-
অর্থ, সম্পদ, জ্ঞান এবং করণীয় :
আনিছুর রহমান
অর্থ মানুষের জিবনে প্রয়োজন আছে কিন্তু সেই অর্থ যেন জিবনে কাল হয়ে না দাঁড়ায় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। অনেক সময় অর্থ মানুষ কে অন্ধকারে নিমজ্জিত করে।অর্থের কারনে সন্তান পরিজন খারাপ পথে চলে যায়।তোমরা কখনও অর্থ,প্রতিপত্তি,আত্বসম্মান নিয়ে অহংকার করো না। অহংকার বড় খারাপ জিনিস। একজন মানুষের ছায়া যতদিন তার পায়ের তলায় আছে, মনে রাখবে ততদিন সবই আছে। যেমন-চন্দ্র,সূর্য মধ্য গগনে আছে তারা গতি পথ লঙ্গন করে না। কখনও তারা সীমা অতিক্রম করেনা। আর সীমা লঙ্গনকারী কে কেহ পছন্দ করে না।
সব সময় একটি কথা মনে রাখা দরকার মানুষের ছায়া, মানুষের ক্ষমতা যেদিন মানুষের চেয়ে লম্বা হয়ে যাবে,সেদিন সমাজ টা ধ্বংশ ও সূর্যটা অস্তমিত হয়ে যাবে। তাই প্রত্যেকের পিতৃ বংশ পরিচয় কল্যাণ কর কর্ম ও তার নিজের পরিচয়ই জিবনের আদর্শ হওয়া উচিৎ। আদর্শ হীন, লক্ষ্যহীন সমাজ কখনও বদলায় না। শুধু সময়ের সাথে চারদিকে ঘোর পাক খায়।
কেউ নিজের নাম জিজ্ঞাসা করলে নিজের নাম টাই বলা উচিৎ। বাবার ক্ষমতা, অর্থ, পেশীশক্তি দেখানোর জন্য নিজের নামের সাথে বাবার নাম প্রকাশ করা ঠিক না। তুমি তোমার নিজের নামে, নিজের গুণে, নিজের প্রতিভায় গুণান্বিত হও। দেখবে তোমাকে সবাই অনুসরন করবে ও ভালবাসবে।
আজকাল সন্ত্রাসী ছেলের পরিচয়ে বাবারা সমাজে পরিচিত হতে চায়। বিপদ পরলে সন্ত্রাসী ছেলের পরিচয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবারের সবাই পার পেয়ে যায়। এমুন কি ছেলে পুলিশে চাকুরী করে তার ভয় দেখিয়ে মানুষকে ক্ষতি করতে চায়। এগুলো ভালো মনের পরিচয় নয়। এগুলো সমাজে বন্ধ হওয়া দরকার। বাবা রাজনৈতিক দলের বড় নেতা বলে তার ছেলেরা সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি করবে সেটাও কাম্য নয়।
অবশ্য সমাজে বাবার পরিচয়ে তার সন্তান গণেরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পরিচিত হন। কার ছেলে,অমুক নেতার ছেলে,অমুক রাজ নৈতিক পরিবারের সন্তান ইত্যাদি ইত্যাদি। মানুষের জ্ঞানকে, মেধাকে, মনন কে কেউ দাম দেয় না বা মুল্যায়ন করে না। ক্ষমতা অর্থই যেন মুখ্য হাতিয়ার।
স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় বিবে -চনায় নিয়োগ দেওয়া হয় ও বদলী করা হয়। যোগ্যতা বিবেচনায় কারো নিয়োগ হয় না। তাই আজ সমাজের সকল ক্ষেত্রে এত বৈষম্য, জ্ঞানের মান, শিক্ষার মান এত নিচু। শিক্ষা সহ সব কিছু ভঙ্গুর দূর্বল সামান্য ধাক্কা লাগলে ভেঙ্গে যেতে চায়। শিক্ষার মান দিন দিন চলে যাচ্ছে তলানীতে।
আগে ২য়, ও ৩য় শ্রেণিতে পাশ করা লোক জনের পান্ডিত্য, জ্ঞান গরিমার মান খুব উঁচু ছিল। তাদের মধ্যে ভদ্রতা মানবিকতা আবেগ ভালোবাসা ছিল। শিক্ষকগণ স্বার্থহীন ভাবে শিক্ষার আলো মানুষের ভিতরে ছড়িয়ে দিতে কার্পণ্য বোধ করত না। এখন অর্থ ছাড়া বিদ্যার্জন করা দুরহ হয়ে উঠছে। বিনা অর্থে জ্ঞান আহরণ সমাজে খুবই কঠিন ও দুষ্প্রাপ্য হয়ে গেছে।
সারাদেশে জিপিএ-৫ ( A+)’ এ পাশ করা শিক্ষক ছাত্রছাত্রী গণ বাংলা বানান সঠিক ভাবে লিখতে পারে না। অথচ পরিতাপের বিষয় তারাই আজ দেশের সমাজের মানুষ গড়ার কারিগর।
এখন ছেলে মেযেদের লেখা পড়া ফেস বুক, ইমো, টিকটক, ম্যাসেঞ্জার, কমেন্ট বক্স, শেয়ারের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। ছাত্র ছাত্রীরা কারি কুলামের বাহিরে লেখাপড়া করতে চায় না বা ইচ্ছুক নয়। পৃথিবীর নামী দামী পন্ডিত ব্যক্তিদের জিবনী, তাদের চিন্তা ধারা,জ্ঞান বিজ্ঞান, অনুশীলন করতে শিক্ষার্থীরা একেবারেই আগ্রহী নয়।
এখন আর সকাল সন্ধ্যায় গ্রাম গঞ্জের ছেলেমেয়েদের উচ্চ গলায় লেখাপড়ার আওয়াজ শুনা যায় না। কোনো বাসার
ছেলেমেয়েরা পড়াশুনা করছে কি না সেটাও বুঝা যায় না। ছেলে মেয়েদের হাতে দামী ফোন আর কানে হেডফোন লাগিয়ে মিউ জিক শুনতে মহাব্যস্ত। তারা রাস্তা ঘাটে ভিডিও গেম আর ফেসবুক নিয়ে আড্ডা আর ঘুরাফেরা করতে দেখা যায়।আজ তাই সমাজের এত ক্ষত,এত হিংসা, বিদ্বেষ, হানা হানি ছড়িয়ে পড়েছে। সময় থাকতে আমাদের সমাজ পরিবর্তনের জন্য যা যা করা প্রয়োজন তাই করা অতীব জরুরী হয়ে পড়েছে। তা না হলে এই সমাজ দেশ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
সমাজের আমুল পরিবর্তন না হলে আমরা জাতি হিসেবে মানুষ হিসেবে কালের অতল গহ্বরে ক্রমেই হারিয়ে যাব।
আনিছুর রহমান
১৯/০৯/২০২২.2 Comments
Friends
Shubha-Jit-Datta
@shubha-jit-datta
Raju Barua
@raju-barua
রিফাত মাহমুদ
@rifat-mahmud
ফারুক আব্দুল্লাহ - Faruq Abdullah
@faruq-abdullah
সাকিব-উন-নবী দীপ্ত (নির্বাক)
@sakib-un-nabi-dipto
Kazi Adam
@kaziadam
এম.আর মুহাম্মাদ ইস্রাফীল
@misrafil420
মোঃ আরিফুল ইসলাম
@ammouriful
শাহাদাতুর রহমান সোহেল
@sr-sohel



অভিনন্দন।