-
পোড়োবাড়ির_রহস্
পর্ব_ষোলযায়িদদের থেকে আলাদা হয়ে তালহা লম্বা করিডোর ধরে একেবারে শেষের ঘরটার কাছে চলে গেলো। প্রথমদিন শব্দ আর গন্ধের জন্য ভয় পেয়ে করিডোর থেকেই ফিরে গিয়েছিলো ওরা। আজকেও সেদিনের মত শব্দ এবং গন্ধ বিরাজ করছে, তবুও আজ আর ভয় করছেনা তালহার। কিছুটা অস্বস্তি ভর করলেও তা উপেক্ষা করে সামনের দিকে এগিয়ে গেলো ও। একদম শেষের ঘরটার দরজার কাছে গিয়ে ধাক্কা দিতে গিয়ে ভেতরের কথার আওয়াজ শুনে থেমে গেলো। পুরানো আমলের বাড়ি বিধায় চারিপাশটায় এবং মাঝখানে মোটা পিলার দিয়ে মজবুত করা হয়েছে। করিডোরের শেষ প্রান্তের দুইটা মোটা পিলারের আড়ালে লুকিয়ে পড়লো তালহা। মনোযোগ দিয়ে ভিতরের কথা শুনতে থাকলো। ভেতরে কয়জন আছে এগুলো কিছুই ওর বোধগম্য হলোনা। সেসব না বুঝলেও কথাগুলো শুনলেও সেখান থেকে ক্লু বের করা যাবে ভেবে মনযোগ দিয়ে কথাটা শোনার চেষ্টা করলো।
আগামী রবিবারের মধ্যে মালগুলো জাহাজে উঠিয়ে দিতে হবে। তাহলে আমাদের হাতে আছে আর মাত্র তিনদিন সময়। মেয়েগুলো থেকে মাত্র একটা মেয়েকে বিদেশী ডেলিগেটসরা পছন্দ করেছেন। ওদের মোট চারজন দরকার। এই মেয়েটার জন্য ৫ লাখ টাকা দিতে রাজী হয়েছে। এই ডিলের ব্যাপারে বাকি কথা ওরা বসের সাথে বলে নিবে।
ওকে কোথায় রেখেছো?
১ নং ঘরে। আর বাকিগুলো এই পাশের ঘরটায় আছে।
বাকি তিনজনকে পতিতালয়ে বিক্রী করে দিয়েছি। ওরা ওদেরকে কালকেই নিয়ে যাবে। ডিলগুলোর ব্যাপারে বসের সাথে কথা বলতে হবে। কথা বলতে বলতে লোকগুলো বেরিয়ে আসলো। পিলারে আড়ালে থাকার কারণে ওকে দেখতে পায়নি। লোকগুলো করিডোর ধরে ওরা যেদিক দিয়ে ঢুকেছে সেদিকে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর তালহা পিলারের পেছন থেকে বের হয়ে সামনের দিকে যেতে গেলেই দৃশ্যটা তার দৃষ্টিগোচর হয়। দূর থেকে দেখলেও বুঝতে পারলো লোকদুজন মুসায়েবকে ধরে একটা ঘরের সামনে দাঁড় করালো। ওরা পেছনে তাকালেই তালহা সেখান থেকে দ্রুত পিলারের আড়ালে সরে পড়ে। সেখান থেকেই ঘরের ভেতরটা দেখতে পায় ও। লোক দুইজনের হাতে টর্চের আলো ছিলো তাই ভেতরের সবকিছু অনায়াসেই দেখা যাচ্ছিলো। দুজনেরই মুখটা এমনভাবে মাস্ক দিয়ে মোড়ানো যে তাদের চেহারা দেখার উপায় নেই। ঘরের ভেতরকার দৃশ্য দেখতে পেলেও ওদের কথোপকথনের ছিটেফোঁটাও কানে আসছেনা ওর। যায়িদের সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে তারপর মুসায়েবকে যায়িদের সাথে রেখে ঘরটা বাইরে থেকে তালা মেরে দিলো। তারপর চারিদিকে তাকাতে তাকাতে করিডোর ধরে এদিকেই এগোতে লাগলো। ওদের আসতে দেখে তালহা পিলারের আড়ালে লুকিয়ে পড়লো। কিছুক্ষণ পর লোকগুলোকে আবার ফেরত যেতে দেখে তালহা পিলারের আড়াল থেকে মুখ বের করে ওদের কার্যকলাপ দেখতে লাগলো। মশার কামড়ে তালহার প্রাণ বের হয়ে যাওয়ার যোগাড়। কিন্তু নড়াচড়া করছেনা যদি কোন শব্দ হয় তাহলে ও ধরা পড়ে যেতে পারে। পিলারের সাথে ঘেঁষে দাঁড়িয়ে পড়লো।। লোকগুলো ওকে পার হয়ে সামনে যাওয়ার সময় বলতে লাগলো, ঐ চালাক ছেলেটাকে নিশ্চয় এখানে কোথাও আছে। ওকে খুঁজে বের করতে হবে।
