Profile Photo

Nusrat jahanOffline

  • Shuha
  • Profile picture of Nusrat jahan

    Nusrat jahan

    • 1 day, 3 hours ago

    ” শ্রাবণ সন্ধ্যার কাব্য”

    নুসরাত জাহান

    পর্ব -১

    বিকেলবেলা। জানালা দিয়ে শ্রাবণের মিষ্টি বাতাস আসছে রুমের মধ্যে রেডি হচ্ছেন খাদিজা বেগম হঠাৎ চেঁচিয়ে ডাকলেন রাহাকে ‘রাহা’…!

    মার ডাক শুনে রাহা তাড়াতাড়ি করে খাদিজার ঘরে আসলো । একটু আগেই কলেজ থেকে বাড়ি ফিরেছে রাহা। কি হয়েছে আম্মা ডাকছো কেন?

    খাদিজা বেগম: তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে আয় আর হ্যাঁ ভালো একটা জামা পড়ে আসবি।

    কথাটা শুনে রাহা অবাক হয়ে বললো কেন আম্মা একটু আগেই তো কলেজ থেকে আসলাম আবার কোথায় যাবো?

    খাদিজা বেগম মুচকি হেসে আয়নার সামনে চুল বাঁধতে বাঁধতে বললো ফটোশুট করতে নিয়ে যাবো তোকে। একটা ভালো ঘটকের খোঁজ করেছি ঘটক তোর ফটো চেয়েছেন। রাহা বিরক্ত হয়ে বললো ওফ আম্মা ফটো তো বাড়িতেই তোলা যায়। খাদিজা বেগম বললেন বাড়ির ফটো ভালো হয় নাকি। আমার চেহারা যেমন তেমনি তো ফটো উঠবে আম্মা। ক্যামেরার সামনে আমার চেহারাটা কি বদলে যাবে নাকি। খাদিজা বেগম কিছুটা রেগে গিয়ে বললো তোকে যা বলেছি তা কর দেরি হয়ে যাচ্ছে। ৫ মিনিটের মধ্যে রেডি হয়ে আয়। রাহা আর কিছু বললো না খাদিজার কিঞ্চিত ধমকে চুপচাপ রেডি হতে চলে গেল রাহা।

    রাহা মেয়েটা খুবই সাদামাটা গায়ের রং শ্যামলা যার কারনে সবসময় বিয়ে ভেঙে যায় রাহার পিক দেখেই লোকেরা আর বাড়ি পর্যন্ত সম্বন্ধ করতে আসে না রিজেক্ট করে দেয় শুধু মাত্র গায়ের রং এর জন্য। ভালো সম্বন্ধ আসলেও মোটা অংকের টাকা চায় লোকেরা। যৌতুক দিয়ে মেয়েকে বিয়ে দেবার মতো সামর্থ নেই কবির সাহেবের আর যৌতুক নিয়ে যারা বিয়ে করে তারা কখনো ভালো ফ্যামিলি হতেই পারে না তাই কবির সাহেব মেয়ের বিয়ে নিয়ে সামনে এগোয় না। কিন্তু খাদিজা বেগম রাহার বিয়ে নিয়ে সবসময় চিন্তিত থাকে তাই তিনি ঠিক করলেন দোকানে গিয়ে প্রফেশনাল ফটো তুলবেন। তারপর এই গুলো এডিট করে ঘটক কে দিবেন। যদি একটা ভালো সম্বন্ধ আসে।

