<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Rifa Tasfiah Himi | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/himi1912/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/himi1912/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Rifa Tasfiah Himi.</description>
	<lastBuildDate>Fri, 19 Jun 2026 20:08:28 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">2884e8bdf46e8bb48aa3757bd248a375</guid>
				<title>&quot;অক্সিজেন&quot;
ফিমু তার অক্সিজেন সিলিন্ডারের ভিতরে &quot;অ্যালোভেন&quot; ডোস ঢুকিয়ে দিল । প্রতিদিন সকালে উঠে এটাই তার প্রধান কাজ । শুধু তার কেন, বর্তমান সময়ে সকলেরই প্রধান কাজ হচ্ছে ঘুম থেকে উঠে আগে নিজের গাছের প্রযোজনীয় উপাদান সিলিন্ডারে ঢুকিয়ে দেয়া। তবে, যাদের নিজস্ব রোবট আছে তাদের রোবটরাই এই কাজটি করে থাকে । আর ফিমুদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদের এসব কাজ নিজ হাতেই করতে হয় । ফিমুর মা অসুস্থ । শুধু অসুস্থ বললে ভুল হবে, তিনি বেশ অসুস্থ । তার সিলিন্ডারের গাছটি আজ প্রায় মরতে বসেছে । ঠিকমতো অক্সিজেন সাপ্লাই দিতে পারছে না । তাই, ফিমুর মায়ের শরীরে ধীরে ধীরে অক্সিজেনের অভাব দেখ দিচ্ছে । এভাবে আর কতদিনই বা বাঁচা যায়! আর বর্তমানে ফিমুর বাবার যে অর্থিক অবস্থা তাতে সিলিন্ডারে নতুন গাছ বসানোর মতো ব্যয়সাধ্য ব্যাপার একেবারেই অসম্ভব । ফিমু সারাদিন এসব নিয়ে ভাবে । সে &quot;অতীত পৃথিবী&quot; বইটিতে পরেছে , আগে পৃথিবীতে অনেক গাছ ছিল । বন-জঙ্গল, রাস্তার ধারে, এমনকি প্রত্যেকের বাড়িতেই তখন অনেক গাছ থাকত । ফিমুর ভাবতে বড়ই অবাক লাগে। সে বইটিতে আরো পরেছে যদি অতীত পৃথিবীর মানুষ অবাধে গাছ না কাটত তাহলে হয়তো তাদের আজ এই দিনটা দেখতে হতো না । এজন্য ফিমুর অতীত পৃথিবীর মানুষদের উপর অসম্ভব রাগ হয়। এমন মনে হয়, যদি সে কখনো অতীত পৃথিবীতে যেতে পারত তাহলে ওর মায়ের জন্য একটি গাছ নিয়ে আসত আর সঙ্গে ঐ মানুষগুলোকে বুঝিয়ে দিত যে একটি গাছের কত মূল্য! 

আজ স্কুলে পৌঁছাতে ফিমুর দেরি হয়ে গেল । প্রায় দিনই দেরি হয় । তবে, আজ একটু বেশি দেরি হয়ে গেছে । স্কুলে ঢোকার সাথে সাথেই নিনাদ হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলো । 
--- কিরে, ছুটে এলি যে ?
---আরে, তুই এত দেরি করলি কেন ? 
--- কি আর বলি ! রাস্তায় &quot;স্যালোরনের&quot; এতো ভিড় ! তার মধ্যে দিয়ে ছোট্ট &quot;রিকভ্যানটা&quot; আসার জায়গাই পায় না । আর আমার তো বাইভারবাল নেই যে উড়ে আসব । 
---আচ্ছা যাই হোক । শোন, আজ স্কুলে একটা প্রতিযোগিতা আছে । চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ।
--- নারে, এখন আর এসব ভালো লাগে না। মা এতো অসুস্থ! আমার আর কিছুই ভালো লাগে না । 
--- আরে, সেজন্যই তো বলছি ।
--- মানে ?
--- শোন, তুই যদি প্রতিযোগিতটিতে প্রথম হতে পারিস তাহলে পুরস্কার হিসেবে থাকছে একটি &quot;হ্যালোডিউরক্স&quot; গাছ । 
--- সত্যি !
