<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/arghyadeep2000/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/arghyadeep2000/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী.</description>
	<lastBuildDate>Fri, 05 Jun 2026 22:30:57 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">64765ef4bf57c6e578e7a8b75b2348b1</guid>
				<title>কবিতা:- যদি তোমাকে পেয়ে যেতাম 
--- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী 

যদি তোমাকে পেয়ে যেতাম 
আমার জীবনের সকল দুঃখ যন্ত্রণা ক্লেশ 
দূর হয়ে যেত। 
তোমাকে আজও পাইনি বলেই 
আমি সুখী হইনি।
আমার নয়নের দুঃখ-ভরা জল 
থেকে জন্ম নিলো বেদনার সরসী,
কিন্তু সেই নয়ন থেকে আনন্দের জল ঝরল না 
সেই আনন্দের জল মাটিতে পড়ে 
কোনো ফুল গাছেরও জন্ম হলো না।
মানুষ জীবনে টাকা-পয়সার পিছনে ছোটে ----
বড়ো-বড়ো বাড়ি করবে,
দামি গাড়ি কিনবে এই আশা রাখে 
কিন্তু আমি তোমার পিছনে ছুটে গেলাম 
অথচ তোমাকে পেলাম না।
জীবনে দুঃখটা থেকেই গেল। 
যদি অর্থের পিছনে ছুটতাম তবুও সুখী হতাম না কারণ তুমি তো অধরা থাকতে 
তোমাকে পেয়ে গেলে 
এই তুচ্ছ টাকা-পয়সার প্রতিও
আমার টান থাকত না।
টাকা পয়সা ক&#039;দিনের?
ভালোবাসা তো চিরদিনের।
যতদিন মানুষ বেঁচে আছে 
ততদিন না হয় টাকা-পয়সার দাম আছে 
কিন্তু দেহরক্ষার পর ----
তখন কি আর সেই টাকা-পয়সার 
কোনো কদর আছে?
অথচ ভালোবাসা অক্ষয়-অমর।
জানি, যখন আমি থাকব না ----
আমি না থাকলেও আমার ভালোবাসার কাহিনি
ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে ----
ইতিহাস তো মোছা যায় না।
আমার যত আবেগ 
আমার যত অনুরাগ 
সব তোমাকে ঘিরে 
আমি তোমাতেই আসক্ত 
তোমাতেই মুগ্ধ বারংবার।
কিন্তু তোমাকে পেলাম না 
জানি না কবে পাব 
আদৌ পাব কিনা।
বয়স তো বেড়েই চলল 
জানি না আমার অভিলাষ 
এই জীবনে আদৌ পূরণ হবে কিনা 
তাইতো ঈশ্বরের কাছে আমার অনুরোধ 
সামনের জীবনে যেন তোমাকে পেয়ে যাই।

---- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী 
২১/৩/২০২৬</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/240016/</link>
				<pubDate>Sun, 22 Mar 2026 06:58:48 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কবিতা:- যদি তোমাকে পেয়ে যেতাম<br />
&#8212; অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী </p>
<p>যদি তোমাকে পেয়ে যেতাম<br />
আমার জীবনের সকল দুঃখ যন্ত্রণা ক্লেশ<br />
দূর হয়ে যেত।<br />
তোমাকে আজও পাইনি বলেই<br />
আমি সুখী হইনি।<br />
আমার নয়নের দুঃখ-ভরা জল<br />
থেকে জন্ম নিলো বেদনার সরসী,<br />
কিন্তু সেই নয়ন থেকে আনন্দের জল ঝরল না<br />
সেই আনন্দের জল মাটিতে পড়ে<br />
কোনো ফুল গাছেরও জন্ম হলো না।<br />
মানুষ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-240016"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/240016/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">bc4503dab5c55f52969e49960a1dbaa4</guid>
				<title>কবিতা:- কোনো একদিন চলে যাব পৃথিবী ছেড়ে 
--- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী 

কোনো একদিন চলে যাব পৃথিবী ছেড়ে
আর থাকব না এই সুন্দর ভুবনমাতার কোলে।
কত কী দেখলাম 
কত কী শিখলাম 
কত কী জানলাম
সব শেষ হয়ে যাবে 
আমার চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে।
কিছুই নিয়ে যাব না
যখন এসেছিলাম কিছু নিয়ে আসিনি
যখন চলে যাব তখনও কিছু নিয়ে যাব না
শুধু মাঝখানে এই ধরিত্রীতেই 
যত দেখা শেখা জানার আয়োজন।
নশ্বর দেহে আর থাকব না
কিন্তু আমি রেখে যাব আমার কবিতার ভাণ্ডার
হয়তো কেউ কেউ স্মরণ করবে আমার কথা 
আমার কবিতাগুলি পড়ে
হয়তো কত আলোচনা সভা বসবে
আমার ছবিতে মালা পড়াবে
আমাকে নিয়ে কত কথা হবে....
কিন্তু আমি কিছুই শুনতে পাব না
শুধু নীরব হয়ে থাকব 
সৃষ্টি থেকে যাবে
কিন্তু স্রষ্টা থাকবে না।
কত কবিতা লিখেছিলাম নিসর্গকে ভালোবেসে
কত কবিতা লিখেছিলাম আমার প্রিয়তমাকে ভালোবেসে
কত কবিতা লিখেছিলাম মানুষের ক্লেশ যন্ত্রণায় ব্যথিত হয়ে....
হয়তো এই সবই আলোচিত হবে সেদিন ----
আমার দৃষ্টি পাথরের মতো স্থির হয়ে থাকবে
উপস্থিত জনতার দিকে।

---- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী
১৭/৩/২০২৬</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/238755/</link>
				<pubDate>Tue, 17 Mar 2026 05:24:50 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কবিতা:- কোনো একদিন চলে যাব পৃথিবী ছেড়ে<br />
&#8212; অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী </p>
<p>কোনো একদিন চলে যাব পৃথিবী ছেড়ে<br />
আর থাকব না এই সুন্দর ভুবনমাতার কোলে।<br />
কত কী দেখলাম<br />
কত কী শিখলাম<br />
কত কী জানলাম<br />
সব শেষ হয়ে যাবে<br />
আমার চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে।<br />
কিছুই নিয়ে যাব না<br />
যখন এসেছিলাম কিছু নিয়ে আসিনি<br />
যখন চলে যাব তখনও কিছু নিয়ে যাব না<br />
শুধু মাঝখান&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-238755"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/238755/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4dc7c13bc6c7eb07f40b3749fd0eafbc</guid>
				<title>কবিতা: আমার যন্ত্রণার কথা 
--- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী 

তোমায় পাব না জেনেও
তোমায় ভালোবেসে যাচ্ছি
তোমায় নিজের করে নিচ্ছি।
কী করব বলো?
তোমায় যে আমার প্রথম দেখাতেই ভালো লেগেছিল
আর ভুলতে পারিনি
তোমায় সেই থেকে ভালোবেসে যাচ্ছি
আজও একইভাবে ভালোবেসে যাচ্ছি।
কিন্তু আমি জানি,
তুমি কোনোদিন আমার হবে না
আমায় ভালোবাসবে না।
তোমায় যেদিন প্রথম দেখেছিলাম
সেদিন তুমি একা ছিলে না
তুমি যাচ্ছিলে তোমার ভালোবাসার মানুষটির সাথে হাতে হাত রেখে
আমার পাশ দিয়েই চলে গেলে….।
আজও সেই দিনটার কথা মনে পড়ে,
তোমার অমন সুন্দর খোলা চুল
ভোরের স্নিগ্ধ বাতাসের মতো মিষ্টি মুখ
আর রঙিন ফুল বাগানে ফুটলে যেমন অপরূপ দেখায় তেমন হাসি….
সেই দেখেই আমি তোমায় ভালোবেসে ফেলেছিলাম
সেই একবারই দেখা
তাও তুমি আমাকে দেখোনি
আমিই শুধু দেখেছি তোমায়
এরপর আর কোনোদিন দেখা হয়নি তোমার সাথে আর।
কিন্তু ঐ যে বললাম ঐ প্রথম দেখাতেই তোমার মুখখানি এত ভালো লেগেছিল আমার
যে আজও ভুলতে পারিনি
আজও তোমায় ভালোবেসে যাচ্ছি।
তোমাকে তো কাছে পাই না
কাছে পেলে জড়িয়ে ধরতাম,
আমার দুটো হাত খুব ফাঁকা ফাঁকা লাগে
তোমায় বুকে জড়িয়ে ধরে তোমায় ধরে কাঁদার সুযোগ আর হলো না।
তোমার মুখখানি যখন খুব মনে পড়ে
আমার দু’চোখ জলে ভরে ওঠে
আমার এই যন্ত্রণার কথা তুমি কোনোদিন জানতে পারবে না গো
কারণ তুমি তো আমাকে চেনোই না।

— অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী
১/১১/২০২৫</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/238754/</link>
				<pubDate>Tue, 17 Mar 2026 02:03:08 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কবিতা: আমার যন্ত্রণার কথা<br />
&#8212; অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী </p>
<p>তোমায় পাব না জেনেও<br />
তোমায় ভালোবেসে যাচ্ছি<br />
তোমায় নিজের করে নিচ্ছি।<br />
কী করব বলো?<br />
তোমায় যে আমার প্রথম দেখাতেই ভালো লেগেছিল<br />
আর ভুলতে পারিনি<br />
তোমায় সেই থেকে ভালোবেসে যাচ্ছি<br />
আজও একইভাবে ভালোবেসে যাচ্ছি।<br />
কিন্তু আমি জানি,<br />
তুমি কোনোদিন আমার হবে না<br />
আমায় ভালোবাসবে না।<br />
তোমায়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-238754"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/238754/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">3c9e083493c072f4270ac2c8e503f389</guid>
				<title>কবিতা:- তুমি ভালোবাসলে বলেই 
--- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী 

তুমি ভালোবাসলে বলেই
আমার হাত তোমার হাত ধরতে পারল
আমার হাত আর একা থাকল না।

তুমি ভালোবাসলে বলেই
আমার মন আর একা থাকল না
দুটো মন একাকার হয়ে গেল।

তুমি ভালোবাসলে বলেই
আমার ঠোঁটের কোণে দুঃখের রেখা মুছে গেল
এখন শুধুই খুশি আর খুশি।

আমার চোখে এতদিন ছিল শুধু শূন্যতা
তুমি ভালোবাসলে বলেই
এখন সে চোখে দেখি শুধু তোমাকে।

এতদিন আমার বুক ফাঁকা ফাঁকা ছিল
তুমি ভালোবাসলে বলেই
আজ তোমার মাথা আমার বুকে।

এতদিন উদ্ভ্রান্তের মতো ঘুরছিলাম
তুমি ভালোবাসলে বলেই
আজ একটা যথার্থ ঠিকানা পেলাম —- তুমি।

এতদিন আমার দেহে প্রাণ থেকেও
না থাকার মতো ছিল
তুমি ভালোবাসলে বলেই —
সত্যি, তুমি অক্সিজেনের মতো,
আমাকে বাঁচালে!

তুমি ভালোবাসলে বলেই
মনে হলো এক ধাক্কায় বয়স যেন আঠারোয় নেমে গেল,
আহা, কী সেই অনুভূতি,
সত্যি তুমি জাদু জানো!

তুমি ভালোবাসলে বলেই
তোমার সাথে বাকি জীবন
কাটিয়ে দেবার ইচ্ছে হলো —-
সুখ-দুঃখের জীবন
কান্না-হাসির জীবন
ভালোবাসার জীবন
মধুময় স্বপ্ন দেখার জীবন
একে অপরের হাতে হাত রেখে এগিয়ে চলার জীবন।

— অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী
২৭/২/২০২৬</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/238645/</link>
				<pubDate>Mon, 16 Mar 2026 10:32:53 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কবিতা:- তুমি ভালোবাসলে বলেই<br />
&#8212; অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী </p>
<p>তুমি ভালোবাসলে বলেই<br />
আমার হাত তোমার হাত ধরতে পারল<br />
আমার হাত আর একা থাকল না।</p>
<p>তুমি ভালোবাসলে বলেই<br />
আমার মন আর একা থাকল না<br />
দুটো মন একাকার হয়ে গেল।</p>
<p>তুমি ভালোবাসলে বলেই<br />
আমার ঠোঁটের কোণে দুঃখের রেখা মুছে গেল<br />
এখন শুধুই খুশি আর খুশি।</p>
<p>আমার চোখে এতদিন ছিল শুধু শূন্যতা<br />
তুমি ভালোবাসলে ব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-238645"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/238645/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6ef3f796f3f9c2850aae205dcbb86bdb</guid>
				<title>কবিতা: দূর থেকেই তোমাকে ভালোবেসেছিলাম 
--- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী 

দূর থেকেই তোমাকে ভালোবেসেছিলাম
কখনও তোমার কাছে আসতে পারিনি।

দূর থেকেই তোমাকে ভালোবেসেছিলাম
কখনও তোমায় বলতে পারিনি,
আমি তোমায় ভালোবাসি।

দূর থেকেই তোমাকে ভালোবেসেছিলাম
কখনও তোমায় স্পর্শ করতে পারিনি।

দূর থেকেই তোমাকে ভালোবেসেছিলাম
কখনও তোমায় একটা গোলাপ ফুলও দিতে পারিনি।

দূর থেকেই তোমাকে ভালোবেসেছিলাম
কখনও তোমায় বলতে পারিনি
আমার মনের দুঃখের কথা।

দূর থেকেই তোমাকে ভালোবেসেছিলাম
হ্যাঁ, দূর থেকেই তোমাকে কাছে চেয়েছিলাম
হ্যাঁ, দূর থেকেই তোমাকে আপন করে নিয়েছিলাম
কিন্তু তুমি জানোনি যে
আমি তোমায় ভালোবাসি।

দূর থেকেই তোমাকে ভালোবেসেছিলাম
কিন্তু তুমি জানোনি যে
আমার হৃদয়ে শুধু তোমাকেই রেখেছিলাম।

দূর থেকেই তোমাকে ভালোবেসেছিলাম
কিন্তু তুমি জানোনি যে
এই পৃথিবীতে আমার থেকে তোমাকে বেশি ভালোবাসতে আর কেউ কখনও কোনোদিন পারবে না।

--- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী
৬/৩/২০২৬</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/238628/</link>
				<pubDate>Mon, 16 Mar 2026 04:36:26 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কবিতা: দূর থেকেই তোমাকে ভালোবেসেছিলাম<br />
&#8212; অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী </p>
<p>দূর থেকেই তোমাকে ভালোবেসেছিলাম<br />
কখনও তোমার কাছে আসতে পারিনি।</p>
<p>দূর থেকেই তোমাকে ভালোবেসেছিলাম<br />
কখনও তোমায় বলতে পারিনি,<br />
আমি তোমায় ভালোবাসি।</p>
<p>দূর থেকেই তোমাকে ভালোবেসেছিলাম<br />
কখনও তোমায় স্পর্শ করতে পারিনি।</p>
<p>দূর থেকেই তোমাকে ভালোবেসেছিলাম<br />
কখনও তোমায় একটা গোলাপ ফুলও দি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-238628"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/238628/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2c1cab93fe348feab58c6c55c3833445</guid>
				<title>কবিতা: আমি শুধু তোমাকে চাই 
--- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী 

আমি গাড়ি-বাড়ি টাকা-পয়সা কিচ্ছু চাই না 
আমি শুধু তোমাকে চাই।
আকাশ সমান সম্মান অর্জন করার দরকার নেই আমার 
আমি শুধু তোমাকে চাই।
আমি আমির হতে চাই না
আমি শুধু তোমাকে চাই।
আমি পূর্ণিমার চাঁদ চাই না 
আমি শুধু তোমাকে চাই।
ঈশ্বরের কাছে রোদনের সাথে বলতে চাই
আমি শুধু তোমাকে চাই।
এই অবনীতে যেমন তাজমহল আছে
আমার তেমন কোনোকিছুই চাই না
আমি শুধু তোমাকে চাই।
শুধু তোমাকে চাই 
শুধু তোমাকে চাই 
আমি শুধু তোমাকে চাই।

---- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী
৭/৩/২০২৬</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/238250/</link>
				<pubDate>Sat, 07 Mar 2026 04:38:00 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কবিতা: আমি শুধু তোমাকে চাই<br />
&#8212; অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী </p>
<p>আমি গাড়ি-বাড়ি টাকা-পয়সা কিচ্ছু চাই না<br />
আমি শুধু তোমাকে চাই।<br />
আকাশ সমান সম্মান অর্জন করার দরকার নেই আমার<br />
আমি শুধু তোমাকে চাই।<br />
আমি আমির হতে চাই না<br />
আমি শুধু তোমাকে চাই।<br />
আমি পূর্ণিমার চাঁদ চাই না<br />
আমি শুধু তোমাকে চাই।<br />
ঈশ্বরের কাছে রোদনের সাথে বলতে চাই<br />
আমি শুধু তোমাকে চাই।<br />
এই অব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-238250"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/238250/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6eaf09cc196092b04f273a1c3ced8504</guid>
				<title>গল্প: ভুতুড়ে রিক্সাওয়ালার কাহিনি 
--- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী 

নমস্কার। আমি বিনয়ভূষণ মুখোপাধ্যায়। লেখক অর্ঘ্যদীপের সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটে কলকাতার বইমেলায়।একটা বুক স্টলে।
তবে আমি বইটই লিখি না। আমি খুব গল্প বলতে ভালোবাসি।তবে কোনো বানানো গল্প নয়, নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার কথা বলি।আর সেই থেকেই লেখক আমার সাথে বন্ধুত্ব করেন। আমার বাড়িতে আসেন প্রায়শই। আমার মুখ থেকে সেইসব ঘটনার কথা শোনেন।আর তা থেকেই গল্প লেখেন।
তো আজ সেইরকমই আমার জীবনে ঘটে যাওয়া এক ঘটনার কথা শুনবেন লেখকের কলমের মাধ্যমে।

আমার জন্ম ইছামতি নদীর তীরে একটি ছোট্ট গ্ৰাম গঙ্গাপানিতে। বর্তমানে আমার বয়স ষাট বছর।যে সময়ের কথা বলছি তখন আমার বয়স বারো কি তেরো বছর। মানে ঐ ক্লাস সিক্স কি সেভেনে পড়ি।আমাদের গ্ৰামে কোনো স্কুল ছিলো না। চাঁপাডাঙা বলে একটি গ্ৰামে স্কুল ছিল।আমাদের গ্ৰাম থেকে সেই গ্ৰামের দূরত্ব প্রায় কুড়ি কিলোমিটার। আমাদের স্থানীয় রেলস্টেশন থেকে দশ কিমি দূরে চাঁপাডাঙা রেলস্টেশন। চাঁপাডাঙা রেলস্টেশন থেকে বড়ো রাস্তা গেছে রামনগর নামক আরও একটি গ্ৰামে।এই রামনগর গ্রামে যাওয়ার পথের একদম পাশেই পড়ে স্কুল। তা স্কুল স্টেশন থেকে নয় বা দশ কিলোমিটার দূরে। স্টেশন থেকে বাস, অটো, রিক্সা প্রভৃতি যানবাহন চলাচল করে। তবে তা সংখ্যায় অতি কম।

সেদিনটা ছিল গ্ৰীষ্মকালের কোনো এক দিন।যথাসময়ে স্কুলে উপস্থিত হলাম।স্কুল ছুটি হয় বিকাল চারটেয়। আমি যদি ঠিক ছুটির সময়েই বেরিয়ে আসতাম তাহলে হয়তো জীবনে একটা অভিজ্ঞতা কম হতো। মানে একটা বড়োসড়ো অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারতাম না।
যাইহোক স্কুল ছুটির পরে কী কাজ ছিল আমি বেরোলাম আরও আধঘন্টা পরে।
ততক্ষণে আকাশ কালো মেঘে ঢেকে গেছে।চারিদিকে থমথমে ভাব।
স্কুল থেকে যে মুহূর্তে বেরোলাম সেই মুহূর্তেই শুরু হল ঝোরো হাওয়ার সাথে মুষলধারে বৃষ্টি। গ্ৰামের দিকের স্কুল বলে সামনে একটা বিশাল মাঠ ছিল। সেই মাঠে দৈনিক কত গরু ছাগল ঘাস খায়। কিন্তু সেদিন আর কাউকে দেখতে পেলাম না। এমনকি একটা কুকুর পর্যন্ত না।আমি মাথা বাঁচিয়ে কোনোরকমে দৌড় লাগিয়ে স্কুল চত্বর ছেড়ে বড়ো রাস্তার কাছে এলাম।

ওদিকে আকাশে ঘন ঘন বিদ্যুৎএর রেখা দেখা যাচ্ছে।রাস্তার পাশে ছিল ফজল মিঞার চায়ের দোকান।আমি তার ছাউনির তলায় এসে দাঁড়ালাম। সেদিন ফজল মিঞা দোকান বন্ধ করে আগেই চলে গেছে।সারা তল্লাটে যেন আমি একাই জীবিত প্রাণী হয়ে দাঁড়িয়ে আছি আর কেউ কোথাও নেই। আগেই বলেছি চাঁপাডাঙা রেলস্টেশন থেকে গাড়ি যায় রামনগর গ্রামে আবার ফিরে আসে।তো আমি এভাবেই গাড়ি ধরি। কিন্তু সেদিন কোনো গাড়ি দেখতে পেলাম না। এমনই অন্ধকার হয়ে আছে যে একহাত দূরের কাউকে দেখা যায় না।

হঠাৎ শুনলাম আমার কানের কাছে কে যেন প্যাঁ পুঁ শব্দে হর্ন বাজাচ্ছে। হকচকিয়ে গেলাম।কে রে বাবা! তারপর দেখি একটা রিক্সা। রিক্সার ছাদ কেমন গোলাপী রঙের ছাতা দিয়ে ঢাকা।
আচ্ছা রিক্সাটা কখন এলো? কোনো আওয়াজও পেলাম না।উড়ে উড়ে এলো নাকি?আর রিক্সাওয়ালা তো ভিজে একাকার।মুখ, চোখ কিছুই দেখা যাচ্ছে না। তারমধ্যে আকাশও ঘোরতর অন্ধকার হয়ে আছে।
রিক্সাওয়ালা বললো, &quot;খোকা উঠে পড়ো। এই ঝড় জলে আর একা থাকতে হবে না।আকাশের গতিক ভালো নয়।&quot;
আমি বললাম, &quot;তা তুমি কোথায় থাকো? তাছাড়া এই দুর্যোগের সময় তোমার ঘর থেকে বেরোতে ভয় করলো না?&quot;
রিক্সাওয়ালা বললো, &quot;ঐ রামনগরের পরের গ্ৰামে গো খোকা। এত ভয় করলে চলে? তোমার জন্যই তো আসতে হলো। তুমি একা আছো।&quot;
আমি শুনে অবাক হয়ে গেলাম। আমার জন্য আসতে হলো?আর কিছু জিজ্ঞেস করলাম না।

যাইহোক আর কথা হলো না মাঝপথে।রিক্সা চলতে থাকলো। কিন্তু রিক্সার গতিবেগ এত বেশি হতে পারে?এ তো ট্রেনের গতিকেও হার মানাবে! ভাবছিলাম, রিক্সাটা কি উড়ে উড়ে যাচ্ছে নাকি?চাকার কোনো আওয়াজ নেই।প্যাডেল করার আওয়াজ নেই। এসব ভেবে বুকটা যেন কেমন করে উঠলো।কার পাল্লায় পড়লাম রে বাবা, মনে মনে ভাবছিলাম। আধঘন্টার রাস্তা আমাকে দশ মিনিটে পৌঁছে দিল।

রিক্সা থেকে নেমে টাকা বার করলাম। স্টেশনের অত আলোতেও লোকটার মুখ দেখতে পেলাম না। মুখ নিচু করে আছে। টাকা দেওয়ার সময় লোকটার হাতের ছোঁয়া পেলাম।সঙ্গে সঙ্গে আমার সারা শরীরে যেন বরফের স্রোত বয়ে গেল! জীবিত মানুষের হাত এত ঠান্ডা হতে পারে? এ কার সামনে দাঁড়িয়ে আছি আমি? কয়েক মুহূর্তের জন্য মাথাটা কেমন হয়ে গেল।চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে গেল।যেই চোখদুটো ভালো করে মুছতে গেলাম দেখি লোকটা আর সামনে নেই।
এ কি! কোথায় গেল? রিক্সা নিয়ে নিমেষের মধ্যে উধাও হওয়া সম্ভব? আমি অবাক হয়ে গেলাম।
আর বেশি কিছু না ভেবে প্লাটফর্মের দিকে এগোলাম।

এসে দেখি প্লাটফর্ম ভর্তি লোক। ট্রেন এখনও আসেনি। এই যা বাঁচোয়া। এতক্ষণ যে কোথায় ছিলাম তা ভাবলেও গায়ে কাঁটা দিচ্ছে!
যথা সময়ে ট্রেন এলো।ট্রেনে উঠলাম। অনেক লোক একসঙ্গে উঠলো।ট্রেন ছেড়ে দিল। তখন সন্ধে হয়ে এসেছে।
আমি জানলার ধারে বসে বিকেলের কথাগুলো ভাবছিলাম। ঘটনাটা ঠিক কী হলো?লোকটা কি হাওয়ায় উড়ে এলো? লোকটার ঐরকম ঠান্ড হাত?মুখটাও দেখা গেল না।

আমার পাশের দুটো সিটে দুজন মাঝবয়সী লোক বসেছিল।তারা নিজেদের মধ্যে কী একটা দুর্ঘটনার কথা নিয়ে আলোচনা করছিল।আমি একটু শোনার চেষ্টা করলাম।
---&quot;আরে দাদা, মণীন্দ্রদা কী বেঘোরে প্রাণটা হারালো আজকে,কপাল মন্দ ছিল খুব!&quot;
---&quot;ইস। খুব খারাপ লাগছে গো। বেচারা! রাস্তার ধারের আমগাছের একটা শক্ত মোটা ডাল এসে পুরো মাথায় পড়লো।আর কেউ বাঁচে?&quot;
---&quot;লোকটা বাড়ি থেকে রিক্সা নিয়ে বেরিয়েছিল। রিক্সাচালক যে। কিন্তু কে বলবে ঐ বেরোনোই তার শেষ বেরোনো হবে?&quot;

আমার বুকের ভিতরটা ছ্যাঁৎ করে উঠলো।এরা কার কথা বলছে?সেই রিক্সাচালকের কথা যার রিক্সায় আমি আজ এলাম? কৌতূহল ধরে রাখতে না পেরে আমি জিজ্ঞেস করলাম, &quot;দাদা ঐ রিক্সার ছাদটা কি গোলাপী রঙের ছাতা দিয়ে ঢাকা ছিল?&quot;
ওঁদের মধ্যে থেকে একজন বললেন, &quot;হ্যাঁ হ্যাঁ। আমাদের ঐ রামনগর থেকে এই চাঁপাডাঙা পর্যন্ত ঐরকম রিক্সা আর কারও নেই। তাই মণীন্দ্রদাকে চিনে নেওয়া খুব সহজ।কেন ভাই তুমি চেনো নাকি লোকটাকে?&quot;
আমি বললাম, &quot;না না আমি চিনি না।&quot;
লোকটি আবার বললো, &quot;তাহলে হঠাৎ ঐ ধরনের ছাতার কথা বললে কেন?&quot;
আমি বললাম, &quot;আরে না না আমি এমনি বললাম।&quot;

আমি সিট ছেড়ে উঠে এলাম। আমার বাড়ির স্টেশন চলে আসছে।আর আমি লোকদুটোকে বলবোই বা কী যে আমি ঐ মণীন্দ্র নামের লোকটার রিক্সাতে করেই এসেছি?আমাকে তো পাগল ভাববে। আর আমি আজ পর্যন্ত এতদিন স্কুলে এসেছি ঐ পথে, কিন্তু অমন রিক্সা দেখিনি।এটা আর এমন কী? সবসময় কি সব গাড়ি চলাচল করে?পরে নিশ্চয়ই দেখতে পেতাম।কোনো না কোনো দিন হয়তো উঠেও পড়তাম।

লোকদুটো কেমন সন্দেহের চোখে আমাকে দেখতে লাগলো। আমার তখন শরীরের ভিতর যে কী হচ্ছিল তা আমি ছাড়া আর কেউ বুঝতে পারবে না।
আমি কার সঙ্গে স্টেশনে এলাম তাহলে? এক প্রেতাত্মার সঙ্গে? হাত পা প্রচন্ড ঘামছিল।মাথা ঝিমঝিম করছিল।
ট্রেন হুইসেল দিয়ে আমার গন্তব্য স্টেশনে ঢুকলো।

