-
#এক_মুঠো_বিকেল
শেষ পর্বইরফান এক সময়কার তুখোড় ছাত্রনেতা। পুলিশের সাথে গণ্ডগোল করে মার খেয়েছে, জেল খেটেছে, শেষমেশ নিজের পায়ে গুলিও খেয়েছে। বাম পায়ে লাগা গুলিটা তার চলৎশক্তিতে একটা বড় ধরণের প্রভাব ফেলে যায়। ফলস্বরূপ একটু খুঁড়িয়ে হাঁটতে হয় এখন। পায়ের ক্ষতি হওয়ার পর ইরফান সিদ্ধান্ত নেয় রাজনীতি ছেড়ে দিবে। তাই সব ছেড়ে কাউকে না জানিয়ে ডুব দেয় এক সময়। গ্রামের বাড়িতে গিয়ে খামার শুরু করে। এখন তার বিশাল খামার, ফসলের ক্ষেত, পুকুর, হাঁস-মুরগির খামার, সবজি বাগান- রমরমা অবস্থা। শহরের পুরনো জীবনকে সে বলতে গেলে মুছেই ফেলেছে মন থেকে। ইরফানের কিছু কিছু ভক্ত ছিল, যারা ইরফান বললে ছাদ থেকে লাফ দিবে নির্দ্বিধায়। সাইফ তাদের একজন। পরিচিত একজনের মারফত সাইফের বেকার হওয়ার খবরটা কানে আসে ইরফানের। ভোরবেলায় ফোন করে বলে, “কি রে, সেলস অফিসার, খামারি হবি নাকি?”
দ্বিতীয়বার চিন্তা করেনি সাইফ। তল্পিতল্পা গুটিয়ে রওনা দিল মুন্সিগঞ্জ, ইরফানের গ্রামের উদ্দেশ্যে।বাস থেকে নামল দুপুর বারোটার দিকে। ভালোই জ্যাম পড়েছিল। কড়কড়ে রোদ, মাথা ধরে গেছে একেবারে। সকালে নাস্তা খাওয়া হয়নি। চিপ্স, মুড়িমাখা এসব হাবিজাবি খেয়েছিল। এখন ভালোই ক্ষুধা পেয়েছে। ইরফান ভাইকে একটা ফোন দিল সাইফ, বাসস্ট্যান্ড থেকে উনার ফার্মে কীভাবে যাবে জানতে। জানা গেল,আরেকটা লোকাল বাস ধরতে হবে, তারপর রিকশা ভ্যানে করে উনার ফার্মে যেতে হবে। যে কাউকে ‘ স্বপ্নবাড়ি খামার’ বললেই দেখিয়ে দিবে। ইরফানের সাথে কথা শেষ কিরে সাথে সাথেই ফোনটা অফ করে দিল। কারণ নবনীর মিসড কল অ্যালার্ট আসছে সমানে। সকাল থেকে চুয়াল্লিশটা মিসড কল! বাবারে! বেকার স্বামীকে এখন এত ফোন দেয়া কেন রে বাবা? বাসস্ট্যান্ডে আর তেমন কোনো খাবার না পেয়ে বাটারবান আর কলার উপরই ভরসা করল। ইরফান ভাইয়ের ওখানে গিয়ে সবার আগে একটা গোসল দিতে হবে ভালো করে। পাশের সিটে এক খালাম্মা বসেছিল। পুরো রাস্তা বমি করেছে। পলিথিন ব্যবহার করলেও বমির ছিটেফোঁটা গায়ে পড়া থেকে বাঁচতে পারেনি সাইফ। কেমন একটা ঘিনঘিনে অনুভূতি হচ্ছে, বমির গন্ধ আসছে পরনের কাপড় থেকে। বিয়ের এক বছরের মাথায় নবনী একবার কন্সিভ করেছিল। তাদের পরিকল্পনা ছিল না এত তাড়াতাড়ি পরিবার বাড়ানোর। তারপরও আল্লাহর ইচ্ছা মেনে খুশিই ছিল দুজন। নবনী সেই সময় দিনরাত বমি করত। একবার সকালে সাইফ ঘুমে থাকা অবস্থাতেই ওকে ভাসিয়ে দিয়েছিল পুরো। