-
অদ্ভুত বন্টন
এক গ্রাম্য লোক শহরে একজনের বাড়িতে বেড়াতে এসেছেL শহরে ব্যক্তিটি গ্রাম ব্যক্তিকে আন্তরিকতার সঙ্গে সমাদর করে বাড়িতে স্বাগত জানালেন। গ্রাম্য লোকটি শহর দেখবে এবং শহর ঘুরবে। এবং কয়েকটা দিন শহরে ভদ্রলোকের বাসাতেই থাকবে। এবং সেখানে খাবার-দাবার খাবেন। ভদ্রলোকের পরিবারের সদস্য ছয় জন। স্ত্রী, দুইটি ছেলে এবং দুইটি মেয়ে আর তিনি তারা মোট ছয়জন। গ্রাম্য লোককে মেহমানদারী করানোর জন্য স্ত্রীকে আস্ত বড় একটি মুরগির রোস্ট করতে বললো। মুরগির রোস্ট করা হলো। দুপুরের সবাই খাবার টেবিলে উপস্থিত।তার পরের ঘটনাটা ভদ্র লোকটির কাজ থেকেই শুনি, আমি, আমার স্ত্রী, দুই ছেলে,দুই মেয়ে, এবং গ্রাম্য লোকটি ।এ সময় বাচ্চাদের আনন্দ দেওয়ার জন্য আমি একটু মজা করতে চাইলাম। মুরগিটি গ্রাম্য লোকটির দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললাম, আপনি এটা আমাদের মাঝে বন্টন করে দিন। এতগুলো মানুষের মাঝে একটা আস্ত মুরগি সবার মন রেখে ভাগ করে দেওয়া কম ঝামেলার কাজ নয়।তার অসহায়ত্ব দেখে ছেলে-মেয়েরা নিশ্চয় ভিশন আনন্দ পাবে।এ কথা ভেবে মুরগিটি তার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে ছিলাম। তিনি মুরগিটি কাছে টেনে নিয়ে বললেন, আমি সুন্দর একটা যৌক্তিক বন্টন করে দিতে পারি। কিন্তু তাতে কি আপনারাসন্তুষ্ট হতে পারবেন ? আমি সরল কন্ঠে বললাম, কেন নয়। অবশ্যই আপনার যৌক্তিক বন্টনে আমরা সন্তুষ্ট থাকবো। আপনি বন্টন করে দিন।তিনি একটা ছুরি দিয়ে মুরগির মাথাটা কেটে আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, মুরগির মাথাটা পরিবারে মাথার জন্য। দুইটি ডানা কেটে দুটি ছেলে দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, দুই ডানা দুই ছেলের জন্য একেবারেই যৌক্তিকপূর্ণ।দুইটি পা কেটে দুই মেয়ের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, দুই মেয়ের জন্য দুটি পা মিলেছে ভালো। এরপর মুরগির পেছনের ফুলে থাকা অংশটি কেটে আমার স্ত্রীর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, পিছনে অংশ পিছনের ব্যক্তির জন্য খুব ভালো মিলেছে । অবশেষে সম্পূর্ণ মুরগিটি নিজের জন্য নিয়ে বললেন, সিনার গোশত হলো পরিদর্শক এর জন্য ।আমি এই ভিশন যৌক্তিক বন্টন দেখে হতভম্ব হয়ে গেলাম। আমার উদ্দেশ্য সফল হলো না। আমার মুরগির খামার আছে। মুরগির অভাব নেই। আমি পরের দিনই স্ত্রীকে বললাম, তুমি আজ পাঁচটি মুরগি রোস্ট করবে। দেখি ব্যাটা গ্রাম্য কেমন করে আমাদের মাঝে সমান যৌক্তিক বন্টন করে দেয়।আমার স্ত্রী তাই করলো। পরের দিন পাঁচটি মুরগি তার নিকট দিয়ে বললাম, আমাদের মাঝে সুন্দর একটা বন্টন করে দিন। লোকটি আমার দিকে কৌতূহলের দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, জনাব কি গতকালের বন্টনে আমার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন? আমি মুখে হাসি রেখে বললাম, না না না অসন্তুষ্ট হবো কেন। আপনি একটি অসাধারণ বন্টন দেখিয়েছেন। আমি খুশি, আজকে সেভাবে বন্টন করে দেখিয়ে দিন তো। লোকটি আবারো একটু হেসে দিয়ে বলল, জনাব বন্টন কি জোড়ায় জোড়ায় মিলিয়ে দেবো, নাকি বেজোড়। আমি তার কথাই দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে পরে গেলাম। মুরগি পাঁচটা, আমি ছেলে মেয়ে, এবং স্ত্রী এবং মেহমানের মিলিয়ে সাতজন।এটা ভেবে বলে ফেললাম ,আপনি বেজোড় করেই বন্টন করে দেন। লোকটি আমার আর স্ত্রী দিকে একটি মুরগির বাড়িয়ে দিয়ে বলল, আপনি আপনার স্ত্রীর এবং মুরগি মিলে বেজোড় তিনজন। আরেকটি মুরগি ছেলেদের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল, একটি মুরগির সঙ্গে মিলে তোমরাও হয়ে গেলে বেজোড় তিনজন। মেয়ে দুইটির দিকে আরেকটি মুরগি বাড়িয়ে দিয়ে বলল, একটি মুরগির সঙ্গে মিলে তোমরাও হয়ে গেলে বেজোড় তিনজন। এরপর নিজের দিকে দুটি মুরগি টেনে নিয়ে বলল, আমি এবং দুটি মুরগি মিলে আমরাও হয়ে গেলাম বেজোড় তিনজন। লোকটি আমার দিকে চোখ বাঁকা করে বলল,বন্টন মিলেছে না জানাব?আমি হতভম্বের মতো তার হাতে ধরা দুটি মুরগির দিকে তাকিয়ে ছিলাম। আমার মুখে আর কোন কথা আসতে ছিলো না। আমার অবস্থা দেখে তিনি বিচলিত হয়ে বলে উঠলো,বন্টনে কি কোনো সমস্যা হয়েছে। আপনার মনে হয় আমার এভাবে বেজোড় ভাগ করা পছন্দ হয়নি।আমি মনের দুঃখ মনেই চাপা রেখে মুখে একটা মুচকি হাসি এনে বললাম, না না সমস্যা নেই।বন্টন খুব সুন্দর হয়েছে। এবারও আমার উদ্দেশ্য সফল হলো না। বাকি গল্প আপনাদের উৎসাহ পেলে লিখব। গল্পটা সম্পূর্ণ কাল্পনিক।
3 Comments
Friends
জুবায়ের বি এ এইচ অন্তর
@zubair
Hridoy
@solayman-uddin-hridoy
Israt Lamia
@israt-lamia
sanjida akter jim
@sanjidajim
Farhana Afrose
@farhana-afrose
ফারজানা আক্তার জেমী
@jemi2021
পরিমল রায়
@parimal-roy
Shahria
@shahriar
Lovely Live
@lovely-live



চমৎকার