<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | আবু হুরাইরা | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/ibnenazzar824/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/ibnenazzar824/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for আবু হুরাইরা.</description>
	<lastBuildDate>Sat, 31 Oct 2026 18:53:26 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">2d7d118d5137e581b74e998560439426</guid>
				<title>জেল থেকে চিঠি!


গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর রোজ মঙ্গলবার ভারতের সন্ত্রাস দমন কমিশন বিশেষ বাহিনী &#039;এটিএস&#039; হজরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকি সাহেবকে গ্রেফতার করে। তারপর ধর্মান্তর সহ আরো কয়েকটি মামলা করা হয় তার নামে। সাথে সাথে রিমান্ডে নেওয়া অনেক দিনের। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে যায় ভারতের মুসলমানরা। জামিনের চেষ্টা চালাতে থাকে বিভিন্ন মাধ্যমে। কিন্তু আজও পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া পাইনি। গত কিছুদিন পূর্বে তার ছেলে তার কাছে একটি চিঠি লিখেছিল। মাওলানা তার জবাবে একটি চিঠি লিখেছেন; যা ‌প্রত্যেক মুসলমানের জন্য খুবই দরকারি—প্রত্যেক পাঠকের জন্য যাতে রয়েছে উপদেশ ও জ্ঞানের ভাণ্ডার—মহান রবের একজন খাঁটি শোকরগুজার বান্দার অতুলনীয় কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত—আল্লাহ তাআলা আমাদের উপর যে দয়াবান, মেহেরবান ও অনুগ্রহকারী তার সুস্পষ্ট প্রমাণ—মানবজীবনে বিপদ-মছিবতের তুলনায় মে আরাম-আয়েশ আর সুখ-শান্তির পরিমাণ অনেক বেশি, সেটার জ্বলন্ত উদাহরণ—প্রকৃত মুমিন জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে কীভাবে রবের কৃতজ্ঞতায় নত থাকবে, তার অতুলনীয় এক প্রশিক্ষণ—দ্বীনের দাওয়াত দিতে গিয়ে বাঁধা আসবেই, তবে জীবন বাজি রেখে সব কিছুর মোকাবেলা করার প্রকাশ্য নমুনা—জীবনের লক্ষ্য পূরণে হোঁচট খেতেই হবে, তবে হার মেনে বসে না থেকে শক্ত মনোবল আর নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা।

তাই
মুসলিম উম্মাহর জন্য নিম্নে তার অনুবাদ তুলে ধরা হলো।



চিঠির শুরুতে তিনি লেখেন, 

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
 

প্রিয় পুত্র আমার!
আমি তোমার লেখা পত্রটি হাতে পেয়েছি, যার শব্দে শব্দে ছিল নিঃস্বার্থ ভালবাসা, আন্তরিকতা ও মনের আবেগ। এটি পড়ে স্বীয় রবের কাছে কৃতজ্ঞতায় নত হয়ে গিয়েছিলাম এবং মনে মনে গর্বিতও হয়েছিলাম যে, মহান রব আমাকে তোমার মতো একজন ভালো বন্ধু দিয়েছেন, তবে আপনার উদ্বিগ্নতা ও অস্থিরতা দেখে কিছুটা চিন্তিতও ছিলাম।


প্রিয়,
অনেকদিন আগে কোথাও পড়েছিলাম একটা পাখি আরেকটা পাখিকে জিজ্ঞেস করেছিল, মানুষ চিন্তিত ও পেরেশান হয় কেন? অন্য পাখিটি একেবারে সাধাসিধে উত্তর দিয়েছিল, মনে হয় তাদের আল্লাহ নেই।


আমার প্রিয়, 
তুমি চিন্তিত কেন? আলহামদুলিল্লাহ! আলহামদুলিল্লাহ! আমাদের তো আল্লাহ আছেন, যিনি পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু। যিনি সকল মায়ের অন্তরে মায়া মমতা ঢেলে দিয়েছেন। যার রহমতের ছায়ায় ঢাকা পড়েছে পৃথিবীর প্রতিটি জিনিস। যিনি সমস্ত হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া ও হারাম ভক্ষণ করা সত্ত্বেও সর্বদা ক্ষমার চাদরে জড়িয়ে রেখেছেন। যিনি আমাদেরকে জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটি মুহুর্তে কৃতজ্ঞতার জীবন দান করেছেন আবার বিপদে ফেলে ধৈর্যের পরীক্ষাও নেননি। যিনি কোনো অধিকার ও চাওয়া ছাড়াই সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবে আমাদেরকে মানুষ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন এবং অধিষ্ঠিত করেছেন আশরাফুল মাখলুকাত তথা সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণির বিশাল মর্যাদায়। মহামহিয়ান ঐ পরম সত্তার জন্য আমাদের জীবন উৎসর্গ করা দরকার।


