<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Asiful Haque Tomal | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/asiful-haque-tomal/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/asiful-haque-tomal/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Asiful Haque Tomal.</description>
	<lastBuildDate>Thu, 11 Jun 2026 03:26:30 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">1103c81163bb2b6659aa175b0865220a</guid>
				<title>রহস্য চা 
----------------
একটানা বৃষ্টি হচ্ছে ঝমঝম করে । এই রাত বিরেতে বৃষ্টি এলে ভীষণ মন খারাপ হয় কুহকের । মনে হয় সমস্ত আকাশ যেন কেঁদে কেঁদে দুঃখ বিলাস করছে । বৃষ্টিতে ভিজতে খুব পছন্দ করে কুহক । কিন্তু এত রাতে বৃষ্টি হলে ভেজা সম্ভব হয় না বলেও হয়তো মন খারাপ হয় ওর । এই মুহুর্তে উদাস চোখে তাকিয়ে আছে সে খোলা জানলা দিয়ে । মাঝে মাঝে বজ্রপাতের আলোর ঝলকানিতে চিক চিক করে উঠছে ভেজা শহরটা । হঠাৎ মৃদু সুরে ফোনে বেজে উঠলো &quot;দুটো মানচিত্র এঁকে দুটো দেশের মাঝে, বিধে আছে অনুভূতিগুলোর ব্যাবচ্ছেদ।&quot; কোনো একটা অপরিচিত নম্বর থেকে এসেছে কলটা । রিসিভ করবে না করবে না করেও একেবারে শেষ মুহুর্তে ফোনটা তুললো কুহক । 
- আসসালামু আলাইকুম ।
- ওয়ালাইকুমুস সালাম । কেমন আছেন কুহক সাহেব ?
- জি আলহামদুলিল্লাহ । আপনি ? 
- আমিও আলহামদুলিল্লাহ।
- দুঃখিত, আপনাকে ঠিক চিনতে পারলাম না যে ।
- আমি কিন্তু আপনাকে চিনি । 
- কিভাবে চেনেন ? 
- প্রতিদিন আপনাকে আমি দেখি তাই চিনি । 
- আপনার পরিচয়টা কি বলুনতো ? 
- যাক সে কথা । আমি যা বলি সেটা শুনুন ।
- আগে পরিচয়...
- বাহিরে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে । আচ্ছা বৃষ্টি কেমন লাগে আপনার ? 
- আগে পরিচয় বলুন তারপর অন্য কথা 
- আমি কিন্তু বৃষ্টি ভীষণ পছন্দ করি । এই যেমন এখন আপনার জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজছি আমি । আজ খুব একা লাগছিল বলে আপনাকে ফোন করলাম । 
বাইরে আরেকবার বিদ্যুৎ চমকাতেই ফোনটা কেটে গেল । আলোর ঝলকানিতে বাইরে দেখার চেষ্টা করলো কুহক । কিন্তু ততক্ষণে শহর অন্ধকারে তলিয়ে গেছে । আরো বার দুয়েক বিদ্যুৎ 
চমকালেও বাইরে কারো দেখা পেল না সে । এবারে সে প্রচন্ড বিরক্ত হলো । বিরক্তি দূর করতে চা লাগে ওর । রান্নাঘরে চা বানাতে গিয়ে আরেকদফা অবাক হলো সে । বাতি জ্বালাতেই দেখা গেল চুলার পাশে তার প্রিয় কাপটা চায়ে টইটুম্বুর হয়ে আছে । আর তা থেকে ভীষণ উৎসাহে ধোঁয়া উঠছে । যেন কেউ সদ্য চা বানিয়ে কাপে সাজিয়ে রেখে গেছে । চা টা খাবে কি না কিছুক্ষণ সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগার পর কি মনে করে কাপটা হাতে তুলে নিল কুহক । আলতো করে চুমুক দিল রহস্যময় চায়ে । স্বাদে গন্ধে মন ভরে গেল ওর । সেই সাথে তার মন থেকে উবে একটু আগের তৈরী হওয়া সব কৌতুহল । ওর জানতে ইচ্ছে করলো না কে তাকে কল করে রহস্যবুলি শুনালো, কে তার জন্য এমন অসাধারণ চা বানিয়ে রেখে গেল । কুহক মুগ্ধ হয়ে চায়ে চুমুক দিতে দিতে বারান্দায় এসে দাঁড়ালো । বৃষ্টি ততক্ষণে হালকা হয়ে এসেছে ।
