Profile Photo

mahamuda khaunOffline

  • mahamuda
  • Profile picture of mahamuda khaun

    mahamuda khaun

    4 years ago

    পোড়োবাড়ির_রহস্য

    পর্ব_উনিশ
    তিনজন লোক তিনটা মেয়েকে নিয়ে শান্ত কুটির থেকে বের হয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে কি যেন আলাপ করছিলো। লোকগুলোকে দেখে চিনতে না পারলেও মেয়ে তিনজনকে তালহা ঠিকই চিনতে পেরেছে। গত পরশু যে চারটা মেয়ে অপহৃত হয়েছিলো তাদের মধ্যকার তিনজন এরা। তাহলে গতকাল যে বলেছিলো তিনজনকে নিষিদ্ধ পল্লিতে আর একজনকে বিদেশী ডেলিগেটসদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে; এই চারজনকে নিয়েই কথা বলছিলো? তিনজন লোকের মধ্যে একজনের পেছন পাশ দেখা যাচ্ছে। পেছন পাশ দেখা গেলেও তালহার মনে হলো লোকটাকে সে চিনে। হ্যা মনে পড়েছে। এইতো সেই লিটন নামের লোকটা। তারমানে ও ভুল পথে এগোয়নি। তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া লোকগুলোর সাথে পোড়োবাড়ির যে গভীর সংযোগ আছে বলে ওর মনে হয়েছিলো তা অমূলক না। বাকি দুজনকে স্পষ্ট দেখা না গেলেও ওদেরকে যে কখনও দেখেনি তা ঠিক বুঝতে পারছে। লোকগুলো কি নিয়ে কথা বলছে তা শোনার চেষ্টা করেও শুনতে পারছেনা তালহা। ওদিকে যায়িদের কি খবর কে জানে? মুসায়েব নিশ্চয় ওর কাছে খবর পাঠিয়েছে। কিছুক্ষণ পর ভেতর থেকে একটা লোক দৌড়ে এসে বললো, স্যার ছেলেটাকেতো কোথাও খুঁজে পেলামনা। মনে হয় পালিয়েছে।
    আমার মনে হয়না পালাবে। এবং ও একা আসেনি, দল বেঁধেই এসেছে। ওদেরকে খুঁজে বের করতে না পারলে আমাদের কাজে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে। গতবার পেয়ে ছেড়ে দিয়েছিলাম কিন্তু এবার পেলে আর ছাড়াছাড়ি নেই। ভালো করে খুঁজে দ্যাখ।
    কিন্তু আমি একা কীভাবে খুঁজে বের করবো?
    তুমি এদিকটায় দেখতে থাকো আমি ড্রাইভারটাকেও পাঠাচ্ছি।
    আমরা কি কোন সাহায্য করতে পারি। সাথের লোক দুজন বলে উঠলো।
    এক কাজ করা যায় মেয়েগুলোকে মাইক্রোতে লক করে রেখে আমরা সবাই মিলে খুঁজি। ছড়িয়ে ছিটিয়ে না খুঁজলে বিচ্ছুগুলোকে পাওয়া যাবেনা।
    কিন্তু স্যার মেয়েগুলোকে গাড়িতে রেখে এসে আমরা সবাই এদিকে চলে আসলে ওরা যদি মেয়েগুলোকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়?
    না, তা করবেনা। কারণ ওদের উদ্দেশ্য আমাদের ঘাঁটি আবিষ্কার করা। শুধু মেয়েগুলোকে নিয়ে চলে গেলে ওদের পক্ষে সেটা সম্ভব হবেনা। তোমরা ছড়িয়ে পড়।
    দুইজন লোক ভেতরে থেকে খোঁজা শুরু করলো আর লিটন আর বাকি লোকটা মেয়েগুলোকে নিয়ে বাইরের দিকে ওদের গাড়ি যেখানে আছে সেখানে চলে গেলো। তালহা ঠিক ওদের কয়েক কদম পেছনে আছে। ঘুরে ভেতরের দিকে আসলেই ওকে দেখে ফেলবে, কথাটা ভেবে ও তৎপর হয়ে উঠলো। কোন নড়াচড়া না করে কথাগুলো যায়িদ আর মুসায়েবকে মেসেজ করে দিলো। লোক দুজন তার টর্চটা জালিয়ে নিলো। তালহা যেখানে দাঁড়িয়ে আছে তার থেকে কয়েক কদম ডানে গেলেই সীমানা পাঁচিল। পাঁচিল ঘেঁষে লাগানো আছে নানারকম গাছপালা। নারিকেল, সুপারি, আর তাল গাছের মত উঁচু গাছের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে বিভিন্ন ধরণের ফল আর জংলী ফুলের গাছ। তালহা সন্তপর্নে একটা লতানো গাছে আড়ালে চলে গেলো। একটা আলোক রশ্মি এদিকে আসতে দেখে তালহা বুঝলো লোকটা এদিকেই আসছে। অল্প আলোতে যতটুকু দেখেছে তাতে তালহার মনে হয়েছে লোকটা একটু ভিতু গোছের। খুঁজতে হবে শুনে যে প্রতিক্রিয়া দেখালো তখন তাতে ওর ধারণ আরও স্পষ্ট হয়েছে। আলোক রশ্মিটা ধীরে ধীরে কাছে আসতে থাকলো। তালহার মনে হলো এবার বুঝি ধরা পড়ে যাবে। ওর সাথের লোকটা খুঁজতে খুঁজতে একদম ভেতরে