-
“ছাতা”
দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়েছে অনেকক্ষণ আগে। শেষ বিকেলের আলোটুকু ঘরে ফেরার তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে। ছাদের পশ্চিম দিকের রেলিংটায় পা ঝুলিয়ে বসে আছে কুহক। দূরে তাকিয়ে সূর্যের তলিয়ে যাওয়া দেখছে সে। আজ তার হাতে কফি কাপ নেই, তার প্রিয় ডায়েরীটাও নেই। তবে হুটহাট করে ভাবনার সাগরে ডুব দিতে কখনই ভুল হয়না তার। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। একটা বাচ্চা ছেলেকে এই রোদহীন গোধূলিতেও ছাতা মাথায় হাঁটতে দেখেই ভাবনার ডালি খুলে বসে সে। ওর মনে পরে যায় জন্মসূত্রে পাওয়া তার টুকটুকে লাল ছাতাটার কথা। এই এত্তোটুকুন হয়ে সে যখন পৃথিবীতে এসেছিল তখন থেকেই ওটা তার দখলে। তখন তো কুহক কিছু বুঝতও না। শুধুু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে দেখতো সে। ছাতাটা যতক্ষণ তার পাশে পাশে থাকতো ততক্ষণই যেন হাসির ফোয়ারা ছুটতো তার। এ যেন এক আজব খেলনা। প্রতিনিয়তই সেটা নতুন রূপে হাজির হতো যেন।
এ ছাতা শুধু কুহকের হাসির খোরাকই হয়নি, হয়েছে সুরক্ষার ঢালও। কখনও রোদ পড়তে দেয়নি ওর গায়ে। রুখে দিয়েছে দমকা হাওয়া, সাথে ছুটে আসা ধুলাবালির দাপট। সে যখন এক পা দু পা করে হাঁটতে শিখেছে তখনও ছাতার শক্ত হাতলটা ছিল ওর মুঠিতে, ওর সাহস হয়ে, শক্তি হয়ে। তারপর একে একে অনেকগুলো বছর কেটে যাওয়া। একে একে প্রাথমিক, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকের গন্ডি পেড়োনো। পুরোটা সময়জুড়ে সবসময়ই ওর পাশে ছিল ছাতাটা। কুহক ধিরে ধিরে যত বড় হয়েছে ছাতাটার দায়িত্ব ততই বেড়েছে যেন। বড় বড় সব ঝড় ঝঞ্ঝা রুখে দেয়ার জন্য নিজেকে বিশালকায় করে নিয়েছে, প্রশস্ত হয়েছে তার ছায়া। রোদ, ঝড়, বৃষ্টি, বাদল, কাল বৈশাখি কিংবা সাইক্লোন কোনোটাই ছাতাটাকে পাশ কাটিয়ে কুহককে ছুঁতে পারেনি।
সময়ের নিয়মে কুহক যেমন বড় হয়েছে তেমনি ছাতাটাও তার শক্তি হারাতে শুরু করেছে একটু একটু করে। ছাতার বিবর্ণ হওয়াটা যেহেতু নিশ্চিত তাই তার টুকটুকে লাল রংগুলো এখন কুহকের শরীর থেকে বিকিরিত হতে শুরু করেছে। কুহক ভাবছে। এদিকে সূর্যটাও দিগন্তের কাছে গিয়ে মিলিয়ে গেছে। এখন ওর ঘরে ফেরার কথা। কিন্তু ও উঠছে না। প্রথমে ডান পা তারপরে বাম পা করে পর্যায়ক্রমে দোলাচ্ছে আর ভাবছে, যে ছাতাটা তার অসহায়ত্বের সহায়, যার আশ্রয়ে সে অক্ষত, যার রঙে সে আজ রঙিন সেই ছাতাটাকে কি সে ভালোবাসতে পেরেছে ? নাকি সময়ের প্রয়োজনে ছাতাটাকে বয়ে নেয়াটাই তাকে বেশি কষ্ট দিয়েছে? বেশিক্ষণ চিন্তা করতে হলোনা ওর। জবাব পেয়ে গেছে। ছাতাটাকে ওর কখনই বয়ে নিতে হয়নি, বরং ছাতাটাই তাকে চলতে সহায়তা করেছে। আর চলার পথে ভীষণই ভালোবেসে ফেলেছে সে ছাতাটাকে। সে আরো ভেবে নিয়েছে ভালোবাসা মানেই যত্ন, ভালোবাসা মানেই দায়িত্ব। তাই ছাতাটাকে আমৃত্যুু নিজের কাছে আগলে রাখবে সে। তার ক্ষয়িষ্ণু মেরুদন্ডের শক্তি হবে সে, নিজের সমস্ত রঙের ছটা দিয়ে আবার রাঙিয়ে তুলবে তাকে। কারণ এই ছাতাটাকে যে ও বাবা বলে ডাকে।
~ আসিফুল হক (২২/০২/২১)4 Comments
Friends
আনোয়ার পারভেজ নূর শিশির
@anwar-parvez-nur-shishir
মালিক ফাহাদ
@m-m-fahad
ইফতিশা খানম
@eftishakhanam
Md.Emamuzzaman Wahedi
@emamuzzaman
মাহ্দী সাকিব
@mahdi-sakib
sanjida akter jim
@sanjidajim
Moniruzzaman Sarjil
@zaman2802
Drako Shajib
@drako
ঈশিতা ঈরু
@eshitabiswaseru15


অসাধারণ