এরপর 
তিনি আমাদেরকে ইসলাম ও ইমানের মতো মহান নেয়ামতও দান করেছেন বিনা অধিকারে একেবারে অপ্রত্যাশিতভাবে। আবার কোনো রকম যোগ্যতা ছাড়াই আমাদেরকে মুহাম্মাদী উম্মাহর অন্তর্ভুক্ত করে শ্রেষ্ঠ উম্মতের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন। সকল নবিদের নেতা ও তাঁর প্রিয় রাসুল হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমাদের নবি ও পথপ্রদর্শক বানিয়ে আমাদেরকে প্রথম স্থানে রেখেছেন। সকল আসমানি কিতাবের মধ্যে থেকে কুরআনের মত শ্রেষ্ঠ ঐশী গ্রন্থ দান করেও আমাদেরকে এক নম্বরে রেখেছেন। 


তাছাড়া,
জলবায়ু ও ভৌগলিক দিক দিয়ে সমগ্র বিশ্বের সেরা সুন্দর ও কুরআন-সুন্নাহর সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক স্থাপনকারি একটি প্রিয় দেশে তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন। আবার ভারতের মধ্যে ধর্ম ও পার্থিব জীবনের সকল দিক দিয়ে সবচেয়ে উর্বর একটি অঞ্চলে সৃষ্টি করেছেন। সাথে সাথে চার ইমামের মধ্যে থেকে সবচেয়ে সহজ, সরল ও মধ্যমপন্থা অবলম্বনকারি হানাফি মাযহাবের অনুসারি বানিয়েছেন।


আমি 
সারা বিশ্বের বহু সংখ্যক আলেমের সাথে সাক্ষাৎ করে কথাবার্তা বলে ও তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে অত্যন্ত দায়িত্ব ও গুরুত্বের সাথে জানাচ্ছি যে, সমগ্র বিশ্বের উলামায়ে কেরামের মাঝে বিশেষ মর্যাদার অধিকারি, নবি রাসুলের প্রকৃত উত্তরাধিকারি, শাহ্ ওলিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভি রহ. এর আদর্শে অনুপ্রাণিত, কিতাব ও সুন্নাহর পরিপূর্ণ অনুসরণ করার চিন্তা ফিকির, ইলম ও আমলের ময়দানে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা, ধর্মীয় জ্ঞানে গভীর পাণ্ডিত্য, ব্যাপক তাকওয়া, দুনিয়াবিমুখতা, আত্মসংযম, আত্মমর্যাদা, স্বনির্ভরতা আর আল্লাহ তাআলার সাথে নিবিড় সম্পর্কের অধিকারি &#039;উলামায়ে দেওবন্দের&#039; সাথে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সম্পৃক্ত করেছেন।


উপরন্তু, 
সারা বিশ্বের মুসলিম দরদি মহান নেতা, বিশ্বের বড় বড় আকাবির ও মাশায়েখদের মুরুব্বি, মুর্শিদ হযরত মাওলানা সাইয়িদ আবুল হাসান আলি মিঁয়া নদবি রহ. এর সাথে সম্পর্ক করিয়েছেন। 


শুধু এটুকুই নয়, 
বরং আমার মতো এমন নির্বোধ, আহাম্মক, অযোগ্য, যাদের ঘাস কাটারও যোগ্যতা নেই; এমন লোককে শুধুমাত্র নিজের দয়া ও অনুগ্রহে বর্তমান বিশ্বের স্বাভাবিক পরিস্থিতির বিপরীত, সমগ্র দ্বীনের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ এবং আমার নবি সা. এর সার্বক্ষণিক দায়িত্ব ও ব্যস্ততা &quot;দাওয়াত&quot; এর জন্য নির্বাচন করেছেন অথচ আমরা তো দাওয়াতের &#039;দ&#039; পর্যন্ত জানি না।
 

একবার 
বুকে হাত রেখে ভেবে দেখো তো; এত সব নেয়ামতে যে আমরা ডুবে রয়েছি, আমাদের চাওয়া-পাওয়া তো দূরের থাক‌ কখনো কি আমরা এসব নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করেছিলাম বা স্বপ্ন দেখেছিলাম? তাছাড়া মহান আল্লাহ যদি আমাদের সঠিক জ্ঞান দান করেন, শুভ বুদ্ধির উদয় হয় মন-মস্তিষ্কে, আবেগ-অনুভূতি জেগে ওঠে হৃদ মাঝারে; তাহলে তিনি আমাদের উপর যে পরিমাণ দয়া-অনুগ্রহ করেছেন ও আমাদেরকে যেই ভিভিভিআইপি স্থানে রেখেছেন, সেগুলোর শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা তো থাক শুধু গণনা করতে করতেই জীবন কেটে যাবে।


মনে রেখো,
আল্লাহ আমাদের প্রতিপালক। তিনিই সর্বদা আমাদের সকল গুনাহ লুকাতে থাকেন। তিনি যা চান তাই করেন। তিনি সকল শক্তি ও ক্ষমতার মালিক। তার ইচ্ছা ও মহিমা ছাড়া এই পৃথিবীতে একটি পাতাও নড়ে না। তিনি কোনো কিছু করার ইচ্ছা করে &#039;হও&#039; বলতেই সেটা হয়ে যায়। তিনি যদি সকল নবি-রাসুল বিশেষ করে আমাদের নবির সুন্নাতে মাকসুদা &#039;দাওয়াত ইলাল্লাহ&#039;র মতো মৌলিক দায়িত্বের কারণে নিজের বিশেষ দয়া ও অনুগ্রহের ভিন্ন রং দেখাতে কয়েক দিনের জন্য এখানে পাঠিয়ে থাকেন, তাহলে তো শুকরিয়া আদায় করার পরিবর্তে চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন হওয়ার কথা নয়। 