৩/১০/২০২৩</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/238220/</link>
				<pubDate>Fri, 06 Mar 2026 01:19:32 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্প: ভুতুড়ে রিক্সাওয়ালার কাহিনি<br />
&#8212; অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী </p>
<p>নমস্কার। আমি বিনয়ভূষণ মুখোপাধ্যায়। লেখক অর্ঘ্যদীপের সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটে কলকাতার বইমেলায়।একটা বুক স্টলে।<br />
তবে আমি বইটই লিখি না। আমি খুব গল্প বলতে ভালোবাসি।তবে কোনো বানানো গল্প নয়, নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার কথা বলি।আর সেই থেকেই লেখক আমার সাথে বন্ধুত্ব করেন। আ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-238220"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/238220/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6def84300aa5c1ef5bbc8f1a243ebe94</guid>
				<title>গল্প: একটি ভৌতিক ঘটনা 
--- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী 

অনেকদিন আগের কথা বলছি। তখন আমাদের গ্রাম এত উন্নত ছিল না যেমনটা এখন উন্নত হয়েছে।
যে সময়কার কথা বলছি তখন আমার বয়স বছর কুড়ি-একুশ হবে। আমি সবে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে বাড়িতেই বসে আছি। কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য চেষ্টা করছি।

তখন আমাদের গ্রামে বাড়ি বলতে ঐ কুড়ি-পঁচিশটা মতো ছিল। ভালো রাস্তাঘাট ছিল না। ভালো বাজার-হাট বসতো না। ভালো দোকানপাট ছিল না। আর স্কুল ছিল আমার বাড়ি থেকে তাও তিন-চার মাইল দূরে। সেরকম ডাক্তারখানাও ছিল না। তবে কয়েকজন ডাক্তার ছিলেন। কিন্তু তারা যে শহরের ডাক্তারদের মতো আরও ভালো চিকিৎসা করতে পারতেন সেরকম নয় — ঐ জ্বর, সর্দি কাশি, পেট ব্যথা, পায়ে ব্যথা, কোমরে ব্যথা ইত্যাদি হলে সারিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু তার চেয়েও জটিল কোনো শরীর খারাপ হলে শহরেই বাধ্য হয়ে যেতে হতো। আমাদের গ্রাম থেকে শহর তাও দশ-পনেরো মাইল দূরে।

সে যাই হোক আমার ঠাকুরদাদার একবার খুব শরীর খারাপ হয়েছিল। তার বয়স হয়েছিল তখন প্রায় সত্তর-পঁচাত্তর বছর। আর গ্রামের দিকে কোনো জটিল শরীর খারাপ হওয়া মানে সে এক ভয়াবহ ব্যাপার!
না আছে ভালো ডাক্তার, না আছে ভালো ডাক্তার-খানা, না আছে ভালো হাসপাতাল, অথবা স্বাস্থ্যকেন্দ্র… কিছুই সেরকম নেই।
আমরা ঠিক করেছিলাম ঠাকুরদাদাকে নিয়ে শহরে যাব। কোনো ভালো হাসপাতালে চিকিৎসা করাবো।

কিন্তু যে সময়কার কথা বলছি তখন আবার শ্রাবণ মাস। সারাদিন বৃষ্টি লেগেই আছে আর এরকম বৃষ্টি মাথায় নিয়ে সঙ্গে করে রোগীকে নিয়ে যাতায়াত করা খুবই কঠিন ব্যাপার। সে রকম ভালো যানবাহনও নেই। ফলে অনেক অসুবিধা।

তো যাই হোক আমাদের গ্রামে যে কয়েকজন ডাক্তারবাবু ছিলেন তাঁদেরকেই বলা হলো। তারা এলেন। অনেক দেখলেন। চেষ্টা করলেন।
কিন্তু সেরকম ফল হল না।
আসলে তাঁরা ঠিকমতো বুঝতেই পারলেন না এটা কোন রোগ। এদিকে এই অজানা রোগের ফলে ঠাকুরদাদার খাওয়া কমে গেছে আর গায়ে সবসময়ে বেশ জ্বর থাকে!

আমার ঠাকুরদাদাকে আমাদের গ্রামের প্রায় সকল মানুষ সম্মান করতো, শ্রদ্ধা করতো কারণ তিনি তখনকার সময়ে সংস্কৃততে বি-এ পাস করা মানুষ ছিলেন।
গ্রামের মানুষদের বিপদে-আপদে অনেক সাহায্য করতেন। অনেক ভালো ভালো বুদ্ধি দিয়ে তাদেরকে সহযোগিতা করতেন। ফলে গ্রামের মানুষরাও অনেক উপকৃত হতো। তারা তাই ঠাকুরদাদাকে খুব ভালোবাসতো।
তো ঠাকুরদাদার এই শরীর খারাপের কথা শুনে বলতে গেলে সারা গ্রামের মানুষেরই মুখে চিন্তার ছাপ পড়ে গেছিল। তারা দেখতে আসতো। আমাদের বাড়িতে ভিড় জমে যেত।

গ্রামের ডাক্তারবাবুরা তাও তিন-চার দিন ধরে অনেকরকম ভাবেই চেষ্টা করলেন। কিন্তু অবস্থার সেরকম উন্নতি হলো না।

চতুর্থ দিনের মাথায় ঘটলো ঘটনাটা। সময়টা বিকেলের শেষের দিক। বৃষ্টি এক নাগাড়ে পড়েই চলেছে। আমাদের তো মাটির বাড়ি। উঠোনে অনেক লোক বসে আছে। সবাই ঠাকুরদাদাকেই দেখছে। ঠাকুরদাদার শরীর খারাপের কথা শুনে অনেক লোকই দেখতে আসে তাঁকে — যেদিন থেকে তিনি অসুস্থ হয়েছেন সেদিন থেকে। তো সেদিনও অনেকেই উপস্থিত আছে। ঠাকুরদাদা কাঠের চেয়ারে বসে আছেন মাথা নিচু করে। শরীর তাঁর বেশ দুর্বল হয়ে গেছে।

হঠাৎ একটি লোক বাইরে থেকে এসে আমাদের উঠোনে উপস্থিত হলেন। তাঁকে আমরা গ্রামে এর আগে কখনও দেখিনি। তাঁর হাতে একটি চামড়ার ব্যাগ।
কিন্তু তাজ্জব ব্যাপার এই যে বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে অথচ তাঁর সঙ্গে কোনো ছাতা নেই। তিনি যে বৃষ্টিতে ভেজেননি তার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেল — তাঁর জামাকাপড় কোথাও ভিজে নেই বা তাঁর হাতে পায়ে কোথাও জলের চিহ্ন নেই। এমনকি মুখও বৃষ্টিতে ভেজেনি। সত্যিই অবাক কাণ্ড!
তাহলে কি তিনি গাড়িতে এসেছেন? কিন্তু বাইরে তো কোনো গাড়ি থামার শব্দ পাওয়া যায়নি।

তাঁকে দেখতে এমন — লম্বা-চওড়া, ফর্সা, মাথায় অল্প চুল আছে, গায়ে বাদামি রঙের সুতির জামা ও পরনে ধুতি। চোখে কালো ফ্রেমের চশমা। মুখ লম্বাটে ধরনের। তবে মুখে কোনোদিনই মনে হয় হাসির রেখা ফুটে ওঠেনি — এতটাই গম্ভীর ও একপ্রকার বিরক্তিতে ভরা সে মুখ।

তাঁকে দেখে উঠোনের যেসব মানুষ বসেছিল তারা সবাই অবাক হয়ে গেল।
সত্যিই তারা এই মানুষটিকে আগে কখনও কোথাও দেখেনি।
ইনি কি তবে আকাশ থেকে চলে এলেন?

তিনি বললেন, এই রোগের সমাধান একমাত্র আমিই করতে পারব। আপনারা দেখতে থাকুন এক ঘন্টার মধ্যেই ইনি(ঠাকুরদাদার দিকে ঈঙ্গিত করে) সুস্থ হয়ে উঠবেন। বেশ কঠিন স্বরে বলে থামলেন।

প্রথমে তাঁকে আমাদের কারোরই ডাক্তার বলে মনে হয়নি। কে না জানি কোথা থেকে চলে এসে রোগ সারাতে লাগলেন — আর এইরকম গলার স্বর — মুখ সদাই গম্ভীর —- কিন্তু সাধারণত আমরা জানি ডাক্তার মানুষরা নম্র ভদ্র বিনয়ী ভাবে কথা বলেন।

যাইহোক, তিনি যখন রোগ সারাবেনই বলেছেন তাহলে অবশ্যই একজন ডাক্তার মানুষ। আমার বাড়ির মা, কাকিমারা চেয়ার এনে তাঁকে বসতেন দিলেন। জলখাবার খেতে দেয়ার জন্য অনুরোধ জানালেন।
কিন্তু তিনি আবার সেই কঠিন স্বরে বললেন, না আমি কিছুই খাব না। আমি শুধু ওনাকে রোগ থেকে মুক্তি করে দিয়ে চলে যাব।

আমার বাবা বললেন, আমরা তো কেউ আপনাকে বলিনি আমাদের বাড়িতে এমন রোগী আছে। তবে আপনি জানতে পারলেন কীভাবে?
ডাক্তারবাবু আবার সেই একই স্বরে বললেন, আমাকে বলতে হয় না আমি সবকিছুই জানতে পারি।
তিনি তাঁর চটের ব্যাগ থেকে কী একটা ওষুধ বার করলেন — কালো শিশির মধ্যে ছিল — বড়ি মতো — সেটি জল দিয়ে ঠাকুরদাদাকে খেয়ে নিতে বললেন। আমার মা ঠাকুরদাদাকে জলের গ্লাস এগিয়ে দিলেন। ঠাকুরদাদা খেয়ে নিলেন।

প্রায় আধঘন্টা সবাই চুপ। কেউ কোনো কথা বলছে না। উঠোন একদম শান্ত। বাইরে বৃষ্টি পড়ার শব্দ হচ্ছে। পরিবেশটা যেন এক প্রকার অপার্থিব হয়ে উঠেছে! ডাক্তার লোকটি ঠাকুরদাদার দিকে তাকিয়ে আছেন।

আরও আধঘন্টা পর ঠাকুরদাদা আস্তে আস্তে বললেন, হ্যাঁ আমি এখন অনেকটাই ভালো হয়ে গেছি।
ঠাকুরদাদার চোখে মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। আমার বাবা ঠাকুরদাদার গায়ে হাত দিয়ে দেখলেন জ্বর একদমই নেই।
ঠাকুরদাদা বললেন, (আমার মাকে উদ্দেশ্য করে) বৌমা যাও তো কিছু খাবার নিয়ে আসো — কয়েকদিন ভালো ক’রে কিছু খাওয়া হয়নি।

আমরা উঠোন শুদ্ধ লোক সবাই তো অবাক। যে মানুষটিকে আমাদের গ্ৰামের কোনো ডাক্তার সারাতে পারল না সেখানে এই মানুষটি কোথাও বলা নেই কওয়া নেই কোথা থেকে এসে — সম্পূর্ণ সুস্থ করে দিলেন!

আমরা তাঁর নাম জানতে চাইলাম। তিনি বললেন (এবার রুক্ষ স্বরে), আমার নাম জেনে আপনাদের লাভ নেই। আমাকে কোথাও খোঁজার চেষ্টা করবেন না। বিফল হবেন। এক সময় আমি ছিলাম।

এই বলে তিনি চেয়ার ছেড়ে উঠে চলে গেলেন আর কোনো কথাই বললেন না। বাইরে তখন অন্ধকার নেমে এসেছে। কিন্তু বৃষ্টি হয়েই চলেছে।আমরা প্রায় সবাই তাঁর দিকে তাকিয়ে ছিলাম। যেন মনে হ’ল লোকটি আমাদের বাড়ির বাইরে বেরিয়ে একপ্রকার অদৃশ্য হয়ে গেল। তিনি যে কোনদিকে গেলেন সেরকম বোঝা গেল না। লোকটি কি এই বৃষ্টির সঙ্গে মিশে গেল একেবারে? আমরা সবাই অবাক হয়ে গেলাম। এ ওর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলাম।

তিনি চলে যাওয়ার পর আমার বাবা আমাদের সকলের দিকে তাকিয়ে বললেন, লোকটা ভালো ডাক্তার হতে পারে ঠিকই। কিন্তু কথাবার্তা এত রুক্ষ প্রকৃতির ভাবা যায় না। আর শেষের দিকে কী যেন বললেন — একসময় আমি ছিলাম — মানে? উনি কি এখন নেই? তাহলে এখানে একটু আগে কে ছিল? — উনিই তো — তাহলে?
আমাদের সকলের গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল।

— অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী
২/৩/২০২৬</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/238214/</link>
				<pubDate>Thu, 05 Mar 2026 17:37:52 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্প: একটি ভৌতিক ঘটনা<br />
&#8212; অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী </p>
<p>অনেকদিন আগের কথা বলছি। তখন আমাদের গ্রাম এত উন্নত ছিল না যেমনটা এখন উন্নত হয়েছে।<br />
যে সময়কার কথা বলছি তখন আমার বয়স বছর কুড়ি-একুশ হবে। আমি সবে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে বাড়িতেই বসে আছি। কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য চেষ্টা করছি।</p>
<p>তখন আমাদের গ্রামে বাড়ি বলতে ঐ কুড়ি-পঁচিশটা মতো ছিল। ভালো রাস্তাঘা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-238214"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/238214/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a5fcfabf3e3eea1097a0d473b6af12f0</guid>
				<title>কবিতা: একজনকে ভালোবেসেছিলাম 
--- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী 
একজনকে ভালোবেসেছিলাম
কিন্তু তাকে কাছে পাইনি
তাকে ছুঁতে পাইনি
তাকে বলতে পারিনি মনের কথা
বলতে পারিনি &#039;আমি তোমায় ভালোবাসি&#039;।

শুধু দূর থেকেই তাকে দেখে গেছিলাম
আর বুকের কষ্ট বাড়িয়েছিলাম,
শুধু দূর থেকেই তাকে নিজের করে নিয়েছিলাম
আর তাতেই ক্ষণিকের সন্তুষ্ট হয়েছিলাম।