পরদিন ভোরবেলা । ঝকমকে রূপালি আলোয় ভরে আছে রুম । ঘুম থেকে উঠেই দিনের সজীবতায় মুগ্ধ হয়ে গেল কুহক । আড়মোড়া ভেঙে ফ্রেশ হয়ে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওনা হলো ও । রিক্সায় যেতে যেতে কাল রাতের কথা মনে করতে লাগলো । তবে রহস্য উন্মোচনের চেয়ে পুরো ঘটনাটা কল্পনা করতেই বেশি ভালো লাগলো ওর । সারাদিনের ক্লান্তি মাথায় নিয়ে যখন বাসায় ফিরলো তখন বিকেল গড়িয়ে গোধূলী । বেশ প্রিয় একটা সময় কুহকের । ফোনটা হাতে নিয়ে ছাদে গিয়ে বসলো সে । ছাদের দক্ষিণ পাশটা থেকে একটা নদী দেখা যায় । গোধূলী বেলায় সূর্যের লাল আলোয় রক্তিম হয়ে থাকে নদীর পানি । বেশ ভালো লাগে কুহকের তখন । আজকে নদীর সাথে সাথে আকাশটাও রঙিন হয়ে সেজেছে । নিরবতাকে ভেঙে খানখান করে দিয়ে ফোনটা বেজে উঠলো আবার । অপরিচিত নম্বর । ফোন রিসিভ করে কানে ধরতেই ওপাশ থেকে একটা মিষ্টি কণ্ঠ বলে উঠলো 
- শুধু ভাবনা চিন্তাই করবেন নাকি চায়েও চুমুক দিবেন ? চা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে তো । 
- উমমম... কে বলছেন ??
- আপনার বাম পাশে চা রাখা আছে । টেস্ট করুন ।
কেটে গেল ফোন । কুহক চারপাশে তাকিয়ে কাউকে দেখতে পেল না তবে সত্যি সত্যিই তার বাম দিকের রেলিং এ ওর প্রিয় কাপ ভর্তি চা পেয়ে গেল । সাদা ধোঁয়া উড়ছে তা থেকে । বেশ অবাক হলো সে । কিন্তু সাত পাঁচ না ভেবে চায়ে চুমুক দিতে শুরু করলো সে । যেন এই মুহুর্তে চা ই একমাত্র আরাধ্য ছিল তার । গতরাতের মতো এবারও দুর্দান্ত লাগছে এই চা । মনে মনে ধন্যবাদ দিলো সেই রহস্যময়ীকে । তবে আরেকটু কৃতজ্ঞতা দেখাতে চাইলো সে । কমলা রঙের একটা স্টিকি নোট নিয়ে তাতে লিখলো -  &quot;অনবদ্য &#x2764; 
জানতে চাইনা-কে, জানতে চাই - কেন ?&quot;
নোটটা কাপের গায়ে লাগিয়ে রান্নাঘরে রেখে দিল । তারপর নিজের প্রাত্যহিক কাজে লেগে পড়লো কুহক । কখন ১২ টা বেজে গেছে খেয়াল নেই । ক্লান্তিতে চোখ বুজে আসছে , কাজ এখনও শেষ হয়নি । হঠাৎ মনে হলো এক কাপ রহস্য চা হলে বেশ হতো । ভাবতে ভাবতে রান্না ঘরে গেল কুহক । গিয়ে দেখলো চুলার পাশে কাপ ভর্তি চা থেকে ধোঁয়া উড়ছে । কুহকের চোখে খুশির ঝিলিক । এবারে চায়ের সাথে সবুজ রঙের একটা চিরকুটও পেয়েছে সে । তাতে লেখা - 
&quot;যে চা ভালোবাসে আমিও ভালোবাসি তাকে ।&quot;</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/156311/</link>
				<pubDate>Tue, 04 Oct 2022 09:30:39 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>রহস্য চা<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-<br />
