-
নায়িকা সংবাদ
পর্ব: ০৪চিত্রা কোমায় থেকে বেরিয়ে এলে কিরণ ও বাড়ি ফেরে। এ কদিন কোনো রকমে বাড়ি এসে স্নান খাওয়া শেষ করে হাসপাতালে দৌড় লাগিয়েছে কিরণ।
চিত্রা দি এখন কি অবস্থা?
তুমি জানতে চাইছ?
হ্যাঁ
একটা মানুষ মারা যেতে বসেছিল তার ওপর কি আর রাগ রাখতে হয়।
ভাবছি কাল একবার চিকেন স্যুপ বানিয়ে খাইয়ে রেখে আসব?
তোমার হলো কি বলতো?
কি আর হবে? ভেবে দেখলাম তিক্ততা রেখে আর কাজ কি? জীবন দুইদিনের। আজ আছি কাল নেই। যদি চিত্রা দি আজ মারা যেতেন তাহলে সারাজীবন আফসোস থেকে যেতো।
ওহ আর একটা সকালে একবার চন্ডিতলায় যাব মায়ের পুজো দিতে। পুজোর ফুল নিয়ে চিত্রা দির মাথায় ছুঁইয়ে আসব।
ঠিক আছে আমার যেতে হবে না তুমি একাই পারবে?
না না আমি একাই পারব।
পরদিন সকালে উমা হাসপাতালে গিয়ে পৌঁছিয়ে চিত্রার কেবিনে যায়।
উমা কে দেখে চিত্রা বলে:
কেন এসেছ এখানে? দেখুন আপনার স্বামীর সাথে না আমার কোনো ব্যাক্তিগত সম্পর্ক আছে না কাজের।
দিদি আমি ভুল করেছি সেই সময় আমার মাথা ঠিক ছিল না। বোঝই তো মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আজ এই অবস্থায়। আমার কাছে আমার স্বামী কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা তো জানোই। নিজের স্বামীর সন্মান নষ্ট হতে দেখলে কি শান্ত থাকা যায়। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও এই বলে চিত্রার পায়ে ধরে।
আরে কি করছ কি করছ? তুমি যে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছ এটাই অনেক। তোমার কিরণ তোমার ই থাকবে ওকে তোমার থেকে কেউ কেড়ে নেবে না আমরা শুধু বন্ধু এর বাইরে আর কিছু নেই।
আমি বুঝতে পেরেছি আর তার জন্য ই তো আমার এখানে আসা।
আচ্ছা শোনো আগে মায়ের চরণের ফুল টা মাথায় ছুঁইয়ে দিই তারপর একটু চিকেন স্যুপ বানিয়ে এনেছি খেতে হবে কিন্তু।
ঠিক আছে
চিত্রা পুরো চিকেন স্যুপ খেয়ে নেয়। উমার যাবার আগে চিত্রার কানে কানে বলে যায় যাকে তাকে বিশ্বাস করতে নেই
উমা চলে যাবার পর হঠাৎ করে চিত্রার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়,পুরো শরীর ধীরে ধীরে নীল হয়ে আসতে থাকে। এদিকে একজন নার্স চিত্রা কে দেখতে এসে চিত্রার অবস্থা দেখে দ্রুত ডাক্তার কে ডাকে।
ডাক্তার এসে দেখে চিত্রার অবস্থা দ্রুত খারাপ হচ্ছে। চিত্রা জ্ঞান ও হারিয়ে ফেলেছেচিত্রা আবার কোনো এক অন্ধকার জায়গায় আটকিয়ে গেছে সম্পূর্ণ একা। সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ছটফট করতে থাকে। ওকে যে বেরিয়ে আসতেই হবে না হলে ওর ছেলেটার ভবিষ্য নষ্ট হয়ে যাবে। ছেলের জন্য ওকে আলোর দিশা খুঁজতে হবে।
বর্তমানে
ডাক্তারেরা দ্রুত পাইপ দিয়ে চিত্রার পেট থেকে বি*ষ বের করে ফেলে।
অন্যদিকে চিত্রা ওর অল্প একটু আলোর দেখা পেয়ে সেই দিকে ছুটে যায় এবং বেরিয়ে আসে।
ভাগ্যের জোরে আবার ও বেঁচে যায় চিত্রা।
ঠিক কি বি*ষ দেওয়া হয়েছিল ওকে এটা বুঝতে ডাক্তারদের দেরি হয়ে যাওয়ার ফলে চিত্রার শরীরের নিচের অংশ প্যারালাইস হয়ে যায়।
চিত্রা মোটামুটি স্থির অবস্থায় গেলে ডাক্তার মুকুট নাগ প্রসুন চক্রবর্তী কে ফোন দিয়ে খবর নেয়।
প্রসূন এসে ডাক্তার কে জিজ্ঞেস করে চিত্রার এই অবস্থা কি করে হলো?
