই যেন এক বিস্ময় অবলোকন দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে এই অডিটোরিয়ামে আগত সকল অতিথিবৃন্দ।
বাবা মায়ের একমাত্র কন্যা সন্তান আমি। বাবার বড় চাকুরীর সুবাদে আমার ছোট বেলা থেকে বেড় উঠা ও লেখাপড়ার জন্য নামী দামী বড় বড় স্কুল, কলেজ, ভার্সিটিতে অগাধ টাকা পয়সা ব্যয় করেছে বাবা আমার জন্য। আমার যে কোন প্রয়োজনে টাকা চাওয়া মাত্রই বাবা আমাকে তার পকেট হতে টাকা দিয়ে দিতো, কোন কৈফিয়তও চাইত না..
বিয়ের বয়স সীমাটা আস্তে আস্তে আমার নাগালের বাহিরে চলে যাচ্ছে। অতিরিক্ত পড়াশুনা ও বড় লোকির আভিজ্যাতে সময় যে অনেক পার হয়ে গেছে। চকলেট চুষে চুষে খাওয়ার মত যৌবন জীবন মহাকালের সাথে সাথে কালের গহব্বরে হারিয়ে যেতে বসেছে। খুবই দাম্ভিকতার সহিত বিয়ের প্রস্তাবে আগত ছেলেদেরকে ডিস কোয়ালিফাই করে দিতাম আমি। অনেকটা নিজ ইচ্ছাধীনে মা বাবা আমাকে নিজ ইচ্ছা স্বাধীনের উপর ছেড়ে রেখে দিয়েছেন..
লম্বা লম্বা চুলগুলো আমার পিঠের উপর বিছিয়ে দিয়ে রেখেছি। কানের কালো ও লাল বর্ণের গোলাকার দুল দু’টো নেঁচে দুলে দোল খেয়ে যাচ্ছে। মাথার পুরো চুলকে দু’ভাজে বিভক্ত করে মাঝখানে সিঁথি বরাবর টিকলি স্বরূপ স্বর্ণের লেজ গহনা। পায়ে মুষ্টিবদ্ধ উঁচু দু’টো হিল জুতো।
মঞ্চের অনুষ্ঠানে উপস্থাপনায় একজন ছেলের সাথে আমিও উপস্থাপিকায় পারফরমেন্সে অনুষ্ঠান পরিচালিত করে যাচ্ছি। খানিক কিছুক্ষণ পরপর ছেলেটির উপস্থাপনার সময় যখন আসে তখন আমি মঞ্চ ছেড়ে আগত অতিথিদের একদম কাছ ঘেষে হাটা চলা করি, যেন তারা আমাকে খুব কাছ থেকে দেখে নেয় এবং আমাকে পছন্দ করে বসে। বলতে গেলে আগত অতিথিদের প্রায় সবাই বড় বড় কর্পোরেট অফিসের বস ও বড় বড় কর্মকর্তা, কোন ভাবে কেউ একজন যদি আমাকে পছন্দ ফেলেন – তাহলে তো এই যাতায় সফল হলাম..
অনেকটা মাল্টি কারেন্সি ডেসটিনি ঘড়নার এই ভূই ফোঁড় কোম্পানীতে কিভাবে যে আমার পরিচয় হলো সেটাই আমি এখন ভেবে পাচ্ছি না। তাদের অসার কাল্পনিক টাকা কামানোর সহজ পদ্ধতিতে মুগ্ধ হয়ে বাবার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা এখানে বিনিয়োগ করেছি। যেহেতু কোন চাকুরীতে এখন পর্যন্ত ঢোকা হয়নি ও ভালো কোন বিয়ে সাদীও হচ্ছে না, তাই অলস সময় কাটানো ও নিজেকে প্রচার করার উত্তম একটি মাধ্যম তো পেলাম..
কোম্পানীর পক্ষ থেকে আজকের এই প্রোগ্রাম। যেভাবে আমি নিজে ঠকেছি, ঠিক সে ভাবেই বা তার চেয়ে আরও নিখুঁতভাবে অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদেরকে বাঘে আনতে এলাহি নাঁচ গান ও ভোজ সভার আয়োজনে আজকের এই অনুষ্ঠানে ডিজিটাল কুট কৌশল পদ্ধতিতে অতিথিদের পকেট হাতিয়ে নেওয়ার এক মিথ্যা নয়া ডিজিটাল যুদ্ধ কৌশল।
বড় বড় চোখে অপলোক দৃষ্টিতে আমাকে সবাই দেখে নিচ্ছে। বলতে গেলে তাদের চোখের দৃষ্টিতে আমাকে উপভোগ করে নিচ্ছে..
কালো মকমলের থ্রি কোয়াটার ব্লাউজ আর কুচিতে সারিবদ্ধ ভাঁজে ভাজ করা লাল মেরুন শাড়ীতে বেশ ষোড়শী লাগছে আমাকে – অন্তত নিজের কাছে তাই মনে হচ্ছে। এখানে আগত বেশ কয়েকজনকে আমার ভালো লেগেছে, ঘুরে ফিরে তাদের সামনেই নিজেকে উপস্থাপন করে তাদের একদম পাশ ঘেষে হেটে যাই আমি। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষে কেউ আমাকে এখন পর্যন্ত কোন প্রোপজ করেনি বা কোন চিরকুটও লেখেনি..ভারি মেকআপে মুখ খানা আমার মলীন ও নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে। পড়ালেখা – টাকা পয়সা – রূপ যৌবন কোন কিছুতেই যেন বিয়ের বিড়াল ঘন্টাটা আমার গলায় এখনও বেজে উঠছে না..
Friends
Ashik Mokami
@ashikmokami
রবিউন নাহার তমা
@rn-toma243gmail-com
প্রাপ্তি রোজারিও
@praptirozario
পি.কে. সরকার
@pksarker
কাশফিয়া নাহিয়ান
@kashfianahian
শ.ম.ওয়াহিদুজ্জামান
@sharifmuhammadwahiduzzaman
ছন্নছাড়া মহাপ্রান
@mihirmilton
Anoy Howlader
@anoyhowlader
আহমেদ হানিফ
@hanif