একটানা বৃষ্টি হচ্ছে ঝমঝম করে । এই রাত বিরেতে বৃষ্টি এলে ভীষণ মন খারাপ হয় কুহকের । মনে হয় সমস্ত আকাশ যেন কেঁদে কেঁদে দুঃখ বিলাস করছে । বৃষ্টিতে ভিজতে খুব পছন্দ করে কুহক । কিন্তু এত রাতে বৃষ্টি হলে ভেজা সম্ভব হয় না বলেও হয়তো মন খারাপ হয় ওর । এই মুহুর্তে উদাস চোখে তাকিয়ে আছে সে খোলা জানলা দিয়ে । মাঝে মাঝে বজ্রপাতের&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-156311"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/156311/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ef86d1f211393453f197d15f6e39069a</guid>
				<title>&quot;ছাতা&quot;

দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়েছে অনেকক্ষণ আগে। শেষ বিকেলের আলোটুকু ঘরে ফেরার তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে। ছাদের পশ্চিম দিকের রেলিংটায় পা ঝুলিয়ে বসে আছে কুহক। দূরে তাকিয়ে সূর্যের তলিয়ে যাওয়া দেখছে সে। আজ তার হাতে কফি কাপ নেই, তার প্রিয় ডায়েরীটাও নেই। তবে হুটহাট করে ভাবনার সাগরে ডুব দিতে কখনই ভুল হয়না তার। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। একটা বাচ্চা ছেলেকে এই রোদহীন গোধূলিতেও ছাতা মাথায় হাঁটতে দেখেই ভাবনার ডালি খুলে বসে সে। ওর মনে পরে যায় জন্মসূত্রে পাওয়া তার টুকটুকে লাল ছাতাটার কথা। এই এত্তোটুকুন হয়ে সে যখন পৃথিবীতে এসেছিল তখন থেকেই ওটা তার দখলে। তখন তো কুহক কিছু বুঝতও না। শুধুু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে দেখতো সে। ছাতাটা যতক্ষণ তার পাশে পাশে থাকতো ততক্ষণই যেন হাসির ফোয়ারা ছুটতো তার। এ যেন এক আজব খেলনা। প্রতিনিয়তই সেটা নতুন রূপে হাজির হতো যেন।
এ ছাতা শুধু কুহকের হাসির খোরাকই হয়নি, হয়েছে সুরক্ষার ঢালও। কখনও রোদ পড়তে দেয়নি ওর গায়ে। রুখে দিয়েছে দমকা হাওয়া, সাথে ছুটে আসা ধুলাবালির দাপট। সে যখন এক পা দু পা করে হাঁটতে শিখেছে তখনও ছাতার শক্ত হাতলটা ছিল ওর মুঠিতে, ওর সাহস হয়ে, শক্তি হয়ে। তারপর একে একে অনেকগুলো বছর কেটে যাওয়া। একে একে প্রাথমিক, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকের গন্ডি পেড়োনো। পুরোটা সময়জুড়ে সবসময়ই ওর পাশে ছিল ছাতাটা। কুহক ধিরে ধিরে যত বড় হয়েছে ছাতাটার দায়িত্ব ততই বেড়েছে যেন। বড় বড় সব ঝড় ঝঞ্ঝা রুখে দেয়ার জন্য নিজেকে বিশালকায় করে নিয়েছে, প্রশস্ত হয়েছে তার ছায়া। রোদ, ঝড়, বৃষ্টি, বাদল, কাল বৈশাখি কিংবা সাইক্লোন কোনোটাই ছাতাটাকে পাশ কাটিয়ে কুহককে ছুঁতে পারেনি।
সময়ের নিয়মে কুহক যেমন বড় হয়েছে তেমনি ছাতাটাও তার শক্তি হারাতে শুরু করেছে একটু একটু করে। ছাতার বিবর্ণ হওয়াটা যেহেতু নিশ্চিত তাই তার টুকটুকে লাল রংগুলো এখন কুহকের শরীর থেকে বিকিরিত হতে শুরু করেছে। কুহক ভাবছে। এদিকে সূর্যটাও দিগন্তের কাছে গিয়ে মিলিয়ে গেছে। এখন ওর ঘরে ফেরার কথা। কিন্তু ও উঠছে না। প্রথমে ডান পা তারপরে বাম পা করে পর্যায়ক্রমে দোলাচ্ছে আর ভাবছে, যে ছাতাটা তার অসহায়ত্বের সহায়, যার আশ্রয়ে সে অক্ষত, যার রঙে সে আজ রঙিন সেই ছাতাটাকে কি সে ভালোবাসতে পেরেছে ? নাকি সময়ের প্রয়োজনে ছাতাটাকে বয়ে নেয়াটাই তাকে বেশি কষ্ট দিয়েছে? বেশিক্ষণ চিন্তা করতে হলোনা ওর। জবাব পেয়ে গেছে। ছাতাটাকে ওর কখনই বয়ে নিতে হয়নি, বরং ছাতাটাই তাকে চলতে সহায়তা করেছে। আর চলার পথে ভীষণই ভালোবেসে ফেলেছে সে ছাতাটাকে। সে আরো ভেবে নিয়েছে ভালোবাসা মানেই যত্ন, ভালোবাসা মানেই দায়িত্ব। তাই ছাতাটাকে আমৃত্যুু নিজের কাছে আগলে রাখবে সে। তার ক্ষয়িষ্ণু মেরুদন্ডের শক্তি হবে সে, নিজের সমস্ত রঙের ছটা দিয়ে আবার রাঙিয়ে তুলবে তাকে। কারণ এই ছাতাটাকে যে ও বাবা বলে ডাকে।