--- হ্যাঁ, আমি তো জানি যে আন্টি খুব অসুস্থ । আর এটা তোর জন্য একটা বড় সুযোগ । এখন হা করে না থেকে চল তাড়াতাড়ি । প্রতিযোগিতা শুরু হলো বলে ।

ফিমু তার স্কুলের ছোট হলঘরে চলে এলো । সেখানে তার মতো আরো অনেকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে । এরই মধ্যে নির্দেশক চলে এসেছেন । তিনি সবাইকে সবকিছু বুঝিয়ে দিয়ে বললেন যার যে বিষয়ের উপর আঁকতে ইচ্ছা সে সেই বিষয়ের উপরই আঁকতে পারবে । সবাই আঁকতে শুরু করল । কিন্তু ফিমু বসে আছে । কারণ, সে এখনো ঠিকই করেনি যে সে কোন বিষয়ের উপর আঁকবে । হঠাৎ, তার মনে হলো সেই অতীত পৃথিবীর কথা । সে তার ট্যাব বের করে আঁকতে শুরু করল । অতীত পৃথিবীর সকল ছবিই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। তাই কারও মনেই সেই পৃথিবীর স্পষ্ট রূপ নেই। ফিমুও অতীত পৃথিবীর কোনো ছবি দেখেনি। যতটুকু জেনেছে সবই বই পড়ে। সেভাবেই সে তার মনের জগতে সাজিয়ে নিয়েছে সেই পৃথিবী। সপ্নেও বহুবার ফিমু অতীত পৃথিবীকে দেখেছে। আর সেই দৃশ্যটাকে সামনে রেখেই সে আঁকছে। মনে হচ্ছে যেনো সে অতীত পৃথিবীকে সরাসরি দেখতে পাচ্ছে। এমন সময় একজন পরিদর্শক আসলেন। তিনি সবার ছবি আঁকা পর্যবেক্ষণ করছেন। হঠাৎ তিনি ফিমুর পাশে এসে থমকে দাঁড়ালেন। লোকটির দিকে না তাকিয়েই ফিমুর মনে হলো তিনি যেন বেশ অবাক হয়েছেন। দেখতে দেখতে সবার আঁকা শেষ হয়ে গেলো। ফিমুও নিজের আর্ট পোস্ট করে বাহিরে চলে এলো। তারপর নিনাদের সাথে মিলে বিজ্ঞান হলঘরের দিকে এগিয়ে চললো। সেখানে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। সেমিনারে কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি বক্তৃতা দিলেন। বক্তৃতা থেকে জানা গেলো মঙ্গলগ্রহের মাটিতে যে &quot;পিলোসফ্ট&quot; গাছটি রোপণ করা হয়েছিলো সেটি মারা গেছে। শুনে সকলের বেশ মন খারাপ হলো। সেমিনার প্রায় শেষের পথে। এখন চিত্রাঙ্গন প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা করা হবে। ফিমুর বুক টিপ টিপ করছে । তার কেন যেন মনে হচ্ছে সে জিততে পারবে। ধীরে ধীরে বিজয়ীর আঁকা ছবি পর্দায় ভেসে উঠছে। সবাই অবাক বিস্ময়ে চেয়ে আছে। ফিমু লাফ দিয়ে নিজের চেয়ার থেকে উঠে পড়ল। সাথে সাথে বাকিরাও উঠে দাঁড়িয়ে তালি দিতে শুরু করল। বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হলো। ফিমু নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না। কারণ, সেখানে ওর নামের বদলে অন্য আরেকটি ছেলের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সবাই আবারো হাততালি দিয়ে উঠলো। ফিমু নিশ্চল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কি ঘটছে বুঝতে পারছে না। সে দেখলো বিজয়ী ছেলেটির পাশে সেই পরিদর্শক লোকটি দাঁড়িয়ে আছে। ঘোষণা করা হচ্ছে লোকটি ছেলেটির বাবা এবং বাবার হাতেই সন্তানকে পুরস্কৃত করা হলো। ফিমু নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারছে না। হঠাৎ নিনাদ বললো,
- কিরে ফিমু, তোর কি হয়েছ ?
- নিনাদ, বিশ্বাস কর......
- কি ?
- বিশ্বাস কর, এটা আমার আঁকা ছবি।
- সত্যি ! 
- হ্যাঁ
এবার ফিমু কেঁদে ফেলল। ওদের দু&#039;জনের বুঝতে কোনো অসুবিধা হলো না যে আসলে কি ঘটেছে। নিনাদ ফিমুকে সান্ত্বনা দিয়ে বললো,
- কি আর করবি বল ! সকল ক্ষমতা ওদের হাতে।
- তাই বলে এত বড় প্রতারণা ?
- এটাই নিয়ম। আমাদের মত মানুষদের সবসময় মুখ বুঝে থাকতে হয়।
বুক ভরা কষ্ট নিয়ে ফিমু বাড়ি ফিরে এলো। ওর মা আজ খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ফিমু সব ফেলে মায়ের পাশে এসে বসলে সে তার মায়ের হাতদুটো নিজের বুকের কাছে টেনে নিলো। ওর বাবা পাশেই বসে কাঁদছেন। ফিমুর মায়ের শরীরে আর কোনো অক্সিজেন প্রবেশ করছে না। তিনি প্রাণপণে শ্বাস নেয়ার চেষ্টা করছেন। ফিমুর ইচ্ছে করছে নিজের গাছটি মায়ের সিলিন্ডারে ঢুকিয়ে দিতে। কিন্তু তা সম্ভব না। হঠাৎ ফিমুর মনে হলো, অতীত পৃথিবীতেও কি আজকের মতো প্রতারণা ছিল ? তারপর সে নিজেই নিজের প্রশ্নের উত্তর ভেবে নিলো,&#039;ছিলো&#039;। কেননা, সেই সময়ের মানুষ প্রতারণা করেছে গাছের সাথে।

[বি.দ্র. : এটি আমার লেখা প্রথম বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী । ভুল-ত্রুটি থাকতেই পারে । আশা করি,আপনারা সেগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতেই দেখবেন ।&#x1f60a;&#x1f60a;]</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/37342/</link>
				<pubDate>Tue, 21 Sep 2021 16:47:58 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>                    &#8220;অক্সিজেন&#8221;<br />
ফিমু তার অক্সিজেন সিলিন্ডারের ভিতরে &#8220;অ্যালোভেন&#8221; ডোস ঢুকিয়ে দিল । প্রতিদিন সকালে উঠে এটাই তার প্রধান কাজ । শুধু তার কেন, বর্তমান সময়ে সকলেরই প্রধান কাজ হচ্ছে ঘুম থেকে উঠে আগে নিজের গাছের প্রযোজনীয় উপাদান সিলিন্ডারে ঢুকিয়ে দেয়া। তবে, যাদের নিজস্ব রোবট আছে তাদের রোবটরাই এই কাজটি করে থাকে । আর ফিমুদের মতো মধ্যবিত্ত পরি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-37342"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/37342/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7971509a5056a49157cbe924232456ff</guid>
				<title>{সাদাক্ত}
[১]
আজকে ফুল নিবেন না স্যার ?
