<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Abu Sayed Khan | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/abu-sayed-khan/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/abu-sayed-khan/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Abu Sayed Khan.</description>
	<lastBuildDate>Mon, 22 Jun 2026 19:17:54 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">3eb05f9c53c9343c97a7146f019361f6</guid>
				<title>কুরআনী প্রার্থনাসমূহ


“রব্বানা (হে আমাদের রব্ব)” এবং “রব্বি (হে আমার রব্ব)” বলে কুরআনে অর্ধ শতাধিক প্রার্থনার উদ্ধৃতি আছে। রব্বের কাছে কী চাইতে হবে এবং কীভাবে চাইতে হবে তা এই দোয়াগুলোতে যেভাবে বলা দরকার সেভাবেই বলা আছে। কেননা করুণাময় আল্লাহ আমাদের স্রষ্টা- তিনিই সবচেয়ে সম্যক অবগত তাঁর মহান দরবারে আমাদের কী চাওয়া কর্তব্য।

رَبَّنَا آَتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآَخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

হে রব্ব! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। -২:২০১

رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ

হে আমাদের রব্ব, আমাদের মনে ধৈর্য সৃষ্টি করে দিন এবং আমাদেরকে দৃঢ়পদ রাখুন- আর আমাদের সাহায্য করুন কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে। -২:২৫০

رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنْتَ مَوْلَانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ

হে আমাদের রব্ব, যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব্ব! এবং আমাদের উপর এমন দায়িত্ব অর্পণ করবেন না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর অর্পণ করেছেন, হে আমাদের প্রভূ! এবং আমাদের দ্বারা ঐ বোঝা বহন করাবেন না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নাই। আমাদের পাপ মোচন করুন। আমাদেরকে ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আপনিই আমাদের প্রভু। সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন। -২:২৮৬

رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ

হে আমাদের রব্ব! সরল পথ প্রদর্শনের পর আপনি আমাদের অন্তরকে সত্যলংঘনে প্রবৃত্ত করবেন না এবং আপনার নিকট থেকে আমাদেরকে অনুগ্রহ দান করুন। আপনিই সব কিছুর দাতা। -৩:৮

رَبَّنَا إِنَّنَا آَمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

হে আমাদের রব্ব, আমরা ঈমান এনেছি, কাজেই আমাদের গুনাহ ক্ষমা করে দিন আর আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। -৩:১৬

رَبَّنَا آَمَنَّا بِمَا أَنْزَلْتَ وَاتَّبَعْنَا الرَّسُولَ فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ

হে আমাদের রব্ব! আমরা সে বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি যা আপনি নাযিল করেছেন, আমরা রাসূলের অনুগত হয়েছি। অতএব, আমাদেরকে মান্যকারীদের তালিকাভুক্ত করে নিন। -৩:৫৩

رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِي أَمْرِنَا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ

হে আমাদের রব্ব! মোচন করে দিন আমাদের পাপ এবং যা কিছু বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে আমাদের কাজে। আর আমাদেরকে দৃঢ় রাখুন এবং কাফিরদের উপর আমাদেরকে সাহায্য করুন। -৩:১৪৭

رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

(তারা বলে) রব্ব! এসব আপনি অনর্থক সৃষ্টি করেন নি। সকল পবিত্রতা আপনারই, আমাদেরকে আপনি আগুনের শাস্তি থেকে বাঁচান। -৩:১৯১

رَبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِي لِلْإِيمَانِ أَنْ آَمِنُوا بِرَبِّكُمْ فَآَمَنَّا رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ

হে আমাদের রব্ব! আমরা নিশ্চিতরূপে শুনেছি একজন আহবানকারীকে ঈমানের প্রতি আহবান করতে যে, তোমাদের রব্বের প্রতি ঈমান আন; তাই আমরা ঈমান এনেছি। হে আমাদের রব্ব! অতঃপর আমাদের সকল গুনাহ মাফ করুন এবং আমাদের সকল দোষত্রুটি দুর করে দিন, আর আমাদের মৃত্যু দিন নেক লোকদের সাথে। -৩:১৯৩

رَبَّنَا وَآَتِنَا مَا وَعَدْتَنَا عَلَى رُسُلِكَ وَلَا تُخْزِنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ

হে আমাদের রব্ব! আমাদেরকে দান করুন যা আপনি ওয়াদা করেছেন আপনার রাসূলগণের মাধ্যমে এবং কিয়ামতের দিন আমাদেরকে আপনি অপমানিত করবেন না। নিশ্চয় আপনি ওয়াদা খেলাফ করেন না। -৩:১৯৪

رَبَّنَا آَمَنَّا فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ

হে আমাদের রব্ব, আমরা মুসলিম হয়ে গেলাম। অতএব, আমাদেরকেও মান্যকারীদের তালিকাভুক্ত করে নিন। -৫:৮৩

رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ

হে আমাদের রব্ব আমরা নিজেদের প্রতি জুলম করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যাব। -৭:২৩

رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ

হে আমাদের রব্ব আমাদের জন্য ধৈর্যের দ্বার খুলে দিন এবং আমাদেরকে মুসলিম হিসাবে মৃত্যু দান করুন। -৭:১২৬

رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِلْقَوْمِ الظَّالِمِينَ

হে আমাদের রব্ব, আমাদের উপর এ জালিম কওমের শক্তি পরীক্ষা করবেন না। -১০:৮৫

رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ

হে আমাদের রব্ব, আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং সব মুমিনকে ক্ষমা করুন, যেদিন হিসাব কায়েম হবে। -১৪:৪১

رَبَّنَا آَتِنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً وَهَيِّئْ لَنَا مِنْ أَمْرِنَا رَشَدًا

হে আমাদের রব্ব, আমাদেরকে নিজের সন্নিধান থেকে রহমত দান করুন এবং আমাদের জন্যে আমাদের কাজ সঠিকভাবে পূর্ণ করুন। -১৮:১০

رَبَّنَا آَمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ

হে আমাদের রব্ব! আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। অতএব আপনি আমাদেরকে ক্ষমা করুন ও আমাদের প্রতি রহম করুন। আপনি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু। -২৩:১০৯

رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

হে আমাদের রব্ব, আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানের পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে চোখের শীতলতা দান করুন এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্যে আদর্শ ইমামস্বরূপ করুন। -২৫:৭৪

رَبَّنَا اكْشِفْ عَنَّا الْعَذَابَ إِنَّا مُؤْمِنُونَ

হে আমাদের রব্ব! আমাদের উপর থেকে শাস্তি প্রত্যাহার করুন, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করছি। -৪৪:১২

رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آَمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ

হে আমাদের রব্ব, আমাদেরকে এবং ঈমানে আগ্রহী আমাদের ভ্রাতাগণকে ক্ষমা করুন এবং ঈমানদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব্ব, আপনি দয়ালু, পরম করুণাময়। -৫৯:১০

رَبَّنَا عَلَيْكَ تَوَكَّلْنَا وَإِلَيْكَ أَنَبْنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ

হে আমাদের রব্ব! আমরা আপনারই উপর ভরসা করেছি, আপনারই দিকে মুখ করেছি এবং আপনারই নিকট আমাদের প্রত্যাবর্তন। -৬০:৪

رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِلَّذِينَ كَفَرُوا وَاغْفِرْ لَنَا رَبَّنَا إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ

হে আমাদের রব্ব! আপনি আমাদেরকে কাফিরদের জন্য পরীক্ষার পাত্র করবেন না। হে আমাদের রব্ব! আমাদের ক্ষমা করুন; নিশ্চয় আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। -৬০:৫

رَبَّنَا أَتْمِمْ لَنَا نُورَنَا وَاغْفِرْ لَنَا إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

হে আমাদের রব্ব, আমাদের নূরকে পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয় আপনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান। -৬৬:৮

رَبِّ أَدْخِلْنِي مُدْخَلَ صِدْقٍ وَأَخْرِجْنِي مُخْرَجَ صِدْقٍ وَاجْعَلْ لِي مِنْ لَدُنْكَ سُلْطَانًا نَصِيرًا

হে রব্ব! আমাকে দাখিল করুন সত্যরূপে এবং আমাকে বের করুন সত্যরূপে এবং দান করুন আমাকে নিজের কাছ থেকে রাষ্ট্রীয় সাহায্য। -১৭:৮০

رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا

হে আমার রব্ব, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন। -২০:১১৪

اشْرَحْ لِي صَدْرِي * وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي * وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِي * يَفْقَهُوا قَوْلِي

(মূসা বললেন) হে আমার রব্ব আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন এবং আমার কাজ সহজ করে দিন এবং আমার জিহবা থেকে জড়তা দূর করে দিন- যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে। -২০:২৫-২৮

*****</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/31690/</link>
				<pubDate>Sun, 05 Sep 2021 06:14:00 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কুরআনী প্রার্থনাসমূহ</p>
<p>“রব্বানা (হে আমাদের রব্ব)” এবং “রব্বি (হে আমার রব্ব)” বলে কুরআনে অর্ধ শতাধিক প্রার্থনার উদ্ধৃতি আছে। রব্বের কাছে কী চাইতে হবে এবং কীভাবে চাইতে হবে তা এই দোয়াগুলোতে যেভাবে বলা দরকার সেভাবেই বলা আছে। কেননা করুণাময় আল্লাহ আমাদের স্রষ্টা- তিনিই সবচেয়ে সম্যক অবগত তাঁর মহান দরবারে আমাদের কী চাওয়া কর্তব্য।</p>
<p>رَبَّنَا آَتِنَ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-31690"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/31690/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b75c7e22e8747ecc298d73d4bd1a25d2</guid>
				<title>অবিশ্বাসের আর্তনাদ – বিশ্বাসের প্রশান্তি ও শেষ হাসি


