<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/kabir-hasanur/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/kabir-hasanur/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর.</description>
	<lastBuildDate>Thu, 17 Sep 2026 06:09:33 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">a88132333b49cb39a73b0f8a6818cb38</guid>
				<title>শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর and অনিক ভট্টাচার্য্য are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/108032/</link>
				<pubDate>Wed, 04 May 2022 19:15:18 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6583e805263d4b246d1c517d1ba3acdd</guid>
				<title>শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর and নিশাত আনজুম are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/107477/</link>
				<pubDate>Tue, 26 Apr 2022 23:55:31 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8ed9af16f015e12f6db09fbac1415e3b</guid>
				<title>ইচ্ছে ও মধ্যবিত্ত জীবন
-শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর

আমার আর এখন কোনো ইচ্ছে নেই
কেননা আমাদের মতন মধ্যবিত্তের
কোনো ইচ্ছে থাকতে নেই;
জীবনের সব ইচ্ছেগুলো তাই বেচে দিয়েছি
দুবেলা দুমুঠো ভাতের বিনিময়ে।
আমাকে তাকিয়ে দেখো,
আপাদমস্তক একজন নীলরক্তের উত্তরপুরুষ
আজ কেবলই অন্নদাস!
যে নিভাঁজ শরীর থেকে একদিন
কস্তুরির সুঘ্রাণ ছড়াতো,
যে পৌরুষের কাছে হেরে যেতো
পাড়ার সবচেয়ে সুন্দর মেয়ে
নির্মলার ভালোবাসার নিমন্ত্রণ;
আজ সেই আমি দশটা-পাঁচটা অফিস সেরে
ঢাকার বাসে বাদুরঝোলা ঝুলতে ঝুলতে
শ্রান্ত দেহে ঘরে ফিরি।
আমার কোনো স্বপ্ন নেই
স্বপ্নগুলো মরে গেছে অযত্ন অবহেলায়;
এখন আমি স্বপ্নহীন হাভাতে এক ভিন্ন মানুষ।
অথচ, একদিন কি ভীষণ ইচ্ছে ছিলো!
অসীম শূন্যতা ঘিরে ছিলো স্বপ্নের ঘর-গেরস্থালি-
আটপৌরে লক্ষ্মী বৌ
একটি সাদামাটা জীবন
দিনশেষে নীড় সন্ধানী পাখির মতন ঘরে ফেরার ব্যাকুলতা।
তারপর পরিবর্তনের হাত ধরে সময় গড়িয়েছে বহুদূর
ক্লান্ত দেহে ধুকে ধুকে পেরিয়েছি অনেকটা পথ,
গাঁয়ের পাশের সেই খরস্রোতা কংসও
ঠিক আগের মতন নেই,
শ্যাওলা আর জলজের ভাগাড়ে থেমে গেছে তার মত্ততা।
নির্মলার ভালোবাসাও ফিকে হয়ে গেছে
লাল নীল হলুদ নিয়ন আলোর শহরে।
তবু এই শেষবেলায় ইচ্ছেগুলো ফিরে পেতে
নতুন করে স্বপ্ন সাজাই, ঘর বাঁধি-
কামনার আগুনে পুড়ে পুড়ে নিঃশেষ হয়ে
বুকের গহীনে অকারণ ইচ্ছেগুলো জাগিয়ে তুলি নিরবধি।

শিমুল মুস্তাফার কণ্ঠে কবিতাটির আবৃত্তি শুনতে নিচের লিঙ্কে প্রবেশ করুন: https://fb.watch/cyq0HedrgQ/</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/105745/</link>
				<pubDate>Sun, 10 Apr 2022 23:08:18 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ইচ্ছে ও মধ্যবিত্ত জীবন<br />
-শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর</p>
<p>আমার আর এখন কোনো ইচ্ছে নেই<br />
কেননা আমাদের মতন মধ্যবিত্তের<br />
কোনো ইচ্ছে থাকতে নেই;<br />
জীবনের সব ইচ্ছেগুলো তাই বেচে দিয়েছি<br />
দুবেলা দুমুঠো ভাতের বিনিময়ে।<br />
আমাকে তাকিয়ে দেখো,<br />
আপাদমস্তক একজন নীলরক্তের উত্তরপুরুষ<br />
আজ কেবলই অন্নদাস!<br />
যে নিভাঁজ শরীর থেকে একদিন<br />
কস্তুরির সুঘ্রাণ ছড়াতো,<br />
যে পৌরুষ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-105745"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/105745/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">52757d5704a96d9a0fb6dc46a34ad49b</guid>
				<title>শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর and ISMAT JAHAN LIPI are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/101686/</link>
				<pubDate>Sun, 20 Mar 2022 20:23:02 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">65913b8d222d4bf9425ea6caf1b9a3da</guid>
				<title>“স্কুলের পাশেই ছিলো গুণবতীদের বাড়ি। গগন ঠাকুরের ছোট মেয়ে গুণবতী। গুণবতীর কোনো গুণ না থাকলেও রূপের আগুন ছিলো জ্বলসে দেবার মতন।”
দাগ
( ছোটগল্প )
-শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর
গল্পগ্রন্থ: কৃষ্ণতিথি
অনেকদিন পর আব্বাছকে দেখে চমকে ওঠলাম। ওর কোটরাগত চোখে-মুখে সীমাহীন বিষন্নতার ছাপ। ময়মনসিংহ স্টেশনে আব্বাছ লোকাল ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলো। আমিও সেদিন জমিজমার কাজে বাহাদুরাবাদ যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্টেশনে এসেছিলাম। স্টেশনের ওয়েটিং রুমের দিকে এগুতেই আব্বাছের সঙ্গে দেখা। আব্বাছ আমার ছেলেবেলার বন্ধু। কৈশোর আর যৌবনের দুর্দান্ত সময়গুলো আমরা একসাথে কাটিয়েছি। মুখোমুখি হতেই ভূত দেখার মতন আব্বাছ আমাকে দেখে থমকে দাঁড়ালো। তখন ঠিক দুপুর বেলা। স্টেশন প্রায় জনশূন্য। একজন অন্ধ ভিখারি করুণ সুরে একটানা একটা শ্যামা সঙ্গীত আদ্যোপান্ত গেয়ে যাচ্ছে-
মন রে কৃষিকাজ জানো না
এমন মানব জমিন রইলো পতিত
আবাদ করলে ফলতো সোনা।
কালী নামে দাও রে বেড়া
ফসলে তছরূপ হবে না,
সে যে মুক্তকেশীর শক্ত বেড়া
তার কাছেতে যম ঘেঁষে না।
অদ্য কিংবা শতাব্দান্তে
বাজাপ্ত হবে জানো না,
আপন একতারে মন রে
চুটিয়ে ফসল কেটে নে না।
গুরুদত্ত বীজ রোপণ করে
ভক্তি বারি সেঁচে দে না,
একা যদি না পারিস মন রে
রামপ্রসাদকে সঙ্গে নে না।
আব্বাছের সাথে আমার প্রায় কুড়ি বছর পর দেখা। ওর সাথে এভাবে দেখা হবে কখনো ভাবিনি। আমি বজ্রাহতের মতো আব্বাছের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলাম; সহাস্যমুখে হাত বাড়িয়ে দিয়ে একদমে অনেক কথা জানতে চাইলাম-
আব্বাছ তুই? কোথা থেকে এলি? একি হাল হয়েছে তোর? আব্বাছ সম্বিত ফিরে আমার দিকে নিরাসক্ত দৃষ্টিতে খানিক্ষণ চেয়ে থেকে তারপর বিষন্ন মুখে বললো-
মোকদ্দমার কাজে ময়মনসিংহ এসেছিলাম।
এটুকু বলেই আব্বাছ চুপ করে রইলো। আমার প্রতি আব্বাছের কোনো আগ্রহ দেখতে না পেয়ে আমি আর কথা বাড়ালাম না। ঘণ্টাখানেক বিলম্বের পর ট্রেন আসলো। দুজনেই ভিড় ঠেলে একই কামরায় মুখোমুখি আসনে বসে বাহাদুরাবাদ অভিমুখে যাত্রা করলাম।
বাহাদুরাবাদ হাই স্কুলে আব্বাছ আর আমি একই ক্লাসে পড়তাম। পড়াশোনায় ভীষণ অমনোযোগী থাকায় আব্বাছ স্কুলে প্রতিদিন শিক্ষকের হাতে বেদম মার খেতো; লাঞ্ছিত হতো। আব্বাছ নিরীহ গাধার মতন সমস্ত অসম্মান মাথা বুঝে সহ্য করতো। পড়াশোনায় খুব একটা ভালো না থাকলেও গ্রামে ফুটবল খেলায় আব্বাছের বেশ সুনাম ছিলো। স্কুলের পাশেই ছিলো গুণবতীদের বাড়ি। গগন ঠাকুরের ছোট মেয়ে গুণবতী। গুণবতীর কোনো গুণ না থাকলেও রূপের আগুন ছিলো জ্বলসে দেবার মতন। বিকেলে আমরা যখন স্কুল মাঠে খেলতে যেতাম, গুণবতী তখন জানালার ধারে বসে আব্বাছের দিকে আগ্রহ ভরা চোখে তাকিয়ে থাকতো। এভাবে কখন যে গুণবতীর সঙ্গে আব্বাছের মন দেয়া-নেয়ার পালা চলছিলো তা আমরা আগে থেকে কেউ ক্ষুণাক্ষরেও টের পাইনি। একদিন আমাদের কাউকে কোনো কিছু না জানিয়েই রাতের আঁধারে আব্বাছ গুণবতীকে নিয়ে পালিয়ে গেলো। পরদিন গগন ঠাকুর বাদী হয়ে সদরে গিয়ে আব্বাছের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে এসে গ্রামে রটিয়ে দিলো, আব্বাছ তার কিশোরী মেয়েকে ফুসলিয়ে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। প্রায় মাস ছয়েক পর আব্বাছ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। আব্বাছ ভেবে ছিলো যতো কঠিন বিপদই আসুক না কেনো গুণবতী তার পাশে থাকবে; কিন্তু গুণবতী আব্বাছের সমস্ত বিশ্বাসকে পদদলিত করে তার বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দেয়। গুণবতীকে অপহরণের দায়ে আব্বাছের জেল হয়। সাত বছর জেলখাটার পর আব্বাছ গ্রামে ফিরে আসে। এসময় মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে আব্বাছও গ্রামের অন্যান্যদের সাথে যুদ্ধে যোগ দিয়ে ট্রেনিংয়ের জন্য ওপারে চলে যায়।
দেশ তখন সবেমাত্র স্বাধীন হয়েছে। চারদিকে থমথমে অবস্থা। বিভিন্ন নিষিদ্ধ সংগঠনের অত্যাচারে মানুষের প্রাণ প্রায় ওষ্ঠাগত। যুদ্ধফেরত আব্বাছের অবস্থাও তখন অনেকটা কোণঠাসা। আব্বাছ এ গুমট অবস্থা থেকে রেহাই পেতে গণবাহিনীতে নাম লেখায়। সাহস আর বেপরোয়ার কারণে অল্পদিনেই সংগঠনে তার অবস্থার উন্নতি ঘটে। একসময় খুনখারাবি আর নানা অপকর্ম করা আব্বাছের নেশা হয়ে দাঁড়ায়।
বিএ পাস করার পর জীবন-জীবিকার তাগিদে আমি ময়মনসিংহে চলে আসি। আব্বাছের সঙ্গে দেখা হয়নি অনেক দিন। তবে শুনেছিলাম প্রতিপক্ষের হামলায় কোনো রকমে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছে আব্বাছ। তারপন দীর্ঘদিন আর আব্বাছের কোনো খবর নেয়া হয়নি।
ট্রেন চলছিলো শম্বুকগতিতে। পাশাপাশি আসনে বসেও কোনো কথা হচ্ছিলোনা দুজনের মধ্যে। অবস্থাটা এমন, যেনো অপরিচিত দুজন আগন্তুক মুখোমুখি বসে আছি। নীরবতা ভাঙতে আমি উপযাচক হয়ে বললাম-
আব্বাছ, আমাকে চিনতে পেরেছিস? আমি যতিন। আব্বাছ আমার কথার কোনো উত্তর দিলোনা। কেবল ফেলফেল করে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো। পুনরায় প্রশ্ন করলে আব্বাছ বিরক্ত হয়ে বললো-
ভাই সাহেব, মাফ করবেন। আমি আপনাকে চিনতে পারছিনা।
আমি বেশ বিব্রত হলাম। খানিকটা কষ্টও পেলাম। কারণ আব্বাছ ছেলে বেলায় আমার খুব ভালো বন্ধু ছিলো। তাই হঠাৎ ওর এমন বদলে যাওয়া আমাকে সেদিন কষ্ট দিয়েছিলো খুব। আমি আর কথা বাড়ালাম না। ভাবলাম, অন্তরে কঠিন দাগ লেগে আস্তে আস্তে শক্ত হয়ে গেছে আব্বাছ, কিংবা দুঃসময়ে পাশে না পেয়ে অভিমানে আমাকে ভুলে থাকতে চাইছে হয়তোবা।
শেষরাতের দিকে ট্রেন এসে বাহাদুরাবাদ স্টেশনে থামলো। আমি আব্বাছের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ট্রেন থেকে নেমে এলাম। তারপর ঘাটে এসে নৌকায় চড়ে সারাটা পথ আব্বাছের কথা ভাবতে ভাবতে বিষন্ন মনে বাড়ি এসে পৌঁছলাম।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/101682/</link>
				<pubDate>Sun, 20 Mar 2022 19:47:52 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>“স্কুলের পাশেই ছিলো গুণবতীদের বাড়ি। গগন ঠাকুরের ছোট মেয়ে গুণবতী। গুণবতীর কোনো গুণ না থাকলেও রূপের আগুন ছিলো জ্বলসে দেবার মতন।”<br />
দাগ<br />
( ছোটগল্প )<br />
-শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর<br />
গল্পগ্রন্থ: কৃষ্ণতিথি<br />
অনেকদিন পর আব্বাছকে দেখে চমকে ওঠলাম। ওর কোটরাগত চোখে-মুখে সীমাহীন বিষন্নতার ছাপ। ময়মনসিংহ স্টেশনে আব্বাছ লোকাল ট্রেনের জন্য অ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-101682"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/101682/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0053fa65b20b9fb28aa3f924f5487a99</guid>
				<title>শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর and পৌষী পাল are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/93844/</link>
				<pubDate>Wed, 26 Jan 2022 15:41:44 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4a6f2fd178d47d31db4b33e6cb0a27f2</guid>
				<title>জীবন সায়াহ্ণে
(কবিতা)
-শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর