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার, একটুও ঘেন্না লাগেনি, রাগ হয়নি, বরং পরম মমতায় ধৈর্যের সাথে সব পরিষ্কার করেছিল সাইফ। সন্তান আর আপনজনের টান বোধ হয় এমনই। বাচ্চাটা অবশ্য বাঁচেনি। সেই ঘটনার এক সপ্তাহ পরেই মিসক্যারেজ হয়ে যায়। সে কথা ভেবে একটু বিষণ্ণ হয়ে যায় সাইফ। না দেখা সন্তানটির জন্য বুকের ভেতরটা হাহাকার করে উঠে। ওর হার্টবিটও শুনেছিল ওরা। বাচ্চাটা চলে যাবার পর থেকে নবনী যেন আরও বেশি খামখেয়ালি হয়ে গিয়েছিল। কিছু হলেই ঝগড়া, দু’দিন পর পর রাগ করে বাপের বাড়ি চলে যাওয়া, সংসার করবে না বলে হুমকি দেয়া- সব কিছুরই মাত্রা বেড়ে গিয়েছিল তার। হয়ত ভুলটা সাইফেরই, মেয়েটাকে একটু কাউন্সিলিং করানো উচিত ছিল। জোর করে এসব চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলল সাইফ। এখন আর এসব ভেবে কোনো লাভ নেই। সম্পর্কের ভবিষ্যত সম্পর্কে সিদ্ধান্ত সে নিয়ে নিয়েছে এবং নিশ্চিতভাবেই নবনীর কাছেও সে খবর পৌঁছে গেছে। এতগুলো কল তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
লোকাল বাসের লক্করঝক্করে সাইফের গা-হাত-পা জয়েন্ট থেকে খুলে আসবে মনে হলো। বাস জার্নি শেষ করে মনে হলো, অনেক হয়েছে, এবার ঢাকায় ফিরে গিয়ে চাকরি খোঁজা যাক। এমন সময় একটা ছেলে আওয়াজ দিল, “সাইফ ভাই?” ছেলেটাকে দেখে অবাক হয়ে গেল সাইফ, এ তো তাদের ভার্সিটিরই জুনিয়র। এখানে কী করছে? নিজের বিস্ময় লুকাতে পারে না সাইফ। জানা গেল, গ্র্যাজুয়েশনের পর থেকেই সে ইরফান ভাইয়ের খামারে কাজ করছে। একেবারে পুরোদস্তুর খামারি সে এখন। খুব অবাক লাগছে সাইফের, এ ছেলেটা ওদের ব্যাচের সবচেয়ে চৌকস ছেলে। সবার ধারণা ছিল দেশের যে কোন শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিতে অথবা ভার্সিটিতে শিক্ষক হিসেবে এই ছেলের ভবিষ্যত নিশ্চিত। আর এ এখানে পড়ে রয়েছে? তার তো এখন নর্থ আমেরিকায় পিএইচডি করার কথা। বিস্মিত সাইফের কাঁধে হাত রেখে ছেলেটা, সাইফের এতক্ষণে মনে পড়ল, তার নাম শোভন, বলল, “আরে ভাই, এত অবাক হওয়ার কিছু নেই। ছ্যাঁকা খাইসিলাম। এরপর সব ছেড়েছুড়ে এখানে। ” তোমার মতো ছেলেকে কেউ ছ্যাঁকা দিতে পারে?!” সশব্দে হেসে উঠল শোভন, “দিলো তো সাইফ ভাই। এখন চলেন, রিকশা ভ্যান দাঁড় করায় রাখছি। আর খিদাও লাগছে নিশ্চয়ই আপনার। চলেন, ব্যাগটা রাখেন ভ্যানে, এবার উঠে পড়েন।” ভ্যানে যেতে যেতে নিজের ভাগ্যের কথা ভাবছিল সাইফ। গতকাল ঠিক এই সময়েই তার ভাগ্য বদলে গিয়েছিল। আর আজ এই সময়ে ব্যস্ত শহরের রঙিন জীবনের হাতছানি ভুলে সে আজ খামারি হতে যাচ্ছে হয়ত। দেখা যাক, জীবন কোথায় নিয়ে যায়।
