<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Israt Mustafa | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/isratmustafa/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/isratmustafa/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Israt Mustafa.</description>
	<lastBuildDate>Mon, 15 Jun 2026 21:25:03 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">0948aa97bc795e99c59b4317240c0748</guid>
				<title>#এক_মুঠো_বিকেল
শেষ পর্ব 

ইরফান এক সময়কার তুখোড় ছাত্রনেতা। পুলিশের সাথে গণ্ডগোল করে মার খেয়েছে, জেল খেটেছে, শেষমেশ নিজের পায়ে গুলিও খেয়েছে। বাম পায়ে লাগা গুলিটা তার চলৎশক্তিতে একটা বড় ধরণের প্রভাব ফেলে যায়। ফলস্বরূপ একটু খুঁড়িয়ে হাঁটতে হয় এখন। পায়ের ক্ষতি হওয়ার পর ইরফান সিদ্ধান্ত নেয় রাজনীতি ছেড়ে দিবে। তাই সব ছেড়ে কাউকে না জানিয়ে ডুব দেয় এক সময়। গ্রামের বাড়িতে গিয়ে খামার শুরু করে। এখন তার বিশাল খামার, ফসলের ক্ষেত, পুকুর, হাঁস-মুরগির খামার, সবজি বাগান- রমরমা অবস্থা। শহরের পুরনো জীবনকে সে বলতে গেলে মুছেই ফেলেছে মন থেকে। ইরফানের কিছু কিছু ভক্ত ছিল, যারা ইরফান বললে ছাদ থেকে লাফ দিবে নির্দ্বিধায়। সাইফ তাদের একজন। পরিচিত একজনের মারফত সাইফের বেকার হওয়ার খবরটা কানে আসে ইরফানের। ভোরবেলায় ফোন করে বলে, &quot;কি রে, সেলস অফিসার, খামারি হবি নাকি?&quot;
দ্বিতীয়বার চিন্তা করেনি সাইফ। তল্পিতল্পা গুটিয়ে রওনা দিল মুন্সিগঞ্জ, ইরফানের গ্রামের উদ্দেশ্যে।

বাস থেকে নামল দুপুর বারোটার দিকে। ভালোই জ্যাম পড়েছিল। কড়কড়ে রোদ, মাথা ধরে গেছে একেবারে। সকালে নাস্তা খাওয়া হয়নি। চিপ্স, মুড়িমাখা এসব হাবিজাবি খেয়েছিল। এখন ভালোই ক্ষুধা পেয়েছে। ইরফান ভাইকে একটা ফোন দিল সাইফ, বাসস্ট্যান্ড থেকে উনার ফার্মে কীভাবে যাবে জানতে। জানা গেল,আরেকটা লোকাল বাস ধরতে হবে, তারপর রিকশা ভ্যানে করে উনার ফার্মে যেতে হবে। যে কাউকে &#039; স্বপ্নবাড়ি খামার&#039; বললেই দেখিয়ে দিবে। ইরফানের সাথে কথা শেষ কিরে সাথে সাথেই ফোনটা অফ করে দিল। কারণ নবনীর মিসড কল অ্যালার্ট আসছে সমানে। সকাল থেকে চুয়াল্লিশটা মিসড কল! বাবারে! বেকার স্বামীকে এখন এত ফোন দেয়া কেন রে বাবা? বাসস্ট্যান্ডে আর তেমন কোনো খাবার না পেয়ে বাটারবান আর কলার উপরই ভরসা করল। ইরফান ভাইয়ের ওখানে গিয়ে সবার আগে একটা গোসল দিতে হবে ভালো করে। পাশের সিটে এক খালাম্মা বসেছিল। পুরো রাস্তা বমি করেছে। পলিথিন ব্যবহার করলেও বমির ছিটেফোঁটা গায়ে পড়া থেকে বাঁচতে পারেনি সাইফ। কেমন একটা ঘিনঘিনে অনুভূতি হচ্ছে, বমির গন্ধ আসছে পরনের কাপড় থেকে। বিয়ের এক বছরের মাথায় নবনী একবার কন্সিভ করেছিল। তাদের পরিকল্পনা ছিল না এত তাড়াতাড়ি পরিবার বাড়ানোর।  তারপরও আল্লাহর ইচ্ছা মেনে খুশিই ছিল দুজন। নবনী সেই সময় দিনরাত বমি করত। একবার সকালে সাইফ ঘুমে থাকা অবস্থাতেই ওকে ভাসিয়ে দিয়েছিল পুরো। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার, একটুও ঘেন্না লাগেনি, রাগ হয়নি, বরং পরম মমতায় ধৈর্যের সাথে সব পরিষ্কার করেছিল সাইফ। সন্তান আর আপনজনের টান বোধ হয় এমনই। বাচ্চাটা অবশ্য বাঁচেনি। সেই ঘটনার এক সপ্তাহ পরেই মিসক্যারেজ হয়ে যায়। সে কথা ভেবে একটু বিষণ্ণ হয়ে যায় সাইফ। না দেখা সন্তানটির জন্য বুকের ভেতরটা হাহাকার করে উঠে। ওর হার্টবিটও শুনেছিল ওরা। বাচ্চাটা চলে যাবার পর থেকে নবনী যেন আরও বেশি খামখেয়ালি হয়ে গিয়েছিল। কিছু হলেই ঝগড়া, দু&#039;দিন পর পর রাগ করে বাপের বাড়ি চলে যাওয়া, সংসার করবে না বলে হুমকি দেয়া- সব কিছুরই মাত্রা বেড়ে গিয়েছিল তার। হয়ত ভুলটা সাইফেরই, মেয়েটাকে একটু কাউন্সিলিং করানো উচিত ছিল। জোর করে এসব চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলল সাইফ। এখন আর এসব ভেবে কোনো লাভ নেই। সম্পর্কের ভবিষ্যত সম্পর্কে সিদ্ধান্ত সে নিয়ে নিয়েছে এবং নিশ্চিতভাবেই নবনীর কাছেও সে খবর পৌঁছে গেছে। এতগুলো কল তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