সুবেহ সাদেক কিংবা তারও একটু পরে 
মসজিদে মোয়াজ্জিনের কণ্ঠে যখন ধ্বনিত হবে-
‘ঘুম থেকে নামাজ উত্তম’, 
সুতরাং ঘুম ভেঙ্গে চলে এসো
চলে এসো হে যুবক, 
পৃথিবীর এ অনন্ত কারাগার ভেঙে
চলে এসো দ্যুতিময় প্রশান্ত জীবনের খোঁজে।

সেদিন হয়তো আমার 
অন্য আর সবদিনের মতো
থাকবে না ব্যস্ততা, 
থাকবে না সকালের সুখঘুমের ব্যাকুলতা।
আমার নিথর দেহ ঘিরে 
কেবলই প্রশ্ন মৃদু কোলাহল গুঞ্জন
পাড়া প্রতিবেশীর অহেতুক বাড়াবাড়ি 
সীমাহীন বন্দন।

দিকে দিকে বিজ্ঞাপিত হবে 
আমার বিদায়ের বারতা-
আপন জনের ত্রস্ত হাকাহাকি, 
শাড়ির আঁচলে মুখ ঢেকে 
প্রেয়সীর ক্রন্দন। 

অতঃপর, কবরে শায়িত মৃতদেহ ঘিরে 
একমুঠো কাঁচা মাটি হাতে 
শত সহস্র আগন্তুক সমস্বরে গেয়ে যাবে
স্রষ্টার প্রতিশ্রুত অমোঘ সংগীত-
‘মাটি থেকেই আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, 
মাটিতেই আমি তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেবো 
এবং মাটি থেকেই তোমাদেরকে পুনরায় বের করে আনবো’।

অথচ, সেই আমি এ সত্যকে ভুলে 
এতোটা বছর পেরিয়ে এলাম
একটি বারের জন্যেও ভেবে দেখিনি-
এ ঠুনকো জীবনের তরে কেনো গড়ি এতো উপমা?
কেনো এতো বেসাতি? 
কেনো অহেতুক দীর্ঘশ্বাস বিরহ প্রণয়ে?
জীবন সায়াহ্ণে এসে আজন্মের জিজ্ঞাসা আমার 
অজস্র বেদনা ক্ষত ভগ্ন হৃদয়ে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/84076/</link>
				<pubDate>Wed, 29 Dec 2021 19:54:49 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>জীবন সায়াহ্ণে<br />
(কবিতা)<br />
-শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর</p>
<p>সুবেহ সাদেক কিংবা তারও একটু পরে<br />
মসজিদে মোয়াজ্জিনের কণ্ঠে যখন ধ্বনিত হবে-<br />
‘ঘুম থেকে নামাজ উত্তম’,<br />
সুতরাং ঘুম ভেঙ্গে চলে এসো<br />
চলে এসো হে যুবক,<br />
পৃথিবীর এ অনন্ত কারাগার ভেঙে<br />
চলে এসো দ্যুতিময় প্রশান্ত জীবনের খোঁজে।</p>
<p>সেদিন হয়তো আমার<br />
অন্য আর সবদিনের মতো<br />
থাকবে না ব্যস্ততা,<br />
থাকবে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-84076"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/84076/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">5157e1350e8fbcdbe524464d42eedfb2</guid>
				<title>শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর and Fazilatun Nesa are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/58064/</link>
				<pubDate>Wed, 17 Nov 2021 17:38:04 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e70cadf2f9fac8b5eaf321aa38719aad</guid>
				<title>শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর and স্মৃতি রানী রত্না are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/57413/</link>
				<pubDate>Mon, 15 Nov 2021 19:10:51 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4a29baf3c2654813d580cab33541ba74</guid>
				<title>শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর and কাব্য are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/56989/</link>
				<pubDate>Mon, 15 Nov 2021 00:08:30 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ab288d607a8861c2353d7dbd7ad4de04</guid>
				<title>অন্তহীন উদ্বাস্তু
( কবিতা )
-শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর

আমাকে দিয়ে কিছু হবেনা-
এই ভেবে কলাবতী চলে গেল অন্য পুরুষের হাত ধরে; 
সেদিন নক্ষত্র খচিত রাতে কলাবতীর অখণ্ড সার্থপরতায় 
কষ্ট পেয়েছিলাম খুউব।
তারপর কেটে গেছে কয়েক যুগ,
ঘরহীন মানুষ আমি ঋতুচক্রে পাক খেতে খেতে 
চলে এলাম যৌবনের শেষ প্রান্তে। 
হঠাৎ খবর পেলাম দবির উদ্দিন দফাদারের কাছে- 
পাষণ্ড প্রেমিক ভালোবাসার ফাঁদে ফেলে
কলাবতীকে বেচে দিয়েছিল পাড়ার বিমলা মাসির কাছে।
লজ্জায় ঘৃণায় বীতশ্রদ্ধ জীবন থেকে মুক্তি পেতে
কলাবতী ঝাঁপ দিয়েছিল দুরন্ত ট্রেনের সামনে।
সুধাংশু নামে এক রেলকুলি ছুটে গিয়ে
পরম মমতায় বাঁচিয়ে দিয়েছিল তাকে।
দারুণ কৃতজ্ঞতায় কলাবতী জীবনের সর্বস্ব দায়ভার 
সঁপে দিয়েছিল সুধাংশুর হাতে।
মোক্ষম সুযোগ বুঝে একদিন সেও পালিয়ে গেল 
পৃথিবীর সমুদয় দেনাপাওনার হিসেব চুকিয়ে।
অচ্ছুত পল্লিতে কলাবতী এখন দস্তুর মতন দেহপসারিনী
কাউকে চিনতে আর তার বেগ পেতে হয়না,
ভালো-মন্দ সে বলে দিতে পারে খদ্দেরের বুকের ঘামের গন্ধ শুঁকে।
একদিন কলাবতীকে দেখতে ছুটে গেলাম বিমলা মাসির ঘরে
জিজ্ঞেস করলাম- কেমন আছে কলাবতী?
মাসি কোনো উত্তর দিলো না।
পুনরায় জিজ্ঞেস করলে বিরক্ত হয়ে বলল- কলাবতী আর নেই এখানে,
গলায় কলসি বেঁধে অভাগী জলে ডুবে মরেছে।
কত স্বাভাবিক গলায় কথাগুলো বলে গেলো মাসি,
যেন রাস্তার ধারের বেওয়ারিশ কুকুর সম্পর্কে জানতে চেয়েছি। 
বিষন্ন মনে আকাশের দিকে তাকালাম
অজস্র মেঘের পাহাড় সমস্ত আকাশ ব্যাপ্ত হয়ে আছে,
আর সে মেঘের পাহাড়ে লুকোচুরি খেলছে নবমীর চাঁদ।
ফেরার পথে ঝাপসা চোখে দূরে দেখলাম-
নদীর বুকে দাপাদাপি করছে একজোড়া সোনালি ডানার গাঙ চিল,
বুকের ভিতরটা গভীর বেদনায় কেমন হু হু করে উঠলো।
হয়তো কলাবতীর মৃত্যুতে এ বিশ্বচরাচরে কারো কিছু এসে যাবে না
হয়ত তার কষ্টকথা হাসি হয়ে উড়ে বেড়াবে সুসভ্য নাগরিক বাতাসে,
কেবল আজন্ম সংসারলোভী অন্তহীন উদ্বাস্তু আমি-
আকণ্ঠ জন্মবেদনা নিয়ে হেঁটে বেড়াবো পরিবর্তনহীন সেই পুরনো পথে।

https://www.facebook.com/100002966205465/videos/3613703475405157/                       ( প্রখ্যাত আবৃত্তিকার মাহিদুল ইসলাম মাহির কণ্ঠে কবিতাটির আবৃত্তি শুনতে লিংকটিতে ক্লিক করুন ) 
৥কবি ও কথাসাহিত্যিক শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর
শিক্ষক (বাংলা)
সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ
সাভার, ঢাকা।
ই-মেইল : hasanurscpsc@gmail.com</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/56349/</link>
				<pubDate>Sat, 13 Nov 2021 18:20:23 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অন্তহীন উদ্বাস্তু<br />
( কবিতা )<br />
-শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর</p>
<p>আমাকে দিয়ে কিছু হবেনা-<br />
এই ভেবে কলাবতী চলে গেল অন্য পুরুষের হাত ধরে;<br />
সেদিন নক্ষত্র খচিত রাতে কলাবতীর অখণ্ড সার্থপরতায়<br />
কষ্ট পেয়েছিলাম খুউব।<br />
তারপর কেটে গেছে কয়েক যুগ,<br />
ঘরহীন মানুষ আমি ঋতুচক্রে পাক খেতে খেতে<br />
চলে এলাম যৌবনের শেষ প্রান্তে।<br />
হঠাৎ খবর পেলাম দবির উদ্দিন দফাদারের কাছ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-56349"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/56349/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">72b231702d41d4aa252f90a60d079bcc</guid>
				<title>শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর and নাদেরা ফারনাছ শিমুল ( Nadara Farnash Shimul) are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/53219/</link>
				<pubDate>Sun, 07 Nov 2021 11:49:55 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f2e530f810a299c73ef2a7ed0a05e6eb</guid>
				<title>কৃষ্ণতিথি
( ছোটগল্প ) 
-শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর
অনেক চেষ্টা করেও রতনকে বাঁচানো গেলোনা। সুবেহ সাদেকের আগেই রতন ইহলোক ছেড়ে পরলোকের পথে যাত্রা করলো। রতনের বাবা কুসুমহাটি হাইস্কুলের হেডমাস্টার মহোদয় বুক ভরা আশা নিয়ে রতনকে গৌরীপুর থেকে ঢাকায় নিয়ে এসেছিলেন এই ভেবে যে, ছেলেকে উন্নত চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন; কিন্তু রতনের বাবার সে আশা আকাঙ্ক্ষাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে রতন চলে গেলো অনন্তের দেশে।  
রতন আর আমি একই স্কুলে পড়তাম। কুসুমহাটি হাইস্কুলে রতনের মতন ডানপিটে আর দ্বিতীয়টি ছিলোনা। পড়াশোনায় যেমন তুখোড় ছিলো রতন, তেমনি ছিলো খেলাধুলায় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও। স্কুলের কাব্যতীর্থ শিক্ষক রাধা নারায়ণ স্যার প্রতিদিন ক্লাসে ঢুকে রুটিনমাফিক প্রায় মিনিট দশেক রতনের প্রশংসা করতেন। রতনকে কাছে ডেকে নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে বলতেন-
আহা ! একটা হীরের টুকরো ছেলে বটে। জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাট, সবকাজেই সিদ্ধহস্ত আমাদের রতন।
বাস্তবিকই স্কুলে খুব সুনাম ছিলো রতনের। তবে অস্থির স্বভাবের কারণে হেডমাস্টার মহোদয় রতনকে এতপরিমাণে বকতেন যে, সে তুলনায় কাব্যতীর্থ স্যারের প্রশংসা ছিলো নস্যি।
ম্যাট্রিকে ভালো ফলাফল করায় গৌরীপুর ছেড়ে রতন আর আমি ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজে ভর্তি হলাম। আমরা একই মেসে থাকতাম। দুজনেই সাদামাটা জীবনে অভ্যস্ত ছিলাম, কিন্তু বছরখানিক না যেতেই রতন পরিবর্তনের সোঁতে গা ভাসিয়ে দিলো। অত্যন্ত মেধাবী হওয়ায় কলেজে রতনের বন্ধুর কোনো অভাব ছিলোনা। মাঝেমধ্যে রতন আমাকে ঠাট্টা করে বলতো-
সাজু, তুই পুরনোই রয়ে গেলি ! আমি ম্লান হেসে মাথা নেড়ে রতনের কথার জবাব দিতাম।
যতই দিন গড়াতে থাকলো, ততোই রতনের পরিবর্তনগুলো প্রকট হতে লাগলো। গভীর রাতে মেসে ফেরা, রাত জেগে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে দুপুর বারোটা অবধি ঘুমানো- এগুলো একসময় রতনের নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হলো। 
একদিন রতন আমাকে আগ্রহভরে বলল-
সাজু, আজ বিকেলে তোকে আমার সঙ্গে এক জায়গায় নিয়ে যাবো ভাবছি। সময় হবে তোর?
আমি বিনাবাক্যে রতনের কথায় সম্মত হলাম। আমার সম্মতি পেয়ে রতন বেশ খুশি হলো।    
বিকেলে রতন আমাকে নিয়ে রেললাইনের ধারে একটি খুপরির সামনে এসে দাঁড়ালো। রতনকে দেখে একজন মধ্যবয়সী স্ত্রীলোক খুপরি থেকে বেরিয়ে এসে ডানে-বাঁয়ে তাকিয়ে রতনের হাতে একটি কাগজে মোড়ানো পুটলি ধরিয়ে দিয়ে টাকা নিয়ে দ্রুত সরে পড়লো। স্ত্রীলোকটির আচরণ দেখে আমার মনে ভীষণ কৌতূহল জাগলো। অস্ফুটে জিজ্ঞাসা করলাম- 
গাঁজাটাজা ধরেছিস নাকি, রতন?
রতন আমার কথা শুনে ফিক্ করে হেসে দিলো। হাসি থামলে বলল-
নেশা বলতে এখনো গাঁজাকেই বুঝিস, তাই না সাজু?  
-এজন্যই তোকে বলি, আপডেট হ। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে শিখ। নইলে চিরকাল ভাঁটি অঞ্চলের সাজু হয়েই থাকতে হবে, বুঝলি?
আমি কথা বাড়ালাম না। রেললাইন ধরে নীরবে রতনের সঙ্গে হাঁটতে লাগলাম।
একটা নির্জন জায়গায় এসে পরিত্যক্ত রেললাইনের স্লিপারে বসে রতন পুটলিটি খুলতে খুলতে আমাকে বললো-
নেশার জগতে এটার আগমন একেবারেই নতুন বলতে পারিস। একবার খেলে ক্লান্তি তোর ধারের কাছে ঘেঁঘবে না। সারারাত জেগে পড়তে পারবি, সাজু।
রতনের কথায় আমি বিস্মিত হলাম। এ আমি কোন রতনকে দেখছি? ও কি সত্যিই কুসুমহাটি হাইস্কুলের  রাধা নারায়ণ স্যারের হীরের টুকরো ছেলে? 
নতুন আগন্তুক বিস্ময়কর বস্তুটি গ্রহণে রতনের আহ্বান আমি প্রত্যাখ্যান করলাম। দেখলাম, রতনের তাতে কোনো ভাবান্তর হলোনা। নেশা টেনে রতন বুঁদ হয়ে বসে রইলো। সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলে রতন আমাকে বিদায় দিয়ে স্টেশনের দিকে হাঁটতে লাগলো। মেসে ফিরে এসে ক্লান্ত শ্রান্ত শরীর বিছানায় এলিয়ে দিয়ে রতনের এরূপ কৃতকর্ম সম্পর্কে আমি আকাশ পাতাল ভাবতে লাগলাম।
দিনে দিনে রতনের মাদকাসক্তি বেড়েই চললো। কোনো রকম বুঝিয়েও রতনকে আসক্তি থেকে নিবৃত্ত করতে পারলাম না। ক্রমেই রতন অসহিষ্ণু ও হিংস্র হয়ে ওঠলো। রতন আমাকে শাসালো, এসব বিষয়ে যদি ওর মা বাবাকে বলি, তাহলে রতন আমাকে খুন করে ফেলবে। বস্তুত, ওর বাড়াবাড়ি চরমসীমায় গিয়ে পৌঁছেছিলো। 
পড়াশোনায় সাংঘাতিক অমনোযোগিতার কারণে সে বছর ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় রতনের ফলাফল বিপর্যস্ত হলো। আমি ইউনিভার্সিটিতে চান্স পেয়ে ঢাকায় চলে এলাম। রতনের খবর নেয়া হয়নি অনেকদিন। রতনকে একরকম ভুলেই গেলাম।  
হঠাৎ হেডমাস্টার মহোদয়ের ফোন পেলাম। হেডমাস্টার মহোদয় আমাকে ফোন দিয়ে রতনের অসুস্থতা এবং ঢাকায় নিয়ে এসে রতনকে হাসপাতালে ভর্তির কথা জানালেন। ব্যস্ততার কারণে রাতে আমি রতনকে দেখতে যেতে পারিনি। খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠেই রতনকে দেখতে গেলাম। হাসপাতালের ওয়েটিংরুমে হেডমাস্টার মহোদয় বসেছিলেন। আমাকে দেখে হাউ মাউ করে কেঁদে ফেললেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে হেডমাস্টার মহোদয় বললেন-
সাজু, সব কিছু শেষ হয়ে গেছে, বাবা! 
হেডমাস্টার মহোদয়ের কথা শুনে দ্রুত ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটে চলে গেলাম। সেখানে গিয়ে কর্তব্যরত ডাক্তারের কাছে জানতে পারলাম, দীর্ঘদিন মাদক গ্রহণ করার কারণে মারাত্মক লিভারসিরোসিসে ভুগছিলো রতন। অসুখটা একেবারে শেষ ধাপে চলে আসায় কোনো অবস্থাতেই আর তাকে ফেরানো গেলো না। 
রতনের লাশ গাড়িতে তোলা হলো। হেডমাস্টার মহোদয়ের সাথে আমিও গিয়ে বসলাম গাড়িতে। গাড়ি তুফানের গতিতে ছুটে চললো গৌরীপুর অভিমুখে। কুসুমহাটি হাই স্কুল মাঠে পৌঁছে গাড়ি থেকে নামানো হলো রতনের লাশ। জানাজা শেষে রতনদের বাড়ির পেছনে জারুল গাছের নিচে রতনকে সমাহিত করা হলো। কৃষ্ণতিথির মতোই আলো আঁধারের মধ্য দিয়ে রতনের জীবননাট্যের পরিসমাপ্তি ঘটলো। 
সবকিছু ছেড়েছুড়ে রতনের এই অকাল প্রয়াণ মেনে নিতে পারছিলাম না আমি। দারুণ কষ্টে ক্ষত-বিক্ষত হলাম। কিছুক্ষণ নিঃশব্দে রতনের কবরের পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। 
তারপর চোখের জলে ভিজে রতনকে বিদায় জানিয়ে রাতের ট্রেনে আবার ঢাকায় ফিরে এলাম।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/52749/</link>
				<pubDate>Sat, 06 Nov 2021 15:32:28 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কৃষ্ণতিথি<br />
( ছোটগল্প )<br />
-শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর<br />
অনেক চেষ্টা করেও রতনকে বাঁচানো গেলোনা। সুবেহ সাদেকের আগেই রতন ইহলোক ছেড়ে পরলোকের পথে যাত্রা করলো। রতনের বাবা কুসুমহাটি হাইস্কুলের হেডমাস্টার মহোদয় বুক ভরা আশা নিয়ে রতনকে গৌরীপুর থেকে ঢাকায় নিয়ে এসেছিলেন এই ভেবে যে, ছেলেকে উন্নত চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন; কিন্তু রতনের বাবা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-52749"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/52749/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c884ed5123df0592fa98401ced682dbe</guid>
				<title>শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর and Prity Karmakar are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/52714/</link>
				<pubDate>Sat, 06 Nov 2021 14:03:24 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a8128744657b17be52c539a54308bf5f</guid>
				<title>শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর and Namita Sarker are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/51335/</link>
				<pubDate>Tue, 02 Nov 2021 19:36:58 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0ae60d18ed451918553a5c2c438c7490</guid>
				<title>শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর and Konika Akter are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/49764/</link>
				<pubDate>Sat, 30 Oct 2021 18:38:00 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a26793f108def298dc375ba780b2d697</guid>
				<title>খণ্ডিতা
( ছোটগল্প )
-শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর

