Profile Photo

Arif-ArianOffline

  • Arif-Arian
  • Profile picture of Arif-Arian

    Arif-Arian

    3 years ago

    একটি অসম্পূর্ণ প্রেমের গল্প…………
    আরিফ আরিয়ান

    ০১
    তৃতীয়বারের মতো মাহি আয়নার সামনে এসে দাঁড়ালো। কারুকাজ করা কাঠের ফ্রেমে আটকানো আয়নাটিতে তার মায়াবি মুখটা দেখতে মন্দ লাগছিল না। একেতো সুন্দরী বলতে একটি মেয়ের যে কয়েকটা বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার তার সবগুলো মাহির মধ্যে পরিপূর্ণ ছিল তার উপর ভারি মেকাপে তাকে সাজানো পুতুলের মতো লাগছিল। তারপরও কিসের একটা অভাব মনে হচ্ছিল কিন্তু এই মুহূর্তে ঠিক মনে পরছিলনা।শেষে অনেক ভেবে চিন্তে যখন সে হাল ছেরে দেবে ভাবছে এমন সময় তার চোখ পাশের টেবিলে পরলো। মুহূর্তে মধ্যে তার ঠোটের কোনে হাসি ফুটে উঠলো। টেবিলের উপরে রাখা ফুলগুলোর মধ্য থেকে একটি গোলাপ হাতে নিয়ে মাহি তার খোপায় লাগালো। অবশ্য সচরাচর মাহি এতো সাজগোজ করা পছন্দ করে না। কিন্তু আজ ১৪ই ফেব্রয়ারী…..ভালবাসা দিবস। ক্যাম্পাসে সবাই আজ খুব সেজেগোজ আসবে।তাহলে মাহি বাকি থাকবে কেন? তাছাড়া সেখানে ইমরানও থাকবে। ইমরানের কথা ভাবতেই মাহি আরেকটি বার ভালো করে নিজেকে আয়নায় দেখে নিলো। তারপর ঘড়িতে সময় দেখে দ্রুত রুম থেকে বেড়িয়ে পরলো।

    ০২
    ধীরে ধীরে রিক্সাটি এগিয়ে যাচ্ছে। রিক্সায় বসে মাহি এই সেই কতো কিছুইনা ভাবছে। তার ভাবনায় ঘোরোফিরে বারবার ইমরানের কথায় বেশি মনে পরছে। ইমরানকে মাহি সকলের অজান্তে মনে মনে খুব ভালবাসে। কিন্তু আজো মুখফুটে বলতে পারে নি সে তার ভালবাসার কথা। অবশ্য দোষ কি তার একার। ইমরানও তো তাকে অনেক ভালবাসে। এ কথা সে অনেকবার বন্ধুদের মুখে শুনেছে। মাহি না হয় মেয়ে। সে মুখ ফুটে তার মনের কথা প্রকাশ করতে পারে না। আর তাছাড়া প্রতিটি মেয়েই চাই তার মনের মানুষ তাকে প্রথম প্রেম নিবেদন করুক। কিন্তু ইমরান তো ছেলে। সে কেনো তার ভাললাগার কথাটি মনের মাঝে চেপে রেখেছে।

    ০৩
    অন্যান্য দিনের চেয়ে আজ ক্যাম্পাসের পরিবেশটা কতো রঙ্গিন লাগছে। কারো হাতে ফুল, কারো হাতে কার্ড। আসলে ভালবাসাই পারে মানুষকে ভাললাগায় ফুটিয়ে তুলতে আর ভালবাসার চোখেই সবকিছু ভালো লাগে। ক্যাম্পাসের চারদিকে চোখ বুলানোর ফাকে হঠাৎ ইমরান মাহির সামনে এসে দাড়ালো।
    ইমরান: মাহি, তোমার আসতে এতো দেরি হলো….! (অনেকক্ষণ যাবত আমি যে শুধু তোমার অপেক্ষা করছি)
    মাহি: বেশি দেরি করে ফেলেছি নাকি? (তুমিতো বলোনি আগে আসার জন্য। একবার শুধু বলতে……..)
    ইমরান: আরে না…..হ্যাপী ভ্যালেন্টাইন ডে মাহি…….।
    মাহি: হ্যাপী ভ্যালেন্টাইন ডে টু ইউ…………।
    মাহির সাথে কথা বলার সময় থেকে ইমরান মাহির দিকে কেমন পলকহীন চোখে তাকিয়ে রইলো। বিষয়টি আচ করতে পেরে ইমরানকে ঐ ভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে-
    মাহি: এভাবে কি দেখছো?
    ইমরান: কিছুই না ( কেন তুমি বুঝোনা, আমি শুধু আমার ভালবাসাকে, তোমাকে দেখছি)
    মাহি: কিছু বলবে ? ( প্লিজ ইমরান, আজ না হয় কিছু বলো। আর চুপ করে থেকোনা)
    ইমরান: না……।( বলার তো কতো কিছুই ছিলো। কিন্তু……..)
    মাহি: তাহলে আমি যায়। বান্ধুবীরা অপেক্ষা করছে। (তোমার সাথে কথা বলতে খুব ইচ্ছে করছে। কিন্তু তুমিইতো কথা টানছোনা)
    ইমরান : আচ্ছা যাও। (আরকটু থাকলে কি হতো না….. তোমাকে মন ভরে একটু দেখতাম)
    মাহি : ও’ কে বাই।
    এই বলে মাহি সামনের দিকে এগিয়ে গেলো। হঠাৎ পেছন থেকে ইমরান তার নাম ধরে ডাকলো।
    ইমরান : এই মাহি দাড়াও।
    মাহি : কিছু বলবে? (প্লিজ ইমরান বলে ফেলোনা…..)
    ইমরান : হ্যা তোমাকে একটা কথা বলতে চাই।
    মাহি : কি বলতে চাও বলো না…….( আমি তো তোমার মুখ একটি বারের জন্য ঐ কথাটি শুনার জন্য পাগল হয়ে আছি)
    ইমরান : তুমি রাগ করবে না তো?
    মাহি : আগে বলোতো (বলোনা প্লিজ,আমি আর অপেক্ষা করতে পারছি না)
    ইমরান : বলবো………( ভয় লাগছে, তুমি ফিরিয়ে দিবে না’ তো….)
    মাহি: বলো……
    ইমরান : তোমাকে আমি………
    মাহি : আমাকে তুমি কি? (বলোনা ভালবাসি। তুমি একবার বলে দেখো, আমি সারাজীবন তেমার হয়ে থাকবো)
    ইমরান : তোমাকে আমি………( তুমি কি বুঝোনা, আমি কি বলতে চাইছি)
    মাহি : বলবা………
    ইমরান : তোমাকে আমি বললে চাইছি যে….. তোমাকে…….. তোমাকে…. আজ অনেক সুন্দর লাগছে । (আজো বলতে পারলাম না কতো ভালবাসি আমি তোমাকে)
    মাহি : ও আচ্ছা ………..

