Profile Photo

Rifa Tasfiah HimiOffline

  • Himi@1912
  • Profile picture of Rifa Tasfiah Himi

    Rifa Tasfiah Himi

    4 years, 9 months ago

    “অক্সিজেন”
    ফিমু তার অক্সিজেন সিলিন্ডারের ভিতরে “অ্যালোভেন” ডোস ঢুকিয়ে দিল । প্রতিদিন সকালে উঠে এটাই তার প্রধান কাজ । শুধু তার কেন, বর্তমান সময়ে সকলেরই প্রধান কাজ হচ্ছে ঘুম থেকে উঠে আগে নিজের গাছের প্রযোজনীয় উপাদান সিলিন্ডারে ঢুকিয়ে দেয়া। তবে, যাদের নিজস্ব রোবট আছে তাদের রোবটরাই এই কাজটি করে থাকে । আর ফিমুদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদের এসব কাজ নিজ হাতেই করতে হয় । ফিমুর মা অসুস্থ । শুধু অসুস্থ বললে ভুল হবে, তিনি বেশ অসুস্থ । তার সিলিন্ডারের গাছটি আজ প্রায় মরতে বসেছে । ঠিকমতো অক্সিজেন সাপ্লাই দিতে পারছে না । তাই, ফিমুর মায়ের শরীরে ধীরে ধীরে অক্সিজেনের অভাব দেখ দিচ্ছে । এভাবে আর কতদিনই বা বাঁচা যায়! আর বর্তমানে ফিমুর বাবার যে অর্থিক অবস্থা তাতে সিলিন্ডারে নতুন গাছ বসানোর মতো ব্যয়সাধ্য ব্যাপার একেবারেই অসম্ভব । ফিমু সারাদিন এসব নিয়ে ভাবে । সে “অতীত পৃথিবী” বইটিতে পরেছে , আগে পৃথিবীতে অনেক গাছ ছিল । বন-জঙ্গল, রাস্তার ধারে, এমনকি প্রত্যেকের বাড়িতেই তখন অনেক গাছ থাকত । ফিমুর ভাবতে বড়ই অবাক লাগে। সে বইটিতে আরো পরেছে যদি অতীত পৃথিবীর মানুষ অবাধে গাছ না কাটত তাহলে হয়তো তাদের আজ এই দিনটা দেখতে হতো না । এজন্য ফিমুর অতীত পৃথিবীর মানুষদের উপর অসম্ভব রাগ হয়। এমন মনে হয়, যদি সে কখনো অতীত পৃথিবীতে যেতে পারত তাহলে ওর মায়ের জন্য একটি গাছ নিয়ে আসত আর সঙ্গে ঐ মানুষগুলোকে বুঝিয়ে দিত যে একটি গাছের কত মূল্য!

    আজ স্কুলে পৌঁছাতে ফিমুর দেরি হয়ে গেল । প্রায় দিনই দেরি হয় । তবে, আজ একটু বেশি দেরি হয়ে গেছে । স্কুলে ঢোকার সাথে সাথেই নিনাদ হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলো ।
    — কিরে, ছুটে এলি যে ?
    —আরে, তুই এত দেরি করলি কেন ?
    — কি আর বলি ! রাস্তায় “স্যালোরনের” এতো ভিড় ! তার মধ্যে দিয়ে ছোট্ট “রিকভ্যানটা” আসার জায়গাই পায় না । আর আমার তো বাইভারবাল নেই যে উড়ে আসব ।
    —আচ্ছা যাই হোক । শোন, আজ স্কুলে একটা প্রতিযোগিতা আছে । চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ।
    — নারে, এখন আর এসব ভালো লাগে না। মা এতো অসুস্থ! আমার আর কিছুই ভালো লাগে না ।
    — আরে, সেজন্যই তো বলছি ।
    — মানে ?
    — শোন, তুই যদি প্রতিযোগিতটিতে প্রথম হতে পারিস তাহলে পুরস্কার হিসেবে থাকছে একটি “হ্যালোডিউরক্স” গাছ ।
    — সত্যি !
    — হ্যাঁ, আমি তো জানি যে আন্টি খুব অসুস্থ । আর এটা তোর জন্য একটা বড় সুযোগ । এখন হা করে না থেকে চল তাড়াতাড়ি । প্রতিযোগিতা শুরু হলো বলে ।

