Profile Photo

সাইফুন নেসা সীমা।Offline

  • MeherMeherShima
  • কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা।
    (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
    লেখাঃ মেহের_মেহের_সীমা।
    পর্বঃ ৩
    আপনার শরীর খারাপ লাগছে?
    পানি খাবেন দিব?
    সাব্বিরের মা পানি না দিয়ে বিষ দাও খেয়ে মরে যায়।
    তাতে যদি তোমার ছোট ছেলে শান্তি পায়।
    আমি না মরলে তো ওর শান্তি হবে না।
    তা আমার বোঝা হয়ে গেছে।

    শাহেদ বেপারির কথা শুনে সুমনা বেগম বললেন,ছিঃ ছিঃ সাব্বিরের বাবা এসব কি বলছেন?
    হয়েছে টা কি!
    কি আর হবে ?
    সবেই আমার কপাল।
    একজন খেটে মরে অন্যজন গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরছে।
    সুমনা বেগম স্বামীর কথা শুনে বললেন,তা শ্রাবণ আবার কি করেছে?
    এই ছেলেকে নিয়ে আর পারলাম না।
    সুমনা বেগম বুঝতে পারছে না তার ছোট ছেলের বুদ্ধি কবে হবে।
    এই ছেলের জন্য স্বামীর কাছে তাকে কম কথা শুনতে হয় না।
    এদিকে শাহেদ বেপারি বলে উঠলেন,এতো কষ্ট করে তোমার ছোট ছেলেকে দোকান নিয়ে দিলাম সে তো ঠিক মত দোকান করেয় না।
    টো টো করে ঘুরে।
    আজকে দুইবার ওর দোকানে গিয়ে বন্ধ দেখলাম।
    এমন করলে ব্যাবসা লাঠে উঠবে এই আমি বলে দিচ্ছি সাব্বিরের মা।
    অবশ্য তাতে তোমার ছেলের আর চিন্তা কী?
    গাধার খাটুনি খাটতে আমি আর সাব্বির তো রয়েছি।
    সে গায়ে বাতাস লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর সামনেও তাই করবে।
    বরং আমি মরলে তোমার ছেলে খুশি হবে।
    সুমনা বেগম স্বামীর কথা শুনে বললেন,আচ্ছা আপনি শান্ত হোন।
    শ্রাবণ বাসায় আসলে আমি ওর সাথে কথা বলবো।
    পেয়েছে টা কি!
    আপনি একটু শান্ত হোন।
    আপনার এমনিতেই শরীর ভালো নেয়।
    দুইবার হার্ট অ্যাটাক করেছেন।
    আপনাকে উত্তেজিত হতে ডাক্তার বারণ করেছেন।
    নিজের শরীরের কথা একবার ভাববেন তো!

    শাহেদ বেপারি তার স্ত্রীর কথা শুনে বলেন, উত্তেজিত হয় কি সাধে?
    তোমাকে আমি চিনি না?
    ছেলে সামনে থাকলে তো মুখ দিয়ে মধুর মত মিষ্টি কথা বের হয়।

    স্বামীর কথা শুনে সুমনা বেগম বললেন, আসলে ছোট থেকে ওকে তো দূরে দূরে রেখেছি।
    সেজন্য সবসময় রাগারাগী করি না।
    তবে আমি কখনো ওর অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়নি।

    স্ত্রীর কথা শুনে শাহেদ বেপারি বললেন, দূরে তো আর সাধে রাখিনি।
    তোমার এই ছেলে ছোট থেকে আমার জীবন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে তেজপাতা করে দিয়েছে।
    ওর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়েয় তো মাদ্রাসায় দিলাম।
    যাতে মানুষ হতে পারে।
    তোমার ছেলে কুরআন ১০পাড়া মুখস্থ করার পর আর মাদ্রাসায় গেল না।
    মাদ্রাসায় থেকে পালানোর রোগে ধরেছিল যে।
    এখন তো আমার মনে হয়,দেখেও কুরআন পড়তে ভুলে করবে সে।
    কিন্তু তোমার ছেলেকে কেউ কিছু বলতে গেলে এমন ভাব করবে যে সেই সবার থেকে ভালো বুঝে।
    আর অন্য সবাই অবুঝ।
    নিজে যে একটা অপদার্থ তা ও বুঝে না।