মহিমান্বিত কুরআন আমাদেরকে ধৈর্য বা ছবরের শিক্ষা দেয়। আমরা যা জানতাম না তা জানিয়ে আমাদের সৃষ্টির সূচনা, পৃথিবীতে এক নির্দিষ্ট মেয়াদে জীবন-যাপন করে তারপর আবার স্রষ্টা সমীপে বিচার-ফয়সালার মাধ্যমে স্থায়ী অর্জনের সুদীর্ঘ পথ-পরিক্রমার সংবাদ প্রদান করে। আমরা যদি কুরআন বিমুখ হই তবে কেবলমাত্র মুখে আল্লাহ-আখিরাত স্বীকার করে নেয়ার পরও লাভ-ক্ষতির জন্য শুধু এই পার্থিব জীবনটাকেই দেখতে পাব, বাস্তব জীবনের নানা অভিজ্ঞতার সাথে এর বাইরের অদৃশ্য এক জগতের অংক মেলাতে ব্যর্থ হবো। এক মানবজীবনের দেনা-পাওনা, আশা আকাঙ্খার প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি কেবলমাত্র পৃথিবীর এই ক্ষণিক জীবনের আপাত কার্যকারণ বা মেয়াদের উপরেই নির্ধারিত হয় না। 

নাস্তিক্য, নৈরাশ্য ও নিরর্থবাদ

১৯৪৮ সালে লিখিত নোবেল বিজয়ী লেখক স্যামুয়েল বেকেটের (১৯০৬-১৯৮৯) ‘ওয়েটিং ফর গডো (Waiting for Godot)’ একটি আবসার্ড নাটক যেখানে স্রষ্টার অস্তিত্ব বা ওয়াদাকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে। নাটকের গডো প্রকৃতপক্ষে God বা স্রষ্টারই এক কল্পমূর্তি। নাটকের দু’টি চরিত্র ভ্লাদিমির ও এস্ট্রাগন ‘গডোর’ দেখা পাওয়ার প্রতীক্ষায় কষ্টের প্রহর গুনতে থাকে, যদিও শেষপর্যন্ত তার সাক্ষাত তাদের ভাগ্যে জোটে না।

গডোর জন্য অপেক্ষা নাটকের প্রধান বিষয় আর তার শেষ অবধি না আসা প্রতীক্ষার অনলকে আরো বেশি যন্ত্রণাময় করে। বিভ্রম ও বিভ্রান্তিতে তলিয়ে যায় অপেক্ষাকারীরা। এটা যেন আমাদের সবার প্রতিদিনকার প্রতীক্ষার কথা বলে যে আগামীকাল কিছু না কিছু ঘটবে। সেই আগামীকাল আর শেষ হয় না, অনন্তকাল ধরে আমাদের এই আগামীকালের জন্য প্রহর গোনা চলতে থাকে। আগামীকালের নামে আমরা এক অনিশেষ বর্তমানের মাঝে আটকে থেকে কারো জন্য, কিছুর জন্য অপেক্ষমাণ কিন্তু সেই অপেক্ষা অনন্তকালের মতো আমাদের না পাবার বেদনায় বিদ্ধ করে। - সাদিক ইসলাম

নাটকের সর্বত্র মানুষের আশা-আকাঙ্খার বিপরীতে যে হতাশা, নৈরাশ্য আর অস্থিরতা জীবনের প্রতিচ্ছবিরূপে প্রকাশমান তাই শেষপর্যন্ত মানবজীবনের শূন্যতা বা নিরর্থবাদ (Nihilism) হিসেবে আবির্ভূত হয়। এজাতীয় নাস্তিক ও নৈরাশ্যবাদীরা জীবনের হিসাব মেলাতে না পারলে কখনও কখনও আত্মঘাতী হয়ে ওঠে।

অনুরূপ অবিশ্বাসের ধারক-বাহক স্টিফেন হকিংরা যা কিছু অবিশ্বাসী উচ্চারণ করেন, তার উত্তর কুরআনে আগেভাগেই জানিয়ে দেয়া হয়েছে। স্টিফেন হকিং বলেন, “স্বর্গ ও পরকাল বলতে কিছু নেই। মানুষের ব্রেন অনেকটা কম্পিউটারের মতো। কম্পিউটারের যেমন বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেলে তা কাজ করা বন্ধ করে দেয়, মানুষের ব্রেনও তেমনি। এর বিভিন্ন অংশ কাজ করা বন্ধ করে দেওয়াটাই মৃত্যু। এ ছাড়া এর বাইরে আর পরকাল বলে কিছু নেই”। হকিং আরও বলেন – “মহাবিশ্ব সৃষ্টির পেছনে ঈশ্বরের কোন ভূমিকা নেই। মহাবিশ্ব পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম নীতি অনুসরণ করে স্বতস্ফুর্তভাবে তৈরি হয়েছে। মহাবিশ্বের উৎপত্তি এবং অস্তিত্বের ব্যাখ্যায় ঈশ্বরের আমদানি একেবারেই অযথা”। কুরআন এই জাতীয় সম্প্রদায়কে মূর্খ বা জাহিলদের অন্তর্ভূক্ত বলে সম্বোধন করেছে।

فَأَعْرِضْ عَنْ مَنْ تَوَلَّى عَنْ ذِكْرِنَا وَلَمْ يُرِدْ إِلَّا الْحَيَاةَ الدُّنْيَا * ذَلِكَ مَبْلَغُهُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اهْتَدَى

অতএব যে আমাদের উপদেশ থেকে ফিরে যায় এবং কেবল পার্থিব জীবনই কামনা করে তার তরফ থেকে তুমি মুখ ফিরিয়ে নাও। তাদের জ্ঞানের পরিধি এ পর্যন্তই। নিশ্চয় তোমার রব্ব ভালো জানেন, কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনিই ভালো জানেন কে সুপথপ্রাপ্ত হয়েছে। -৫৩:৩০

وَقَالُوا مَا هِيَ إِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا نَمُوتُ وَنَحْيَا وَمَا يُهْلِكُنَا إِلَّا الدَّهْرُ وَمَا لَهُمْ بِذَلِكَ مِنْ عِلْمٍ إِنْ هُمْ إِلَّا يَظُنُّونَ

তারা বলে, আমাদের পার্থিব জীবনই তো শেষ; আমরা মরি ও বাঁচি, আর মহাকালই আমাদেরকে ধ্বংস করে। তাদের কাছে এ ব্যাপারে কোন জ্ঞান নেই। তারা কেবল অনুমান করে কথা বলে। -৪৫:২৪

أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمُ الْخَالِقُونَ

তারা কি আপনা-আপনিই সৃজিত হয়ে গেছে, না তারা নিজেরাই স্রষ্টা? -৫২:৩৫

هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ

তিনিই আল্লাহ তা’য়ালা, স্রষ্টা, উদ্ভাবক, রূপদাতা, উত্তম নামসমূহ তাঁরই। নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়। -৫৯:২৪

فَاطِرُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ جَعَلَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا وَمِنَ الْأَنْعَامِ أَزْوَاجًا يَذْرَؤُكُمْ فِيهِ لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ

তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের স্রষ্টা। তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্যে যুগল সৃষ্টি করেছেন এবং চতুস্পদ জন্তুদের মধ্য থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন। এভাবে তিনি তোমাদের বংশ বিস্তার করেন। কোন কিছুই তাঁর অনুরূপ নয়। -৪২:১১-১২

اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلٌ * لَهُ مَقَالِيدُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا بِآَيَاتِ اللَّهِ أُولَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ * قُلْ أَفَغَيْرَ اللَّهِ تَأْمُرُونِّي أَعْبُدُ أَيُّهَا الْجَاهِلُونَ

আল্লাহ সব কিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সব কিছুর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আসমান ও জমিনের চাবি তাঁরই নিকট। যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। বলো, হে মুর্খরা, তোমরা কি আমাকে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদত করতে আদেশ করছো? -৩৯:৬২-৬৪

ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ فَأَنَّى تُؤْفَكُونَ

তিনি আল্লাহ, তোমাদের রব্ব, সব কিছুর স্রষ্টা। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছ? -৪০:৬২


উত্তমাদর্শ নবীগণের বিশ্বাসের ব্যাপ্তি 

কুরআনে কঠিন বিপদাপদের মুখেও মহান নবীগণের নির্বিকার চিত্তে তা সয়ে যাওয়া এবং একমাত্র আল্লাহর উপরই শেষ পর্যন্ত আস্থা রাখার শিক্ষা ও সুফল আমাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে দৃষ্টান্ত স্বরূপ; আর যেন আমরা তাঁদেরকে আমাদের জীবনাচরণে স্মরণে রাখতে পারি তার তাগিদ প্রদান করা হয়েছে।

وَأَيُّوبَ إِذْ نَادَى رَبَّهُ أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ * فَاسْتَجَبْنَا لَهُ فَكَشَفْنَا مَا بِهِ مِنْ ضُرٍّ وَآَتَيْنَاهُ أَهْلَهُ وَمِثْلَهُمْ مَعَهُمْ رَحْمَةً مِنْ عِنْدِنَا وَذِكْرَى لِلْعَابِدِينَ

এবং স্মরণ করো আইউবের কথা, যখন তিনি তাঁর রব্বকে আহবান করে বলেছিলেনঃ আমি দুঃখকষ্টে পতিত হয়েছি এবং আপনি দয়াবানদের চাইতেও সর্বশ্রেষ্ট দয়াবান। অতঃপর আমরা তাঁর আহবানে সাড়া দিলাম এবং তাঁর দুঃখকষ্ট দূর করে দিলাম এবং তাঁর পরিবরাবর্গ ফিরিয়ে দিলাম, আর তাদের সাথে তাদের সমপরিমাণ আরও দিলাম আমার পক্ষ থেকে কৃপাবশতঃ - আর এটা ইবাদত কারীদের জন্যে উপদেশ স্বরূপ। -২১:৮৩-৮৪