কোরবান আলীর নিরন্তর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আমিরন গলায় ফাঁস দিয়ে মরার সিদ্ধান্ত নেয়। কি হবে বেঁচে থেকে ? পুরুষ মানুষকে সে আর বিশ্বাস করেনা। পর পর দুই খসমের কাছ থেকে বিতারিত হয়ে কোরবান আলীকে নিকাহ করে মনের গহীনে জমে থাকা কষ্টগুলোকে মাটি চাপা দিয়ে সংসার করতে চেয়েছিলো আমিরন। সেই কোরবান আলীও যখন নিজের কলমা পড়া স্ত্রী আমিরনকে ছেড়ে বেগানা নারী ফুলভানুর রূপের আগুনে ঝলসে যায়, তখন নিজের ওপর প্রচণ্ড ঘেন্নায় অভিমানে জীবনের সব থেকে কঠিন পথটিই বেছে নেয় সে।

আমিরনের প্রথম বিয়ে হয়েছিলো শমসেরের সাথে। লাল মুলার মতন দেখতে ছিলো শমসের। গ্রামের সবাই বলতো, শমসের আস্তা একটা সাহেবের ব্যাটা ! নিদারুণ মন্বন্তরে নিঃস্ব কপর্দকহীন শমসেরের বাবা শমসেরকে অল্প বয়সে পেটে ভাতে কাজে লাগিয়ে দেয় বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের বিত্তশালী দলিল উদ্দীনের বাড়িতে। দলিল উদ্দীনের ছোট মেয়ে আমিরন তখন ষোড়শী। শমসেরকে আমিরনের ভালোলাগে। মন দেয়া-নেয়াও চলতে থাকে বেশ কিছুদিন। একদিন রাতে মেটে জোসনায় পুকুরঘাটে শমসেরের সাথে আমিরনকে নির্জনে কথা বলতে দেখে দলিল উদ্দীন রাগে টগবগ করতে থাকে। তারপর চেলা কাঠ দিয়ে বেদম পিটিয়ে গালিগালাজ করে বাড়ি থেকে বের করে দেয় শমসেরকে-
বিশ্যার ছাওয়াল ! চোখ খুঁইচে তুইলে ফেলবো, বেরো আমার বাড়ি থেইকে ! তোক যেনো আর এ গিরামে না দেখি। ফের আমার বিটির দিকে নজর দিলি তোক আমি বস্তায় ভইরে বিলের কাঁদায় পুঁইতে ফেলবানে !

শমসের হাতে পায়ে পড়ে ক্ষমা চাইলেও দলিল উদ্দীনের মন গলেনি। মারতে মারতে খালপাড় অবধি রেখে আসে শমসেরকে। দলিল উদ্দীনের এরূপ নির্দয় আচরণে খুব কষ্ট পায় আমিরন। আর তাই বাবার ওপর রাগ করে এক রাতে শমসেরের হাত ধরে নিরুদ্দেশ হয় সে। শমসেরকে নিয়ে বালিয়াডাঙ্গা গ্রাম ছেড়ে ট্রেনে করে চলে আসে খুলনার মোংলা ঘাটে। দূরসম্পর্কের এক মামাকে ধরে শমসের জাহাজের খালাসির কাজ নেয়। জেটির কাছেই আমিরন আর শমসের ছোট একটা হোগলার ঘর ভাড়া নিয়ে সুখের নীড় রচনা করে। 

সারাদিন শমসের হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে সন্ধ্যায় ঘাট থেকে ঘরে ফিরতো। ঘরে ফিরেই আমিরনকে না দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি জোরে দিতো। পাশের ঘরের ঘাট শ্রমিক আক্কাছের স্ত্রী জোছনা এ নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করতো। রঙ্গ করে বলতো-
ঐ মিয়া, বউ পাগলা হইছ বুঝি ? বউরে ছাড়া দেখি কিচছু বুঝনা। আহ্ হা রে, সাধের যইবন ভাটায় গেলো তোমার মতন রসিক একখান নাগর পাইলাম না !  
শমসের হাসতে হাসতে প্রত্যুত্তরে বলতো-
পাইলে কী করতা, ভাবি ? 
-গলায় ঝুইলে পইড়তাম !
-বোষ্টমী হইয়ে তাক নিয়ে দেশান্তর যাইতাম !
কথাগুলো বলতে বলতে হেসে গড়িয়ে পড়তো জোছনা। আমিরন এসে একগাল হেসে বলতো- 
বুবু, পুরুষ মাইনষেরে এতো বিশ্বাস করন ঠিক না। হেগোর ভালোবাসা হইলো গিয়া কচু পাতার পানি ! 

সত্যিই আমিরনের প্রতি শমসেরের ভালোবাসাও যে কচু পাতার পানির মতোই ক্ষণস্থায়ী হবে আমিরন তা গুণাক্ষরেও বুঝতে পারেনি। যখন বুঝতে পারলো, তখন আর আমিরনের করার কিছু ছিলোনা। আমিরনের বিশ্বাস আর ভালোবাসাকে ক্ষত-বিক্ষত করে শমসের একদিন আক্কাছের স্ত্রী জোছনাকে নিয়ে পালিয়ে গেলো। শমসেরের এমন নেমক হারামিতে বাক্-রুদ্ধ আমিরন বালিয়াডাঙ্গায় ফিরে যাবে বলে মনঃস্থ করে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর আমিরনের ফেরা হয়না। কারণ সে তার বাবা দলিল উদ্দীনকে চেনে। কেটে টুকরো করে গাঙের সোঁতে ভাসিয়ে দেবে, তবু তার মতো কুলত্যাগিনীকে ঘরে তুলবে না। 
বেঁচে থাকার তাগিদে আমিরন কাজ খুঁজতে থাকে মোংলা শহরের পথে পথে। সারাদিন ঘুরেও সে কোনো কাজের হদিস পায়না। কে তাকে কাজ দেবে ? এ শহর তার অপরিচিত। এ শহরে জানা শোনা কিংবা আত্মীয় পরিজন বলতেও তেমন কেউ নেই তার। তবে ঢাকায় আজগর নামে আমিরনের গ্রামের এক পড়শী আছে। তার কাছে গেলে নিশ্চই ফেলে দেবে না সে। অনেক ভেবেচিন্তে ভাতের লড়াইয়ে পরাজিত আমিরন জীবন-জীবিকার খোঁজে ভাসতে ভাসতে শেষ পর্যন্ত আজগরের দুয়ারে এসে নোঙর ফেলে। আমিরনকে দেখে আজগর প্রথমে বিরক্ত হলেও পরক্ষণেই কিনা কি ভেবে আমিরনকে আশ্রয় দিতে রাজি হয়। আজগর তার স্ত্রী কুসুমকে ডেকে মোলায়েম স্বরে বলে-
বউ, আমিরন গিরামের মানি ঘরের বিটি। বিপদে পইড়ে আমার কাছে আইছে। বিপদের দিনে একটা কুত্তেরেও কেউ তাড়ায়ে দেয়না। তাক থাইকবার না দিয়ে কি করি বউ, ক দিখিনে ?
কুসুম আজগরের কথার কোনো উত্তর দেয় না। কেবল নিরুত্তাপ শ্যেনদৃষ্টিতে আজগরের দিকে তাকিয়ে থাকে। 

আজগর আর কুসুম গার্মেন্টস কারখানায় কাজ করে। দুজনের বোঝাপড়ার সংসার, কিন্তু সংসারে হঠাৎ অপ্রত্যাশিত সোমত্ত আমিরনের উপস্থিতি কুসুম মেনে নিতে পারেনা। তাছাড়া আমিরন আসার পর থেকেই আজগরের চলাফেরাও খুব সুবিধার মনে হয়না কুসুমের। ইদানিং আজগর নানা ছুতোয় অফিস কামাই দেয়। আমিরনের জন্য চাকরি খোঁজার নাম করে সারা দিন আমিরনকে নিয়ে টই টই করে শহরময় ঘুরে বেড়ায়। সুযোগ পেলেই আজগর আমিরনের কাছে ভেড়ার চেষ্টা করে। আমিরনের কচি লাউয়ের ডগার মতন নয়ালি যৌবন আজগরকে অন্ধ করে দিয়েছে। আর তাই আজগর সমাজ-সংসারের সকল রীতি-নীতিকে তোয়াক্কা না করে আমিরনকে একান্ত করে পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে। মাঝে-মধ্যে রাত-বিরাতে কুসুম ঘুমিয়ে পড়লে আজগর ক্ষুধার্ত বাঘের মতন আমিরনের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। দিন গড়াতে থাকে। আজগর আমিরনকে সারা জীবন সুখে রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়। আমিরনের সাথে আজগরের অদৃশ্যসম্পর্ক বিশ্বাস আর ভালোবাসার বাঁধনে গাঢ় থেকে গাঢ়তর হতে থাকে। একসময় আমিরন টের পায় সে অন্তঃসত্ত্ব। সন্তান নষ্ট করতে আমিরনকে চাপ দেয় আজগর। আমিরন তাতে রাজি হয় না। কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে আমিরনকে নিয়ে পালিয়ে যায় আজগর। বিয়ে করে ঘর বাঁধে। কিছুদিন না যেতেই ফুটফুটে এক কন্যা সন্তানের জন্মদেয় আমিরন। সন্তানের নাম রাখে অশ্রু। নিদারুণ দুঃসময়ে তার জন্ম। তাই অশ্রু নামটি মন্দ হয়নি। আজগর আবার নতুন করে কারখানায় কাজ শুরু করে। আমিরন সারাদিন সংসার সামলায়। কোনো রকমে নিরুৎসব নিরানন্দভাবেই তাদের দিন কেটে যায়। এভাবে বেশ কয়েক বছর পার হয়। একদিন কোনো কিছু না বলেই আজগর আমিরনকে ফেলে রেখে নিরুদ্দেশ হয়। অনেক চেষ্টাতেও আজগরকে আর খুঁজে পাওয়া যায়না।