লোকাল বাসের লক্করঝক্করে সাইফের গা-হাত-পা জয়েন্ট থেকে খুলে আসবে মনে হলো। বাস জার্নি শেষ করে মনে হলো, অনেক হয়েছে, এবার ঢাকায় ফিরে গিয়ে চাকরি খোঁজা যাক। এমন সময় একটা ছেলে আওয়াজ দিল, &quot;সাইফ ভাই?&quot; ছেলেটাকে দেখে অবাক হয়ে গেল সাইফ, এ তো তাদের ভার্সিটিরই জুনিয়র। এখানে কী করছে? নিজের বিস্ময় লুকাতে পারে না সাইফ। জানা গেল, গ্র&#x200d;্যাজুয়েশনের পর থেকেই সে ইরফান ভাইয়ের খামারে কাজ করছে। একেবারে পুরোদস্তুর খামারি সে এখন। খুব অবাক লাগছে সাইফের, এ ছেলেটা ওদের ব্যাচের সবচেয়ে চৌকস ছেলে। সবার ধারণা ছিল দেশের যে কোন শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিতে অথবা ভার্সিটিতে শিক্ষক হিসেবে এই ছেলের ভবিষ্যত নিশ্চিত। আর এ এখানে পড়ে রয়েছে? তার তো এখন নর্থ আমেরিকায় পিএইচডি করার কথা। বিস্মিত সাইফের কাঁধে হাত রেখে ছেলেটা, সাইফের এতক্ষণে মনে পড়ল, তার নাম শোভন, বলল, &quot;আরে ভাই, এত অবাক হওয়ার কিছু নেই। ছ্যাঁকা খাইসিলাম। এরপর সব ছেড়েছুড়ে এখানে। &quot; তোমার মতো ছেলেকে কেউ ছ্যাঁকা দিতে পারে?!&quot; সশব্দে হেসে উঠল শোভন, &quot;দিলো তো সাইফ ভাই। এখন চলেন, রিকশা ভ্যান দাঁড় করায় রাখছি। আর খিদাও লাগছে নিশ্চয়ই আপনার। চলেন, ব্যাগটা রাখেন ভ্যানে, এবার উঠে পড়েন।&quot; ভ্যানে যেতে যেতে নিজের ভাগ্যের কথা ভাবছিল সাইফ। গতকাল ঠিক এই সময়েই তার ভাগ্য বদলে গিয়েছিল। আর আজ এই সময়ে ব্যস্ত শহরের রঙিন জীবনের হাতছানি ভুলে সে আজ খামারি হতে যাচ্ছে হয়ত। দেখা যাক, জীবন কোথায় নিয়ে যায়। 

ইরফানের চেহারা দেখে আরেক দফা চমকে গেল সাইফ। ভার্সিটির সুন্দর ফর্সা টকটকে চেহারার যুবকটির সাথে আজকের এই মধ্য তিরিশের শ্মশ্রুমণ্ডিত, রোদে পোড়া, তামাটে বর্ণের চেহারার যুবকের কোনো মিলই খুঁজে পেল না সে। শুধুমাত্র মুখের হাসিটা পুরনো সেই ইরফানের কথা মনে করিয়ে দিলো। সাইফকে তেমন কথা বলার সুযোগ দিলো না ইরফান, বলল, &quot;উঁহু, আগে গোসল দিয়ে আয়। আর এরপর পেট ভরে ভাত খা, চেহারা দেখেই বুঝা যাচ্ছে চাকরি হারাতেই না খেয়ে মরার দশা হয়েছে তোর।&quot; ওর শেষ কথায় সাইফ আর শোভন দু&#039;জনই হেসে দিলো।

খাওয়া শেষে কথা হলো তিনজনে বসে। ভালোই জমিয়ে নিয়েছে ইরফান এখানে। বিশাল দশ একর জমির উপরে খামার। অনেক কর্মচারী, একেবারে বিশাল কর্মযজ্ঞ। একেবারে ওল্ড ম্যাকডোনাল্ড হ্যাড এ ফার্মের মিতো এলাহী কারবার। ইরফান স্পষ্ট করে বলল, &quot;দেখ ভাই, আমি এক কথার মানুষ। তুই এখানে কয়দিন থাক, বুঝ, যে এগুলা করতে পারবি নাকি, না দুইদিন পরই ঢাকা যামু বইলা কান্দা শুরু করবি। তেমন হইলে কিন্তু পাছায় লাথি মাইরা বাইর কইরা দিমু। চিন্তা-ভাবনা কইরা জানা আমারে।&quot; ইরফানের কথা শুনে সত্যিই ভীষণ চিন্তা লাগছে সাইফের। এখানে মন টিকবে তো? বড় ভাইজান, মা শুনলে কী প্রতিক্রিয়া দেখাবেন?

