-
এইমাত্র দেখলাম আরো দুইটি পোস্ট করেছি একটা প্রায় প্রথমটা পোস্ট করার ঘন্টা খানেকের মধ্যেই করা আর এই মাত্র আরেকটা পোস্ট করলো। প্রথমে একবার পড়েছিলাম এইগুলো তবে এইগুলো যতোবার পড়ি ততোই নতুন মনে হয় তাই বারবার পড়তে ইচ্ছে হয়।
পার্ট-২
টেস্ট তিনটা ছিলো বোন ব্যারো, থাইরয়েড ফাংশন এবং পি বিএ ফ। এই টেস্টগুলো করাতে প্রচুর সময় লাগছিলো। তিনটা টেস্ট করাইতে তিনদিন মেডিকেল যাওয়া লাগছে। তাও আবার তিনটা আলাদা আলাদা জায়গায়। প্রত্যেকটা টেস্টের জন্য আলাদা আলাদা বিভাগ ছিলো। রক্তের সেম্পল জমা নিয়ে ১৫ দিন পর রিপোর্ট কালেক্ট করতে বললো। কথামতো, ১৫ দিন পর টেস্টের রিপোর্টগুলো কালেক্ট করতে আমি একাই গিয়েছিলাম। সারাদিন লাগছে রিপোর্ট গুলো কালেক্ট করতে। আব্বুকে হয়রানি করাতে চাইনি তাছাড়া রিপোর্টগুলো কালেক্ট করতে শুধু টেস্টের রশিদগুলো প্রয়োজন ছিলো তাই আব্বুকে নিয়ে যাইনি। ওইদিনই ফার্স্ট একা একা ঢাকা মেডিকেল গিয়েছিলাম। সারাদিনে রিপোর্ট গুলো কালেক্ট করে বাসায় আসলাম। কিন্তু এই ১৫ দিনের মধ্যে আব্বুর আরেকটা প্রব্লেম দেখা দিলো।
দিনটা ছিলো শুক্রবার। গুম থেকে উঠার পর থেকেই ওনাকে অস্বাভাবিক মনে হলো। আব্বু কাউকে চিনতেই পারছিলোনা, কথা বলতে পারছিলোনা & আরও অনেক সমস্যা। ব্রেইন স্ট্রোক করলে এমনটা হয়। আমার বুঝতে বাকি ছিলোনা যে কি হইছে।
যেহেতু শুক্রবার ছিলো তাই নিউরোলজিস্ট ডাক্তার খুঁজে পাওয়াটা ও একটা ঝামেলার ব্যাপার ছিলো। শেষমেশ অনেক খুঁজে তারপর গাউছিয়ার একটা প্রাইভেট হসপিটালে একজন নিউরোলজিস্ট এর কাছে নিয়ে গেলাম। উনি শুধু শুক্রবারেই চেম্বারে বসতেন। উনি দেখেই বুঝতে পারছিলো যে আব্বু ব্রেইন স্ট্রোক করেছে। তারপর ব্রেইনের সিটি স্ক্যান করাতে দিলেন আর সাথে কিছু ঔষধ দিয়ে দিলেন। সাথে সাথে সিটি স্ক্যান করলাম & ঔষধ কিনে বাসায় চলে আসলাম কারণ ওনারা বলে দিয়েছিলো পরেরদিন রিপোর্ট কালেক্ট করা লাগবে। কিছু করার নেই একদিন অপেক্ষা করে পরেরদিন রিপোর্ট নিলাম। কিন্তু রিপোর্ট দেখাবো কাকে? শুক্রবার ছাড়া ত সেই নিউরোলজিস্টকে পাওয়া যাবেনা। কিন্তু এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে আমার মন মানলোনা। তারপর নারায়ণগঞ্জ পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নামকরা একজন নিউরোলজিস্ট এর খোঁজ করলাম। চ্যাটজিপিটিই হেল্প করেছিলো। তারপর পপুলার এর হটলাইন নাম্বার থেকে ওনার সিরিয়াল কিনলাম। সিরিয়াল কিনতেও কম ঝামেলায় পড়তে হয়নি। উনি খুব অভিজ্ঞ ডাক্তার হওয়ায় রোগী দেখার আগের দিন বেলা ১২ টায়, ঠিক ১২:০০টায় কল দিতে হয়। একসাথে অনেক মানুষ কল দেয়। যার ফোন রিসিভ হয় সেই সিরিয়াল কিনতে পারে। প্রথম ২০ জনের কল রিসিভ হয়। ওই ২০ জনই সিরিয়াল কিনতে পারে। আমি ১১টা ৫৯ এ কল দিয়েছিলাম ভাগ্যক্রমে কল রিসিভ হয় এবং সিরিয়াল পেয়ে যাই। অপেক্ষার প্রহর গুনে গুনে পরের দিন ডাক্তার এর কাছে গেলাম ব্রেইনের সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট নিয়ে। যদিও