আমিরন নির্দয় ঢাকা শহরে কচুরি পানার মতন ভাসতে থাকে। সে তার নিজের জন্য ভাবে না। তার সকল ভাবনা কেবল মেয়ে অশ্রুর জন্য। আমিরনের দুঃখ দেখে প্রতিবেশি ফুলভানু তাকে পরামর্শ দেয় কিছু করার, কিন্তু কি করবে সে ভেবে পায় না। অবশেষে ফুলভানু একদিন আমিরনকে বলে-
ভাউজ, চলো তোমারে এক যায়গায় লইয়া যাই। কামে লাগাইয়া দেই, মেলা টেহা পাইবা। তোমার সংসারে আর অভাব থাকবো না।
আমিরন আগ্রহভরা কণ্ঠে বলে-
কোনঠে নিয়ে যাবে, বোন ? কী কাজ, কও দিখিনে ?
ফুলবানু দুর্বিনীত হাসি হাসে। হাসি থামলে গলাকেশে বলে-
অহন কমু না, ভাউজ। আগে আমার লগে চলো। তোমার মাইয়্যারে নিয়া চিন্তা করন লাগবো না, ওরে আমার খালার কাছে রাইখ্যা যামু।

অভাবের তাড়নায় ফুলভানুর প্রস্তাবে রাজি হয় আমিরন। পরদিন সকালে ফুলভানু আমিরনকে একটা অচেনা যায়গায় নিয়ে আসে। সেখানকার লোকগুলোর চাহনি অসহ্য ঠ্যাকে আমিরনের। কিছু বুঝে ওঠবার আগেই মোটা মতন একটা লোক প্রায় জোর করে আমিরনকে ঘরের ভেতর নিয়ে যায়। প্রায় আধ-ঘণ্টা পর লোকটি চলে গেলে আরেকজন আসে আমিরনের কাছে। এভাবে সন্ধ্যা অবধি চলতে থাকে। শরীরে অসহ্য যন্ত্রনা নিয়ে আমিরন রাতে ঘরে ফিরে আসে। আমিরনের অন্তহীন উপদ্রুত জীবন এভাবেই চলতে থাকে। 

বছরখানেক পর আমিরনের বেদনা ভারাক্রান্ত জীবনের যবনিকা দূর করতে আসে অন্য আরেক পুরুষ। তার পাশের গ্রামের আয়ুব ব্যাপারীর ছেলে কোরবান আলী। কোরবান আলী ঢাকায় অটোরিকসা চালায়। থাকে আমিরনের পাশের ঘরেই। আমিরনকে তার খুব ভালো লাগে। বিয়ে করার প্রলোভন দেখায়। টোপ ফেলে। আমিরনের খোয়াব বাসনা উষ্কে দেয়। কোরবান আলীর অল্প দিনের ব্যবধানে দুটি বউই চলে গেছে পরপারে। তাই ভগ্নহৃদয় কোরবান আলীর প্রস্তাব আমিরন ফেলতে পারেনা। কোরবান আলীকে বিশ্বাস করে পুনরায় কলমা পড়ে নতুন জীবন শুরু করে আমিরন।

প্রথম প্রথম আমিরন ভেবেছিলো কোরবান আলী হয়তো তার জীবনে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। কোরবান আলী হয়তো তাকে মুক্তি দেবে নরকযন্ত্রণা থেকে, কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই আমিরনের ভুল ভাঙে। কোরবান আলীর আসল চেহেরা উন্মুক্ত হয় আমিরনের কাছে। বিয়ের কিছুদিন না যেতেই আমিরনের সাথে কোরবান আলী জানোয়ারের মতন আচরণ শুরু করেÑ যখন তখন গায়ে হাত তোলে। তালাক দেয়ার হুমকি দেয়। সময় অসময়ে মেয়ের সামনে আমিরনকে গরুর মতন পেটায়। 
এদিকে আমিরনের সাথে টানাপড়েন চললেও ধীরে ধীরে ফুলভানুর সাথে কোরবান আলীর বাড়তে থাকে সখ্যতা। কাছে পেলেই কোরবান আলী ফুলভানুর সাথে রঙতামাশা জুড়ে দেয়। আকারে ইঙ্গিতে কদর্য ভাষায় জানান দেয় শরীরের ক্ষুধা।     

আমিরনের কাছে দুনিয়াটা বিস্বাদ মনে হয়। তাই সে ফাঁস দিয়ে পাপ পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত জীবন থেকে মুক্তি পেতে চায়। ঘরে সিলিংফেনে উড়না পেঁচিয়ে গলায় বেঁধে যখন ঝুলতে যাবে আমিরন, তখন অশ্রুর শুষ্ক মলিন মুখ ভেসে ওঠে আমিরনের চোখের  সামনে। সে আর আত্মঘাতিনী হতে পারেনা। গভীর জীবনাসক্তি তাকে ফিরিয়ে আনে সুনিশ্চিত মরণের গহীন গহ্বর থেকে। বিছানায় কান্নারত মেয়েটিকে কোলে তুলে নিয়ে আদর করতে থাকে আমিরন। কি আশ্চর্য মুহূর্তেই মেয়েটি যেন আমিরনের সমস্ত কষ্ট যন্ত্রণা মুছে দিয়ে তাকে নিয়ে যায় অলৌকিক মায়াবী দেশে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/49245/</link>
				<pubDate>Fri, 29 Oct 2021 10:17:56 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>খণ্ডিতা<br />
( ছোটগল্প )<br />
-শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর</p>
<p>কোরবান আলীর নিরন্তর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আমিরন গলায় ফাঁস দিয়ে মরার সিদ্ধান্ত নেয়। কি হবে বেঁচে থেকে ? পুরুষ মানুষকে সে আর বিশ্বাস করেনা। পর পর দুই খসমের কাছ থেকে বিতারিত হয়ে কোরবান আলীকে নিকাহ করে মনের গহীনে জমে থাকা কষ্টগুলোকে মাটি চাপা দিয়ে সংসার করতে চেয়েছিলো আমিরন। সেই কোরবান আলীও&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-49245"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/49245/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">876d6b5ec2db400671f18fad9766ef43</guid>
				<title>শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর and Sadiya Haque (Amanisha) are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/46603/</link>
				<pubDate>Thu, 21 Oct 2021 15:03:04 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1a1f8df2a34348066b2396bcc59f7fe9</guid>
				<title>আমার লেখা ‘রূপালী আঁধার’ গল্পটি ‘মার্কস গোল্ড জেনেক্স ম্যামোরিস’ প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ গল্প হিসেবে পুরস্কারের জন্য মনোনীত  হওয়ায় সম্মানিত বিচারকমণ্ডলী ( বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর, মামুনূর রশীদ ও শমী কায়সার ), শ্রদ্ধেয় পাঠকবৃন্দ এবং মার্কস গোল্ড মিল্ক কর্তৃপক্ষকে কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।                                            
বিনীত-                                                
শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর       
( কবি ও কথাসাহিত্যিক )
https://fb.watch/8I57zRlSOI/</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/44659/</link>
				<pubDate>Sun, 17 Oct 2021 17:19:00 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আমার লেখা ‘রূপালী আঁধার’ গল্পটি ‘মার্কস গোল্ড জেনেক্স ম্যামোরিস’ প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ গল্প হিসেবে পুরস্কারের জন্য মনোনীত  হওয়ায় সম্মানিত বিচারকমণ্ডলী ( বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর, মামুনূর রশীদ ও শমী কায়সার ), শ্রদ্ধেয় পাঠকবৃন্দ এবং মার্কস গোল্ড মিল্ক কর্তৃপক্ষকে কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-44659"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/44659/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e2164ee336580b0058ddfe6fcb79b233</guid>
				<title>শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর and নিশাত আনজুম রিয়া are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/42988/</link>
				<pubDate>Tue, 12 Oct 2021 15:36:25 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4e0a9b60b1a32f832d5121434884d84b</guid>
				<title>Silvery darkness
(Bengali Short Story)
-Sheikh Mohammad Hasanur Kabir.
Translated by
A. Z. M. Alamgir Hossain Choudhury

I met the girl on the train. She was my companion on the Kopotaksha Express from Rajshahi to Nawapara (Jashore). Her age was twenty-two or twenty-three years. She was with a small cute fairy-like girl. We were sitting face to face. The girl was staring at me whenever she got a chance. Realizing this, I also became interested in the girl. I just got admitted in the university then. At this age people are usually curious. The look of the big enchanting eyes of the girl of slim shape made me also interested in the girl that day.
I asked the girl without any hesitation-
Where are you going?
The girl replied- 
Khulna.
- Where are you going? She laughingly asked.
I was very embarrassed and surprised in her way of talking to me. She was doing it as if I were her most known and intimate one. I was getting shy and thought of discontinuing the talk. But the simplicity of the girl, the look in her magical eyes, and her amazing beauty didn&#039;t let me keep quiet.
I said hesitantly-
I will also go somewhere near your destination.
The girl smiled and said again -
Oh god! How is it? What do you mean by ‘close’?
- Nawapara, Khulna or where your destination is, say it.
I remained silent. I thought there was no point of extending our chatting. The more I would talk, the more wrong it would be. Better yet, keep quiet. Our scriptures also say so. I was silent for quite some time, but the little girl who was with her did not let me be silent. The girl came and sat on my lap from her mother. She sat down and started speaking fluently. She looked out of the train window and tried to find out everything about the world from me. When her mother tried unsuccessfully to stop the girl, she smiled.
You don&#039;t mind, she hasn’t found anyone except her mother since childhood, so if she likes someone, she bothers him unnecessarily.
- No, no, why are you telling it ‘bothering’?
- She has no father, aunt or relatives?
The girl&#039;s mother was silent for a while and said in a sad lower voice- 
Leave it now.
- Well, you didn&#039;t say your name.
- My name is Lutfar, Lutfar Rahman.
- Who&#039;s in your house?
-Mother and younger sister Jamini; Dad has been dead for several years.
-Wow! Nice name your little sister’s one.
-Hmm, the name was given to me by my grandfather. My grandfather was a poet. He could compose songs orally. There was a lot of literary juice in it. After the birth of the younger sister, grandfather told my mother, I named her Jamini.
-Jamini; I mean ‘night’, like the life of myself and my daughter!
I was a little surprised and asked-
I do not understand the relationship between my sister&#039;s name and you and your daughter&#039;s life?
The girl tried to smile a little. I noticed that behind the laughter, the deep black clouds of ‘Shravan’ seemed to overwhelm all the fair faces of the girl. I didn&#039;t talk anymore.
Seeing my silence, the girl changed the subject and said-
Where are you going, you didn’t say.
- I will go to Nawapara.
Then both of us sat in silence. The train was running like a crazy horse. The darkness of the night was running in parallel with that.
Night of ‘Krishnapaksha’. When midnight passed, the moon appeared in the sky. The dim light of the moon was falling on the whole body of the girl. In that light, the girl looked like a woman with celestial beauty. Almost everyone on the train was asleep and unconscious.
The girl approached to me and said quietly -
May I have a word with you.
I nodded.
The girl said sadly-
Will you give me your address?
Being a student and too much emotional, I said without thinking anything-
Why not?
There was an old letter in my pocket. The letter was written by mother. I handed the envelope with the letter to the girl.
I said-
There is both my present and permanent address in this letter. You can contact me using any address you like.
-By the by, you did not tell your name yet.
The girl smiled sweetly and said-
Rupa.
I said-
Only ‘Rupa’, nothing before or after?
She smiled again which shook the girl&#039;s whole body. I was really charmed at the girl. The girl stopped laughing and said again-
What comes in the name of people like ‘us’!
I said-
I don&#039;t understand the meaning of your words.
The girl did not answer. She looked out of the window with blank eye and began to enjoy the dark beauty of nature of ‘krishnapaksha’ (The 2nd half of a lunar month).
Just before sunrise, the train stopped at Nawapara station. I said goodbye to the girl and got off the train. When I left the train, I noticed the girl was looking at me through the window with calm eyes. The inside of my chest rumbled. Tears welled up in my eyes.
I returned to the university at the end of the holiday. At first I thought of Rupa, but unfortunately the address of Rupa was not taken. I was eagerly waiting - someday Rupa will write to me.
Then, I was so engaged with my work, I somehow forgot about Rupa.  Thus a couple of years passed. Suddenly one day the postman came and knocked on the door. I opened the door and got a letter in my name. Rupa wrote from Baniyashanta, a village beside Mongla Sea Port. I was surprised and opened the letter and read it in one breath. A very short handwritten letter - 
Dear Lutfar Rahman,
Today, after a long time, I am remembering you in a very difficult time. To tell the truth, I have no one in the world but the little girl. The world of me and my daughter is confined within the four walls of the forbidden village of Baniyashanta. I&#039;m bedridden  nowadays. Longing to see you too much. Although not seen alive, bury my body following the religious rituals.
Your loving
Rupa Chowdhury.
I read the letter and looked at the sky in pain. Dense black clouds were hovering across the sky. The helplessness of a helpless girl floated before my eyes. I rushed to Baniyashanta to fulfill Rupa&#039;s last wish. But it was too late ; everything was over. After death, Rupa’s body was thrown into the salt water of Pashur river as women like Rupa do not get the rituals of any religion after death.
Standing by the river in the afternoon, I remembered Rupa very much. Looking at vast water of the river, I said-
Rupa, forgive me. I couldn&#039;t bury you. Though you did not get any love, a little affection in this world, wait for me to be a companion of mine in the life hereafter.
Thinking about the words, my eyes got wet with tears, I felt intense pain in the depths of my mind. I took a handkerchief out of my pocket, wiped my eyes and came back to the University on the night train.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/42937/</link>
				<pubDate>Tue, 12 Oct 2021 13:56:27 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>Silvery darkness<br />
(Bengali Short Story)<br />
-Sheikh Mohammad Hasanur Kabir.<br />
Translated by<br />
A. Z. M. Alamgir Hossain Choudhury</p>
<p>I met the girl on the train. She was my companion on the Kopotaksha Express from Rajshahi to Nawapara (Jashore). Her age was twenty-two or twenty-three years. She was with a small cute fairy-like girl. We were sitting face&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-42937"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/42937/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">47e608ec7e00686e9b925ca84b05e1a7</guid>
				<title>রূপালী আঁধার
-শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর

মেয়েটির সঙ্গে পরিচয় ট্রেনে। কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসে রাজশাহী থেকে নওয়াপাড়া যাওয়ার পথে সে ছিলো আমার সহগামিনী। বয়স বোধকরি বাইশ-তেইশ বছর হবে। সঙ্গে ছিল একটি ছোট ফুটফুটে পরীর মতন মেয়ে। মুখোমুখি আসনে বসে ছিলাম আমরা। সুযোগ পেলেই মেয়েটি আমার দিকে আড়চোখে তাকাচ্ছিলো। টের পেয়ে আমিও মেয়েটির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠলাম। তখন সবেমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। এ বয়সে সাধারণত মানুষ কৌতূহল প্রবণ হয়। একহারা গড়নের মেয়েটির বড় বড় মায়াবী চোখের চাহনি আমাকেও মেয়েটির প্রতি সেদিন আগ্রহী করে তুলল। 
কোন প্রকার ভণিতা না করেই মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করলাম-
কোথায় যাবেন আপনি ?
-খুলনা।
-তুমি কোথায় যাবে ?
আমি অনেকটা বিব্রত আর সেই সাথে অবাক হলাম। অপরিচিত কেও সম্বোধন করছে তুমি, তাও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া কোন ছাত্রকে। আত্মসম্মানে ঘা লাগলো খুউব। ভাবলাম, কথা বলা এটুকুই থাকুক, কিন্তু মেয়েটির সরলতা, মায়াবী চোখের চাহনি, আর অপরূপ সৌন্দর্য আমাকে চুপ থাকতে দিলো না। 
গলাঝেড়ে সসংকোচে বললাম-
আমিও আপনার গন্তব্যের কাছাকাছি কোথাও যাবো।
মেয়েটি একগাল হেসে পুনরায় বললো-
ও মা ! এটা কেমন কথা হলো ?
-কাছাকাছি বলতে কি বুঝাতে চাইছ তুমি ?
-নওয়াপাড়া, খুলনা কিংবা তোমার গন্তব্য যেখানে, সেটা বলো ।
আমি চুপ করে রইলাম। ভাবলাম কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। যতো কথা বলবো, ততো ভুল হবে। তার চেয়ে ভালো, চুপ থাকা। আমাদের ধর্মগ্রন্থও তো তাই বলে। চুপচাপ ছিলাম বেশ খানিকটা সময়, কিন্তু সাথে থাকা ছোট মেয়েটি আমাকে চুপ থাকতে দিলো না। ওর মায়ের কাছ থেকে মেয়েটি আমার কোলে এসে বসলো। বসে অনর্গল কথা বলতে লাগলো। ট্রেনের জানালা দিয়ে তাকিয়ে বিশ্বচরাচর সম্পর্কে সবকিছু আমার কাছ থেকে জানতে চেষ্টা করলো। 
ওর মা যথাসম্ভব মেয়েটিকে নিবারণ করার চেষ্টা করে যখন বিফল হলো, তখন মুচকি হেসে বললো-
তুমি কিছু মনে করো না। ছোটবেলা থেকে মা ছাড়া কাউকে পায়নি তো, তাই কাউকে ভালোলাগলে অকারণ বিরক্ত করে।
-না  না, এটাকে বিরক্ত বলছেন কেন ? 
-বাবা, খুড়ো কিংবা আপনজন কেউ নেই ওর ?
মেয়েটির মা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললো-
থাক এসব।
-ও আচ্ছা, তোমার নাম কি তাতো বললে না ?
-আমার নাম লুৎফর, লুৎফর রহমান।
-কে কে আছে তোমার বাড়িতে ?
-মা আর ছোট বোন যামিনী ; বাবা মারা গেছেন বেশ কয়েক বছর হয়।
-বা ! চমৎকার নাম তোমার ছোট বোনের।
-হুম, নামটি আমার নানা রেখেছিলেন। আমার নানা ছিলেন কবিয়াল। মুখে মুখে গান রচনা করতে পারতেন। বেশ সাহিত্যিক রস ছিল তার মধ্যে। ছোট বোনটির জন্মের পর নানা আমার মাকে বললেন, ওর নাম রাখলাম যামিনী।
যামিনী ; মানে রাত্রি, আমাদের মা মেয়ের জীবন যেমন !
আমি একটু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম-
আমার বোনের নামের সাথে আপনার আর আপনার মেয়ের জীবনের কি সম্পর্ক বুঝলাম না ?
মেয়েটি একটু মুচকি হাসার চেষ্টা করলো। লক্ষ্য করে দেখলাম, হাসির অন্তরালে যেন শ্রাবণের মেঘ মেয়েটির সমস্ত ফর্সা মুখমণ্ডলকে আচ্ছন্ন করে ফেললো। আমি আর কথা বাড়ালাম না। 
আমার নীরবতা দেখে মেয়েটি প্রসঙ্গ পাল্টে বললো-
তুমি কোথায় যাবে, বললে না ?
-নওয়াপাড়া যাব।
তারপর দু’জনেই নীরবে বসে রইলাম। ট্রেন ছুটছে পাগলা ঘোড়ার মতন দুরন্ত বেগে। রাতের অন্ধকার সেই সাথে পাল্লা দিয়ে ছুটছে সমানতালে। 
কৃষ্ণপক্ষের রাত। মধ্যরাত পার হলে আকাশে চাঁদের দেখা মিললো। চাঁদের ম্লান আলো এসে পড়ছে মেয়েটির সমস্ত শরীর জুড়ে। সে আলোয় মেয়েটিকে অপরূপ মায়াবতী লাগছে। ট্রেনের সবাই প্রায় ঘুমে অচেতন। 
মেয়েটি কাছে এসে চুপিচুপি বললো-
একটা কথা বলবো, রাখবে ?
-আমি মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিলাম।
মেয়েটি দুঃখিত গলায় বলল-
তোমার ঠিকানাটা আমাকে দেবে ?
মেয়েটির প্রতি আমি ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়েছিলাম ; 
কোনো কিছু না ভেবেই বললাম-
কেন নয় ?
পকেটে একটা পুরনো চিঠি ছিল। মায়ের লেখা চিঠি। চিঠি সমেত খামটি আমি মেয়েটির হাতে এগিয়ে দিলাম। 
বললাম-
এটাতে আমার স্থায়ী ; অস্থায়ী দু’টি ঠিকানাই রয়েছে। আপনি চাইলে যে কোনো ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারবেন। 
-আর, আপনার নাম তো জানা হলোনা। 
মেয়েটি মিষ্টি হেসে বলল-
রূপা।
আমি বললাম-
শুধুই রূপা, আগে পিছে কিছু নেই ?
সে আবার হাসল ; সে হাসিতে মেয়েটির শরীর দুলে ওঠলো। অসম্ভব ভালোলাগল মেয়েটিকে। হাসি থামিয়ে পুনরায় মেয়েটি বলল-
আমাদের মতন মানুষদের নামে কি আসে যায় !
আমি বললাম-
আপনার কথার মাথা-মুণ্ডু কিছু বুঝলাম না।
মেয়েটি কোন জবাব দিলোনা। আনমনে জানালা দিয়ে তাকিয়ে কৃষ্ণপক্ষের নিরাভরণ প্রকৃতির দীনহীনরূপ উপভোগ করতে লাগলো।
শেষরাতের দিকে ট্রেন এসে নওয়াপাড়া স্টেশনে থামল। আমি মেয়েটির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ট্রেন থেকে নামলাম। ট্রেন ছেড়ে দিলে দেখলাম, মেয়েটি জানালা দিয়ে শান্ত চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমার বুকের ভিতরটা হু হু করে ওঠলো। চোখ বেয়ে দু’ফোঁটা অশ্রুও গড়িয়ে পড়লো।
ছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরলাম। প্রথম প্রথম রূপার কথা খুব মনে পড়তো, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত রূপার ঠিকানা নেয়া হয়নি। রূপা চিঠি লিখবে, সে আশায় প্রহর গুণতাম। 
তারপর কাজের ব্যস্ততায় রূপার কথা একরকম ভুলেই গেলাম। এভাবে বছর দুই কাটলো। হঠাৎ একদিন ডাকপিয়ন এসে দরজায় কড়া নাড়ল। দরজা খুলে দেখি আমার নামে আসা একটি চিঠি। বানিয়াশান্তা থেকে রূপা লিখেছে। আমি অবাক হয়ে চিঠিটা খুলে একনিশ্বাসে পড়লাম। গোটা গোটা হাতের লেখায় খুব সংক্ষিপ্ত একটি চিঠি। 
চিঠিতে লেখা-
প্রিয় লুৎফর রহমান,
আজ দীর্ঘদিন পর চরম দুঃসময়ে তোমাকে স্মরণ করছি। নিজের বলতে
পৃথিবীতে ছোট মেয়েটি ছাড়া আমার আর কেউ নেই। বানিয়াশান্তার নিষিদ্ধ পল্লির চারদেয়ালের মাঝেই আমার আর আমার মেয়ের জগৎ সীমাবদ্ধ। আমি আজ শয্যাশায়ী। তোমাকে দেখতে খুব ইচ্ছে করছে। বেঁচে থাকতে দেখা না হলেও, মরে গেলে আমার দেহটাকে ধর্মমতে সৎকার করো।
ইতি-
রূপা চৌধুরী।
চিঠিটা পড়ে বেদনাভারাক্রান্ত মনে আকাশের দিকে তাকালাম। ঘন কালো মেঘরাশি সমস্ত আকাশ জুড়ে ছুটোছুটি করছে। একটি নিরাশ্রয় অসহায় মেয়ের অসহায়ত্ব চোখের সামনে ভেসে ওঠলো। রূপার অন্তিম ইচ্ছা পূরণ করতে ছুটে গেলাম বানিয়াশান্তায়। ততদিনে সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। মৃত্যুর পর রূপাকে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে পশুর নদীর নোনা জলে।
বিকেলে নদীর ধারে দাঁড়িয়ে রূপাকে খুব মনে পড়লো। রূপা, আমাকে ক্ষমা করো। আমি তোমার সৎকার করতে পারিনি। পৃথিবীতে ভালোবাসা, একটু স্নেহের পরশ কিংবা কারো প্রতীক্ষা ভাগ্যে না জুটলেও, পরপারের ট্রেনে সহযাত্রিণী হতে আমার অপেক্ষায় থেকো। 
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে চোখ দু’টো জলে ভিজে ওঠলো, মনের গহীনে তীব্রকষ্ট অনুভব করলাম। পকেট থেকে রুমাল বের করে চোখ মুছে রাতের ট্রেনে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে এলাম।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/42261/</link>
				<pubDate>Sun, 10 Oct 2021 15:08:58 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>রূপালী আঁধার<br />
-শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর</p>
<p>মেয়েটির সঙ্গে পরিচয় ট্রেনে। কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসে রাজশাহী থেকে নওয়াপাড়া যাওয়ার পথে সে ছিলো আমার সহগামিনী। বয়স বোধকরি বাইশ-তেইশ বছর হবে। সঙ্গে ছিল একটি ছোট ফুটফুটে পরীর মতন মেয়ে। মুখোমুখি আসনে বসে ছিলাম আমরা। সুযোগ পেলেই মেয়েটি আমার দিকে আড়চোখে তাকাচ্ছিলো। টের পেয়ে আমিও মেয়েটির প্রতি আগ্রহী হয়ে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-42261"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/42261/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">72a48f8955445734ea0abe37275caccb</guid>
				<title>বাজু হালদার
( ছোটগল্প )
-শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর
পড়াশোনা শেষ করে এক অজ পাড়াগাঁয়ে কলেজের চাকরিতে যোগদান করলাম। প্রথম দিকে আমার ইচ্ছে ছিলোনা মাস্টারি করার, কিন্তু অভিভাবক ও আত্মীয়-স্বজনের পুনপুন অনুরোধ এবং চাকরির বর্তমান দুরবস্থা বিবেচনা করে অবশেষে রাজি হলাম। ঢাকা থেকে দুর্গাপুর হয়ে আরও প্রায় কুড়ি মাইল পথ নৌকাযোগে পেরিয়ে অবশেষে কলেজটিতে পৌঁছলাম। কলেজের অধ্যক্ষ মহোদয় আগে থেকেই আমার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সালাম দিয়ে হাত বাড়িয়ে বললাম-
আমি শফিউল আযম। ঢাকা থেকে এসেছি।
হ্যাঁ, বুঝতে পেরেছি; বলেই অধ্যক্ষ মহোদয় আমার হাতটি মুঠোর মধ্যে নিয়ে বেশ কয়েকবার ঝাঁকুনি দিয়ে বললেন-
আমি আবদুল হাকিম মোল্লা ; কলেজের এ্যাক্টিং অধ্যক্ষ। 
অধ্যক্ষ মহোদয়কে প্রথম দেখেই খুব সজ্জন মনে হলো। তিনি একগাল হেসে আমাকে বুকে জড়িয়ে নিলেন। তখন বর্ষা সবে শুরু হয়েছে। গ্রীষ্মের তাণ্ডব পুরোপুরি শেষ হয়নি। আমার সমস্ত শরীর ঘেমে একাকার। ঘর্মসিক্ত শরীর থেকে একরকম উৎকট গন্ধ বেরুচ্ছে। আমি কিছুটা বিব্রত হলাম, কিন্তু অধ্যক্ষ মহোদয়ের সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই; যেন দীর্ঘকাল নিরুদ্দেশ থাকার পর আজ তাঁর প্রবাসী ভাইটিকে তিনি কাছে পেয়েছেন।
কলেজের নাম আলীপুর কলেজ। গ্রামের নামেই কলেজটির নামকরণ করা হয়েছে। পূর্ব-পশ্চিমে লম্বা একটি চারচালা টিনের ঘর। অধ্যক্ষ মহোদয়ের কক্ষটি কাঠ আর টিন দিয়ে নির্মিত দোতলা। তিনি নিচ তলাটি তার অফিসকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করেন। চারদিকে জলাভূমিবেষ্টিত হলেও কলেজের সামনে রয়েছে প্রকাণ্ড একটি মাঠ। মাঠটিকে পরিত্যক্ত বলা যায়, কারণ সমস্ত মাঠ জুড়ে রয়েছে দশ-পনেরোটি বিস্তৃত বট-অশ্বত্থের গাছ। বয়সের ভারে গাছগুলো নুয়ে পড়েছে। ডালগুলো থেকে মোটা ঝুরি নেমে এসেছে মাটিতে।
অধ্যক্ষ মহোদয় ছিলেন বেশ আন্তরিক। তিনি কলেজের গার্ড সাজু হালদারকে ডাকলেন। কিছুক্ষণের মধ্যে সাজু হালদার এসে উপস্থিত হলো। দেখতে ভীষণ ভয়ঙ্কর লাগছিলো লোকটিকে। বয়স ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ বছর হবে। লোকটিকে দেখে মনে হলো, কলেজের পাহারাদার না হয়ে লোকটি ডাকাত দলের সর্দার হলে মানাতো বেশ। অধ্যক্ষ মহোদয় সাজু হালদারকে আমার মালপত্রগুলো তাঁর অফিসকক্ষে গুছিয়ে রাখতে বলে আমাকে নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হলেন। কলেজ থেকে নৌকায় প্রায় আধঘণ্টা যাওয়ার পর অবশেষে আলীপুর গ্রামের প্রান্তভাগে অধ্যক্ষ মহোদয়ের বাড়িতে পৌঁছলাম। সেদিনের মতন অধ্যক্ষ মহোদয়ের বাড়িতে আমার থাকার বন্দোবস্ত হলো।