চলে গেছে। ওর দিকে আসা লোকটা এখন ওর থেকে মাত্র দুই কদম দূরে দাঁড়িয়ে আছে। মাথা ঘুরিয়ে পেছনে তাকালেই ওকে দেখতে পাবে। তালহা যে লতানো গাছটার পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলো তা দিয়ে ওর শরীর ঢাকলেও পা দুইটা ঠিক বের হয়ে ছিল। নিজেকে আর একটু আড়াল করে মুখ দিয়ে একটা বিদঘুটে আওয়াজ করলো। দুইবার আওয়াজ করার পর লোকটা দিশেহারার মত চারিদিকে তাকাতে থাকলো। তালহা আবারও শব্দট করলো। লোকটা তালহার দিকে পিঠ দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো। সেই অবস্থাতেই সামনের দিকে তাকিয়ে ভীত পদক্ষেপে এক পা এক পা করে পেছনের দিকে হাঁটা শুরু করলো। অবশেষে তালহার সাথে ধাক্কা লেগে পড়ে গেলো। তালহা সেটাই চাচ্ছিলো। ক্লোরোফর্মের মিশ্রণটা বের করে ওর নাকে মুখে স্প্রে করে দিলো। লোকটা অজ্ঞান হয়ে গেলে টেনে আড়ালে শুইয়ে দুইটা নারিকেল পাতা দিয়ে ঢেকে দিলো তালহা। কাজটা করে আবার আগের জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো। যে লোকটা ভেতরের দিকে চলে গিয়েছিলো সে এতক্ষণে ফিরে আসছে। মজিদ, মজিদ বলে ডাকতে এগিয়ে আসছে। যে লোকটাকে অজ্ঞান করা হয়েছে সেই যে মজিদ বুঝতে পারলো তালহা। একটা শিস বাজিয়ে আড়ালে চলে গেলো ও। এদিক ওদিক তাকিয়ে খুঁজতে লাগলো লোকটা আর বলতে লাগলো মজিদ তুমি কি আমার সাথে মশকরা করছো?
    তালহা ওর রেকর্ডারে করে কিছু উদ্ভট শব্দ রেকর্ড করে নিয়ে এসেছিলো। ওগুলো ছেড়ে দিলো। এতক্ষণ লোকটা বেশ সাহস দেখালেও এখন পড়িমরি করে বাইরের দিকে দৌড় দিলো। তালহা আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা না করে আড়াল থেকে বের হয়ে আসলো। চারপাশ সতর্ক চোখে দেখে নিয়ে সামনের দিকে এগোতে থাকে। তবে এখন কেউ এসে পড়লে ধরা নির্ঘাত পড়ে যাবে তালহা। কারণ এখান থেকে লুকিয়ে যাওয়ার কোন জায়গা নেই। খুব সহজেই জায়গাটা পার হয়ে শান্ত নীর থেকে বের হয়ে দেবদারু গাছের মধ্যে ঢুকে পড়ে তাহলা। মুসায়েবকে ম্যাসেজ করতে গিয়ে খেয়াল করলো তার ফোনে ১৫ টা মিস কল। সবগুলোই যায়িদ আর মুসায়েবের করা। একটা মেসেজ দেখে খুলে পড়লো। ‘ আমরা বড় রাস্তার মাথায় গাড়ি নিয়ে তোর জন্য অপেক্ষা করছি।’
    মেসেজটা পড়ে একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেললো তালহা। যাক তার বন্ধুরা নিরাপদে আছে। তালহা দেবদারু গাছ ঘেরা ঝোপের মধ্যে দিয়ে এগোতে লাগলো। কিছুদূর গিয়ে রাস্তার উপর মাইক্রোটা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলো। ওদের মধ্যকার কথা শুনে দাড়িয়ে পড়লো। রিশাদ সাহেব মজিদ কোথায়?
    কেন ও এদিকে আসেনি? আমিতো ভেতরে সুইমিং পুলের আশপাশ দিয়ে বাড়িটার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত খুঁজেও যখন কাউকে পেলামনা তখন আমি চিৎকার করে মজিদ মজিদ বলে ডাকতে থাকি কিন্তু কিন্তু কোন সাড়া পেলামনা। হঠাৎ কেমন সব শব্দ শুনতে পেলাম। মনে হলো এজন্যই এ বাড়িতে কেউ আসতে চায়না। আমার পক্ষে আর ঐখানে দাঁড়ানো সম্ভব হলোনা। তাই ছুটে বাইরে চলে এসেছি। আমি ধারণা করেছিলাম মজিদ আমার আগেই ওখান থেকে পালিয়াছে। কিন্তু এখন দেখছি আমার ধারণা ভুল। ওকে বোধহয় জীনে ধরেছে।
    চুপ করুন! আর একটাও বাজে কথা বলবেননা। এই রকম চড়ুই পাখির প্রাণ নিয়ে এসব সমাজবিরোধী কাজ করেন কীভাবে। অবশ্য আপনিতো আর হোতা না, সামান্য একজন কর্মচারি। এখানে ড্রাইভারটা অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। তার মানে বিচ্ছুগুলো আশেপাশেই আছে। ওরা ছাড়া ে কাজ আর কে করবে? এদিকে সব জায়গা খোঁজা শেষ । এখানেও নেই ভেতরেও নেই, তাহলে গেলো কোথায়? আচ্ছা এই ঝোপের মধ্যেতো খোঁজা হলোনা!