কে দিল ওকে এই ভয়াবহ বি*ষ? আর কেনই বা দিল?
হঠাৎ প্রসূণের মনে হয় চিত্রার কেবিনে তো সিসি ক্যামেরা আছে।
প্রসুন দ্রুত সিসি ক্যামেরা চেক করে দেখে উমা চিত্রা কে কিছু খাওয়াচ্ছে।
প্রসূন সিসি ক্যামেরার ক্লিপ নিয়ে থানায় গিয়ে উমার নামে খুনের চেষ্টা করার জন্য মামলা করে আসে।
থানা থেকে বেরিয়ে প্রসূন ওর এসিস্ট্যান্ট এর থেকে কিরণের ফোনে নাম্বার যোগাড় করে ফোন করে
কিরণ বলছ?
হ্যাঁ বলছি?
আপনি কে বলুন তো
প্রসূন চক্রবর্তী।
শোনো তোমাকে আর কখনো যেনো চিত্রার আশেপাশে না দেখি। তোমার মত নিকৃষ্ট মানুষ আর দেখি নি
কিন্তু আমি কি করলাম?
তুমি কিছু কর নি?
তোমার স্ত্রী করেছে?
কি করেছে উমা?
চিত্রা কে বি*ষ দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে। এটাই সত্যি । এখন তো মনে হচ্ছে তোমাকে আর কোনো সিনেমাতেই রাখা ঠিক হবে না।আধা ঘন্টার মধ্যে উমাকে গ্রেফতার করা হয়।
এরপর হাসপাতালে গিয়ে প্রসূন ডাক্তারদের বলে যে চিত্রাকে আমার বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি। বাকি চিকিৎসা ওখানেই হবে।
প্রসূণের বাড়িতে চিত্রা কে নিয়ে যাবার পরঃ
তুমি আমাকে এখানে নিয়ে এলে কেন?
আমি আর কারও ওপর বোঝা হয়ে চাই না।
বেশি কথা বলো না তো।
শোনো কাল সকালে আমি দার্জিলিং এ যাব তোমার ছেলে কে আনতে।
ও কাছে থাকলে তুমি দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবে।
এক বছর পর চিত্রা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যায়। এই পুরো বছরটা প্রসূন চিত্রা কে দেয়।চিত্রা সুস্থ হবার পর একদিন ওর ড্রাইভার চিশতি এসে স্বীকার করে যে ইন্দ্রনাথ ওকে টাখার লোভ দেখিয়ে এক্সিডেন্ট করায়।
এক্সিডেন্টেটা করানোর পর থেকে ও শান্তি যে নেই। মাস ছয়েক আগে দাম্পত্য কলহের জের ধরে ওর স্ত্রী আ*ত্মহত্যা করেছে। চিত্রা চিশতি কে ক্ষমা করে দেয় আর ইন্দ্রনাথ কে জেলে দেয় আবার ওঅন্যদিকে গত এক বছরে পরিচালক থেকে প্রোযজক সবাইকে কিরণ কে বয়কট করেছে। সবার একটাই ধারণা নতুন নায়িকা কে কিরণের বিপরীতে কোনো নায়িকা কাজ করলে একটা সম্পর্ক তৈরি হবে আর ঠিক তখনই ওর স্ত্রী উমা আবার কোনো নায়িকা মেরে ফেলতে চাইবে।
সমস্ত ধাক্কা সামলে চিত্রা আবার ক্যামেরার সামনে। এবারের সিনেমার নাম রানী লক্ষ্মীবাই। পরিচালক দিবা রয়
শুটিং দৃশ্য: ঝাঁসির যুদ্ধ
লোকেশন: পুরোনো দুর্গের সেট
সময়: ভোর
দৃশ্য: রানী লক্ষ্মীবাই ঘোড়ায় চড়ে দুর্গের ফটকের সামনে সৈন্যদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
ক্যামেরা ধীরে ধীরে রানীর মুখের দিকে এগিয়ে আসে। পরনে ঐতিহাসিক রাজকীয় পোশাক, কোমরে তলোয়ার। পেছনে ঝাঁসির দুর্গের প্রাচীর।
পরিচালক:
“ক্যামেরা রেডি… ঘোড়া এগিয়ে আসবে… অ্যাকশন!”
রানী ঘোড়া ছুটিয়ে সামনে এগিয়ে যান।
রানী লক্ষ্মীবাই:
“ঝাঁসি আমাদের। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমরা আমাদের মাটি রক্ষা করব!”
