Profile Photo

mahamuda khaunOffline

  • mahamuda
  • Profile picture of mahamuda khaun

    mahamuda khaun

    3 years, 10 months ago

    পোড়োবাড়ির_রহস্য
    পর্ব_বিশ
    তালহার কথা মত গাড়ি থেকে মেয়েগুলোকে নামিয়ে ভেতরে নেওয়ার পর মুসায়েব আর যায়িদও চুপিচুপি ভেতরে ঢুকতে গিয়েছিলো। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলোনা। ওদের লোকের হাতে ধরা পড়ে গেলো। ওদেরকে ধরে নিয়ে এসে একটা অন্ধকার ঘরের মধ্যে আঁটকে রেখে গেছে। ঘরটার মধ্যে জানালাতো দূরের কথা বাতাস ঢোকার জন্য কোন সামান্য ঘুলঘুলিও নেই যে সেটা দিয়ে ওরা বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করবে। দুজনেরই কাধের ব্যাগ গাড়িতে রেখে এসেছে। টর্চটা ব্যাগের মধ্যে থাকার কারণে আলো জ্বালাতে পারছেনা। প্যান্টের গুপ্ত পকেটা থেকে ফোনটা বের করে আলো জ্বাললো যায়িদ। মুসায়েব ওর মোবাইলটা বের করে তালহার নাম্বারে ফোন করলো।
    আচমকা একটা চেনা কণ্ঠস্বর শুনে অবাক হয়ে নিচে তাকালো তালহা। সে লিটনের সাথেই লোকটাকে ভেতরে ঢুকতে দেখলো। লম্বা, চওড়া, কন্ঠস্বর সবই চেনা মনে হলেও মুখের চওড়া মাস্ক আর মাথার ক্যাপের জন্য ঢেকে থাকা অবয়বের সামান্য কিছু অংশ দেখে তালহা শিওর হতে পারছেনা ও যার কথা ভাবছে লোকটা সে কিনা। তালহা পিলারের আড়ালে দাঁড়িয়ে নিচটা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলো। হঠাৎ পকেটের ফোনটা কেঁপে উঠলো। শব্দ যাতে না হয় সেজন্য ভাইব্রেশান দেওয়া ছিলো। ফোনটা বের করে দেখলো মুসায়েব করেছে। এতক্ষণ ওদের কথা মাথাতেই ছিলোনা তালহার। করিডোরের অন্যপাশে গিয়ে ফোনটা রিসিভ করলো। একটু আড়ালে গিয়ে মুখে হাত দিয়ে বলল, মুসায়েব তোরা কোথায়?
    আমরা ধরা পড়েছি। এই বাড়ির ভেতরেই একটা ঘরে আমাদের আঁটকে রেখেছে। তুই কোথায়?
    আমি দোতলায় আছি। ঘরটা কোথায়?
    নিচতলাতে, তবে তুই যেই ভবনে আছিস সেখানে না। ঐ ভবনের ঠিক পেছনে একটা একতলা গোডাউন মত আছে, ওখানে।
    যায়িদ কোথায়?
    আমার সাথেই আছে। চারিপাশে দেখছে বের হওয়ার উপায় পাওয়া যায় কিনা।
    তোদের আশেপাশের ঘরগুলো দ্যাখ কোন ক্লু পাস কিনা। আমি দেখি কি করা যায়? কথাটা বলেই ফোনটা কেটে দিল। বন্ধুদের সাথে কথা বলে আবার আগের জায়গায় এসে লোকটাকে দেখার চেষ্টা করলো কিন্তু ব্যর্থ হলো। লোকটা ইতোমধ্যে ঐ জায়গা থেকে চলে গেছে। তালহা মাস্ক আর চোখে সানগ্লাস পড়ে নিচে নেমে গেলো।
    নিচে নেমে কাছে ধারে কোথাও লিটন বা তার সাথে থাকা লোকগুলো টিকিটা দেখতে পেলোনা। বার কাউন্টারে বসা লোকটার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলো, এমন একটা জায়গায় এই বারটা কে বানিয়েছে?
    স্যার সেটাতো আমি জানিনা। আমি এখানে চাকরি করি বেতন পাই, ব্যাস।
    ছেলেটা ওর থেকে কম করে ছয় সাত বছরের বড় হবে। তবু তালহা একটু বড়দের মত ভাব নিয়ে বলল,
    মালিক কখনও এখানে আসেনা? মানে আপনি কখনও মালিককে দেখোনি?