    কথাটা শুনে তালহা তটস্থ হয়ে কেউ আসলে কি করবে তা প্লান করে ফেললো। ওরা মানুষ মাত্র তিনজন। লিটন নামক লোকটা রিশাদকে দেবদারু গাছের ভিতর ঢুকে তল্লাশি চালাতে বললো। কিন্তু লোকটা ভয়ে এদিকে এগোচ্ছেনা। অন্য লোকটাকে উদ্দেশ্য করে বলল, হুমায়ুন শাহ্‌ আপনি যান।
    দেখুন লিটন এসব আপনাদের ব্যাপার স্যাপার, আপনারাই দেখেন। আমদের সাথে আপনাদের সম্পর্ক শুধু লেনদেন। সেটা শেষ হয়ে গেছে। আমরা অন্যের কাজ করি। এখন আমাদের ড্রাইভারটার জ্ঞান ফিরলে আমরা চলে যাবো। এসব উটকো ঝামেলার মধ্যে যেতে চাইনা। কথা বলেই লোকটা গাড়িতে উঠে বসলো।
    লিটন সাহেব বেকায়দায় পড়ে গেলেন প্রথমে সাহস দেখালেও পরে বললেন আমিও আপনাদের মত অন্যের কাজ করে খাই। আজ পর্যন্ত স্যারের টিকিটাও দেখিনি। তবে আপনাদের সাথে আমাদেরকেও যেতে হবে। ডিলিংস এর সম্পূর্ণ টাকাটাতো এখনও হাতে পাইনি।
    এসব কাজে এমনই হয়। উপরের লোকদের নাগাল সহজেই পাওয়া যায়না। আচ্ছা আপনারা ছাড়া অন্য একজনের সাথে আমার ফোনে কথা হয়েছে সে কে? উনিই কি আপনাদের বস।
    আরে না না। উনিও আমাদের মত একজন, তবে উপরের পদে আছেন। এখন এই ছেলেটাকে আমি কোথায় খুজবো? কথাটা বলতে দেরি কিন্তু মজিদের আসতে দেরি হলোনা। হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে স্যার এই ভূতুড়ে বাড়িতে আমি আর আসতে চাইনা।
    লিটন একটা ধমক দিয়ে বলল, চুপ কর গর্ধব। ঐ বিচ্ছু ছেলেগুলো এখানে আছে। ওদেরকে খুঁজতে হবে।
    না বাবা আমি এই বাড়ির ভেতরে ঢুকতে পারবেনা। আর তাছাড়া আমার মনে হয়না ওখানে কেউ আছে। থাকলেও ওদের বুদ্ধি আমাদের থেকে ঢের বেশি। এতক্ষণে চলেও গেছে।
    ওদের কথা বলায় ব্যস্ত দেখে তালহা ধীরে ধীরে পা চালিয়ে বড় রাস্তায় উঠে গেলো। একটু সামনে এগিয়েই গাড়িটা দেখতে পেল। কালক্ষেপণ না করে গাড়িতে উঠে পড়লো তালহা। দশ মিনিট পর লিটনদের মাইক্রোটা আসতে দেখা গেলো। তালহাদের ড্রাইভারকে দশ -মিনিট অপেক্ষা করে তবেই মাইক্রোটাকে অনুসরণ করতে বললো তালহা।
    তালহাদের গাড়ি থেমে থেমে মাইক্রোটাকে অনুসরণ করতে লাগলো। আধগণ্টা পর একটা বিলাসবহুল বাড়ির সামনে গাড়িটা থামলো। তালহা একটু অবাকই হলো। ও ভেবেছিলো গাড়িটা সরাসরি কোন নিষিদ্ধ পল্লীতে যাবে কিন্তু এখানে থামলো কেন বুঝতে পারছেনা। ভেতরে নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। ওদেরকে ধোকা দিচ্ছেনাতো? বাড়িটা বেশ বড় জায়গা জুড়ে বানানো হয়েছে। তবে এমন জায়গায় এরকম একটা বাড়ি দেখে অবাক না হয়ে পারলোনা ওরা। শহর থেকে বেশ দূরে জায়গাটা। বাড়ির চারপাশে অনেক গাছপালা থাকলেও কেমন জঙ্গলের মত হয়ে আছে। গাড়ি থেকে নেমে ড্রাইভারকে গাড়িটা আড়ালে নিয়ে যেতে বললো। খুব সাবধানে গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকে জংলা গাছগুলোর মধ্যে লুকিয়ে পড়লো। লিটনদের গাড়িটা গেট দিয়ে ঢুকে একদম ভেতরে চলে গেলো। একে একে সবাই গাড়ি থেকে নেমে পড়লো। লিটন সাহেবকেও দেখতে পেলো। গাড়ি থেকে নেমে ওরা গটগট করে ভেতরে চলে গেলো।
    কি ব্যাপারে মেয়েগুলোকে দেখছিনা যে? উৎকণ্ঠার সাথে কথাটা বলল যায়িদ।
    আমার মনে হয় ওরা আমাদের ধোকা দিয়েছে। মাঝখানে কোথাও ওদেরকে রেখে আসেনিতো? সর্বনাশ! এখন কি হবে? তোকে বলেছিলাম আমরা আগেই মেয়েগুলোকে উদ্ধার করি। কিন্তু তুই শুনলিনা। এখন দেখলিতো ওরা কতটা ধুরন্ধর! ওদের সাথে পারা এতোটা সহজ! কি জানি……………