আমি বাসায় রিপোর্টটা দেখেছি কিন্তু ডাক্তারের পরামর্শ & ঔষধ ত লাগবেই। ডাক্তার রিপোর্ট দেখে বললো ওনার স্ট্রোক এর ধরন টা হচ্ছে ইস্কেমিক, যেটা কম ঝুকিপূর্ণ অর্থাৎ রক্ত ঘন হওয়ায় ব্রেইনে ঠিকঠাক রক্ত চলাচল হয়না যার কারণে ব্রেইন স্ট্রোক হয়েছিলো। এখানেও ঘুরেফিরে সেই ব্লাড রিলেটেড প্রব্লেম। আমার টেনশন আরও বেড়ে গেলো কিন্তু আব্বু সামনে ছিলো বিধায় গাবড়ে যাইনি। ডাক্তারের সাথে কথা বললাম দ্যান ঔষধ দিলো। আব্বু ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হইলো।এখন আসি সেই ৩ টা রিপোর্টে, রিপোর্ট কালেক্ট করে বাসায় এসে তিনটা রিপোর্টে কি রেজাল্ট আসছে সেটা মোবাইলে দেখে নিলাম। সবই স্বাভাবিক ছিলো। শুধু বোন ম্যারো রিপোর্টে একটা সমস্যা দেখা দিয়েছিলো। সেটা হচ্ছে, MDS-LB অর্থাৎ ওনার শরীরের রক্তকোষগুলো ঠিকঠাক রক্ত উৎপন্ন করতে পারেনা সুতরাং মূল সমস্যা রক্তেই। পরের দিনই রিপোর্ট দেখাতে আব্বুকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল এর হেমাটোলজি বিভাগে গেলাম। শুধুমাত্র অ্যানেমিয়া অর্থাৎ রক্তশুন্যতা ছাড়া আর কোনো সমস্যা ছিলোনা শরীরে। আর কোনো প্রব্লেম আবিষ্কার করতে পারেনি। রিপোর্টগুলো পজিটিভ শুনে ত আমার আব্বু মহাখুশি। কিন্তু আমি ত আমিই, খুশি হলাম না কারণ রিপোর্টগুলো পজিটিভ হলেও আব্বুর অবস্থা ছিলো নেগেটিভ। লও ব্লাস্ট প্রব্লেমের উন্নতি হইলে ফিউচারে কোনো প্রব্লেম হয়না আর অবনতি হইলে ব্লাড ক্যান্সারে রূপ নেয়। উনি রাতে ঘুমাতে পারতেন না, খাওয়া দাওয়া ত একদমই ছিলোনা। খাওয়া, ঘুম সবই যদি অস্বাভাবিক, অনিয়মিত হয় তাহলে ঔষধ খেয়েও ফায়দা নেই। কিন্তু ডাক্তার যখন অন্য কোনো রোগ পায়নি তাই ঔষধ ও দেয়নি। শুধু রক্তস্বল্পতার কারণটা খুঁজতে লাগলো। বললো আগামীকাল সিভিসি করিয়ে দেখান। কথামতো, পরেরদিন আরেকটা সিভিসি রিপোর্টসহ গেলাম। যেহেতু অ্যানিমিয়া ছিলো তাই রক্তের ব্যাপারটাই আসল। CBC রিপোর্ট সহ ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার বললো CBC তে রক্তের পরিমান ৫.৭। চিন্তা করা যায়? একটা মানুষের শরীরে রক্তের পরিমান থাকা উচিত ১২-১৩ পয়েন্ট সেখানে আব্বুর রক্তের পরিমান ছিলো মাত্র ৫.৭ পয়েন্ট । এটা দেখে ডাক্তার ও অবাক আমিত রিপোর্ট দেখে আগে থেকেই অবাক-ই ছিলাম। কিন্তু সেটা একান্তই মনে মনে। আব্বুর সামনে নরমাল থাকতাম। আমার চোখে মুখে টেনশনের বিন্দুমাত্র চাপ ছিলোনা কারণ আব্বু আমার মুখের দিকে তাকিয়ে নিজেকে বুঝার চেষ্টা করতো। নিজের কন্ডিশন বুঝার চেষ্টা করতো। তাই যত খারাপ রেজাল্টই আসুক আমি চুপ ত চুপ। তবে আমার এটা বুঝতেও বাকি ছিলোনা যে আব্বুর ব্লাডে বড়ো সড়ো কোনো প্রব্লেম ছিলো অর্থাৎ আমার অনুমান ছিলো আব্বুর ব্লাড ক্যান্সার কারণ MDS- Low Blast ডিজিজটা দিন দিন ক্রমাবনতিশীল হতে থাকলো। যদিও ডাক্তার সেটা বলেনি। রক্তের পরিমান ক্রমাগত কমতে থাকায় ডাক্তারের ধারণা আরও বড়ো টেস্টের দিকে এগিয়ে গেলো। ডাক্তার আরেকটা টেস্ট, ক্যারিওটাইপিং করাতে দিলো……..
পার্ট-৩
ক্যারিওটাইপিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা টেস্ট ছিলো। এই টেস্টের মাধ্যমে শরীরের ২৩ জোড়া ক্রোমোজমে কোনো ডিজিজ আছে কিনা বা থাকলে সেটা কোন পজিশনে আছে গুড পজিশন অর ব্যাড পজিশন, এটা পরীক্ষা করে দেখা হয়।এই টেস্ট করানোর জন্য রক্তের স্যাম্পল ইন্ডিয়া পাঠাতে হয়। বাংলাদেশে এইরকম টেস্ট হয়না সাধারণত। ওনাদের মাধ্যমেই টেস্ট করেছিলাম। কিন্তু ওই সময়টা ছিলো অক্টোবর মাস। দুর্গাপূজার ছুটি ছিলো বাংলাদেশ এবং ইন্ডিয়া দুই জায়গাতেই যার কারণে রক্তের স্যাম্পল পাঠাতে ও দেরি হয়, টেস্ট এর রিপোর্ট আসতে ও দেরী হয়। চুপচাপ মেনে নেওয়া ছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিলোনা।
এদিকে এসব টেস্টের পেছনে পড়ে থেকে দিন দিন আব্বুর অবস্থার ক্রমাবনতি ঘটতে থাকে। আমি ওনার মুখের দিকে তাকাতে পারতাম না। কিছু ত করার ও নেই, রোগ ধরতে না পারলে ট্রিটমেন্ট ও করতে পারবেনা। রিপোর্ট আসা অব্দি অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। এরই মধ্যে আব্বু আরও কত সমস্যায় ছিলো। আমার সহ্য হইতোনা। যখন বলতো একটু মাথাব্যথা করে তখন আমি আবার প্রাইভেট হসপিটালে নিউরোলজিস্টের কাছে নিয়ে যাইতাম। যখন আব্বু বলতো একটু বুক ব্যাথা করে তখন নামকরা কার্ডিওলজিস্ট এর কাছে নিয়ে যাইতাম। একদিন পর পরই এরকম একেকটা সমস্যা দেখা দিতো আর ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাইতাম। টাকার অংকটা না হয় পুরোপুরি স্কিপ করলাম।
তো দুর্গাপূজার ছুটি শেষ হওয়ার পরদিনই রিপোর্ট আসলো। কল দিয়ে জানালো, আমি আব্বুকে নিয়ে গেলাম। রিপোর্ট কালেক্ট করে আবার হেমাটোলজি বিভাগে গেলাম রিপোর্ট দেখাতে। ডাক্তার রিপোর্ট দেখে বললো ক্যারিওটাইপিং এর রেজাল্ট ভালো আসছে। নরমাল ডিজিজ ছিলো এন্ড বললো আব্বুর ব্লাড ক্যান্সার হয়নি, ডিজিজটা ক্যান্সারের আগের স্টেজে আছে বাট ইন ফিউচার, ক্যান্সার হতে পারে। ক্যান্সার হতে পারে বা ডিজিজটা ক্যান্সার এর আগের স্টেজে আছে এসব নিয়ে আব্বুর কোনো মাথাব্যথা নেই। যেই শুনেছে ক্যান্সার হয়নি, দ্যাটস এনাফ। আব্বু খুশি। ওই সময় আব্বুর চোখে মুখে যে খুশিটা দেখেছিলাম ওইটা এই জীবনে ভুলবোনা।