    না আমি এখনও দেখিনি। ছয়মাসের চুক্তিতে এসেছি। শুধু এতোটুকু জানি এই বারে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে কাউকে কাজে রাখা হয়না।
    আপনার এখন চাকরির বয়স কত?
    চার মাস চলে গেছে, আর মাত্র দুই মাস আছে চুক্তির। আমি এখান থেকে গেলে আমি আর এ মুখো হবোনা।
    কেন চাকরিটা ভালো লাগেনি?
    না স্যার। মায়ের অসুস্থতার সময় এক বন্ধু এখানে ঢুকিয়ে দিয়েছিলো। মা বেঁচে নেই তাই এখন আর কোন বাঁধা নেই। কিন্তু স্যার আপনাকেতো চিনলামনা।
    তালহা নিজের পরিচয় দিয়ে বলল, আমার মনে হচ্ছে এখানে সমাজবিরোধী কাজকর্ম হয়। আমার আপনার সাহায্য দরকার। তার আগে বলেন এই ভবনটা ছাড়া ওদের কি আর কোন একতলা ভবন আছে কিনা?
    স্যার আমি এই চার মাস এই কাউন্টারের বাইরে ভেতরে ঢোকারও কোন অনুমতি নেই। এর আগে একজনকে নিয়ম ভঙ্গের জন্য জীবন দিতে হয়েছে।
    কেন সে কি করেছিলো?
    যতটুকু শুনেছি ও নাকি ওদের ভেতরের কি খবর শুনে ফেলেছিলো। স্যার আপনি এখন এখান থেকে যান। কেউ দেখে ফেললে আমার জীবন নিয়ে টানাটানি পড়ে যাবে।
    ঠিক আছে আপনি শুধু আমাকে বলেন বারে যারা এসেছে আপনার কাজতো তাদের নাম এন্ট্রি করা তাইনা? আমাকে আজকে এখন পর্যন্ত যতজন এখানে এসেছে তাদের একটা তালিকা ঝটপট বের করে দেনতো।
    স্যার আমি আজকেরটা ছাড়া অন্য দিনেরগুলো দিতে পারবোনা। কারণ ওগুলো হাইড করে ফেলা হয়।
    তালহা হতাশ হয়ে বলল, ঠিক আছে আজকেরটাই দিন না।
    ছেলেটা তালিকার কাগজটা বের করে দেওয়ার সাথে সাথে তালহা সেটা নিয়ে দ্রুত সেখান থেকে সরে আসতে গেলো। ছেলেটা তালহাকে ডেকে থামালো। ওর দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালে ও নিঃসংকোচে বলল, স্যার অরিন্দম লাহরী নামে এক ভদ্রলোকের আসার কথা। স্যার বলে গেছে আমি যেন তাকে ঠিকমত বসতে দেই।
    তথ্যটার জন্য ছেলেটাকে ধন্যবাদ জানালো তালহা। তালহা ভাবল আপাতত যায়িদদের কাছে না গিয়ে মেয়েগুলোকে উদ্ধার করার চেষ্টা করতে হবে। স্টেজের দিকে তাকিয়ে দেখলো একটা মহিলা মেয়েগুলোকে খোলামেলা পোশাক পরিয়ে নিয়ে এসে স্টেজের কাছে রেখে গেছে। এতো বেশি খোলামেলা পোশাক তালহার তাকাতে সংকোচ লাগলো। মেয়েগুলোর জন্য খারাপ লাগলো। আদৌ কি ওরা এ ধরণের পোশাক পরে অভ্যস্ত কিনা কে জানে? তবে ওদের চোখে ভয়ের ছাপ স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। তালহা মাথার ক্যাপটা টেনে দিয়ে কোণার একটা টেবিলে বসে ছিলো। গোয়েন্দা হওয়ার জন্য সেই সপ্তম শ্রেণি থেকে ও নানারকম কৌশল শিখে আসছে। পঞ্চম শ্রেণিতে থাকতেই কারাতের ব্লাক বেল্ট অর্জন করেছে। বাংলা ভাষার বাইরে উর্দু, হিন্দি এবং আরবী ভাষা রপ্ত করেছে। মুখে মাস্ক, পরনে হাঁটু অব্দি জুব্বা, চোখে কালো চশমা, মাথায় পাগড়ি পরার কারণে তালহাকে একেবারেই চেনা যাচ্ছেনা। ঢোকার দরজার কাছাকাছি একটা টেবিলে বসে লোকটার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো তালহা। দরজা খুলে একজন লোককে ঢুকতে দেখলো। লোকটার বেশভূষা দেখে শিখ মনে হচ্ছে। কাউন্টারের ছেলেটার বর্ণনানুযায়ী মনে হলো এই লোকটাই অরিন্দম লাহরী হবে। লোকটার পেছনে আরও দুজন ঢুকলো। তালহা দ্রুত গিয়ে লোকগুলোর সামনে গিয়ে করমর্দনের হাত এগিয়ে দিয়ে বলল, আপনাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য