সে আমার কাছে অধরাই ছিল
আমি তার মুখ কোনোদিনও ভুলতে পারিনি,
তার চোখ, নাক, ঠোঁট, মাথার লম্বা চুল...
কোনোদিনও ভুলতে পারিনি।

তাকে কাছে না পেয়ে 
তার ছবি আমি মনের মধ্যেই সাজিয়ে রেখেছিলাম।
কিন্তু তাকে চেয়েছিলাম কাছে 
অনেক কাছে...
তাকে নিজের বুকে 
আগলে রাখতে চেয়েছিলাম।
কিন্তু সেইসব সাধ পূরণ হয়নি
তাই দুঃখ যন্ত্রনা আর সহ্য না করতে পেরে 
বহু অভিমানে একদিন পৃথিবী ত্যাগ করলাম।

--- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী 
৫/৩/২০২৬</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/238213/</link>
				<pubDate>Thu, 05 Mar 2026 17:34:37 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কবিতা: একজনকে ভালোবেসেছিলাম<br />
&#8212; অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী<br />
একজনকে ভালোবেসেছিলাম<br />
কিন্তু তাকে কাছে পাইনি<br />
তাকে ছুঁতে পাইনি<br />
তাকে বলতে পারিনি মনের কথা<br />
বলতে পারিনি &#8216;আমি তোমায় ভালোবাসি&#8217;।</p>
<p>শুধু দূর থেকেই তাকে দেখে গেছিলাম<br />
আর বুকের কষ্ট বাড়িয়েছিলাম,<br />
শুধু দূর থেকেই তাকে নিজের করে নিয়েছিলাম<br />
আর তাতেই ক্ষণিকের সন্তুষ্ট হয়েছিলাম।</p>
<p>স&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-238213"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/238213/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d8e8a7ca9ebc373349a870e5a20cfc79</guid>
				<title>কবিতা: আই লাভ ইউ 
--- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী 

যদি জানতে চাও কী বলব তোমায় ---
আই লাভ ইউ।

যদি শুনতে চাও কী বলব তোমায় ---
আই লাভ ইউ।

যদি প্রশ্ন করো কী বলব তোমায় ---
আই লাভ ইউ।

যদি উপহার চাও কী দেব তোমায় ---
আই লাভ ইউ।

যদি হঠাৎ তোমায় আসতে বলি কিছু বলব ব&#039;লে ---
আই লাভ ইউ।

যদি বলো আমার কি আর অন্য কোনো কথা বলার নেই 
আমি বলব না,
আর বলব শুধু একটা কথাই বলার আছে ---
আই লাভ ইউ।

যদি বলো আমি সারাদিন ধ&#039;রে কোন্ কথাটা ভেবে যাই ---
আই লাভ ইউ।

যদি বলো আমি যখন লিখতে বসি
কোন্ কথাটাই লিখি শুধু ---
আই লাভ ইউ।

যদি জানতে চাও ঘুমোতে ঘুমোতে, খেতে খেতে, কাজ করতে করতে 
কোন্ কথাটাই শুধু ভেবে যাই ---
আই লাভ ইউ।

যদি জানতে চাও 
আমি কখনও অসুস্থ হ&#039;লে 
কোন্ ওষুধ খেলে সেরে উঠব,
আমি বলব যদি তুমি কাছে থেকে
আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দাও 
আর আমাকে বলো আই লাভ ইউ।

--- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী 
৩/৩/২০২৬</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/238183/</link>
				<pubDate>Wed, 04 Mar 2026 00:52:15 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কবিতা: আই লাভ ইউ<br />
&#8212; অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী </p>
<p>যদি জানতে চাও কী বলব তোমায় &#8212;<br />
আই লাভ ইউ।</p>
<p>যদি শুনতে চাও কী বলব তোমায় &#8212;<br />
আই লাভ ইউ।</p>
<p>যদি প্রশ্ন করো কী বলব তোমায় &#8212;<br />
আই লাভ ইউ।</p>
<p>যদি উপহার চাও কী দেব তোমায় &#8212;<br />
আই লাভ ইউ।</p>
<p>যদি হঠাৎ তোমায় আসতে বলি কিছু বলব ব&#8217;লে &#8212;<br />
আই লাভ ইউ।</p>
<p>যদি বলো আমার কি আর অন্য কোনো কথা বলার নেই<br />
আমি বলব না,&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-238183"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/238183/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e871e4d8806f6e84d427cad8f8c0c31b</guid>
				<title>কবিতা: আই লাভ ইউ 
--- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী 

যদি জানতে চাও কী বলব তোমায় ---
আই লাভ ইউ।

যদি শুনতে চাও কী বলব তোমায় ---
আই লাভ ইউ।

যদি প্রশ্ন করো কী বলব তোমায় ---
আই লাভ ইউ।

যদি উপহার চাও কী দেব তোমায় ---
আই লাভ ইউ।

যদি হঠাৎ তোমায় আসতে বলি কিছু বলব ব&#039;লে ---
আই লাভ ইউ।

যদি বলো আমার কি আর অন্য কোনো কথা বলার নেই 
আমি বলব না,
আর বলব শুধু একটা কথাই বলার আছে ---
আই লাভ ইউ।

যদি বলো আমি সারাদিন ধ&#039;রে কোন্ কথাটা ভেবে যাই ---
আই লাভ ইউ।

যদি বলো আমি যখন লিখতে বসি
কোন্ কথাটাই লিখি শুধু ---
আই লাভ ইউ।

যদি জানতে চাও ঘুমোতে ঘুমোতে, খেতে খেতে, কাজ করতে করতে 
কোন্ কথাটাই শুধু ভেবে যাই ---
আই লাভ ইউ।

যদি জানতে চাও 
আমি কখনও অসুস্থ হ&#039;লে 
কোন্ ওষুধ খেলে সেরে উঠব,
আমি বলব যদি তুমি কাছে থেকে
আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দাও 
আর বলো আই লাভ ইউ।

--- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী 
৩/৩/২০২৬</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/238178/</link>
				<pubDate>Tue, 03 Mar 2026 17:56:15 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কবিতা: আই লাভ ইউ<br />
&#8212; অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী </p>
<p>যদি জানতে চাও কী বলব তোমায় &#8212;<br />
আই লাভ ইউ।</p>
<p>যদি শুনতে চাও কী বলব তোমায় &#8212;<br />
আই লাভ ইউ।</p>
<p>যদি প্রশ্ন করো কী বলব তোমায় &#8212;<br />
আই লাভ ইউ।</p>
<p>যদি উপহার চাও কী দেব তোমায় &#8212;<br />
আই লাভ ইউ।</p>
<p>যদি হঠাৎ তোমায় আসতে বলি কিছু বলব ব&#8217;লে &#8212;<br />
আই লাভ ইউ।</p>
<p>যদি বলো আমার কি আর অন্য কোনো কথা বলার নেই<br />
আমি বলব না,&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-238178"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/238178/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ad50c1c2f23594624a41c757d78bbd93</guid>
				<title>কবিতা: আমার তোমাকে চাই 
--- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী 

তুমি তো জানো 
তুমি ছাড়া আমার জীবনে আর কেউ নেই 
কোনো কিছু নেই।
তুমি আমার ক্ষুধা-তৃষ্ণা,
ঘুম-স্বপ্ন, জয়-পরাজয়, আশা-ভালোবাসা।
তোমাকে ছাড়া জীবনে আমি আর কাউকে চাই না।
আমার ঘুমে তুমি
ঘুম ভাঙলে তুমি
আমার রক্তে তুমি
আমার নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসে তুমি
আমার শরীরের প্রতিটি রোমকূপে তুমি।
তুমি ছাড়া আমি দিশাহীন 
তুমি ছাড়া আমি উদ্ভ্রান্ত এক পথিক। 
তুমি আমার সহায়-সম্বল 
তুমি আমার আশ্রয়
তুমি আমার চাওয়া-পাওয়া
তুমি আমার সবকিছু।
তুমি আমার রোগ 
তুমি আমার ওষুধ
তুমি আমার জল
তুমি আমার সব
তুমি আমার সব
তুমি আমার সবকিছু।
আমি তোমায় ছাড়া ভালো থাকবো না ---
কোনোদিন না --- ভালো থাকতে পারি না। 
আমার প্রতিটি শিরা-উপশিরা জানে তোমার নাম, আমার সর্ব অঙ্গে তোমার নাম ছড়িয়ে।
তুমি আমার অনুরাগ
তুমি আমার চাহিদা।
তুমি আমার দেহের শোণিত
তুমি আমার অশ্রু
তুমি আমার হাসি-দুঃখ।
তুমি ফুলের মিষ্টি গন্ধ
তুমি ঝরা পাতা 
তুমি আমার এক সহস্র বছর বেঁচে থাকা।
তুমি আমার চঞ্চলা স্রোতস্বতী
শান্ত সায়র।
তুমি আমার বেঁচে থাকার বসুমতী
তুমি আমার নক্ষত্রখচিত রাতের আকাশ
তুমি আমার স্নিগ্ধ চন্দ্রিমা
তুমি আমার বর্ষার রাতের মৃদু শীতল বাতাস
তুমি আমার কালবৈশাখীর মাতাল ঝোড়ো হাওয়া।
আমি তোমার কথা ভেবে খুশি 
তোমাকে না পেলে আমার চলবে না
আমি বাতুল হয়ে যাব ---- চুল এলোমেলো হয়ে যাবে, জামায় এদিকে-ওদিকে ছিঁড়ে যাবে ---- না না না সে হয় না ---- বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা যেমন লাঠিতে ভর করে হাঁটে তুমি আমার সেই লাঠি ---- তোমাকে ছাড়া আমি এক মুহূর্তও কিছু ভাবতে পারি না।
তোমাকে আমার চাই 
তোমাকে আমার চাই
চাই চাই চাই 
শুধু তোমাকে 
শুধু তোমাকে
শুধু তোমাকেই চাই।
আমরা মৃত্যুকে গ্ৰহণ করব একসাথে 
আর ইতিহাসের পাতায় দৃষ্টান্ত রেখে যাব।
তাই চলে এসো আমার জীবনে ---- &#039;আমার তোমাকে চাই&#039; এই রোগের একমাত্র ওষুধ তুমি ---- তুমি ছাড়া আমি সেরে উঠব না ---- আমি মরে যাব ---- আমাকে বাঁচাও।
তোমাকে আমি পারব না ছাড়তে
তোমার সঙ্গে আমি কোন টানে জড়িয়ে গেছি 
নিজেই জানি না।
আমরা থাকব একসাথে 
এ ধরণি ছেড়ে চলে যাবও একসাথে
সেই অজানা অচেনা দেশে গিয়েও একসাথেই থাকব।
তুমি ছাড়া আমার দমবন্ধ হয়ে যাবে
আমি ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে পড়ব....
তাই আমার তোমাকে চাই
শেষ পর্যন্ত বলছি আমার তোমাকেই চাই।

--- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী 
২/৩/২০২৬</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/238166/</link>
				<pubDate>Tue, 03 Mar 2026 03:44:50 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কবিতা: আমার তোমাকে চাই<br />
&#8212; অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী </p>
<p>তুমি তো জানো<br />
তুমি ছাড়া আমার জীবনে আর কেউ নেই<br />
কোনো কিছু নেই।<br />
তুমি আমার ক্ষুধা-তৃষ্ণা,<br />
ঘুম-স্বপ্ন, জয়-পরাজয়, আশা-ভালোবাসা।<br />
তোমাকে ছাড়া জীবনে আমি আর কাউকে চাই না।<br />
আমার ঘুমে তুমি<br />
ঘুম ভাঙলে তুমি<br />
আমার রক্তে তুমি<br />
আমার নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসে তুমি<br />
আমার শরী&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-238166"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/238166/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">46875a9bfedd04fad10c795aff5f3fcc</guid>
				<title>কবিতা: আমি তোমাকে চাই 
--- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী 


আমি তোমাকে চাই।
আমি যদি কখনও অসুস্থ হই
তবে আমি ডাক্তারও দেখাব না
ওষুধও খাব না
শুধু তোমার স্পর্শ পেলেই
সেরে উঠব
তাই আমি তোমাকে চাই।

আমি তোমাকে চাই।
আমি যদি কখনও ভুল করি
সেই ভুল শুধরে দেওয়ার অধিকার তোমার আছে
আমাকে শাসন করবার অধিকারও তোমারই আছে তাই আমি তোমাকে চাই।

আমি তোমাকে চাই।
কবিতা লেখাই আমার শখ
এখন যেমন তোমার কথা কল্পনা করে কবিতা লিখি তখন তোমাকে পেয়ে গেলে
তোমাকে দেখব আর কবিতা লিখব
তাই আমি তোমাকে চাই।

কবি চায় না ধন-দৌলত
গাড়ি-বাড়ি
প্রচুর টাকা-পয়সা।
আমি কবি
আমার ইচ্ছে নেই আকাশ ছোঁয়ার
আমার ইচ্ছে হ’ল শুধু তোমাকে ছোঁয়ার
তাই আমি তোমাকে চাই।

আমি তোমাকে চাই।
আমার ঘরে কখনও কিঙ্কিণির আওয়াজ ওঠেনি
আমি চাই তুমি হাঁটবে আমার ঘরে
আর সেই মাদকতাময় কিঙ্কিণির আওয়াজে মুখরিত হবে আমার মন প্রাণ
তাই আমি তোমাকে চাই।

আমি তোমাকে চাই।
আমার অনুরাগ আর কা’রও প্রতি নেই
শুধু তোমার প্রতি ছাড়া
তাই আমি তোমাকে চাই।

— অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী
১/৩/২০২৬</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/238155/</link>
				<pubDate>Mon, 02 Mar 2026 17:39:50 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কবিতা: আমি তোমাকে চাই<br />
&#8212; অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী </p>
<p>আমি তোমাকে চাই।<br />
আমি যদি কখনও অসুস্থ হই<br />
তবে আমি ডাক্তারও দেখাব না<br />
ওষুধও খাব না<br />
শুধু তোমার স্পর্শ পেলেই<br />
সেরে উঠব<br />
তাই আমি তোমাকে চাই।</p>
<p>আমি তোমাকে চাই।<br />
আমি যদি কখনও ভুল করি<br />
সেই ভুল শুধরে দেওয়ার অধিকার তোমার আছে<br />
আমাকে শাসন করবার অধিকারও তোমারই আছে তাই আমি তোমাকে চাই।</p>
<p>আমি তোমাকে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-238155"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/238155/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">bfa88c83d4bb2787893f4b2369a8e647</guid>
				<title>তোমাকে চাই 
---- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী 