وَنُوحًا إِذْ نَادَى مِنْ قَبْلُ فَاسْتَجَبْنَا لَهُ فَنَجَّيْنَاهُ وَأَهْلَهُ مِنَ الْكَرْبِ الْعَظِيمِ * وَنَصَرْنَاهُ مِنَ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآَيَاتِنَا إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمَ سَوْءٍ فَأَغْرَقْنَاهُمْ أَجْمَعِينَ

এবং স্মরণ করো নূহকে; যখন তিনি এর পূর্বে আহবান করেছিলেন। তখন আমরা তাঁর দোয়া কবুল করেছিলাম, অতঃপর তাঁকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে মহা সংকট থেকে উদ্ধার করেছিলাম। এবং আমরা তাঁকে ঐ সম্প্রদায়ের বিপক্ষে সাহায্য করেছিলাম, যারা আমার নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করেছিল। নিশ্চয়, তারা ছিল এক মন্দ সম্প্রদায়। অতঃপর আমরা তাদের সবাইকে নিমজ্জত করেছিলাম। -২১:৭৬-৭৭

وَإِسْمَاعِيلَ وَإِدْرِيسَ وَذَا الْكِفْلِ كُلٌّ مِنَ الصَّابِرِينَ * وَأَدْخَلْنَاهُمْ فِي رَحْمَتِنَا إِنَّهُمْ مِنَ الصَّالِحِينَ * وَذَا النُّونِ إِذْ ذَهَبَ مُغَاضِبًا فَظَنَّ أَنْ لَنْ نَقْدِرَ عَلَيْهِ فَنَادَى فِي الظُّلُمَاتِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ * فَاسْتَجَبْنَا لَهُ وَنَجَّيْنَاهُ مِنَ الْغَمِّ وَكَذَلِكَ نُنْجِي الْمُؤْمِنِينَ

এবং ইসমাইল, ইদরীস ও যুলকিফলের কথা স্মরণ করো, তাঁরা প্রত্যেকেই ছিলেন সবরকারী। আমি তাঁদেরকে আমার রহমত প্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত করেছিলাম। তাঁরা ছিলেন সৎকর্মপরায়ণ। এবং মাছওয়ালার কথা স্মরণ করো, তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে চলে গিয়েছিলেন, অতঃপর মনে করেছিলেন যে, আমি তাঁকে গ্রেফতার করতে পারব না। অতঃপর তিনি অন্ধকারের মধ্যে আহবান করলেনঃ তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তুমি নির্দোষ আমি গুনাহগার। অতঃপর আমরা তাঁর আহবানে সাড়া দিলাম এবং তাঁকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিলাম। আমরা এমনিভাবে বিশ্ববাসীদেরকে মুক্তি দিয়ে থাকি। -২১:৮৫-৮৮

وَاذْكُرْ عِبَادَنَا إبْرَاهِيمَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ أُولِي الْأَيْدِي وَالْأَبْصَارِ * إِنَّا أَخْلَصْنَاهُمْ بِخَالِصَةٍ ذِكْرَى الدَّارِ * وَإِنَّهُمْ عِنْدَنَا لَمِنَ الْمُصْطَفَيْنَ الْأَخْيَارِ * وَاذْكُرْ إِسْمَاعِيلَ وَالْيَسَعَ وَذَا الْكِفْلِ وَكُلٌّ مِنَ الْأَخْيَارِ * هَذَا ذِكْرٌ وَإِنَّ لِلْمُتَّقِينَ لَحُسْنَ مَآَبٍ

আর স্মরণ করো আমাদের দাস ইবরাহীম ও ইসহাক ও ইয়াকুবকে, তাঁরা ছিলেন ক্ষমতা ও অন্তদৃষ্টির অধিকারী। নিঃসন্দেহে আমরা তাঁদের বানিয়েছিলাম এক অকৃত্রিম গুণে নিষ্ঠাবান - পরকালের বাসস্থানের স্মরণ। আর তাঁরা নিশ্চয়ই আমাদের কাছে ছিলেন মনোনীত ও সর্বোত্তমদের অন্তর্ভুক্ত। আর স্মরণ কর ইসমাইল ও ইয়াসাআ ও যুলকিফলকে, কারণ তাঁরা সবাই ছিলেন সর্বোত্তমদের অন্যতম। এ এক স্মারকগ্রন্থ, আর নিশ্চয়ই ধর্মভীরুদের জন্য তো রয়েছে উত্তম গন্তব্যস্থল। -৩৮:৪৫-৪৯

وَاذْكُرْ إِسْمَاعِيلَ وَالْيَسَعَ وَذَا الْكِفْلِ وَكُلٌّ مِنَ الْأَخْيَارِ

আর স্মরণ কর ইসমাইল ও ইয়াসাআ ও যুলকিফলকে, কারণ তাঁরা সবাই ছিলেন সর্বোত্তমদের অন্তর্ভূক্ত। -৩৮:৪৮

قَالَ رَبِّ أَنَّى يَكُونُ لِي غُلَامٌ وَقَدْ بَلَغَنِيَ الْكِبَرُ وَامْرَأَتِي عَاقِرٌ قَالَ كَذَلِكَ اللَّهُ يَفْعَلُ مَا يَشَاءُ

তিনি (যাকারিয়া) বললেন হে রব্ব! কেমন করে আমার পুত্র সন্তান হবে, আমার যে বার্ধক্য এসে গেছে, আমার স্ত্রীও যে বন্ধ্যা। বললেন, আল্লাহ এমনিভাবেই যা ইচ্ছা করে থাকেন। -৩:৪০

إِذْ نَادَى رَبَّهُ نِدَاءً خَفِيًّا * قَالَ رَبِّ إِنِّي وَهَنَ الْعَظْمُ مِنِّي وَاشْتَعَلَ الرَّأْسُ شَيْبًا وَلَمْ أَكُنْ بِدُعَائِكَ رَبِّ شَقِيًّا * وَإِنِّي خِفْتُ الْمَوَالِيَ مِنْ وَرَائِي وَكَانَتِ امْرَأَتِي عَاقِرًا فَهَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ وَلِيًّا * يَرِثُنِي وَيَرِثُ مِنْ آَلِ يَعْقُوبَ وَاجْعَلْهُ رَبِّ رَضِيًّا * يَا زَكَرِيَّا إِنَّا نُبَشِّرُكَ بِغُلَامٍ اسْمُهُ يَحْيَى لَمْ نَجْعَلْ لَهُ مِنْ قَبْلُ سَمِيًّا * قَالَ رَبِّ أَنَّى يَكُونُ لِي غُلَامٌ وَكَانَتِ امْرَأَتِي عَاقِرًا وَقَدْ بَلَغْتُ مِنَ الْكِبَرِ عِتِيًّا * قَالَ كَذَلِكَ قَالَ رَبُّكَ هُوَ عَلَيَّ هَيِّنٌ وَقَدْ خَلَقْتُكَ مِنْ قَبْلُ وَلَمْ تَكُ شَيْئًا

যখন সে (যাকারিয়া) তাঁর রব্বকে আহবান করেছিল নিভৃতে। সে বললঃ হে আমার রব্ব, আমার অস্থি বয়স-ভারাবনত হয়েছে; বার্ধক্যে মস্তক সুশুভ্র হয়েছে; হে আমার রব্ব! আপনাকে ডেকে আমি কখনও বিফল মনোরথ হইনি। আমি ভয় করি আমার পর আমার স্বগোত্রকে এবং আমার স্ত্রী বন্ধ্যা; কাজেই আপনি নিজের পক্ষ থেকে আমাকে একজন কর্তব্য পালনকারী দান করুন। সে আমার স্থলাভিষিক্ত হবে ইয়াকুব বংশের এবং হে আমার রব্ব, তাকে করুন সন্তোষজনক। হে যাকারিয়া, আমি তোমাকে এক পুত্রের সুসংবাদ দিচ্ছি, তার নাম হবে ইয়াহইয়া। ইতিপূর্বে এই নামে আমি কারও নামকরণ করিনি। সে বললঃ হে আমার রব্ব, কেমন করে আমার পুত্র হবে অথচ আমার স্ত্রী যে বন্ধ্যা, আর আমিও যে বার্ধক্যের শেষ প্রান্তে উপনীত। তিনি বললেনঃ এমনিতেই হবে। তোমার রব্ব বলে দিয়েছেনঃ এটা আমার পক্ষে সহজ। আমি তো পুর্বে তোমাকে সৃষ্টি করেছি এবং তুমি কিছুই ছিলে না। -১৯:৩-৯

وَزَكَرِيَّا إِذْ نَادَى رَبَّهُ رَبِّ لَا تَذَرْنِي فَرْدًا وَأَنْتَ خَيْرُ الْوَارِثِينَ * فَاسْتَجَبْنَا لَهُ وَوَهَبْنَا لَهُ يَحْيَى وَأَصْلَحْنَا لَهُ زَوْجَهُ إِنَّهُمْ كَانُوا يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَيَدْعُونَنَا رَغَبًا وَرَهَبًا وَكَانُوا لَنَا خَاشِعِينَ

এবং যাকারিয়ার কথা স্মরণ করো, যখন সে তার রব্বকে আহবান করেছিল; হে আমার রব্ব আমাকে একা রেখো না। তুমি তো উত্তম ওয়ারিশ। অতঃপর আমরা তার দোয়া কবুল করেছিলাম, তাকে দান করেছিলাম ইয়াহইয়া এবং তার জন্যে তার স্ত্রীকে প্রসব যোগ্য করেছিলাম। তারা সৎকর্মে ঝাঁপিয়ে পড়ত, তারা আশা ও ভীতি সহকারে আমাকে ডাকত এবং তারা ছিল আমার কাছে বিনীত। -২১:৮৯-৯০