নয় নয় করে প্রায় দুই সপ্তাহ কাটিয়ে দিলো স্বপ্নবাড়ি খামারে। ভালোই লাগছে এখানকার কাজকর্ম। সাইফ নিজেও গ্রামের ছেলে। সহজেই ধরে ফেলছে বিষয়গুলো, তা দেখে ইরফানও খুব খুশি। সাইফ মনস্থির করে ফেলেছে, থেকে যাবে এখানেই। কোম্পানির জিনিস বিক্রির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘোরার চেয়ে এই ঢের ভালো।

******

একেবারে হাওয়ায় মিলিয়ে গেল ছেলেটা? সাইফের বেশি আত্মীয়স্বজন নেই। যারা আছে সবাইকে ফোন করেছে নবনী। সাইফের অন্তর্ধানের কথা না বলে এমনি কায়দা করে জানার চেষ্টা করেছে তারা সাইফের অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানে কিনা। শাশুড়িকে ফোন দিয়েছিল প্রথমেই। রাহেলা খুব অবাক হয়েছিলেন ছেলের বউয়ের কাছ থেকে ফোন পেয়ে। ছেলের তিন বছরের সংসার জীবনে তার স্ত্রী তাকে নিজে থেকে খোঁজ নেয়ার জন্য ফোন করেছে, এমন ঘটনা তার স্মৃতিতে নেই। সবসময় সাইফ কথা বলে, মাঝে মাঝে বোধ হয় জোর করেই বউকে ফোন ধরিয়ে দেয়৷ আর কথাবার্তাও কেমন উল্টাপাল্টা - কি জানি কী হয়েছে! মায়ের কাছে যায়নি সাইফ, অন্য আত্মীয়দের কথায়ও তেমন কিছু বুঝা গেল না। বাকি থাকল বন্ধু-বান্ধব। কিন্তু কারো নাম্বারই তো নেই ওর কাছে। ফেসবুকে সাইফের ফ্রেন্ডলিস্ট ধরে ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের সাথে যোগাযোগ করল। সাইফের চাকরি যাবার বিষয়টা জানে কেউ কেউ, কিন্তু নিরুদ্দেশ হওয়ার ব্যাপারে কিছু জানে না ওরা। শেষে উপায়ান্তর না দেখে নিজের এক পুলিশ বন্ধুকে ধরলো। বন্ধু প্রথমে ফোন পেয়েই খোটা দিলো &quot;কি রে! এত দিনে ফোন দিলি, তাও তোর গামাইয়ের জন্য? আমাদের কথা কি মনেও পড়ে না?&quot; এই ছেলেটা, নবীন, পছন্দ করত নবনীকে, সেই এইচএসসি পড়াকালীন এক কোচিংয়ে দেখা হওয়ার সময় থেকে। নিজেদের নামের মিল নিয়েও অনেক কাহিনি করেছে। এখন একে ফোন দিতে অনেক সঙ্কোচ লাগছিল নবনীর৷ কিন্তু আর কোনো ভাবেই সে সুবিধা করতে পারছিল না। সাইফ যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। ওর ফোনটা সবসময় বন্ধ থাকায় ফোন নাম্বার দিয়ে ট্রেস করা সম্ভব না। যেহেতু নিজে থেকেই গেছে, মিসিং কেসও হয় না। কেস না থাকলে মোবাইল কোম্পানিও তথ্য দিবে না কোনো। নবীন আবার ঠাট্টা করে বলল, &quot;বাদ দে ওকে, এমনিতে তো বনে না তোদের।&quot; ক্ষেপে গেল নবনী, &quot;ফালতু কথা বলবিনা, আমার জামাইয়ের খোঁজ চাই আমি ব্যস!&quot;

&quot;আচ্ছা বাবা, আচ্ছা। আমি দেখছি কী করা যায়।&quot;

চার-পাঁচ দিন পর নবীন জানাল, সাইফের ফোন বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকলেও এর মধ্যে দুই-তিনবার চালু করে একটা নাম্বারে কথা বলেছে। নাম্বারটা দিলো নবনীকে। যা ভেবেছিল তাই, শাশুড়ির নাম্বার। মায়ের সাথে ঠিকই যোগাযোগ রেখেছে, আর বউ? বউ তো কেউ না। নাম্বার ট্রেস করে সাইফের অবস্থান জানা গেল। কিন্তু নবনীর জানামতে মুন্সিগঞ্জে তো সাইফের কেউ থাকে না। ওখানে কেন গেল, সে হিসাব ও কোনোভাবেই মিলাতে পারল না। 

বাবার গাড়িটা না নিয়ে এক বান্ধবীর গাড়ি ড্রাইভারসমেত ধার করল নবনী। মাকে বলল এক বান্ধবীর বিয়েতে যাচ্ছে মুন্সিগঞ্জ। মুন্সিগঞ্জ আগে কখনও আসেনি নবনী। ম্যাপ ফলো করতে তেমন পটু নয় সে। আর ড্রাইভারটা তো কিছুই বুঝে না, গবেট একটা! বেশ ঝামেলাই হলো গন্তব্যে পৌঁছাতে। তার উপর সদরের পর থেকে ঐ গ্রামে যাওয়ার রাস্তাটা এত বাজে! গ্রামে এসে পৌঁছাল যখন, দুপুর গড়িয়ে বিকেল হচ্ছে প্রায়। সূর্যের তেজটা কমে এসেছে। সুন্দর একটা সোনালি আভা চারিদিকে। নবনী একটা ছেলেকে ডেকে সাইফের ছবি দেখাল। ছেলেটা পাঁচ খাঁচি ডিম নিয়ে কোথায় যেন যাচ্ছিল। সাইফের ছবি দেখে সব কয়টা দাঁত বের করে হাসি দিয়ে বলল, &quot;ও সাইফ স্যারের কাছে আইছেন? আপনি কি স্যারের পরিবার? আসেন আসেন।&quot; নবনীকে একটা টিনশেডের ঘরের সামনে দাঁড় করিয়ে ছেলেটা দৌড়ে কোথায় চলে গেল। টিনের তৈরি দোতলা ঘর, এই এলাকার বৈশিষ্ট্য এটা, এমনকি তিনতলা ঘরও হয়। ।