পরদিন পূবাহ্ণে অধ্যক্ষ মহোদয়ের সঙ্গে কলেজে উপস্থিত হলাম। অধ্যক্ষ মহোদয় তাঁর অফিসকক্ষে আমাকে বসতে বললেন। সবাইকে ডেকে এনে পরিচয় করিয়ে দিলেন। ক্লাসে নিয়ে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের খুব গর্বভরে বললেন-
তোমাদের নতুন বাংলা শিক্ষক শফিউল আযম। ঢাকা থেকে এসেছেন। এমন বাংলা শিক্ষক এ তল্লাটে পাবে না। তোমরা নেহায়েত ভাগ্যবান বলে এমন শিক্ষক তোমাদের কপালে জুটেছে। ছাত্রছাত্রীরা আমার দিকে ভীষণ আগ্রহ নিয়ে তাকাচ্ছিলো। নিজের উপস্থিতিতে, নিজের এরূপ সুখ্যাতি শোনে আমি খুব সংকোচ বোধ করলাম।
ছুটির ঘণ্টা বাজলে একে একে সবাই বাড়ি চলে গেলো। অধ্যক্ষের কক্ষে অধ্যক্ষ মহোদয় আর আমি রয়ে গেলাম। আর অনতি দূরেই গাছের নিচে বসে রইলো কলেজের সেই কালাপাহাড়সদৃশ গার্ড সাজু হালদার।  
আলাপচারিতার একপর্যায়ে অধ্যক্ষ মহোদয় বললেন, আপনার থাকার বিষয়টি নিয়ে ভাবছি।
আমি অত্যন্ত বিনীত ভঙ্গিতে বললাম-
ভাবনার কি আছে, স্যার ? আমি যে কোনো জায়গায় থাকতে পারবো।
অধ্যক্ষ মহোদয় যেন হাঁফছেড়ে বাঁচলেন। একটু দম নিয়ে বললেন-
কলেজে থাকতে পারবেন ? এখানে দোতলার কক্ষটি খালি পড়ে আছে। 
আমি খানিকটা ভয়পেয়ে গেলাম। বললাম- 
এই নির্জন জায়গায় একা থাকা সম্ভব, স্যার ?
অধ্যক্ষ মহোদয় কিছুটা আশাহত হলেন, বললেন-
আপনি একা থাকবেন কেনো, সাথে আমাদের গার্ড সাজু হালদার থাকবে। ও তো দিনরাত এখানেই পড়ে থাকে। বিয়ে-থা করেনি। রান্নার কাজও মোটামোটি জানে। 
যদিও লোকটি দেখতে ভীতিকর, তবু নিরুপায় হয়ে আমি অধ্যক্ষ মহোদয়ের প্রস্তাবে সম্মত হলাম। সম্মত হওয়ার আরেকটি কারণ ছিলো; সেটি হলো, জায়গাটা ছিলো অত্যন্ত মনোরম। এরকম নিসর্গের স্বাদ ঢাকায় কখনো পাইনি। অধ্যক্ষ মহোদয় সাজু হালদারকে ডেকে আমার থাকার ঘরটি গুছিয়ে রাখতে বললেন এবং আমার বিষয়ে সমস্ত দায়িত্বভার বুঝিয়ে দিলেন।
পরদিন থেকে আমার নির্জনবাস শুরু হলো। বছর খানেক ভালোই কাটলো। সাজু হালদার লোকটাকে যেরকম ভেবেছিলাম, বাস্তবে দেখলাম সে খুব নরম আর চাপা স্বভাবের। বিকেল বেলা গাঙের ধারের বটগাছের নিচে বসি। বটের পুরনো মোটা শিকড়ে বসে গাঙের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করি। সাজু হালদার মাঝে মধ্যে আমার সাথে বসে থাকে। কোনো কথা বলেনা। সবসময় মন খারাপ করে থাকে। কিসের এমন দুঃখ ওর, তাও কখনো বলেনি আমাকে।
দেখতে দেখতে কয়েক বছর কেটে গেলো। বেশকিছু সরকারি চাকরির ইন্টারভিউ দিলাম, তেমন কিছু হলোনা। আলীপুর কলেজের ওপর একটা মায়া পড়ে গেলো; সেই সাথে সাজু হালদারের ওপরও । লোকটির সততা, দায়িত্বশীলতা এবং কাজের প্রতি একাগ্রতা দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম, অথচ এতোটা বছরেও আমি ওর ব্যক্তিগত কিংবা পারিবারিক কোনো বিষয়েই কিছু জানতে পারিনি। কখনো সাজুর পারিবারিক বিষয়ে জানতে চাইলে সাজু চুপ করে থেকেছে কিংবা আমার কাছ থেকে দূরে সরে গেছে। অনেক সময় মনে হয়েছে, অধ্যক্ষ মহোদয়ের কাছ থেকে সাজু হালদারের পারিবারিক বিষয়ে জেনে নিলে কেমন হয়, পরক্ষণেই ভেবেছি, অধ্যক্ষ মহোদয়কে এসব ছোটখাট বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে অধ্যক্ষ মহোদয় হয়তো বিরক্ত হবেন। অন্যকাউকে জিজ্ঞেস করবো, সে ভরসা পাইনি, কারণ সাজু হালদার এতো তুচ্ছ মানুষ ছিলো যে, ওর সম্পর্কে কারোরি কোনো আগ্রহ ছিলোনা। সুতরাং সাজু হালদার আমার নিকট দুর্ভেদ্য, রহস্যময় মানুষ হিসেবেই রয়ে গেলো।
একদিন অপ্রত্যাশিতভাবে সরকারি খামে একটি চিঠি পেলাম। আমার চাকরি হয়েছে। থানা শিক্ষাকর্মকর্তা। কর্মস্থল বাজিতপুর। খুব অল্পসময়ের মধ্যে কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। কথাটা অধ্যক্ষ মহোদয়কে বললাম, তিনি খবরটি শুনে খুব খুশি হলেন। আমার সহকর্মীদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনা হলো। বিদায়ের দিন ছাত্রছাত্রীদের মাঝে বিষাদের ছায়া নেমে এলো। কেবল একটি প্রাণীর মনোভাব বুঝতে পারলাম না। 
রাতে সাজু হালদারকে জিজ্ঞেস করলাম-
সাজু শুনেছো, আমার নতুন চাকরি হয়েছে; আমি চলে যাচ্ছি ? 
সে ভালো-মন্দ কিছু বললো না। আমি তাকে পুনরায় বললাম-
এতটা দিন আমার সাথে ছিলে; আমি চলে গেলে তোমার কষ্ট হবে না, সাজু ?
সাজু হালদার এবারও কিছু বললো না। নিরাসক্ত দৃষ্টিতে কেবল আমার দিকে ফেলফেল করে তাকিয়ে রইলো। সাজুকে একটা চরম নিমক হারাম অমানুষ মনে হলো আমার কাছে। 
পরদিন বাজিতপুর নতুন কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার পূর্বে অধ্যক্ষ মহোদয়ের সঙ্গে দেখা করতে গেলাম। কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানানোর পর অধ্যক্ষ মহোদয়ের কাছে সাজু হালদার সম্পর্কে আমার কৌতূহলের বিষয়টি জানতে চাইলাম। অধ্যক্ষ মহোদয় কিছুক্ষণ আমার দিকে স্থিরদৃৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। 
ভাবলাম, কথাটা বলা ঠিক হয়নি।
-সরি, স্যার। 
 না ঠিক আছে, শফিউল আযম সাহেব। আমি কিছু মনে করিনি। সাজু হালদার সম্পর্কে  আপনাকে অনেক আগেই সবকিছু খুলে বলা উচিত ছিলো, কিন্তু ব্যাপারটি আমার মাথায় আসেনি। 
সাজু হালদারের জীবনটা খুব ট্র্যাজিক বলতে পারেন। জীবনে সে অনেক কষ্ট পেয়েছে, লাঞ্ছিত হয়েছে, বঞ্চনার শিকার হয়েছে। আস্তে আস্তে ছেলেটি পাথরের মতন শক্ত হয়ে গেছে। এখন ভালোবাসা, আনন্দ, দুঃখ, পাওয়া-নাপাওয়া কোনোটাই তাকে ভাবিয়ে তোলেনা। তাছাড়া, আলীপুর গ্রামে সাজু হালদারের আপনার বলতেও তেমন কেউ নেই। একটা মা ছিল তাও গলায় দঁড়ি দিয়ে মরে গেছে অনেক দিন আগে। 
সাজু হালদারের বাবা বাজু হালদার গ্রামের স্বচ্ছল গৃহস্থ ছিল। সে ছিলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একজন একনিষ্ঠ ভক্ত। একাত্তরের ৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার আহ্বান শুনে বাজু হালদার দারুণভাবে অনুপ্রাণিত হয়। সে মুক্তিযুদ্ধে যোগদেয়। বাজুর দায়িত্ব পড়ে ট্রেনিংয়ের জন্য আলীপুর থেকে নৌকা দিয়ে ওপারে মুক্তিযোদ্ধাদের পৌঁছে দেয়ার। বিষয়টি স্থানীয় কিছু রাজাকার টের পেয়ে ক্যাম্পে গিয়ে পাকিস্তানি মিলিটারিদের জানিয়ে দেয়। বাজু হালদারকে পাকিস্তানি মিলিটারিরা ধরে নিয়ে গিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করে আলীপুর কলেজের পিছনে গাঙের ধারের বটগাছটাতে ঝুলিয়ে রাখে। মায়মুন তখন অন্তঃসত্ত্বা। মায়মুনকে মিলিটারিরা ক্যাম্পে ধরে নিয়ে গিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। দেশ স্বাধীন হয়। মায়মুন গাঁয়ে ফিরে আসে। সাজুর জন্ম হয়। বাজুর শেষ ইচ্ছানুযায়ী মায়মুন ছেলের নাম রাখে সাজু হালদার। সাজুর জন্মের পর মায়মুন সংসারের হাল ধরে। ভালোই চলতে থাকে তাদের যুদ্ধপরবর্তী দিনগুলো। কিন্তু বাদসাধে গ্রামের নিন্দুক ও স্বাধীনতা বিরোধীরা। তারা নানাভাবে সাজুর মায়ের ওপর জুলুম-অত্যাচার করে।  
যতই দিন গড়াতে থাকে, ততই সাজুর মায়ের ওপর নিন্দুক ও স্বাধীনতা বিরোধীদের অত্যাচার বাড়তে থাকে। একসময় তারা সাজুর মায়ের নামে কুৎসা রটিয়ে সাজুর মাকে সমাজচ্যূত করে; একঘরে করে। এতটুকু করেও তারা থামেনি, একসময় সাজুর মায়ের নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে সালিসের নামে সাজুর মাকে ন্যাড়া করে সমাজ থেকে বের করে দেয়। সাজুর মা তার প্রতি সমাজের বৈরিতা ও সমাজপতিদের অবিচার সইতে না পেরে অবশেষে গলায় দঁড়ি দিয়ে আত্মঘাতিনী হয়। ঘৃণা ও জীবনের প্রতি চরম বিতৃষ্ণায় সাজু হালদার সমাজ থেকে আলাদা হয়ে একাকী বাস করতে থাকে। এভাবে নিদারুণ গঞ্জনা আর অপমানের মধ্যদিয়ে প্রায় দশটি বছর কেটে যায়।
ছেলেটির প্রতি আমার খুব মায়া হয়। সমাজপতিদের প্রবল বাধা সত্ত্বেও ছেলেটিকে আমার বাড়িতে নিয়ে আসি। আস্তে আস্তে সাজু বড় হয়ে ওঠে, কিন্তু সে সমাজের অন্য দশ জনের মতন স্বাভাবিক হতে পারে না। এক সময় গার্ড হিসেবে ওকে কলেজে নিয়োগ দেই। ভেবেছিলাম, আয় রোজগারের পথ পেলে ছেলেটি হয়তো নতুন করে সংসারি হবে, কিন্তু না, সংসার সে করলো না। জীবনের প্রতি আসক্তি সে হারিয়ে ফেলেছে। ভালোবাসা কিংবা অবহেলা সবই এখন ওর কাছে সমান।
অধ্যক্ষ মহোদয় অত্যন্ত নির্লিপ্তভাবে বাজু হালদারের পরিবারের করুণ ইতিবৃত্ত তুলে ধরলেন। আমার চোখ দুটো জলে ভারী হয়ে ওঠলো। চোখের নোনা জলটুকু এই প্রৌঢ়ের কাছ থেকে লুকোতে দ্রুত প্রস্থান করলাম। 
অধ্যক্ষ মহোদয়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে কলেজের পিছনে গাঙের ধারের বটগাছটার নিচে এসে দাঁড়ালাম; যে গাছটায় বাজু হালদারকে পাকিস্তানি মিলিটারিরা নির্মম ভাবে হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছিলো। দেশের স্বাধীনতার জন্য বাজু হালদারের আত্মত্যাগের বিমূর্ত চিত্রগুলো চোখের সামনে ভেসে ওঠলো। মায়মুনের মৃত্যু, সাজুর অনিশ্চিত জীবন কিংবা ধ্বংসের অতলে হারিয়ে যাওয়া একটি ফলবতী সংসার; বাজু হালদার যুদ্ধে না গেলে হয়তো এসবের কোনো কিছুই তাঁকে হারাতে হতোনা।
জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানের জন্য পরম শ্রদ্ধায় আপনা আপনি আমার মাথা অবনত হয়ে এলো। তারপর বুকের গহীনে একরাশ বেদনা নিয়ে আলীপুর কলেজ ছেড়ে বাজিতপুরে চলে এলাম।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/41703/</link>
				<pubDate>Fri, 08 Oct 2021 16:51:42 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বাজু হালদার<br />
( ছোটগল্প )<br />
-শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর<br />
পড়াশোনা শেষ করে এক অজ পাড়াগাঁয়ে কলেজের চাকরিতে যোগদান করলাম। প্রথম দিকে আমার ইচ্ছে ছিলোনা মাস্টারি করার, কিন্তু অভিভাবক ও আত্মীয়-স্বজনের পুনপুন অনুরোধ এবং চাকরির বর্তমান দুরবস্থা বিবেচনা করে অবশেষে রাজি হলাম। ঢাকা থেকে দুর্গাপুর হয়ে আরও প্রায় কুড়ি মাইল পথ নৌকাযোগে পেরিয়ে অবশেষে কলে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-41703"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/41703/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1e97b1d68b7b11beed8469431987cf5b</guid>
				<title>শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর and Umme Tabassum Taiyeba are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/41561/</link>
				<pubDate>Fri, 08 Oct 2021 04:59:23 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">167a8293d813b6222380bd2852ba726f</guid>
				<title>প্রায়শ্চিত্ত
( বাংলা ছোটগল্প )
-শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর

হাকিমপুর থানা থেকে গরুর গাড়িতে মহিমার লাশ যখন হযরতপুরের নওয়াব গায়েনের বাড়ির আঙিনায় এসে পৌঁছে, তখন বোধকরি মধ্যরাত। নওয়াব গায়েন ও তার স্ত্রী বাসন্তী অপঘাতে মৃত মেয়ের জন্য কাঁদা-কাটার পালা শেষ করে নিদারুণ উৎকণ্ঠা ও ক্লান্তিতে সবেমাত্র ঘুমিয়ে পড়েছিলো। হঠাৎ লোকজনের শোরগোল এবং গাড়োয়ান হরিপদ বাগদির অনাবশ্যক আর্তচিৎকারে ঘুম ভেঙে ব্যস্তসমস্ত হয়ে প্রদীপ হাতে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে গরুর গাড়িতে বাঁশের চাঁটাইয়ে মোড়া মহিমার মৃতদেহটি দেখে নওয়াব গায়েন ও স্ত্রী বাসন্তী পুনরায় হাউ মাউ করে মাতম জুড়ে দেয়।
নওয়াব গায়েনের দুই মেয়ে। মহিমা ও দরিয়া। বড় মেয়ে মহিমার বয়স যখন পনেরো বছর, তখন রামচন্দ্রকুড়া গ্রামের খাঁ বাড়িতে তার বিয়ে হয়। রামচন্দ্রকুড়া গ্রামের খাঁয়েরা বনেদি ঘর। এমন ঘরে মেয়েকে বিয়ে দিতে পেরে নওয়াব গায়েন নিজেকে অত্যন্ত ভাগ্যবান মনে করতো। গ্রামের লোকজনদের গর্বভরে বলতো-
মা আমার সাক্ষাত লক্ষ্মী! নইলে অমন বড় ঘরে আমার মতন হা-ভাতে গায়েনের আত্মীয়তা, এ যে বিলাসিতার নামান্তর।
মহিমার শ্বশুর নানদার খাঁ বৈষয়িক লোক। নানদার খাঁর আর্থিক অবস্থা সঙ্গতিপূর্ণ হলেও পুত্র হায়দার খাঁর চারিত্রিক অবস্থা ছিলো পাপ-পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত। মদ, জুয়া আর মেয়ে মানুষের নেশা তাকে কুকুরের মতন তাড়িয়ে বেড়াতো সারাক্ষণ। নানদার খাঁ সবকিছু গোপন রেখে পুত্রকে সংশোধন করার অভিপ্রায়ে দরিদ্র ঘরের রূপবতী মেয়েকে বউ করে এনেছিলো। ভেবেছিলো ছেলেটা সংসারী হলে ধীরে ধীরে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে ; কিন্তু সে আশায় গুড়ে বালি। বরং দিনে দিনে হায়দার খাঁ পরিবর্তনহীন দুর্বিনীত অমানুষে পরিণত হয়।
বিয়ের প্রথম দিকে কিছু বুঝতে না পারলেও ধীরে ধীরে হায়দার খাঁর চরিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠে মহিমার কাছে। সবকিছু জেনেও মহিমা নিজেকে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। বছর খানিক না যেতেই এক কন্যা সন্তানের মা হয় সে। মহিমা মনে মনে ভাবে তার বিড়ম্বিত নিরুৎসব জীবনের হয়তো ইতি ঘটবে এবার। এভাবে আশা-নিরাশার মধ্য দিয়ে কেটে যায় আরও বেশ কয়েক বছর। এর মধ্যে হায়দার খাঁর প্রতিবেশি কলেজ পড়ুয়া এক জ্ঞাতী ভাইয়ের সঙ্গে মহিমার আলাপ-পরিচয় হয়; ঘনিষ্ঠতা বাড়ে দুজনের মধ্যে। সুযোগ পেলেই ছেলেটির সঙ্গে গল্প করে সময় কাটায় মহিমা। হায়দার খাঁ বিষয়টিকে স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারে না। ছেলেটির সঙ্গে মহিমাকে কথা বলতে বারণ করে দেয় ; কিন্তু মহিমার সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। মহিমা ও হায়দার খাঁর দাম্পত্য জীবনে চলতে থাকে টানা পড়েন। একদিন রাতের অন্ধকারে ছেলেটির সঙ্গে মহিমাকে একান্তে কথা বলতে দেখে ক্ষেপে যায় হায়দার খাঁ। ক্ষেপে গিয়ে গালমন্দ করতে থাকে মহিমাকে-
ভাত খাস ভাতারের,
গীত গাস নাঙ্গের!
হারাম জাদি বারো ভাতারি, রাইত দুপুরে আবাল পোলার লগে তর কিসের এতো নাগরালী?
কথাগুলো বলেই হায়দার খাঁ চেলা কাঠ দিয়ে জানোয়ারের মতন বেদম পেটায় মহিমাকে। চরম অপমান সইতে না পেরে মহিমা ঝড় জলের রাতে মেয়েকে নিয়ে রামচন্দ্রকুড়া খাঁ বাড়ি থেকে হযরতপুরে চিরদিনের জন্য পালিয়ে আসে।
সেই যে একবুক অভিমান নিয়ে মহিমা বাপের বাড়ি আসে, তারপর মাথার উপর দশ-পনেরো জন অভিভাবক শত চেষ্টা করেও মহিমাকে আর শ্বশুর বাড়ির পথে ফেরাতে পারেনি।
হযরতপুর গ্রামের সবচেয়ে ধনী ও প্রতাবশালী ব্যক্তি সেকান্দার মৃধা। বয়স পঞ্চাশ পেরুতে না পেরুতেই তিনতিনটে বিয়ে সম্পন্ন করেছে সে। সেকান্দার মৃধা প্রতাবশালী হলেও তার সীমাহীন লাম্পট্যের কারণে গ্রামের মানুষ বিশেষত বউ-ঝিরা তাকে এড়িয়ে চলে সবসময়। শ্বশুর বাড়ি হতে মহিমা ফিরে আসার পর থেকেই সেকান্দার মৃধা কারণে অকারণে যাতায়াত বাড়িয়ে দেয় নওয়াব গায়েনের বাড়িতে। মহিমার সঙ্গে হাসি তামাশা করে ; ভাব জমাতে চেষ্টা করে-
কি গো, সোহাগী কইন্যা, এতো ডরাও ক্যান? সেকান্দার মৃধা সেমর না। পরানডায় ভালোবাসা খালি উতলায়, দেহার মানুষ নাই!
প্রথম দিকে এড়িয়ে চললেও ধীরে ধীরে মহিমার ভালোলাগতে শুরু করে সেকান্দার মৃধাকে। গোপনে মন দেয়া নেয়া চলতে থাকে দুজনের। সেকান্দার মৃধা মহিমাকে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখায়-
তোরে আমি রাজরানী কইরা রাখুম, মহিমা। এই সেকান্দারেরে একবার খালি তুই বিশ্বাস কইরা দেখ, ঠগবিনা ; হলফ কইরা কইবার পারি।
মহিমা প্রত্যুত্তরে বলে-
মাটি যা খাইবার একবারই খাইছি। আফনেরে বিশ্বাস কইরা আর নতুন কইরা মাটি খাইবার চাই না।
কথাগুলো বলেই অবিশ্বাসী দৃষ্টিতে চোখ টিপে মুছকি হাসে মহিমা। কিন্তু সেকান্দার মৃধা নাছোর। কোনো অবস্থাতেই সে আশাহত হয় না।
সেকান্দার মৃধার ধূর্ততা বুঝতে পারেনা মহিমা। একরাতে সমৃদ্ধ জীবনের আশায় কোনো কিছু না ভেবেই সেকান্দারের হাত ধরে সে পাড়ি দেয় অজানা গন্তব্যে। কিছুদিন নানা স্থানে ঘুরে মাস ছয়েক পর সেকান্দার মৃধা মহিমাকে কপর্দকহীন অবস্থায় ফুলবাড়ী রেল স্টেশনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
অনেক কষ্টে মহিমা গ্রামে ফিরলে নওয়াব গায়েন মহিমার অসহায়ত্ব দেখে সবকিছু ভুলে তাকে ঘরে তুলে নেয়। অবশ্য এ নিয়ে নওয়াব গায়েনকে সমাজপতিদের নানা গঞ্জনা ও নিগ্রহ সহ্য করতে হয়েছে। এমনকি মেয়ের এমন অপকর্মের জন্য নওয়াব গায়েনকে এক ঘরে হতে হয়েছে পর্যন্ত।
নওয়াব গায়েনের ছোট মেয়ে দরিয়ার বিয়ে হয় নদীর ওপারে হোগলাকান্দি গ্রামের তালুকদার বাড়িতে। তালুকদাররা একান্নবর্তী পরিবার ; কয়েকশ বিঘা ধানি জমি, সুপারি বাগান, পুকুর, মাছের ঘের এক কথায় সম্পন্ন গৃহস্থ। ছেলের প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ায় এবং একপা খোঁড়া থাকায় গ্রামে বদনাম থাকা সত্ত্বেও নওয়াব গায়েনকে তালুকদার বাড়িতে মেয়ে বিয়ে দিতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি।
তালুকদার বাড়িতে সারা বছর কাজ লেগেই থাকে। এতটুকু অবসর নেই। কেবল সামান্য ফুরসৎ মেলে বর্ষার দিনে। তাও সব বর্ষায় সমান সুযোগ মেলে না। এতো ব্যস্ততা, তবু মনে কষ্ট নেই দরিয়ার। কারণ, স্বামী হতেম তাকে ভীষণ ভালোবাসে। নানা ছুতোয় হাতেম তার বাবা-মাকে ফাঁকি দিয়ে দরিয়াকে শহরে নিয়ে যায় ; সিনেমা দেখায়। শাড়ি-চুড়ি, সাজসজ্জার নানা উপকরণ কিনে দেয় সুন্দরী স্ত্রীর মন রাখতে।
দরিয়া যখন সংসারের কাজ করতে করতে হাঁপিয়ে ওঠে, হাতেম এসে তখন রসিকতা জুড়ে দেয়-
কি গো, বিবিজান, মন খারাপ ক্যান?
হারা দিন সংসারের ঘানি টানতে টানতে হ্যাষে নি আমারে ফালাইয়া উড়াল দেও!
দরিয়া ম্লান হেসে উত্তর দেয়-
উড়াল দিমু, পাঙ্খা পাইমু কই?
এভাবেই নানা হাসি তামাশার মধ্যে দিন পার হয় দরিয়ার। হাতেমের অসীম ভালোবাসা, স্নেহের পরশ তার জীবনের সমস্ত শূন্যতাকে পূর্ণ করে দেয়।
অগ্রহায়ণে ধানের মরসুমে অবস্থা বেগতিক দেখে নওয়াব গায়েন মহিমাকে পাঠিয়ে দেয় দরিয়াকে ধান সারার কাজে সহযোগিতা করতে। দুবোন মিলে সারাদিন রোদে ধান শুকায়, রাতে ধান সেদ্ধ করে ; ঢেঁকিতে ধান ভানে। একমুহূর্ত বিরাম নাই। মাঝে মাঝে হাতেম আসে সাহায্য করতে। এতো ব্যস্ততা, তবু বেশ আনন্দ-সুখেই কাটে তাদের মরসুমের দিনগুলো। কিন্তু সুখ কখনো দীর্ঘস্থায়ী হয়না। মহিমার জীবনেও তার ব্যত্যয় ঘটেনি।
মহিমার উছলে পড়া যৌবন, মাদকতা ভরা দুচোখের চাহনি হাতেমের মনকে নাড়া দেয়। হাতেম মহিমার প্রেমে উতলা হয়ে ওঠে। মহিমাও বিষয়টি বুঝতে পেরে হাতেমকে প্রশ্রয় দেয়। এভাবে একটু আধটু করে মহিমা ও হাতেমের সম্পর্ক নিবিড় হতে থাকে।
দরিয়া যখন বুঝতে পারে হাতেমের সাথে মহিমার ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি, তখন জল বহুদূর গড়িয়েছে। অন্তঃসত্ত্বা মহিমার সামনে তখন সীমাহীন অন্ধকার। মহিমা হাতেমকে চাপ দেয় একটা কিছু করার। হাতেম দুচোখে অন্ধকার দেখে। কি করবে বুঝে ওঠতে পারে না। দরিয়াকে ছেড়ে মহিমাকে নিয়ে পালিয়ে যাবে, সেটাও সম্ভব নয়। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হাতেম অবশেষে কোনো কিছু ভেবে না পেয়ে চরম সিদ্ধান্তটিই বেছে নেয়। এক রাতে মহিমাকে বাড়ির পেছনে ডেকে নিয়ে গলা টিপে হত্যা করে জামগাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখে। সকালে সারা গ্রামে রটে যায়, মহিমা গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। হাকিমপুর থেকে পুলিশ আসে। পুলিশ এসে ময়নাতদন্তের জন্য মহিমার লাশ থানায় নিয়ে যায়।
পড়শীরা নিন্দা করতে থাকে-
ওর যদি না এভাবে মরণ হবে, তো কার হবে?
কথায় আছে না-
আদঙ্গ ফাদঙ্গ যার,
অপঘাতে মৃত্যু তার!
মেয়ের এতো অপবাদ, এতো নিন্দা শুনেও নওয়াব গায়েন ও বাসন্তী কোনো প্রতিবাদ করেনা ; নিশ্চল পাথরের মতো বসে অঝোরে কাঁদতে থাকে।
হরিপদ বাগদি ভাঙ-গাঁজা খাওয়া মানুষ। তাছাড়া দীর্ঘ দিন থানায় ডোমের কাজে নিয়োজিত থাকায় আবেগ অনুভূতিও তার প্রায় ভোঁতা হয়ে এসেছে। সুতরাং মেয়ের শোকে নওয়াব গায়েন ও বাসন্তীর এতো রাতে এরূপ বিরামহীন মড়াকান্না হরিপদ বাগদির কাছে নিরতিশয় বিরক্তিকর ঠেকে। আর তাই কোনো রকম নিয়ম-রীতির তোয়াক্কা না করে দুর্বিনীত খালাসির মতন বিরস বদনে গাড়ি থেকে মহিমার জোঁড়াতালি দেয়া লাশটা নামিয়ে দিয়ে হুটহাট শব্দ করতে করতে শ্রান্ত হরিপদ মালোপাড়া অভিমুখে চলে যায়।
হযরতপুর গ্রামের প্রান্তভাগে তুলসীগঙ্গা নদী। নদীর ধারে প্রকাণ্ড একটা হিজলের বন। সকালবেলা স্যাঁতসেঁতে পরিত্যাক্ত নির্জন বনের ভেতরে একটি বুড়ো হিজল গাছের নিচে মহিমার লাশ পুঁতে রাখা হয়। আত্মঘাতিনী বলে ধর্মমতে সৎকার অভাগীর ভাগ্যে জোটেনি। গ্রামে নওয়াব গায়েনের আত্মীয় পরিজন খুব একটা নেই। দুএকজন দয়া পরতন্ত্র হয়ে যারা এসেছিলো, একে একে তারা সবাই চলে গেলে নওয়াব গায়েন মহিমার মৃন্ময় শয্যার উপর আছড়ে পড়ে ডুকরে কেঁদে ওঠে।
ভাগ্যহত পাপিষ্ঠা নরকবাসিনীর জন্য নওয়াব গায়েনের সে কান্না সমস্ত হিজল বনে প্রতিধ্বনিত হয়ে গভীর বিষাদে ধোঁয়াটে আকাশ অবধি আচ্ছন্ন করে মহাশূন্যে মিলিয়ে যায়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/41426/</link>
				<pubDate>Thu, 07 Oct 2021 16:14:07 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>প্রায়শ্চিত্ত<br />