এক উৎফুল্ল বালিকার কণ্ঠস্বর শুনে আমি পিছনে ফিরলাম । এতক্ষণ ওরই অপেক্ষা করছিলাম । মেয়েটি আমাকে দেখে তার ফোকলা দাঁতের মিষ্টি একটা হাসি উপহার দিল । আমিও তার হাসির উত্তরে একটা মুচকি হাসি দিয়ে বললাম, &quot;কি পুষ্পকন্যা, খবর কি ?&quot; এবার যেন তার হাসিটা আরো বিস্তৃত হয়ে গেল । 
–ভালো, স্যার । আপনের ?
–আমিও ভালো আছি । তো আমার ফুল কোথায় ?
–এইযে স্যার, আপনের &#039;ইস্পেশাল&#039; সাদা গোলাপ ।
আমি হাত বাড়িয়ে ফুলটি নিয়ে পুষ্পকন্যাকে একটি বিশ টাকার নোট বের করে দিলাম । টাকাটি নিয়ে মেয়েটি সপ্রশ্ন দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, &quot; আচ্ছা স্যার, আপনে সবসময় সাদা গোলাপ নেন ক্যান ? আপার কি সাদা গোলাপ পছন্দ ?&quot; । বলেই সে মুখ টিপে একটা হাসি দিল যেন খুব পাকনা কথা বলে ফেলেছে ।
–খুব পেকে গেছিস দেখছি, হুমম !
– ভুল কি কইলাম ? তাইলে, আপনেই বলেন ক্যান কেনেন ?
–সাদা হচ্ছে শান্তির প্রতীক । আর আমিও শান্তিপ্রিয় মানুষ । এজন্যই, বুঝলি ?
–উমমহ, মিছা কথা ।
–হয়েছে, তোকে আর এখন সত্য কথা শুনতে হবে না, যা ।
–আপনে না বললে নাই । তয়, আমি কিন্তু জানি ।
বলেই সে একটা চালাকির হাসি দিয়ে পালিয়ে গেল ।
আমি হাঁটতে শুরু করলাম । ভেবেছিলাম রিক্সায় যাব । কিন্তু বিষন্ন সুন্দর আকাশটা দেখে হাঁটতে ইচ্ছে করল । পুষ্পকন্যা ঠিকই বলেছে । আমি ওকে মিথ্যাই বলেছিলাম ।

[২] 
কাব্য দূর থেকে আমার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে । আমি ওর কাছে গিয়ে আমার লাল দাঁতগুলো দিয়ে একটা হাসি দিলাম । কাব্য বিরক্ত হয়ে বলল, &quot; এমনিতেই দেরী করে এসেছ, তার উপর আবার লাল দাঁতগুলো বের করে হাসছ । তোমাকে কতদিন বলেছি না এভাবে পান খেয়ে আসবে না । &quot;
–পান খেলে সমস্যাটা কোথায় বলতো ?
–খুবই বিচ্ছিরি লাগে আমার । মনে হয় যেন কেউ রক্ত মুখে নিয়ে কথা বলছে ।
কাব্যর কথা শুনে আমি অট্টহাসি দিয়ে উঠলাম ।
–কি হলো ! ওভাবে হাসছ কেন ?
–নাহ, এমনি । এই নাও তোমার ফুল ।
–রোজ রোজ তুমি সাদা গোলাপ আন কেন বলতো ?
–এখন কি সাদা গোলাপেও সমস্যা ?
–না, এমনি জিজ্ঞাসা করছি ।
–আসলে, সাদা রঙটা অন্যদের খুব সুন্দর ফুটিয়ে তুলতে পারে ।
–মানে ?
–মানে হচ্ছে, সাদার উপরে তুমি নীল দাও, হলুদ দাও, সবুজ দাও ; সবই খুব সুন্দর ফুটে ওঠে । লালটা যেন আরো বিশেষভাবে ফুটে ওঠে ।
বলতেই একধরনের শিহরণ বোধ করলাম ।
–তো আমি কি এই সাদা ফুল নিয়ে গিয়ে বাড়িতে লাল, নীল, হলুদ, সবুজ রঙ করব নাকি ?
–ইচ্ছে হলে করতে পারো ।
–যাও, বাজে বকো না । এই রে..... বৃষ্টি পড়ছে । চল ছাউনির নিচে গিয়ে বসি ।

[৩] 
সকাল নয়টা বাজে । আকাশ মন খারাপ করে আছে। রোদের দেখা নেই । অবশ্য, বেশ কয়েকদিন ধরেই বৃষ্টি হচ্ছে । এই বৃষ্টিতেই মনে হয় শীত নামবে । কিছুটা ঠান্ডা ঠান্ডা লাগছে । কিন্তু, গোসল করতে আলসেমি লাগছে না । বরং, এই ভেবে আনন্দ হচ্ছে যে আজ বেশ একটা চা-গোসল দেয়া যাবে । না শীত, না গরম । এই আবহাওয়া চা-গোসলের জন্য একেবারে আদর্শ সময় । আমি চুলোয় পানি বসিয়ে দিলাম । কে যেন ফোন করছে । কাব্যই হবে বোধহয়।
–হাঁ, বল ।
–আজ কখন আসতে হবে মনে আছে তো ?
–জী, মেমসাহেব । খুব মনে আছে । একদম দশটায় পৌঁছতে হবে । এক ন্যানো সেকেন্ডও দেরী করা যাবে না ।
–তো, ঠিক সময়ে চলে এস ।
–আচ্ছা । কিন্তু, তুমি এত গম্ভীর হয়ে আছো কেন ?কি এমন জরুরী কথা বলতো ?