আমার ঐ একটাই আশা 
তোমাকে চাই। 
আমার ঐ একটাই ইচ্ছে 
তোমাকে চাই। 
আমার ঐ একটাই চাহিদা 
তোমাকে চাই।
আমার ঐ একটাই চাওয়া 
তোমাকে চাই।
আমার ঐ একটাই শখ 
তোমাকে চাই। 
আমি শুধু তোমাকে... তোমাকে... তোমাকে...
শুধু তোমাকে চাই।

--- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী 
১/৩/২০২৬</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/238137/</link>
				<pubDate>Mon, 02 Mar 2026 04:44:53 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>তোমাকে চাই<br />
&#8212;- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী </p>
<p>আমার ঐ একটাই আশা<br />
তোমাকে চাই।<br />
আমার ঐ একটাই ইচ্ছে<br />
তোমাকে চাই।<br />
আমার ঐ একটাই চাহিদা<br />
তোমাকে চাই।<br />
আমার ঐ একটাই চাওয়া<br />
তোমাকে চাই।<br />
আমার ঐ একটাই শখ<br />
তোমাকে চাই।<br />
আমি শুধু তোমাকে&#8230; তোমাকে&#8230; তোমাকে&#8230;<br />
শুধু তোমাকে চাই।</p>
<p>&#8212; অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী<br />
১/৩/২০২৬</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">bb4e51d6c43aeb46bd1de7b2956790be</guid>
				<title>ভ্রমণ কাহিনী 
স্টেশনের নাম বাঁশবেড়িয়া


বাঁশবেড়িয়া স্টেশনটি খুব সুন্দর। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। এই স্টেশনটির বর্ণনা এই কারণেই করছি কারণ আমার ভালো লেগেছিল।
মানুষ যাকে পছন্দ করে তার সম্বন্ধে কিছু লিখতে চায় —- হোক সেটা কবিতা বা গল্প। এই কবিতা বা গল্পের মাধ্যমেই তার মনের ভাব প্রকাশ করতে চায়।
কতটা ভালোবাসে সেটা কবিতা বা গল্পের মাধ্যমেই বুঝিয়ে দেয়।

এই স্টেশনটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হুগলি জেলায় অবস্থিত। ব্যাণ্ডেল থেকে যে লাইন নবদ্বীপ চলে গেছে, এই স্টেশনটি সেই লাইনেই অবস্থিত।

হংসেশ্বরী মন্দির যাবার জন্য এই স্টেশনে নামতে হয়। স্টেশনের বাইরে থেকে টোটো বা অটো নিয়ে মন্দিরে পৌঁছে যাওয়া যায়। আমরা গেছিলাম ঐ মন্দিরে কোনো এক শীতকালে। শীতকালে সাধারণত ঘুরে বেড়িয়ে বেশ মজা লাগে।
আর সেই জন্য শীতকালেই হংসেশ্বরী মন্দির ভ্রমণে বেরিয়েছিলাম ফলস্বরূপ ঐ স্টেশনে নেমেছিলাম। স্টেশনে ট্রেন থেকে নেমে খুব ভালো লেগেছিল চারপাশের পরিবেশ। তখন থেকেই ভেবেছিলাম যদি কিছু না লিখি এই স্টেশন নিয়ে তাহলে আমার ভ্রমণ কাহিনী লেখার জীবন ব্যর্থ।

স্টেশনটি মোটামুটি বড়ো। এক্সপ্রেস ট্রেন থ্রু হয়ে বেরিয়ে যায়। লোকাল ট্রেন থামে। যখন এই লেখাটি লিখছি তখন অব্দি ঐ স্টেশনে একবারই গেছি। আশা আছে আরও কয়েকবার যাব। এমন কত স্টেশন আছে, সব স্টেশনের নাম কি জানি? ঐ ঘুরতে বেড়াতে গেলে এই ধরনের স্টেশনগুলি দেখা যায়। তাই জন্যই তো বলি, ঘোরা উচিত, কত কী জানা যায়, কত কী দেখা যায়!
স্টেশনের কয়েকটি ছবি তুলে নিয়েছিলাম আমার মোবাইলে। স্মৃতি হয়ে থাকবে। ছবি তুলেছিলাম নিজেরও কিছু, ঐ স্টেশনের নাম লেখা থাকে যে বোর্ডে সেখানে দাঁড়িয়ে।

আমরা স্টেশনে পৌঁছেছিলাম সকাল দশটার কাছাকাছি (ঠিক মনে করতে পারছি না সময়টা তবে ঐরকমই হবে)। তখন তেমন ভিড় দেখিনি। কিন্তু যখন ফিরে আসছিলাম — এই স্টেশনের উপর দিয়ে ট্রেনে করে যাচ্ছিলাম তখন দেখেছিলাম ভিড় ছিল।(আসলে আমার নেমেছিলাম বাঁশবেড়িয়া স্টেশনে আর ফিরে আসার জন্য উঠেছিলাম ট্রেনে, ত্রিবেণী ঘাট স্টেশন থেকে। এই বাঁশবেড়িয়া স্টেশনের উপর দিয়েই আবার ব্যাণ্ডেল হয়ে বাড়ি ফিরেছিলাম।)

আমরা উঠেছিলাম শিয়ালদহ স্টেশন থেকে নবদ্বীপের ট্রেন ধরে। সেই ট্রেনে করেই এই বাঁশবেড়িয়া স্টেশনে নামি। আর ফিরে আসার সময় ত্রিবেণী ঘাট স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠেছিলাম। সেটা ছিল হাওড়ার ট্রেন। তাই আমাদের ব্যাণ্ডেল স্টেশনেই নেমে যেতে হয়েছিল। কারণ ব্যাণ্ডেল থেকে শিয়ালদহ আর হাওড়ার দুটো আলাদা লাইন চলে গেছে। আমরা যেহেতু শিয়ালদহ-তে যাব তাই ব্যাণ্ডেলেই নেমে পড়েছিলাম। ব্যাণ্ডেল থেকে নৈহাটি হয়ে শিয়ালদহ-তে পৌঁছে যাওয়া যায়।
এই ফিরে আসার ট্রেনটি থ্রু হয়ে যাচ্ছিল বাঁশবেড়িয়া স্টেশনের উপর দিয়ে। ফিরে আসার সময় আবার একবার দেখেছিলাম সকালের স্টেশনটিকে।

১১/৬/২০২৪</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/238078/</link>
				<pubDate>Fri, 27 Feb 2026 08:55:42 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ভ্রমণ কাহিনী<br />
স্টেশনের নাম বাঁশবেড়িয়া</p>
<p>বাঁশবেড়িয়া স্টেশনটি খুব সুন্দর। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। এই স্টেশনটির বর্ণনা এই কারণেই করছি কারণ আমার ভালো লেগেছিল।<br />
মানুষ যাকে পছন্দ করে তার সম্বন্ধে কিছু লিখতে চায় —- হোক সেটা কবিতা বা গল্প। এই কবিতা বা গল্পের মাধ্যমেই তার মনের ভাব প্রকাশ করতে চায়।<br />
কতটা ভালোবাসে সেটা কবিতা বা গল্পের মাধ্যমেই বু&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-238078"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/238078/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9136f3451671946dedf00eac1e20695e</guid>
				<title>গল্প:- ব্রহ্মদৈত্যর আশীর্বাদ
লেখা:- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী


আজ থেকে অনেক বছর আগের কথা বলছি।
তখন আমাদের অজয়পুর ছিল একেবারে অজ পাড়া গাঁ। গ্ৰামের বাড়িগুলি কম করে হলেও একশো দুশো মিটার অন্তর ছিল। গ্ৰামে একটাই মাত্র উচ্চমাধ্যমিক স্কুল ছিল। সেখানে প্রথম শ্রেণি থেকেই পড়াশোনা চলত।গ্ৰামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে হীরামতি নদী।এই নদীর পাশেই সপ্তাহে তিনবার হাট বসত।গ্ৰামে কোনো ডাক্তারখানা ছিল না।তবে দুই ঘর বৈদ্য বাস করত।ব্যস এই নিয়ে আমাদের গ্ৰাম গড়ে উঠেছিল।গ্ৰাম থেকে একুশ কিমি দূরে ভীমনগর শহর অবস্থিত। সেখানে হাসপাতাল কলেজ সবই আছে।

তবে বর্তমানে আর সেই আগের মতো গ্ৰাম নেই।অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এখন উচ্চমাধ্যমিক স্কুল ছাড়াও দুটো প্রাথমিক স্কুল গড়ে উঠেছে। এখন একটা ছোটো বাজার গড়ে উঠেছে নদীর ধারে সেই জায়গায় যেখানে আগে তিনবার হাট বসত। যদিও এখন আর হাট বসে না।গ্ৰামে বসতি আরও বেড়ে গেছে।এছাড়াও গ্ৰামে একটা বড়ো স্বাস্থ্যকেন্দ্র হয়েছে।

আমি বর্তমানে একজন অবসরপ্রাপ্ত চাকুরিজীবী।কলকাতায় পরিবার নিয়ে থাকি কারণ, কালকাতাতেই একটা প্রাইভেট সংস্থায় কাজ করতাম। বাবা মাকে আসতে বলেছিলাম, আমার কাছে থাকার কথাও বলেছিলাম, কিন্তু তাঁরা আসতে চাননি। তাঁরা গ্ৰামেই থেকে গেছেন।তাই চাকরি থেকে যখনই ছুটি পাই তখনই বাবা মায়ের কাছ থেকে ঘুরে আসি পরিবার নিয়ে। 

আজও যখন সেই দিনের কথাটা ভাবি তখন সারা শরীরের লোমগুলো দাঁড়িয়ে যায়। শরীরে ঠান্ডা স্রোত বয়ে যায়।

যাই হোক যে সময়ের কথা বলছি তখন আমার বয়স একুশ কি বাইশ বছর। নিজের গুণের কথা নিজের মুখে প্রচার করতে নেই তবু বলছি কিশোর বয়সে আমি অন্যের বিপদে আপদে এগিয়ে যেতাম। পাশে দাঁড়াতাম।যতটা সম্ভব সাহায্য করতাম। যেমন কারও অসুখ করলে শহরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো ইত্যাদি।

সেদিনটা ছিল ভাদ্র মাসের কোনো এক দিন। দীর্ঘ এক সপ্তাহ ধরে আমাদের গ্ৰামের হারাধন মুখোপাধ্যায় পেটের ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছিলেন। হারাধনবাবুর কোনো সন্তান নেই যদিও বিয়ে করেছিলেন। ক্ষেতে ফসল ফলিয়ে তা হাটে বিক্রি করে যা রোজগার হত তাতেই কোনোরকমে দিন কাটাতেন। বয়স আন্দাজ চল্লিশ পঞ্চাশের কাছাকাছি।আগেই বলেছি আমাদের গ্ৰামে দুজন বৈদ্য বাস করতেন। তো তাঁরা অনেক চেষ্টা করলেন। কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ করতে পারলেন না। তাঁরা দেখলেন যে ব্যথাটা রাতের দিকে বাড়ে কিন্তু সকাল বেলায় কম থাকে।এভাবে চলতে চলতে তাঁরা হাল ছেড়ে দিলেন। আটদিনের মাথায় হারাধনবাবুর পেটের ব্যথা আরও বাড়ল। দিনের বেলাটা কোনোরকমে কাটল। কিন্তু রাতের বেলায় একেবারে যন্ত্রনায় ছটফট করতে শুরু করলেন। অনেকটা কাটা ছাগলের মতো। তাঁর ঐ অবস্থা দেখে খুব খারাপ লাগল।তাই আমি উদ্যোগী হয়ে সন্ধ্যা ছ&#039;টা নাগাদ সালেমচাচার রিক্সায় করে হারাধনবাবুকে সঙ্গে নিয়ে শহরের হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।শহরে যেতে ঘন্টা চারেক তো লাগবেই সেই ভেবে তাড়াতাড়ি রওনা হলাম। আর তাছাড়া গ্ৰামের মেঠো পথ তার উপর এবড়োখেবড়ো।তাই যেতে সময় লাগবেই।

পূর্ণিমার রাত ছিল। তাই সঙ্গে কোনো হারিকেন বা টর্চ নিলাম না।গ্ৰামের মাঠ, বন, মেঠো রাস্তা পূর্ণিমার আলোয় যেন এক মায়াবী ভৌতিক পরিবেশ গড়ে তুলেছিল। সেই আলোয় পথ চলতে খুব একটা অসুবিধা হচ্ছিল না। 
হারাধনবাবুর ছটফটানি ভাবটা তখন কিছুটা কমেছিল। তিনি মাথা নিচু করে বসেছিলেন পেটে হাত দিয়ে। মুখ থেকে একটাও কথা বলছিলেন না।