এজন্য 
আমার প্রিয় ছেলে, পেরেশান হয়ো না। আল্লাহর রহমতের উপর ভরসা রাখো। কৃতজ্ঞতায় নত হও। সময় অতিবাহিত হলে বুঝতে পারবে এই সময়গুলো কত রহমত-বরকত ও পুরস্কারে ভরপুর। এখন হয়তো তুমি বুঝতে পারছ না, তবে একদিন অবশ্যই বুঝতে পারবে ইনশাআল্লাহ। যদি বুঝে না আসে, তাহলে দয়াময় রব আমাদেরকে ভিভিভিআইপি বানিয়ে জীবনভর অযাচিত ও অপ্রার্থিত যত নেয়ামত দান করেছেন, সেগুলো ভেবে দেখো। &#039;ইমান বিল গায়েব&#039; তথা অদৃশ্যের বিশ্বাস হিসেবে গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে বেশি বেশি &#039;আলহামদুলিল্লাহ&#039; &#039;আলহামদুলিল্লাহ&#039; জিকির করো। জোরে জোরে জিকির করো। খুশিতে থাকো। আনন্দ উপভোগ করতে থাকো। এই চিঠি আমার পরিবারের সদস্য বা অন্তরঙ্গ বন্ধুদের যে কাউকে দিয়ে পড়াতে পারো।


আচ্ছা, 
আপন হৃদয়ে হাত রেখে একবার ভাবো তো; কোনো আর্জি-আকুতি, স্বত্ব, দাবি, যোগ্যতা, চেষ্টা ও কোনো প্রকার ব্যবস্থাপনা ছাড়াই অর্থ ও জনশক্তির তীব্র সংকট থাকা সত্ত্বেও আমাদের মতো ভিতর ও বাহির নোংরা গুনাহে ভরপুর ভাবাবেগবর্জিত মানুষ দ্বারা রাব্বে কারিম &#039;দাওয়াতের&#039; মতো গুরুত্বপূর্ণ এক মহান কাজ—যেটা নবুওয়াতের গুরুদায়িত্ব আর আমাদের নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রধান মিশন, যার নামটাও মানুষের কাছে এক অপরিচিত শব্দ মনে হতো—সেই দাওয়াতের আন্দোলন পৃথিবীর কোনায় কোনায় পৌঁছে দিয়ে একটি বিপ্লব ঘটিয়ে আমাদের মতো নাপাক অধম বান্দাদের একটা সুনাম সুখ্যাতি দান করেছেন। সুতরাং মহান রব আমাদেরকে ভিভিভিআইপি বানিয়ে এক নম্বর স্থানে রেখে এতো বড়, দামি ও শ্রেষ্ঠ নেয়ামত দান করার পর তো উদ্বিগ্ন হওয়ার কী অর্থ?


প্রিয় পুত্র, 
এটা আমার প্রভুর অনেক বড়ো অনুগ্রহ যে, তিনি আমাদেরকে সর্বদিক দিয়ে প্রথম স্থানে রেখেছেন। ইমান ও ইসলাম সহ অনেক দামি দামি নেয়ামত দান করেছেন। তাছাড়া মুসলমান হওয়া মানেই তো নিজের ইচ্ছা ত্যাগ করা। আর মুসলিম হওয়ার মজাই তো স্বীয় রবের ইচ্ছার সামনে নিজ ইচ্ছাকে বিসর্জন দেওয়ার মধ্যেই নিহিত।


প্রসিদ্ধ বুজুর্গ 
হজরত বাহলুল রহ. কে কেউ জিজ্ঞেস করল, &#039;আপনার অবস্থা কী?&#039; তিনি উত্তরে বললেন, &#039;আপনি কি ঐ ব্যক্তির অবস্থা জিজ্ঞেস করছেন, পৃথিবী ও আকাশ-বাতাস পরিচালনার দায়িত্ব যার হাতে? প্রশ্নকারি লজ্জায় হাত দিয়ে মুখ ঢাকল। বাহলুল রহ. কে বলল, অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করেন। আপনি তো নিজেকে খোদা দাবি করছেন। বাহলুল রহ. উত্তর দিলেন, &#039;আমি নিজেকে খোদা বলে দাবি করছি না, বরং আমি দাসত্ব স্বীকার করছি। আমি আমার রবের ইচ্ছার সামনে আমার ইচ্ছাকে ধ্বংস করে দিয়েছি। তার ইচ্ছাই আমার ইচ্ছা। তাই এখন মহাবিশ্বে যা কিছু ঘটছে, এটা আমার ইচ্ছায় ঘটছে। 