ওদের মধ্যে একজনের ফোন বেজে উঠলো। লোকটা থেমে গিয়ে ফোনটা ধরে বলল, হ্যালো স্যার? অন্য লোকটাও পাশে দাঁড়িয়ে গেলো। ওপাশ থেকে কি বলল তা জানা গেলোনা। কিন্তু কথাটা শুনে লোকটা আগের তুলনায় একটু বেশি জোরে বলে উঠলো, কি বলেন স্যার। তাহলে ঐ বিচ্ছুগুলাই বোধহয় এ কাজ করেছে। দুইটাকে ঘরের মধ্যে আঁটকে রাখছি। কিন্তু সবথেকে চালাক যেইটা, ঐ যে তালহা, যেটারে আগের বার ধরছিলাম, ওকে খুঁজে পাইনি। আমার মনে এদের দুইজনকে এখানে রেখে তালহা আপনার অফিসে গিয়ে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে। তাহলে ছেলেটা ঐ বাসার আশেপাশেই আছে। ঠিক আছে আমরা এখুনি আসছি বলে ফোটনা কেটে দিলো। ফোনটা কান থেকে সরিয়ে সাথের লোকটাকে বলল, স্যারের বাড়ি নাকি কারা ঢুকে স্যারের ডায়েরি আর একটা পাসপোর্ট আকারের ছবি নিয়ে চলে গেছে। আমার ধারণা তালহা ছেলেটা ঐ বাসাটার আশেপাশেই আছে। এখানে থেকে আরা লাভ নেই। স্যার আমাদের ডেকে পাঠিয়েছেন। কথা বলতে বলতে লোকগুলো চলে গেলো।
লোকগুলোর বেরিয়ে যাওয়ার পরও কিছুক্ষণ আড়ালে থাকলো তালহা। তারপর যখন মনে হলো ওরা আর কাছে ধারে নেই তখন বের হয়ে আসলো। যে ঘরটায় যায়িদ আর মুসায়েবকে আটকে রাখা হয়েছে সে ঘরের সামনে চলে গেলো। মাল্টি নাইফটা বের করে তালাটা খুলে ফেললো। ভেতরে ঢুকে যায়িদ আর মুসায়েবকে টান টান হয়ে শুয়ে থাকতে দেখলো। কাছে গিয়ে ওদেরকে ডাক দিলো।
বাইরের দরজা খোলার শব্দ শুনে যায়িদরা ভেবেছিলো লোকগুলোই আবার ফিরে এসেছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব মুসায়েবকে নিয়ে শুয়ে পড়েছিলো যায়িদ। তালহার কন্ঠ শুনে তড়াক করে উঠে পড়লো। মুসায়েব চোখ বড় বড় করে বললো, তুই! আমরাতো ভেবেছিলাম ঐ লোকগুলোই আবার ফিরে এসেছে। ওরা তোকে খুঁজে পায়নি?
তোদের এখানে তালা মেরে রেখে আমাকেই খুজছিলো; একটা ফোন আসাতে ওদের চলে যেতে হয়েছে। এসব ব্যাপারে পরে কথা হবে। এখন আমাদের হাতে একদমই সময় নেই। লোক দুইজন আবার ফিরে আসার আগেই আমাদের এখান থেকে চলে যেতে হবে।
তাহলে রহস্যের কি হবে? আমার ধারণা সব রহস্য এই ঘরটাতেই আছে।
এই ঘর মানে? অবাকের সুরে বলল তালহা।
যায়িদ মেলামাইন বোর্ড দিয়ে আটকানো ঘরটা দেখিয়ে বলল, এই ঘরটার দেয়াল জুড়ে অনেকগুলো মেয়ের ছবি। এছাড়া ………………………
ওকে কথাটা শেষ করতে না দিয়ে তালহা বললো, এসব কথা বাসায় গিয়ে আলাপ করবো। এখন এখানে আর এক মুহূর্তও থাকা সম্ভবনা। প্রায় টানতে টানতে বন্ধু দুজনকে বাইরে বের করে নিয়ে এসে ঘরটাতে আর তালা লাগিয়ে দিলো। দ্রুততার সাথে সেখান থেকে বেরিয়ে পড়লো ওরা। দেবদারু গাছের ফাঁকে রাখা ব্যাগগুলো নিয়ে এক প্রকার দৌড়ে বড় রাস্তায় উঠে গেলো।
গাড়িটাতো ছেড়ে দিলি এখন কীভাবে যাবো আমরা? কপট রাগ দেখিয়ে কথাটা বলল মুসায়েব।
সেটা যে আমি ভাবিনি তা কিন্তু না। কিন্তু গাড়িটা এখানে দাঁড় করিয়ে রাখাটাও ঝুঁকিপূর্ণ ছিলো। এখনও কিন্তু বেশি রাত হয়নি। মাত্র এগারোটা বাজে। আমি এখনই এখান থেকে যেতে চাইনা। চল আমরা এ পাশটায় লুকিয়ে থাকি। লোকগুলো এখনও বের হয়নি। আরও কিছুক্ষণ থেকে দেখি কি হয় এখানে?