    দোকানে এসে বসে আছে রাহা আর খাদিজা বেগম।রাহা একটা গোলাপি রং এর থ্রিপিস পরে এসেছে মাথায় হিজাব করা। খাদিজা বেগম বসে বসে দেখছেন একটা সুন্দরী মেয়ে অনেক ধরনের স্টাইল করে ফটো তুলছে। আর রাহা মনে মনে ভাবছে মা কি বুঝে না ফটো এডিট করলেও আমিতো আমিই থাকবো ওরা যখন আমাকে সামনে থেকে দেখবে তখনো কি মুখে এডিট করা হবে নাকি। হঠাৎ করে খাদিজা বেগম ডেকে বললেন দেখ রাহা মা মেয়েটা কতো স্টাইলের ফটো তুলছে তুইও ঠিক এরকম ভাবে ফটো তুলবি আগের যুগের মতো হাতের উপর হাত রেখে তুলবি না এখনকার যুগে এসব স্টাইল চলে না। মার কথায় সম্মতি জানিয়ে রাহা বললো আচ্ছা ঠিক আছে আম্মা। মেয়েটার ফটোশুট করা শেষ। লোকটা ডেকে বললেন এবার আপনি আসুন ম্যাডাম। রাহা এগিয়ে গিয়ে ফটো তুলার জায়গায় ধারায়। লোকটা ফটো তুলার জন্য স্টাইল দেখিয়ে দেয় ম্যাডাম এই ভাবে কোমরে হাত দিতে পা টা সামনে দিয়ে দারান। রাহা হাজার চেষ্টা করেও পারলো না এই ভাবে স্টাইল করতে। লোকটাও বিরক্ত হয়ে এই ভাবেই ফটো তুললো কয়েকটা। হয়েছে এবার আপনারা যান এই গুলোই আমি এডিট করে ঠিক করে দিবো। খাদিজা বেগম খুশিতে গদগদ করতে করতে বললেন আচ্ছা ঠিক আছে ফটো গুলো কিন্তু আমার কালকেই লাগবে লোকটা বললো আচ্ছা কালকের মধ্যেই দিয়ে দিবো। আচ্ছা এবার তাহলে আমরা যাই।

    -আচ্ছা

    দোকান থেকে বের হয়ে রিকশার জন্য দাঁড়িয়ে আছে রাহা আর খাদিজা তখনি কেউ পিছন থেকে চেঁচিয়ে ডেকে বললো ওই রাহা..। রাহা পিছন ফিরে দেখে মায়া দৌড়ে আসছে ওকে ডাকতে ডাকতে। দৌড়ে এসেই রাহা কে জরিয়ে ধরলো।

    পিছনে ফিরে খাদিজা বেগমকে দেখে সালাম দিলো মায়া।

    -আন্টি আসসালামুয়ালাইকুম।

    – অলাইকুম আসসালাম।

    – কেমন আছেন আন্টি?

    -খাদিজা বেগম মুচকি হেসে বললো এইতো আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি তুমি কেমন আছো মা?

    -আমিও ভালো আছি আন্টি।

    রাহা বললো মায়া তুই এই খানে কি করছিস?

    কিছু জিনিস কিনার ছিলো তাই এসেছিলাম।

    মায়া আর রাহা এরা দুজন হচ্ছে বেস্ট ফ্রেন্ড একি কলেজে পরে এরা দুজন। মায়া মেয়েটা খুবই চঞ্চল দেখতে মোটামোটি সুন্দরী।

    মায়া বললো চল না রাহা রেস্টুরেন্টে যাই খাদিজা বেগম বিরক্ত হয়ে বললো এখন রেস্টুরেন্টে যাওয়ার দরকার নেই সন্ধ্যা হয়ে গেছে। রাহা মিনমিনিয়ে আললাদি সুরে বললো প্লিজ মা যাই । যাবো আর আসবো বেশি দেরি করবো না। মায়াও সঙ্গে সঙ্গে তাল মিলিয়ে বললো হ্যাঁ আন্টি যাই প্লিজ বেশি দেরি করবো না। খাদিজা বেগম মেয়েদের কথা আর ফেলতে পারলো না ঠিক আছে যাও তাড়াতাড়ি বাড়িতে ফিরবে কিন্তু, মনে থাকে যেনো। মায়া খুশিতে লাফাতে লাফাতে বললো ধন্যবাদ আন্টি।মায়াকে লাফাতে দেখে রাহা মুচকি মুচকি হাসতে লাগলো। খাদিজা বেগমকে রিকশায় তুলে দিয়ে দুই বান্ধবী রেস্টুরেন্টে চলে আসলো। রেস্টুরেন্টে খেতে বসে রাহা বললো জানিস মায়া আজকে আম্মা আমকে স্টুডিওতে নিয়ে গিয়েছিল ফটো তুলার জন্য। আম্মার খুব টেনশন হয়ে গেছে আমার বিয়ে নিয়ে সারাদিন আমার বিয়ে আমার বিয়ে করতে থাকে।