পশু ডাক্তার এসেছেন। তাকে নিয়ে পুরো খামারের পশুপাখিদের চেকআপ করাচ্ছিল সাইফ। ইদানিং রাণীক্ষেত রোগের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। গৃহস্থ খামারগুলোতে বেশ কিছু মুরগি মারাও গেছে শুনেছে তারা। তাই আগেভাগেই চেকআপ করিয়ে নিচ্ছে। সাইফ এখন এখানের জীবন যাত্রার সাথে পুরোপুরি মিশে গেছে। হাঁস-মুরগির খামারে কাজ শেষ করে গোয়ালের দিকে যাবে, এমন সময় রফিক দৌড়াতে দৌড়াতে এসে খবর দিল, &quot;স্যার, ম্যাডাম আইছে। জলদি যান।&quot; ভ্রু কুঁচকে গেল সাইফের, &quot;ম্যাডান আবার কে?&quot;
&quot;আরে ম্যাডাম হইল আপনার হোম মিনিস্টার, যান৷ খুঁজতাছে আপনারে। ডাক্তার সাহেবের লগে আমি আছি।&quot;

অস্ফুটে মুখ থেকে নবনীর নাম বের হলো। কিন্তু নবনী এখানে আসবে কীভাবে? ঠিকানা পাওয়ার তো কোনো উপায়ই নেই। দ্রুত পায়ে নিজেদের টিনশেডের আস্তানার দিকে হেঁটে যাচ্ছে সাইফ। ক্রমশ একটা নারী অবয়ব চোখের সামনে ফুটে উঠছে। হালকা সবুজ রঙের একটা শাড়ি পরা, বেণি করা লম্বা চুল ঘাড়ের একপাশে এনে রাখা।  মেয়েটা ওর দিকে পিছন ফিরে ওদের ঘরটা দেখছে।  নবনী এখানে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই জেনেও মনের মধ্যে একটা ক্ষীণ আশা জেগেছিল প্রিয় মুখটাকে এতদিন পর একবার দেখার। এ কয়দিন দিনে কয়েকবার ফোন চালু কিরে দেখেছে নবনীর কয়টা মিসড কল আছে দেখার জন্য। মেসেজ বক্সটাও বার বার চেক কিরেছে, কিন্তু কোনো মেসেজ পাঠায়নি নবনী। ফোনের সংখ্যাও দিন দিন কমেছে। এক মন বলছে তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটি তার স্ত্রী নবনী, কিন্তু বাস্তব চিন্তা বলছে ভিন্ন কথা। প্রথমত নবনী শাড়ি পরতে পছন্দ করে না একদমই, অথচ সাইফের খুব পছন্দ শাড়ি। এ নিয়েও কম মন কষাকষি হয়নি তাদের। দ্বিতীয়ত এবং প্রধানত, নবনীর চুল ছোটো, কাঁধ পর্যন্ত। সাইফ অনেক অনুরোধ করেও তার চুল লম্বা করাতে পারেনি। এত বৈপরীত্য নিয়ে তারা দু&#039;জন কীভাবে একে অপরের প্রেমে পড়েছিল কে জানে!

বিকেল বেলার সোনালি আলো পড়ছে মেয়েটার চুলে, মুখের বামপাশে৷ সাইফ ধীরপায়ে এগিয়ে গেল। মেয়েটাও ঠিক তখনি ঘুরে তাকাল। নবনী! নবনী কয়েক কদম এগিয়ে এসে সাইফের গালে হাত রাখল। অনিয়মিত দাড়ি কামানোর ফলে গাল ভর্তি খোঁচা খোঁচা দাড়ি। এমনি এক চেহারা নিয়ে একদিন নবনীকে প্রেম নিবেদন করেছিল সাইফ। সাইফ তার চোখজোড়া বন্ধ করে ফেলল। সত্যিই কি নবনী এসেছে? নাকি চোখ খুললেই দেখা যাবে সব কল্পনা? নবনী খুব কাছে এসে বলল, &quot;আমাকে ডিভোর্স দিবে তুমি? এত্ত সহজ?&quot; সাইফ চোখ মেলল, নবনীর মুখটা খুব কাছে। জিজ্ঞেস করল, &quot;তোমার চুল লম্বা হলো কী করে?&quot; &quot;আলগা চুল লাগিয়েছি।&quot; ছোটো করে নিঃশ্বাস ছাড়ল সাইফ, এই সহজ কথাটা তার মাথায় আসেনি। আবার জিজ্ঞেস করল, &quot;এখানে কেন এসেছ?&quot; &quot;নিজের সংসার বুঝে নিতে।&quot;
&quot;এখানে তোমার কোনো সংসার নেই। আমি আগে সামান্য কিছু বেতন পেতাম, এখন তাও পাই না। পুরোদস্তুর খামারি বনে গেছি।&quot; 
সাইফের গালে হাত বুলাতে বুলাতে নবনী বলল, &quot;হুম, তাই তো দেখছি। গা থেকে হাঁস-মুরগির গন্ধ আসছে। গোবরের গন্ধও আছে। ছি!&quot;
&quot;তাহলে?&quot;
&quot;তাহলে কী?&quot;
&quot;সময় নষ্ট করছ কেন?&quot;
&quot;কে সময় নষ্ট করছে?&quot;
&quot;তুমি।&quot;
নবনী হেসে বলল, &quot;না, আমি না তুমি। সেই কখন থেকে দাঁড়িয়ে আছি। একটু বসার জায়গাও না, এক গ্লাস পানিও না, একটা চুমুও না।&quot; কপট অভিমানের সুর নবনীর কণ্ঠে। 
সাইফ ওর গালে রাখা নবনীর হাতটার উপর নিজের হাতটা চেপে ধরে বলে, &quot;দু&#039;দিনেই হাঁপিয়ে যাবে তুমি।&quot;
&quot;গেলে যাব, তখন আবার বাপের বাড়ি যাব। এরপর ওখানে হাঁপিয়ে গেলে আবার এখানে আসব।&quot;
&quot;এভাবে কতদিন? এভাবে কি সংসার হয়?&quot;
&quot;সংসার না হোক, ভালোবাসা তো হয়। কত মানুষই তো সংসার করছে, আমরা না হয় একটু ছন্নছাড়াই হলাম।&quot;