ইরফানের চেহারা দেখে আরেক দফা চমকে গেল সাইফ। ভার্সিটির সুন্দর ফর্সা টকটকে চেহারার যুবকটির সাথে আজকের এই মধ্য তিরিশের শ্মশ্রুমণ্ডিত, রোদে পোড়া, তামাটে বর্ণের চেহারার যুবকের কোনো মিলই খুঁজে পেল না সে। শুধুমাত্র মুখের হাসিটা পুরনো সেই ইরফানের কথা মনে করিয়ে দিলো। সাইফকে তেমন কথা বলার সুযোগ দিলো না ইরফান, বলল, “উঁহু, আগে গোসল দিয়ে আয়। আর এরপর পেট ভরে ভাত খা, চেহারা দেখেই বুঝা যাচ্ছে চাকরি হারাতেই না খেয়ে মরার দশা হয়েছে তোর।” ওর শেষ কথায় সাইফ আর শোভন দু’জনই হেসে দিলো।
খাওয়া শেষে কথা হলো তিনজনে বসে। ভালোই জমিয়ে নিয়েছে ইরফান এখানে। বিশাল দশ একর জমির উপরে খামার। অনেক কর্মচারী, একেবারে বিশাল কর্মযজ্ঞ। একেবারে ওল্ড ম্যাকডোনাল্ড হ্যাড এ ফার্মের মিতো এলাহী কারবার। ইরফান স্পষ্ট করে বলল, “দেখ ভাই, আমি এক কথার মানুষ। তুই এখানে কয়দিন থাক, বুঝ, যে এগুলা করতে পারবি নাকি, না দুইদিন পরই ঢাকা যামু বইলা কান্দা শুরু করবি। তেমন হইলে কিন্তু পাছায় লাথি মাইরা বাইর কইরা দিমু। চিন্তা-ভাবনা কইরা জানা আমারে।” ইরফানের কথা শুনে সত্যিই ভীষণ চিন্তা লাগছে সাইফের। এখানে মন টিকবে তো? বড় ভাইজান, মা শুনলে কী প্রতিক্রিয়া দেখাবেন?
নয় নয় করে প্রায় দুই সপ্তাহ কাটিয়ে দিলো স্বপ্নবাড়ি খামারে। ভালোই লাগছে এখানকার কাজকর্ম। সাইফ নিজেও গ্রামের ছেলে। সহজেই ধরে ফেলছে বিষয়গুলো, তা দেখে ইরফানও খুব খুশি। সাইফ মনস্থির করে ফেলেছে, থেকে যাবে এখানেই। কোম্পানির জিনিস বিক্রির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘোরার চেয়ে এই ঢের ভালো।
******
একেবারে হাওয়ায় মিলিয়ে গেল ছেলেটা? সাইফের বেশি আত্মীয়স্বজন নেই। যারা আছে সবাইকে ফোন করেছে নবনী। সাইফের অন্তর্ধানের কথা না বলে এমনি কায়দা করে জানার চেষ্টা করেছে তারা সাইফের অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানে কিনা। শাশুড়িকে ফোন দিয়েছিল প্রথমেই। রাহেলা খুব অবাক হয়েছিলেন ছেলের বউয়ের কাছ থেকে ফোন পেয়ে। ছেলের তিন বছরের সংসার জীবনে তার স্ত্রী তাকে নিজে থেকে খোঁজ নেয়ার জন্য ফোন করেছে, এমন ঘটনা তার স্মৃতিতে নেই। সবসময় সাইফ কথা বলে, মাঝে মাঝে বোধ হয় জোর