একই কথা নবী ইবরাহীমের জন্য আরও বেশী প্রযোজ্য যাকে বহু পরীক্ষা ও প্রতীক্ষার পর শেষজীবনে সন্তান দান করে আবার তাঁকে যবাহ করার অভূতপূর্ব পরীক্ষায় ফেলেছিলেন – তারপরও সেইসব মহান মানবসন্তানগণ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও আস্থায় অটল থেকেছেন; আর তাঁরা টলে যান নি। 

আমাদের পার্থিব নিয়মের হিসেবে না মিললেও আল্লাহর হিসেবে যদি তা বিদ্যমান থাকে, তবে যে কোন প্রাপ্তি যে কোন সময় পাওয়া সম্ভব। তাই সন্তান লাভের বিষয়ে যখন মারইয়াম, ইবরাহীম পত্নী ও যাকারিয়া পত্নী বিস্ময় প্রকাশ করেন তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশ্বাসের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার জবাব আসে। বাহ্যত অযোগ্যতাকেও আল্লাহ যোগ্যতায় রূপান্তরিত করতে সক্ষম।

فَأَوْجَسَ مِنْهُمْ خِيفَةً قَالُوا لَا تَخَفْ وَبَشَّرُوهُ بِغُلَامٍ عَلِيمٍ * فَأَقْبَلَتِ امْرَأَتُهُ فِي صَرَّةٍ فَصَكَّتْ وَجْهَهَا وَقَالَتْ عَجُوزٌ عَقِيمٌ * قَالُوا كَذَلِكَ قَالَ رَبُّكِ إِنَّهُ هُوَ الْحَكِيمُ الْعَلِيمُ

তারা (মালাইকাগণ) তাঁকে (ইবরাহীমকে) একট জ্ঞানীগুণী পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিল। অতঃপর তাঁর স্ত্রী চীৎকার করতে করতে সামনে এল এবং মুখ চাপড়িয়ে বললঃ আমি তো বৃদ্ধা, বন্ধ্যা। তারা বললঃ তোমার রব্ব এরূপই বলেছেন। নিশ্চয় তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ। -৫১:২৮-৩০

قَالَ إِنَّمَا أَنَا رَسُولُ رَبِّكِ لِأَهَبَ لَكِ غُلَامًا زَكِيًّا * قَالَتْ أَنَّى يَكُونُ لِي غُلَامٌ وَلَمْ يَمْسَسْنِي بَشَرٌ وَلَمْ أَكُ بَغِيًّا * قَالَ كَذَلِكِ قَالَ رَبُّكِ هُوَ عَلَيَّ هَيِّنٌ وَلِنَجْعَلَهُ آَيَةً لِلنَّاسِ وَرَحْمَةً مِنَّا وَكَانَ أَمْرًا مَقْضِيًّا

সে (মালাইকা) বললঃ আমি তো শুধু তোমার রব্বের প্রেরিত, যাতে তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করে যাব। মারইয়াম বললঃ কিরূপে আমার পুত্র হবে, যখন কোন মানব আমাকে স্পর্শ করেনি এবং আমি কখনও ব্যভিচারিণী ছিলাম না? সে বললঃ এমনিতেই হবে। তোমার রব্ব বলেছেন, এটা আমার জন্যে সহজসাধ্য এবং আমরা তাকে মানুষের জন্যে একটি নিদর্শন ও আমাদের পক্ষ থেকে অনুগ্রহ স্বরূপ করতে চাই। এটা তো এক স্থিরীকৃত ব্যাপার। -১৯:১৯-২১


আল্লাহ সকল অতীত প্রাপ্তিকে একসাথে হাজির করতে সক্ষমঃ ‘আছাল্লাহু আইয়্যাতিয়ানি বিহিম জামিয়া

নবী ইয়াকুব প্রিয় শিশু সন্তান ইউসুফকে হারিয়ে বছরের পর বছর সবর করেছেন, এমন সবর যেখানে আল্লাহর প্রতি কোন অভিযোগ ছিল না। পরিবার পরিজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর কাছ থেকে অনেক তিক্ত ও কটু কথা শুনেছেন। যন্ত্রণার দহনে পুড়ে খাক হয়েছেন, চক্ষু নিষ্প্রভ হয়েছে।

অবিশ্বাসে আর্তনাদ বা হাহাকার করে ওঠা জ্ঞানীর পরিচয় নয়; বিশ্বাসের স্থিতি এবং প্রশান্তি জ্ঞানবানদের লক্ষণ। নবী ইবরাহীমের বংশধর নবী ইয়াকুব তেমনই এক সম্মানিত ও অনুগৃহীত বান্দা ছিলেন। তিনি গভীর বিশ্বাস পোষণ করতেন আল্লাহর প্রতি আর হতাশ হয়ে যাওয়াকে তিনি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করতেন। তাই যখন ইউসুফের বিষয়ে তাঁর ভাইয়েরা তাঁকে এক মিথ্যা গল্প উপস্থাপন করল, তখন তিনি কোন প্রকার উন্মাদনা বা অসংলগ্ন আচরণ করেন নি। কেননা তিনি সত্যিকারের জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন।

وَإِنَّهُ لَذُو عِلْمٍ لِمَا عَلَّمْنَاهُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ

আর নিঃসন্দেহে তিনি (ইয়াকুব) অবশ্যই ছিলেন জ্ঞানের অধিকারী যেহেতু আমরা তাঁকে জ্ঞানদান করেছিলাম, কিন্তু অধিকাংশ লোকেই জানে না। -১২:৬৮

وَجَاءُوا عَلَى قَمِيصِهِ بِدَمٍ كَذِبٍ قَالَ بَلْ سَوَّلَتْ لَكُمْ أَنْفُسُكُمْ أَمْرًا فَصَبْرٌ جَمِيلٌ وَاللَّهُ الْمُسْتَعَانُ عَلَى مَا تَصِفُونَ

এবং তারা তার জামায় কৃত্রিম রক্ত লাগিয়ে আনল। (ইয়াকুব) বললেনঃ এটা কখনই নয়; বরং তোমাদের মন তোমাদেরকে একটা কথা সাজিয়ে দিয়েছে। সুতরাং এখন সবর করাই শ্রেয়। তোমরা যা বর্ণনা করছো, সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহই আমার সাহায্যস্থল। -১২:১৮

যখন অনেক বছর বাদে ইউসুফের আর এক সহোদর ভাইকেও তারা ওয়াদা মাফিক পিতার কাছে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হলো, তখনও নবী ইয়াকুব একই প্রতিউত্তর দিয়েছিলেন। বিষয়গুলোর বর্ণনা হয়ত সহজ, বাস্তবে সেই ধৈর্যধারণ করে দেখানো এক কথায় দুঃসাধ্য – যা নবী ইয়াকুব প্রদর্শন করে আমাদের জন্য উত্তম আদর্শ বা উসওয়াতুন হাসানাহ গণ্য হয়েছেন।

قَالَ بَلْ سَوَّلَتْ لَكُمْ أَنْفُسُكُمْ أَمْرًا فَصَبْرٌ جَمِيلٌ عَسَى اللَّهُ أَنْ يَأْتِيَنِي بِهِمْ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ

তিনি বললেনঃ কিছুই না, তোমরা মনগড়া একটি কথা নিয়েই এসেছ। এখন ধৈর্যধারণই উত্তম। সম্ভবতঃ আল্লাহ তাদের সবাইকে একসঙ্গে আমার কাছে নিয়ে আসবেন; তিনি সুবিজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। -১২:৮৩

وَتَوَلَّى عَنْهُمْ وَقَالَ يَا أَسَفَى عَلَى يُوسُفَ وَابْيَضَّتْ عَيْنَاهُ مِنَ الْحُزْنِ فَهُوَ كَظِيمٌ * قَالُوا تَاللَّهِ تَفْتَأُ تَذْكُرُ يُوسُفَ حَتَّى تَكُونَ حَرَضًا أَوْ تَكُونَ مِنَ الْهَالِكِينَ * قَالَ إِنَّمَا أَشْكُو بَثِّي وَحُزْنِي إِلَى اللَّهِ وَأَعْلَمُ مِنَ اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ * يَا بَنِيَّ اذْهَبُوا فَتَحَسَّسُوا مِنْ يُوسُفَ وَأَخِيهِ وَلَا تَيْئَسُوا مِنْ رَوْحِ اللَّهِ إِنَّهُ لَا يَيْئَسُ مِنْ رَوْحِ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْكَافِرُونَ

আর তিনি তাদের থেকে ফিরলেন ও বললেন - হায় আমার আফসোস ইউসুফের জন্য! আর তাঁর চোখ সাদা হয়ে গিয়েছিল শোকাবেগ বশতঃ, যদিও তিনি সংবরণকারী ছিলেন। তারা বলল, দোহাই আল্লাহর! তুমি ইউসুফকে স্মরণ করা ছাড়বে না যে পর্যন্ত না তুমি রোগাক্রান্ত হও, অথবা প্রাণত্যাগী হয়ে যাও। তিনি বললেন - আমার অসহনীয় দুঃখ ও আমার বেদনা নিবেদন করছি আল্লাহরই কাছে, আর আমি আল্লাহর তরফ থেকে যা জানি তা তোমরা জান না। হে আমার ছেলেরা! তোমরা যাও এবং ইউসুফ ও তার ভাইয়ের খোঁজ কর, আর আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিঃসন্দেহে অবিশ্বাসী মানুষ ছাড়া অন্য কেউ আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না। -১২:৮৪-৮৭

وَلَمَّا فَصَلَتِ الْعِيرُ قَالَ أَبُوهُمْ إِنِّي لَأَجِدُ رِيحَ يُوسُفَ لَوْلَا أَنْ تُفَنِّدُونِ * قَالُوا تَاللَّهِ إِنَّكَ لَفِي ضَلَالِكَ الْقَدِيمِ * فَلَمَّا أَنْ جَاءَ الْبَشِيرُ أَلْقَاهُ عَلَى وَجْهِهِ فَارْتَدَّ بَصِيرًا قَالَ أَلَمْ أَقُلْ لَكُمْ إِنِّي أَعْلَمُ مِنَ اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ

আর যখন যাত্রীদল বেরিয়ে পড়ল তখন তাদের পিতা (ইয়াকুব) লোকজনকে বললেন, নিঃসন্দেহে আমি ইউসুফের ঘ্রাণ টের পাচ্ছি, যদিও তোমরা আমাকে মতিচ্ছন্ন মনে কর। তারা বলল - আল্লাহর কসম! আপনি নিঃসন্দেহে আপনার পুরনো ভ্রান্তিতেই রয়েছেন। অতঃপর যখন সুসংবাদদাতা পৌঁছল, সে জামাটি তাঁর মুখে রাখল। অমনি তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেলেন। বললেনঃ আমি কি তোমাদেরকে বলি নি যে, আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে যা জানি তোমরা তা জান না? -১২:৯৪-৯৬

নবী ইউসুফও অশ্লীলতা থেকে বাঁচতে কারাগারকে নিজের জন্য অধিকতর পছন্দ করেছিলেন। একই পিতার ঔরশজাত ভাইদের দ্বারা ভয়ানক চক্রান্তের পরও সেই ভাইদের তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। সেই ইউসুফকে আল্লাহ সর্বোত্তম পন্থায় ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সম্মান, মর্দাদা আর তাঁর পুরো পরিবার। আর তাঁর ঘটনাকে করেছেন বিশ্ববাসীর জন্য সর্বোত্তম কাহিনি বা আহসানাল কাছাছ।

قَالَ رَبِّ السِّجْنُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِمَّا يَدْعُونَنِي إِلَيْهِ وَإِلَّا تَصْرِفْ عَنِّي كَيْدَهُنَّ أَصْبُ إِلَيْهِنَّ وَأَكُنْ مِنَ الْجَاهِلِينَ

ইউসুফ বললঃ হে রব্ব তারা আমাকে যে কাজের দিকে আহবান করে, তার চাইতে আমি কারাগারই পছন্দ করি। যদি আপনি তাদের চক্রান্ত আমার উপর থেকে প্রতিহত না করেন, তবে আমি তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ব এবং অজ্ঞদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাব। -১২:৩৩

قَالَ لَا تَثْرِيبَ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ يَغْفِرُ اللَّهُ لَكُمْ وَهُوَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ

তিনি বললেন, তোমাদের বিরুদ্ধে আজ কোনো অভিযোগ নেই। আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন, আর তিনিই তো সব মেহেরবানদের চেয়ে অধিক মেহেরবান। । -১২:৯২

নবী ইয়াকুব পরম ধৈর্যধারণের মাধ্যেম পরিবার ও সন্তানদের কাছে তাঁর দৃঢ়বিশ্বাস ঘোষণা করেছিলেন, “হতে পারে আল্লাহ ওদের সবাইকে আমার কাছে এনে দেবেন”, আরও বলেছিলেন, “আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে যা জানি তোমরা তা জান না”। নবী আইউবের মতো নবী ইয়াকুবকে তাঁর কাঙ্খিত প্রার্থনার চেয়েও অধিকরূপে আল্লাহ তাঁর মহান প্রতিদান ফিরিয়ে দিয়েছিলেন আর পরকালে তাঁরা সকলে অতি সম্মানিত বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত।

শৈশব, কৈশোর, যৌবন বা জীবনের এক বিশাল অংশ দুঃখ-কষ্টে আর রোগ-শোকে পার করে এই মহামানবদের কেউ কোন এক অবিশ্বাসী সত্তার মতো একথা বলে হাহাকার বা আর্ত চিৎকার করে ওঠে না যে, “আমার জীবনের হারিয়ে যাওয়া ত্রিশটি বছর ফিরিয়ে দাও”। বরং তাঁরা তাঁদের উপর কৃত আল্লাহর ওয়াদাকে সর্বদা মনে-প্রাণে একান্ত সত্য বলেই লালন করেছেন। একই শিক্ষা আল্লাহ তাঁর শেষনবী এবং আমাদেরকেও দান করেছেন।

فَاصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ وَلَا تُطِعْ مِنْهُمْ آَثِمًا أَوْ كَفُورًا

অতএব তুমি তোমার রব্বের আদেশের জন্যে (স্রষ্টার ব্যবস্থাপনা) ধৈর্য সহকারে অপেক্ষা করো এবং ওদের মধ্যকার কোন পাপিষ্ঠ কাফেরের আনুগত্য করবে না। -৭৬:২৪

فَاصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ وَلَا تَكُنْ كَصَاحِبِ الْحُوتِ

অতএব তুমি তোমার রব্বের আদেশের অপেক্ষায় সবর করো এবং মাছওয়ালা ইউনুসের মত হয়ো না। -৬৮:৪৮

وَاصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ فَإِنَّكَ بِأَعْيُنِنَا وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ حِينَ تَقُومُ

তুমি তোমার রব্বের নির্দেশের অপেক্ষায় ধৈর্য ধারণ করো। বস্তুত তুমি আমাদের দৃষ্টির সামনেই রয়েছ। কাজেই তুমি তোমার রব্বের সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করো যখন তুমি গাত্রোত্থান করো বা উঠে দাঁড়াও । -৫২:৪৮

لَقَدْ كَانَ فِي قَصَصِهِمْ عِبْرَةٌ لِأُولِي الْأَلْبَابِ

তাদের কাহিনির মধ্যে অবশ্যই শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে বোধশক্তিসম্পন্নদের জন্যে। -১২:১১১

অবিশ্বাসীর আর্তনাদ আর জাহান্নামের আর্তনাদ যেন একাকার, একই সমান্তরালে

وَكَمْ قَصَمْنَا مِنْ قَرْيَةٍ كَانَتْ ظَالِمَةً وَأَنْشَأْنَا بَعْدَهَا قَوْمًا آَخَرِينَ * فَلَمَّا أَحَسُّوا بَأْسَنَا إِذَا هُمْ مِنْهَا يَرْكُضُونَ * لَا تَرْكُضُوا وَارْجِعُوا إِلَى مَا أُتْرِفْتُمْ فِيهِ وَمَسَاكِنِكُمْ لَعَلَّكُمْ تُسْأَلُونَ * قَالُوا يَاوَيْلَنَا إِنَّا كُنَّا ظَالِمِينَ * فَمَا زَالَتْ تِلْكَ دَعْوَاهُمْ حَتَّى جَعَلْنَاهُمْ حَصِيدًا خَامِدِينَ

আমরা কত জনপদের ধ্বংস সাধন করেছি যার অধিবাসীরা ছিল পাপী এবং তাদের পর সৃষ্টি করেছি অন্য জাতি। অতঃপর যখন তারা আমাদের আযাবের কথা টের পেল, তখনই তারা সেখান থেকে পলায়ন করতে লাগল। পলায়ন করো না এবং ফিরে এস, যেখানে তোমরা বিলাসিতায় মত্ত ছিলে ও তোমাদের আবাসগৃহে; সম্ভবত; কেউ তোমাদের জিজ্ঞেস করবে। তারা বললঃ হায়, দুর্ভোগ আমাদের, আমরা অবশ্যই পাপী ছিলাম। তাদের এই আর্তনাদ সব সময় ছিল, শেষ পর্যন্ত আমি তাদেরকে করে দিলাম যেন কর্তিত শস্য ও নির্বাপিত অগ্নি। -২১:১১-১৫

فَأَمَّا الَّذِينَ شَقُوا فَفِي النَّارِ لَهُمْ فِيهَا زَفِيرٌ وَشَهِيقٌ * خَالِدِينَ فِيهَا مَا دَامَتِ السَّمَوَاتُ وَالْأَرْضُ

অতএব যারা হতভাগ্য তারা দোযখে যাবে, সেখানে তারা আর্তনাদ ও চিৎকার করতে থাকবে। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে, যতদিন আসমান ও জমিন বর্তমান থাকবে। -১১:১০৬-১০৭

لَهُمْ فِيهَا زَفِيرٌ وَهُمْ فِيهَا لَا يَسْمَعُونَ

তাদের জন্য তাতে রয়েছে আর্তনাদ, আর সেখানে তারা শুনতে পারবে না। -২১:১০০

إِذَا رَأَتْهُمْ مِنْ مَكَانٍ بَعِيدٍ سَمِعُوا لَهَا تَغَيُّظًا وَزَفِيرًا

যখন এটি দূর জায়গা থেকে তাদের দেখতে পাবে তখন থেকেই তারা এর ক্রুদ্ধ গর্জন ও হুংকার শুনতে পাবে। -২৫:১২

إِذَا أُلْقُوا فِيهَا سَمِعُوا لَهَا شَهِيقًا وَهِيَ تَفُورُ

যখন তাদের সেখানে নিক্ষেপ করা হবে তখন তারা তার থেকে বিকট গর্জন শুনতে পাবে, আর তা লেলিহান শিখা ছড়াবে। -৬৭:৭

وَهُمْ يَصْطَرِخُونَ فِيهَا رَبَّنَا أَخْرِجْنَا نَعْمَلْ صَالِحًا غَيْرَ الَّذِي كُنَّا نَعْمَلُ أَوَلَمْ نُعَمِّرْكُمْ مَا يَتَذَكَّرُ فِيهِ مَنْ تَذَكَّرَ وَجَاءَكُمُ النَّذِيرُ فَذُوقُوا فَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ نَصِيرٍ

সেখানে তারা আর্ত চিৎকার করে বলবে, হে আমাদের রব্ব, বের করুন আমাদেরকে, আমরা সৎকাজ করব, পূর্বে যা করতাম, তা করব না। (আল্লাহ বলবেন) আমি কি তোমাদেরকে এতটা বয়স দেইনি, যাতে যা চিন্তা করার বিষয় চিন্তা করতে পারতে? উপরন্তু তোমাদের কাছে সতর্ককারীও আগমন করেছিল। অতএব আস্বাদন কর, জালিমদের জন্যে কোন সাহায্যকারী নেই। -৩৫:৩৭

