Profile Photo

মো.শাহিদুল ইসলামOffline

  • m.sahid
  • শুনতে খারাপ লাগবে তবে পড়লে হয়ত ভাল লাগবেঃ
    আমার ৬ বছর বয়সে টাইফয়েড জ্বর হয়ে একটি পা প্যারালাইজড হয়ে যায়। তখন থেকেই আমার সুন্দর নামটি “মোঃ শাহিদুল ইসলাম” মনে রাখতে পারেনা মানুষ! যদিওবা নামের কিছুটা অংশ ব্যাবহার করে তবে তার আগে ল্যাংড়া,লুলা বা একটু শুদ্ধ করে প্রতিবন্ধী শব্দটি বসিয়ে দেয়। যদিও আমার সামনে কেউ তা ব্যাবহার করে না,কারন আমি কষ্ট পাব এইটা বুঝে! কিন্ত আড়ালে তার উল্টোটাই সত্যি।

    ১০ বছর বয়সে প্রাইমারির তৃতীয় শ্রেণীতে পড়াকালীন কিছু ঘটনা আমাকে সারা জীবনের পথের দিশা দেখিয়েছে।

    বাংলার পন্ডিত স্যার আমার রোল ১৮ হওয়া সত্বেও ফাষ্ট বেঞ্চে বসার সুযোগ করে দিলেন। দুপুরে টিফিনের সময় প্রায়ই বাসায় হেটে যেতে কষ্ট হবে বলে উনার টিফিনের ভাগ দিতেন। অনেকদিন পরে বুঝেছিলাম এটাকেই বলে করুনা।

    অথচ অংকের কবির স্যার ক্লাসে ঢুকেই আমাকে পিছনের বেঞ্চে ফিরিয়ে নিতেন এবং বলতেন যার যার যোগ্যতা অনুযায়ী বসবে। ক্লাসে আসার পুর্বে চক,ডাষ্টার বা বেত আনেননি একেকদিন একেজনকে পাঠানো হত এমনকি কোনদিন আমাকেও,যা অন্য শিক্ষকরা কখনোই করতেন না। হঠাৎ করেই স্যার বললেন সাহিদ আমার জন্য এক গ্লাস পানি নিয়ে আস,ক্লাসের সবাই অবাক! ফাষ্ট বয় জসিম বলল স্যার আমি নিয়ে আসি। স্যার ধমকদিয়ে বললেন তুমি বস,সেই আনবে।

    বার্ষিক পরিক্ষার রেজাল্টে আমি তৃতীয় হলাম এবং এই ক্লাসেও কবির স্যার আমাদের গনিতের ক্লাস নিতেন। হঠাৎ তিনমাস পর শুনলাম বাবার বদলী হয়ে গেছে এবং আমি এই স্কুল ছাড়ব। স্কুল ছাড়ার আগেরদিন ক্লাসে বসে আছি এমন সময় কবির স্যার ক্লাসে ঢুকেই সবাইকে বললেন,আজ আমি তোমাদের কিছু কথা বলব,কারন কাল থেকে সাহিদ আর আমাদের সাথে ক্লাস করবে না। কিন্ত এই সাহিদকে নিয়ে তোমাদের কিছু প্রশ্ন আমাকে নিয়ে আছে আমি বুঝতে পারি। শুন আমি তাকে ইচ্ছা করেই পিছনের বেঞ্চে বসাতাম যেন সে সামনে আসার চেষ্টা বেশীকরে করে। এবং তোমরা দেখ সে এবার তৃতীয় হয়ে সামনে বসার যোগ্যতা অর্জন করেছে। আমি তাকে পানি,চক বা অন্যান্য কিছুর জন্য পাঠিয়েছি,কারন তার ভেতরে সে শক্তি তৈরি হোক যেন সে ভাবে অন্যরা যা পারে আমিও তাই পারি এবং সে ভাবতে শুরু করুক মানুষ অন্য দশ জনের মত আমিও সব পারি এইটা ভাবতে শুরু করে। এবার স্যার আমাকে বললেন, শুন সবাই তোমাকে বলবে “আমরা যা পারি তা তুমি পারবে না” কারন তোমার শারিরীক প্রতিবন্ধকতাটি তারা দেখবে,কিন্ত তোমার মানষিক শক্তি তারা দেখতে পাবে না। আমি বিশ্বাস করি তুমি তাই করতে পারবে,যা অন্য আরেকজন সাধারন মানুষ করতে পারে।

    আজ ৩৫ বছর পরে এসে বলব,আমি কিছু করতে পেরেছি কি পারি নাই তা জানি না। তবে নিজেকে মানুষ হিসাবে অন্য দশজনের মত করে ভাবতে শিখেছি। আরো কিছুদিন কবির স্যারের সান্নিধ্যে থাকলে বা উনার মত শিক্ষক পেলে হয়ত আরো ভাল কিছু করতে পারতাম।
    মোঃ শাহিদুল ইসলাম
    ২২.০৪.২০২২ ইং

    5
    2 Comments
    • স্বাগত জানাই লেখকমনের সুন্দর ভাবনাগুলোকে। খুব ভালো লাগল আপনার গঠনমূলক লেখাটি।

    • কবির স্যাররা হলেন প্রকৃত মানুষ গড়ার কারিগর। হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে শ্রদ্ধা জানাই এই মহান শিক্ষকদের।

Skip to toolbar