    ০৪
    একরাশ হতাশা নিয়ে মাহি বাড়িতে ফিরে যাচ্ছে।রিক্সায় বসে তার খুব কান্না করতে ইচ্ছে করছে।কিন্তু মন খোলে কাদতেও পারছেনা সে। এমন সময় তার মোবাইলের মেসেজ টোনটা বেজে উঠলো। মোবাইলটা হাতে নিয়ে স্কিনে তাকালো। ইমরান মেসেজ পাঠিয়েছে।মেসেজটা খোলতেই মাহির মুখের কোনে হাসি ফুটে উঠলো। মেসেজটা পরতে লাগালো …..” মাহি আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি। তোমাকে ছাড়া আমি বাচতে পারবোনা। প্লিজ আমাকে ফিরিয়ে দিও না……খুব জানতে ইচ্ছে করছে, তুমিওকি আমাকে ভালবাসো? আমি তোৃমাকে কল দিচ্ছি…… উত্তরটা জানাবে কি? আর একটি কথা আমি তোমাকে জোর করবো না। কারন জোর করে সব হয় কিন্তু প্রেম হয় না। কিন্তু এতো ভালবেসে তোমার মুখে না শুনার মতো সাহস আমার হয় নাই। তাই তোমার উত্তর যদি না হয় তাহলে আমার কলটা কেটে মোবাইলটা অফ করে দিও। আমি আমার উত্তর পেয়ে যাবো……….”
    মেসেজটা পড়া শেষে মাহি খুশিতে আত্নহারা হয়ে গেল। এমন সময় তার মোবাইলের রিং টোনটা বেজে উঠলো। স্কিনে ইমরানের নামটা দেখে অদ্ভুত এক ভাললাগা তাকে জড়িয়ে ধরলো। সে কলটা রিসিভ করবে এমন সময় আচমকা কি যেনো একটা প্রচন্ড শক্তিতে পেছন থেকে তার রিক্সায় ধাক্কা দিল।

    ০৫
    প্রচন্ড ব্যথায় মাহি কাতরাতে লাগালো। রক্তে ভেসে গেল রাজ পথ। চোখের সামনে সব কিছু কেমন ঝাপসা হতে লাগালো।এমন সময় মাহির ইমরানের কথা খুব মনে পড়তে লাগালো। ঝাপসা চোখে সে দেখতে পেলো ইমরান তার থেকে দূরে বহু দূরে চলে যাচ্ছে। সে হাত বাড়িয়ে ছুতে চাইলো তাকে। কিন্তু মাটির শরীর তার সঙ্গ দিলো না। তারপর…… সব কিছু অন্ধকারে ডেকে গেল।

    ০৬
    ইমরান অস্থির হয়ে বার বার মাহির নম্বরে কল করছে। কিন্তু প্রত্যেকবারই মোবাইল বন্ধ দেখাচ্ছে। তাহলে কি মাহি ইচ্ছে করে মোবাইল বন্ধ করে রেখেছে? মাহি কি তাহলে তাকে ভালবাসেনা?কথাটা ভাবতরই ইমরানের চোখে পানি চলে আসে। কিন্তু তখনো সে জানে না যে তার ভালবাসার মানুষটি তাকে ছেড়ে চলে গেছে অনেক দূরে না ফেরার দেশে। আর তার মোবাইলটি বাসের চাকার নিচে মিশে গেছে তার স্বপ্নগুলোর সাথে………………..

    উৎসর্গ: সে সব স্বপ্নিল মানুষদের যাদের হাজারো স্বপ্ন ঘাতকের চাকার নিচে মিশে গেছে চিরতরে………..

    7
    4 Comments
    • কিন্তু তখনো সে জানে না যে তার ভালবাসার মানুষটি তাকে ছেড়ে চলে গেছে অনেক দূরে না ফেরার দেশে। আর তার মোবাইলটি বাসের চাকার নিচে মিশে গেছে তার স্বপ্নগুলোর সাথে। অসাধারণ।

    • দিলেন তো মনটা খারাপ করে!!

      • কিছু মন খারাপের মাঝেই সাহিত্যের মনের খোরাক, আবেগ অনুভূতি ফুটে উঠে….

      • তা ঠিক। লেখকের স্বার্থকতা বোধ করি সেখানেই।

Skip to toolbar