–সেটা আসলেই জানতে পারবে ।
খট করে ফোনটা কেটে গেল । যাক গে, এখন জরুরী কথার চেয়েও জরুরী হচ্ছে আমার চা-গোসল । এরকম মোক্ষম আবহাওয়াকে বৃথা যেতে দেয়া ঠিক না । এই রে, এতক্ষণে বোধহয় পানি ফুটতে শুরু করেছে ।

[৪] 
এই হালকা ঠান্ডায় শরীরে ঠান্ডা পানি পড়ছে আর শরীর হালকা একটা কাঁপুনি দিয়ে উঠছে । তারই ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ধোঁয়া ওঠা গরম চা । আহহহ..... এ যেন এক অন্যরকম অনুভূতি ! শরীরের বাইরেটা ঠান্ডা আর ভিতরটা গরম !

গোসল করতে করতে কতক্ষণ যে চলে গেছে বুঝতেই পারিনি । বের হয়ে দেখি দশটা বেজে গেছে । তাড়াতাড়ি জামা-কাপড় পাল্টে বাইরে বেরিয়ে পড়লাম । কাব্য ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকবার ফোন করেছে । আমি তাড়াতাড়ি একটা রিক্সা ডাকলাম ।
–এই রিক্সা !
–থাক, আর রিক্সা ডেকে কাজ নেই ।
নারীকন্ঠ শুনে পিছনে ফিরলাম । কাব্যই দাঁড়িয়ে আছে । বুঝতে পারছি না, কি এমন ঘটল যে কাব্য নিজেই হাজির । আর তাছাড়া, ও আমার বাড়ির ঠিকানাই বা কোথায় পেল !
–ওভাবে হা করে তাকিয়ে আছ কেন ?
–না মানে, তুমি ঠিকানা কোথায় পেলে ?
–তুমিই তো বলেছিলে । কিন্তু, তোমাকে দেখছি তোমার বাড়ির আশে-পাশের কেউই চেনে না । তাই, রিক্সা স্ট্যান্ডের কাছে দাঁড়িয়ে আছি ।
–ওহ ।
–তো, তোমার দশটা এখনো বাজেনি, তাই না ?
–একটু দেরী হয়ে গেল আরকি ।
–আমরা কি এখানেই দাঁড়িয়ে থাকবো ?
–চল, কোথাও একটা গিয়ে বসি ।
–কেন, তোমার বাড়িতে কি সমস্যা ?
–আ......বাড়ি !
–হ্যাঁ, গেলে অসুবিধা আছে নাকি ?
–নাহ, অসুবিধা থাকবে কেন !
আমি কাব্যকে আমার বাড়িতে নিয়ে চললাম । বাড়িটি আসলে আমার দাদার । এখন কিছুটা ভগ্নদশা । আমি কাব্যকে বসার ঘরে বসালাম ।
–তো বল এখন কি বলতে চাও?
–এটা কি তোমার নিজের বাড়ি ? বেশ পুরোনো মনে হচ্ছে ।
–হুমম..... আমারই বাড়ি । পৈতৃক সূত্রে পাওয়া । এটাই কি তোমার জরুরী কথা ?
কাব্য একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল ।
–তুমি আমাকে কতটা ভালবাসো, শুভ্র ?
–ভালোবাসা ! হঠাৎ এই কথা বলছ কেন ?
–কারণ আছে, বল না শুভ্র ।
কাব্য ব্যাকুল হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে ।
–কি কারণ ?
এবার কাব্য আগের চেয়েও বড় করে শ্বাস নিল ।
–আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে ।
আচ্ছা, কাব্য আমার কাছে কি উত্তর আশা করছে ? কি শুনতে চাচ্ছে ?
–কিছু বলছ না কেন ?
–কি বলব ?
–আশ্চর্য! তোমার কি কিছুই বলার নেই?
–তুমি কি বলতে চাচ্ছ, আমি তোমার পরিবারকে গিয়ে বলব যে আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই ?
কাব্যের চোখে সত্যি বিস্ময় । আমি কাব্যের প্রশ্নই কাব্যের দিকে ছুড়ে মারলাম ।
–তুমি আমাকে কতটা ভালবাসো কাব্য ?
–অনেক ভালবাসি শুভ্র, অনেক ভালবাসি । আমি তোমাকে ছাড়া অন্য কারো কথা ভাবতেই পারি না ।
কাব্য আমার হাত দু&#039;টো নিজের কাছে টেনে নিল । ওর চোখে পানি । কি আশ্চর্য ! ও কিসব সর্বনাশা কথা বলছে! আমার মাথা ঝিমঝিম করছে । নিশ্বাস ভারী হয়ে আসছে ।
–কি হলো শুভ্র? কিছু বলছ না কেন ?
–কিন্তু, কিন্তু তুমি আমাকে ভালবাসতে পার না ।
–কেন শুভ্র?
–না, তা ঠিক না ।
–কেন ঠিক না ?
–আমি কাউকে ভালবাসতে পারি না । আমি কাউকেই ভালবাসতে চাই না ।
–কি বলছ তুমি?
–আমি ঠিকই বলছি । তুমি চলে যাও ।
–না, আমি কোথাও যাব না । আমি তোমাকে ভালবাসি আর তুমিও আমাকে ভালবাসো । সেটা তুমি খুব ভালো করেই জান শুভ্র ।
–না, আমি কাউকে ভালবাসতে চাই না । আমি যাকেই ভালোবাসি সেই দূরে চলে যায় । আর কখনো ফিরে আসে না । আড়াল হয়ে যায় ।
–আমি তোমাকে ছেড়ে দূরে চলে যেতে চাই না শুভ্র। আজ সেজন্যই তো তোমার কাছে এসেছি ।
–না, যাবে । তুমিও দূরে চলে যাবে ।
–যাব না শুভ্র, যাব না ।
–তুমি মৃত্যুকে ঠেকাতে পারবে ?