সাইফ নবনীর চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে আছে সরাসরি। পাগলাটে এই মেয়েটাকে না বলার ক্ষমতা তার কোনোকালেই ছিল না, আজও নেই। বিকেলের সোনালি আলোতে নবনীর মুখটা অদ্ভুত সুন্দর দেখাচ্ছে। এই আলোকেই কি কনে সুন্দর আলো বলে? নবনীর কপালে কপাল ঠেকাল সাইফ। হলোই না হয় একটা ছন্নছাড়া জীবন। সংসার না হোক, ভালোবাসা তো হলো।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/26161/</link>
				<pubDate>Sun, 01 Aug 2021 14:49:34 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23এক_ম" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#এক_ম</a>ুঠো_বিকেল<br />
শেষ পর্ব </p>
<p>ইরফান এক সময়কার তুখোড় ছাত্রনেতা। পুলিশের সাথে গণ্ডগোল করে মার খেয়েছে, জেল খেটেছে, শেষমেশ নিজের পায়ে গুলিও খেয়েছে। বাম পায়ে লাগা গুলিটা তার চলৎশক্তিতে একটা বড় ধরণের প্রভাব ফেলে যায়। ফলস্বরূপ একটু খুঁড়িয়ে হাঁটতে হয় এখন। পায়ের ক্ষতি হওয়ার পর ইরফান সিদ্ধান্ত নেয় রাজনীতি ছেড়ে দিবে। তাই সব ছেড়ে কাউকে না জানিয়ে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-26161"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/26161/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>10</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">76fc0e9570ae72e8963774a9b0763ce4</guid>
				<title>#এক_মুঠো_বিকেল
পর্ব ১
অফিস থেকে আজ জবাব দিয়ে দিল। লাঞ্চের পর অফিসের পিছনের গলির টং থেকে চা খেয়ে আর সিগারেট ফুঁকে যখন সবে ডেস্কে ফিরেছে সাইফ, সাপোর্ট স্টাফ বাবু এসে খবর দিল এমডি স্যার তলব করেছে। লাঞ্চের পর এই সময়টায় একটু ঝিমুনি আসে। বস ডাকছে শুনে ঝিমুনি কেটে গেল তার। অফিসে এখন ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইসিসের নামে লোক ছাঁটাই চলছে। প্রতি সপ্তাহেই এক দুইজনকে বিদায় দেয়া হয়। টেবিলের উপর থেকে পানির বোতলটা নিয়ে গলাটা একটু ভিজিয়ে নিল সাইফ। তাড়াহুড়ো করে খেতে গিয়ে শার্টটাও খানিকটা ভিজে গেল। মনে মনে আয়তুল কুরসি পড়তে পড়তে এমডির রুমের দরজায় নক করল। ভিতরে ঢুকতেই আশঙ্কা সত্য প্রমাণিত হল। কারণ এমডির পাশে এইচআর হেড আর সাইফের রিপোর্টিং বস সেলস হেড আনিস ভাইও বসে আছেন। সাইফ কেবিনে ঢুকে সালাম দিলে আনিস ভাই বসতে বললেন। &quot;কী অবস্থা, কেমন আছেন সাইফ?&quot; বললেন এইচ আর এর পিয়াস ভাই। 
&quot;জি ভাই, ভালো।&quot; বলে মনে মনে ভাবল, ভালো আর তোরা থাকতে দিলি কই! পেটে লাথি দেয়াএ ব্যবস্থা করে জিগাস কেমন আছি! শালা!
&quot;এ মাসে আপনার টার্গেটের কী অবস্থা সাইফ?&quot; টার্গেটের অবস্থা খুব ভালো করে জেনেই এই অবান্তর প্রশ্ন। মেজাজটা খারাপ হচ্ছে সাইফের।   রুক্ষ স্বরে জবাব দিল, &quot;অর্ধেক এচিভ হয়েছে।&quot; 
এবার এমডি স্যার বললেন, &quot;ব্যবসার খুব মন্দা যাচ্ছে বুঝলেন। আপনারা তো সবই জানেন।&quot; সাইফ অধৈর্যভাবে বলল, &quot;জি স্যার।&quot; 
&quot;সাইফ, আপনি মনে হয় বুঝতে পেরেছেন আপনাকে কেন ডাকা হয়েছে।&quot; 
&quot;জি স্যার।&quot;
পিয়াস বলল, &quot;আপনি আমাদের জন্য খুবই মূল্যবান এসেট ছিলেন সাইফ। আপনার যোগ্যতা নিয়ে আমাদের বিন্দুমাত্র অভিযোগ কিংবা সন্দেহ নেই। কিন্তু...&quot;
&quot;কিন্তু আপনারা আমাকে আর অ্যাফোর্ড করতে পারছেন না তাই তো?&quot;
পিয়াস একটু বিচলিত হয়ে বলল, &quot;ঠিক।&quot;
&quot;ঠিক আছে স্যার, আসি তাহলে, আনিস ভাই, আসি।&quot;
আনিস উঠে সাইফের সাথে করমর্দন করে শেষে জড়িয়েই ধরল। তার খারাপ লাগছে, গত তিন বছরে একটা ভাই-ব্রাদার সম্পর্ক হয়ে গিয়েছিল। 
