-
My glorious brothers :নিপীড়ক জায়নবাদী নয় ,নিপীড়িত ইহুদীর ইতিহাস
মধ্যপ্রাচ্যে সম্প্রসারণবাদী- জায়নিজ ইস্রায়েল রাষ্ট্রের ভূমিকার ফলশ্রুতি – ইহুদী আর দখলদার সমার্থক মনে হয়, অন্তত আমাদের এই অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষের কাছেতো অবশ্যই। প্রায় প্রতিদিনই ইস্রায়েল ফিলিস্তিনের নতুন জায়গা দখল করছে, আবালবৃদ্ধবনিতা হয় কাঁদুনে গ্যাস নতুবা বুলেটের ঘায়ে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে। জায়নবাদ প্রতিষ্ঠায় নিষ্ঠাবান ইসরাইল রাষ্ট্র আর তার সরকার রক্তক্ষরণ ঘটিয়ে চলেছে। এই ভূমিকা স্বভাবতই ইহুদীদের প্রতি নেতিবাচক ধারণাই বদ্ধমূল করছে। জায়নবাদী নিপীড়ক ইহুদী (!) এই রাষ্ট্র একদা নিপীড়িত, রাষ্ট্রহীন ইহুদীদের বিপরীতেই অবস্থান করছে। যারা একসময় মিশরে দাস ছিল, পরবর্তীতে একটি স্থায়ী ঠিকানার জন্য বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে বেরিয়েছে, রোমান- গ্রীসের হাতে বিতাড়িত -নিহত- লাঞ্ছিত হয়েছে তাদের ধর্মের নামধারীরাই আজ নিপীড়ক, উদ্ধত সঙিন হাতে বিতাড়িত আর রাষ্ট্রহীন করে চলেছে ফিলিস্তিনীদের। ইতিহাসের উপহাস।(!)
হাওয়ার্ড ফাস্টের “My glorious brothers” আজকের জায়নবাদীদের নয়, যুডাইজম ধারণকারী যুগযুগ ধরে লাঞ্ছিত ইহুদীদের প্রতিরোধ- বীরত্ব-ত্যাগের আখ্যান। ইহুদী জাতির সুদীর্ঘ ইতিহাসের একটি পর্বের আধারে রচিত। এর উৎস বাইবেলে বর্ণিত কাহিনী। ফলে নতুন কোন ঘটনার সমাবেশ নয় এই উপন্যাস, নতুনত্ব উপস্থাপনে, লেখার পিছনে ক্রিয়াশীল চিন্তাতে। চিন্তাটি সপর্কে পরিচিত করে দেয় মূল বইয়ে ভূমিকার কয়েকটি লাইন, যেখানে লেখক লিখছেন “…… আমি সেই কাহিনীই নতুন করে বলবার চেষ্টা করেছি, কারণ আমার বিশ্বাস, আজকের এই অশান্তি ও তিক্ততাময় যুগে মানবজাতির সুপ্রাচীন মতাদর্শতার কথা স্মরণ করার আবশ্যক ও উপযোগিতা আছে। এই কাহিনী বলার ফলে যেটুকুই উপকার হোক না কেন, তার জন্য আমি বইয়ে উল্লেখিত প্রাচীন বিস্ময়কর জাতির কাছে ঋণী। কারণ নিজেদের ধর্ম,জীবনধারা আর দেশপ্রেমের মধ্যদিয়ে তাঁরা এই অপূর্ব নীতিকথার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যে, অত্যাচার প্রতিরোধ করা পরম ভগবৎ নিষ্ঠার সামিল।“।(অনুবাদ- প্রফুল্ল চক্রবর্তী)। ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায়ে মানুষের মহৎকর্ম আগামীর ইতিহাস রচনায় সহায়ক, একটি বীরকর্মের উদাহরণ আরেকটি বীরকর্মের অনুঘটক , ত্যাগের দৃষ্টান্ত আরো বৃহৎ ত্যাগের অনুপ্রেরণাদায়ী। লেখকেরএই উপন্যাস ইতিহাসের আলোকে অত্যাচারিত মানুষদের পথ দেখানোর প্রচেষ্টা।
উপন্যাসের সময়কাল খৃস্টপূর্ব দেড়শ শতক। মিশর থেকে প্রত্যাগত মধ্যপ্রাচ্যের ইহুদীরা এই উপন্যাসের প্রধান পাত্র-পাত্রী। উপন্যাসের প্রায় সমগ্র অংশ্যই উত্তম পুরুষে রচিত। সাইমন এখানের বক্তা। তাঁর ভাষ্যেই আমরা জানতে পারি তাঁর ভাই জুদাসের নেতৃত্বে একদল কৃষক যারা ইহুদী ধর্ম অনুসারী, গ্রীসের শাসকদের বিরুদ্ধে লড়েছিল অসম সাহসের সাথে। জুদাস পথপ্রদর্শক, নেতা, একজন ম্যাক্কাবি। এই ম্যাক্কাবি কোন রাজা বা তার সমগোত্রীয় কিছু নয় কারণ ইহুদী সমাজ রাজাদের সমস্ত দুর্দশার মূল বলে মনে করে তাই ইহুদী সমাজ রাজা