–কেন পারব না শুভ্র ? তুমি আমার পাশে থাকলে অবশ্যই পারব । মৃত্যুর পরেও আমি তোমার মনের ভিতর থাকবো । আমাদের যোগাযোগ হবে মনে মনে।
–কিন্তু, তুমি আমাকে কতটা চেন ?
–হ্যাঁ, হতে পারে আমি তোমার অতীত জানি না । তুমি কি করো, না করো, তোমার পরিচয় কি কিচ্ছু জানি না । কিন্তু, তবুও আমি তোমাকে ভালোবাসি । এই যে শুভ্র আমার সামনে বসে আছে, আমি তাকেই ভালোবাসি ।
–কিন্তু, তোমার সামনে যে বসে আছে, সেই কি শুভ্রর সম্পূর্ণ রূপ ?
–তোমার যে রূপই থাকুক না কেন, আমি তোমাকেই ভালোবাসি ।
–তুমি কি আমাকে জানতে চাও?
–হ্যাঁ, এখন আমি তোমাকে জানতে চাই । সম্পূর্ণ তোমাকে ভালবাসতে চাই ।
–তুমি কি সত্যিই শুনতে চাও ?
–হ্যাঁ শুভ্র, বল ।
কাব্য আমার দিকে তাকিয়ে আছে । আমি ওর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলাম । আমি যেন ধীরে ধীরে ঘোরের মধ্যে চলে যাচ্ছি ।

আমি শুভ্র, আশফাক ইনতিহাল শুভ্র । আমার দাদুর নাম জয়নাল ইনতিহাল । এক সময় এই শহরে আমাদের বেশ বড় ব্যবসা ছিল । এই বাড়িটাও সেই সময়েরই । ব্যবসাটা আসলে আমার দাদুর ছিল । ব্যবসার খাতিরে দাদুর বেশ নাম-ডাকও ছিল । বাবা দাদুর একমাত্র সন্তান । কিন্তু, ব্যবসার প্রতি কোনোদিনই তার কোনো আগ্রহ ছিল না । তিনি তার চাকরি নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন । আমরা ছিলাম দু&#039; ভাই-বোন । আমি বড় । আমার ছোট বোনের নাম শৌখিন । আমি ওকে আদর করে &#039;শখ&#039; ডাকতাম । আমরা সবাই মিলে এই বাড়িতেই থাকতাম । সেই সময়ে বাড়িটাও বেশ জমজমাট ছিল । কিন্তু, একদিন বাবা নিজের সাথে করে আজকের দিন তৈরির সেই মূল কারণটি নিয়ে এলো । বাবা বললেন যে চাকরির জন্য এখন থেকে তিনি কানাডায় থাকবেন । সাথে মা, আমায় আর শখকেও নিয়ে যাবেন । এই সংবাদ যেন দাদু-দাদীর বুকে চরমভাবে আঘাত হানল । মায়েরও খুব একটা যাওয়ার ইচ্ছে ছিল না । আমি আর শখও ভেবে পাচ্ছিলাম না যে কিভাবে দাদীকে ছাড়া থাকবো । কিন্তু, বাবা তার সিদ্ধান্তে অটল । তিনি আমাদের যাওয়ার ব্যবস্থা একেবারে পাকা করে ফেললেন । নির্দিষ্ট সময়ে আমরা এয়ারপোর্টে হাজির হলাম । কিন্তু, তখনি আমার জীবনের সর্বনাশ অধ্যায়ের প্রথম সর্বনাশ ঘটে গেল । আমরা সবাই বাড়ি ফিরে এলাম । তখন বাবাকে সবচেয়ে বড় অপরাধী মনে হয়েছিল । দাদুর মৃত্যুর পরে আমাদের ব্যবসায় ধ্বস নেমে এল । বাবা ব্যবসা বিক্রি করে দিলেন । এবার তিনি দাদী সমেত আমাদেরকে নিয়ে কানাডায় যেতে চাইলেন । কিম্তু, দাদী এতে নারাজ । তিনি কিছুতেই দেশ ছেড়ে যাবেন না । তাই, বাবা আর গেলেন না । সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল । কিন্তু, আবার সেই সর্বনাশ । এবার দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্বনাশ একসাথে ঘটে গেল। বাবা-মা একটা কাজে বাহিরে গিয়েছিলেন । কিন্তু, সেই যে গেলেন আর ফিরে এলেন না । 

আমি কাব্যর দিকে তাকালাম । ও এমনভাবে তাকিয়ে আছে যেন কান দিয়ে শুনছে না, সবকিছু চোখ দিয়ে দেখতে পাচ্ছে ।
–কি হলো? থামলে কেন ?