পিয়াস বলল, &quot;আজকেই অফিশিয়ালি আপনার শেষ দিন আমাদের সাথে, এক মাসের নোটিশ পিরিয়ড থাকবে। আপনি যাওয়ার আগে এইচআরে সুমির সাথে দেখা করে যাবেন। জবাবে মাথা ঝাঁকাল সাইফ। 
অফিস থেকে বের হওয়ার সময় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখল। আরেকটা ডিপার্টমেন্টের কয়েকটা মেয়ের শেষ দিন আজকে। কাস্টমার সার্ভিস ডিপার্টমেন্ট, বেশিরভাগই অল্পবয়সী মেয়ে এই ডিপার্টমেন্টে। যারা চলে যাচ্ছে এবং বাকি কলিগরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে। মনে মনে হাসল সাইফ। কম বয়স আর মেয়ে হওয়ার সুবিধা আছে, অন্তত কেঁদে দুঃখটা হালকা করার তো উপায় আছে। ছয়টায় অফিস শেষ, পাঁচটায় সুমির কাছে গেল। সুমির মুখে অপরাধীর ছাপ, যেন সাইফের চাকরি যাওয়ার জন্য ওই দায়ী। সাইফ রসিকতা করে বলল, &quot; কী ব্যাপার, মুখটা এমন করে রেখেছ কেন? কেঁদে দিবে নাকি?&quot; 
&quot;আপনি এখন কী করবেন সাইফ ভাই?&quot;
&quot;আপাতত কিছুদিন নাকে তেল দিয়ে ঘুমাব। প্রতিদিন ছয়টা সময় উঠে অফিসে আসতে আসতে আমি ক্লান্ত।&quot;
&quot;এইচ আরেও লোক ছাঁটাই করবে সাইফ ভাই।&quot;
সাইফ মেয়েটাকে কী বলবে ভেবে পেল না। সুমির ব্যক্তিগত কাহিনি সে জানে। অল্পবয়সে ঝোঁকের বশে পালিয়ে বিয়ে করেছিল। পরে দেখে ছেলে ড্রাগ অ্যাডিক্ট, বিয়ে টিকেনি শেষ পর্যন্ত। ফিরে এসে ভাইয়ের সংসারে জায়গা হয়নি। ভাবীর সাথে ঝগড়া করে মাকে নিয়ে আলাদা থাকে। তার আয়ের উপরই চলে মা-মেয়ের সংসার। 
&quot;চাকরি খুঁজতে থাক সুমি। সুযোগ থাকতেই চলে যাও। জব একবার চলে গেলে আবার নতুন চাকরিতে ঢোকা মুশকিল।&quot; সুমির চোখ ছলছল করছে। সাইফ একটা দীর্ঘশ্বাস গোপন করল। সুমির মনে যে তার জন্য বিশেষ অনুভূতি আছে, তা ভালো করেই বুঝে সাইফ। এমনকি সাইফ বিবাহিত তা জেনেও। নিজের বৈবাহিক সম্পর্কের কথা ভেবে মনটা আরও খারাপ হয়ে গেল। নবনীকে বোধ হয় আর ফেরানো যাবে না। এইচ আরের কাগজপত্র বুঝে নিয়ে সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে গেল সাইফ। বের হলো পাঁচটা পয়তাল্লিশে। পনেরো মিনিট আগে বের হওয়ার জন্য আজ আর কারো কাছে জবাবদিহি করতে হবে না। 
কিছুক্ষণ আগে বের হওয়ায় রাস্তায় ভীড় কম। বাসস্ট্যান্ডেও লোক কম। হঠাৎ পাশে এসে দাঁড়ালো কাস্টমার সার্ভিসের সদ্য চাকরি হারানোর মেয়েগুলোর একজন। মেয়েটা একদমই বাচ্চা দেখতে, জয়েন করেছে বেশিদিন হয়ওনি বোধ হয়৷ গালে কান্নার দাগ স্পষ্ট। সাইফ ওকে দেখে সৌজন্য করে হাসল। মেয়েটা মলিন একটা হাসি ফেরত দিল। 
&quot;কোথায় যাবা?&quot;
&quot;ফার্মগেট। আপনি?&quot; 
&quot;আমিও ফার্মগেট যাব।&quot;
&quot;ওখানে বাসা?&quot;
&quot;না, বাসা কলাবাগান। তোমার বাসা?&quot;
&quot;বাসা নেই, আমি তেজকুনিপাড়ায় একটা ছাত্রী হোস্টেলে থাকি।&quot; 
মেয়েটা খানিকক্ষণ চুপ থেকে বলল, &quot;ভাইয়া আপনাকেও নাকি...&quot;
সাইফ মাথা ঝাঁকিয়ে বলল, &quot;হুম।&quot;
বাস এসে পড়েছে। চাকরি চলে গেলেও মেয়েটার ভাগ্য ভালো আজকে, মহিলা সীট খালি ছিল। সাইফ বাসের পিছনের দিকে গিয়ে দাঁড়ালো। মাঝারি উচ্চতার, ছিমছাম গড়নের, শিশুসুলভ চেহারার এই মেয়েটির সাথে হয়তো আর কখনোই দেখা হবে না।
সরাসরি বাসায় গেল না সাইফ। এত আগে বাসায় গিয়ে করবেটাই বা কী! রাত নয়টার আগে তো এমনিতেও অফিস থেকেই বের হওয়া হতো না। বাসায় যেতে যেতে দশটা। নবনী চলে যাওয়ার পর থেকে তো কোনো টাইমটেবিলই নেই জীবনে। বাস থেকে নেমে আনন্দ সিনেমা হলে ঢুকল। রানিং মুভির নাম বেহায়া প্রেম, রগরগে পোস্টার৷ একা একা বসে সিনেমা দেখল সাইফ। হলে বেশি লোক নেই, এ ধরণের সিনেমার দর্শক বেশি হয় নাইট শোগুলোতে। এক ঘণ্টা বসে থেকে বের হয়ে গেল সাইফ৷ হল থেকে বের হতেই অবনীর ফোন।