প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ঐভাবে চললাম। শহরে ঢোকার আগে বেলবাগান পেরোতে হয়।এই বেলবাগান মেঠো পথের দুই পাশে অবস্থিত। কিন্তু এমন চাঁদোয়ার মতো পথ ঢেকে রাখে যে দিনের বেলাতেও সূর্যের আলো ঠিকঠাক ঢুকত না। 
এই বাগান যেই পেরোতে শুরু করলাম তখনই যেন দুনিয়ার সব ফুল, চন্দন, সুগন্ধি ধূপ ধূনোর গন্ধ আমার নাকে আসতে লাগল। আমি কেমন যেন ভয় পেয়ে গেলাম। সালেমচাচাকে জিজ্ঞেস করলাম যে গন্ধ পাচ্ছে কিনা।চাচা বলল, হ্যাঁ।
মনে মনে ভাবলাম আমি তো কতবার এই পথে রাতের বেলায় সকাল বেলায় গেছি এসেছি কোনোদিন তো এমন গন্ধ পাইনি। সারাটা পথ আমি হারাধনবাবুর গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলাম।
হঠাৎ দেখি তিনি কেমন যেন কাঁপছেন। আমি অবাক হয়ে গেলাম। বললাম, &quot;হারাধনবাবু কী হল আপনার? এমন কাঁপছেন কেন?&quot;
এতটা পথ যে এলাম তিনি কোনো কথা বলেননি। স্বাভাবিকভাবেই পেট ব্যথার কারণে। কিন্তু তখন হঠাৎ বলে উঠলেন, &quot;বাবা আমার পেট ব্যথা আর নেই।&quot;
আমি আর চাচা দুজনেই একসাথে বললাম, &quot;অ্যাঁ? কী বলছেন?&quot;
আমি বললাম, &quot;আপনার... আপনার পেট ব্যথা আর করছে না? 
হারাধনবাবু বললেন, &quot;না গো বাবা।&quot;
জিজ্ঞেস করলাম, &quot;আচ্ছা, আপনি কোনো গন্ধ পাচ্ছেন? মানে ফুল ধূপের?&quot;
উনি বললেন, &quot;হ্যাঁ পাচ্ছি।&quot;
তখনও বেলবাগান পুরোটা পেরোইনি। আমি অবাক হয়ে গেলাম।
এখানে একটা কথা বলা ভালো। এর আগে আমি এমন কোনো পরিস্থিতিতে আগে কখনও পরিনি। এমন অলৌকিক ঘটনার কথা গল্পের বইতে ঢের পড়েছি।বাস্তবে এই প্রথম এমন কোনো ঘটনার মুখোমুখি হলাম। তাই সত্যি যে ভয় লাগছিল না একথা বলতে পারি না।
এতটা পথ এলাম। যন্ত্রনায় যে মানুষটা কথা বলতে পারছিল না সে এই বেলবাগান পার করার সময় হঠাৎ সুস্থ হয়ে গেল? কথা বলতে পারল? আমি এসব নিজের মনেই ভেবে চললাম। কিন্তু প্রকাশ করলাম না।
আমি আবার ভাবতে শুরু করলাম যা ঘটছে তা কি আদৌ ঘটছে নাকি আমি কোনো স্বপ্ন দেখছি? এই ভেবে নিজের হাতে একটা চিমটি কাটলাম। লাগল। তার মানে পুরাটাই সত্যি! 
গন্ধ তখনও পাচ্ছি। আমি বললাম, &quot;তবু আপনাকে হাসপাতালে নিয়ে যাব।এতটা পথ এসেছি আর শেষে যদি নাই যাই তাহলে পুরো পরিশ্রমটাই জলে যাবে।আর আপনার পেটে ব্যথা এখন সেরে গেলেও পরে তো আবার দেখা দিতে পারে।&quot;
হারাধনবাবু বললেন, &quot;না গো বাবা। আর হবে না। আমি বলছি শোনো।&quot;
সালেমচাচা বললেন,&quot;না না ছোটোবাবু ঠিকই বলেছে,চলুন যাই হাসপাতালে‌।&quot;
এইসব কথা বলতে বলতে আমরা বেলবাগান পার করলাম। বেলবাগান পার করার সাথে সাথে গন্ধও মিলিয়ে গেল।

শহরের বড়ো রাস্তায় যখন এলাম তখন রাত কত হবে? ন&#039;টা কি দশটা। আরও আধঘন্টা যাওয়ার পর হাসপাতালে পৌঁছলাম। তখন হারাধনবাবু পুরোপুরি সুস্থ। তাঁর চোখ মুখ বলে দিচ্ছে।
ডাক্তারবাবুর কাছে গেলাম। 
উনি বললেন, &quot;কী হয়েছে রোগীর?&quot;
আমি সব কথা জানালাম। পথে আসার সময় শুধু বললাম না বেলবাগানে ধূপ ধুনোর গন্ধের কথা। কী জানি শহুরে মানুষেরা হয়ত এসব আজগুবি কথা বিশ্বাস করবে না।
ডাক্তারবাবু সব শুনে বললেন, &quot;পথে আসতে আসতেই রোগ সেরে গেছে?
বাবা! আমার চাকরি জীবনে এই প্রথম এমন কোনো রোগীকে দেখলাম।&quot;
ডাক্তারবাবু বললেন, &quot;ঠিকাছে আমি তবুও ওনার পেট টিপে দেখে জিজ্ঞেস করছি পেটের কোথায় ব্যথা করছিল।&quot;
ডাক্তারবাবু যেই হারাধনবাবুর পেটের জামাটা সরাতে যাচ্ছিলেন হঠাৎ বললেন, &quot;একী জামায় এত ধুলো কোথা থেকে এল? আর জামার গায়ে এসব কী? কিসের যেন লম্বা লম্বা ছাপ বলে মনে হচ্ছে।&quot;
আবার বললেন, &quot;দেখি আপনি পিছনে ঘুরে বসুন তো।&quot;
হারাধনবাবু তাই করলেন।
ডাক্তারবাবু বললেন, &quot;লম্বা লম্বা ছাপ তো জামার পিছনের দিকেও আছে। তারমানে সারা জামাতেই এই ধরনের ছাপ!&quot;
আমি আর সালেমচাচা দেখলাম। আচ্ছা, এতটা পথ যে এলাম তখন দেখিনি তো, হয়তো লক্ষ্য করিনি।
ডাক্তারবাবু বললেন, &quot;রোগীর জামায় এইরকম ছাপ এলো কোথা থেকে? এগুলো তো কোনো জুতোর ছাপ মনে হচ্ছে।&quot;
আমি ও সালেমচাচা একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছি। দুজনেই আবাক‌।দেখলাম হারাধনবাবুও কেমন অবাক হয়ে গেছেন।
আমি বললাম, &quot;বুঝতে পারছি না ডাক্তারবাবু হয়তো জামাটায় আগে থেকেই ঐরকম ছাপ ছিল।&quot;
ডাক্তারবাবু বললেন, &quot;কিন্তু দেখুন এই ধরনের জুতোর ছাপ তো আমার আপনার পায়ের জুতোর মতো নয়। আমি যদি ভুল না বলি তাহলে এটা কোনো খরমের ছাপ। মানে জামার উপর দিয়ে খরম পায়ে কেউ হেঁটে গেছে?&quot;
আমি আর চাচা ফের একে অপরের মুখের দিকে তাকালাম। আমাদের দুজনের চোখই বিস্ফারিত।
আমি হারাধনবাবুকে জিজ্ঞেস করলাম, &quot;আপনি যখন বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তখন দেখেছিলেন কি জামায় এইরকম ছাপ রয়েছে?
এবার হারাধনবাবু বললেন, &quot;কই না তো আমি একরকম কোনো ছাপ দেখিনি। জামাটা একদম নতুন। ট্রাঙ্ক থেকে বার করে পরেছি।&quot;
ফের আমি আর চাচা একসাথে বললাম, &quot;দেখেননি?&quot;

আর কোনো কথা না বাড়িয়ে আমরা হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে পরলাম।রিক্সায় যেতে যেতে ভাবছিলাম শুনেছি বেলগাছে নাকি ব্রহ্মদৈত্য থাকেন। ডাক্তারবাবুর কথা যদি সত্যিই হয় তাহলে খরম তো তাঁর পায়েই থাকা উচিত।তিনিই তাহলে শেষ অব্দি হারাধনবাবুকে রক্ষা করলেন? তিনি হারাধনবাবুর উপর দিয়ে হেঁটে গেছেন? এও সম্ভব? আমার পাশেই বসেছিলেন অথচ আমি কিছু দেখতে পেলাম না! 
কিন্তু তিনি দেখা দিলেন না কেন? এও শুনেছি তাঁর রূপ নাকি অনেক ভয়ংকর। জানতাম ভগবান মনের কথা বুঝতে পারেন। কিন্তু আজ থেকে ধারণা হলো ভূত প্রেতও মনের কথা জানতে বুঝতে পারে। 
হয়ত ব্রহ্মদৈত্য বুঝেছিলেন যে আমরা ভয় পেয়ে যাবো তাই দেখা দেননি। কিন্তু তাঁর আশীর্বাদেই সুস্থ হলেন হারাধনবাবু। তাঁর আশীর্বাদেই আমরা উপকৃত হলাম।কী অবাক কান্ড না? কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে গ্ৰামে ফিরে সবাইকে কী বলব, ডাক্তারবাবু রোগ সারাননি? ব্রহ্মদৈত্যর কথা বললে কেউ বিশ্বাস করবে?

১৫/১০/২০২৩</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/210888/</link>
				<pubDate>Fri, 29 Mar 2024 04:36:48 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্প:- ব্রহ্মদৈত্যর আশীর্বাদ<br />
লেখা:- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী</p>
<p>আজ থেকে অনেক বছর আগের কথা বলছি।<br />
তখন আমাদের অজয়পুর ছিল একেবারে অজ পাড়া গাঁ। গ্ৰামের বাড়িগুলি কম করে হলেও একশো দুশো মিটার অন্তর ছিল। গ্ৰামে একটাই মাত্র উচ্চমাধ্যমিক স্কুল ছিল। সেখানে প্রথম শ্রেণি থেকেই পড়াশোনা চলত।গ্ৰামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে হীরামতি নদী।এই নদীর পাশেই সপ্তাহে ত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-210888"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/210888/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1af0ed596e92b44a84ad0657e167b3e8</guid>
				<title>পছন্দের ঘাটশিলা স্টেশন
----- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী


ঘাটশিলা স্টেশনটিকে আমার ভীষণ ভালো লেগেছিল। একবারই গেছি ঘাটশিলায়। তবে আশা আছে আরো কয়েকবার যাব।

কলকাতার কাছাকাছি এমন সুন্দর পাহাড়ী জায়গা আর দুটি নেই। এখানে নদী আছে ঝর্ণা আছে জঙ্গল আছে ----- আর কী চাই? কোনো কবি যদি এমন জায়গায় আসেন তবে প্রকৃতির মনোহর রূপ দেখে তিনি সত্যিই মুগ্ধ হয়ে যাবেন। কত কবিতার প্লট যে তাঁর মাথায় আসবে তা তিনি ছাড়া আর কে জানবে?

তা আমি পাহাড় নদী এসবের কথা বাদ দিয়ে হঠাৎ একটা স্টেশনের বর্ণনা কেন করতে যাচ্ছি? কারণ এই স্টেশনটিকে আমার ভালো লেগেছিল তাই। কেউ যদি কাউকে ভালবাসে তবে তো সে তাকে নিয়ে কবিতা লিখতে চায় গল্প লিখতে চায় । তাই না? আমার ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা এর বাইরে নয়।

ঘাটশিলায় আমরা উঠেছিলাম রামকৃষ্ণ মঠে। এই মঠটি স্টেশন থেকে প্রায় এক কিমি দূরে অবস্থিত।এই রামকৃষ্ণ মঠের সামনে দিয়েই মেন রাস্তা চলে গেছে আর রাস্তার পাশেই রেললাইন। মানে রাস্তা ও রেললাইন সমান্তরাল ভাবে চলে গেছে।

বললে বিশ্বাস করবেন না এই ঘাটশিলা স্টেশন দিয়ে দৈনিক (আমি যদি খুব ভুল না বলি) তাও পঞ্চাশ-ষাটটা ট্রেন চলে। ভেবে দেখেছেন? ধরুন পাঁচ থেকে দশ মিনিট অন্তর অন্তর এক একটা ট্রেন যায়। সময়টা এর একটু এদিক ওদিক হতেই পারে। ঐ মালগাড়ি এক্সপ্রেস ট্রেন লোকাল ট্রেন এসবই যায়।

রামকৃষ্ণ মঠে থাকাকালীন এত ট্রেনের আওয়াজ পেয়েছি যে কী বলবো! মঠ থেকে দেখতাম কোনো কোনো ট্রেন থ্রু হয়ে চলে যাচ্ছে আবার কোনো কোনো ট্রেন থামছে। সে এক দারুণ ব্যাপার।

মঠে যখন ঘুম থেকে উঠতাম ভোরে তখনও শুনতাম কি বিশাল শব্দ করে করে সব ট্রেন চলে যাচ্ছে। আবার অনেক রাত অব্দিও পেতাম ট্রেনের আওয়াজ।

মঠের সামনে যে রাস্তা আছে সে রাস্তার পাশেই তো রেললাইন। মাঝেমধ্যে সন্ধেবেলা মূলত আমি রাস্তার পাশে এসে দাঁড়িয়ে থাকতাম। ট্রেন যাওয়া দেখতাম। আমার স্বভাবটা ঐ অপু-দুর্গার মত। সত্যিই অপু-দুর্গার স্রষ্টার জায়গায় গিয়ে যে আমার এমন হ্যাবিট জন্মেছে তা নয়। এ ট্রেন দেখার অভ্যাস আমার বহুদিনের। ট্রেন যাচ্ছে আসছে এমন দৃশ্য দেখতে আমার দারুণ লাগে।

দেখতাম কত কী ট্রেন হাওড়া থেকে আসছে নয়তো টাটানগর থেকে আসছে। এক্সপ্রেস ট্রেনের নামগুলো পড়ার চেষ্টা করতাম।

এখানে আমি জীবনে প্রথম বন্দে ভারত এক্সপ্রেস দেখি। কী স্পিড সেই ট্রেনের! হুইসেল একনাগাড়ে দিতে দিতে স্টেশন পার করে চলে যাচ্ছে।

এই মঠের সামনে যে রাস্তা আছে সেখান থেকেই দেখা যায় ঘাটশিলা স্টেশনটা।

আর একটি কথা যদি না বলি আমার লেখাটি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। যতটুকু সময় মঠে থাকতাম দেখতাম স্টেশনের গেটম্যান এই গেট তুলছেন আবার গেট ফেলছেন। হবে না? এত ঘন ঘন ট্রেন এলে গেলে তো তাই করতে হবে।

মনে মনে তখন ভাবতাম সারা ভারতের মধ্যে মনে হয় এই মানুষটিরই এত কাজ বারবার গেট নামানো আবার তোলানো। কিন্তু তারপরে ভাবতাম, নাঃ এমন স্টেশন ভারতে প্রচুর আছে। সবার কথা কি জানা সম্ভব হয় একসাথে?