ঐ মহান আল্লাহ, 
যিনি সমগ্র বিশ্বজগতের প্রতি করুণাময় ও উদার, আমাদের প্রতি রয়েছে যার বিশেষ রহমত; সেই রবের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য যা ফয়সালা হবে, সেটা অবশ্যই আমাদের জন্য সুস্পষ্ট দয়া, অনুগ্রহ আর বিশাল নেয়ামত। সুতরাং অস্থির হওয়া ও পেরেশানি করা একদম ঠিক নয়। 


শোনো,
এই মামলার সবকিছুই তার ইচ্ছা অনুযায়ী চলছে। তাই আনন্দ-খুশিতে থাকো, জীবনকে উপভোগ করো আর সবকিছু আল্লাহর উপর সোপর্দ করার মজা নিতে থাকো।
 

আচ্ছা, 
আশরাফুল মুখালুকাত হওয়া স্বত্বেও কি আমাদের আকিদা ও বিশ্বাস বনের ঐ নিষ্পাপ পাখি থেকে নিচে নেমে গেছে? 


সুতরাং 
উচ্চস্বরে বলতে থাকো, 
যাতেই তুমি রাজি, তাতেই আমি রাজি 
আমার খুশি সেটাই, যেটা তোমার খুশি।


সালাম।

ইতি
আপনার মুহাম্মাদ কালিম।


তাই আসুন, 
বিপদে ঘেরা এই পৃথিবীতে মহান রবের অগণিত নেয়ামতের কৃতজ্ঞতায় ডুবে গিয়ে মুসলিম উম্মাহর জন্য কিছু করার উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও শক্ত মনোবল তৈরি করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তার কৃতজ্ঞ বান্দা হিসেবে কবুল করুন। 

                        ………ইবনে নাজ্জার</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/129951/</link>
				<pubDate>Mon, 08 Aug 2022 01:29:06 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>জেল থেকে চিঠি!</p>
<p>গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর রোজ মঙ্গলবার ভারতের সন্ত্রাস দমন কমিশন বিশেষ বাহিনী &#8216;এটিএস&#8217; হজরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকি সাহেবকে গ্রেফতার করে। তারপর ধর্মান্তর সহ আরো কয়েকটি মামলা করা হয় তার নামে। সাথে সাথে রিমান্ডে নেওয়া অনেক দিনের। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে যায় ভারতের মুসলমানরা। জামিনের চেষ্টা চালাতে থাকে বিভিন্ন মাধ্যমে। কিন্তু&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-129951"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/129951/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e561be7a77679ae49ba9a0a5b51f84b8</guid>
				<title>আবু হুরাইরা and Md Nurnabi Sarker are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/126698/</link>
				<pubDate>Fri, 29 Jul 2022 19:45:05 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">57ad855bd6f9e6422d746597c9d069dd</guid>
				<title>আবু হুরাইরা and Mohammad Al-Mamun are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/126696/</link>
				<pubDate>Fri, 29 Jul 2022 18:11:50 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">641829bb98d363ed477e4c51582ad166</guid>
				<title>আবু হুরাইরা and মোঃ আমজাদ হোসাইন are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/126675/</link>
				<pubDate>Fri, 29 Jul 2022 17:01:37 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">3081e7b619382a5baeadc37f72ee9260</guid>
				<title>&quot;বার বার যেই নামাজির খোঁজে ফেরে পৃথিবী....&quot;

-- ইবনে নাজ্জার।


সুন্দর এই ভূগোলকের ইতিবৃত্ত আর কালের আবর্তন হিন্দুস্তানের পরতে পরতে ইসলামি শক্তির এমন তোজোদৃপ্ত ঝলক দেখেছে যে, শত শত বছর কেটে গেছে কিন্তু আজও ইতিহাসের চোখ ছানাবড়া হয়ে আছে। এমনকি এই তো সেদিন ভারতের মায়সুরের এলাকার সাবেক মন্ত্রী ড. এল হনুমানতিয়া সাহেব যখন মুসলিমদের জনসভায় একটা ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন, তখন অমুসলিম হওয়া সত্ত্বেও তার কণ্ঠে ইসলামের স্বর্গীয় ইমানি শক্তির প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধার শত শত বছরের পুরনো সেই ঐতিহাসিক সুর ভেসে উঠেছিল। 

ঘটনাটি এমন...
আজ থেকে কয়েকশ বছর আগের ঘটনা। স্বৈরতন্ত্রের মহা প্রতীক হায়দরাবাদের &#039;গোলকোন্ডা&#039; দূর্গের দানবাকৃতির বিশাল প্রাচীর চোখ বড় বড় করে দেখছিল যে, আকাশছোঁয়া উঁচু দেওয়ালের উপর থেকে ছোড়া তিরবৃষ্টির মধ্যেও বাদশাহ আলমগীর রহ.-এর মুসলিম বাহিনী এক অনন্য শান-শওকত, জৌলুস, ঐশ্বর্য, ঠাট-কাট ও নিরুপম দৃঢ়তার সাথে দাঁড়িয়ে আছে। ভয় ও রক্তঝড়ের অসংখ্য দমকা হাওয়া পাহাড়ের মতো অবিচল, সুদৃঢ় ও মজবুত মুসলিম সেনাবাহিনীকে এক চুলও নড়াতে পারছে না। রক্ত মাংসে গড়া আর নরম চামড়ায় ঢাকা শরীরগুলো আঘাতের পর আঘাত খেয়েও বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মনে হচ্ছিল, রক্তের লাল সমুদ্রে বড় কোনো দ্বীপ জেগে উঠেছে অথবা কোনো ভূখণ্ডে মৃত্যুর শিলা বৃষ্টির মাঝেও বড় এক পাথর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। 


