Profile Photo

bithy 123 bithyOffline

  • bithy123bithy
  • Profile picture of bithy 123 bithy

    bithy 123 bithy

    • 2 months, 3 weeks ago

    গল্প 6
    ফাতেমা সিনথিয়া

    তার পরের গল্প শোনো,শোনো দিয়া মন।
    রূপবতী গঙ্গার কথা করি গো বর্ণন,
    এক যে ছিল কন্যা, গঙ্গা ছিল নাম।
    রূপেগুণে সেরা ছিল,আর ছিল খুব সুনাম।
    ঘন কাল কেশ যেন মেঘের আলপনা,
    হেসে দিলে লুটিয়ে পড়ে মুখ যেন চাঁদপনা।
    গরিবের ঘরে জন্ম নিয়ে, হলো রূপবতী।
    তারে পেতে চেয়ে থাকে, যেন দেবী রাধাবতী।
    দিন যায়, মাস যায়, যায় ষোল বছর,
    গ্রামে গ্রামে রব উঠেছে, কন্যাই যে আছে একজন।
    কেশ মেঘের আলপনা, মুখ যে অমরা বতী, সে হেসে দিলে সব চুপ হয়ে যায়,
    নয় কোনো ভীমরতি।
    রাজ্যে এক রাজা ছিল, ভীষণ দুষ্টু স্বভাব,
    লোকমুখে শুনে গঙ্গার রূপের বর্ণন,
    দেখতে চাইল সে তক্ষণ।
    সমন জারি করে,পাঠায় পেয়াদা, গঙ্গা যেতে রাজি হয় না, বোঝায় মা , বাবা তারে, বোঝায় পড়শি সব।
    না গেলে ঘরে আগুন দেবে দুষ্টু রাজা,
    কোনো দোষ না করেও পাবে তুমি সাজা।
    এর আগে ভালো কন্যা, রাজি হয়ে যাও, নিজের বাপ মায়েরেও একটু রেহাই দাও।
    শুনে কন্যা মাথা নাড়ে, যেতে মন না চায়, ধীরে ধীরে যায় কন্যা আলতা রাঙা পায়।
    দেখে গঙ্গার রূপ মুগ্ধ হলেন রাজা, গঙ্গা হবে রাজরাণী, এই তোরা বাদ্য বাজা।
    কিন্তু , গঙ্গা রাণী হতে না চায়, খুব সাধারণ কন্যা হয়ে জীবন কাটাবে এটাই।
    রাজা না শোনে তার কোনো কথা,না বোঝে আবদার।
    তার কথার বাইরে হবে না একটি কথাও আর।
    এক উজির ছিল রাজার শত্রু, জানল
    যখন সে, গঙ্গার মত রূপবতী কে রাজা বিয়ে করছে,
    পাশের রাজ্যের আরেক রাজার কাছে গেল হায়।
    গিয়ে কহে,”তুমি কম কিসে? ধন,মান , জনে। বিশাল সাম্রাজ্য তোমার। গঙ্গার মত সুন্দরী পেতে কি চাই আর? শোনো, যুদ্ধ কর, যুদ্ধ কর। রূপসী তুলে এনে,দেখাও তুমি সব ই পার, সে কিছুই নে।”
    সেই রাজা হাসে উজিরের কথায়, ” ঠিকই বলেছ তুমি, আমি থাকতে এই রূপসী কন্যা আর কে নেবে শুনি? সেনানায়ক, তৈরী হবে, যুদ্ধ করতে হবে।গঙ্গা আমার চাই, চাই। নইলে রক্ত গঙ্গা বইবে।”
    বিয়ের রাতে যুদ্ধের দামামা উঠল যখন বেজে, সীমান্তের থেকে বার্তা এলো মহারাজের কাছে।
    সৈনিক সব খুলে বলে তারে, আর যে সময় নেই, দুষ্টু রাজা চলে এলো বলে, ফুরসত বেশি নেই।
    আড়াল থেকে গঙ্গা শোনে সব, সে ভাবে, এ রূপ যদি হয় বিবাদের কারণ,যদি করে বিনাশ, তার আগেই রুখতে হবে এমন সর্বনাশ।
    আমায় ক্ষমা করে দিও রাজা, সইতে পারি না, এই যুদ্ধ হলে যা কিছু হবে, আমি দেখতে পারব না- ভাবি মনে মনে, লিখল এক পত্র সে রাজার উদ্দেশ্যে।
    জ্বলন্ত করে আগুনে দিল ঝাপ সুন্দর কন্যা,কেউ না জানে, কেউ না দেখে।
    পুড়ে ছাই হয়ে গেল এত রূপের দেহ,
    পরে রইল ছাই, দেখল ও না যে কেহ।
    যুদ্ধ জয়ের মুখে যখন দুরদেশের রাজা, গঙ্গাকে চায় দেখতে
    নিয়ে যেতে সাথে।
    এখান- ওখান খুঁজে তবুও পায় না যে কেউ, পত্র একটা পাওয়া যায়,তাই নিয়ে আসে প্রহরী, সঙ্গে নাই কেউ।
    “হায় রে হায়, যে রূপের মোহে যুদ্ধ করলাম জীবন বাজি রেখে, সেই দেহ পুড়িয়ে দিলে,আমায় একা রেখে। আমি জিতে গিয়েও হেরে গেলাম,কন্যা তোমার কাছে।
    তুমি বড় বুদ্ধিমতী,এ রাজ্য তুচ্ছ তোমার কাছে।”
    বলে রাজা চলে গেল, রাজ্য ফেলে রেখে।
    আর আহত রাজা, প্রজা সবাই যেন হাফ ছেড়ে বাঁচে।
    গঙ্গার রূপের আগুনে রাজ্য পুড়ে ছাই,
    রাজা আছে চুপটি করে, কিছু বলতে না চায়।
    দিন যায়, বছর যায়,বহু বছর পরে, তাকে দেখা যায় বন্ধ কামড়ায়,
    উন্মাদের মতন করে।
    কত কবিরাজ, কত কিছু, হলো না আর ভালো, কি যে হল, কি যে হলো,
    কেউ বুঝতে না পারল।
    বড় রানীর এক পুত্র, নাম তার রেহমান,সে হলো যোগ্য রাজা
    প্রজাসকল করে তাকে সম্মান।
    কিন্তু, রূপসী গঙ্গা যে স্রোতে তারে ভাসিয়ে দিয়ে গেছে, ফিরতে কি আর পারবে সে আগের রাজা হয়ে?
    শুনে গঙ্গার সে কাহিনি কান্নার রোল পড়ে যায়, বুড়ো,বাচ্চা সবাই চোখ মুছে, এদিক ওদিক চায়।
    কেউ বলে, হায় আল্লাহ, এ কেমন লীলা।
    যারে তুমি এত রূপ দিলে, তারে ই কেড়ে নীলে।

Skip to toolbar