করেই বউকে ফোন ধরিয়ে দেয়৷ আর কথাবার্তাও কেমন উল্টাপাল্টা – কি জানি কী হয়েছে! মায়ের কাছে যায়নি সাইফ, অন্য আত্মীয়দের কথায়ও তেমন কিছু বুঝা গেল না। বাকি থাকল বন্ধু-বান্ধব। কিন্তু কারো নাম্বারই তো নেই ওর কাছে। ফেসবুকে সাইফের ফ্রেন্ডলিস্ট ধরে ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের সাথে যোগাযোগ করল। সাইফের চাকরি যাবার বিষয়টা জানে কেউ কেউ, কিন্তু নিরুদ্দেশ হওয়ার ব্যাপারে কিছু জানে না ওরা। শেষে উপায়ান্তর না দেখে নিজের এক পুলিশ বন্ধুকে ধরলো। বন্ধু প্রথমে ফোন পেয়েই খোটা দিলো “কি রে! এত দিনে ফোন দিলি, তাও তোর গামাইয়ের জন্য? আমাদের কথা কি মনেও পড়ে না?” এই ছেলেটা, নবীন, পছন্দ করত নবনীকে, সেই এইচএসসি পড়াকালীন এক কোচিংয়ে দেখা হওয়ার সময় থেকে। নিজেদের নামের মিল নিয়েও অনেক কাহিনি করেছে। এখন একে ফোন দিতে অনেক সঙ্কোচ লাগছিল নবনীর৷ কিন্তু আর কোনো ভাবেই সে সুবিধা করতে পারছিল না। সাইফ যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। ওর ফোনটা সবসময় বন্ধ থাকায় ফোন নাম্বার দিয়ে ট্রেস করা সম্ভব না। যেহেতু নিজে থেকেই গেছে, মিসিং কেসও হয় না। কেস না থাকলে মোবাইল কোম্পানিও তথ্য দিবে না কোনো। নবীন আবার ঠাট্টা করে বলল, “বাদ দে ওকে, এমনিতে তো বনে না তোদের।” ক্ষেপে গেল নবনী, “ফালতু কথা বলবিনা, আমার জামাইয়ের খোঁজ চাই আমি ব্যস!”
“আচ্ছা বাবা, আচ্ছা। আমি দেখছি কী করা যায়।”
চার-পাঁচ দিন পর নবীন জানাল, সাইফের ফোন বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকলেও এর মধ্যে দুই-তিনবার চালু করে একটা নাম্বারে কথা বলেছে। নাম্বারটা দিলো নবনীকে। যা ভেবেছিল তাই, শাশুড়ির নাম্বার। মায়ের সাথে ঠিকই যোগাযোগ রেখেছে, আর বউ? বউ তো কেউ না। নাম্বার ট্রেস করে সাইফের অবস্থান জানা গেল। কিন্তু নবনীর জানামতে মুন্সিগঞ্জে তো সাইফের কেউ থাকে না। ওখানে কেন গেল, সে হিসাব ও কোনোভাবেই মিলাতে পারল না।
বাবার গাড়িটা না নিয়ে এক বান্ধবীর গাড়ি ড্রাইভারসমেত ধার করল নবনী। মাকে বলল এক বান্ধবীর বিয়েতে যাচ্ছে মুন্সিগঞ্জ। মুন্সিগঞ্জ আগে কখনও আসেনি নবনী। ম্যাপ ফলো করতে তেমন পটু নয় সে। আর ড্রাইভারটা তো কিছুই বুঝে না, গবেট একটা! বেশ ঝামেলাই হলো গন্তব্যে পৌঁছাতে। তার উপর সদরের পর থেকে ঐ গ্রামে যাওয়ার রাস্তাটা এত বাজে! গ্রামে এসে পৌঁছাল যখন, দুপুর গড়িয়ে বিকেল হচ্ছে প্রায়। সূর্যের তেজটা