    এই থামতো। সেই কখন থেকে বকে যাচ্ছিস। মুসায়েব আরও কিছু বলতে যাচ্ছিলো কিন্তু তালহার ধমকে চুপ হয়ে গেলো।
    কিছুক্ষণ চুপ থেকে তালহা আবার বললো, মেয়েগুলো গাড়িতেই আছে। এতক্ষণ না, ওরা এখুনি আমাদের ধোকা দিতে চাচ্ছে। তোরা এখানে থাক আমি ভেতরে যাব। কথাটা বলেই উঠে দাঁড়ালো তালহা। খুব দ্রত গাড়িটার কাছে চলে ও। ওর কথাই ঠিক মেয়েগুলো গাড়ির মধ্যেই আছে তবে অচেতন। গাড়ির দরজা বন্ধ। তালহা কয়েকটা টোকা দিলো। না তিনটাই অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। তালহা ভেতরে ঢুকে গেলো। দরজায় কোন দারোয়ান নেই, তবে একটা ক্যাশ কাউন্টারে দাঁড়িয়ে একটা নাম এন্ট্রি করছে। তালহা মাস্ক পড়ে নিলো। বাইরে থেকে বোঝা যাচ্ছিলোনা কিন্তু ভেতরে ঢুকে তালহার চোখ চড়কগাছ। এটা দেখি একটা অত্যাধুনিক বার। শব্দ-নিরোধক কাঁচের কারণে এতক্ষণ দরজা ভেদ করে শব্দ বাইরে শোনা যায়নি। সম্পূর্ণ বাড়িটা তিন তলা। এক তলার এক পাশটায় যে নাচের স্টেজটা রাখা আছে তার সবটা জুড়ে নানারকমের স্বল্প-বসনা নারীদের দেখা যাচ্ছে। তাদের সাথে প্রমত্ত লিলায় মেতে আছে বড় লোকের বখে যাওয়া ছেলেগুওলো। নাচের স্টেজের প্রায় সবগুলোই ছেলের বয়স যে ১৯ থেকে ২১ এর বেশি হবেনা তা হলফ করে দিতে পারে তালহা। সম্পূর্ণ পরিস্থিতিটা বন্ধুদের মেসেজ করে জানিয়ে দিলো। সাথে বলল, ‘মেয়েগুলো এখনও গাড়িতেই আছে। ওদের ভেতরে না আনা পর্যন্ত তোরা সতর্ক দৃষ্টি দিয়ে গাড়িটা খেয়াল রাখবি। মেয়েগুলোকে ভেতরে নিয়ে আসলে তোরাও ভেতরে চলে আসবি।’ মেসেজটা পাঠিয়ে দোতলায় উঠে গেলো তালহা। বাড়িটা গোল করে বানানো। দোতলাটার ঘুরানো বারান্দার রেলিঙ এ ঝুঁকে দাঁড়ালে মাঝখানের গোল ফাঁকা অংশটা দিয়ে নিচটা ভালোভাবেই দেখা যায়। উপরে মোট আটটা ঘর। তিনতলাটাও নিশ্চয় একইভাবে বানানো। রাতের আধারের সাথে এখানে প্রতিটা ঘরেই আধার নেমে আসবে। নৈতিকতা বিবর্জিত মানুষগুলো মেতে উঠবে আদিম খেলায়। দোতলার সব ঘর তালাবদ্ধ। রেলিঙ এর উপর ভর দিয়ে বারের সদর দরজার দিকে তাকিয়ে থাকলো তালহা। কিছুক্ষণ পর মেয়ে তিনটাকে সঙ্গে করে লোক চারটা বারের মধ্যে প্রবেশ করলো। ওরা ঢোকার পর বন্ধুদের ঢুকতে বলেছে তালহা। কিন্তু অনেকক্ষণ কেটে যাওয়ার পরও যখন বন্ধুদের দেখতো পেলোনা, তখন অজানা আশঙ্কায় বুক কেঁপে উঠলো ওর। দ্রুত মেসেজ করলো ওদের। দশ মিনিট কেটে যাওয়ার পরও যখন মেসেজের উত্তর পেলোনা তখন নানা ভাবনায় পেয়ে বসলো। একট ভরাট কন্ঠ শুনে কন্ঠের চমকে ভাবনা থেকে বাস্তবে ফিরে আসলো তালহা।
    চলবে
    #পোড়োবাড়ির_রহস্য
    #মাহামুদা_খাতুন
    #পর্ব_উনিশ
    তিনজন লোক তিনটা মেয়েকে নিয়ে শান্ত কুটির থেকে বের হয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে কি যেন আলাপ করছিলো। লোকগুলোকে দেখে চিনতে না পারলেও মেয়ে তিনজনকে তালহা ঠিকই চিনতে পেরেছে। গত পরশু যে চারটা মেয়ে অপহৃত হয়েছিলো তাদের মধ্যকার তিনজন এরা। তাহলে গতকাল যে বলেছিলো তিনজনকে নিষিদ্ধ পল্লিতে আর একজনকে বিদেশী ডেলিগেটসদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে; এই চারজনকে নিয়েই কথা বলছিলো? তিনজন লোকের মধ্যে একজনের পেছন পাশ দেখা যাচ্ছে। পেছন পাশ দেখা গেলেও তালহার মনে হলো লোকটাকে সে চিনে। হ্যা মনে পড়েছে। এইতো সেই লিটন নামের লোকটা। তারমানে ও ভুল পথে এগোয়নি। তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া লোকগুলোর সাথে পোড়োবাড়ির যে গভীর সংযোগ আছে বলে ওর মনে হয়েছিলো তা অমূলক না। বাকি দুজনকে স্পষ্ট দেখা না গেলেও ওদেরকে যে কখনও দেখেনি তা ঠিক বুঝতে পারছে। লোকগুলো কি নিয়ে কথা বলছে তা শোনার চেষ্টা করেও শুনতে পারছেনা তালহা। ওদিকে যায়িদের কি খবর কে জানে? মুসায়েব নিশ্চয় ওর কাছে খবর পাঠিয়েছে। কিছুক্ষণ পর ভেতর থেকে একটা লোক দৌড়ে এসে বললো, স্যার ছেলেটাকেতো কোথাও খুঁজে পেলামনা। মনে হয় পালিয়েছে।
    আমার মনে হয়না পালাবে। এবং ও একা আসেনি, দল বেঁধেই এসেছে। ওদেরকে খুঁজে বের করতে না পারলে আমাদের কাজে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে। গতবার পেয়ে ছেড়ে দিয়েছিলাম কিন্তু এবার পেলে আর ছাড়াছাড়ি নেই। ভালো করে খুঁজে দ্যাখ।
    কিন্তু আমি একা কীভাবে খুঁজে বের করবো?
    তুমি এদিকটায় দেখতে থাকো আমি ড্রাইভারটাকেও পাঠাচ্ছি।
    আমরা কি কোন সাহায্য করতে পারি। সাথের লোক দুজন বলে উঠলো।
    এক কাজ করা যায় মেয়েগুলোকে মাইক্রোতে লক করে রেখে আমরা সবাই মিলে খুঁজি। ছড়িয়ে ছিটিয়ে না খুঁজলে বিচ্ছুগুলোকে পাওয়া যাবেনা।
    কিন্তু স্যার মেয়েগুলোকে গাড়িতে রেখে এসে আমরা সবাই এদিকে চলে আসলে ওরা যদি মেয়েগুলোকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়?
    না, তা করবেনা। কারণ ওদের উদ্দেশ্য আমাদের ঘাঁটি আবিষ্কার করা। শুধু মেয়েগুলোকে নিয়ে চলে গেলে ওদের পক্ষে সেটা সম্ভব হবেনা। তোমরা ছড়িয়ে পড়।
    দুইজন লোক ভেতরে থেকে খোঁজা শুরু করলো আর লিটন আর বাকি লোকটা মেয়েগুলোকে নিয়ে বাইরের দিকে ওদের গাড়ি যেখানে আছে সেখানে চলে গেলো। তালহা ঠিক ওদের কয়েক কদম পেছনে আছে। ঘুরে ভেতরের দিকে আসলেই ওকে দেখে ফেলবে, কথাটা ভেবে ও তৎপর হয়ে উঠলো। কোন নড়াচড়া না করে কথাগুলো যায়িদ আর মুসায়েবকে মেসেজ করে দিলো। লোক দুজন তার টর্চটা জালিয়ে নিলো। তালহা যেখানে দাঁড়িয়ে আছে তার থেকে কয়েক কদম ডানে গেলেই সীমানা পাঁচিল। পাঁচিল ঘেঁষে লাগানো আছে নানারকম গাছপালা। নারিকেল, সুপারি, আর তাল গাছের মত উঁচু গাছের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে বিভিন্ন ধরণের ফল আর জংলী ফুলের গাছ। তালহা সন্তপর্নে একটা লতানো গাছে আড়ালে চলে গেলো। একটা আলোক রশ্মি এদিকে আসতে দেখে তালহা বুঝলো লোকটা এদিকেই আসছে। অল্প আলোতে যতটুকু দেখেছে তাতে তালহার মনে হয়েছে লোকটা একটু ভিতু গোছের। খুঁজতে হবে শুনে যে প্রতিক্রিয়া দেখালো তখন তাতে ওর ধারণ আরও স্পষ্ট হয়েছে। আলোক রশ্মিটা ধীরে ধীরে কাছে আসতে থাকলো। তালহার মনে হলো এবার বুঝি ধরা পড়ে যাবে। ওর সাথের লোকটা খুঁজতে খুঁজতে একদম ভেতরে চলে গেছে। ওর দিকে আসা লোকটা এখন ওর থেকে মাত্র দুই কদম দূরে দাঁড়িয়ে আছে। মাথা ঘুরিয়ে পেছনে তাকালেই ওকে দেখতে পাবে। তালহা যে লতানো গাছটার পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলো তা দিয়ে ওর শরীর ঢাকলেও পা দুইটা ঠিক বের হয়ে ছিল। নিজেকে আর একটু আড়াল করে মুখ দিয়ে একটা বিদঘুটে আওয়াজ করলো। দুইবার