বিভিন্ন রঙের ছোট বড় পাথরে নির্মিত এই দূর্গের উঁচু দেওয়াল। যার দিকে শত্রুরা কখনো চোখ তুলেও তাকাতো না—বজ্রপাত আর ভারী বর্ষণের ঝড়-তুফান যাকে মাথা নিচু করে শ্রদ্ধা নিবেদন করতো—পাহাড় কাঁপানো ভূমিকম্পরা যার পাশ কাটিয়ে চলে যেতো—যার ঝুলি মাহাত্ম্য, আভিজাত্য, শ্রেষ্ঠত্ব, ঐতিহ্য ও গৌরবে ভরা ছিল—যেই দেওয়াল কখনো ভুলেও ভাবেনি যে, রক্ত মাংসে গড়া মানুষের নরম শরীরে কখনো তির-বৃষ্টি আর পাথর-বন্যার মোকাবেলা করার সাহস জাগতে পারে—মজবুত ভারী পাথরের নির্মিত হওয়া সত্ত্বেও আজ তার ভিত্তি থরথরে কাঁপছিল। রক্ত মাংসে গড়া মুষ্টিময় কিছু মানুষের কঙ্কাল নিজেদের ইমানি সাহসিকতা, মজবুতি ও দৃঢ়তার জোরে তার শতবর্ষী পুরানো সেই গৌরব ও ঐতিহ্য মাটিতে মিশিয়ে দিচ্ছিল। মুসলিম বাহিনীর তির-কামানের আঘাতে কেল্লার প্রাচীর ঝাঁঝরা হয়ে যাচ্ছিল। অথচ বহু দিন যাবত চতুর্দিক থেকে তাদের অবরোধ করে রাখা হয়েছিল। জীবন-মৃত্যুর বুক চিরে বয়ে চলা আশংকা ও আতংকের খরস্রোতা নদীর মধ্যখানে আটকে ছিল। শত শত রক্তঝরা তাজা ঘা-ক্ষত নিয়েও তারা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে শান্ত-শিষ্ট হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। মনে হচ্ছিল, তাদের বুকের ভিতর খোদাপ্রেমে মত্ত আত্মাগুলোকে ছুঁয়ে দেখার সাহসও কারো নেই। 


মানবতার ইতিহাস চোখ বড়বড় করে দেখছিল—দূর্গের উঁচু উঁচু দেওয়ালেরা চিন্তার সাগরে ডুবে গিয়েছিল—দেওয়ালের উপর দক্ষ তিরন্দাজের প্লাটুনগুলো বিভ্রান্তিতে দিশেহারা হয়ে ভাবছিল যে, অবশেষে তাদের শরীরে কোন জিনিসের স্ফুলিঙ্গ জ্বলে উঠেছে, যা রক্তের বন্যায় ভেসে যায় না আবার তির-বর্শার ভয়ঙ্কর ঝড়ো হাওয়ায় নিভে না। তবে বিস্ময়াভিভূত উৎসুক সেনাদের জন্য রুদ্ধশ্বাস এই যুদ্ধের ময়দানে এর চেয়ে আরো ভয়াবহ একটি সংঘর্ষ অপেক্ষা করছিল। 

অবশেষে সেই মূহুর্ত ঘনিয়ে এল। মুজাহিদ বাহিনী সপ্তাহ ধরে জীবন বাজি রেখে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করে বিজয়ের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল—তির-বর্শার অমানবিক আঘাতের রক্তঝরা ক্ষতগুলোতে বিজয়ের নরম ও মিষ্টি হাত পটি বাঁধার প্রস্তুতি নিচ্ছিল—দুনিয়া তার সমস্ত সৌন্দর্য, চাকচিক্য আর যশ-খ্যাতি মাথায় নিয়ে আত্মসমর্পণের জন্য মুজাহিদদের পায়ে লুটিয়ে পড়েছিল—কেল্লার বাহিরে রক্ত ও ঘামের সমুদ্রে হাবুডুবু খাওয়া সৈন্যদের সামনে এই সুবর্ণ সুযোগ এল যে, লোহার ফটক ভেঙে দৌড়ে দূর্গের মাথায় চড়ে বসবে আর তিরের বৃষ্টি বর্ষণকারী নিষ্ঠুর হিংস্র তীরন্দাজদের উপর বজ্রপাতের ন্যায় হঠাৎ আক্রমণ করবে। ঠিক সেই মুহূর্তে। হ্যাঁ ঠিক সেই সময়,  ঠিক তখনই মানুষেরা শুনতে পেল, মহান রবের ডাক! &quot;আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার!&quot; আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে বড় সত্তা। &quot;হাইয়া আলাস সালাহ, হাইয়া আলাল ফালাহ!&quot; সুতরাং ক্ষনস্থায়ী এই রঙিন দুনিয়ার সমস্ত রঙ-তামাশা ছেড়ে দিয়ে নামাজ পড়তে আসো। কামিয়াবী ও সফলতার দিকে আসো। দ্রুত দৌড়ে যাও মহান রবের ডাকে সাড়া দিতে। 