বসে আছি। আসুন আমার সাথে। ভবনটার পশ্চিমদিকে একটা লম্বা করিডোর আছে যেটা দিয়ে ভবনের পেছনের দিকে অনায়াসেই বের হয়ে যাওয়া যায়। মুসায়েবের সাথে কথা বলার সময় দোতলা থেকেই ব্যাপারটা খেয়াল করেছে তালহা। লোকটার সাথে কথা বলে তালহা ওদেরকে নিয়ে কাউন্টারের সামনে দিয়ে না গিয়ে পেছনের করিডোরের দিকে নিয়ে গেলো। কিছুদূর যাওয়ার পর তালহা কালক্ষেপণ না করে তিনজনের নাকে মুখে চেতনানাশক ছিটিয়ে দিলো। মুহূর্তে লোকগুলো ঢলে পড়লো। অচেতন লোকগুলোকে কোথায় রাখবে ভাবছে তালহা। হঠাৎ নিজের বন্ধু দুজনের কথা মনে পড়লো। এই ভবনের পেছনে কোন একটা ঘরে ওদের আঁটকে রেখেছে। তালহা একজন একজন করে তিনজনকেই করিডোরের সাথে লাগোয়া মাঠে নামিয়ে রাখলো। তারপরের কাজগুলো খুব দ্রুততার সাথে করলো। মাঠে নামতেই পাঁচিল ঘেঁষে একটা একতলা বাড়ি দৃষ্টিগোচর হয়। বাড়িটার কাছে গিয়ে দেখলো সেটা একটা বদ্ধ গোডাউনের মত। তালহা টর্চ জালিয়ে দরজা খুঁজে বের করলো। মাল্টি নাইফ দিয়ে খুলে ফেললো। আলো জ্বেলে যায়িদ আর মুসায়েবকে খুঁজল। এক কোণায় ওদের দুজনকে নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকাতে দেখলো। কাছে গিয়ে দেখলো দুজনেরই নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। তালহা দ্রুত ওদেরকে বের করে নিয়ে আসলো। আর ঘণ্টা খানেক থাকলেই ওদের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যেতো। চেতনা ফিরিয়ে আনার জন্য ওদের দুজনকে ঝাঁকাতে লাগলো। আশেপাশে পানির কোন হদিস মিললোনা যে ওদের নাকে মুখে ছিটিয়ে দিবে। তালহা এবার আতঙ্কিত হলো। অরিন্দম লাহিড়ীর ব্যাপারে খোঁজ করলে কাউন্টারের ছেলেটা কতক্ষণ ওদেরকে মিথ্যা কথা বলে আঁটকে রাখতে পারবে কে জানে? ছেলেটাকে দেখে ওতোটা বুদ্ধিদীপ্ত মনে হয়নি তালহার। তালহা ভেবেছিলো ওরা তিনজন এদের তিনজনকে গোডাউনের মধ্যে রেখে নিজেরা ওদের পোশাক পরে তারপর ভেতরে যাবে। কিন্তু যায়িদ আর মুসায়েবের যা অবস্থা তাতে ওর পরিকল্পনা কাজে দিবেনা। তাছাড়া এই অবস্থায় ওদের দুজনকে রাখবেই বা কোথায়? এই অবস্থায় গেট দিয়ে বের হতে গেলে যদি ধরা পড়ে যায়? যদিও ওদের গেটে কোন দারোয়ান নেই। তালহা ড্রাইভারকে ফোন করে জানতে পারলো তার আসতে আধ ঘণ্টা লেগে যাবে। এখন আর সময় নষ্ট করা যাবেনা। নিজের আনা তালাটা গোডাউনের দরজায় লাগিয়ে দিলো। মুসায়েব আর যায়িদকে করিডোরে উঠিয়ে একটু আড়াল করে শুইয়ে রেখে ও ভেতরা চলে গেলো।
    তালহা নিজের পাগড়ি এবং জুব্বাটা ব্যাগে রেখে অরিন্দম লাহরির ফতুয়া আর পাগড়িটা পরে নিলো। কাউন্টারের বসা ছেলেটার কাছ থেকে জেনে নিলো ওরিন্দম লাহিড়ীকে খুঁজতে এসেছিলো কিনা। সাথে ছেলেটার নামও জেনে নিলো। ওর নাম জুয়েল। জুয়েলের মুখে অরিন্দম লাহিড়ীকে এখনও খুঁজতে আসেনি শুনে খুব স্বস্তিবোধ করলো তালহা। পরে মনে হলো এটা কোন ফাঁদ নয়তো। মাথা থেকে ভয় আর দুশ্চিন্তা কাটিয়ে জুয়েলকে বলল, আমি যে এসেছি এটা ভেতরে জানিয়ে দাও।
    ঠিক আছে বলে জুয়েল ফোনটা হাতে নিলো।
    তালহা হলরুমটার ঠিক মাঝামাঝি একটা টেবিলে বসলো। লোকটা পাঞ্জাবী ভাষায় কথা বলে। উর্দু হিন্দি পারলেও পাঞ্জাবী ভাষা ও ভাসা ভাসা পারে। আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। হিন্দি পাঞ্জাবী মিলে কথা বলবে দেখা যাক কি হয়?
