-
নগরে নাগর
লেখক : মোঃ নাজমুল আখতার।প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে –
দুই পরিবারের দীর্ঘ আইনী লড়াইয়ে প্রথম বিয়ের ভাঙ্গন।
মোটা অঙ্কের যৌতুক দিয়ে সরকারী চাকুরীরত যুবকের সাথে দ্বিতীয় বিয়ে।
দুই সন্তানের জননী হওয়ার পরেও আবারও প্রেমে পড়ে পালিয়ে বিয়ে আরেক মধ্য বয়সী আঙ্কেল সমতুল্য এক চাচার সাথে।– বহু সংখ্যক ভাই বোনদের মাঝে আমিই সবচেয়ে কণিষ্ঠতম কন্যা সন্তান। বলতে গেলে মাটিতে আমার পা-ই পড়তো না। বড় ভাই বোনদের সবার খুবই আদরের হওয়ায়ই সারাক্ষণই আমাকে কোলে তুলে ঘুড়ে বেড়াতেন।
আস্তে আস্তে কখন যে আমি যৌবনে পা ফেলেছি! সেটা যৌথ পরিবার হওয়ায় কেউই এই বিষয়ে তেমন মনোযোগী হয়ে ওঠেনি। মন ও শরীরের নানা বিধ অ-কল্পনীয় ভাবনায় সারাক্ষণ ভেবে বেড়াতাম। আমাদের বাড়ীর ঠিক পিছন দিকটায় যাদেরকে আমার বাবা-মা থাকার জন্য জায়গা দিয়েছিলো – সাধারণত নিম্নশ্রেণী ও ধর্মের তফাৎ থাকলেও প্রেম যে এগুলোর কোনটাই মেনে নেয়নি..
তাকে আমি ভালোবাসি –
বলতে গেলে সেই সময়টিতে আমি খুবই হিন্দি সিনেমা দেখতাম। সিনেমার নায়িকারা মাথার চুলগুলো ফুলে ফেঁপে উঁচিয়ে রাখাতো এবং অসম প্রেমের সহজ সমাধানে বিয়ে সাথী হয়ে যেত.. অনেকটা সেই স্টাইলে আমি আমার চুলগুলো ফুলে ফেঁপে রাখতাম এবং পড়নে সালোয়ার কামিজগুলোও অনেকটা ঢিলে ঢালা হতো।ছেলেটা সনাতন ধর্মের হলেও কোন মহে যে আমি তাকে ভালো বেসেছিলাম! তা আজও আমি নিজেকে বোঝাতে পারছিনা। হয়তো বা সেই সময়টাতে মনের মধ্যে মোহের প্রেমে পড়ে এগুলো করেছি।
মোটামুটি দশ পনেরো দিন দু’জনে পালিয়ে পালিয়ে থাকলেও অবশেষে পুলিশ আমাদেরকে গ্রেফতার করে ফেলে। দীর্ঘ আইনী লড়াইয়ে আমার পরিবার তার থেকে আমাকে আলাদা করে ছাড়িয়ে আনে এবং স্বল্প মেয়াদের নোটিশ দিয়ে তাদের থাকতে দেওয়ার বাসস্থানও আমাদের বাড়ির পিছন থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হলো।
প্রেমের রেশ কাটতে না কাটতেই পরিবার আমাকে অনেকটা জোর জবরদস্তি করে সরকারী চাকুরীরত যুবকের সাথে মোটা অঙ্কের যৌতুক দিয়ে আমাকে বিয়ে দিয়ে দিলো।কোন রকম রস-কস-গন্ধ এর যেন কোন কিছুই আমি আমার দ্বিতীয় স্বামীর মধ্যে খুঁজে পেলাম না। শুধুই যৌবিক চাহিদা মেটানো এবং নিয়ম মেনে দুই পরিবারের আত্বীয়তার সম্পর্ক ধরে রাখা।
দেখতে দেখতে বিয়ের প্রায় পনেরোটা বছর পার হয়ে গেল। ঘরে আমার দুই দুইটা সন্তান, ওরাও সময়ের সাথে সাথে বড় হতে লাগলো..এই নাখাট স্বামীকে নিয়ে আর আমি আমার জীবনটাকে বয়ে নিয়ে যেতে পারছি না।
নতুন করে আমি প্রেমিক খুঁজতে থাকি –
পেয়েও গেলাম আমার চেয়ে বয়সে বেশি চাচার সমতুল্য, তবুও সে নাকি আমাকে খুবই ভালোবাসে!
খুবই রোমান্টিক ও মৃদু ভাষী, যেমনটা আমি চাই –
খুবই অল্প দিনের মধ্যে আমরা নিজেরা বিয়ে করবো বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান নিয়ে নেই। এখানেও সেই আগের মত দূরে কোথায় পালিয়ে গিয়ে তৃতীয় বিয়েটা আমার জীবনে সংগঠিত হয়ে গেল..মাস খানেক গড়তে না গড়তেই এখানেও বিয়ে ভাঙ্গার গুঞ্জন শব্দে চারদিকে হতে আমার মাথাটা ঘুরপাকে ক্ষিণ হয়ে যাচ্ছে, চোখে মুখে এখন আর আমি কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। আমি আমার তিন স্বামীকেই হারালাম! কোন স্বামীর জন্যই আমি উত্তম স্ত্রী হতে পারলাম না..
তবে এখন আমার দু’সন্তান!
তাদের কাছে কি আমি মা হয়ে আসতে পারবো..2 Comments
Friends
মোস্তফা কামাল সাকি
@mostofakamal
Rasel Kabir
@raselkabir
Jahangir Mohammad
@jahangirmohammad
পিপীলিকা
@abujubair
দেবাঞ্জলি সেন
@sendev
Taufiq al sadif
@483-taufiq-al-sadif-roll-483
sayed sajib
@sayedsajib
Md. Ziaur Rahman
@md-ziaurrahman
prantik aronno
@prantikaronno


এই গল্প বিচার করতে নয়, ভাবতে শেখায়।