&quot;কী ব্যাপার সাইফ ভাই, আপনি কি আর আপুকে নিতে আসবেন না?&quot;
&quot;তোমার আপুকে তো আমি রেখে আসিনি অবনী। মাসে ত্রিশ হাজার টাকা বেতন পাওয়া স্বামীর ঘর সে করবে না। তার ত্রিশ হাজার টাকা ভাড়ার বাসা লাগবে। তার চেয়ে সে সেখানেই থাকুক।&quot;
&quot;না না কি যে বলেন, আপনার জিনিস আপনি নিয়ে যান। জ্বালিয়ে ফেলছে আমাকে। আমার রুম বেদখল হয়ে গেছে। সারাদিন কি সঅব দুঃখের গান শুনে। কান ঝালাপালা হয়ে গেছে আমার। আর সারাদিন কি যে মেজাজ! সবার সাথে চিল্লাচিল্লি, কথা কাটাকাটি। যেন আমরা ওর ঘর ভেঙেছি। &quot;
&quot;ও ফ্রাস্টেসনে ভুগছে অবনী। তোমরা কোথাও থেকে ঘুরে আসো না ওকে নিয়ে।&quot;
&quot;ইস! আপনার ঝামেলা নিয়ে আমরা ঘুরতে পারব না। আপনি এসে ওকে নিয়ে যান।&quot;
&quot;সেটা আর সম্ভব না অবনী। ওকে এখন থেকে আমাকে ছাড়াই থাকতে হবে। যে লাইফস্টাইল ও চায়, সেটা দেয়া আগে তো আমার পক্ষে সম্ভব ছিলই না, এখন তো আরও হবে না।&quot;
&quot;কেন কেন?&quot; চিন্তার ছাপ পড়ে অবনীর মুখে 
&quot;আমার চাকরি চলে গেছে অবনী। আগে যে ত্রিশ হাজার টাকা নিয়ে এত ক্ষোভ ছিল তোমার আপুর, সেটাও আগামী মাস থেকে আর আসবে না। ওকে বলো, যদি মিউচুয়াল করতে চায়, তাহলে সব ব্যবস্থা করে আমাকে বলতে। আর যদি আমাকে ব্যবস্থা কর&#x200d;তে হয়, সেটাও যেন জানিয়ে দেয়।&quot;
&quot;কিন্তু  ভাইয়া...&quot; অবনীর কথা শেষ হওয়ার আগেই ফোন কেটে দেয় সাইফ।
অবনীর ফোনটা লাউড স্পিকারে ছিল। কথোপকথন সবই শুনেছে নবনী। চোখ বেয়ে নোনা পানির ধারা বইছে তার। অবনী কিছু বলতে যাবে, তার আগেই সে এক দৌড়ে বাসার মেইন দরজা দিয়ে বের হয়ে গেল। এখন ছাদে যাবে সে, অবনী খুব ভালো করেই জানে। এখন তাক্র ঘাঁটিয়ে লাভ নেই। আপুর কর্মকাণ্ড দেখলে বিরক্ত লাগে অবনীর। নিজেই পাগল পাগল হয়ে বিয়ে করলি, বললি টাকাই নাকি সব না, ভালোবাসাটাই মুখ্য। বিয়ের দুই বছরের মধ্যে কতবার যে রাগ করে বাপের বাড়ি এসেছে, তার কোনো হিসাব নেই। অজুহাত কী তাও, পহেলা বৈশাখে দামি শাড়ি দেয় নাই, অ্যানিভার্সারিতে হীরার আংটি পায় নাই- কেন রে বাবা, তুই বিয়ের আগে জানতিনা তোর প্রেমিক কী করে, কয় টাকা কামাই করে? এবার এসে বলে ফকিরের ঘর করবে না। যেদিন লাখ টাকার চাকরি পাবে, সেদিন স্বামীর ঘরে ফেরত যাবে! ছোটোলোক কোথাকার! এখন বসে বসে কাঁদে জামাই ডিভোর্সের কথা বলছে দেখে। অবনীর নিজের স্বার্থেও নবনীকে জলদি নিজের বাড়িতে পাঠানো দরকার। অবনীর বিয়ের কথা চলছে। বিবাহিত বড় বোন বাপের বাড়িতে রাগ করে পড়ে আছে, এটা নিয়ে ইতোমধ্যে ও বাড়ির কয়েকজন কথা শুনিয়ে ফেলেছে। কিন্তু এখন তো পরিস্থিতি আরও সঙ্গীন। দুলাভাইয়ের চাকরি নাই, আবার ডিভোর্সের কথাও বলছে। অবশ্য চাকরি থাকতেই আপু স্বামী ফেলে চলে এসেছে, চাকরি না থাকলে কী করতো আল্লাহই জানেন।
নবনী ছাদ থেকে নামল রাত নয়টার দিকে। তার মাও বড় মেয়ের খামখেয়ালি কর্মকাণ্ডে খুবই বিরক্ত। বিয়ের আগে তারা বারবার না করেছিলেন, ছেলের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না। ছেলেরও সামান্য বেতনের সাধারণ চাকরি। কিন্তু না, তখন তো চোখে ভালোবাসার টিনের চশমা আঁটা, মা-বাবার কথা রুচবে কেন?
এখন দুইদিন পর পর নাটক লেগেই আছে। লাজ-শরম বলতে কিছুই নেই মেয়েটার। 
নবনী রুমে গিয়ে ঘর অন্ধকার করে চুপচাপ শুয়ে রইল, অবনী শুতে এলে ওর সাথেও কোনো কথা বলল না। অবনী রাত জেগে হবু বরের সাথে কথা বলে। নবনী আসার পর থেকে বারান্দায় গিয়ে কথা বলতে হয়৷ কথা বলতে বলতে বারান্দায় রাখা দোলনায় বসেই কখন ঘুমিয়ে গেল টের পায়নি। সকালের রোদ চোখে পড়ার পর রুমে এলো। এসে দেখে নবনী নেই রুমে। 