যাই হোক, ডাক্তার বললো, ক্যান্সার যেহেতু এখনো হয়নি তো টেনশনের কোনো কারণ নেই। আপাতত ৩ ব্যাগ ব্লাড দেন আর একমাস পর আবার আসেন। মানে উনি দেখতে চাইছিলো যে ব্লাড দেওয়ার পর তা শরীরে থাকে কি-না নষ্ট হয়ে যায়। যেমন কথা তেমন কাজ, ব্লাড দেওয়ার জন্য পাগল হয়ে গেলাম। ব্লাড ম্যানেজ করতেও কম স্ট্রাগল করতে হয়নি। ডাক্তার ঢাকা মেডিকেল থেকেই ব্লাড কিনতে বলেছিলো কিন্তু মাইলস্টোন ট্রাজেডি তে রক্তে ভেজাল নিয়ে যে আলোচনা হয়েছিলো সেটা আমি মাথা থেকে সরাতেই পারিনি। তাই ব্লাড ব্যাংক থেকে ব্লাড কেনার প্রশ্নই উঠেনা। তাহলে এখন উপায় কি? ব্লাড ত ম্যানেজ করা লাগবে। অনেক কাঠ কড় পুড়িয়ে অনেক জায়গায় খোঁজাখোঁজি করার পরে ৩ জন ডোনার ম্যানেজ করেছিলাম। ৩ ব্যাগ ব্লাড তিনদিনে দিতে হলো। দিলাম। ব্লাড দেওয়ার ১৫ দিন পর শরীরে কি পরিমাণ রক্ত আছে সেটা টেস্ট করালাম। দেখলাম ৮.৭। ফ্রম ৫.৭ টু ৮.৭। অবশ্যই আনন্দের ব্যাপার। আব্বু খুশি। আমিও মোটামুটি খুশি। আল্লাহ মোটা একটা মাথা দিছে ত তাই অনেক কিছু হিসাব করে অংক মেলাতে পারিনা তাই পুরোপুরি খুশিও হতে পারিনা। কিন্তু সেই সময়টাতে কিছুক্ষণ এর জন্যেও খুশিই ছিলাম।
আবার এক সপ্তাহ পর টেস্ট করালাম। দেখতে চাইলাম আগে থেকে কতটুকু বাড়ছে। দেখলাম ৭.৮। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৮.৭ থেকে ৭.৮ এ নেমে আসলো। আব্বু ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলো তারপর ওনাকে সান্ত্বনা দিলাম। রক্তের পরিমান কমতেছে দেখে এক মাসের অপেক্ষা না করে পরের দিনই আবার ঢাকা মেডিকেল এ গিয়েছিলাম। ডাক্তার বললো, এটলিস্ট ৭ পয়েন্টে থাকলে চিন্তার কিছু নেই। এর থেকেও নিচে নামলে ব্লাড দিতে হবে আবার। কথাগুলো সন্তুষ্টিজনক ছিলোনা। বাসায় চলে আসলাম, এদিকে আব্বু একদমই খাওয়া দাওয়া করতোনা। হালকা কিছু একটা খাইতো জাস্ট। তাই ঢাকা মেডিকেলের আশা বাদ দিয়ে নতুন করে প্রাইভেট ক্লিনিকে যাওয়ার কথা ভাবলাম।পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিজ্ঞ সব ডাক্তারদের চেম্বার ছিলো আমি ওইসব অভিজ্ঞ ডাক্তারদের মধ্যেও সবচেয়ে পুরনো হেমাটোলজি স্পেশালিষ্ট ডাক্তার খুঁজে বের করলাম। হটলাইন নাম্বারে কল দিয়ে সিরিয়াল নিলাম। পরের দিন ঢাকা মেডিকেলের সব রকম রিপোর্ট নিয়ে ওইখানে গেলাম। শুরু থেকে সবকিছু দেখলো ডাক্তার তারপর একটা খুব দামী ঔষধ দিয়েছিলো। ওইটা রক্ত তৈরি করার ঔষধ ছিলো। কিছুটা স্বস্তি পেলাম। বাসায় আসলাম, একদিন ওইটা খেতে না খেতেই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিলো। অবস্থা আরও খারাপ হইলো। হাই প্রেসার ছিলো। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে দেখলাম নাক কান দিয়ে হালকা হালকা রক্ত বের হইছে। যা বাড়তে থাকলো। প্রেসার ছিলো ২২০ পয়েন্ট। সম্ভবত ব্রেইন হেমারেজ হয়েছিলো। আবার ওই ডাক্তার এর কাছে নিয়ে গেলাম। উনি এরকমটা হওয়ার কারণ বের করতে নতুন একটা টেস্ট দিয়েছিলেন। আর কিছু ঔষধ দিয়েছিলেন। ঔষধ খাওয়ার পর আব্বুর কন্ডিশন কিছুটা স্বাভাবিক ছিলো। কিন্তু ৩-৪ দিন পর থেকে খাওয়া দাওয়া একদমই বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় এক সপ্তাহ শুধু পানি, দুধ এসব খেয়ে থাকছে আব্বু।