আমার শুধু ইচ্ছা হতো ইশ, যদি এমন জায়গায় আমার একটা বাড়ি হত।আহা, তাহলে এমন দিনে-রাতে সারাক্ষণ ট্রেনের আওয়াজ শুনতে পেতাম। ট্রেনের হুইসেলের আওয়াজ, ট্রেন যাওয়ার আওয়াজ...।

আমি যেখানে থাকি মানে আমার যেখানে আসল বাড়ি সেখান থেকে স্টেশন খুব দূরে নয়। হেঁটে গেলে দশ মিনিট। তবে সেখানে এমন ঘন ঘন ট্রেন চলে না। চলে মূলত লোকাল ট্রেন।

কোনো মানুষের সব ইচ্ছা পূরণ হয় কি? 
আমার ইচ্ছাগুলো ভগবান একদিন ঠিকই পূরণ করবেন ---- এই আশাতেই বেঁচে থাকি।

এবারে স্টেশনের বর্ণনায় আসি। ঠিক বিকালের শেষের দিকে আমরা ঘাটশিলা স্টেশনে নেমেছিলাম। ট্রেনটি ছিল হাওড়া-রাঁচি ইন্টারসিটি সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস। মাঝপথে কিছু জায়গায় লেট করার জন্য দেরি হয়ে গেছিল। আর আমরা গেছিলাম শীতকালে। নভেম্বর মাসে। কাজেই তখন সন্ধ্যা তো একটু তাড়াতাড়ি হয় তাই তখন ভালো করে স্টেশন দেখা হয়নি। তাড়াতাড়ি স্টেশন থেকে বাইরে এসে একটি অটো ধরে রামকৃষ্ণ মঠে গিয়ে উঠি।

কিন্তু যেদিন ফিরে আসার ট্রেন ধরি আমরা সেদিন সকাল আটটা কী ন&#039;টা নাগাদ স্টেশনে চলে আসি। যে ট্রেনে করে বাড়ি ফিরব সে ট্রেন যদিও আরও পরে আসবে। তবুও এক্সপ্রেস ট্রেনের ব্যাপার তো। তাই আগেভাগেই এসেছিলাম। সেদিন ভালো করে স্টেশনটা দেখি। বেশ কিছু ছবি তুলি।

এর আগে আমি ইউটিউবে দেখেছিলাম যে ঘাটশিলা স্টেশন থেকে পাহাড় দেখা যায়। তো যেদিন আসি সেদিন ভালো করে কিছুই দেখা হয়নি তাই চলে যাবার দিন ভালো করে দেখার চেষ্টা করলাম। একদম রোদ ঝলমলে আকাশ ছিল। স্টেশনের ওভারব্রিজে উঠে দেখি সত্যিই দূরে পাহাড় দেখা যাচ্ছে তবে খুব হালকা হালকা। সাদা খাতায় পেনসিল দিয়ে হালকা কিছু রেখা টানলে যেমন দেখতে লাগে আমার তেমনই মনে হয়েছিল দূরের পাহাড়গুলি দেখে। হালকা ধূসর বর্ণের পাহাড় বহু দূরে দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে পাহাড়গুলো আকাশের গায়ে মিশে আছে। আহা, সেই দৃশ্য যেন আজও ভুলতে পারি না! এই লেখাটি লেখার সময় মনে হচ্ছে আমি যেন এখনই ঐ ওভারব্রিজে দাঁড়িয়ে আছি আর দেখে যাচ্ছি দূরের অপরূপ সুন্দর দৃশ্য।

এছাড়া ঘাটশিলা স্টেশনটি বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। নোংরা কোথাও দেখা যায় না। কত ট্রেন আসছে যাচ্ছে দেখছিলাম। কত এক্সপ্রেস ট্রেন কত মালগাড়ি।ঘাটশিলা স্টেশনের একদিকে টাটানগরের লাইন আর একদিকে খড়্গপুরের লাইন তাই এত ট্রেনের যাতায়াত।

আসলে এখানে এত বাঙালি বেড়াতে আসে যে ঘাটশিলায় মোটামুটি বাঙলা ভাষার চল আছে। মোটামুটি বলছি কারণ খুব একটা নেই। তাই ঘাটশিলা স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের কোনো কোনো দেয়ালে দেখলাম বাঙলাতে অনেক কিছু লেখা আছে।

যে ট্রেনে করে হাওড়া থেকে এসেছিলাম সেই একই ট্রেনে করে আবার হাওড়ায় ফিরে গেছিলাম। ট্রেনটি যদিও নির্ধারিত সময়ের দেড় ঘন্টা পরে এসেছিল। আমার সময়টা খুব হালকা মনে পড়ছে; ঐ দুপুর একটার কাছাকাছি ট্রেনটি আসে স্টেশনে।যাই হোক ঘাটশিলাকে বিদায় জানিয়ে রাঁচি-হাওড়া ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসের সিটে এসে বসলাম।

---- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী
২৭/৩/২০২৪</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/210887/</link>
				<pubDate>Fri, 29 Mar 2024 04:30:44 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পছন্দের ঘাটশিলা স্টেশন<br />
&#8212;&#8211; অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী</p>
<p>ঘাটশিলা স্টেশনটিকে আমার ভীষণ ভালো লেগেছিল। একবারই গেছি ঘাটশিলায়। তবে আশা আছে আরো কয়েকবার যাব।</p>
<p>কলকাতার কাছাকাছি এমন সুন্দর পাহাড়ী জায়গা আর দুটি নেই। এখানে নদী আছে ঝর্ণা আছে জঙ্গল আছে &#8212;&#8211; আর কী চাই? কোনো কবি যদি এমন জায়গায় আসেন তবে প্রকৃতির মনোহর রূপ দেখে তিনি সত্যিই মুগ্ধ হয&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-210887"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/210887/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">00e429f7d57bbbff4edf4fd36abb9d7c</guid>
				<title>পছন্দের ম্যাসাঞ্জোর
অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী



জীবনে একবারই গেছিলাম ম্যাসাঞ্জোরে। ঐ একবার গিয়েই তাকে ভালোবেসে ফেলেছি। তবে আশা আছে আবার একবার যাবো। ম্যাসাঞ্জোরের পাহাড় ম্যাসাঞ্জোরের ড্যাম আর ময়ূরাক্ষী নদী ----- আহা, এক কথায় অসাধারণ! 

যারা খুব প্রকৃতি ভালোবাসেন তাদের কাছে ম্যাসাঞ্জোর একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণ স্থান। এখানকার প্রকৃতি এত সুন্দর যে এখানে না এলে বোঝা যাবে না। ম্যাসাঞ্জোর ড্যামটা ঠিক যে জায়গায় অবস্থিত তার চারিদিকেই পাহাড়। এই ড্যামটি ময়ূরাক্ষী নদীর উপর অবস্থিত। ময়ূরাক্ষী নদীর উপর ড্যাম তেরি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

ম্যাসাঞ্জোরের প্রধান আকর্ষণ হল এই ড্যামটি। এই ড্যামটি ভারত সরকার ও কানাডা সরকারের মিলিত প্রচেষ্টায় তৈরি করা হয়েছে তাই এই ড্যামটিকে অনেকে &#039;কানাডা ড্যাম&#039;ও বলে থাকেন।

ম্যাসাঞ্জোর জায়গাটি ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত। যারা নির্জনতা পছন্দ করেন যারা নিরালায় থাকতে ভালোবাসেন তাদের কাছে এমন জায়গা আদর্শ। তবে এখানে এসে একদিন কী দুদিন থাকতে হবে না হলে জায়গাটির সৌন্দর্যতা ভালোভাবে উপভোগ করা যাবে না। মানে শুধু ঐ গিয়ে একটু ঘুরে চলে এলাম ওতে অতটা ভালো নাও লাগতে পারে। তাই সময় নিয়ে ধীরে সুস্থে দেখলে দেখার ইচ্ছা আরও বাড়বে ভালোও লাগবে কারণ এখানকার প্রকৃতি সবসময় নানা ভূষণে সেজে আছে। অনুপম তার সৌন্দর্য।

ম্যাসাঞ্জোরের পাহাড়গুলি ছোটনাগপুর মালভূমির অন্তর্গত। ড্যামের উপরে উঠলে চারপাশের সিনারি অপরূপ সুন্দর দেখতে লাগে। ড্যামের এ মাথা থেকে ও মাথা মানে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত অব্দি হেঁটে যাবার রাস্তা আছে। আবার সেই রাস্তায় মোটোর-সাইকেল, বাই-সাইকেলও চলে। বিশেষত বিকাল বেলায় এই ড্যামের উপর এলে আরও সুন্দর দেখতে লাগে। কারণ তখন সূর্য অস্ত যাওয়ার পথে রওনা দেয় আর সূর্যের আলো ময়ূরাক্ষী নদীর জলে পড়ে ফলে জল চিকচিক করে ওঠে। সেটা দেখার মতো। তবে সন্ধ্যা হওয়ার আগেই ড্যাম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নিয়ম আছে কারণ, চারপাশের পাহাড় এতটাই নির্জন যে নানান হিংস্র বন্য পশু রাতের আঁধারে নাকি চলাফেরা শুরু করে। তাই এই সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।

ড্যামেতে ছবি তুলে দেওয়ার জন্য স্থানীয় কিছু ছেলে ক্যামেরা নিয়ে ঘোরে। ওদের কাছে ছবি তুলে নেওয়া যায়। এতে ওদের দুটো পয়সাও হয়। ড্যামের উপর থেকে দেখলে একদিকে দেখা যাবে নদীর জল কেমন ধরে রাখা হয়েছে আর তার বিপরীত দিকে জল কেমন ছাড়া হচ্ছে জোরে শব্দ করে।
যেখানে জল ধরে রাখা হয়েছে সে জায়গা যে কত গভীর তা আমার ধারণায় নেই। হয়ত দশ মানুষ সমান উঁচু হতে পারে। আর যেখান থেকে জল ছাড়া হচ্ছে সেখানে জল কেমন সাদা। আসলে এত জোরে টারবাইন ঘুরিয়ে জল ছাড়া হয় যে সফেদ ফেনার মতো জলের রঙ দেখায়। তারপর সেই জলই আবার বেরিয়ে যাচ্ছে নদী হয়ে। মানে নদীর বুকে এই ড্যামটি গড়ে তুলে একদিকে জল জমিয়ে অপর দিক থেকে জোরে জোরে টারবাইন ঘুরিয়ে জল ছাড়া হচ্ছে। তার ফলেই বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে।

ড্যামের উপর থেকে দেখলে চারপাশের দৃশ্য অতি রমণীয় লাগে। ঠিক যেন মনে হবে এমন জায়গা ভারতে নেই হয়ত বাইরের কোনো দেশে আছে। এখানকার পাহাড়গুলো কী সুন্দর। একটা পাহাড়ের গায়ে আরেকটা পাহাড় যে কেমন ভাবে লেগে থাকে তা এখানে এলে ভালোভাবে দেখা যায়।

ড্যামের পাদদেশের দিকে যাবারও রাস্তা আছে। তবে সেটা একটু ঘুরে যেতে হয়ে। ড্যামের শুরুর মাথা থেকে হেঁটে হেঁটে শেষ অব্দি গিয়ে রাস্তা দুইভাগ হয়ে গেছে। তবে দুটোই স্থানীয় গ্ৰামগুলির দিকে চলে গেছে। তার মধ্যে বাম দিকের রাস্তাটা দিয়ে একটু যেতে হবে। এই রাস্তার মাঝখান থেকে একটা পাথুরে পথ জঙ্গলের মধ্যে থেকে নিচে নেমে গেছে। এই পথ দিয়ে গেলেই নির্ধারিত জায়গায় যাওয়া যাবে। স্থানীয় মানুষদের জিজ্ঞাসা করলে ঠিক কোন জায়গাটা থেকে নামতে হবে জানালে তারা বলে দেবে। তবে খুব সাবধানে নামা উচিত কারণ,পাথুরে পথ তো তাই একটু অসাবধানতা হলে পা পিছলে পড়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। 

ড্যামের পাদদেশের কাছে এলে দেখা যাবে ছোটো বড়ো নানান আকারের পাথরের চাঁই এদিক ওদিকে ভর্তি। আর তার মাঝখান দিয়ে ময়ূরাক্ষী নদী বয়ে চলেছে। মানে ঐ ড্যাম থেকে ছাড়া ময়ূরাক্ষী নদীর জলই বয়ে চলেছে। সেই পাথরের উপর বসে নয়ত দাঁড়িয়ে ছবি তোলা ভালোভাবে যায়। বহু মানুষ এখানে এসে ছবি তোলে।এখানে এলে দেখা যায় ড্যামটি কতটা উঁচু। দেখে লাগে তাও চার-পাঁচ তলা বাড়ির সামান উঁচু হয়তো তার থেকেও উঁচু হতে পারে। তারমানে কত উঁচু দিয়ে হেঁটে হেঁটে তবে এইখানে আসা হয়েছে। এখানে জলে হাত দিলে জল ঠান্ডা লাগবে। আসলে পাহাড়ী নদী তো। জল ঠান্ডা হবেই।

তারপর যে পথে অসা হয়েছিল ঠিক সে পথ ধরেই উঠে যেতে হবে। এখানে একটা কথা বলে রাখি পাহাড়ী পথে ওঠার সময় খুব ধীরে ধীরে উঠতে হয় কারণ তাড়াতাড়ি উঠলে খুব কষ্ট হয়। কিন্তু নামাটা অনেকটা সহজ লাগে। কারণ ঢাল ধরে ধরে তো নিচে নেমে যাওয়া। তাই নামাটা সোজা লাগে। কিন্তু নামার সময়ও সবসময় পায়ের দিকে তাকানো উচিত। নাহলে কোন পাথরে পা কখন পড়ছে সেটা বোঝা যাবে না। অসুবিধা একটাই নিচের দিকে না তাকালে সামনে হুমড়ি খেয়ে পড়ে যাবার খুব সম্ভাবনা থাকে।

উপরের সেই রাস্তায় উঠে আবার ড্যামের উপর দিয়ে গিয়ে ঠিক যেখান থেকে যাত্রা শুরু হয়েছিল ঠিক সেখানে পৌঁছে যেতে হবে।

আমি বলেছিলাম এই ড্যামেতে বিকাল বেলায় আসতে ভালো লাগে। তবে সকালেও আসা যায়। কিন্তু যদি প্রখর রোদ থাকে তাহলে বেশিক্ষণ রোদে থাকলে মাথা যন্ত্রনা করতে পারে। আর না হলে মেঘলা দিন হলে তো কথাই নেই। তখন দেখা যাবে কাছের দূরের পাহাড়ের গায়ে মাথায় কেমন মেঘ জমে রয়েছে।