আওয়াজ করার পর লোকটা দিশেহারার মত চারিদিকে তাকাতে থাকলো। তালহা আবারও শব্দট করলো। লোকটা তালহার দিকে পিঠ দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো। সেই অবস্থাতেই সামনের দিকে তাকিয়ে ভীত পদক্ষেপে এক পা এক পা করে পেছনের দিকে হাঁটা শুরু করলো। অবশেষে তালহার সাথে ধাক্কা লেগে পড়ে গেলো। তালহা সেটাই চাচ্ছিলো। ক্লোরোফর্মের মিশ্রণটা বের করে ওর নাকে মুখে স্প্রে করে দিলো। লোকটা অজ্ঞান হয়ে গেলে টেনে আড়ালে শুইয়ে দুইটা নারিকেল পাতা দিয়ে ঢেকে দিলো তালহা। কাজটা করে আবার আগের জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো। যে লোকটা ভেতরের দিকে চলে গিয়েছিলো সে এতক্ষণে ফিরে আসছে। মজিদ, মজিদ বলে ডাকতে এগিয়ে আসছে। যে লোকটাকে অজ্ঞান করা হয়েছে সেই যে মজিদ বুঝতে পারলো তালহা। একটা শিস বাজিয়ে আড়ালে চলে গেলো ও। এদিক ওদিক তাকিয়ে খুঁজতে লাগলো লোকটা আর বলতে লাগলো মজিদ তুমি কি আমার সাথে মশকরা করছো?
    তালহা ওর রেকর্ডারে করে কিছু উদ্ভট শব্দ রেকর্ড করে নিয়ে এসেছিলো। ওগুলো ছেড়ে দিলো। এতক্ষণ লোকটা বেশ সাহস দেখালেও এখন পড়িমরি করে বাইরের দিকে দৌড় দিলো। তালহা আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা না করে আড়াল থেকে বের হয়ে আসলো। চারপাশ সতর্ক চোখে দেখে নিয়ে সামনের দিকে এগোতে থাকে। তবে এখন কেউ এসে পড়লে ধরা নির্ঘাত পড়ে যাবে তালহা। কারণ এখান থেকে লুকিয়ে যাওয়ার কোন জায়গা নেই। খুব সহজেই জায়গাটা পার হয়ে শান্ত নীর থেকে বের হয়ে দেবদারু গাছের মধ্যে ঢুকে পড়ে তাহলা। মুসায়েবকে ম্যাসেজ করতে গিয়ে খেয়াল করলো তার ফোনে ১৫ টা মিস কল। সবগুলোই যায়িদ আর মুসায়েবের করা। একটা মেসেজ দেখে খুলে পড়লো। ‘ আমরা বড় রাস্তার মাথায় গাড়ি নিয়ে তোর জন্য অপেক্ষা করছি।’
    মেসেজটা পড়ে একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেললো তালহা। যাক তার বন্ধুরা নিরাপদে আছে। তালহা দেবদারু গাছ ঘেরা ঝোপের মধ্যে দিয়ে এগোতে লাগলো। কিছুদূর গিয়ে রাস্তার উপর মাইক্রোটা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলো। ওদের মধ্যকার কথা শুনে দাড়িয়ে পড়লো। রিশাদ সাহেব মজিদ কোথায়?
    কেন ও এদিকে আসেনি? আমিতো ভেতরে সুইমিং পুলের আশপাশ দিয়ে বাড়িটার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত খুঁজেও যখন কাউকে পেলামনা তখন আমি চিৎকার করে মজিদ মজিদ বলে ডাকতে থাকি কিন্তু কিন্তু কোন সাড়া পেলামনা। হঠাৎ কেমন সব শব্দ শুনতে পেলাম। মনে হলো এজন্যই এ বাড়িতে কেউ আসতে চায়না। আমার পক্ষে আর ঐখানে দাঁড়ানো সম্ভব হলোনা। তাই ছুটে বাইরে চলে এসেছি। আমি ধারণা করেছিলাম মজিদ আমার আগেই ওখান থেকে পালিয়াছে। কিন্তু এখন দেখছি আমার ধারণা ভুল। ওকে বোধহয় জীনে ধরেছে।
    চুপ করুন! আর একটাও বাজে কথা বলবেননা। এই রকম চড়ুই পাখির প্রাণ নিয়ে এসব সমাজবিরোধী কাজ করেন কীভাবে। অবশ্য আপনিতো আর হোতা না, সামান্য একজন কর্মচারি। এখানে ড্রাইভারটা অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। তার মানে বিচ্ছুগুলো আশেপাশেই আছে। ওরা ছাড়া ে কাজ আর কে করবে? এদিকে সব জায়গা খোঁজা শেষ । এখানেও নেই ভেতরেও নেই, তাহলে গেলো কোথায়? আচ্ছা এই ঝোপের মধ্যেতো খোঁজা হলোনা!