    কিছুক্ষণ পর একজন প্রায় ছয় ফুট লম্ব লোক এসে তালহার সামনে দাঁড়িয়ে হাতটা বাড়িয়ে বলল, আপনি নিশ্চয় মিষ্টার লাহিড়ী?
    তালহা নিজের হাতটা বাড়িয়ে পাঞ্জাবী হিন্দি মিলিয়ে বললো জি আমিই লাহিড়ী। লোকটার কন্ঠটা ভীষণ চেনা লাগছে তালহার। কিন্তু মনে করতে পারছেনা। সামনে দাঁড়ানো লোকটাকে তার একজন চেনা মানুষের মতো মনে হলো আবার কন্ঠ অন্য একজনের সাথে মিলে যাচ্ছে। গোলক ধাঁধায় পড়ে গেলো তালহা। লোকটার অবস্থা ওর মতোই। তালহার একটা দারুণ গুন আছে তা হলো নিজের কন্ঠ বদলে কিছুটা হলেও অন্য কণ্ঠে কথা বলতে পারে। তালহা ওর কণ্ঠ পরিবর্তন করে বললো, এই নিন আপনার চুক্তিপত্র। অরিন্দম লাহিড়ীর ব্যাগটা ও সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলো। সেখান থেকে অনেক তথ্য জানতে পারে তালহা । সমস্ত লেনদেন শেষে ওরা মেয়ে তিনজনকে তালহার হাতে হস্তান্তর করে দিলো।
    কাঁচুমাচু করে দাড়িয়ে আছে মেয়েগুলো। ড্রাইভারকে গাড়ি নিয়ে আসতে বলেছে তালহা। বারটা লাইসেন্স করা তাই এখন পুলিশ ডেকে খুব একটা সুবিধা করা যাবেনা। কাজ শেষ এখন লোকগুলো সব মদে মত্ত হয়ে কুকাজে লিপ্ত হবে। তাই এদিকে কারোর আসার সম্ভাবনা নেই। তালহা মেয়েগুলোকে ড্রাইভার চাচার সাথে গাড়িতে পাঠিয়ে মাঠে চলে গেলো। মুসায়েব আর যায়িদের এখনও চেতনা ফেরেনি দেখে খুব অবাক হলো। ভেতর থেকে আনা পানিভর্তি বোতলটা থেকে পানিয়ে ওদের চোখে মুখে ছিটিয়ে দিলো। কয়েকবার পানি ছিটানোর পর দুজনই নড়েচড়ে উঠলো। মুসায়েব উঠতে গিয়ে হড়হড় করে বমি করে দিলো। বদ্ধ ঘরে আঁটকে থাকার কারণে যে অক্সিজেনের স্বল্পতা অনুভূত হয়েছে এতক্ষণ তার কারণেই ওদের এমন দুরবস্থা। ওদেরকে গাড়িতে উঠিয়ে দিয়ে ড্রাইভারকে বাসায় নিয়ে যেতে বলল তালহা। পোড়োবাড়ি থেকে বের হওয়ার পর ওর ছোট মামাকে ফোন করে ওখানে থেকে মেয়েটাকে উদ্ধার করতে বলেছিলো। আগামীকাল মেয়েটাকে নিয়ে একটা হোটেলে যাওয়ার কথা সে কারণ ওকে আজ পোড়োবাড়িতে আঁটকে রাখা হয়েছিলো। তালহা একবার ভেবেছিলো আজকে মেয়েটাকে উদ্ধার করলে আগামীকাল ওদের করা পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে। তাতে করে ওর অপরাধী সনাক্ত করতে পারবেনা। কিন্তু পরে মনে হয়েছে মেয়েটাকে ওখানে একা রাখলে ও ভয় পেতে পারে। আবার দুষ্টচক্রের কারো দ্বারা শারীরিকভাবে অ্যাবিউজ হতে পারে। এর মধ্যে এক ফাঁকে ওমর ফারুককে ফোন করে মেয়েটার খবর জেনে নিয়েছে ও। ওর বাবাকে সঙ্গে করেই ওমর ফারুক ওকে উদ্ধার করেছে। কিন্তু প্রচণ্ড ভয়ের কারণে মেয়েটা এখনও অস্বাভাবিক আচরণ করছে।