    অপদার্থ না হলে কয়েকবার ধরে বেঁধে মাদ্রাসায় দিয়ে এসেছিলাম।
    তবুও পড়াটা শেষ করেনি।
    সুমনা বেগম বললেন,আচ্ছা এখন এসব কথা বাদ দেন না।
    শাহেদ বেপারি তার স্ত্রীর কথা শুনে বলেন,কি বাদ দিবো!
    তুমি ভুলে গেছ?
    তখন তোমরা গ্রামে থাকতে আমি একা শহরে থাকতাম।
    প্রতি মাসে একবার গ্রামে যেতাম ।
    তো সে মাসে আমি শহরে থেকে গ্রামে যাচ্ছিলাম।
    লঞ্চ থেকে নেমে কি মনে করে যেনো আশেপাশে তাকিয়েছিলাম কে জানে,
    কিন্তু পাশে তাকিয়ে হঠাৎ করে দেখলাম একটা লঞ্চ ছেড়ে দিচ্ছে , সেই লঞ্চে তুমি সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানি মুছতে ব্যস্ত।
    সেদিন তোমার ওমন অবস্থা দেখে তো আমি ভয় পেয়ে যায় তাড়াহুড়ো করে তোমার লঞ্চে উঠতে গিয়েও পারিনি।
    কারণ ততক্ষণে লঞ্চ ঘাট থেকে ছেড়ে দিয়েছিলো।
    তোমাকে ওই অবস্থায় দেখে আমার মধ্যে কি হচ্ছিল তা তুমি বুঝবে না।
    সেদিন আশেপাশের সব ভুলে তোমাকে নাম ধরে জোরে জোরে ডাকি ।
    তুমি আমার ডাক শুনে সামনে তাকিয়ে আমায় দেখে চমকে উঠেছিলে।
    লঞ্চ থেকে নামতে সামনে আসতে চাচ্ছিলে।
    কিন্তু দেখলে এরমধ্যে লঞ্চ সামনে চলতে শুরু করে দিয়েছে।
    সেদিকে তাকিয়ে একদমই তাড়াহুড়ো করে চিল্লিয়ে বললে,শ্রাবণ মাদ্রাসায় থেকে পালিয়ে পদ্মার এপারে একটা হোটেলে বয় হিসেবে কাজ করছে।
    তোমার বোনের মেয়ের জামাই তাকে হোটেলে কাজ করতে দেখেছেন।
    তোমার কথা শুনে আমি তোমাকে ওপারে গিয়ে দাঁড়াতে বলি।
    এবং পরের লঞ্চে উঠে পরি।
    তারপর তোমাকে নিয়ে গিয়ে শ্রাবণকে ধরে বেঁধে বাড়িতে নিয়ে আসলাম।
    এক সপ্তাহ শ্রাবণকে বাড়িতে রেখে আমি ঢাকা যাওয়ার আগে আবার মাদ্রাসায় দিয়ে এলাম।
    অবশ্য ঢাকা আসার আগে হুজুরকে বলে আসি ওর খেয়াল রাখতে।
    এমনকি তোমার ছেলের জন্য মাদ্রাসার পাশে একটা দোকানে বলে এসেছিলাম।
    ওর যা খেতে ইচ্ছে করবে ওকে যেন দেন
    আমি প্রতি মাসে দেশে এসে সবটাকা একবারে দিবো।
    তাছাড়া ওখানে সবাই আমাকে চিনে।
    দেশে থাকাকালীন সময়ে বাজারের সভাপতি ছিলাম।
    তা তো জানোয়।
    তো যা বলছি এরপর আমার ব্যস্ততা আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে এবং খাওয়া দাওয়ার কষ্ট হচ্ছিল সেজন্য তোমাদের ঢাকা নিয়ে আসি ।
    শ্রাবণকে রেখে আসি বাড়ির মাদ্রাসায় ।