আমি মুখ ফিরিয়ে নিয়ে আবার বলতে শুরু করলাম—
এই ঘটনার পরে দাদী একদম ভেঙে পড়লেন । তখন সহায়-সম্বল বলতে এই বাড়িটিই ছিল । বাবার অফিস থেকে অবশ্য কিছু সাহায্য-সহযোগিতা পেয়েছিলাম । কিন্তু তা দিয়ে আর কতদিন । ধীরে ধীরে দাদী অসুস্থ হয়ে পড়লেন । চিকিৎসা করানোর মত তেমন কিছুই অবশিষ্ট ছিল না । আত্বীয়-স্বজন যারা ছিলেন তারাও আমাদের অসময়ে আড়ি দিয়ে দিলেন । এবার দাদীও ইতি টানলেন । আমি পুরোপুরি ভেঙে পড়লাম । তখন আমার বয়স দশ আর শখের ছয় । আশে-পাশের মানুষজন মিলে আমাদেরকে একটি আশ্রমে দিয়ে দিলেন । এছাড়া, আর কিই বা করতেন তারা ! নানুবাড়ির সাথেও তো আমাদের তেমন যোগাযোগ ছিল না । ভালোই চলছিল আশ্রমের দিনগুলো । লাঞ্চনা-বঞ্চনার পরেও অনেকেই আমায় ভালবাসত । কিন্তু ভালোবাসা বোধহয় আমার কপালে সহ্য হয় না । তুমি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ কাব্য, এরপর কি ঘটেছিল । 
আমি কাব্যর দিকে ফিরলাম । ও মাথা নিচু করে আছে ।
–শখ নিশ্চয়ই তোমার সর্বনাশ অধ্যায়ের পঞ্চম সর্বনাশ ঘটিয়ে ফেলল ।
–শখের ডেঙ্গু হয়েছিল । আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষটিও আমাকে বিদায় জানালো ।আমার ভালোবাসার সবাই চলে গেল আমাকে একা ফেলে । আমি সেবার দারুন ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম । এরপর থেকে আমি কাউকে ভালবাসতেই ভয় পাই, পাছে সে ছেড়ে চলে যায় ।
কাব্য আমার হাতদু&#039;টো নিজের কাছে টেনে নিল ।
–আমি তোমাকে ছেড়ে যাব না, শুভ্র । আমি ভাবতেই পারিনি তোমার জীবন এরকম হতে পারে । কিন্তু মৃত্যুর পরেও তো মানুষের সাথে যোগাযোগ করা যায় । 
আমার হৃৎপিণ্ড ধ্বক করে উঠল ।
–কি বলছ তুমি!
–আমি ঠিকই বলছি । তুমি চোখ বন্ধ করে তাদের কথা ভাবো, দেখবে ঠিকই যোগাযোগ করতে পাচ্ছ ।
হঠাৎ আমি প্রচন্ড জোরে হেসে উঠলাম ।কাব্য এবার একটু ভড়কে গেছে ।
–হাসছ কেন? সত্যি বলছি । তুমি নিজের মন দিয়ে তাদেরকে দেকে দেখ, দেখবে সারা পাচ্ছ ।
–সম্ভব নয় ।
–কেন ?
–কে বলেছে নেই ?এইযে আমি তোমাকে মন দিয়ে ভালোবাসি ।
–নাহ, তুমি মস্তিষ্ক দিয়ে ভালোবাস ।
–হ্যাঁ, মস্তিষ্কই তো মন ।
–তাই যদি হয়, তবে মৃত্যুর পরে তুমি কিভাবে যোগাযোগ করবে, যদি মস্তিষ্কই না থাকে ।
–আহা, ব্যাপারটা ঠিক তা নয় ।
–তাহলে?
–তুমি চেষ্টা করে দেখ, পারবে ।
–আমি তো যোগাযোগ করি ।
–সত্যি ! তাহলে অভাবে বললে কেন ?
–কিন্তু, আমার প্রক্রিয়া যে ভিন্ন ।
–কি রকম ?
–তুমি দেখতে চাও ?
–হ্যাঁ, অবশ্যই ।
আমার মেরুরজ্জু দিয়ে শীতল হওয়া বইছে । সবকিছু এলোমেলো লাগছে । এ কোন জগতে পা দিতে চাচ্ছে কাব্য ?
–তাহলে এস আমার সাথে ।
আমি কাব্যকে নিয়ে চললাম সেই ঘরটিতে, যেই ঘরের করণেই আমি এ বাড়িতেজ পড়ে আছি । আমার অত্যন্ত আপন একটি ঘর । যার খবর কেউ জানে না । আমি রোজ এ ঘরে আসি । না এলে যেন ঠিক শান্তি মেলে না । আমি ঘরের দরজাটি খুলে ভিতরে ঢুকলাম । ঢুকে বাতিটি জ্বালিয়ে দিলাম ।
–এস কাব্য ।
কাব্য ঘরের ভিতরে ঢুকল । আমি ওর দিকে তাকিয়ে আছি আর ও সামনের দিকে তাকিয়ে আছে । আমি বুঝতে পারছি কাব্যের নিশ্বাস ভারী হয়ে আসছে । ও এমনভাবে তাকিয়ে আছে যেন ওর চোখগুলো বেরিয়ে আসবে ।
–কাব্য, কাব্য তুমি কি শুনতে পাচ্ছ?
আমি কাব্যর কাঁধে হাত রাখলাম । বুঝতে পারলাম ও কাঁপছে ।
–এসব কি শুভ্র?
–আমার যোগাযোগের মাধ্যম ।
–তুমি কি আমার সাথে মজা করছো?
–না, মজা করব কেন !