~ আসিফুল হক (২২/০২/২১)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/136602/</link>
				<pubDate>Tue, 23 Aug 2022 15:30:59 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8220;ছাতা&#8221;</p>
<p>দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়েছে অনেকক্ষণ আগে। শেষ বিকেলের আলোটুকু ঘরে ফেরার তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে। ছাদের পশ্চিম দিকের রেলিংটায় পা ঝুলিয়ে বসে আছে কুহক। দূরে তাকিয়ে সূর্যের তলিয়ে যাওয়া দেখছে সে। আজ তার হাতে কফি কাপ নেই, তার প্রিয় ডায়েরীটাও নেই। তবে হুটহাট করে ভাবনার সাগরে ডুব দিতে কখনই ভুল হয়না তার। আজও তার ব্যতিক্র&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-136602"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/136602/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">062b5a7b5b4153897a3ac529055cdcb1</guid>
				<title>&quot;যে গল্পে ভালোবাসা নেই&quot;

রাত গভীর হয়েছে। ঘড়িতে সময় কত সে সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। চাঁদটা পুব আকাশে ঢলে পড়ে মিটমিট করে জ্বলছে। বাতাসে নিস্তব্ধতার গন্ধ মিশে পরিবেশে এনে দিয়েছে মাদকতা। হাতে এক কাপ কড়া করে বানানো কফি নিয়ে সেই মাদকতায় ডুবে আছে কুহক। ছাদের এপাশ ওপাশ পায়চারি করছে সে। আর মাঝে মাঝে খুব সন্তর্পণে কাপের খোলা মুখটাতে চুমু একে দিচ্ছে সে। এ অবস্থায় যে কেউ দেখলে ভাববে হয়তো রাজ্যের দুশ্চিন্তায় ডুবে আছে সে। অথবা তার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে প্রবল উপকূলীয় ঝড়। যদিও এসবের কোনোটাই সত্যি নয়। সে আসলে ভাবতে ভালোবাসে। ভালোবাসে রাতের নিস্তব্ধতা নিংড়ানো ভালোলাগার অনুভূতিগুলো নিজের সাথে মিশিয়ে নিতে। যান্ত্রিক এই পৃথিবীতে এই সুযোগটা রাতের এই সময়টাতেই কেবল পাওয়া যায়। মানুষজন ঘুমায়, ছুটি পায় একঘেঁয়ে কোলাহল আর যান্ত্রিক শব্দগুলোও। যেন পুরো পৃথিবীটাই কাঁথা কম্বল মুড়িয়ে গভীর ঘুমে ব্যস্ত। জেগে থাকা বলতে শুধু কুহক আর রাস্তার কিছু নিয়ন আলোর ল্যাম্পোস্ট। এ সময় কুহকের সঙ্গী হিসেবে আরেকটা জিনিস থাকে। সেটি হচ্ছে তার প্রিয় একটা ডায়েরী। নিজের সমস্ত চিন্তা ভাবনাগুলোকে গুছিয়ে রাখে ডায়েরীতে। যেভাবে একজন পরিপাটি গৃহবধু তার সাধের নতুন পুরাতন পোশাকাদি আলমারিতে গুছিয়ে রাখে ঠিক সেভাবেই। তার ধারণা ডায়েরীতে গুছিয়ে রাখা তার লেখাগুলো একদিন জীবন্ত হয়ে উঠবে। কথা বলবে। তার সাথে বসে চাঁদ দেখবে আর আড্ডা দেবে। অবশ্য এখনও যে সেটা করছেনা তা কে জানে??