পদটিকে অস্বীকার করে ( যুগের নিরিখে এই চিন্তা বিস্ময়কর)। ম্যাক্কাবি হল জনগণের ভিতর হতে জনগন নির্বাচিত ব্যক্তি। তিনি জনগণের শাসক নন, জনগণেরই অংশ। প্রয়োজনই ম্যাক্কাবি সৃষ্টি করে। কি ছিল সেই প্রয়োজন? প্রতিরোধের আগেও জুদিয়ার ( উপন্যাসের ঘটনা প্রবাহে স্থান, যা গ্রীস দ্বারা দখলকৃত) ইহুদীরা গ্রীসের শাসকদের প্রতনিধি এবং ভাড়াটে দ্বারা নিগৃহীত হত। তখন পর্যন্ত একমাত্র একেশ্বরবাদী ধর্মের অনুসারী হওয়ায়, গ্রীসের পৌত্তলিক শাসক এবং তাদের বংশবদ দ্বারা অত্যাচার হওয়া ছিল নিয়মিত ঘটনা। সাধ্যের অতীত কর ধার্য্য করে এই অঞ্চলের ইহুদীদের জীবন ক্রমাগত কঠিন করে তুলছিল। তবুও ইহুদীদের মধ্যে থেকে কোন প্রতিবাদ উঠেনি। তাঁরা নিজেদের পেশা এবং ধর্মীয় বোধ নিয়ে জীবন যাপন করছিলো। কতগুলো নীতি আবশ্যিক পালনীয় ছিল- যেমন প্রতি সপ্তম দিনে তারা পবিত্র দিন হিসেবে পালন, একাধয়ারে কোন জমি ছয় বছর চাষ করার পর সপ্তম বছর অনাবাদী রাখা, সাত বছর দাসকে মুক্ত করা ইত্যাদি। তাদের এই ধর্মীয় বশ্বাস তারা নিষ্ঠার পালন করে যাচ্ছিল নিষ্ঠার সাথে। যেকোন যুদ্ধের তারা বিরোধী তাদের কোন সৈন্যবাহিনী ছিল না ( আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত ইসরাইলি সৈন্যের কথা ভাবুন একবার), তাদের রাজ্যে কোন সীমানা প্রাচীর ছিল না.( ভাবুন ইসরাইলি কাটাতারের সীমানার কথা)। এই মৌলিক।বিশ্বাস আর। আচরণ নিয়ে তারা নিজেদের স্বকীয় করে তুলেছিল সমকালীন অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী থেকে। এই স্বকীয়তাকে হেলেনীয় করাকে দখলদার গ্রীসের সম্রাট এবং তার প্রতিনিধিরা পবিত্র কর্তব্য বলে মনে করেছিল। তাদের চিন্তায় এ ছিল অসভ্য ইহুদী জাতিকে সভ্য করা( যেমনটি সকল সাম্রাজ্যবাদীই মনে করে)। এই হেলেনীয়করণের বিরুদ্ধে ইহুদীদের নীরব প্রতিরোধ ছিল যা গ্রীস সম্রাটের পছন্দ হয়নি। ফলে তারা ইহুদীদের ধর্মীয় স্থান সিনাগগকে, অপবিত্র করে তাদের ধর্মীয় বই পুড়িয়ে দেয়। এতদিনের নীরব প্রতিরোধ এই ঘটনার প্রকাশ্য রূপ নেয়। যে ইহুদিরা এতদিন ছিল যুদ্ধবিরোধী তারা এইবার অস্ত্র তুলে নেয় শক্তিশালী গ্রীস সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে। নেতা হিসেবে সামনে আসে জুদাস, জনগণের নির্বাচিত ম্যাক্কাবি। এই প্রতিরোধ চলে ত্রিশ বছর, জুদাস শহীদ হয়। কিন্তু আত্মদান বৃথা যায় না। ইহুদীদের সাথে সন্ধি করতে বাধ্য হয় শক্তিশালী গ্রীস, ইহুদীরা ফিরে পায় স্বকীয়তার অধিকার।
প্রতিরোধের এই ইতিহাস আজো প্রাসঙ্গিক। দখলদার কর্তৃক মানবতার অপমান চলছেই। তাই প্রতিরোধের বিকল্প নেই।আবার এটিও মনে রাখতে হবে জুডাইজম এবং জায়নবাদ এক না হলেও জুডাইজমকে যখন রাজনৈতিক এবং রাষ্ট্রীয় রূপ দেয়া হয় তখনই আসে জায়নবাদ। একসময় যে জুডাইজম ছল দখলদারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রেরণা, রাজনৈতিক রূপ নিয়ে সেটাই হয় জায়নবাদ, দখলদারের হাতিয়ার।3 Comments
Friends
ভাস্কর
@vaskarchou
Prithula Zaman
@prithula
AdabenTatali
@adabentatali
Sharbanam Gupta
@sharbanam-gupta
অভিমানী মন
@ovimanimon
তুলট ডেস্ক
@toulot
চাঁদ সদাগর
@chand_sodagor
Sayed Mahmud
@sayed-mahmud


I want legible. Good luck