    কারণ ততদিনে ওর দশ পাড়া মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল।
    আমি চায়নি মাঝপথে থেমে থাক।
    তবে ঢাকায় আসার পর থেকে দুই মাস পর পর ওর সাথে দেখা করে আসতাম ।
    তোমার ছেলে কয়েকমাস ভালোই ছিল তারপর কি করল?
    আচ্ছা সাব্বিরের বাবা পুরাতন কথা তুলছেন কেন?
    সুমনা বেগমের কথা শুনে শাহেদ বেপারি বললেন,পুরানো কথা কি আর সাধে তুলি!
    তোমার ছেলের দোষ তো এখন দেখবে না তুমি তা আমি ভালো করেই জানি।
    স্বামীর কথা শুনে সুমনা বেগমের মন খারাপ হয়ে যায়।
    ছেলে মেয়ে কিছু করলেয় সব দোষ তার উপর এসে চাপে।
    সুমনা বেগম ভাবছেন, ছেলে মেয়ে ভালো করলে তার সুনাম নেয় বাবারা আর খারাপ কিছু করলে তার দোষ সবসময় মায়েদের ঘাড়ে চাপে ।
    যেখানে বেশিভাগ মায়েদের দোষ থাকে না।
    সে যখন এসব ভাবছিল তার মধ্যে তার স্বামী বলে উঠেন, তোমার ছেলে মাদ্রাসায় থেকে পালিয়ে ঢাকা আসে।
    তার কাছে ভাড়াও ছিল না কিন্তু এই ছেলে এতটাই বিচ্ছু যে তার পাশের সিটের যাত্রীকে বলে আমাকে আপনার সাথে ঢাকা না নিয়ে গেলে চিৎকার করে সবাইকে বলবো, আপনি ছেলে ধরা।
    লোকটা সম্মান বাঁচাতে তোমার ছেলেকে ঢাকা নিয়ে আসে।
    লোকটা ভালো ছিল বিধায় ওকে বাসা পর্যন্ত দিয়ে গেছে।
    একবার ভেবেছো তোমার ছেলে যদি কোন খারাপ মানুষের হাতে পড়তো তাহলে কি হতো?
    ওকে মেরে কিডনি,চোখ বিক্রি করে দিতো।
    তা ভাবতে গেলে আজও আমার শরীরে কাঁটা দিয়ে ওঠে।
    ওর এসব কর্মকাণ্ড দেখে আর সাহস হয়নি মাদ্রাসায় পাঠাতে।
    শেষমেষ ঢাকার স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছি।
    তার পর তোমার ছেলে কি করছে এসএসসি পরীক্ষার পর মাস্তানদের সাথে জড়িয়ে পড়ল।
    তাকে বাঁচাতে তোমার ভাইয়ের বাসায় পাঠিয়ে দিলাম।
    আর তোমার ভাই তো আরেক চিজ।
    বৌয়ের গোলাম।
    আমার ছেলেকে তার বৌ কষ্ট দেয় সে উল্টো আমার ছেলেকে গালিগালাজ করে।
    যেখানে তোমার এই ভাইকে আমি বিয়ে করিয়েছি এমনকি তার চাকরি পর্যন্ত হয়েছে আমার টাকায়।
    সে কিনা আমার ছেলের সাথে এমন করছে।
    সুমনা বেগম তার স্বামীর কথা শুনে বললেন, সেজন্য তো ভাইয়ের সাথে আমি ঝগড়া করেছি আর দুই বছর হয়েছে তার কথাও বলি না।
    আর মনে মনে বললেন, এতক্ষণ তোমার ছেলে তোমার ছেলে করছিল যেই এখন আমার ভাই খারাপ ব্যবহার করেছে তখন নিজের ছেলে হয়ে গেছে।