*****</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/31687/</link>
				<pubDate>Sun, 05 Sep 2021 06:12:04 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অবিশ্বাসের আর্তনাদ – বিশ্বাসের প্রশান্তি ও শেষ হাসি</p>
<p>মহিমান্বিত কুরআন আমাদেরকে ধৈর্য বা ছবরের শিক্ষা দেয়। আমরা যা জানতাম না তা জানিয়ে আমাদের সৃষ্টির সূচনা, পৃথিবীতে এক নির্দিষ্ট মেয়াদে জীবন-যাপন করে তারপর আবার স্রষ্টা সমীপে বিচার-ফয়সালার মাধ্যমে স্থায়ী অর্জনের সুদীর্ঘ পথ-পরিক্রমার সংবাদ প্রদান করে। আমরা যদি কুরআন বিমুখ হই তবে কেবলমাত্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-31687"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/31687/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">add05006a5fa71bcd19b9cb18f292ec3</guid>
				<title>“সর্বশ্রেষ্ঠত্ব” বা “ইমামুল আম্বিয়া” মতবাদ সম্পূর্ণ বর্জনীয়


ইসলামের শেষনবীর নামে মিথ্যাচারই ইসলাম ধর্মে একমাত্র মিথ্যা নয়; হাজারো মিথ্যা আর বিভ্রান্তি একেবারে শুরু থেকেই দীনের মধ্যে অনুপ্রবেশ করাতে শয়তানের নেতৃত্বে কুচক্রী মহল সচেষ্ট ছিল। নবীর জীবদ্দশাতেই মুনাফিক সম্প্রদায় বহুভাবে নবীকে দিয়ে চেষ্টা করেছে কুরআনের আয়াতকে বদলিয়ে দিতে বা সম্ভব হলে কুরআনকেই পাল্টিয়ে ফেলতে।

“কুরআন বাদ দিয়ে ভিন্ন কিছু নিয়ে আস”

وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آَيَاتُنَا بَيِّنَاتٍ قَالَ الَّذِينَ لَا يَرْجُونَ لِقَاءَنَا ائْتِ بِقُرْآَنٍ غَيْرِ هَذَا أَوْ بَدِّلْهُ قُلْ مَا يَكُونُ لِي أَنْ أُبَدِّلَهُ مِنْ تِلْقَاءِ نَفْسِي إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَى إِلَيَّ إِنِّي أَخَافُ إِنْ عَصَيْتُ رَبِّي عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ

আর যখন তাদের কাছে পাঠ করা হয় আমাদের সুস্পষ্ট বাণীসমূহ, যারা আমাদের সাথে মোলাকাতের আশা করে না তারা বলে - এ ছাড়া অন্য এক কুরআন আনো অথবা একে পরিবর্তিত করে দাও। বলো, একে আমার নিজের ইচ্ছায় বদলানো আমার কাজ নয়। আমার কাছে যা প্রত্যাদিষ্ট হয় শুধু তারই আমি অনুসরণ করি। যদি আমি আমার প্রভুর অবাধ্য হই – তবে আমি এক ভয়ঙ্কর দিনের শাস্তির ভয় করি। -১০:১৫

এ ধরণের আরও বর্ণনা রয়েছে যেখান থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, বহুভাবে নবীকে উত্তক্ত করা হয়েছে স্বার্থান্বেষী মহলের মর্জি মাফিক একটা গ্রন্থ রচনার। কখনও কখনও তাদের চাপে রাসূল টলে যাবার উপক্রম হয়েছেন বলেও কুরআন দাবী করে -

وَإِنْ كَادُوا لَيَفْتِنُونَكَ عَنِ الَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ لِتَفْتَرِيَ عَلَيْنَا غَيْرَهُ وَإِذًا لَاتَّخَذُوكَ خَلِيلًا * وَلَوْلَا أَنْ ثَبَّتْنَاكَ لَقَدْ كِدْتَ تَرْكَنُ إِلَيْهِمْ شَيْئًا قَلِيلًا * إِذًا لَأَذَقْنَاكَ ضِعْفَ الْحَيَاةِ وَضِعْفَ الْمَمَاتِ ثُمَّ لَا تَجِدُ لَكَ عَلَيْنَا نَصِيرًا

আর অবশ্যই তারা মতলব করেছিল তোমার কাছে আমরা যা প্রত্যাদেশ দিয়েছি তা থেকে তোমাকে বিচ্যুত করতে, যেন তুমি আমাদের বিরুদ্ধে তার পরিবর্তে অন্য কিছু জাল কর, আর তখন তারা তোমাকে নিশ্চয়ই গ্রহণ করবে অন্তরঙ্গ বান্ধবরূপে। আর আমরা যদি তোমাকে সুপ্রতিষ্ঠিত না করতাম তাহলে তুমি আলবৎ তাদের প্রতি সামান্য কিছু ঝুঁকেই পড়তে - সেক্ষেত্রে আমরা নিশ্চয় তোমাকে দ্বিগুণ শাস্তি আস্বাদন করাতাম ইহজীবনে এবং দ্বিগুণ মৃত্যুকালে, তখন আমাদের বিরুদ্ধে তোমার জন্য কোনো সাহায্যকারী পাবে না। -১৭:৭৩-৭৫

যদি শেষনবী নিজের থেকে কুরআনে কিছু প্রবিষ্ট করাতেন, সেক্ষেত্রে তাঁকে মেরে ফেলার শাস্তির হুঁশিয়ারিও উচ্চারিত হয়েছে সূরা হাক্কায় (৬৯:৪৪-৪৭) যা ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে। কুরআনের নিখাদ সত্য ও সৌন্দর্যকে ঢেকে দিতে সেই দূরভিসন্ধিমূলক চক্রান্ত আর প্রচেষ্টা এখনও জারি আছে। কতশত মিথ্যার সমাবেশ করা হয়েছে তার কোন লেখাজোখা নেই – তবে সেই সকল মিথ্যার গোড়া বা ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে, নবীর নামে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত ‘ইমামুল আম্বিয়া’ তত্ত্ব। যেভাবে খ্রিস্টান সম্প্রদায় নবী ঈসাকে আল্লাহর পুত্র ঘোষণা করে অপরাধ করেছে; নবী মুহাম্মদকে আল্লাহর সমকক্ষ বানিয়ে সম্প্রদায়গতভাবে মুসলিমরা তার চেয়ে জঘণ্য অপরাধ করেছে। কেননা এই যাবতীয় বাড়াবাড়ি দ্বারা শেষ পর্যন্ত শেষনবীকে তারা স্রষ্টার “বিকল্প খোদা” হিসেবে দাঁড় করিয়ে শয়তানের চক্রান্তের আসল এজেন্ডাই বাস্তবায়ন করেছে।

সেই বিচারে শিরক ও মিথ্যার এই মহাপ্রাচীরকে সম্মিলিতভাবে ভেঙ্গে ফেলতে পারলে অন্যান্য আবর্জনা চিহ্নিতকরণ ও দূরীকরণ সহজ কাজে পরিণত হবে। ধর্মের সেই হীন গোষ্ঠী যারা মিথ্যার বেসাতি ফেরি করে বেড়ায়, তারা তাদের স্বার্থে যেমন নবীকে আসমানে উঠায় আবার সেই তারাই তাঁর নামে কুৎসিত, নোংরা, অশ্লীল আর কালিমা লেপন করতেও ছাড়ে নি যেন তারা নিজেরাও সেই একই অপকর্ম করার ধর্মীয় ম্যান্ডেট উপভোগ করতে পারে। আল্লাহ তাঁর শেষনবী সম্পর্কে যা এবং যতটুকু বলেছেন, সেটাই যথাযথ, সুন্দর – মনের মাধুরি মিশিয়ে তাকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে আমাদের মতো করে বলা যাবে না। “ইমামুল আম্বিয়ার” মিথ্যা তত্ত্বটি মুসলিম সম্প্রদায়কে পঙ্গু করে দিয়েছে; তাদের স্বাধীন চিন্তা-চেতনার পথকে রুদ্ধ করে দিয়েছে। তাদেরকে নবী মুহাম্মদের নামে ধর্মীয় অপনেতৃত্বের দাসে পরিণত করেছে - যেভাবে পূর্ববর্তী যুগেও হয়েছিল।

اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَهًا وَاحِدًا لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ

তারা তাদের পন্ডিত ও সংসার-বিরাগীদিগকে তাদের প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে আল্লাহ ব্যতীত এবং মারইয়াম-পুত্র মাসীহকেও। অথচ তারা আদিষ্ট ছিল একমাত্র মাবুদের এবাদতের জন্য। তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই, তারা তাঁর শরীক সাব্যস্ত করে, তা থেকে তিনি পবিত্র। -৯:৩১

যে দোষে পূর্ববর্তী সম্প্রদায় দায়ী, শেষনবীর উম্মতেরাও সেই একই অপরাধের দাগী আসামী।

لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ قُلْ فَمَنْ يَمْلِكُ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا إِنْ أَرَادَ أَنْ يُهْلِكَ الْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَأُمَّهُ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا يخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

তারা নিশ্চয়ই অবিশ্বাস পোষণ করে যারা বলে - নিঃসন্দেহে আল্লাহ, তিনিই মাসীহ, মারইয়ামের পুত্র। তুমি বলো- কার তাহলে বিন্দুমাত্র ক্ষমতা আছে আল্লাহর বিরুদ্ধে যখন তিনি চেয়েছিলেন মারইয়াম-পুত্র মাসীহকে বিনাশ করতে, আর তাঁর মাতাকে, আর পৃথিবীতে যারা ছিল তাদের সবাইকে? বস্তুতঃ আল্লাহরই মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবীর রাজত্ব আর এই দুইয়ের মধ্যে যা আছে। তিনি সৃষ্টি করেন যা তিনি ইচ্ছে করেন। আর আল্লাহ সব কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান। -৫:১৭

لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ وَقَالَ الْمَسِيحُ يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اعْبُدُوا اللَّهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ

নিশ্চয়ই তারা অবিশ্বাস পোষণ করে থাকে যারা বলে - নিঃসন্দেহে আল্লাহ, তিনিই মাসীহ, মারইয়ামের পুত্র। অথচ মাসীহ বলেছেন - হে ইসরাইলের বংশধরগণ! আল্লাহর ইবাদত করো যিনি আমার প্রভু ও তোমাদেরও প্রভু। নিঃসন্দেহে যে আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার নিরূপণ করে, আল্লাহ নিশ্চয়ই তার জন্য নিষিদ্ধ করেছেন স্বর্গোদ্যান, আর তার আবাসস্থল হচ্ছে আগুন। আর অন্যায়কারীদের জন্য থাকবে না কোনো সাহায্যকারী। -৫:৭২

এই কলুষিত বিশ্বাসটি জগদ্দল পাথেরের মতো তাদের বুকের উপর চেপে বসে আছে। এই মিথ্যা বিশ্বাসটিকে তাদের অন্তঃকরণে জবরদস্তিমূলক ভাবে চাপিয়ে দেবার কারণে তারা কুরআনে বিদ্যমান এর বিপরীত সত্য নিয়ে যখন কঠিন সংকটে পড়ে যায় আর মোল্লাতন্ত্রের ধারকদের কাছে ফয়সালার জন্য দৌড়ায় তখন তারা কুরআনের বিকৃত অর্থ শুনিয়ে দেয়; এরপরও প্রশ্ন করলে বলে, আপনারা এতো কিছু বুঝবেন না। শেষনবীকে “সর্বশ্রেষ্ঠ” বলার মাধ্যমে কমপক্ষে ৫ টি বড় মাপের জুলুম আমরা করছি-

এক. আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ – কেননা আল্লাহ কোথাও শেষনবীকে সর্বশ্রেষ্ঠ বা সকল নবীগণের ইমাম বা নেতা বলেন নি।
দুই. শেষনবীর নামে অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি যা তিনি নন এবং যার সূত্র ধরে দীনে বহু বিভ্রান্তির আমদানি হয়েছে।
তিন. নবী ইবরাহীমসহ অন্যান্য নবীগণকে শেষনবীর মোকাবেলায় ‘ছোট’ করে দেখানোর ঔদ্ধত্য ও দুঃসাহস প্রদর্শন।
চার. কোটি কোটি মুসলিম জনতাকে বিভ্রান্ত করার মাধ্যমে তাদের ঈমান-আমল নষ্ট করা হচ্ছে।
পাঁচ. শেষনবীর প্রতি অজ্ঞতাপ্রসূত অতিদরদ প্রদর্শনের নামে তাঁকে আল্লাহর সমকক্ষ দাঁড় করিয়ে আমরা শিরক করছি।

শিরক না করা স্রষ্টার সাথে সাক্ষাত লাভের অন্যতম শর্ত

قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَمَنْ كَانَ يَرْجُوا لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا

(হে নবী) বলো - আমি নিঃসন্দেহে তোমাদেরই মতন একজন মানুষ, আমার কাছে প্রত্যাদিষ্ট হয়েছে যে নিঃসন্দেহে তোমাদের উপাস্য একক উপাস্য, সেজন্য যে কেউ তার প্রভুর সঙ্গে মোলাকাতের কামনা করে সে তবে সৎকর্ম করুক এবং তার প্রভুর উপাসনায় অন্য কাউকেও শরিক না করুক। -১৮:১১০

আল্লাহর শেষনবী নিজেই তাঁকে অযাচিতভাবে বড় বানানোর প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করে গেছেন; আমরাও সেই একই কর্তব্যে শামিল হই। সর্বশেষ নবীর নামে চালানো যুগ যুগ ব্যাপী এই মিথ্যার মূলোৎপাটনে ভূমিকা রাখার জন্য সবাইকে উদাত্ত আহবান জানাই। আমরা যারা নিজেদেরকে ‘মুসলিম’ বলে পরিচয় দেই, ইসলামের মধ্যে অনুপ্রবেশকৃত পাহাড় সমান যাবতীয় বিভ্রান্তি ও শিরকের বেড়াজাল ভাঙ্গার আগে তাদের কর্তব্য শেষনবীর নামে “সর্বশ্রেষ্ঠত্ব বা ইমামুল আম্বিয়ার” যে মিথ্যার মহাপ্রাচীর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে তা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া। এই সাহসিকতাপূর্ণ ঈমানী কাজটি আমরা যত দ্রুত সম্পন্ন করতে পারব, আমরা সারা বিশ্বে তত দ্রুত লাঞ্ছনা-গঞ্জনা, নিপীড়ন-নিষ্পেষণ থেকে মুক্ত হবো, ইনশা-আল্লাহ।

আমাদেরকে সত্যিকার ‘মুসলিম’ হতে হলে শেষনবীর নামে চালানো এই মিথ্যার মহাপ্রাচীর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিতেই হবে। একইসাথে ইসলামের মূল শিক্ষার বিরুদ্ধে উত্থাপিত যে কোন আপত্তি বা অভিযোগকেই যে কোন মুসলিমের স্বাগত জানানো কর্তব্য – কেননা তার উত্তর কুরআনে অতি সুন্দরভাবে ও সর্বোত্তম পন্থায় (আহসানা তাফসীরা) বলে দেয়া হয়েছে। তাই শেষনবীর নামে চালানো এই মিথ্যাচারের অভিযোগগুলোকে খন্ডন করতে আমাদের দায়িত্ব কুরআনের শরণাপন্ন হওয়া। কাজেই তাদেরকেও ধন্যবাদ যারা ‘ইমামুল আম্বিয়া’ তত্ত্বের নামে বহু বিদঘুটে বিষয়ের উদ্ভব ঘটিয়েছেন আর আমাদেরকে কুরআনের অপেক্ষাকৃত গভীরে প্রবেশ করে সেগুলোর অসারতা উদ্ঘাটন ও খন্ডনের সুযোগ করে দিয়েছেন।

“ইহুদি-নাসারার দালাল (?)”

বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকাংশ সদস্য মূলতঃ আসমানী বাণী কুরআনের ব্যাপারে আন-পড়, অজ্ঞ। ‘শোনা-ইসলাম’ এবং ‘দেখা-ইসলাম’-এর মধ্যেই মুসলিম হিসেবে আমাদের বেড়ে ওঠা এবং জীবন-যাপন। যাপিত ‘ইসলামী জীবনকে’ কুরআন দিয়ে যাচাই করার ইচ্ছা, আকাঙ্খা আর প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা আমরা খুব কমই করি। কেননা আমরা অতিমাত্রায় পার্থিব - কাল্লা বাল তুহিব্বুনাল ‘আজিলাতা, ওয়া তাজারুনাল আখিরাহ। দুনিয়া অর্জনের জন্যে হেন অর্থ-সময়-শ্রমের বিনিয়োগ নেই যা আমরা করি না, কিন্তু কুরআন পড়ে ঈমান-আমলকে বিশুদ্ধ করার বেলায় এগুলোর সবটাতেই আমাদের ভীষণ টান পড়ে। ভেজালের সাগরে হাবুডুবু খেয়ে আমরা অনুধাবনই করতে পারি না, আসল কী আর নকল কী? বস্তুত কুরআন দিয়ে নিজেদের ঝালিয়ে নিলে দেখব আমরা প্রকৃতপক্ষে নকল মুসলিম, মুনাফিক; মানব সমাজের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট শ্রেণি। 

কুরআনের প্রথমেই তাই বলা হয়েছে, মানুষের মধ্যে একদল আছে যারা মুখে বলে আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি এবং আখিরাতেও বিশ্বাস করি, কিন্তু আল্লাহ নিজে তাদের ব্যাপারে সাক্ষ্য দেন যে, তারা কপট, মুনাফিক, এবং ধিকৃত। তো এই রূঢ়, নিষ্ঠুর এবং ভীষণ প্রতিকূল বাস্তবতায় যখন কোন আল্লাহর বান্দা ‘নকল ইসলামের’ মোকাবেলায় কুরআনের বিশুদ্ধ সত্যকে কারও সামনে তুলে ধরতে চায় তখন এক অনির্বচনীয় সুকঠিন প্রতিরোধের মুখে তাকে পড়তে হয়। সর্বশেষ নবী যে সর্বশ্রেষ্ঠ না- বাংলায় ও ইংরেজিতে এ সংক্রান্ত আমার বিস্তারিত লেখনি দেশের এবং দেশের বাইরের বহু জনপ্রিয় ‘ইসলামী চিন্তাবিদ’ নামে খ্যাত ব্যক্তিদের সঙ্গে বিনিময় করা হয়েছে। কুরআন থেকে তুলে আনা হুজ্জাত বা যুক্তি ও দলিলের বিরুদ্ধে সেসব পন্ডিতদের কোন শক্ত অবস্থান আমি দেখতে পাইনি।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রণীত পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ইসলাম শিক্ষা বইতেও অত্যন্ত ভিত্তিহীন ভাবে এই ‘সর্বশ্রেষ্ঠ’ তত্ত্ব নবীন শিক্ষার্থীদের গলাধঃকরণ করানো হয়। এর প্রণেতাদের একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুর রশিদ সাহেবের সাথে আমি বহু চেষ্টা করেও আলোচনায় বসতে পারি নাই। কিসের ভিত্তিতে তারা এই মিথ্যা শেখান তার জবাব আমি তার কাছে প্রত্যাশা করেছিলাম। আমার লেখা তিনি পড়েছেন, কিন্তু বসতে রাজি হননি। অথচ আমার ব্যাপারে তিনি এই অভিযোগ দায়ের করতেও ছাড়েন নাইঃ “এসব লোক হলো ইহুদি-খ্রিস্টানদের এজেন্ট”। এটি একটি মাত্র দৃষ্টান্ত। এ ধরণের বহু আক্রমনাত্মক এবং ভিত্তিহীন অপবাদ অনেকের কাছ থেকেই শুনতে হয়। এর বাইরে আরও বলা হয় কাদিয়ানি, নাস্তিক, ফেতনাবাজ, ইত্যাদি। 

এরূপ যাবতীয় অপবাদ এবং আক্রমনের বিপরীতে আমি একেবারেই অবিচলিত। অবিচলিত এজন্য যে, অভিযোগগুলো সত্য নয়। আমি কী সে ব্যাপারে মহান আল্লাহ তা’য়ালাই সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট। বিনীতভাবে নিবেদন করতে চাই - আমি একজন মুসলিম; অবশ্যই আমি মুসলিমদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। শুধু তাই নয়, আমি এমন একজন মুসলিম হতে চাই যে আল্লাহ তা’য়ালার উপর সন্তুষ্ট এবং আল্লাহও তার উপর সন্তুষ্ট। সকলের প্রতি সালাম!