    ফিমু তার স্কুলের ছোট হলঘরে চলে এলো । সেখানে তার মতো আরো অনেকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে । এরই মধ্যে নির্দেশক চলে এসেছেন । তিনি সবাইকে সবকিছু বুঝিয়ে দিয়ে বললেন যার যে বিষয়ের উপর আঁকতে ইচ্ছা সে সেই বিষয়ের উপরই আঁকতে পারবে । সবাই আঁকতে শুরু করল । কিন্তু ফিমু বসে আছে । কারণ, সে এখনো ঠিকই করেনি যে সে কোন বিষয়ের উপর আঁকবে । হঠাৎ, তার মনে হলো সেই অতীত পৃথিবীর কথা । সে তার ট্যাব বের করে আঁকতে শুরু করল । অতীত পৃথিবীর সকল ছবিই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। তাই কারও মনেই সেই পৃথিবীর স্পষ্ট রূপ নেই। ফিমুও অতীত পৃথিবীর কোনো ছবি দেখেনি। যতটুকু জেনেছে সবই বই পড়ে। সেভাবেই সে তার মনের জগতে সাজিয়ে নিয়েছে সেই পৃথিবী। সপ্নেও বহুবার ফিমু অতীত পৃথিবীকে দেখেছে। আর সেই দৃশ্যটাকে সামনে রেখেই সে আঁকছে। মনে হচ্ছে যেনো সে অতীত পৃথিবীকে সরাসরি দেখতে পাচ্ছে। এমন সময় একজন পরিদর্শক আসলেন। তিনি সবার ছবি আঁকা পর্যবেক্ষণ করছেন। হঠাৎ তিনি ফিমুর পাশে এসে থমকে দাঁড়ালেন। লোকটির দিকে না তাকিয়েই ফিমুর মনে হলো তিনি যেন বেশ অবাক হয়েছেন। দেখতে দেখতে সবার আঁকা শেষ হয়ে গেলো। ফিমুও নিজের আর্ট পোস্ট করে বাহিরে চলে এলো। তারপর নিনাদের সাথে মিলে বিজ্ঞান হলঘরের দিকে এগিয়ে চললো। সেখানে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। সেমিনারে কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি বক্তৃতা দিলেন। বক্তৃতা থেকে জানা গেলো মঙ্গলগ্রহের মাটিতে যে “পিলোসফ্ট” গাছটি রোপণ করা হয়েছিলো সেটি মারা গেছে। শুনে সকলের বেশ মন খারাপ হলো। সেমিনার প্রায় শেষের পথে। এখন চিত্রাঙ্গন প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা করা হবে। ফিমুর বুক টিপ টিপ করছে । তার কেন যেন মনে হচ্ছে সে জিততে পারবে। ধীরে ধীরে বিজয়ীর আঁকা ছবি পর্দায় ভেসে উঠছে। সবাই অবাক বিস্ময়ে চেয়ে আছে। ফিমু লাফ দিয়ে নিজের চেয়ার থেকে উঠে পড়ল। সাথে সাথে বাকিরাও উঠে দাঁড়িয়ে তালি দিতে শুরু করল। বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হলো। ফিমু নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না। কারণ, সেখানে ওর নামের বদলে অন্য আরেকটি ছেলের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সবাই আবারো হাততালি দিয়ে উঠলো। ফিমু নিশ্চল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কি ঘটছে বুঝতে পারছে না। সে দেখলো বিজয়ী ছেলেটির পাশে সেই পরিদর্শক লোকটি দাঁড়িয়ে আছে। ঘোষণা করা হচ্ছে লোকটি ছেলেটির বাবা এবং বাবার হাতেই সন্তানকে পুরস্কৃত করা হলো। ফিমু নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারছে না। হঠাৎ নিনাদ বললো,
    – কিরে ফিমু, তোর কি হয়েছ ?
    – নিনাদ, বিশ্বাস কর……
    – কি ?
    – বিশ্বাস কর, এটা আমার আঁকা ছবি।
    – সত্যি !
    – হ্যাঁ
    এবার ফিমু কেঁদে ফেলল। ওদের দু’জনের বুঝতে কোনো অসুবিধা হলো না যে আসলে কি ঘটেছে। নিনাদ ফিমুকে সান্ত্বনা দিয়ে বললো,
    – কি আর করবি বল ! সকল ক্ষমতা ওদের হাতে।
    – তাই বলে এত বড় প্রতারণা ?
    – এটাই নিয়ম। আমাদের মত মানুষদের সবসময় মুখ বুঝে থাকতে হয়।
    বুক ভরা কষ্ট নিয়ে ফিমু বাড়ি ফিরে এলো। ওর মা আজ খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ফিমু সব ফেলে মায়ের পাশে এসে বসলে সে তার মায়ের হাতদুটো নিজের বুকের কাছে টেনে নিলো। ওর বাবা পাশেই বসে কাঁদছেন। ফিমুর মায়ের শরীরে আর কোনো অক্সিজেন প্রবেশ করছে না। তিনি প্রাণপণে শ্বাস নেয়ার চেষ্টা করছেন। ফিমুর ইচ্ছে করছে নিজের গাছটি মায়ের সিলিন্ডারে ঢুকিয়ে দিতে। কিন্তু তা সম্ভব না। হঠাৎ ফিমুর মনে হলো, অতীত পৃথিবীতেও কি আজকের মতো প্রতারণা ছিল ? তারপর সে নিজেই নিজের প্রশ্নের উত্তর ভেবে নিলো,’ছিলো’। কেননা, সেই সময়ের মানুষ প্রতারণা করেছে গাছের সাথে।

    [বি.দ্র. : এটি আমার লেখা প্রথম বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী । ভুল-ত্রুটি থাকতেই পারে । আশা করি,আপনারা সেগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতেই দেখবেন ।😊😊]

    6
    6 Comments
Skip to toolbar