সৈন্যরা একসঙ্গে সাড়া দেয়।
ক্যামেরা উপরে উঠে পুরো দুর্গ, সৈন্যবাহিনী এবং রানীকে দেখায়।
পরিচালক:
“কাট! অসাধারণ শট!”
তারপর দেখা যায়, এটি আসলে সিনেমার শুটিং সেট। অভিনেত্রী ঘোড়া থেকে নামছেন, পরিচালক ও ক্যামেরা টিম দৃশ্যটি মনিটরে দেখছেন।
BTS মুহূর্ত: অভিনেত্রী নিজের তলোয়ার ও পোশাক ঠিক করছেন, ক্যামেরাম্যান ট্র্যাকিং শটের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং পরিচালক পরবর্তী অ্যাকশন দৃশ্যের নির্দেশ দিচ্ছেন।খবর শুনেছি কিছু
না তো কি হয়েছে?
কিরণকে তো মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।
কি বলছ দাদা?
হ্যাঁ এটাই সত্যি
আসলে তোমার সাথে ঐ ঘটনার পর থেকে কিরণ কে সামাজিক ভাবে হেয়প্রতিপন্ন হতে হয়। শুনেছি ওর স্ত্রী না কি ছাড়া পেয়েছে? দাদা তুমি একটু খোঁজ খবর নিয়ে ওর চিকিৎসার ব্যবস্থা করো। আমি সবাই কে অনুরোধ করব কিরণ সুস্থ হলে যেনো ওকে নতুন সিনেমায় কাজ করার সুযোগ দেয়া হয়। কিরণ আর ওর স্ত্রী তো এক ব্যাক্তি না। ওর স্ত্রীর কর্মের ভাড় ও কেন বইবে?তুমি কি একবার যাবে ওর সাথে দেখা করতে।
না দাদা প্রসূন এর বারণ আছে।মানসিক হাসপাতাল:
লাইট ক্যামেরা অ্যাকশন
নিজের মতো করে অভিনয় করতে থাকে কিরণ কখনো গান করছে কখন বা নাচ।
কিরণ চিৎকিসা যাতে সঠিক ভাবে হয় তার পুরো দায়িত্ব নিয়েছে চিত্রা।
উমা আবার ও জেলে গেছে। কারণ কাজের মেয়ে কে খু’ন করেছে।
মিথ্যা সন্দেহের বশে।সব খারাপের মধ্যে ভালো খবর হলো রানী লক্ষ্মীবাই সিনেমা ব্লকবাস্টার হয়েছে। এ বছর সেরা নায়িকা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাচ্ছে।
পুরস্কার নিয়ে আসার পথে সাংবাদিকরা ওকে ঘিরে ধরে। একে একে নানা ধরনের প্রশ্নের করতে থাকে । একজন সাংবাদিক জিজ্ঞাসা করে আচ্ছা ম্যাডাম কিরণ স্যারের ক্যারিয়ার কি শেষ।
তখন চিত্রা জানায় যে না
কিরণ সুস্থ হলে ওর সাথে যে সপ্ত ডিঙ্গা সিনেমা করার কথা ছিল সেটা শুরু করবে।
চলবে4 Comments-
-
আপনার লেখাটি পড়ে বেশ ভালো লাগল, বিশেষ করে “জীবন দুইদিনের, আজ আছি কাল নেই”—এই চমৎকার কথাটিতে জীবনের এক গভীর সত্য ফুটে উঠেছে। গল্পের বাঁকে বাঁকে চরিত্রগুলোর মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন এবং শেষ পর্যন্ত ক্ষমা ও সহমর্মিতার জয়গান আপনি খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। আপনার লেখনীর এই সৃজনশীল ধারা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে আরও অনেক সুন্দর সৃষ্টি পাঠকদের উপহার দিতে পারবেন, এই শুভকামনা রইল।
-
Friends
Mamun Azad
@mamunazad
Mishau Marma
@mishaumarma
Sujon Barua
@sujonbarua
রওনক নাহার "রুনু"
@rodela-dupor
আসাদুজ্জামান মানিক
@asadujjamanmanik
এস এম সামিউল ইসলাম রাতুল
@ratulsamiulislamgmail-com
সজল চন্দ
@sajalchanda
Jannatul Ferdus Samira
@jannatulferdussamira
Anju Manara Begum
@anjumanarabegum


গল্পের মোড়গুলো এত চমৎকার যে পরের পর্বের জন্য একদম অপেক্ষায় আছি। আপনার লেখা চিত্রার লড়াই আর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটা সত্যিই খুব অনুপ্রেরণামূলক।