Profile Photo

অনিক ভট্টাচার্য্যOffline

  • Cholechi-Udoyer-Pathdhore
  • সেদিনও বৃষ্টি ছিলো,
    অনিক ভট্টাচার্য্য

    আজ ১৫ই এপ্রিল , আজ‌ও বাইরের আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি নেমেছে, কটা দিন কড়া গরমের পর আজ ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নেমেছে, বৃষ্টির ঝাঁট এতো বেশি কাঁচের জানালা বন্ধ করে দিতে হলো,‌ স্বচ্ছ কাঁচের জানালা দিয়ে , রাস্তা দেখা যাচ্ছে , একে অনেক রাত, তার ওপর ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি, তাই পুরো রাস্তা ফাঁকা, রাস্তার ধারের বন্ধ দোকান গুলোর চালা বেয়ে জল ধারা গড়িয়ে রাস্তায় পরছে, আজ সারা শরীরে প্রশান্তি খেলে গেলো,আজ খুব মনে পড়ছে “সৃজা”র কথা , খুব ঝগড়া করতাম দুজন , পান থেকে চুন খসলেই কেউ কাউকে ছাড়ার মানুষ ছিলাম না, খুব চঞ্চল ছিলাম দুজনেই আর তার রাগ যেন সব সময় নাকের ডগায় থাকতো , কথায় কথায় রাগ , রাগ করে সব সময় বলতো আমি চলে গেলে বুঝতে পারবি, দেখিস আমি বলতাম তুই চলে গেলেই বাঁচি, এতো জ্বালাস তুই, সব ব্যাপারে তোর কথামতো হতেই হবে, কেন আমার কোন স্বাধীনতা নেই? পাগলি টা তখন বলতো এখন বুঝবিনা , যেদিন আমি সত্যি চলে যাবো আমার কদর সেদিন বুঝবি, আমি তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলতাম , তুই জমের‌ও অরুচি, তুই মুখে বলিস দেখি তো যা না সত্যি সত্যি , কথা গুলো রাগের মাথায় হলেও মন থেকে বলতাম না, কিন্তু ওর মনে বেশ দাগ কাটতো বুঝতেই, রাগ ভুলে গিয়ে পাগলি টাকে মানাতে বসতাম, আকাশ পাতাল চাহিদা নেই, কক্ষনো‌ আমার কাছে কিছু চাইতোনা উল্টো আমি যদি টাকা এদিক ওদিক খরচ করতাম , ও খুব রাগ করতো, ও নিজের জন্যেও খরচ করতে দিতো না, ওর চাহিদা শুধু রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফুচকা , পাগলি টা এতো ফুচকা পাগল ছিলো, পুরো বাচ্চার মতো হয়ে যেতো, একদিন পাগলি টার প্রচন্ড মাথা ব্যাথা ওঠে , ভেবেছিলাম সেরে যাবে, সেও বলতো প্রায়‌ই হয়, শেষে এমন পর্যায়ে যায় হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়, অনেক কষ্ট হয়েছিল হাসপাতাল ভর্তি করাতে ও ভয় পেয়েছিলো , যদি কিছু হয়? বারবার আমাকে হাসপাতালে জাপটে ধরতো সবার সামনে , কিন্তু কাজের জন্য প্রতিদিন যাওয়া হতো না, আজ‌ও মনে পরে , হাসপাতালে ভর্তি হতে যাওয়ার সময় বলেছিলো, টাটা , এবার দেখিস আমি আর ফিরবো না,
    ১৫ই এপ্রিল আমাকে কাজে অনেক টা দূর যেতে হয়, বৃষ্টি তার ওপর গত কয়েকদিন ওর শরীরের অবস্থাও ক্রমান্বয়ে জটিল হচ্ছিলো, কিছুতেই মন বসাতে পারিনি, সারাদিন হাত পা কাঁপছিলো, যেখানে গেছিলাম সেখানে ফোনের টাওয়ার ও নেই , খবর‌ও‌ নিতে পারিনি, আর না পারতে কাজ অসম্পূর্ণ রেখে চলে আসি, এসে দেখি হাসপাতে ভীড় , স্বজন সবাই , আমার বুকটা অজানা আতঙ্কে কেঁপে ওঠে, রুমে যেতেই ডাক্তার বললো বারবার নাকি আমাকে খুঁজছে, আমি কাছে যেতে অনেক কষ্টে চোখ খুলে আমাকে সেদিন আর জাপটে পারেনি, শক্তি নেই ওঠার ,হাতটা ধরে বললো একটু বুকে নিবি? আমি আস্তে আস্তে তুলে জড়িয়ে ধরলাম, স্যালাইন, এর লাইন এর জন্য ভালো করে জড়িয়ে ধরতে পারছেনা, আমি সাবধানে বুকে নিতে, চোখ বেয়ে ওর জল গড়াতে লাগলো, আর বলতে লাগলো, নিজের যত্ন নিবি, পয়সা জমাবি, না হলে বিপদে কষ্ট পাবি, আজ থেকে হয়তো আর জ্বালাবো না, কিন্তু তুই আজ থেকে আমাকে পাবি তোর মধ্যে , আজ আর অভিমান না, সত্যি সত্যি আজ চলে যেতে হচ্ছে , কিন্তু আজ অনেক বাঁচতে ইচ্ছে হচ্ছে তোর সাথে, কিন্তু।।।।।।। কথা আর শেষ করার আগেই চুপ আমার কোলে মাথা রেখে যেভাবে অঘোর ঘুমে হারিয়ে যেতো, সেভাবেই শেষ বারের মতো চির ঘুমে হারিয়ে গেলো ,‌
    ওর শান্তিতে বন্ধ চোখ জোড়া মনে হচ্ছে বৃষ্টির আমেজে ঘুমোচ্ছে, আজকের মতো সেদিনও বৃষ্টি ছিলো।।।

    8
    6 Comments

Friends

Profile Photo
Md-Zahidul-Islam-Prince
@md-zahidul-islam-prince
Profile Photo
Mohammad-Rakibul-Hasan
@mohammad-rakibul-hasan
Profile Photo
Tahmina-Shikha
@tahmina-shikha
Profile Photo
MD-Naimul-Islam
@md-naimul-islam
Profile Photo
charumannan
@charumannan
Profile Photo
Mehebub-Hasan
@mehebub-hasan
Profile Photo
Omar Faruk Rayhan
@rayhanpoet
Profile Photo
Arif Muslimeen
@arif-muslimeen
Skip to toolbar