Profile Photo

saddam rajuOffline

  • saddamraju
  • Profile picture of saddam raju

    saddam raju

    6 days ago

    জিন্নাহ, ১৯৪৭ এবং আমাদের অস্তিত্ব

    লেখক : সাদ্দাম হোসেন রাজু

    রাজনীতির ছাত্র | সমাজ বিশ্লেষক

    ১৯৭১ সালে জিন্নাহ ছিলেন না, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময়ও জিন্নাহ ছিলেন না।
    কারণ, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৮ সালেই মৃত্যুবরণ করেন।

    তাহলে প্রশ্ন আসে—এত বছর পরও কেন তাঁকে নিয়ে এত আলোচনা, সমালোচনা কিংবা বিরোধিতা?

    কারণ, ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ বিভক্তির সময় তিনি পূর্ব বাংলাকে ভারতের অংশ হতে দেননি; বরং পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। অনেকের মতে, সেই সিদ্ধান্তই পরবর্তীতে এ অঞ্চলের মুসলমানদের একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় ও রাষ্ট্রীয় ভিত্তি তৈরি করে দেয়।

    আজ আমরা স্বাধীনভাবে কোরবানি করতে পারছি, ঈদ উদযাপন করতে পারছি, নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় ও সংস্কৃতি প্রকাশ করতে পারছি—এর পেছনে ইতিহাসের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম কাজ করেছে।

    বর্তমান ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে গরু কোরবানি, গরুর মাংস বহন কিংবা ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে মুসলমানদের নানা ধরনের সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখোমুখি হতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও কোরবানিতে বাধা, সহিংসতা কিংবা বুলডোজার অভিযানের ঘটনাও সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। এসব বাস্তবতা অনেক মানুষকে ১৯৪৭ সালের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও মুসলিম জাতিসত্তার প্রশ্ন নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।

    তৃপ্তি ভরে গরুর মাংস খাওয়ার সময় পারলে এই মানুষগুলোর জন্য দোয়া কইরেন।

    নইলে হয়তো আজ আমাদেরও নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে ভাবতে হতো। প্রকাশ্যে কোরবানি দেওয়া, ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশ কিংবা বিশ্বাস অনুযায়ী জীবনযাপন—সবকিছুই কঠিন হয়ে যেতে পারত।

    ধন্যবাদ আমাদের পূর্বপুরুষদের, যারা নিজেদের রাজনৈতিক অধিকার ও অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম করেছেন।

    ৪৭ শুধুই একটি সাল নয়; অনেকের কাছে এটি মুসলিম জাতিসত্তা ও রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার প্রতীক।

    একই সঙ্গে এটাও মনে রাখা জরুরি—বাংলাদেশের ইতিহাস ১৯৪৭-এ থেমে নেই।

    ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধও আমাদের জাতিসত্তা ও স্বাধীনতার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

    ইতিহাসকে ভালোবাসা যায়, সম্মান করা যায়; তবে তা বুঝতে হলে আবেগের পাশাপাশি ভারসাম্যও প্রয়োজন।

Skip to toolbar