সাইফ রাতে স্বাদ তেহারি থেকে এক প্যাকেট তেহারি এনে খেলো। সহকর্মীদের মধ্যে দুই-একজন ভার্সিটির সহপাঠী ছিল। সেই সুবাদে চাকরি যাওয়ার খবর বন্ধুমহলে চাউর হয়ে গেছে এরই মধ্যে । কয়েকজন ফোন করেছে, সাইফ ধরেনি, তবে ধরা উচিত। পরিচিতদের রেফারেন্স ছাড়া দ্রুত চাকরি পাওয়া কঠিন হবে। কাল সকালে কলব্যাক করতে হবে সবাইকে। ভোরের দিকে ঘুম ভাঙল মোবাইলের রিংটোনে। ভার্সিটির বড় ভাই ইরফানের নামটা স্ক্রিনে দেখে একই সাথে খুশি এবং অবাক হলো।
নবনী সারা রাত ঘুমায়নি। ফজরের আজান দিতেই উঠে নামাজ পড়ল। অবনীকে দেখল বারান্দায় ঘুমিয়ে আছে। আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে নিজের চেহারা দেখে চমকে উঠল। অবিন্যস্ত চুল, চোখের নিচে কালি, ফোলা মুখ। তাড়াতাড়ি চুলগুলো ঠিক করে হালকা লিপস্টিক লাগিয়ে নিল ঠোঁটে। কাপড়টাও পালটে নিল। এ সময় রিকশা পাওয়া গেলেই হয়। 
কলবাগানে নিজেদের ভাড়া করা ছোট্টো ফ্ল্যাটটার সামনে গিয়ে থমকে দাঁড়ালো। সে যাওয়ার সময় বাসার চাবি নিয়ে যায়নি। বারবার বেল বাজিয়েও কোনো লাভ হলো না, দরজা খুলছে না সাইফ। এরপর জোরে জোরে সাইফের নাম ধরে ডাকতে থাকল সে। ওর আওয়াজ শুনে দোতলা থেকে বাড়িওয়ালার কাজের ছেলেটা এসে জানাল সাইফকে সে সকালেই বাইরে যেতে দেখেছে, হাতে ছিল বড় একটা  স্যুটকেস। 
(চলবে)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/24631/</link>
				<pubDate>Tue, 27 Jul 2021 10:56:26 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23এক_ম" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#এক_ম</a>ুঠো_বিকেল<br />
পর্ব ১<br />
অফিস থেকে আজ জবাব দিয়ে দিল। লাঞ্চের পর অফিসের পিছনের গলির টং থেকে চা খেয়ে আর সিগারেট ফুঁকে যখন সবে ডেস্কে ফিরেছে সাইফ, সাপোর্ট স্টাফ বাবু এসে খবর দিল এমডি স্যার তলব করেছে। লাঞ্চের পর এই সময়টায় একটু ঝিমুনি আসে। বস ডাকছে শুনে ঝিমুনি কেটে গেল তার। অফিসে এখন ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইসিসের নামে লোক ছাঁটাই চলছে। প্রতি সপ্তা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-24631"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/24631/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>11</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">bd9a9762422b3f58a9e86ddbdf79228e</guid>
				<title>Israt Mustafa and অভিমানী মন are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/24629/</link>
				<pubDate>Tue, 27 Jul 2021 10:55:06 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">bd9a9762422b3f58a9e86ddbdf79228e</guid>
				<title>Israt Mustafa and Neel tripura are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/24628/</link>
				<pubDate>Tue, 27 Jul 2021 10:55:06 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">bd9a9762422b3f58a9e86ddbdf79228e</guid>
				<title>Israt Mustafa and Drako Shajib are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/24627/</link>
				<pubDate>Tue, 27 Jul 2021 10:55:06 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">31ada055c9315014846ce7580ab0d976</guid>
				<title>Israt Mustafa and চাঁদ সদাগর are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/24626/</link>
				<pubDate>Tue, 27 Jul 2021 10:55:05 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>