ততক্ষনাৎ তারা এই শব্দগুলোকে বাস্তবে রুপ দিল। সব কিছু ভুলে মহান রবের ডাকে সাড়া দিল। মুখ ফিরিয়ে নিল পার্থিব সকল রঙ-তামাশা থেকে। হাতের নাগালে থাকা গোলকোন্ডা দূর্গের মতো দুনিয়াবি এতো বড় ও দামী সম্পদ থেকে মুখ ফিরিয়ে &#039;নামাজ ও সফলতা&#039;র ডাকে সাড়া দিতে দারুন উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে দৌড় দিল—বহুদিনের স্বপ্নীল আশাগুলো, সুস্বাদু ও লোভনীয় খাবারের মজাদার স্বাদেরা, রোমাঞ্চময় শারীরিক চাহিদাগুলো মোট কথা পুরো পার্থিব জীবনটাই তাদের পিছু পিছু ডাকতে ডাকতে দৌড়ে দৌড়ে আসতেছিল—কিন্তু তারা সব দিক থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে একাগ্রতার সাথে সারা বিশ্বের একমাত্র পালনকর্তা মহা পরাক্রমশালী সেই খোদার সামনে অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও শালীন হয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে গেল—হিরে-মতির স্তূপ গুলো তাদের করাগত হতে চিৎকার করে কাঁদছিল কিন্তু তারা সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে নিজেদের রবকে খুশি করতে মূল্যহীন তুচ্ছ মাটিতে মাথা রাখতে উদগ্রীব হয়ে উঠেছিল—স্বৈরাচার নিষ্ঠুর সৈন্যরা তাদের দাসত্ব,গোলামি আর আনুগত্যের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল কিন্তু তারা স্বীয় রবের গোলামি ও বন্দেগির আবেগে নিবেদিত প্রাণ হয়ে সকল বাদশাহর বাদশাহের সামনে মাটিতে চুমু খাচ্ছিল—লোহা-পাথরের নির্মিত সোনা-দানার খাজানায় ভর্তি শাহী কেল্লার চাবির ছড়াগুলো তাদের হাতে এসে পড়ছিল কিন্তু তারা সেগুলো ফেলে দিয়ে হাত ঝেড়ে-ঝুড়ে সাফ করে জীবনের শেষ পরিণতির চিন্তায় হাশরের মাঠে ইনসাফ ও ন্যায় প্রদানকারী মহান রবের সামনে মাগফিরাত ও ক্ষমার জন্য ভিক্ষার হাত পাতছিল। কেমন জানি মহান রবের ঐ ডাকের গুটিকয়েক শব্দের এতো দাম যে, রাজমুকুট ও সিংহাসন, রাজদরবার ও প্রাসাদও তার কাছে অনর্থক মূল্যহীন—মনে হচ্ছিল তারা ভালো-মন্দ, লাভ-ক্ষতি আর সুখ-দুঃখের চাদরে ঢাকা এই পৃথিবী মাড়িয়ে ছুটে চলছিল এক অন্য পৃথিবীর দিকে। যার মনজিল-এ-মকসুদ ছিল এই আসমান জমিন পেরিয়ে আরো দূরে। জীবন-মৃত্যুর খেলাঘর থেকেও বহুদূরে। দূরে অনেক দূরে। 


জীবন উৎসর্গের এই দৃশ্য কতই না আশ্চর্যকর, সুন্দর ও আকর্ষণীয় ছিল! যা দেখে শুধু ইসলামই নয় বরং কুফর-শিরকেরও মাথা ঘুরে গিয়েছিল। গোলকোন্ডার বাদশাহ ও তার দক্ষ তিরন্দাজরা এই ঘটনা দেখে হতভম্ব হয়ে গেল। স্বচক্ষে দেখার পরও তারা বিশ্বাস করতে পারছিল না যে, এরাও মানুষ হতে পারে! যারা রঙ-তামাশায় ঘেরা মনোরম আকর্ষণীয় বস্তুবাদী এই পার্থিব জগতে বসবাস করেও অদৃশ্য চিরস্থায়ী সেই জগতের স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছে। যারা এক অদৃশ্য খোদার অস্তিত্ব ও অদৃষ্ট জগতের বিদ্যমানতায় এতো বিশ্বাসি যে, হাজারো সুযোগ-সুবিধায় ঘেরা চাকচিক্যময় এই দুনিয়া আর বিভিন্ন রকমের ধন-দৌলতে ভরা লক্ষ লক্ষ খাজানাও তাদের কাছে অনর্থক অপদার্থ মনে হচ্ছে। তবে গোলকোন্ডার বাদশাহ &#039;তানাশাহ&#039; এখনো এটাই ভাবছিল যে, ইবাদাতের এই আবেগ ও জযবা বর্শা, তলোয়ার আর তির-ধনুকের সামনে এক খোদার পবিত্র কদমে সেজদা করার ভয়ঙ্কর পরিণতি জানে না। কেল্লার উপর থেকে নামাজরত অবস্থায় তাদের উপর &#039;তীক্ষ্ণ ছুঁচোলো তিরের অনবরত বর্ষণ&#039; যখন এর ভয়াবহতা বুঝাবে, তখন ভক্তি ও শ্রদ্ধায় নত এই মাথাগুলো ভয় ও আতংকে দিক-বিদিক দৌড়ে পালাবে। দল বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকা ঐক্যবদ্ধ &#039;খোদার সৈনিকরা&#039; মানুষের আক্রমণের ভয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে যাবে। 