    এরকম প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ ধরণের একটা বার থাকাটা তালহার কাছে খুব আশ্চর্যের মনে হলো। ঝিনেদা শৈলকূপার এই জায়গাগুলোতে চোরাচালানকারী, নারী ও মাদক পাচারকারীর উপদ্রপ খুব বেশি। তাছাড়া ভারত সীমান্তের কাছে হওয়ার কারণে বর্ডার পার হয়ে অনায়াসেই এসব রাষ্ট্রবিরোরোধী কাজ করা যায়। তালহার ধারণা শান্ত কূটির এমন কোন দুষ্ট চক্রের খপ্পরে পড়েছে। এসব কাজের জন্য বাড়িটা একেবারে উপযুক্ত জায়গা। নানারকম ভাবনার মধ্যে হঠাৎ মনে পড়লো অরিন্দম লাহিড়ীকে তার দুই সাগরেদসহ পেছনের ঘরটাতে আঁটকে রেখেছে। চেতনানাশকের রেশ কেটে গেলে ওরা তাণ্ডব শুরু করতে পারে ভেবে গোডাউনে গিয়ে ওদের মুখে টেপ আর হাত পা দড়ি দিয়ে বেঁধে আবারও দরজায় তালা আঁটকে দিলো তালহা। কাজটা শেষ করে তালহা আবার বারের ভিতর প্রবেশ করলো। রাত বাড়ার সাথে সাথে বারের উন্মাদনা যেন বেড়েই চলছে। মেয়েগুলো সব সতেরো থেকে উনিশ বা বিশের মধ্যেই হবে। এরা সবাই এখানকার বারবণিতা বনে গেছে। এদেরকে এখানে কিছুদিন রেখে বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়, কাউকে কাউকে দেশীয় ব্যবসায়ীদের মনোরঞ্জনের জন্য বিভিন্ন জমকালো পার্টিতে পাঠানো হয়। একটা প্রবীণ ওয়েটারের কাছ থেকে কৌশলে এসব কথা জেনে নিলো তালহা। এখানে কারোর চেহারা বোঝার উপায় নেই। সবার মুখ নানারকম মুখোশে ঢাকা। এতক্ষণ স্টেজের জায়গাটায় আলো আধারির খেলা চললেও এখন সম্পূর্ণ হল ঘরটাতেই আলো আধারির খেলায় ডুবে গেলো। তালহা জুয়েলের কাছ থেকে একটা মুখোশ নিয়ে পরে নিলো। অরিন্দম লাহিড়ীর ফতুয়া খুলে শার্ট পরে মোটামোটি নিজেকে বারের উপযোগী করে তুললো। মুখোশের কারণে দাড়িগুলো ঢেকে যাওয়ায় আর কোন সন্দেহের অবকাশ থাকলোনা। কিছুক্ষণ পরে এক অষ্টাদশী নারী একটা ট্রেতে করে একটা ওয়াইনের বোতল আর কিছু বাদাম নিয়ে এসে বলল,
    মে আই সিট উইথ ইউ?
    এমন খোলামেলা পোশাকের একটা অষ্টাদশী নারীর সাথে বসে ওয়াইন পান করার কথা ভাবনাতেই আনতে পারেনা তালহা। কিন্তু তার গোয়েন্দা কাজের জন্য হলেও এই মেয়েটার সাথে কিছুক্ষণ কথা বলা দরকার মনে হলো তার। তবে আলো আধারির কারণে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে কমই পড়তে হচ্ছে।
    চলবে

    5
    3 Comments
Skip to toolbar