Profile Photo

Omi RezaOffline

  • Omi-Reza
  • Profile picture of Omi Reza

    Omi Reza

    5 years, 2 months ago

    ছোট গল্প
    বিনা কারনে-(শেষ পর্ব)
    লেখক-অমি রেজা
    ——————————–
    আচ্ছা অঞ্জলি শব্দের মানে কি?
    পূজায় অর্ঘ দেওয়া।
    চল কালকে দেখা করি,আমি একটু কলাবাগান যাব,বড় আপুর বাসায়,তুমি আমাকে পৌঁছে দিবে।
    রিক্সা য় তোমার পাশে বসে যেতে হবে। ওয়াও। আমি রাজি।
    তাহলে কালকে বিকাল ৩ টা র দিকে শিল্পকলা একাডেমীর সামনে থেকো।
    ওকে।
    অঞ্জলি.অঞ্জলি.
    বল,
    তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে।
    তুমি সুন্দর দেখ তাই।
    রিক্সা র হুড তুলে দিব।
    কেন?
    নাহ..মানে তোমাকে যদি কেউ দেখে ফেলে.
    দেখুক,আই ডোন্ট কেয়ার।
    অমি,একটু চুপসে যায়।
    তুমি এত লজ্জা পাচ্ছ কেন অমি,একদম লাল্টু হয়ে গেছ।
    হি-হি-হি
    অঞ্জলি,তুমি একটু বেশি স্মার্ট।
    কেন,এই অঞ্জলি তোমার পছন্দ না?
    তোমার হাত ধরি।
    ধরো,তোমাকে কি আমি বারন করেছি।

    রিক্সা ওয়ালা মামু,একটু আস্তে চালা বাবা।
    সেগুনবাগিচা থেকে কলাবাগান খুব বেশি দূরে না। অঞ্জলি মেডামের সাথে আরও কিছুক্ষন ‘ত থাকতে চাই।
    অঞ্জলি হাসতে থাকে,হি-হি-হি।
    তুমি ফিরবে কখন?
    আজকে নাও ফিরতে পারি,আপু থাকতে বলেছে।নাহিন এর এক্সাম আছে। নাহিন তোমার কথা জানে,তোমাকে দেখতে চেয়েছে। এটা রাখ।
    কি এটা অঞ্জলি?
    তোমার জন্য ছোট্ট একটা গিফ্ ট।
    বাসায় এসে প্যাকেট টা খুলল অমি। একটা ছোট্ট লাইটার সাথে এক প্যাকেট বেনসন। লাইটার টা খুব সুন্দর। একটা জাপানি মেয়ের মডেল। সুইচ টিপলে বলে ওঠে আই লাভ ইউ। হাসতে থাকে অমি নিজে নিজে। মনে মনে বলে পাগলি অঞ্জলি।

    অমি,একটা কথা বলি,
    বল।
    আমি যদি কোথাও হারিয়ে যাই,তুমি আমাকে ভুলে যাবে।
    অঞ্জলি, এসব কি বলছ।
    তোমাকে আমি হারিয়ে যেতে দিলে’ত।
    অঞ্জলি,চল আমরা বিয়ে করে ফেলি।
    আমি কখনও এভাবে বিয়ে করবোনা।
    তাহলে আমাকে সময় দাও,একটা সুইটেবল জব ‘ত জোগাড় করতে হবে।
    আমি জানিনা অমি,আমার ভাইদের তুমি চিন না। বেকার ছেলের কাছে ওরা কখনও বোন বিয়ে দিবে না।
    তুমি এত ভেঙে পড়ছ কেন। দেখবে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।

    ঘুমটা ভেঙে গেল অমি র। মাথাটা কেমন ভোঁতা হয়ে গেছে। নিজের গায়ে চিমটি কাটল সে। এতক্ষণ স্বপ্ন দেখছিল সে। ওয়াশ রুমে গেল। মুখে পানির ঝাপটা মারল। বারান্দায় যেয়ে একটা সিগারেট ধরালো। গ্রিল এর ফাঁক গলে চাঁদের আলোয় ভরে গেছে পুরো বারান্দা। সে তাকিয়ে রইল চাঁদের আলোর দিকে।