    এরমধ্যে শাহেদ বেপারি বলে উঠলেন,হম কি ঝগড়া করেছো তা তো দেখেছি উল্টো তোমার ভাবী এবং তার মায়ের কাছে কটু কথা শুনেছো।
    তোমার ভাই যদি তোমার ছোট হতো না তাহলে চাপকে পিঠের ছাল তুলে দিতাম।
    পাঠা একটা।
    আচ্ছা আপনি একটু চুপ করবেন!
    সব সময় রাগারাগী না করলে বুঝি চলেছে না।
    হ্যাঁ,এখন তো আমাকে চুপ করতে বলবেই নিজের ভাইয়ের কথা বলেছি না।
    সুমনা বেগম তার স্বামীর কথা শুনে বললেন,আমার খাট হয়েছে আপনাকে চুপ করতে বলে।

    ওদিকে
    পুরানো কথা মনে পরায় শ্রাবণের বিতৃষ্ণা লাগছে।
    এই মুহূর্তে সিগারেট ছাড়া চলবে না
    কথাটা ভেবে বের হয়ে পাড়ার দোকানে যায় সিগারেট নিতে।
    ওখানে এক বন্ধুর সাথে দেখা।
    বন্ধুর সাথে আড্ডা দিতে দিতে সময়ের খবর নেয়।
    হাতে থাকা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে রাত এগারোটা বেজে গেছে।
    তবে তার হিটলার বাবা ও তার বড় ভাই দোকান থেকে আসতে আসতে রাত ১২টা।
    জলদি বাসায় গিয়ে তারা আসার আগেই ঘুমিয়ে পড়তে হবে।
    নাহলে লেকচার শুনতে হবে।
    কথাটা ভেবে বন্ধুর কাছে থেকে বিদায় নিয়ে বাসায় আসে।
    দরজায় বেল দিতেই দরজা খুলে যায় শ্রাবণ সামনের দিকে তাকিয়ে ঢোক গিলল।
    মনে মনে বললো,ইস্ কেন যে দেরি করলাম আজকে তো খবর করে ছাড়বে আমার হিটলার বাবা।
    ওদিকে
    শাহেদ বেপারি ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন, তাহলে নবাব জাদার ফেরার সময় হয়েছে?
    কথাটা বলে দরজা ছেড়ে ভিতরে গিয়ে চেয়ারে বসে।
    শ্রাবণ তার বাবাকে বসতে দেখে ভিতরে ঢুকে নিজেদের রুমের দিকে যাচ্ছিল সে সময়ে শাহেদ বেপারি হুংকার ছেড়ে বলেন,
    #চলব

    নোটঃ #কাঁচা_বয়সের_ভালোবাসা ।
    নিছক একটা গল্প নয়।
    এই গল্পের প্রথম থেকে তৃতীয় পর্বের প্রতিটি কথা, শব্দ ও ঘটনা বাস্তব।
    এবং আমার খুব কাছে থেকে দেখা।
    আরেকটি কথা এই গল্পটা ৭০ ভাগ সত্য ঘটনা অবলম্বনে ৩০ ভাগ থাকবে আমার কল্পনা।
    গল্পটা আট দশটা প্রেমের গল্প নয়।
    অল্প বয়সে প্রেম নামক মোহে পড়ে জীবন স্বর্গীয় সুখে কাটানো স্বপ্ন বিভোর থাকা এক তরুণীর গল্প।
    সুন্দর স্বপ্নগুলো স্বপ্ন রয়ে যায়।
    ভবিষ্যৎ হয় কষ্টে জর্জ্জরিত।
    তখন বুঝতে পারে নিজের ভুলগুলো।
    এই গল্পে সে সময়ের একটা মধ্যবিত্ত পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের গল্প তুলে ধরতে চেষ্টা করবো।
    তবে ৩০ ভাগ থাকবে আমার কল্পনা সৃষ্টি ঘটনা।
    তবে মূল বিষয়টি থাকবে বাস্তবের ঘটনা গুলো।
    আমি চাই আমার পাঠকেরা গল্পটা উপলব্ধি করুক।
    প্রতিটি পর্বে তাদের মূল্যাবান মতামত জানতে চায়।
    গল্পটা ২০০০ সাল থেকে এই পর্যন্ত ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনা থাকবে ।
    আপনাদের সবার মতামত আশা করছি ।

    https://www.facebook.com/groups/557944118413780/permalink/918378972370291/

    10
    4 Comments

Saifun nesa Shima

Housewife

Skip to toolbar