“ইমাম-আলেম-ওলামা” সম্প্রদায়ের প্রতি

এটা জোর দিয়ে বলা প্রয়োজন যে, বইটিতে বিশেষ কোন সম্প্রদায়ের সকলের প্রতি অভিযোগের আঙ্গুল উত্তোলন করা হয়নি। আবার কিছু ক্ষেত্রে আপাত আক্রমনাত্মক ভাষাভঙ্গীর ব্যবহার হয়েছে বলে কারও কাছে মনে হতে পারে, সেটাও বস্তুত কারও প্রতি বিদ্বেষপ্রসূত বা শত্রুতামূলক নয়; বরং একান্ত আত্ম-সমালোচনা মূলক। আমার যারা নিজেদেরকে মুসলিম বলে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি এবং কুরআনী নির্দেশ মোতাবেক মুসলিম হয়েই মৃত্যুবরণ করতে কায়মনোবাক্যে সর্বক্ষণ আল্লাহর কাছে আকুতি জানাই ও প্রার্থনা করি, বহু ক্ষেত্রে তাদের আত্ম-সংশোধন ভীষণ জরুরী।

আল্লাহ তা’য়ালা আমাকে যতদূর কুরআনের সমঝ দান করেছেন পুরো লেখার মধ্য দিয়ে তা থেকে ভাব প্রকাশের চেষ্টা করেছি। সেটা করতে গিয়ে ইচ্ছাকৃত, অনিচ্ছাকৃত বা অজ্ঞতাপ্রসূত যে কোন ভুলের দায় আমার। আমি সেজন্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। যে কোন বোদ্ধা মহল থেকে এই লেখার বিষয়ে মতামত শ্রবণ এবং বিবেচনা করার জন্য আমার মনের দরজা-জানালা উন্মুক্ত রইল।

رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آَمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ

হে আমাদের রব্ব, আমাদেরকে এবং ঈমানে আগ্রহী আমাদের ভ্রাতাগণকে ক্ষমা কর এবং ঈমানদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রেখো না। হে আমাদের রব্ব, তুমি দয়ালু, পরম করুণাময়। -৫৯:১০

আর শেষনবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহর প্রতি আমরা সেভাবেই শ্রদ্ধাশীল এবং তাঁর রেসালাতের প্রতি আনুগত্য ও দরদ তেমন ভাবেই প্রকাশ ও চর্চা করার বিষয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যেভাবে তা আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের কাছে দাবী করেন। আল্লাহরব্বুল ‘আলামিন যেন সেই মানদন্ডে আমাদের সকলকে উত্তীর্ণ করেন। 

إِنِّي أَخَافُ إِنْ عَصَيْتُ رَبِّي عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ

আমি আমার রব্বের অবাধ্য হতে ভয় পাই কেননা, আমি একটি মহাদিবসের শাস্তিকে ভয় করি। -৬:১৫, ১০:১৫ ৩৯:১৩

অমুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি

ইসলামের গন্ডির বাইরে মানবজাতির প্রতিটি সদস্যের প্রতিও সনির্বন্ধ অনুরোধ থাকবে তারা মুসলিম সম্প্রদায়ের বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর চরিত্র দেখে ইসলাম সম্পর্কে যেন বিভ্রান্ত না হন; সেক্ষেত্রে নিজেই ক্ষতিগ্রস্থ ও সত্য থেকে বঞ্চিত হবেন। তারা সকলে কুরআন অভিনিবেশ সহকারে অধ্যয়ন করলে এই কথা তাদের কাছে স্পষ্ট হবে যে, এটা নবী মুহাম্মদের নিজস্ব কোন রচনা নয়। আমরা এই পুস্তকে ইতিমধ্যেই দেখিয়েছি যে, একজন লেখক তার নিজের জন্য বিব্রতকর ও অসম্মানজনক বিষয় কিছুতেই তাঁর গ্রন্থে স্বহস্তে লিখবেন না যা কুরআনে রয়েছে।

ঐসব বিষয়াবলী যেখানে রাসূলকে কঠোর ভাষা প্রয়োগে কথা বলা হয়েছে – তা কুরআন ঐশি গ্রন্থ হবার এক প্রকৃষ্ট দলিল। এর বাইরে পুরো কুরআন যত্নের সাথে পড়লেই এর অপার্থিবতা কড়া নাড়বে যে কোন সংস্কারমুক্ত মনের দরজায়, ইনশা-আল্লাহ।

وَمَا كَانَ هَذَا الْقُرْآَنُ أَنْ يُفْتَرَى مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلَكِنْ تَصْدِيقَ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ الْكِتَابِ لَا رَيْبَ فِيهِ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ

আর কুরআন সে জিনিস নয় যে, আল্লাহ ব্যতীত কেউ তা বানিয়ে নেবে। অবশ্য এটি পূর্ববর্তী কালামের সত্যায়ন করে এবং সে সমস্ত বিষয়ের বিশ্লেষণ দান করে যা তোমার প্রতি দেয়া হয়েছে, যাতে কোন সন্দেহ নেই - তোমার রব্বের পক্ষ থেকে। -১০:৩৭

مَا كَانَ حَدِيثًا يُفْتَرَى وَلَكِنْ تَصْدِيقَ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ كُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ

এটা (কুরআন) কোন মনগড়া কথা নয়, কিন্তু যারা বিশ্বাস স্থাপন করে তাদের জন্যে পূর্বেকার কালামের সমর্থন এবং প্রত্যেক বস্তুর বিবরণ রহমত ও হেদায়েত। -১২:১১১

ইহুদি সম্প্রদায় যেভাবে নবী ঈসা মাসীহ ইবনে মারইয়ামকে স্বীকার না করার মাধ্যমে এবং তাঁকে হত্যা চেষ্টার মাধ্যমে কঠিন, গুরুতর ও গর্হিত অপরাধ করেছিল, ঠিক তেমনি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ও শেষনবী মুহাম্মদকে স্বীকার ও মেনে না নেয়ার মধ্য দিয়ে একই অপরাধে অভিযুক্ত ও অপরাধী। 

আমরা সবাই কুরআনী সত্যে প্রত্যাবর্তন করি; সবার আগে মুসলিম নামধারী সম্প্রদায় কুরআনে ফিরে আসুক, কেননা তারা নিজেরাই কুরআন যথাযথ অধ্যয়ন করে নি; শুধু তাই নয় তারা প্রকৃত প্রস্তাবে কুরআন প্রত্যাখ্যানকারীও বটে। মৃত্যু আসার আগেই আমরা সকলে শর্তহীনভাবে সত্যকে কবুল করে নেই।

*****</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/31686/</link>
				<pubDate>Sun, 05 Sep 2021 06:08:45 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>“সর্বশ্রেষ্ঠত্ব” বা “ইমামুল আম্বিয়া” মতবাদ সম্পূর্ণ বর্জনীয়</p>
<p>ইসলামের শেষনবীর নামে মিথ্যাচারই ইসলাম ধর্মে একমাত্র মিথ্যা নয়; হাজারো মিথ্যা আর বিভ্রান্তি একেবারে শুরু থেকেই দীনের মধ্যে অনুপ্রবেশ করাতে শয়তানের নেতৃত্বে কুচক্রী মহল সচেষ্ট ছিল। নবীর জীবদ্দশাতেই মুনাফিক সম্প্রদায় বহুভাবে নবীকে দিয়ে চেষ্টা করেছে কুরআনের আয়াতকে বদলিয়ে দিতে ব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-31686"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/31686/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b1ba989bde763e38a0c7cf27f63b487f</guid>
				<title>Abu Sayed Khan and Sharbanam Gupta are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/31659/</link>
				<pubDate>Sun, 05 Sep 2021 05:14:35 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b1ba989bde763e38a0c7cf27f63b487f</guid>
				<title>Abu Sayed Khan and অভিমানী মন are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/31658/</link>
				<pubDate>Sun, 05 Sep 2021 05:14:35 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b1ba989bde763e38a0c7cf27f63b487f</guid>
				<title>Abu Sayed Khan and মো: মাসুম মিয়া are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/31657/</link>
				<pubDate>Sun, 05 Sep 2021 05:14:35 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b1ba989bde763e38a0c7cf27f63b487f</guid>
				<title>Abu Sayed Khan and চাঁদ সদাগর are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/31656/</link>
				<pubDate>Sun, 05 Sep 2021 05:14:35 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b1ba989bde763e38a0c7cf27f63b487f</guid>
				<title>Abu Sayed Khan and AdabenTatali are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/31655/</link>
				<pubDate>Sun, 05 Sep 2021 05:14:35 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>