কমে এসেছে। সুন্দর একটা সোনালি আভা চারিদিকে। নবনী একটা ছেলেকে ডেকে সাইফের ছবি দেখাল। ছেলেটা পাঁচ খাঁচি ডিম নিয়ে কোথায় যেন যাচ্ছিল। সাইফের ছবি দেখে সব কয়টা দাঁত বের করে হাসি দিয়ে বলল, “ও সাইফ স্যারের কাছে আইছেন? আপনি কি স্যারের পরিবার? আসেন আসেন।” নবনীকে একটা টিনশেডের ঘরের সামনে দাঁড় করিয়ে ছেলেটা দৌড়ে কোথায় চলে গেল। টিনের তৈরি দোতলা ঘর, এই এলাকার বৈশিষ্ট্য এটা, এমনকি তিনতলা ঘরও হয়। ।
পশু ডাক্তার এসেছেন। তাকে নিয়ে পুরো খামারের পশুপাখিদের চেকআপ করাচ্ছিল সাইফ। ইদানিং রাণীক্ষেত রোগের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। গৃহস্থ খামারগুলোতে বেশ কিছু মুরগি মারাও গেছে শুনেছে তারা। তাই আগেভাগেই চেকআপ করিয়ে নিচ্ছে। সাইফ এখন এখানের জীবন যাত্রার সাথে পুরোপুরি মিশে গেছে। হাঁস-মুরগির খামারে কাজ শেষ করে গোয়ালের দিকে যাবে, এমন সময় রফিক দৌড়াতে দৌড়াতে এসে খবর দিল, “স্যার, ম্যাডাম আইছে। জলদি যান।” ভ্রু কুঁচকে গেল সাইফের, “ম্যাডান আবার কে?”
“আরে ম্যাডাম হইল আপনার হোম মিনিস্টার, যান৷ খুঁজতাছে আপনারে। ডাক্তার সাহেবের লগে আমি আছি।”অস্ফুটে মুখ থেকে নবনীর নাম বের হলো। কিন্তু নবনী এখানে আসবে কীভাবে? ঠিকানা পাওয়ার তো কোনো উপায়ই নেই। দ্রুত পায়ে নিজেদের টিনশেডের আস্তানার দিকে হেঁটে যাচ্ছে সাইফ। ক্রমশ একটা নারী অবয়ব চোখের সামনে ফুটে উঠছে। হালকা সবুজ রঙের একটা শাড়ি পরা, বেণি করা লম্বা চুল ঘাড়ের একপাশে এনে রাখা। মেয়েটা ওর দিকে পিছন ফিরে ওদের ঘরটা দেখছে। নবনী এখানে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই জেনেও মনের মধ্যে একটা ক্ষীণ আশা জেগেছিল প্রিয় মুখটাকে এতদিন পর একবার দেখার। এ কয়দিন দিনে কয়েকবার ফোন চালু কিরে দেখেছে নবনীর কয়টা মিসড কল আছে দেখার জন্য। মেসেজ বক্সটাও বার বার চেক কিরেছে, কিন্তু কোনো মেসেজ পাঠায়নি নবনী। ফোনের সংখ্যাও দিন দিন কমেছে। এক মন বলছে তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটি তার স্ত্রী নবনী, কিন্তু বাস্তব চিন্তা বলছে ভিন্ন কথা। প্রথমত নবনী শাড়ি পরতে পছন্দ করে না একদমই, অথচ সাইফের খুব পছন্দ শাড়ি। এ নিয়েও কম মন কষাকষি হয়নি তাদের। দ্বিতীয়ত এবং প্রধানত, নবনীর চুল ছোটো, কাঁধ পর্যন্ত। সাইফ অনেক অনুরোধ করেও তার চুল লম্বা করাতে পারেনি। এত বৈপরীত্য নিয়ে তারা দু’জন কীভাবে একে অপরের প্রেমে পড়েছিল কে জানে!