এমন ড্যাম থেকে তো চলে যাবার কোনো ইচ্ছাই হয় না। কারণ এত সুন্দর চারপাশের পাহাড় নিচে নদী ---- এমন জায়গা ছাড়তে কি মন চায়? যেদিকে তাকানো যাবে সেদিকেই দেখা যাবে শুধু পাহাড় আর পাহাড়। উফ, যারা পাহাড় প্রেমী যারা কবিতা লিখতে ভালোবাসেন তারা এমন জায়গা পেলে এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই  (সঙ্গে একটা খাতা আর কলম আনলে) কত কবিতা লিখে দেবেন তার হিসাব নেই।

কিন্তু চলে তো যেতেই হবে। তাই সন্ধ্যার একটু আগেই ড্যাম ছাড়লাম।

----- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/210846/</link>
				<pubDate>Thu, 28 Mar 2024 01:57:13 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পছন্দের ম্যাসাঞ্জোর<br />
অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী</p>
<p>জীবনে একবারই গেছিলাম ম্যাসাঞ্জোরে। ঐ একবার গিয়েই তাকে ভালোবেসে ফেলেছি। তবে আশা আছে আবার একবার যাবো। ম্যাসাঞ্জোরের পাহাড় ম্যাসাঞ্জোরের ড্যাম আর ময়ূরাক্ষী নদী &#8212;&#8211; আহা, এক কথায় অসাধারণ! </p>
<p>যারা খুব প্রকৃতি ভালোবাসেন তাদের কাছে ম্যাসাঞ্জোর একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণ স্থান। এখানকার প্রকৃতি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-210846"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/210846/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ed03de4d935f1a8d56d03e1ef98189fd</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/210844/</link>
				<pubDate>Thu, 28 Mar 2024 01:54:33 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">dbfba0633e7e187dd55dcd2260a7390a</guid>
				<title>অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/210843/</link>
				<pubDate>Thu, 28 Mar 2024 01:53:02 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4c257cd04113cb211e7b7bc831b15f3c</guid>
				<title>গল্প:- একটি অবিশ্বাস্য ঘটনা
লেখা:- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী



বহুদিন আগের কথা বলছি। যে সময়ের কথা বলছি তখন কলকাতা শহরে চাকরি করতাম। ছুটি পেয়ে গ্ৰামের বাড়িতে ফিরছিলাম।আমি চাকরি পেয়ে কলকাতাতেই থাকতাম। অবশ্য এখনও থাকি। যদিও এখন চাকরি থেকে অবসর পেয়েছি। তো যখনই কাজের ছুটি-ফুটি পেতাম তখনই গ্ৰামের বাড়িতে চলে আসতাম। এখানে আমার বাবা-মা থাকেন। যতই থাকি কলকাতাতে জন্মস্থান আমার গ্ৰামে। কাজেই গ্ৰামকে কি ভোলা যায়?

গ্রামের নাম ভীমনগর। একেবারে অজপাড়া গাঁ বললে খুব ভালো হয়। এখনো সেখানে বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি। ভাবতে পারছেন পাঠকগণ! এই গ্রামের কাছাকাছি কোনো রেলস্টেশন নেই যা আছে তাও কুড়ি মাইল দূরে জগৎজীবনপুর গ্ৰামে। স্টেশনের নামও গ্রামের নামেই। আমি গ্রামে এলে এখানেই নামি তারপর পনেরো মাইল রিক্সা নয়তো গোরুর গাড়িতে করে যাই। তারপর দুটো বড় বড় বন পেরিয়ে আর সবশেষে একটা বড় মাঠ পেরিয়ে তবেই গ্রামে পৌঁছাই।

তো সেই বুঝে আমি কলকাতা থেকে দুপুর বারোটা নাগাদ বেরিয়েছিলাম। যখন জগৎজীবনপুর স্টেশনে নামলাম তখন বিকেল পাঁচটা বাজে। যাইহোক স্টেশন থেকে রিক্সা নিয়ে চললাম গ্রামের উদ্দেশ্যে। সময়টা তখন গ্রীষ্মের শেষের দিকে।

সেদিন আকাশে চাঁদ উঠেছিল। কী অপরূপ জ্যোৎস্না! গ্রামবাংলায় দেখা জ্যোৎস্না আর শহরে দেখা জোৎস্নার মধ্যে একটা পার্থক্য আছে। সেটা পারিপার্শ্বিক পরিবেশের সাপেক্ষে বলছি। যেমন গ্রাম-বাংলায় মাঠ, ঝোপ-ঝাড়, বন-বাদাড় থেকে চাঁদের আলো উপভোগ করা আর শহরে যেখানে আকাশ ঢেকে যায় উঁচু উঁচু অট্টালিকায় সেখানে কী ফাঁক-ফোঁকড় থেকে একটু আধটু চাঁদের আলো দেখা যায় ----- আকাশ-পাতাল তফাৎ। 

পনেরো মাইল পথ যখন পার করলাম তখন হাত ঘড়ির দিকে তাকালাম। দেখলাম রাত সাড়ে আটটা। যদিও শহরে এমন সময়টা কিছুই নয়। কিন্তু গ্রাম তো! এখানে এমন সময়টাই ঠিক যেন রাত দুপুর। যেন পুরো মাঝ রাত। এবার হাঁটা পথ ধরলাম। দুটো বড় বড় বন পেরোতে হবে। যদিও এর আগে বহুবার এমন রাতের বেলায় এ পথ দিয়ে গিয়েছি কাজেই একেবারে যে নতুন কিছু তা নয়। পথের দুপাশেই ঘন বন এমন ভাবে আকাশ ঢেকে রেখেছে ঠিক যেন চন্দ্রাতপ তৈরি করেছে। তার ফাঁক-টাঁক দিয়ে যা জ্যোৎস্নার আলো আসছিল তা দেখেই কোনো রকমে এগিয়ে যাচ্ছিলাম।আধঘন্টা হাঁটার পর বড় মাঠটার কাছে এলাম। এই মাঠের পরেই আমাদের গ্রাম।

আবার হাত ঘড়িতে চোখ রাখলাম। দেখলাম ন&#039;টা পাঁচ। রাত যেন আরো ক্রমশ গভীর হয়ে উঠতে লাগল। এরকম গ্রামে-গঞ্জে এলে রাত কেমন গভীর থেকে গভীরতর হয় তা স্পষ্ট বোঝা যায়।
মাঠের এ পাশে দাঁড়িয়েই দেখতে পেলাম দূরে দিকচক্রবালে আমাদের গ্রামখানি যেন আকাশের সাথে পুরো মিশে গেছে। ওই রাতের আঁধারেই দেখলাম দূরের কালো কালো বন-জঙ্গল আর ঘর-বাড়ি যেন ভূতের মত দাঁড়িয়ে আছে।

মাঠ পেরোতে থাকলাম। এই মাঠ পেরোতে তাও আধঘণ্টা মতন লাগে। আগে তো বহুবার পার করেছি তাই জানি সময়টা মোটামুটি।

পাঁচ-দশ মিনিট হয়তো এগিয়েছি। হঠাৎ কানে এলো পিছন থেকে অনেক চেনা একটা কন্ঠস্বর।
------ আরে অর্ঘ্যদীপদা না?
আমি পিছন ফিরে দেখে বললাম ----- আরে অসিত যে। তা, এত রাতে এখানে?
----- এই দাদা বাড়ি ফিরছি তা পথে তোমার সাথে দেখা হয়ে গেল।
অসিতের পুরো নাম অসিতবরণ হালদার। আমাদের গ্রামের বিমল মাস্টারের ছেলে। গতবছর খবর পেয়েছিলাম সে এইচএস পাস করেছে। কিন্তু তারপর আর তার কোনো খবর পাইনি। আমি জিজ্ঞাসা করলাম ----- তা এখন কী করা হয়?
সে বললে ----- আর দাদা, এখন কিছুই আর করি না।
------ কেন?
------ উচ্চ মাধ্যমিকের পরে ভর্তি হয়েছিলাম পাশের গ্রামের কলেজে। কিন্তু পড়া আর শেষ হলো না গো!
----- কেন? কী হয়েছিল? টাকা-পয়সার অসুবিধা?
----- না, না ওসব কিছু নয়।

কথা বলতে বলতে আমরা অনেকটা পথই এগিয়ে এসেছিলাম। তারপর দেখতে পেলাম আমার বাড়িখানা। অর্থাৎ মাঠ শেষ হয় হয়।
----- আচ্ছা দাদা, ভালো থেকো আমি আসলাম।
----- আসলাম মানে? তুমি যাবে না বাড়ি? তোমার বাড়ি তো আমার পাশের দুটো বাড়ির পরেই।
----- ঠিকই। কিন্তু, আমি আর পারব না যেতে দাদা ভালো থেকো।

এরপরে যা দেখলাম বোধহয় এমন দৃশ্য সারা জীবনে কোনোদিন দেখিনি। দেখলাম ঠিক যেমন কর্পূর বাতাসে রাখলে উবে যায় ক্রমশ, তেমনই পুরো আমার চোখের সামনে অসিত বাতাসে মিলিয়ে যেতে লাগলো। একটা জলজ্যান্ত শরীর এভাবে বাতাসে মিলিয়ে যাচ্ছে! এ আমি কী দেখছি! এমন হয় বাস্তবে? এত কিছু বিষয় একসঙ্গে মাথার মধ্যে গোলমাল করতে থাকল।...... ধপ করে আমি পড়ে গেলাম মাটিতে।

পরদিন দেখলাম আমি বাড়িতে শুয়ে আছি। আমায় ঘিরে আমার বাবা-মা, বিমল মাস্টার আর তিন চার জন অন্য নারী-পুরুষ। আমি চোখ খোলার পরে দেখলাম সবাই যেন একটু স্বস্তি পেল।

আমি বললাম ----- মনে হচ্ছে, কালকে আমি পড়ে গেছিলাম।বলেই মাথার পিছনে হাত দিলাম। বেশ ব্যথা আছে। দাঁড়িয়ে থাকা জনতার মধ্যে থেকে একজন এসে বললেন ----- আমরাই বাবা, তোমাকে আজ সকালে পড়ে থাকতে দেখেছি মাঠে। তুমি কাল সারারাত ওভাবেই পড়েছিলে।
----- সারারাত পড়েছিলাম! নাঃ সে সব তো মনে পড়ছে না।
আমার বাবা বললেন ----- তুই আসবি তা তো চিঠি লিখে জানিয়েছিলিসই। কিন্তু রাত যত বাড়তে লাগলো আমি চিন্তায় পড়লাম। ভাবলাম তুই বোধহয় আর আসছিস না। তাই তোর মাকে বললাম, ছেলে বোধহয় আজ আর আসবে না, এত রাত হয়ে যাচ্ছে। অথচ তুই যে মাঠে পড়ে আছিস সেটা তো জানতাম না।

বিমল মাস্টার বললেন ----- তা বাবা তুমি ওভাবে পড়ে গেছিলে কেন? হোঁচট খেয়ে নাকি?
---- না মাস্টারবাবু।
হঠাৎই দেখলাম আমার সব মনে পড়ে গেল। মাথার ব্যথার কারণে আস্তে আস্তে গোটা ঘটনাটা বললাম।

পুরুষ মানুষদের সত্যিই মনের ভিতর কষ্ট হলে তবুও চোখের জল ফেলে তা প্রকাশ করে না। দেখলাম বিমল মাস্টার একটা গভীর শ্বাস ছেড়ে বললেন ---- আজ তো তেইশে জুন। আমার ছেলে গত বছর ঠিক বাইশে জুন তারিখে রাতে বজ্রাঘাতে মাঠেই মারা যায়।আগের বছর রাত বৃষ্টির মেঘে ভরা ছিল। কিন্তু তুমি যখন এলে তখন তো দেখলে কেমন চাঁদের আলো ভরা রাত। সারা রাত ছেলে আমার বাড়ি ফেরেনি।তাই ভোর না হতেই আমি আর আমার স্ত্রী আর থাকতে না পেরে ছুটে যাই মাঠের দিকে। গিয়ে দেখি ছেলে আমার মরে পড়ে আছে।

এবার দেখলাম তাঁর স্বর একটু একটু কাঁপছে। তাঁর মনের অবস্থাটা বুঝতে পারছিলাম। আমি তাঁকে একটা কথাই বললাম ------ অসিত অত রাতে কোথা থেকে ফিরছিল?
মাস্টারবাবু বললেন ------ ও বন্ধুর বাড়ি গিয়েছিল কলকাতায় কীসের একটা নেমন্তন্ন খেতে। ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে গেছিল। আর তারপরেই....।
তাঁর কন্ঠস্বর আরও কেঁপে উঠল।

আমি আর তাঁকে কিছু বলতে দিলাম না। তিনি বেরিয়ে গেলেন আমাদের ঘর থেকে।বাবা কী ছেলের মৃত্যুর খবর এত বলতে পারে?

আমি মনে মনে ভাবতে থাকলাম এখন তো গ্ৰীষ্মের শেষের দিক। মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হওয়াটাই স্বাভাবিক। কারণ বর্ষা ঢুকছে। কিন্তু এমন কী ভাবে সম্ভব হল? হয়তো এটা সম্পূর্ণই প্রকৃতির ব্যাপার। কখন বৃষ্টি আসবে আর কখন যাবে এটা কি আমরা বলতে পারি? তো গত কাল রাতে যদি বৃষ্টিই হতো তাহলে হয়তো অসিতকে অত পরিষ্কার দেখতে পেতাম না। তাই বোধহয় পরলোক থেকে পৃথিবীতে এসে ও রাত চাঁদের আলোয় ভরিয়ে তুলেছিল। ওরা সব পারে।

ভাবতে ভাবতেই জানালায় চোখ বসালাম। বৃষ্টি পড়ছে সকালের আকাশ থেকে।

--- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী
২২/৩/২০২৪</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/210787/</link>
				<pubDate>Wed, 27 Mar 2024 12:33:59 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্প:- একটি অবিশ্বাস্য ঘটনা<br />
লেখা:- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী</p>
<p>বহুদিন আগের কথা বলছি। যে সময়ের কথা বলছি তখন কলকাতা শহরে চাকরি করতাম। ছুটি পেয়ে গ্ৰামের বাড়িতে ফিরছিলাম।আমি চাকরি পেয়ে কলকাতাতেই থাকতাম। অবশ্য এখনও থাকি। যদিও এখন চাকরি থেকে অবসর পেয়েছি। তো যখনই কাজের ছুটি-ফুটি পেতাম তখনই গ্ৰামের বাড়িতে চলে আসতাম। এখানে আমার বাবা-মা থাকেন। যতই থ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-210787"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/210787/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>10</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>