-
ইসলামী গল্প-২৩
বিশ্ববিখ্যাত সম্রাট হারুন-অর-রশিদ।আরবভূমিতে তাঁর নাম ছড়িয়ে আছে একজন সুশাসক ও প্রজা বৎসল সম্রাট হিসেবে। তিনি গরিবের উপকার করতেন। দুঃখী ও বিপদগ্রস্থ মানুষদের সহায়তা করতেন। সবচেয়ে বড় কথা তিনি ছিলেন ভালো মানুষের পক্ষে আর মন্দ মানুষের বিপক্ষে।
একদিন সম্রাট হারুন-অর-রশিদ বসে আছেন সভাকক্ষে। মন্ত্রীদের সঙ্গে গভীর এক বিষয় নিয়ে শলাপরামর্শ করছেন।কী করে প্রজাদের উপকার করা যায়-এই ছিল তাঁর সারাক্ষণ কর্ম ও ধ্যান।এমন সময় একটি লোক প্রচন্ড উত্তেজিত হয়ে প্রাসাদে প্রবেশ করল।
প্রহরীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সোজা প্রবেশ করল সভাকক্ষে।সম্রাটের সামনে দাঁড়িয়ে উত্তেজনায় থরথর করে কাঁপতে লাগলো লোকটি। সম্রাট বললেন- কী হয়েছে তোমার?— বাদশাহ নামদার, একজন আপনাকে ও আপনার মাকে নিয়ে যা-তা গালাগালি করছে রাস্তায়। এ আমি সহ্য করতে পারলাম না। তাই ছুটে এলাম। এই লোকের এখনই বিচার হওয়া উচৎ।
সম্রাট মন দিয়ে সবটুকু শুনলেন।মন্ত্রীদের দিকে তাকিয়ে বললেন-লোকটিকে কী করা উচিৎ বলে আপনারা মনে করেন?মন্ত্রীরা সকলেই ভয়ানক উত্তেজিত হয়ে উঠল। এতবড় দুঃসাহস লোকটির! ওকে ধরে এনে এক্ষুনি ফাঁসিতে চড়াও। একজন সম্রাটকে বললেন- লোকটিকে ধরে এনে সমুচিত সাজা দেয়া উচিৎ। ওকে শূলে চড়ানো প্রয়োজন।আরেকজন বললেন– ওকে হত্যা করে ওর মাংস কুকুর-বেড়ালকে দিয়ে খাওয়ানো দরকার।–ওর জিভ কেটে, চুল ছেঁটে ওকে শহর থেকে বের করে দেয়া উচৎ। কেউবা আবার লোকটিকে মাটিতে পুঁতে পাথরছুঁড়ে ছুঁড়ে হত্যা করার পরামর্শ দিল।
সম্রাট হারুন-অর-রশিদ সকলের বক্তব্যই শুনলেন। তারপর নীরবে একটু হাসলেন।মৃদু হাসি দিয়ে সকলের উদ্দেশ্যে বললেন– না হে, লোকটিকে ক্ষমা করে দেওয়া উচিৎ আমাদের।
নইলে প্রমাণ হয়না আমরা ঐ লোকটির চেয়ে বড়। লোকটি আমাকে গালাগালি দিয়েছে। ও নীচুমনের পরিচয় দিয়েছে। আমি যদি ওকেগালি দিতে চাই তবে ব্যাপারটা কেমন দাঁড়ায়? আমি তো তবে ওরমতো হয়ে যাই।

মোহাম্মদ শাফেয়ী মাহমুদ
ইসলামিক লেখক
لآ اِلَهَ اِلّا اللّهُ مُحَمَّدٌ رَسُوُل اللّهِ
Friends
Jannatun Nur
@jannatun-nur
Tuly Alam
@tuly-alam
Imamul Islam
@imamul-islam
ভাস্কর
@vaskarchou
Prithula Zaman
@prithula
Jahin Hashem Chowdhury
@jahinhc
Rejwana Khan
@rejwana-khan
Sharbanam Gupta
@sharbanam-gupta
তুলট ডেস্ক
@toulot