বেশি রাত হলে আমরা যাবো কি করে?
এতো অস্থির হচ্ছিস কেন? দরকার হয় যাবোনা। আশেপাশেই থেকে যাবো। একটু থেমে আবার বলল,
এবার ভাবছি মাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে একটা ফোন কিনে নিবো। এসব কাজে নেমেছি অথচ কারো সাথে আমাদের যোগাযোগের কোন ব্যবস্থা নেই। এখন একটা ফোন থাকলে সবার সাথে যোগাযোগ করতে পারতাম! ছোট মামাকে গাড়িটা পাঠিয়ে দিতে বলতে পারতাম!
ছেলেটাকে খুঁজে বের করতে পারলেনা? আমার ধারণা ও আশে পাশেই আছে। আমার ধারণা ছেলেটা শান্ত কুটিরে আবার ঢুকবে। ওর বন্ধুদের না নিয়ে ওর এখান থেকে যাওয়ার কথা না।
কিন্তু সেদিনওতো ওরা তিনজন ছিলো। বাকি দুজন ওকে না পেয়ে একবারও কি খোঁজ করেছে?
নিশ্চয় করেছে। তবে আজকের পরিস্থিতিটা অন্যরকম। ওরা এখন এই ব্যাপারে অনেকটা এগিয়ে গেছে। এখন ওদের ভয়টাও কমে গেছে। যেহেতু ভেতরটা গতদিনের থেকে আজকে বেশি পরিচিত হয়ে গেছে তাই তালহা অবশ্যই ওর বন্ধুদেরকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। তোমরা বরং ভেতরটা আবার দেখে আসো। রাস্তার পাশে লাগানো দেবদারু গাছে আড়ালে লুকিয়ে ছিলো তালহারা। বড় রাস্তা থেকে শান্ত কুটিরে যাওয়ার সময় গুঞ্জন শুনতে পেয়ে বুঝতে পারে লোকগুলো এদিকটায় আসছে। তাই আর সামনে না এগিয়ে তালহা বন্ধুদের নিয়ে গাছগুলোর আড়ালে দাঁড়িয়ে পড়ে। তখনই কথাগুলো ওদের কানে যায়। মশা আর পোকামাকড়ের অত্যাচার সহ্য করে কোন শব্দ না করে ওদেরকে দাড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। কারণ একটু নড়াচড়া করলেই ধরা পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এতক্ষণ শুধু কথা শুনতে পেলেও এখন স্পষ্ট তিনজনকে এদিকে হেঁটে আসতে দেখা যাচ্ছ। রাস্তায় কোন লাইট না থাকলেও বড় রাস্তায় লাগানো সোডিয়াম বাতি থেকে আসা আবছায়া আলোতে লোক তিনজনকে চিনতে অসুবিধা হলোনা ওদের। ওদের মধ্যে দুইজন শান্ত কুটিরে যে দুজনকে দেখেছিলো তারা আর তৃতীয় জন হলো গতকাল রহস্যজনক বাড়িটাতে যাকে ঢুকতে দেখেছিলো সে। তৃতীয় লোকটার সাথে বাকি দুজনের কথা বলার ধরণ দেখে বোঝা যাচ্ছে এই লোকটাই ওদের বস। লোকটার মধ্যে একটা কেতাদুরস্ত ভাব আছে যেটা দেখে সহজেই তার অবস্থান আঁচ করা যায়। অবশ্য এদের বসের কোন ঠিক নেই। বসের উপরে বস তার উপরে বস, বসেরই কয়েকটা স্তর থাকে।
তিনজনই মাস্ক দিয়ে এমনভাবে মুখ ঢেকে রেখেছে দেখার উপায় নেই। শুধু কপাল আর চোখ দুইটা দেখা যাচ্ছে। একজনকে দেখে তালহার কাছে খুব সেদিনকার সেই লিটনের মতো মনে হচ্ছে এবং কণ্ঠস্বরও ঐ লোকটার কথাই বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে তালহাকে। বন্ধুদেরকে বলেও ফেললো ওর মনের কথাটা। ওর কথা শুনে যায়িদ আর মুসায়েব দুইজন একসাথেই বলে উঠলো হ্যা ঐ লোকটাতো লিটনই। আমাদের যখন ধরেছে তখন অন্যজন ওকে লিটন বলে ডেকেছে।
ওদের কথা শুনে তালহা নিশ্চিত হলো। কিছু একটা জয় করে ফেলেছে এমন একটা হাসি দিয়ে বলল, ও তাহলে এরাই আমাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিলো!