ইতিমধ্যে ইকামাত হয়ে গেল। ইমাম সাহেব পৌঁছে গেলেন জায়নামাজে। ইসলামের জন্য দুনিয়াকে বাজি রেখে দাঁড়িয়ে গেলেন নামাজে। জীবন-মৃত্যুর আশা ও ভয় ভুলে হাত বেঁধে নমনীয়তা প্রর্দশন করলেন স্বীয় রবের সামনে। সাক্ষ্য দিলেন এক মহা সত্য ও বাস্তবতার। বললেন, &quot;আমার দেহ ও প্রাণ, আত্মা ও শরীর সব কিছুই আপনার আমানত। তাই আপনার ডাকে সাড়া দিতে সব কিছুই উৎসর্গ করলাম।&quot; 


এদিকে সেনাবাহিনীর এক সাধারণ মানুষ এই পবিত্র সাক্ষ্য দিল আর জামাতের একই কাতারে দাঁড়িয়ে বাদশাহ ও প্রজা তার সুরে নিজেদের হৃদস্পন্দনের সুর মেলাল। অন্যদিকে দূর্গের উঁচু প্রাচীরের ফাঁক থেকে একটা তির শোঁ শোঁ করে এগিয়ে এল আর ইমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণের দাবিদার কলিজাটা চিরে পৃষ্ঠদেশ দিয়ে বেরিয়ে গেল। ইমাম লাশ মহান রবের নাম নিতে নিতে জায়নামাজের পাশে ঢলে পড়ল। তৎক্ষণাৎ পিছন থেকে &#039;দ্বিতীয় ইমাম&#039; এসে জীবন উৎসর্গ করতে জায়নামাজে এগিয়ে এল। বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন মৃত্যুর রক্তাক্ত মুখের ধারালো দাঁতের সামনে। ইমান ও একিনের এই মানবমূর্তি পাহাড়ের মতো দৃঢ়তা ও অবিচলতা আর অনন্য শান-শওকত নিয়ে নামাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন। হঠাৎ ধনুক থেকে আরেকটা তির বের হলো আর &#039;দ্বিতীয় ইমাম&#039;কে কাত করে ফেলে দিল রক্ত ও ধুলোর মাঝে। 

কিছুক্ষণ জায়নামাজ খালি রইল। আকাশ-বাতাস শ্বাস বন্ধ করে এই বিস্ময়কর দৃশ্য অবলোকন করছিল। দূর্গের উপর থেকে বাদশাহ &#039;তানাশাহ&#039; আর তিরন্দাজরাও আল্লাহপ্রেমের এই খেলা দেখছিল আর বিস্ময়াভিভূত হয়ে মূর্তির মতো নিরব নিস্তব্ধ দাঁড়িয়ে ছিল। মুসল্লিরা ভাবছিল, এখন &#039;তৃতীয় ইমাম&#039; কে হবে? তিরন্দাজরা নতুন শিকারের অপেক্ষা করছিল আর দেখছিল, এই &#039;নিশ্চিত মৃত্যুর&#039; মুখে কে লাফিয়ে পড়ে? &#039;তানাশাহ&#039; অপলক নেত্রে তাকিয়ে ছিল আর ভাবছিল, হয়তো কুফরের আক্রমণ প্রভাব ফেলেছে। ইমান ও একিনে পরিপূর্ণ অন্তরগুলো অতর্কিত এই হামলার কোপ খেয়ে আজীবনের জন্য নিঝুম নিরব নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। কেল্লার উঁচু প্রাচীরের উপর দাঁড়িয়ে থাকা হিংস্র পশুর মতো সৈন্যরা খুশি ও অহংকারের বুনো উল্লাস করছিল। 