( বাংলা ছোটগল্প )<br />
-শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর</p>
<p>হাকিমপুর থানা থেকে গরুর গাড়িতে মহিমার লাশ যখন হযরতপুরের নওয়াব গায়েনের বাড়ির আঙিনায় এসে পৌঁছে, তখন বোধকরি মধ্যরাত। নওয়াব গায়েন ও তার স্ত্রী বাসন্তী অপঘাতে মৃত মেয়ের জন্য কাঁদা-কাটার পালা শেষ করে নিদারুণ উৎকণ্ঠা ও ক্লান্তিতে সবেমাত্র ঘুমিয়ে পড়েছিলো। হঠাৎ লোকজনের শোরগোল এবং গাড়োয়া&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-41426"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/41426/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b89c63f2901138f7bff1374e6d549bed</guid>
				<title>শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর and Rupa Khandakar are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/40446/</link>
				<pubDate>Mon, 04 Oct 2021 07:40:16 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ca362614dfb60803080805081c3b0570</guid>
				<title>শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর and Neel tripura are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/40056/</link>
				<pubDate>Sat, 02 Oct 2021 13:24:12 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c7f6fc6aa433b49a87e72a59d75393a2</guid>
				<title>শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর and Rabeya Shuvra are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/39995/</link>
				<pubDate>Sat, 02 Oct 2021 09:10:55 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">35ca077d22992379ace4266c1ab2bbd9</guid>
				<title>শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর and Rejwana Khan are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/39922/</link>
				<pubDate>Sat, 02 Oct 2021 05:23:02 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">5b03974bd51e1d1840d10303e853a274</guid>
				<title>শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর and Himadrika Jahan Shuvra are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/39851/</link>
				<pubDate>Sat, 02 Oct 2021 00:55:30 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9a3cddda73757969adfa72221158d3d4</guid>
				<title>শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর and Ismotara Eva are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/39836/</link>
				<pubDate>Fri, 01 Oct 2021 19:35:28 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">377c5d47e8bfd68ab7a206d5b0492d63</guid>
				<title>শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর and Sazin Chowdhury are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/39818/</link>
				<pubDate>Fri, 01 Oct 2021 18:56:40 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6fb89716f508415040c14cf5cee1d766</guid>
				<title>স্বার্থপর
( ছোটগল্প )
-শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর
আমার সাথে আগে কখনো হিমাদ্রির দেখা হয়নি। তবে অল্প কদিনের পরিচয়ে আমার অন্তরের গহীনে হিমাদ্রি যে নোঙর ফেলেছিলো, তা অদ্যাবধি অস্খলিতই রয়ে গেছে। নিরন্তর চেষ্টায় না তাকে ভুলতে পেরেছি, না সে অদৃশ্য বন্ধন থেকে এতটা বছরেও মুক্তি মিলেছে। 
তখন সবেমাত্র আমার বিয়ে হয়েছে। পুরান ঢাকার গেণ্ডারিয়ায় জড়াজীর্ণ দোতলা একটি বাড়িতে থাকি। নতুন বিয়ে হওয়া সত্ত্বেও আমার প্রতি খুব একটা মনোযোগ ছিলোনা জাহিদের। মন খারাপ করে সারাদিন বিছানায় উপুড় হয়ে পড়ে থাকতাম। এভাবেই আমাদের দাম্পত্য জীবনের বছর কয়েক নিরুৎসব নিরানন্দেই কেটে গেছে।
জাহিদের এরূপ অবহেলা প্রথম দিকে আমাকে পীড়া দিলেও ধীরে ধীরে সেটা আমার নিয়তি বলেই আমি মেনে নিয়ে ছিলাম। অবশ্য মেনে না নিয়েও কোনো উপায় ছিলোনা। অভিমান করে বাবার বাড়ি চলে যাবো এমন দুঃসাহস দেখাবার সামর্থ আমার ছিলোনা। কারণ আমার বাবার আর্থিক অবস্থা খুব সঙ্কটাপন্ন ছিলো। অসুস্থ মা আর ভাই-বোনদের নিয়ে বাবা কোনো রকমে খেয়ে, না খেয়ে দিন পার করতেন। আর তাই বাধ্য হয়ে আমি জাহিদের সমস্ত অন্যায় আচরণ নিঃসঙ্কোচে মেনে নিয়েছিলাম। 
একদিন অপরাহ্ণে জাহিদের কোনো এক দূরসম্পর্কের আত্মীয়ের বাড়িতে নিমন্ত্রণ শেষে ঘরে ফিরে শ্রান্ত হয়ে জানালার পাশে গিয়ে বসলাম। হঠাৎ আমার ফোন বেজে উঠলো। ও পাশ থেকে একটি ভীরু আগ্রহভরা কণ্ঠ কোনোরূপ ভণিতা না করেই সোজাসুজি আমাকে বললো-
কেমন আছেন? আপনি আমাকে চিনবেন না।বিয়ে বাড়িতে আজ আপনাকে প্রথম দেখেছি।
ময়ূরকণ্ঠী শাড়িতে আপনাকে বেশ লাগছিলো ! 
আমি কিছুটা বিব্রত, সেই সাথে বিরক্তও হলাম। অপরিচিত একজন অহেতুক প্রশংসা করছে। কারণ আমি জানি শাড়িতে আমাকে কখনোই মানায় না। তবে কোনো বিশেষ উৎসবে অভ্যাসবশত মাঝে মধ্যে পরি। শাড়ি পরার অভ্যাসটা আমার কলেজ জীবন থেকেই। ম্যাট্রিক পাস করে কলেজে যখন ভর্তি হই, তখন কলেজের নবীন বরণ উৎসব উপলক্ষে বাবা আমাকে শখ করে একটি শাড়ি কিনে দিয়েছিলেন। শাড়িটি কিনে এনে বাবা আমার পড়ার টেবিলে রেখে বলেছিলেন-
বুড়ি, যা শাড়িটা পরে আয়; দেখি, তোকে আমার মায়ের মতন লাগে কিনা ?
খুব ছেলেবেলায় বাবা তাঁর মাকে হারিয়েছিলেন। আর তাই জন্মাবধি মায়ের সে শূন্যতা বাবাকে ভীষণ কষ্ট দিতো। আমি ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকেই বাবা সবাইকে বলে বেড়াতেন, আমি নাকি দেখতে অবিকল তাঁর মায়ের মতন হয়েছি। আমার মাঝে দাদিকে কল্পনা করে বাবা তাঁর মায়ের শূন্যতা পূরণ করার চেষ্টা করতেন।   
আমি রাগ করে ফোনটা রেখে দিলাম। পুনরায় ছেলেটি ফোন দিয়ে বললো-
রাগ করবেন না, প্লিজ ! আপনাকে ফোন দিয়ে বিরক্ত করার জন্য আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
আমার মনটা খুব বিষন্ন হয়ে গেলো। মনে মনে ভাবলাম, ছেলেটির সাথে রাগ করে ফোনটা রেখে দেয়া ঠিক হয়নি।
তারপর বেশ কয়েকদিন পার হয়ে গেলো। ছেলেটি আর ফোন দিলোনা। ছেলেটির সম্পর্কে আমার কৌতুহল বেড়ে গেলো। 
একদিন শ্রাবণের সন্ধ্যায় অবিরাম বৃষ্টি শেষে আকাশ ঘন মেঘে আচ্ছন্ন হয়ে আছে। মনটা খুব অস্থির বিবাগী হয়ে গেলো। আপন জনের সান্নিধ্য পেতে মনটা আনচান করতে লাগলো। দীর্ঘ সময় জাহিদের অপেক্ষায় থাকলাম। জাহিদ অফিস থেকে বাসায় ফিরলো না। অবশেষে জাহিদের উপর বিরক্ত হয়ে ছেলেটিকে ফোন দিলাম। ফোন পেয়ে ছেলেটি ভয়ে সংকোচিত হয়ে পড়লো। আলাপচারিতায় জানতে পারলাম, ওর নাম হিমাদ্রি। ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে জোওলজিতে পড়ে। সেদিন অনেক কথা হলো হিমাদ্রির সাথে। কথা বলে ভালোলাগলো হিমাদ্রিকে। তারপর থেকে সারাক্ষণ হিমাদ্রির ফোনের অপেক্ষায় বসে থাকতাম।
হিমাদ্রির সাথে পরিচয়ের পর থেকে আমার দিনগুলো ভালোই কাটছিলো। দুজনে শিকল ছেঁড়া বিহঙ্গের মতো ঘুরে বেড়িয়েছি। একজনের প্রতি আরেকজন দারুণ টান অনুভব করেছি। এভাবে কখন হিমাদ্রির সাথে আমার সম্পর্ক চূড়ান্ত পরিণয়ের দিকে গড়িয়েছে টের পাইনি। হিমাদ্রিকে ছাড়া আমি একমুহূর্ত  ভাবতে পারতাম না। আমার সমস্ত অস্তিত্ব, আমার সমস্ত সত্ত্বা জুড়ে তখন হিমাদ্রির আনাগোনা।  
হিমাদ্রিদের পারিবারিক অবস্থা স্বচ্ছল ছিলোনা। টিউশনির টাকায় কোনো রকমে ওর পড়াশোনার খরচ চলতো। আমি মাঝে মাঝে টাকা দিলে হিমাদ্রি নিতে চাইতো না। আপত্তি করতো। দরিদ্র হলেও হিমাদ্রির আত্মসম্মানবোধ ছিলো প্রবল। ওর এমন প্রাচুর্যময় ব্যক্তিত্ব আমাকে পাগল করে তুললো। শেষমেশ সিদ্ধান্ত নিলাম সবকিছু ছেড়েছুড়ে হিমাদ্রির কাছে চলে যাবো।
একদিন হিমাদ্রিকে ফোন দিয়ে আমার মনের গভীরে অঙ্কুরিত আকাঙ্ক্ষার কথা জানালাম। হিমাদ্রি তেমন সাড়া দিলো না। ওর সাথে দেখা করার জন্য আমি ডাঙায় তোলা মাছের মতন ছটফট করতে লাগলাম। 
দিন যতই গড়াতে থাকলো, হিমাদ্রি ততই আমার কাছ থেকে দূরে সরে যেতে লাগলো। আমি নিজেকে কিছুতেই বুঝাতে পারছিলাম না। অকুল সায়রে ভাসিয়ে দিয়ে হিমাদ্রির দূরে সরে যাওয়া আমাকে আহত করেছিলো খুউব। হিমাদ্রির বিচ্ছেদে অবশেষে আত্মঘাতিনী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। হঠাৎ ঝাঁঝালো রৌদ্রকরোজ্জ্বল এক দুপুরে  হিমাদ্রি আমাকে ফোন দিলো। আমি ব্যাকুল হয়ে হিমাদ্রির ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে হিমাদ্রি নিরাসক্ত গলায় বললো- 
নিউজিল্যান্ড সরকারের বৃত্তি নিয়ে আমি ইউনিভার্সিটি অব ওটাগোতে চলে এসেছি। সময় স্বল্পতার কারণে তোমার সাথে যোগাযোগ করতে পারিনি। আমাকে ক্ষমা করে দিও, মিনতি।
হিমাদ্রির এরূপ আচরণে আমার নিজের উপর প্রচণ্ড ঘেন্না হলো। এতটা দিনেও স্বার্থপর হিমাদ্রিকে আমি চিনতে পারিনি ! আত্মঘাতিনী হওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলাম। কি হবে আত্মঘাতিনী হয়ে ? নিজেকে শেষ করে দিলে কারো কিছু যাবে আসবে না। 
তারপর গড়িয়ে গেলো অনেক দিন। পৃথিবীর সব কিছুই স্বাভাবিক গতিতে চললো। কেবল আমার আর সংসার করা হলোনা। একই ছাদের নিচে থেকেও আমি আর জাহিদ যেন দুই ভুবনের দুই বাসিন্দাই রয়ে গেলাম !</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/39813/</link>
				<pubDate>Fri, 01 Oct 2021 18:25:16 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>স্বার্থপর<br />
( ছোটগল্প )<br />
-শেখ মোহাম্মদ হাসানূর কবীর<br />
আমার সাথে আগে কখনো হিমাদ্রির দেখা হয়নি। তবে অল্প কদিনের পরিচয়ে আমার অন্তরের গহীনে হিমাদ্রি যে নোঙর ফেলেছিলো, তা অদ্যাবধি অস্খলিতই রয়ে গেছে। নিরন্তর চেষ্টায় না তাকে ভুলতে পেরেছি, না সে অদৃশ্য বন্ধন থেকে এতটা বছরেও মুক্তি মিলেছে।<br />
তখন সবেমাত্র আমার বিয়ে হয়েছে। পুরান ঢাকার গেণ্ডারিয়ায় জড়াজীর্ণ দ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-39813"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/39813/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>15</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>