কাব্য কাঁদতে শুরু করেছে ।
–আমাকে সব খুলে বল শুভ্র, এসব কি ? আর দয়া করে আমাকে অন্য ঘরে নিয়ে চল ।
আমি কাব্যকে পাশের ঘরে নিয়ে গিয়ে বসালাম । ও এখনো কাঁদছে ।
–ওগুলো তুমি ওভাবে রেখেছ কেন শুভ্র ? ওগুলো নিশ্চয়ই তোমার বাবা-মায়ের না ।
–যদি বাবা-মা মারা যাওয়ার সময় বিষয়টা জানতাম, তাহলে তাদেরটাও রাখতাম । আর রাখতাম আমার শখেরটা । শখ মারা যাওয়ার পরে আমার পৃথিবীটাই এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল । কারো সাথেই মিশতে চাইতাম না । সবসময় দূরে দূরে থাকতাম । সবাইকে ঘৃণা করতে চাইতাম । ভয় হতো, ভালবাসলে যদি দূরে চলে যায়! কিন্তু ভালো না বেসে কি থাকা যায়! ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠলাম । পড়া-শোনাতেও মোটামুটি ভালোই ছিলাম । তাই, স্যার-ম্যাডাম সবাই বেশ ভালবাসতো । আমাদের আশ্রমের রমজান চাচাও আমাকে অনেক ভালবাসতো । আমি তখন আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পদার্পন করেছি । আমার বিষয় হলো সাইকোলজি । একদিন রমজান চাচা অসুস্থ হয়ে পড়লেন । আমি আবার ভয় পেয়ে গেলাম । এসে গেল আরেকজনের বিদায়ের পালা । এতো বিসর্জনের পরে আমি সত্যি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম । সারাদিন ভাবতাম যে কীভাবে মৃতদের সাথে যোগাযোগ করা যায় । আর তখনই আমি সমাধান পেয়ে গেলাম । কিন্তু, সাধারণ মানুষ যে এতে সায় দেবে না, তা আমি খুব ভালো করেই জানতাম । তবে, আমি আর আমার ভালোবাসার মানুষদের দূরে চলে যেতে দেব না । তাই, এক রাতে রমজান চাচার বাড়িতে গেলাম । বাড়ি বলতে একটা ছোট্ট ঘর । আমি দরজায় টোকা দিলাম । কিছুক্ষণ পরে চাচা দরজা খুললেন ।
–বাবা তুমি?
–কেমন আছেন চাচা?
–দেখতেই তো পাচ্ছ বাবা । সময় বোধহয় ফুরিয়ে এল ।
চাচার শরীর সত্যি ভেঙে পড়েছে । উনি ধরে ধরে হাঁটছেন । আমি একটা চেয়ারে বসে পড়লাম । চাচা বসলেন বিছানায় ।
–চাচা, আজকের দিনে কি ঘটেছিল, আপনার মনে আছে ?
–কি বাবা ? ঠিক মনে করতে পারছি না ।
–আজকের দিনেই শখ চলে গিয়েছিল ।
চাচা মাথা নিচু করে ফেলেছেন । তিনিও শখকে খুব ভালবাসতেন ।
–আপনার কি মনে আছে চাচা, আমার মন খারাপ ছিল বলে সেদিন রাতে আপনি আমাকে নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন । আর কেউ ছিল না । ফাঁকা রাস্তা । শুধু আপনি আর আমি ।
–মনে আছে বাবা, খুব মনে আছে ।
–চলুন না চাচা, আজকেও সেভাবে হাঁটি ।
–কিন্তু.....
–আপনি আমার কাঁধে ভর দিয়ে হাঁটবেন ।
চাচা মুখ তুলে চাইল । ওনার চোখে পানি ।

[ ] 
আমি চাচাকে নিয়ে হেঁটে চললাম । নির্জন রাস্তা । মাঝে মাঝে দু&#039;-একটা গাড়ি দেখা যাচ্ছে ।আমার বাড়িটি চাচার বাড়ি থেকে খুব একটা দূরে নয় । আমি চাচাকে সেখানেই নিয়ে চললাম । দু&#039;জনে অনেক্ষণ গল্প করলাম ,চা খেলাম । চাচাকে যে ড্রাগটা দিয়েছিলাম, ৩ ঘন্টার মধ্যেই তার কাজ করার কথা ছিল । চাচার বেলায় তা ২ ঘন্টাতেই কাজ করে ফেলল । তবে, বিশ্বাস কর কাব্য এতো সুন্দর মৃত্যু আমি কখনো দেখিনি । চাচা হাসতে হাসতে, আমার সাথে গল্প করতে করতে টলে পড়লেন গভীর ঘুমে । আমার ভালোবাসার মানুষকে এতো সুন্দর মৃত্যু উপহার দিতে পেরে আমি সত্যি খুশি হয়ে উঠলাম । তুমিই বল, এমনিতে কি চাচা এতো সুন্দরভাবে মরতে পারতেন ! 
কাব্য নিঃপ্রাণভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছে । আমি আলতো করে ওর ঠোঁটে ছুঁয়ে দিলাম । ঠোঁট দু&#039;টো একটু কেঁপে উঠল । আমি কাব্যকে আমার মস্তিষ্ক সংগ্রহের একের পর এক গল্প বলে যাচ্ছি । কিন্তু, মনে হয় না এখন ও আর কিছু শুনতে পাচ্ছে । কাব্য নিষ্পলক দৃষ্টিতে দেয়ালের দিকে তাকিয়ে আছে । আমি কাব্যর কাঁধে হালকা একটা ধাক্কা দিলাম । ও পড়ে গেল । আরো একটি সুন্দর, শান্তিপুর্ণ মৃত্যু । কাব্যকে আর কেউ আমার থেকে দূরে সরাতে পারবে না । আমি শেলভে নতুন একটি মস্তিষ্ক তুলে রাখলাম । দেহটাকে একটু পরে সমাধিস্ত করবো । আমি হাত ধুয়ে বসার ঘরে এলাম । এমন সময় বেলটা বেজে উঠল । 
–স্যার, কেমম আছেন ?
গেটের বাইরে পুষ্পকন্যা সহাস্যমুখে দাঁড়িয়ে আছে। দু&#039;হাত পেছনে নিয়ে কি যেন একটা লুকিয়ে রেখেছে।
–আরে, পুষ্পকন্যা যে ! হঠাৎ আমার বাড়িতে?
–আপনের জন্য গিফ্ট আনছি স্যার ।
–গিফ্ট ! কি গিফ্ট ?
–আগে চোখ বন্ধ করেন ।
–আহা, তুই তো খুব ঝামেলা করিস । নে, করলাম চোখ বন্ধ ।
পুষ্পকন্যা আমার হাতে একগোছা ফুল ধরিয়ে দিল বোধহয় । হ্যাঁ, ফুলই । অনেকগুলো সাদা গোলাপ ।
–পছন্দ হইছে স্যার?