বিকেল বেলার সোনালি আলো পড়ছে মেয়েটার চুলে, মুখের বামপাশে৷ সাইফ ধীরপায়ে এগিয়ে গেল। মেয়েটাও ঠিক তখনি ঘুরে তাকাল। নবনী! নবনী কয়েক কদম এগিয়ে এসে সাইফের গালে হাত রাখল। অনিয়মিত দাড়ি কামানোর ফলে গাল ভর্তি খোঁচা খোঁচা দাড়ি। এমনি এক চেহারা নিয়ে একদিন নবনীকে প্রেম নিবেদন করেছিল সাইফ। সাইফ তার চোখজোড়া বন্ধ করে ফেলল। সত্যিই কি নবনী এসেছে? নাকি চোখ খুললেই দেখা যাবে সব কল্পনা? নবনী খুব কাছে এসে বলল, “আমাকে ডিভোর্স দিবে তুমি? এত্ত সহজ?” সাইফ চোখ মেলল, নবনীর মুখটা খুব কাছে। জিজ্ঞেস করল, “তোমার চুল লম্বা হলো কী করে?” “আলগা চুল লাগিয়েছি।” ছোটো করে নিঃশ্বাস ছাড়ল সাইফ, এই সহজ কথাটা তার মাথায় আসেনি। আবার জিজ্ঞেস করল, “এখানে কেন এসেছ?” “নিজের সংসার বুঝে নিতে।”
“এখানে তোমার কোনো সংসার নেই। আমি আগে সামান্য কিছু বেতন পেতাম, এখন তাও পাই না। পুরোদস্তুর খামারি বনে গেছি।”
সাইফের গালে হাত বুলাতে বুলাতে নবনী বলল, “হুম, তাই তো দেখছি। গা থেকে হাঁস-মুরগির গন্ধ আসছে। গোবরের গন্ধও আছে। ছি!”
“তাহলে?”
“তাহলে কী?”
“সময় নষ্ট করছ কেন?”
“কে সময় নষ্ট করছে?”
“তুমি।”
নবনী হেসে বলল, “না, আমি না তুমি। সেই কখন থেকে দাঁড়িয়ে আছি। একটু বসার জায়গাও না, এক গ্লাস পানিও না, একটা চুমুও না।” কপট অভিমানের সুর নবনীর কণ্ঠে।
সাইফ ওর গালে রাখা নবনীর হাতটার উপর নিজের হাতটা চেপে ধরে বলে, “দু’দিনেই হাঁপিয়ে যাবে তুমি।”
“গেলে যাব, তখন আবার বাপের বাড়ি যাব। এরপর ওখানে হাঁপিয়ে গেলে আবার এখানে আসব।”
“এভাবে কতদিন? এভাবে কি সংসার হয়?”
“সংসার না হোক, ভালোবাসা তো হয়। কত মানুষই তো সংসার করছে, আমরা না হয় একটু ছন্নছাড়াই হলাম।”সাইফ নবনীর চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে আছে সরাসরি। পাগলাটে এই মেয়েটাকে না বলার ক্ষমতা তার কোনোকালেই ছিল না, আজও নেই। বিকেলের সোনালি আলোতে নবনীর মুখটা অদ্ভুত সুন্দর দেখাচ্ছে। এই আলোকেই কি কনে সুন্দর আলো বলে? নবনীর কপালে কপাল ঠেকাল সাইফ। হলোই না হয় একটা ছন্নছাড়া জীবন। সংসার না হোক, ভালোবাসা তো হলো।
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 17 November 2022 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 25 August 2023 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 27 May 2024 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 08 March 2025 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 01 April 2026 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
Friends
ভাস্কর
@vaskarchou
Prithula Zaman
@prithula
AdabenTatali
@adabentatali
Sharbanam Gupta
@sharbanam-gupta
অভিমানী মন
@ovimanimon
তুলট ডেস্ক
@toulot
চাঁদ সদাগর
@chand_sodagor
Latifur Rahman Pramanik
@latifur-rahman


চমৎকার একটা লেখা ধারাবাহিক ভাবে পড়লাম। সুন্দর। অভিনন্দন জানাই। আরো লেখা চাই।