এরকম সিচুয়েশনেও নতুন আরেকটা উপসর্গ দেখা দিলো, একদমই শ্বাস নিতে পারতোনা স্বাভাবিকভাবে। গলায় ব্যাথা করতো। কথাই বের করতে পারতোনা। তো আমি এই অবস্থাতে একজন থ্রট স্পেশালিষ্ট এর কাছে নিয়ে যাই। উনি শ্বাসনালী পরীক্ষা করতে বললেন। আর্জেন্ট টেস্ট করালাম। রিপোর্ট নিয়ে এসে ডাক্তারকে দেখালাম। উনি বললেন শ্বাসনালী ঠিকই আছে। তাহলে আমার প্রশ্ন হলো এমন হয় কেনো? আমি লিটারেলি কান্না করেছিলাম তখন। ডাক্তারকে আমি রিকুয়েষ্ট করে বললাম যেনো আব্বুকে ভর্তি করে। এটলিস্ট অক্সিজেন যেনো দেয় শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখার জন্য & নল দিয়ে যেনো খাওয়ানোর ব্যবস্থা করে। কিন্তু ডাক্তার ভর্তি করেনি। বললো এই সিচুয়েশনে নল দিয়ে খাবার দিতে গেলে সাইড এফেক্ট দেখা দিবে। আব্বুর অবস্থা এতটাই খারাপ ছিলো যে এইসব কিছুই করার ছিলোনা। বাসায় চলে আসলাম। ওইদিন রাতে আবার নাক কান থেকে রক্ত বের হতে লাগলো। আবার হেমাটোলজিস্ট এর কাছে নিয়ে গেলাম। এভাবে যখন যেই উপসর্গ দেখা দিতো তখন সেই উপসর্গ অনুযায়ী স্পেশালিষ্ট এর কাছে নিয়ে যাইতাম।
এভাবেই দৌড়াদৌড়ি করতে করতে নভেম্বর মাস চলে আসলো। শুধু তরল খাবার খেয়ে খেয়েই দিন যেতে থাকলো ওনার। নভেম্বর মাস আসার পর থেকে অবস্থা আরো খারাপ হলো। আব্বু কিছুই খেতে পারতোনা। মুখেই নিতোনা। ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেও কোনো লাভ হলোনা। যেহেতু নল দিয়ে খাবার দেবেনা সেহেতু নরমাল ভাবেই খেতে বললো অথচ আব্বু খাবার মুখেই নিতে পারতোনা। ডাক্তারের ও কিছু করার ছিলোনা। সম্ভবত ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলো যে আসলেই আর কিছু করার নেই। আব্বু বাঁচবেনা। এজন্যই ভর্তি ও করেনি। নিরুপায় হয়ে এভাবেই তিলে তিলে শেষ হতে দেখলাম ওনাকে…..
1 Comment
Kokeshas
Friends
জিকরুল ইসলাম
@zikrul
সোনাই এ আই
@sonai_ai
কবিতা সম্ভার
@jannatul-ferddus
Mojib Rsm
@mojibrsm
মো: কাজিমুল ইসলাম
@kajimul
ahsan habib
@habib083015
MD SHAON
@mdshaon
ভাস্কর
@vaskarchou
MUHAMMAD TAHSEEN
@muhammadtahseen

প্রতিটি রিপোর্টের পাতায় লেখা ছিল একজন সন্তানের অদৃশ্য কান্না। এই ধরনের লেখা পড়ে বোঝা যায়, কিছু মানুষ বয়সে নয়, পরিস্থিতির চাপে বড় হয়ে যায়।