–খুব পছন্দ হয়েছে । এবার তো তোর অনেক টাকা পাওনা হয়ে গেল রে । একটু দাঁড়া, আমি নিয়ে আসছি ।
আমি টাকা আনতে আমার ঘরের দিকে চললাম । পুষ্পকন্যা পিছন থেকে আমার জামা টেনে ধরল ।
–আরে স্যার, কই যান ?
–বললাম তো টাকা আনতে যাচ্ছি ।
–আমি না কইলাম এগুলো আপনেরে গিফ্ট দিছি । গিফ্ট দিয়া কি কেউ টাকা নেয় !
–ও বাবা, তো তুই কি সবাইকে এরকম গিফ্ট দিস নাকি ?
–নাহ, সবাইরে দিতে যামু ক্যান ? আপনেরে দিলাম ।
–আমাকে কেন ?
–আপনে কি আর বাকি সবার মতন নাকি ! আপনে হইতাছেন ভালো স্যার । আপনেরে আমি অনেক পছন্দ করি ।
–তাই নাকি !
–হুমম, অনেক ভালোবাসি ।
ভালোবাসা ! আবার আমার মাথাটা ঝিমঝিম করছে। আমার সাথেই কেন এমন হয় !
–তো বস রে পুষ্পকন্যা । আমার বাড়িতে এলি, না খাইয়ে কি যেতে দিতে পারি !
পুষ্প বসলো, খেলো, গল্প করলো । তবে, ও এখন কিছুটা নিস্তেজ হয়ে পড়েছে ।
–কিরে, পুষ্প ! অভাবে নুয়ে পড়েছিস কেন ?
–কেমন যেন অবশ অবশ লাগতাছে স্যার ।
–একটা জিনিস দেখবি ?
–কী জিনিস ?
–তুই না বলেছিলি যে আমি সাদা গোলাপ কেন কিনি । আমার তো লাল গোলাপ কেনা উচিৎ ।
–আপনে সাদা গোলাপ দিয়া কি করেন ?
–দেখবি ? দাঁড়া ।
আমি কাব্যর কিছুটা রক্ত হাতে নিয়ে এসে, পুষ্পের আনা ফুলগুলো থেকে একটি তুলে নিয়ে, সেটিতে রক্ত মাখিয়ে দিলাম ।
–কিরে, কেমন লাগছে দেখতে ?
পুষ্প মলিন হাসি দিয়ে উঠল । হাসার কোনো শক্তি নেই, তবুও হাসছে ।
–আপনে ফুল রং করেন !
–হ্যাঁ, সুন্দর লাগছে না ?
–হ, খুব সুন্দর লাগতাছে ।
–তোর কি ঘুম পাচ্ছে পুষ্প ?
–হ, স্যার । চোখ দুইটা যেন র খুইলাই রাখতে পারতাছি না ।
–তাহলে জোর করে খুলে রাখার দরকার নেই । তুই নিশ্চিন্তে ঘুমা ।
পুষ্প সোফাতেই শুয়ে পড়ল । আমি ওর মাথাটা আমার পায়ের উপরে তুলে দিলাম । এখন, আমি এক হাতে পুষ্পের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি, আর আমার অন্য হাতে রক্তাক্ত গোলাপ । আচ্ছা, পুষ্পের ছোট্ট মস্তিষ্কটিতে কি শখের মস্তিষ্ক স্থাপন করা যাবে না ! করে কি শখের সাথে কথা বলা যাবে না ! কেন জানি না এখন পুষ্পকন্যাকেই আমার শখ মনে হচ্ছে। আমি শখের মাথাতেই হাত বুলোচ্ছি । ঠিক ছোটবেলায় যেমন করতাম । আমি বড় হয়েছি, কিন্তু শখ এখনো আমার সেই ছোট্ট শখই রয়ে গেছে । আমি নিজের অজান্তেই অস্ফুট স্বরে গেয়ে উঠলাম,

&quot;বাতির আলো লজ্জা পায়, জোনাকির আলো লজ্জা পায়, চাঁদের আলোও লজ্জা পায় ; শখের আলোর কাছে ।
সবাই এখন বহুদূরে, শখ আমার আছে ।&quot;</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/37064/</link>
				<pubDate>Mon, 20 Sep 2021 15:44:38 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>                   {সাদাক্ত}<br />
[১]<br />
আজকে ফুল নিবেন না স্যার ?<br />
এক উৎফুল্ল বালিকার কণ্ঠস্বর শুনে আমি পিছনে ফিরলাম । এতক্ষণ ওরই অপেক্ষা করছিলাম । মেয়েটি আমাকে দেখে তার ফোকলা দাঁতের মিষ্টি একটা হাসি উপহার দিল । আমিও তার হাসির উত্তরে একটা মুচকি হাসি দিয়ে বললাম, &#8220;কি পুষ্পকন্যা, খবর কি ?&#8221; এবার যেন তার হাসিটা আরো বিস্তৃত হয়ে গেল ।<br />
–ভালো, স্যার । আপনের ?&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-37064"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/37064/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d6f69ab741cae6b32045c3287101433c</guid>
				<title>Rifa Tasfiah Himi changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/37063/</link>
				<pubDate>Mon, 20 Sep 2021 15:32:48 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c961a3e16fd5eac99ab48d5f101121da</guid>
				<title>Rifa Tasfiah Himi and Sharbanam Gupta are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/37061/</link>
				<pubDate>Mon, 20 Sep 2021 15:27:34 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0c8deaa40b88fda708843d2b04878d11</guid>
				<title>Rifa Tasfiah Himi and AdabenTatali are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/37060/</link>
				<pubDate>Mon, 20 Sep 2021 15:27:28 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>