কুহক আজকে শুধু কফি হাতে পায়চারিটাই করছে, লিখছে না কিছু। ভাবখানা এমন যে পায়চারি করাটা এখন তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তার মাথায় অবশ্য বেশ কিছু বিষয় নিয়ম করে ঘুরপাক খাচ্ছে। এই যেমন -
আজ সকালে সে যখন ভার্সিটিতে যাচ্ছিল তখন হুট করেই একটা দৃশ্য তার চোখে আটকে যায়। ফুটপাতে গুটিশুটি মেরে শুয়ে আছে এক অর্ধনগ্ন বুড়ো লোক। তার মাথার নিচে দুখানা আধাপোড়া ইটের টুকরো। একখন্ড ছেড়া পলিথিনের টুকরো দিয়ে শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচার চেষ্টা করছে। তার পাশেই দেয়ালটাতে একটা গ্রাফিতি আঁকা। পাশে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা রয়েছে &#039;জীবনকে ভালোবাসাই জীবনের ধর্ম&#039;। অথচ ব্যস্ত নগরীটা অতি সাবধানে একটা মুমূর্ষু জীবনকে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে। কেউ ফিরে তাকাবারও ফুসরত পাচ্ছে না। কুহক বুঝতে পারেনা এখানে কে জীবনহীন, ফুটপাতের লোকটা নাকি ব্যস্ত নগরীটা ?
ভার্সিটি থেকে ফেরার পথে আরেকটা ঘটনা তার ক্ষুদ্র মস্তিস্কে বেশ নাড়া দিলো। রিকশা থেকে নেমে সে ভাড়া মেটাচ্ছিল। হঠাৎই সে লক্ষ করলো তার অদূরে দুটো লোক বাক্যযুদ্ধে ব্যস্ত। একজনের পরনে স্যুট, বুট আর টাই হাতে একটা ছোট অফিস ব্যাগ। আর অন্যজনের পরনে একটা লুঙ্গি আর কালশিটে পড়া সাদা গেঞ্জি। একটা লাল টুকটুকে গামছা লুঙ্গি আর গেঞ্জিটাকে লোকটার কোমড়ের কাছে জোড় বন্ধনে আবদ্ধ করে রাখতে ব্যস্ত। রাজ্যের ধুলো ময়লার ভীরে গামছাটা অবশ্য এখন আর লাল নাই, কালচে হয়ে গেছে। ভাড়া মিটিয়ে কুহক সেদিকে এগিয়ে গেল। কিন্তু তার পৌঁছানোর আগে ঠাস করে একটা শব্দ হয়ে বাতাসে মিলিয়ে গেল। পাঁচ টাকার জন্য দুজনের মধ্যে মতের অমিল। আর বাকযুদ্ধের এক পর্যায়ে রিক্সাওয়ালার গালে চরটা বসে গেল আকস্মিকভাবেই। যুদ্ধে পরাজিত সৈনিকের মতোই রিক্সাওয়ালা তার রিক্সাটা নিয়ে পালিয়ে বাঁচলো যেন। আর ভদ্রলোকটা একটা চওড়া হাসি হেসে দুশো টাকায় এক প্যাকেট বেনসন সুইচ কিনে নিয়ে বাড়ির পথ ধরলো। কুহক অবশ্য বুঝতে পারলো না যে ভদ্রলোক আসলে কোনটাতে জিতলো, রিক্সাওয়ালাকে পাঁচ টাকা কম দিয়ে নাকি দুশো টাকার সিগারেটে?
এরকমই বেশ কিছু ছোটো খাটো আর অতি সাধারণ ঘটনা ওর মাথার মধ্যে নাচানাচি করছে। কুহক ভাবছে ঘটনাগুলোর একটা গন্তব্য থাকা দরকার। কি সেই গন্তব্য? প্রশ্নটা মাথায় নিয়েই আরো দুই রাউন্ড পায়চারি করলো সে। তারপর হঠাৎ করে ছুটে গেল তার প্রিয় ডায়েরীটার কাছে। স্থির করলো আজ রাতে একটা গল্প লিখবে সে। আর তার গল্পের নাম হবে “যে গল্পে ভালোবাসা নেই” ।
~আসিফুল হক(19/02/2021)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/136226/</link>
				<pubDate>Mon, 22 Aug 2022 19:30:04 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8220;যে গল্পে ভালোবাসা নেই&#8221;</p>
<p>রাত গভীর হয়েছে। ঘড়িতে সময় কত সে সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। চাঁদটা পুব আকাশে ঢলে পড়ে মিটমিট করে জ্বলছে। বাতাসে নিস্তব্ধতার গন্ধ মিশে পরিবেশে এনে দিয়েছে মাদকতা। হাতে এক কাপ কড়া করে বানানো কফি নিয়ে সেই মাদকতায় ডুবে আছে কুহক। ছাদের এপাশ ওপাশ পায়চারি করছে সে। আর মাঝে মাঝে খুব সন্তর্পণে কাপের খোলা মুখটাতে চুমু&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-136226"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/136226/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>