    কথাটা শুনে তালহা তটস্থ হয়ে কেউ আসলে কি করবে তা প্লান করে ফেললো। ওরা মানুষ মাত্র তিনজন। লিটন নামক লোকটা রিশাদকে দেবদারু গাছের ভিতর ঢুকে তল্লাশি চালাতে বললো। কিন্তু লোকটা ভয়ে এদিকে এগোচ্ছেনা। অন্য লোকটাকে উদ্দেশ্য করে বলল, হুমায়ুন শাহ্‌ আপনি যান।
    দেখুন লিটন এসব আপনাদের ব্যাপার স্যাপার, আপনারাই দেখেন। আমদের সাথে আপনাদের সম্পর্ক শুধু লেনদেন। সেটা শেষ হয়ে গেছে। আমরা অন্যের কাজ করি। এখন আমাদের ড্রাইভারটার জ্ঞান ফিরলে আমরা চলে যাবো। এসব উটকো ঝামেলার মধ্যে যেতে চাইনা। কথা বলেই লোকটা গাড়িতে উঠে বসলো।
    লিটন সাহেব বেকায়দায় পড়ে গেলেন প্রথমে সাহস দেখালেও পরে বললেন আমিও আপনাদের মত অন্যের কাজ করে খাই। আজ পর্যন্ত স্যারের টিকিটাও দেখিনি। তবে আপনাদের সাথে আমাদেরকেও যেতে হবে। ডিলিংস এর সম্পূর্ণ টাকাটাতো এখনও হাতে পাইনি।
    এসব কাজে এমনই হয়। উপরের লোকদের নাগাল সহজেই পাওয়া যায়না। আচ্ছা আপনারা ছাড়া অন্য একজনের সাথে আমার ফোনে কথা হয়েছে সে কে? উনিই কি আপনাদের বস।
    আরে না না। উনিও আমাদের মত একজন, তবে উপরের পদে আছেন। এখন এই ছেলেটাকে আমি কোথায় খুজবো? কথাটা বলতে দেরি কিন্তু মজিদের আসতে দেরি হলোনা। হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে স্যার এই ভূতুড়ে বাড়িতে আমি আর আসতে চাইনা।
    লিটন একটা ধমক দিয়ে বলল, চুপ কর গর্ধব। ঐ বিচ্ছু ছেলেগুলো এখানে আছে। ওদেরকে খুঁজতে হবে।
    না বাবা আমি এই বাড়ির ভেতরে ঢুকতে পারবেনা। আর তাছাড়া আমার মনে হয়না ওখানে কেউ আছে। থাকলেও ওদের বুদ্ধি আমাদের থেকে ঢের বেশি। এতক্ষণে চলেও গেছে।
    ওদের কথা বলায় ব্যস্ত দেখে তালহা ধীরে ধীরে পা চালিয়ে বড় রাস্তায় উঠে গেলো। একটু সামনে এগিয়েই গাড়িটা দেখতে পেল। কালক্ষেপণ না করে গাড়িতে উঠে পড়লো তালহা। দশ মিনিট পর লিটনদের মাইক্রোটা আসতে দেখা গেলো। তালহাদের ড্রাইভারকে দশ -মিনিট অপেক্ষা করে তবেই মাইক্রোটাকে অনুসরণ করতে বললো তালহা।
    তালহাদের গাড়ি থেমে থেমে মাইক্রোটাকে অনুসরণ করতে লাগলো। আধগণ্টা পর একটা বিলাসবহুল বাড়ির সামনে গাড়িটা থামলো। তালহা একটু অবাকই হলো। ও ভেবেছিলো গাড়িটা সরাসরি কোন নিষিদ্ধ পল্লীতে যাবে কিন্তু এখানে থামলো কেন বুঝতে পারছেনা। ভেতরে নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। ওদেরকে ধোকা দিচ্ছেনাতো? বাড়িটা বেশ বড় জায়গা জুড়ে বানানো হয়েছে। তবে এমন জায়গায় এরকম একটা বাড়ি দেখে অবাক না হয়ে পারলোনা ওরা। শহর থেকে বেশ দূরে জায়গাটা। বাড়ির চারপাশে অনেক গাছপালা থাকলেও কেমন জঙ্গলের মত হয়ে আছে। গাড়ি থেকে নেমে ড্রাইভারকে গাড়িটা আড়ালে নিয়ে যেতে বললো। খুব সাবধানে গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকে জংলা গাছগুলোর মধ্যে লুকিয়ে পড়লো। লিটনদের গাড়িটা গেট দিয়ে ঢুকে একদম ভেতরে চলে গেলো। একে একে সবাই গাড়ি থেকে নেমে পড়লো। লিটন সাহেবকেও দেখতে পেলো। গাড়ি থেকে নেমে ওরা গটগট করে ভেতরে চলে গেলো।
