Profile Photo

Mohammad Abul HoseinOffline

  • mohammadabulhosein
  • Profile picture of Mohammad Abul Hosein

    Mohammad Abul Hosein

    • 1 month ago

    দশকের পর দশক অমীমাংসিত গণিতের সমস্যার সমাধান দাবি ওপেনএআইয়ের

    প্রায় এক শতাব্দী ধরে গণিতবিদদের যে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাটি ভাবিয়ে তুলেছে, সেটির সমাধান করার দাবি করেছে ওপেনএআই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)নির্ভর এই উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি কয়েক মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে বলে জানা গেছে।

    চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা ‘নাভিয়ের-স্টোকস সমস্যা’র সমাধান করেছে। এটি গণিতের অন্যতম বড় অমীমাংসিত প্রশ্ন হিসেবে ক্লে ম্যাথমেটিকস ইনস্টিটিউটের প্রকাশিত সাতটি ‘মিলেনিয়াম প্রাইজ সমস্যা’র একটি।

    তবে ওপেনএআইয়ের এই ঘোষণার পরপরই বিতর্ক শুরু হয়েছে। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গণিতবিদ ত্রিস্তান বাকমাস্টার দাবি করেছেন, তিনি এবং ওপেনএআইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের আরেক গবেষক নিজেদের অগ্রগতির ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন- এমন খবর শোনার পর ওপেনএআই এই সমস্যাটি নিয়ে তাদের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেয়।

    বাকমাস্টারের আরও উদ্বেগের কারণ হলো, তাদের চলমান গবেষণার কাজ ওপেনএআইয়ের কোডেক্স মডেলে সংরক্ষিত ছিল। কম্পিউটার প্রোগ্রাম লেখার কাজে ব্যবহৃত এই মডেলের মাধ্যমে ওই গবেষণার তথ্য ওপেনএআইয়ের দলের কাছে দৃশ্যমান হয়ে থাকতে পারে।

    নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নথিতে বাকমাস্টার লিখেছেন, “তাদের মডেল কী করেছে বা কীভাবে করেছে, আমি জানি না। আমাদের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তাও জানি না। আমি কাউকে কোনো কিছুর জন্য অভিযুক্ত করছি না।”

    মঙ্গলবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ওপেনএআইয়ের গবেষক সেবাস্তিয়ান বুবেক অস্বীকার করেন যে প্রতিষ্ঠানটি ওই দুই গবেষকের কাজ ব্যবহার করেছে বা ওপেনএআইয়ের সার্ভারে শেয়ার করা কোনো উপাদানে প্রবেশ করেছে।

    ওপেনএআই তাদের অগ্রগতির ঘোষণা দিয়ে প্রকাশিত বিবৃতিতে আরও বিস্তারিত জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, দুটি মিলেনিয়াম প্রাইজ সমস্যার সমাধান হয়ে গেছেÑএমন গুজব শোনার পরই তারা এই উদ্যোগ শুরু করার অনুপ্রেরণা পায়। একই সঙ্গে তারা স্বীকার করেছে, ওই দুই গবেষক ওপেনএআইয়ের পণ্য ব্যবহার করার সময় যে তথ্য তৈরি করেছিলেন, তা তাদের মডেল উন্নত করতে কোনোভাবে সহায়তা করে থাকতে পারেÑএ সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।

    ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা নাভিয়ের-স্টোকস সমস্যার সমাধানে নিজেদের একটি অভ্যন্তরীণ এআই ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে, যা তাদের সর্বশেষ জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা মডেলের চেয়েও শক্তিশালী। একই সময়ে প্রায় ১০ হাজার এআই এজেন্টÑঅর্থাৎ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম এআই ব্যবস্থা- সমস্যাটি নিয়ে কাজ করেছে। তারা ৮৮ ঘণ্টার মধ্যে সমাধানে পৌঁছায়।

    ওপেনএআইয়ের গবেষকেরা একটি ব্লগ পোস্টে লিখেছেন, “আমাদের কাজের একটি বড় লক্ষ্য হলো বিজ্ঞানীদের এমন গবেষণা ও প্রযুক্তির অগ্রগতিতে সক্ষম করা, যা সমগ্র মানবজাতির জন্য উপকারী। এআইয়ের অগ্রগতির গতি এবং আসন্ন মডেলগুলো থেকে কী প্রত্যাশা করা যায়, সে বিষয়ে বিশ্বকে জানানো গুরুত্বপূর্ণ বলে আমরা মনে করি।”