তবে পরবর্তী মুহূর্তেই তাদের হিসাব গড়মিল হয়ে গেল। তাদের চিন্তার আকাশে হঠাৎ বজ্রপাত হলো। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে হতবুদ্ধি হয়ে দাঁড়িয়ে গেল। হা করে চেয়ে রইল তানাশাহ ও তার রক্তপিপাসু সৈন্যরা। তিরন্দাজদের হাত কেঁপে উঠল। তিরগুলো নিশানা ভুলে এদিক ওদিক মুখ থুবড়ে পড়ল বালুময় মাটিতে। সবার চোখে তাক লাগিয়ে খোদার রাহে জীবন উৎসর্গ করতে এবার কোনো সৈনিক নয় বরং এগিয়ে এলেন স্বয়ং &#039;বাদশাহ আলমগীর&#039;। শত শত কেল্লা ও হাজার হাজার সৈন্যের মালিক বাদশাহ শাহেনশাহ নিজের সমস্ত ধন-সম্পদ, মান-সম্মান ও এতো বড় জনশক্তির সমন্বয়ে গঠিত সম্রাজ্যকে শুধু মাত্র একটা সেজদার বিনিময়ে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত হয়ে গেলেন। 


&#039;তানাশাহ&#039; ও তার তিরন্দাজরা কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি যে, জমিনে রাজত্বকারী একজন মানুষ নিজের ঘোর শত্রুকে মারতে মারতে হঠাৎ যখন &#039;রবে&#039;র পবিত্র ডাকের আওয়াজ কানে আসে; সাথে সাথেই থেমে যায়, হাত গুটিয়ে নেয় আর শত্রুদের হাজারো তিরের সামনে নিজেকে পেশ করে দেয়। ফলে তাদের শরীরের পশম দাঁড়িয়ে গেল—পুরো দেহে বয়ে গেল আবেগের অন্য রকম ঢেউ—ঘৃণা ও প্রতিশোধের নেশায় নিক্ষিপ্ত পাথরগুলোতে ভক্তি, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বিদ্যুৎ চমকে উঠল—মানবতার মর্যাদা ও মহত্ব ভূমিকম্প হয়ে কেল্লার সাথে কেল্লার বাদশাহকেও থরথরে কাঁপিয়ে তুলল—দারুন উত্তেজনায় ভরে গেল &#039;তানাশাহ&#039;র মন—মূহুর্তেই ভুলে গেল নিজের এতো দিনের সিদ্ধান্ত—বহু কষ্টে সাজানো এতো সুন্দর পরিকল্পনা পাল্টে ফেলল—থামিয়ে দিল তাক করে থাকা সঠিক নিশানাবাজ তিরন্দাজদের—গলা ফাটিয়ে সজোরে চিৎকার করে বললেন, &quot;না! না! শাহেনশাহর উপর তির নিক্ষেপ করো না। ইনি মানুষ নন, &#039;মহান দেবতা&#039;।&quot; তবে শাহেনশাহ সদলবলে জামায়াতের সাথে নিজ রবের সামনে মাটিতে সেজদা করে জানিয়ে দিলেন &#039;তিনি কোনো দেবতা নন—শুধু মাত্র একজন মানুষ—আল্লাহর একজন গোলাম ও বান্দা—একেবারে দুর্বল এক মানুষ—যিনি কুসংস্কার আর অন্ধভক্তির দেবতাদের ধারে কাছেও ঘেষেন না&#039;। 


ইতিহাস সাক্ষি রয়েছে মানুষ যখন নিজের কাজে-কর্মে, ইবাদাত-বন্দেগিতে মহান &#039;রব আল্লাহ&#039;র দাসত্ব ও গোলামির প্রমাণ দিয়েছে; তখন শুধু গোলকোন্ডার দূর্গ নয় বরং আসমান-জমিনের সকল খাজানা আল্লাহ তাআলা তার পায়ে ঢেলে দিয়েছেন। তবে আমাদের দূর্ভাগ্য! আমাদের নিকটবর্তী ইতিহাসে এর নজির খুবই দুষ্প্রাপ্য, দুঃসাধ্য ও দুর্লভ। আর বর্তমান তো এমন ঘটনা থেকে একেবারেই খালি। ফলে ইতিহাস আজ এমন নামাজিদের খুঁজে ফেরে আর আমাদের মতো খোদাভোলা ধর্মভোলা জাতিকে জিজ্ঞাসা করে, &quot;হে ইসলামের দাবিদারেরা! তোমাদের কপালেও কি এমন কোনো সেজদা আছে, যা এক আল্লাহর দোরগোড়ায় নত হতে বাধ্য করে?</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/126490/</link>
				<pubDate>Thu, 28 Jul 2022 13:34:53 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8220;বার বার যেই নামাজির খোঁজে ফেরে পৃথিবী&#8230;.&#8221;</p>
<p>&#8212; ইবনে নাজ্জার।</p>
<p>সুন্দর এই ভূগোলকের ইতিবৃত্ত আর কালের আবর্তন হিন্দুস্তানের পরতে পরতে ইসলামি শক্তির এমন তোজোদৃপ্ত ঝলক দেখেছে যে, শত শত বছর কেটে গেছে কিন্তু আজও ইতিহাসের চোখ ছানাবড়া হয়ে আছে। এমনকি এই তো সেদিন ভারতের মায়সুরের এলাকার সাবেক মন্ত্রী ড. এল হনুমানতিয়া সাহেব যখন মুসলিমদের জ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-126490"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/126490/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">72abe60541bb2c1b468af01ff44cb5bd</guid>
				<title>আবু হুরাইরা changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/126449/</link>
				<pubDate>Thu, 28 Jul 2022 08:07:43 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>