Profile Photo

Omi RezaOffline

  • Omi-Reza
  • Profile picture of Omi Reza

    Omi Reza

    5 years, 2 months ago

    ছোট গল্প।
    বিনা কারনে-(পর্ব-৩)
    লেখক-অমি রেজা

    —————————
    অঞ্জলি অডিও প্লেয়ারটা চালু করে দেয়। তার প্রিয় গানটা বাজতে থাকে,
    “বধূয়া আমার চোখে জল এনেছে হায়,বিনা কারনে-
    মনটা তার খারাপ করেছে,কেমন যেন লাগছে। এত সহজ-সরল একটা মানুষের জন্য তার কেমন যেন লাগতে থাকে। অদ্ভূত এক মায়া লাগছে,অমি র জন্য। কি করবে সে বুঝতে পারছে না।কখনও কি,না দেখে কাউকে ভালোবাসা যায়?

    তিনদিন চলে গেছে। অমি,অনেক ট্রাই করেছে। কিন্ত অঞ্জলি ফোন ধরছে না। কি সমস্যা মেয়েটার। সে’ত কথাই বলতে চাচ্ছে, এর বেশী কিছু’ ত নয়।

    অমি, টেক্সট পাঠায়। তোমার এই নিশ্চূপ থাকা,আমাকে অনেক পুড়াচ্ছে অঞ্জলি,যদি আমাকে তোমার এত অপছন্দ হয়,তাহলে একেবারে মেরে ফেলো। এভাবে তিল তিল করে মেরো’না। প্লিজ।

    রিপ্লাই আসে,
    “দিনে দিনে মূল্য বিনে, সে যে আমায় নিলো কিনে, পৃথুল প্রেমের বীজ বুনেছে হায়,বিনা কারনে।”
    অমি লিখে,মানে কি?
    রিপ্লাই আসে,বুদ্ধু কোথাকার। মেয়েরা সব কথা মুখে বলতে পারে না। বুঝে নিতে হয়।

    অমি লিখে,
    “বধূয়া আমার চোখে জল এনেছে হায়,বিনা কারনে।

    বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে। জানালা দিয়ে ঠান্ডা পানির ঝাঁপটা এসে পড়ল অমি র ঘুমন্ত মুখে। লাফ দিয়ে ওঠে বসে সে। দেয়াল ঘড়িটার দিকে চোখ গেল। রাত দুইটা দশ বাজে। সিগারেটে র তেষ্টা পেয়েছে। সে সিগারেট ধরাবে কিনা ভাবছিল। এমন সময় মোবাইলটা বেজে ওঠল। আননোন নম্বর। এত রাতে। সে ফোনটা ধরবে কি ধরবে না বুঝতে পারছিল না।
    হ্যালো বলতেই,ওপাশ থেকে বলল,
    আমি তোমার সাথে দেখা করতে চাই।
    কে আপনি? অমি,প্রথমটায় বুঝতে পারল না।
    আমি অঞ্জলি,আমি তোমার সাথে দেখা করতে চাই।
    এটা কার নম্বর?
    আমারই,আজই নিয়েছি।
    তুমি দেখা করবে?
    হ্যা,অঞ্জলি। আমি দেখা করব। কোথায় দেখা করবে বলো।
    দুপর ১১টায়,কর্নফুলি গার্ডেন সিটি।
    ওকে। আই উইল বি দেয়ার।

    অঞ্জলি.ডাক শুনেই হকচকিয়ে গেল মেয়েটা।
    এদিক সেদিক খুজঁতে থাকে।
    অমি তার সামনে যেয়ে দাড়ায়।
    কৃত্রিম কাঁশি দিয়ে সে জানান দেয়,আমি ‘অমি’।
    আমি যে অঞ্জলি কি ভাবে বুঝলে?
    হৃদয় দিয়ে যাকে অনুভব করা যায়,তাকে চিনতে সময় লাগে না।
    অঞ্জলি.একটু লজ্জা পেল।
    চল কোন চাইনিজ এ যেয়ে বসি। সামনে “মিড নাইট সান” আছে,যাবে।
    চল।
    তারা রিক্সা য় ওঠে বসে।

    মুখোমুখি দুজন বসে আছে।
    অমি,যেন চোখের পলক ফেলতে ভুলে গেছে। অঞ্জলি.তুমি ‘ত অনেক সুন্দরী।
    আমার ‘ত এখন ভয় লাগছে।
    কিসের ভয়?
    আমাকে তুমি পছন্দ করবে কিনা।
    অঞ্জলি,হাসতে থাকে।
    কি খাবে? সে জিজ্ঞাসা করে।
    তুমি যা পছন্দ কর।
    ওকে।
    কি কথা বলছ না যে?
    তুমি বল,আমি শুনি।
    কথা’ত আমিই বলি। আজ না হয়,তুমি বল আমি শুনি। দুজনেই চুপচাপ। কতক্ষন কেটে গেছে কেউ খেয়াল করেনি।
    নীরবতা ভেঙে অঞ্জলি বলে ওঠল,আমাকে যেতে হবে।
    ওকে। যদি আমাকে তোমার পছন্দ হয়ে থাকে, তাহলে পরপর তিনটা মিসকল দিবে,বাসায় পৌছে। অঞ্জলি,হাসতে থাকে।
    অঞ্জলি কে রিক্সা য় তুলে দিয়ে,অমি বাসার
    পথে রওয়ানা হল। কেমন যেন একটা শূন্যতা আকড়ে ধরেছে তাকে। নার্ভাস লাগছে। যদি অঞ্জলি তাকে পছন্দ না করে। বাসার সামনে এসে গেছে, মাথাটা পেছনের দিকে হেলিয়ে,আকাশের দিকে তাকায় সে। বিশাল আকাশটার দিকে তাকিয়ে, বলতে থাকে,এই আকাশ,তুই স্বাক্ষী থাকিস। আমি অঞ্জলি কে ভালোবাসি। এমন সময় পকেটে রাখা মোবাইল এর ভাইব্রেশন শুনতে পেল সে। মোবাইলটা বের করে দেখতে পেল,তিনটা মিসকল। আহ্!একটা পাহাড় যেন অমি র বুক থেকে সরে গেল। সে মনে মনে বলতে থাকে,অঞ্জলি,আই লাভ ইউ।

    হ্যালো,
    বলো,
    কি করছিলে,
    গান শুনছিলাম,
    শুনবে—–
    “বধূয়া আমার চোখে
    জল এনেছে হায়,বিনা কারনে।
    দিনে দিনে, মূল্য বিনে
    সে যে আমায় নিলো কিনে।
    এ মনে যতন করে
    পৃথুল প্রেমের বীজ বুনেছে হায়,
    বিনা কারনে ———-
    গানটা তোমার খুব প্রিয়,তাই না অঞ্জলি?
    হিমমম।
    কে গেয়েছে,শিবাজী?
    না শ্রীকান্ত।
    অঞ্জলি.আমাকে ভুলে যাবে না’ত?
    তুমি ভুলে যাবে?
    জীবনেও না।
    অঞ্জলি বলে জীবনেও হা,হি হি হি।
    চলবে।

Skip to toolbar