    এই অগ্রগতি আরও একবার দেখিয়ে দিল, বিপুল পরিমাণ কম্পিউটিং শক্তি ব্যবহার করা উন্নত এআই মডেলগুলো কীভাবে গণিতের জগতে প্রবেশ করছে এবং এই ক্ষেত্রটিকে নতুনভাবে রূপ দিচ্ছে।

    এর আগে মে মাসে ওপেনএআই প্রায় ৮০ বছর আগে উত্থাপিত আরেকটি গাণিতিক সমস্যার সমাধানে অগ্রগতির দাবি করেছিল। গুগল ডিপমাইন্ডও তাদের এআই মডেল ব্যবহার করে গণিতে সাফল্যের দাবি করেছে।

    বুবেক বলেন, নাভিয়ের-স্টোকস সমস্যার সমাধান হলো “গত ১২ মাসে আমরা যে অগ্রগতির ধারা দেখেছি, তার এক অসাধারণ পরিণতি।”

    নাভিয়ের-স্টোকস সমস্যা মূলত জানতে চায়, বায়ু ও পানির মতো তরলের গতিবিধি বর্ণনা করতে ব্যবহৃত সমীকরণগুলো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অকার্যকর হয়ে পড়ে কি না। ওপেনএআইয়ের প্রমাণ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, কিছু ক্ষেত্রে তা সত্যি হতে পারে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সমীকরণগুলোর মান ‘বিস্ফোরিত’ হয়ে তরলের গতিবেগ অসম্ভব রকমের অসীম হয়ে যেতে পারে।

    ওপেনএআই জানিয়েছে, তাদের জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা মডেলের সমাধানটি যাচাই করতে প্রায় ১৭ ঘণ্টা সময় লেগেছে।

    মিলেনিয়াম প্রাইজ সমস্যাগুলোর যেকোনো একটি সমাধান করতে পারলে গণিতবিদদের জন্য ক্লে ম্যাথমেটিকস ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে ১০ লাখ ডলার (প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড) পুরস্কারের সুযোগ রয়েছে। তবে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা এই পুরস্কার দাবি করবে না।

    বাকমাস্টারের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টি বাদ দিলেও, গণিতের এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে ওপেনএআইয়ের জন্য ইতিবাচক প্রচারের সুযোগ তৈরি করেছে, যখন প্রতিষ্ঠানটির এআই প্রযুক্তি কতটা নিরাপদভাবে তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

    জুলাইয়ে ওপেনএআই জানিয়েছিল, সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় তাদের এআই এজেন্টদের একটি দল হাগিং ফেসে অনুপ্রবেশ করেছিল। হাগিং ফেস একটি তৃতীয় পক্ষের সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম।

    অ্যানথ্রপিকেও একই ধরনের একটি ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এসব ঘটনার পর এআই উন্নয়নের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে। গত সপ্তাহে মার্কিন সিনেটররা এআইয়ের ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’Ñঅর্থাৎ সব ধরনের জ্ঞানগত কাজে মানুষের চেয়ে বেশি সক্ষম এআই ব্যবস্থাÑস্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
    তথ্যসূত্র: গার্ডিয়ান

    2
    2 Comments
    • এতো পুরোনো একটি কঠিন সমস্যার সমাধানে এআইয়ের এমন অগ্রগতি নিঃসন্দেহে বড় ঘটনা। এখন অপেক্ষা শুধু মানবসমাজের কঠোর যাচাইয়ে এই দাবি কতটা সত্য প্রমাণিত হয়। যদিও এআই-এর এই অগ্রগতিতে আমি কিছুটা চিন্তিত।

    • সত্যিই অবাক করার মতো ব্যাপার! এআই দিন দিন অনেক দূর এগিয়ে যাচ্ছে😀😀

Friends

Profile Photo
MI Shaikh
@mishaikh
Profile Photo
সুমি আক্তার
@anisurrahman5976674gmail-com
Profile Photo
Alvee Mallik
@alveemallik
Profile Photo
মুহাম্মদ রফিক ইসলাম
@96d08550a60c8a43763fedc16dc97f46
Profile Photo
Noyontara
@bablee
Profile Photo
Md.Mohsin Ali
@fivertrading007gmail-com
Profile Photo
খাঁন মোঃ সুমন
@60faca207f945a8a409dbe1b2e47beb7
Profile Photo
Rabi Bhowmik
@rabibhowmik
Skip to toolbar