    হ্যালো…..
    বলো,
    কি করছিলে অমি।
    তোমার কথাই ভাবছিলাম অঞ্জলি। বিয়ে র পরে আমাকে এমন সুন্দর করে ডাকবে ‘ত?
    শোন অমি,তোমার বৌ অনেক সুন্দরী একটা মেয়ে হবে। আমার মত বান্দরি কেন তোমার বৌ হতে যাবে। সত্যি বলছি।
    তাইলে আমার সাথে গ্যাযাও কেন?
    টাইম পাস করি,হি-হি-হি
    গান বাজছে-
    “বধূয়া আমার চোখে জল এনেছে হায়,
    বিনা কারনে..
    আচ্ছা অঞ্জলি,এই গানটা ছাড়া তুমি অন্য আর কোন গান পছন্দ করো না।
    কেন এই গানটা তোমার পছন্দ না?
    গানটা শুনলে আমার কেমন যেন একটা অন্যরকম অনুভূতি হয়।
    কি অনুভূতি?
    মনে হয় এই অঞ্জলি আমার না,অন্য কারও।
    কথাটা ঠিক,আমি তোমার না। কিন্ত অন্য কারও হতে পারবো কিনা তা জানিনা।
    কেন এমন করে কথা বল। আমাকে কষ্ট দিতে তোমার খুব ভালো লাগে। আমার ভালোবাসা তোমার বুঝি সহ্য হয় না।
    আমার মত সামান্য অঞ্জলি র কাছে,কি দেখেছ তুমি? এত ভালোবাসতে যেওনা,কষ্ট পেতে হবে।
    কেন কষ্ট পাব,সেটা’ত বলবে।
    আমি ফোন রাখছি,অঞ্জলি লাইনটা কেটে দেয়।
    অঞ্জলির দুচোখ বেয়ে অমি নামের অশ্রু ধারা বইছে,
    আমাকে তুমি ক্ষমা করে দিও অমি।
    নিজের প্রতি কেমন যেন একটা পাগলাটে ভাব টের পাচ্ছে অমি। কি হচ্ছে এসব তার সাথে? কেন এমন হচ্ছে। কেন?কেন? তাহলে, সে কি তার কনফিডেন্স হারিয়ে ফেলছে? সে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়,অঞ্জলি কে সে আর ফোন করবে না।

    দশ দিন পরের ঘটনা। এর মাঝে তাদের আর যোগাযোগ হয়নি। অমি সিংগাপুর ফিরে যাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে।

    সকাল বেলা একটা আননোন নম্বর থেকে বেশ কয়েকবার ফোন এসেছে। অমি ধরেনি। সে আর কোন ঝামেলায় জড়াতে চায় না। ফোনটা আবার বাজছে। বিরক্ত ভাব নিয়ে সে ফোনটা ধরলো।
    হ্যালো বলতেই,
    একটা বাচ্চা মেয়ে সালাম দিয়ে বলল। আন্কেল আমি নাহিন বলছি।
    অমি তাকে চিনতে পারল।
    বলল,হ্যা আমি চিনতে পেরেছি। বলো মা।
    কথাটা যে কিভাবে বলি,
    বলে ফেল,সমস্যা নেই।
    পরশু দিন রাতে খালামনি র (অঞ্জলি) বিয়ে হয়ে গেছে। খালামনি অনেক কান্না করেছিলো,ওরা সবাই জোড় করে খালামনিকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে। আপনার নম্বরটা দিয়ে আমাকে বলেছিল আপনাকে জানাতে। আর খালামনিকে মাফ করে দিতে।
    ওকে মা। তোমাকে অনেক ধন্যবাদ।
    লাইনটা কেটে দেয় অমি।

    বারান্দার গ্রীলটা ধরে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে অমি। অসম্ভব নীল আর সাদা মেঘের পালক গুলি তার মনের পুঞ্জিভূত স্বপ্ন গুলো নিয়ে ভেসে যাচ্ছে দূর থেকে বহু দুরে,তার মনের ঠিকানা হারিয়ে। তার দুচোখ কেমন ঝাপসা হতে থাকে। তার দুই কানে বাজতে থাকে সেই গান-
    “আমি তো খুঁজি কারন
    মন আমায় করে বারন,
    বলে কেন এমন মরন
    বিনা কারনে।
    বধূয়া আমার চোখে
    জল এনেছে হায়,
    বিনা কারনে”।
    সমাপ্ত।
    (২০০৬ সালে ঘটে যাওয়া একটা সত্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে।)

Skip to toolbar