বসের কথামত লোক দুইজন ওদের খোঁজার জন্য আবার শান্তকুটিরের দিকে চলে গেলো। ওরা চলে গেলে লোকটা কাকে যেন ফোন করলো। ফোনটা কানে ধরে রেখেছে কিন্তু কোন কথা বলছেনা। বোঝায় যাচ্ছে ওপাশ থেকে রিসিভ হয়নি। কান থেকে ফোনটা নামিয়ে আবার কল করলো। প্রথমবার রিসিভ না হওয়ার কারণে কেটে গেছে বিধায় আবার করতে হলো। এবারো অনেকক্ষণ কানে ধরে রাখার পর কোন কথা না বলে আবার ডায়াল করলো। এভাবে ছয়বার কল করার পর ফোনটা রিসিভ হলো। এবার অবশ্য ফোনটা কানে না দিয়ে স্পিকারে কথা বলছে লোকটা। তাই সব কথা শোনা যাচ্ছে। চার কি পাঁচবার রিং হওয়ার ঐ পাশ থেকে গমগমে কন্ঠস্বরে একজন লোক বলল হ্যালো ফরহাদ স্পিকিং।
হ্যালো আমি আজাদ চৌধুরী বলছিলাম। আপনাদের সাথে আমাদের সবরকম আর্থিক লেনদেল শেষ। আপনারা আমাদের ক্লাইন্ট তাই আপনাদের সবরকম সুবিধা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। আমাদের এখানে সব কাজ শেষ। পরশু আপনাদের কাছে আমাদের মাল পৌঁছে যাবে তখন বাকি টাকাটা দিয়ে দিবেন। অরণি ফাইভ স্টার হোটেলে হবে লেনদেনটা। কাল আমার অন্য এক জায়গায় প্রোগ্রাম আছে এজন্য কালকের দিনটা ফাঁকা রেখেছি, নইলে কালকেই আপনার সাথে দেখা করতাম।
ঠিক আছে। স্পিকার দেওয়া থাকায় কথাগুলো তালহাদের কানেও গেলো। কিছুক্ষণ পর বাকি লোকদুটো ঝড়ের বেগে ছুটে এসে বলল, স্যার সর্বনাশ হয়ে গেছে!
কি সর্বনাশ?
ছেলে দুইটা পালিয়েছে। আমরা প্রথমে গিয়ে দেখলাম সব ঠিকঠাক আছে। যে ঘরটায় ওদের বন্দী করে রেখেছি ওখানে তালাটা ঠিকমত ঝুলতে দেখে ভাবলাম যাক ছেলে দুইটা আঁটকে আছে। ওদের আরেকজন নিশ্চয় আমাদের শব্দ শুনতে পেয়ে পালিয়েছে। এসব ভেবে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে চলে আসতে গিয়ে আবার ফিরে গিয়ে দরজাটা খুলে দেখি ভেতরে কেউ নেই।
তোমাদের দুজনের একসাথে আমার কাছে যাওয়াটা ঠিক হয়নি। তালহা ছেলেটা ওখানেই ছিলো তোমরা বের হওয়ার পরে ও ওদেরকে বের করে নিয়ে যায়।
কিন্তু তালাটা খুললো কি করে ?
একটা বুদ্ধুর মতো কথা বললে! একটা তালা খোলা কি এমন ব্যাপার?
তাহলে স্যার আপনার অফিসে কারা হানা দিলো?
লোকটা কোন উত্তর না দিয়ে চিন্তিত মুখে তার চ্যালা দুইজনকে নিয়ে বের হয়ে গেলো।
চলবে3 Comments
Friends
Shoriful Shoron
@shoriful-shoron
আনোয়ার পারভেজ নূর শিশির
@anwar-parvez-nur-shishir
Morsalin Islam Shouradip
@morsalinshouradip
জাস্রা জুমান
@nmafin4gmil-com
Hijbullah hiju
@hijbullah
মোঃ রিদওয়ান আল হাসান
@mridwanalhasan
মাহ্দী সাকিব
@mahdi-sakib
Md.Emamuzzaman Wahedi
@emamuzzaman
ইফতিশা খানম
@eftishakhanam



এগিয়ে যান….