    বিপি বেড়ে গেছে ওনার এই চক্করে আর ফটো স্টুডিওতে ওনাকে চিন্তিত দেখে আমার অনেক খারাপ লাগছিলো। আর এই ছেলেরা নিজেদেরকে হিরো মনে করে নাকি মেয়েদের ফটো কে এমন ভাবে রিজেক্ট করে যেনো নিজেরা কোনো নাম করা হিরো।একবার ভাবেও না রিজেক্ট করে দেওয়ার পর মেয়েটার আর তাদের পরিবারের কতোটা খারাপ লাগতে পারে। কথাগুলো বলে রাহা মাথা তুলে মায়ার দিকে তাকালো। তাকিয়ে দেখলো মায়া ফোন টিপতেছে। রাহার রাগে মাথা গরম হয়ে গেল। রাগে চেঁচিয়ে রাহা বললো আমি তোকে আমার জীবনের সমস্যার কথা বলছি আর তুই ফোনে কি করছিস? রাহার রাগ দেখে মায়া বললো আরে বান্ধবী রাগ করিস না তোর সমস্যার সমাধান করতেছি। ফোনটা রাহার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো এই দেখ matrimonial app এই খানে অনেক গুলো ছেলের ফটো আছে তোর যতো গুলো ছেলেকে রিজেক্ট করতে মন চায় কর। নিজের সব রাগ এই খানে বের কর। কথাটা বলে হাসতে লাগলো মায়া।

    মায়ার হাত থেকে ফোনটা টান দিয়ে নিয়ে রাহা সত্যি সত্যিই একটা একটা করে ছেলেদের ফটো দেখতে লাগলো। একটা ছেলেকেও ভালো লাগছে না রাহার তাই একেকটা করে পাল্টাতে লাগলো ফটোগুলো। মায়া রাহার কান্ড দেখে ফোনটা হাত থেকে টান দিয়ে নিয়ে বললো হইছে হইছে এতো রিজেক্ট করিস না যাতে app ই তোকে রিজেক্ট করে দেয়। কথাটা বলেই উচ্চস্বরে হাসতে লাগলো দুজনেই।

    হয়েছে এবার চল মায়া বাসায় চলে যাই দেখ রাত হয়ে গেছে।

    – হ্যাঁ চল।

    রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে রিকশা খুঁজার উদ্দেশ্যে হাঁটতে লাগলো দুই বান্ধবী হঠাৎ পিছন থেকে একটা বাইক এসে ধাক্কা লাগলো রাহার পায়ের সাথে রাহা তাল সামলাতে না পেরে আহ বলে রাস্তার মাঝে ছিটকে পড়লো। রাহার হাত মায়ার হাতে ধরা ছিল বলে মায়াও পড়ে গেলো।

    রাস্তার পিছে হাত আর পায়ে চাপ লেগে ব্যাথায় রাহা

    কুঁকড়ে গেলো।

    রাহা: “আহ.. মা!”

    বাইকের ছেলেটা ব্রেক চেপে বাইক থামালো। পিছন ফিরে দেখলো মেয়েটা রাস্তায় পড়ে আছে। সাথে সাথে দৌড়ে আসতে লাগলো।

    রাহা বসে বসে হাত ঝারছিলো । সামনে তাকিয়ে দেখলো একটা ছেলে তার দিকে দৌড়ে আসছে ।

    রাহা হা… করে তাকিয়ে রইল।

    ছেলেটা এতো সুন্দর ..! ছেলেটার উচ্চতা হবে ৬ ফুট।গায়ের রং ধবধবে ফর্সা চুল গাড় ছুঁই ছুঁই লম্বা কালো টি শার্ট আর জিন্সে পুরাই স্মার্ট লাগছে।

    রাহার মনের ভিতরে কেমন একটা অনুভুতি হতে লাগলো বুকের ভিতর ধকধক করতে লাগলো।

    একটা ছেলে মানুষ এতো সুন্দর হয়?

    ছেলেটা একদম সামনে এসে হাত বাড়িয়ে দিলো হাত ধরে উঠার জন্য।

    *চলবে….?

    3
    3 Comments
    • শ্রাবণ সন্ধ্যায় ভাগ্যের ধাক্কায় রাহার জীবনে নেমে এলো অপ্রত্যাশিত এক নতুন অধ্যায়……🖤🖤

    • লেখাটা পড়ে বেশ ভালো লাগলো, শ্রাবণের আবহ আর রাহার মনের অবস্থা খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন আপনি। মাঝপথে এমন একটা বাঁক নেওয়া মোড় গল্পের সাসপেন্স বেশ বাড়িয়ে দিয়েছে। এরপর কি হবে তা জানার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি আপনার পরবর্তী পর্বের।

    • আপনার লেখা এই অংশটিতে রাহার মানসিক অস্থিরতা এবং জীবনের বাস্তবতার যে দারুণ সংমিশ্রণ ফুটে উঠেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়, তাই আপনি দারুণ সব অনুভূতি দিয়ে গল্পটি সাজিয়েছেন বলে আমি মনে করি।

Skip to toolbar