    কি ব্যাপারে মেয়েগুলোকে দেখছিনা যে? উৎকণ্ঠার সাথে কথাটা বলল যায়িদ।
    আমার মনে হয় ওরা আমাদের ধোকা দিয়েছে। মাঝখানে কোথাও ওদেরকে রেখে আসেনিতো? সর্বনাশ! এখন কি হবে? তোকে বলেছিলাম আমরা আগেই মেয়েগুলোকে উদ্ধার করি। কিন্তু তুই শুনলিনা। এখন দেখলিতো ওরা কতটা ধুরন্ধর! ওদের সাথে পারা এতোটা সহজ! কি জানি……………
    এই থামতো। সেই কখন থেকে বকে যাচ্ছিস। মুসায়েব আরও কিছু বলতে যাচ্ছিলো কিন্তু তালহার ধমকে চুপ হয়ে গেলো।
    কিছুক্ষণ চুপ থেকে তালহা আবার বললো, মেয়েগুলো গাড়িতেই আছে। এতক্ষণ না, ওরা এখুনি আমাদের ধোকা দিতে চাচ্ছে। তোরা এখানে থাক আমি ভেতরে যাব। কথাটা বলেই উঠে দাঁড়ালো তালহা। খুব দ্রত গাড়িটার কাছে চলে ও। ওর কথাই ঠিক মেয়েগুলো গাড়ির মধ্যেই আছে তবে অচেতন। গাড়ির দরজা বন্ধ। তালহা কয়েকটা টোকা দিলো। না তিনটাই অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। তালহা ভেতরে ঢুকে গেলো। দরজায় কোন দারোয়ান নেই, তবে একটা ক্যাশ কাউন্টারে দাঁড়িয়ে একটা নাম এন্ট্রি করছে। তালহা মাস্ক পড়ে নিলো। বাইরে থেকে বোঝা যাচ্ছিলোনা কিন্তু ভেতরে ঢুকে তালহার চোখ চড়কগাছ। এটা দেখি একটা অত্যাধুনিক বার। শব্দ-নিরোধক কাঁচের কারণে এতক্ষণ দরজা ভেদ করে শব্দ বাইরে শোনা যায়নি। সম্পূর্ণ বাড়িটা তিন তলা। এক তলার এক পাশটায় যে নাচের স্টেজটা রাখা আছে তার সবটা জুড়ে নানারকমের স্বল্প-বসনা নারীদের দেখা যাচ্ছে। তাদের সাথে প্রমত্ত লিলায় মেতে আছে বড় লোকের বখে যাওয়া ছেলেগুওলো। নাচের স্টেজের প্রায় সবগুলোই ছেলের বয়স যে ১৯ থেকে ২১ এর বেশি হবেনা তা হলফ করে দিতে পারে তালহা। সম্পূর্ণ পরিস্থিতিটা বন্ধুদের মেসেজ করে জানিয়ে দিলো। সাথে বলল, ‘মেয়েগুলো এখনও গাড়িতেই আছে। ওদের ভেতরে না আনা পর্যন্ত তোরা সতর্ক দৃষ্টি দিয়ে গাড়িটা খেয়াল রাখবি। মেয়েগুলোকে ভেতরে নিয়ে আসলে তোরাও ভেতরে চলে আসবি।’ মেসেজটা পাঠিয়ে দোতলায় উঠে গেলো তালহা। বাড়িটা গোল করে বানানো। দোতলাটার ঘুরানো বারান্দার রেলিঙ এ ঝুঁকে দাঁড়ালে মাঝখানের গোল ফাঁকা অংশটা দিয়ে নিচটা ভালোভাবেই দেখা যায়। উপরে মোট আটটা ঘর। তিনতলাটাও নিশ্চয় একইভাবে বানানো। রাতের আধারের সাথে এখানে প্রতিটা ঘরেই আধার নেমে আসবে। নৈতিকতা বিবর্জিত মানুষগুলো মেতে উঠবে আদিম খেলায়। দোতলার সব ঘর তালাবদ্ধ। রেলিঙ এর উপর ভর দিয়ে বারের সদর দরজার দিকে তাকিয়ে থাকলো তালহা। কিছুক্ষণ পর মেয়ে তিনটাকে সঙ্গে করে লোক চারটা বারের মধ্যে প্রবেশ করলো। ওরা ঢোকার পর বন্ধুদের ঢুকতে বলেছে তালহা। কিন্তু অনেকক্ষণ কেটে যাওয়ার পরও যখন বন্ধুদের দেখতো পেলোনা, তখন অজানা আশঙ্কায় বুক কেঁপে উঠলো ওর। দ্রুত মেসেজ করলো ওদের। দশ মিনিট কেটে যাওয়ার পরও যখন মেসেজের উত্তর পেলোনা তখন নানা ভাবনায় পেয়ে বসলো। একট ভরাট কন্ঠ শুনে কন্ঠের চমকে ভাবনা থেকে বাস্তবে ফিরে আসলো তালহা।
    চলবে

    11
    4 Comments
Skip to toolbar